পোস্টগুলি

2022 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দাও ফিরে সে উদ্যান

 হিফজুর রহমান লস্কর প্রকৃতির কোলে            শৈশব খেলে                  যেন মুক্ত বিহঙ্গ। কতনা সাধন                মানেনা বাঁধন                 দিনভর শুধু রঙ্গ। মনে খোলা মাঠ           ছেড়ে যায় পাঠ              দুরন্ত দূর্বার শৈশব। দিনভর খেলা            সাথী আছে মেলা               নেই কোন অনুভব। ধূলো কাঁদা মাটি         তাই যেন খাঁটি               সাধের সে খেলাঘর। করে লুটোপুটি           ছেলেমেয়ে জুটি               খেলে যায় বরাবর। যত সব ঝগড়াঝাঁটি     নিমেষেই হতো মাটি                ছিলনা হিংসা বিদ্বেষ। কাজেরও নেই তাড়া...

সত্যের সন্ধানে

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর পৃথিবীটা পূর্ণ আছে কতশত জ্ঞানে তবুও রয়েছি মোরা এখনও অজ্ঞানে। খুঁজে ফেরো বিশ্বমাঝে ঐসকল তত্ত্ব এখনও নিগূঢ় আছে যে সকল সত্য। অতি ক্ষুদ্র প্রাণী বলে যারে কর হেলা তার মাঝে খুঁজে দেখ জ্ঞান আছে মেলা। কভুও লড়েনা তারা নিজেদের মাঝে দিবানিশি ব্যস্ত থাকে নিজ নিজ কাজে। শাসন শোষণ নেই, নেই কোন যন্ত্র পিঁপড়াও দিয়ে যায় একতার মন্ত্র। প্রকৃতি উদার সদা মানবের 'পরে তাইতো সকল সৃষ্টি ভোগ করে নরে। গাছপালা তরুলতা ফলমূল শাঁখে খাবার যোগান সহ ছায়া দিয়ে রাখে। দিঘি জল টলমল নদী ধারা বহে মানব কল্যাণে থেকে দূষণটা সহে। বায়ু সদা দিয়ে যায় বাঁচার মন্ত্রনা  প্রতিদানে দেই মোরা দূষণ যন্ত্রনা। বাগানে ফুলের কলি সুগন্ধ ছড়ায় নিঠুর মানব তারে পায়ে দলে যায়। কাকের কর্কশ রব ঘৃণা কর তারে নোংরা ময়লা যত সে-ই সাফ করে। প্রকৃতি সুন্দর রূপ ভরে মন প্রাণ আমরা পারিনা দিতে ইহার সম্মান।

মুক্তিযুদ্ধ

হিফজুর রহমান লস্কর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ          বর্ণনে কণ্ঠ রুদ্ধ                   আজও মনে ভাসে ছবি। স্বার্থাণ্বেষীর আক্রমণে   হিংস্র পশু হার মানে                   দূর থেকে অনুভবি। ঘুমে অচেতন                  মানিক রতন                  রমণীরা এলোকেশে। রাতের আঁধার               পাক হানাদার                 হামলা চালায় দেশে। সম্ভ্রম বাঁচাতে নারী   করে শুধু আহাজারি                কত যায় মূর্ছনায়। কোলে নিতে বাছাধন    তুলে নেয় উপাধান                হায়রে নারী সমুদায়। তবুও বাঁচেনি ওরা        হয়ে যায় সর্বহারা                 পাক হায়েনা...

কুমির ও কাঁকড়া

রচনা হিফজুর রহমান লস্কর কুমির ও কাঁকড়া মিলে নিত্য খেলা করে নদীর ঘাটে মেলা মেশা থাকে বালুচরে। সেই ঘাটেতে বসত করে আরও একটি প্রাণী আড় চোখেতে দেখে ওদের নয়তো বেশি জ্ঞানী। নিঃশব্দে সে হেঁটে চলে গুটি গুটি পায়ে শত্রু দেখলে মুখটি লুকায় নিজের কঠিন গায়ে। কুমির আর কাঁকড়া যখন রোদ পোহাতে যায় সেই প্রাণীটি উঁকি দিয়ে ওদের দেখতে পায়। নদীর ঘাটে কাঠের নীচে লুকিয়ে বসে ভাবে একলা পেলে কাঁকড়াটাকে মনের সুখে খাবে। হেনকালে  এক শিকারী মাছ ধরতে আসে কুমিরের পিঠে কাঁকড়া উঠে পালায় অনায়াসে। যাবার সময় ডুব দিল ঐ কাঠের আঙিনায় শিকারীটি দৌড়ে গিয়ে জাল ফেললো তায়। মাঝ নদীতে ভেসে ওরা খিলখিলিয়ে‌ হাঁসে চেয়ে দেখে চারপায়ীটা কেমন করে ফাঁসে। শিকারীটি শিকার নিয়ে চলে আপন ধাম বলতে পারো জালে পড়া সেই প্রাণীটির নাম।

জ্ঞানের আঁধার

হিফজুর রহমান লস্কর প্রকৃতির কোলে            শৈশব খেলে                  যেন মুক্ত বিহঙ্গ। কতনা সাধন                মানেনা বাঁধন                 দিনভর শুধু রঙ্গ। মনে খোলা মাঠ           ছেড়ে যায় পাঠ              দুরন্ত দূর্বার শৈশব। দিনভর খেলা            সাথী আছে মেলা               নেই কোন অনুভব। ধূলো কাঁদা মাটি         তাই যেন খাঁটি               সাধের সে খেলাঘর। করে লুটোপুটি           ছেলেমেয়ে জুটি               খেলে যায় বরাবর। যত সব ঝগড়াঝাঁটি     নিমেষেই হতো মাটি                ছিলনা হিংসা বিদ্বেষ। কাজেরও নেই তাড়া  ...

স্মার্টফোন

 হিফজুর রহমান লস্কর স্মার্টফোন আর নেটওয়ার্কের বিশ্বজুড়ে যোগান নিঃসন্দেহে বলতে পারি সভ্যতার শ্রেষ্ঠ সোপান। স্মার্টফোনের আগমনটা ভালো কিবা মন্দ  সে কথাটি ভাবলে পরে মনে লাগে ধন্দ। যেদিন থেকে এ ফোনটি এলো সবার হাতে  বিশ্ব এলো হাতের মুঠোয় সন্দেহ নেই তাতে। অনলাইনে পড়াশোনা খেলাধুলা আদান প্রদান হয় আত্মীয়তা বন্ধুত্ব ভালোবাসা কিছুই বাকি নয়। অজানাকে জানার তরে স্মার্টফোনটা চাই দূরের মানুষ পাশে আসে তাও দেখতে পাই। স্মার্টফোনের গুণের কথা বলবো কত আর ভালো মন্দের মিশ্রণ নিয়েই সকল আবিষ্কার। ভালোর চেয়ে খারাপ দিকে থাকে সবার আকর্ষণ কত ছেলে বিপথে যায় কিনতে একটা স্মার্টফোন। স্মার্টফোনটা কেড়ে নিল সাধের ভালোবাসা আপন জনকে পাশে পাওয়া এ যেন এক দুরাশা। অনলাইনে ব্যস্ত সবাই কেউ নেই কারো পাশে আপন সবাই দূরে সরে তাইতো অনায়াসে। পড়াশোনায় বসে শিশু শুরু করে খেলা ভবিষ্যতটা নষ্ট হচ্ছে করোনা ভাই হেলা। নানা রকম কু দৃশ্য সব থাকে নেটের মাঝে কোমল মতি শিশু কিশোর তাতেই বিরাজে। সংযমী হও স্মার্টফোনে হয়োনা কভু অধীর হারিয়ে যাবে দৃষ্টি শক্তি হবে যে ভাই বধির। স্মার্টফোনের ব্যবহারটা সেদিন সার্থক হবে যেদিন সবাই ...

অমর

হিফজুর রহমান লস্কর জীবন নামক রথের যাত্রা শূন্য থেকে শুরু, গন্তব্য স্থল কোথায় আছে কেউ জানেনা পুরো। যোগ বিয়োগ আর হিসেব-নিকেষ চলে জীবন ভর, সে হিসেবের ফলটা ভারী হয় যে আপন পর। অধিক হিসেব করতে গিয়ে পায়না খুঁজে পথ, তবু সবাই অঙ্ক কষে চালায় জীবন রথ। সকল অঙ্কের হিসেব মিলবে হলে জীবন শেষ, ভাগফলটা থেকে যাবে থাকবে না ভাগশেষ। অবুঝ মনে বুঝে নাও তাই বেঁচে থাকার হাল, থাকবে ধরায় কর্মগুলোই অমর চিরকাল।

শীতের পরশ

হিফজুর রহমান লস্কর শরতের আগমনে সুমধুর রব, প্রভাতে সোনালী রবি রাঙা রূপ ধরে, চিকচিক করে ঘাস কুয়াশার ভরে, এসেছে হিমেল হাওয়া করি অনুভব। গাছে গাছে ফুল ফোটে মধুকর ওড়ে, মনের খুশিতে তারা গুনগুন গায়, দিঘি জল টলমল ঢেউ খেলে তায়, মাছরাঙ্গা মাছ ধরে ঝাঁপ দিয়ে পড়ে। খেজুর নলের গুড় খেতে বড় স্বাদ, শরতে সবার প্রিয় কাটে অবসাদ। প্রাতঃভ্রমণে লোক করে আসা যাওয়া, ছোট ছোট ছেলে মেয়ে ফুল তুলে আনে, খুশির আবেশে তারা ছুটে মনে প্রাণে, শীতের পরশ দেয় হিমেল হাওয়া। নির্মল নীলাকাশ বাঙলার এ হাট, পরিযায়ী পাখিদল তাই হেথা আসে, শরতে প্রভাত বায়ু সুগন্ধেতে ভাসে, রোদে বসে শিশু গণ পড়ে যায় পাঠ।

আবুল কালাম স্মরণে

 হিফজুর রহমান লস্কর পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী নেতা সংগ্রামী বীর আবুল কালাম, সাম্যবাদের মূর্ত প্রতীক তুমি তোমার তরে হাজার সালাম। দেশমাতৃকার আজাদীর তরে নাম নিয়েছিলে আজাদ, ধর্মান্ধতার গোঁড়ামি নাশিতে কোন চেষ্টাই যায়নি বাদ। অখণ্ড ভারতের রক্ষার তরে লড়েছিলে তুমি বীর, বৃটিশ শাসন নির্মুল করতে উঁচু ছিল তব শির। তুমি জানতে,  স্বদেশীর মাঝে একতা নাহলে স্বাধীনতা বহুদূর তাইতো তোমার লেখনীতে পাই জাতীয়তাবাদের অভিনব সুর। জাতি ধর্মের বিভেদ ঘুচাতে খুঁজেছিলে তুমি পথ, তাইতো গড়িলে একতার তরে মুক্তি আন্দোলন খিলাফত। সব প্রচেষ্টা সফল হলো পেলাম মোরা স্বাধীনতা, অখণ্ড ভারত রাখতে পারোনি মোরা কেমনে ভুলিব তা! হে শিক্ষাবিদ দার্শনিক সত্যিই তুমি আজাদ, স্বাধীন ভারতের শিক্ষা মন্ত্রী হয়ে করেছো শিক্ষার আবাদ। প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষায় করেছো তুমি আধুনিকীকরণ, তাইতো তোমার জন্মদিনে আজি শিক্ষা দিবস রূপে করছি স্মরণ।

সাম্য শান্তির প্রতিষ্ঠাতা ( গজল)

হিফজুর রহমান লস্কর বিশ্ব নবী নূরের ছবি আছেন মদিনায় শত শত সালাম ভেজি নবীজীর রওজায়।। মরু কূলে জন্ম যাহার নেই যে কোন তুল সাম্য শান্তির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ রসুল।। স্রষ্টা তাঁরে সৃষ্টি করেন আপন মহিমায় দু জাহানের বাদশা করে পাঠান দুনিয়ায়।। তিনি বিশ্ব নবী নূরের ছবি আছেন মদিনায় শত শত সালাম ভেজি নবীজীর রওজায়।। হেরা গুহায় পেলেন নবী খোদার ই কালাম হুরপরী আর ফেরেশতারা জানায় সালাম।। তিনি বিশ্ব নবী নূরের ছবি আছেন মদিনায়  শত শত সালাম ভেজি নবীজীর রওজায়।। হাতে নিয়ে খোদার বাণী করিলেন প্রচার, যার নামের উছিলাতে পাইবো দিদার।। তিনি বিশ্ব নবী নূরের ছবি আছেন মদিনায় শত শত সালাম ভেজি নবীজীর রওজায়।।

চোখে অশ্রু মুখে হাসি

হিফজুর রহমান লস্কর পথের ধারে অনাথ শিশু ক্ষুধায় কাতর প্রাণ, কত কথা বলে কেউ  কেউবা করে দান। শীত গ্রীষ্ম সমান চলে খালি গায়ে থাকে, কত রজনী উপোস থাকে কে তার খবর রাখে। পাশের বাড়ি অন্নপ্রাশন  ভিড় জমেছে তায় , একটুখানি খাবার লোভে বাটি নিয়ে যায়। গৃহকর্তা বাটি ভর্তি খাবার দিল আসি, শিশুর চোখে অশ্রু ঝরে মুখে ফুটে হাসি। সে হাসিতে সবাই খুশি গৃহকর্তার কাজে, মানবতাবোধ জেগে আছে আজও ধরা মাঝে।

ধর্মের নামে

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর বেদ পুরাণ বাইবেল কোরআন সবার মাঝে আছে বিধান হৃদয় দিয়ে বুঝতে হবে বুঝার মাঝেই সকল জ্ঞান। চললে ভবে বিধান মেনে সকল গ্রন্থই খাঁটি না বুঝে তা মাথায় নিলে জীবনটা হয় মাটি। সকল ধর্ম সকল গ্রন্থ একই স্রষ্টার দান এক আদমের সন্তান সবই একই সবার প্রাণ। ভিন্ন নামে ভিন্ন পথে ডাকছে সবাই যারে সবার মাঝেই আছেন তিনি কেউ বুঝে কেউ বুঝতে নারে। ধর্মের নামে কেন লড়ো সখা কেন কর উৎপাত ধর্মতো জাগায় মানবতাবোধ নেই তাতে সঙ্ঘাত। ধর্মের গান না গেয়ে ভাই মানুষের গান গাই 'মানব সেবাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম ' সকল গ্রন্থে পাই। নিষ্পাপ রূপে জন্মে শিশু থাকে না হিংসার লেশ মানুষই শিখায় ভালোমন্দ শিখায় হিংসা বিদ্বেষ। জাতিধর্ম ভাষা দ্বন্দ্ব এতো স্বার্থান্বেষীর অপসৃষ্টি বিবেকের কাছে প্রশ্ন কর খুলে যাবে অন্তর্দৃষ্টি। স্রষ্টার সৃষ্টি মানুষ তুমি ধর্মের সৃষ্টি নও সৃষ্টিকে ভুলে স্রষ্টা পাবেনা যতই কেতাব বও। যে নামেই ডাকো যেখানেই যাও মন্দির মসজিদ গুরুদ্বার একই স্রষ্টা সর্বত্র বিরাজে বুঝে দেখ সারাসার।

কাঠবেড়ালির বিয়ে

 কাঠবেড়ালির বিয়ে রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর কাঠবেড়ালির বিয়ে হবে চলছে আয়োজন সকল পশু আসলো সেথা পেয়ে নিমন্ত্রণ। বিয়ের আসর পাতা হলো লিচু গাছের নীচে কাঠবেড়ালি চলছে আগে সবাই পিছে পিছে। মাথায় মুকুট কাঠবেড়ালি চলছে হেলেদুলে হাতি নাচে ভালুক নাচে বাঁশীর তালে তালে। হনুমান বাজায় বাঁশী সিংহ বাজায় ঢোল শিয়াল বসে ওৎ পেতেছে খাবে মাংসের ঝোল। নাচগান আর আনন্দেতে চলছে হাসাহাসি লগ্ন মতে বিয়ে হলো সবাই খুবই খুশি। খাবার টেবিল বসলো সবাই বিয়ের পর্ব শেষে বরের সাথে কনে বসলো নব বধু বেশে। ভিন্ন জাতির পশুর তরে ভিন্ন ভিন্ন খাবার সাত শো টাকায় ডাক রেখেছে বানর ক্যাটারার। আমিষ ও নিরামিষ যার যাহা চাই কাঠবেড়ালির আদেশ হলো সবই যেন পাই। এক টেবিলে খাচ্ছে সবাই পুলাও মাংস ঝোল খরগোশ বলে জাতটা গেল এতো বড় ভুল। শুরু হলো ঝগড়াঝাঁটি উঠলো সবার রাগ ফলাহারি মাংসাহারী  হলো দুটি ভাগ। দু' দলেতে ঝগড়া শুরু শিয়াল নিল সূযোগ বলে তোরা ঝগড়া কর আমি করি ভোগ।

ভুল

রচনা হিফজুর রহমান লস্কর জীবন মানেই শুধু কাজ আর কাজ ভুল শুদ্ধ হোক তাতে নেই কোন লাজ। ভুল হবে ভয়ে যারা কর্ম নাহি করে অলস অবোধ তারা এই ধরা 'পরে। কাজে যদি ভুল হয় সে তো নহে পরাজয় ভুলের মাঝেই সদা শুদ্ধটা লুকিয়ে রয়। জ্ঞানী জন কাজ করে ভয় নাহি থাকে ভুল থেকে শিক্ষা লয় জীবনের বাঁকে। ভুল তো সবারই হয় তবে কেন কর ভয় ভুলের ভয়ে কি কেউ হাত গুটে বসে রয়? কাজটা আরম্ভ কর হোক তাতে ভুল ভুল থেকে শিক্ষা পাবে হয়োনা ব্যাকুল। সভ্যতার আঁধারেতে যত বড় কাজ সফলতার মূলে দেখ 'ভুল' ছিল রাজ। বার বার ভুল করে পরে শুদ্ধ হয় সে শুদ্ধটাই বিশ্ব মাঝে লয় পরিচয়। কাঁটার মাঝে ফুলের বুকে মধু জমে রয় অলি তা আহরণে বার বার উড়ে বয়। অতি বড় বুদ্ধিমতি কাজ নাহি করে বিধাতার ও সাধ্য নেই ভুল তার ধরে।

খোকা ও ধোঁকা

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -০১/১০/২০২২ শিশুর হাসি ভালোবাসি দেখছি আমি তাই, বেলুন হাতে খেলছে খোকা খুশির সীমা নাই। দূর থেকে ভাবছি বসে খুশির আয়ু কত, এক নিমেষেই হারিয়ে গেল হায়রে খুশি যত। ফাটলো বেলুন কাঁদলো খোকা বকলো তাহার মায়, ভাবলাম আমি কিনে দেবো একটা বেলুন তায়। সে ভাবনায় ভাঁটা পড়লো ভাবনা এলো মনে, চাওয়া পাওয়া ভাঙাগড়া আসবেই ক্ষণে ক্ষণে। দিলাম না যে বেলুন কিনে নইতো আমি কৃপণ, সকল ব্যথা সইতে হবে এরই নাম তো জীবন। এ হারানোর ব্যথা থেকে শিক্ষা নেবে খোকা, সহনশীলতায় বাঁচতে হবে আসুক যতই ধোঁকা।

বিজ্ঞাপনের ফাঁদে

 হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ - ২২/০৯/২০২২ মন মাতানো বিজ্ঞাপনে বাজার গেছে ছেয়ে, প্রতিযোগিতার এই জামানায় পড়ি হোঁচট খেয়ে। কোনটা আসল কোনটা নকল চেনা ভীষণ দায়, মন মাতানো লেভেল থাকে জিনিস পত্রের গায়। চক চক করলেই হয়না সোনা জানি সবাই খাসা  বিজ্ঞাপন দেখে তবু কেন করি লাভের আশা । দাম বাড়িয়ে লেভেল বসায় বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রী, লোভে পড়ে কিনে সবাই  ওয়ান এর জায়গায় থ্রী। অনলাইনে অফার দেখে ক্রেতা হারায় হুঁস, কভু দেখি অর্ডার দিয়ে খায় আবার ঢুস। নামিদামি নায়ক নায়িকার বিজ্ঞাপনটা বেশ, ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পড়ে আম জনতা শেষ। ব্যবসার নামে জোচ্চুরিটা চলছে বারোমাস,  সরল মানুষ সব হারিয়ে ফেলে দীর্ঘশ্বাস।

বিদায়

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ১০/০৯/২০২২ বিদায় বেলার স্তব্ধ লগ্নে ভারাক্রান্ত মনে কোন ভাষাতে জানাই বিদায় ভাবছি ক্ষণে ক্ষণে। কণ্ঠ আমার রুদ্ধ আজিকে ছিন্ন হৃদয় বীণ কেমন করে বলবো প্রিয়  আজ বিদায়ের দিন। বিদায় মানে হাজার কষ্ট ভারাক্রান্ত মন দীর্ঘ দিনের স্মৃতি ঘেরা প্রেমের আলিঙ্গন। বিদায় মানে ছন্দ পতন চলার গতিপথে  আসলে ভবে যেতে হবে লেখা জীবন রথে। বিদায় মানে চোখের আড়াল ফেরা আপন নীড়ে হাজার স্মৃতি এক নিমেষেই শুধু ঘুরে ফিরে। শিক্ষাঙ্গনে হয় আগমন কোন রঙিন দিনে এক হয়ে যাই মেলামেশায় প্রেমের আলাপনে। সকল বাঁধন ছিন্ন হবে ব্যথায় বিভোর মন বিধির বিধান মানতে হবে এল বিদায়ের ক্ষণ। মন খারাপের সকল সুরই বেজে উঠে গানে থাকবে গাঁথা সকল কথা সবার হৃদয় প্রাণে। সুপ্রভাতের সূর্য যেমন রঙিন আভায় পাটে বয়ে চলা জীবন তরী তেমনি ভীড়ে ঘাটে। যদিও আজি বিদায় দিচ্ছি এই আঙিনা থেকে স্মৃতিগুলো মালা হয়ে থাকবে মাধুরী মেখে। জীবন পথে জুড়েছিলাম সবাই একই ফ্রেমে একে একে খসছে সবাই বিধির লিখা প্রেমে। আসা যাওয়া এইতো জীবন মাঝে শুধু বিরাম তবুও যেন হারানো ব্যথা কাঁদায় অবিরাম। এই জীবনে বিদায় দিলাম কতো হীরা পান্না এ...

গুরু ভাবনা

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ০৭/০৯/২০২২ আঁধার রাতের শেষে           বিনিদ্র আবেশে                          কত কথা মনে বাজে। উঠি বলে ভাবি                 মনে ভাসে ছবি                        তন্দ্রা জড়িমা মাঝে । গুরুজন স্মৃতি                ছিল কত প্রীতি                     শৈশবের সেই বিদ্যালয়। কে যেন বলিছে মোরে         ঘোর অন্ধকারে                       ডুবিছে যে শিক্ষালয়। আজিকার শিক্ষাঙ্গন     নীতি শিক্ষা অবিহন                       শিক্ষার কাঠামো তো তাই। পরীক্ষা পাশের তরে        জ্ঞান লয় বই পড়ে          ...

ইসলামের আলো

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ: ১০/০৩/২০২২ তোমারি কারণে সৃষ্টি এ ধরা,হে নবী হজরত! হাতে নিয়ে কোরান হলে আগুয়ান তরাইতে তব উম্মত। সঠিক পথের সন্ধান দিলে বিশ্ব মানব ভুবনে ইসলামের ছায়াতলে আসিল সবাই প্রেমের আহ্বানে। খোদার বাণী করিলে প্রচার বিশ্ব কালিমা ঘুচাতে মানুষে মানুষে বিভেদ প্রাচীর খুলে গেল সেই সাথে। আমির গরীব পাশাপাশি বসে জপিল খোদার নাম বিশ্ব ভুবন কাঁপিয়া উঠিল শুনি অভিনব পয়গাম। দিক দিগন্ত স্পন্দিত হল শুনি সাম্যের বাণী দুর্ভিক্ষের দিনে যেন পাওয়া গেল আলোর সে পথ খানি। এতিম অনাথ পাইল সাহারা কোরানের আইন মতে খুশির আলো লুটাইয়া পড়ে মরু গিরি পর্বতে। ধনীর সম্পদে ভাগ বসালো সর্বহারার দল খোদার আরশ খুশিতে নাচিল ঝরিল চোখের জল। উদিল আবার নতুন সূর্য বিশ্বের দরবারে বঞ্চিত নারী ভুষিত হল নর সম অধিকারে। যত ভেদাভেদ ধুলিস্যাৎ হল ইসলামের আলোতে হে আলোর বাহক নবী মোহাম্মদ ক্ষমা কর উম্মতে। শেষ বিচারের কাণ্ডারি তুমি ঘোষিয়াছে পরোয়ারে আমি শিশু কবি তুমি মহানবী ক্ষমা চাই বারে বারে।

আবারও ভাবতে হবে

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ- ০১/০৫/২০২২ ১লা মে' আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালিছে সবাই বেশ। শ্রমিক মজুর শোষণ নিপীড়ন আজ ও হয়নি শেষ। যত নির্মাণ কেমনে চলিছে দেখোনা একটু ভেবে শ্রমিক মজুর খেটে মরে সদা তবু কেন পিছে রবে? যে পথে হাঁটছো সবাই প্রতিটি ধুলিকণা জানে কত শ্রমিকের ঘাম ঝরেছে এ পথ নির্মাণে! বিলাস ভবনে কত সুখে আছ ভাবনিতো কভু মনে কত শ্রমিকের ঘাম ঝরেছে এ ভবন নির্মাণে! শ্রমিক যারা মাঠে করে কাজ নেই রোদবৃষ্টির ভয়, সবার মুখেতে অন্ন যোগায় কত যাতনা সয়! রঙমহলে শুয়ে বসে তুমি কর যে অহঙ্কার শ্রমের বিনিময়ে শ্রমিক কি কভু পায় তার অধিকার? সভ্যতার যত ইট পাথরে  খুদিত নেতার নাম, শ্রম দিল যারা ভেবে দেখ মনে কভূ কি পেয়েছে দাম? আজীবন তারা করে যায় শ্রম পায়তো শুধুই ব্যথা। বৃদ্ধ বয়সে না খেয়ে মরে জোটে না বৃদ্ধভাতা। আজি এ মহান মে' দিবসে আবারও ভাবতে হবে শ্রমিকের এ বঞ্চনার দিন কবে শেষ হবে?

পণটা দিতে হবে

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -২৮/০৬/২০২২ বিদ্যার বালিশ বীরেন বাবু মেয়ের বিয়ে দেবেন, ঘটক এসে বসলো পাশে 'ঠাকুর পেন্নাম নেবেন।' মনের মতো পাত্র একটা ফুলঝুরির ঐ গ্রামে। 'মেয়ে আপনার সুখী হবে রাখবে সোনার দামে।' হেড অফিসের বড়বাবু সম্ভুনাথের ছেলে, উপরি কামাই ঘোষের টাকা মাসে লক্ষ মেলে। কথাশুনে বীরেন বাবু দিল খুশির লাফ, বলেন বাবু 'রাজি আমি, ডাকো ছেলের বাপ।' যেমন কথা তেমন কাজ শর্তে বন্দী হলো, বিয়ের তারিখ লগ্ন আছে কার্তিক মাসের ষোলো। বরের বাবা বললো হেসে দাবি কিছুই নাই, 'ছেলের সম্মান বাঁচার তরে গাড়ি একটা চাই।' অনেক ভেবে বীরেন বাবু রাজি হলো তাতে, মনে ভাবে শিক্ষা দেবে সমাজ বুঝে যাতে। ঘটা করে করলো বীরেন বিয়ের আয়োজন, এ তল্লাটের সবাই এলো পেয়ে নিমন্ত্রণ। গাড়ি একটা সাজিয়ে রাখলো আঙিনার ঐ পাশে, বরপণটা দিতে হবে বরের বাবার আশে। আদর যত্ন করলো বীরেন বরযাত্রীর তরে, চর্ব্য চুষ্য লেহ্য পেয় চললো দিবস ধরে। বিয়ের লগ্ন হলে বীরেন দেখিয়ে দিল গাড়ি, ' ঐ গাড়িকে মন্ত্র পড়িয়ে নিয়ে যাও বাড়ি।' মেয়ে বিয়ের মন্ত্র পড়লো অন্য সে এক ছেলে, ধন্য বীরেন বললো সবাই কেমন শাস্...

ভাষা শহীদদের নামে

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ১৯/০৫/২০২২ মায়ের ভাষার বোবা কান্নাতে যারা ছিল শোকাকুল তাঁদের স্মরণে ১৯শে মে বেদিতে চড়াই ফুল। রেল ষ্টেশন আর বরাকের জল হয়েছিল যাদের রক্তে লাল মায়ের ভাষার রক্ষক তারা রয়েছে হৃদয়ে চিরকাল। হে বীর বাঙ্গালী একাদশ শহীদ বাঙালির পুষ্প গাঁথা তোদের ঝরা রক্তের দাম যায়নি কখনো বৃথা। বছর বছর আসবে সে দিন জ্বলবে প্রদীপ শিখা তোরাই মোদের ভোরের সূর্য পরাবো জয়টীকা। ভিনভাষীর ষড়যন্ত্রের তরে প্রস্তুত মোরা প্রহরী বাউলের টানে ভাটিয়ালি গানে উঠাবো সুরের লহরী। আজিকার এ দিনে অঙ্গীকার মোদের ভাষা শহীদদের নামে রক্তে রাঙানো এ ভাষার মান রাখিব সোনার দামে।

প্রশ্ন

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১১/০৬/২০২২ ফেলে আসা শূন্য গৃহ খুঁজতে যবে যাই মনে আমার প্রশ্ন জাগে যদি কিছু পাই? সারারাত্রি খুঁজে বেড়াই কোথায় যে সেই ঘর ফেলে আসা দিনগুলো যে কেটেছিল মোর। আধো অন্ধকারে যবে ফ্ল্যাশ লাইটটা জ্বালি যেন কিছু যায়না দেখা আন্দাজে যাই চলি। মরচাপড়া ভুতের হাঁড়ি খাঁ খাঁ করে ডাকে হাঁ করা সব দুয়ার গুলো শুধুই তাকিয়ে থাকে। উইপোকা আর আরশোলাতে করছে হাঁকাহাঁকি বলে আমায় আর কি চাওয়ার রইল তোমার বাকী? টিকটিকিটা লাফিয়ে উঠে যেন আমায় চিনে বললো হেঁসে কেন এলে দাওনা কিছু কিনে। ছিলো মশা যত চৌদিক থেকে ঘিরলো আমায়  পাগলা হাওয়ার মতো। শুধাই ওদের শোষণ ছাড়া ক্যামনে বসত কর? তারপর যা হলো--- পড়ি-মরি পালিয়ে বাঁচি,বাজে সোয়া বারো। মনে ভাবি কেন এলাম অন্ধকার এই ঘরে আলোছাড়া সবাই ওরা খাবার তরে মরে। ফুঁটো টিনের চালা হতে জ্যোস্নার আলো পড়ে ফেলে আসা দিনগুলো মোর আধো আধো জ্বলে। সবার প্রশ্ন কিসের কাজে এসেছ এইখানে কেনই বা খুঁজছো তুমি অন্ধকারের মানে? যুগে যুগে এমনি সবাই ছুটে আলোর পানে তবু কেন আঁধার টানে কেহই নাহি জানে। প্রশ্নটা মোর থেকেই গেল কেমন আছো সবাই এমন সময় ঘুমটা ভাঙলো দেখি কিছ...

সভ্যতার ঝড়ে

রচনা-  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ- ২২/০৬/২০২২ পোস্ট অফিসের ডাকবাক্সটা পড়ে আছে ঠাঁয় পিওন এসে খুলবে তাকে আছে অপেক্ষায়। চিঠিপত্রের আদানপ্রদান ইতিহাস আজ তাইতো কেউ খোলেনা এ ডাকবাক্সটার রাজ। এ যুগের ছেলেমেয়ে অবাক এ নামে চোখের জলে ভেজা চিঠি আসতো যে খামে। অধির আগ্রহে স্বজন থাকতো অপেক্ষায় প্রেমের পরশ পেতো সে চিঠির গায়। টেলিগ্রাম ও ইনল্যাণ্ড লেটার আজও মনে পড়ে সবই যেন উড়ে গেল সভ্যতার ঝড়ে। যোগাযোগের মাধ্যম ছিল শুধু ডাকঘর মৃতজনের খবর পৌঁছতো শ্রাদ্ধের পর। তবুও সুখের ছিল সাধের সে পত্রালাপ জঙ্গধরা লালবাক্সে বন্দী সে আবেগ সে সংলাপ। মোবাইলের আগমনে বিলীন সে দিন সুকান্তের রানার আজ হয়েছে অচিন।

কে দিবে তাদের আলো

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ০২/০৭/২০২২ বানের জলে ভাসছে গ্রাম  ভাঙছে নদীর কূল মাথায় হাত দিয়ে কৃষক  ভবিষ্যতের চিন্তায় ব্যাকুল। কেমন করে খাবে বাঁচবে  সে ভাবনা অতল ভাবতে ভাবতে আক্কেল আলীর  চোখে আসে জল। বন্যার জলে ভাসিয়ে নিল  হালের বলদ জোড়া ফসল সব জলের তলে  হায়রে কপাল পোড়া। উদ্ধার ও ত্রাণ বণ্টন  চলছে শহর জুড়ে আক্কেলদের আর্তনাদ শুধু  পূবালী হাওয়ায় উড়ে। প্রকৃতিও আজ রুষ্ট হয়েছে  নীলাকাশ তাই কালো আক্কেল আলীরা অসহায় আজি  কে দিবে তাদের আলো?

সমাজ সেবার নামে

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -০১/০৭/২০২২ সমাজ সেবা করে যারা তারাই নাকি চোর পড়লে ধরা ঘাটের মড়া দেখার গায়ের জোর। বিশ্বজুড়ে বন্যার থাবা ভাসছে মানুষ জলে বানভাসিদের ত্রাণ সামগ্রী লোটছে নেতা কলে। তারাই নাকি জন নেতা তারাই কর্ণধার গরীব দুঃখীর খাবার কেড়ে নিচ্ছে বার বার। মানব সেবার নামে এসব চলছে ধান্দা বাজি পড়লে ধরা ফন্দি আঁটে হয়ে যায় কাজী। সব নেতারা এমন নয় করছে যারা রাজ মুখোশ ধারী নেতার তরে পাচ্ছে ওরা লাজ। গণদেবতা বানায় নেতা সেটা স্মরণ করো স্রষ্টা তোমায় জ্ঞান দিয়েছে ন্যায়ের দণ্ড ধরো।

মলিনতা ত্রাতা

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ০৩/০৯/২০২২ শিক্ষাগুরু জ্ঞান বাহক বিশ্বজুড়া খ্যাতি, শিক্ষকের শিক্ষা দান অমূল্য রতন, আজীবন করে যান জ্ঞান বিতরণ , তাইতো তাঁর অবহেলা নিজের অখ্যাতি। জ্ঞানের ভান্ডার হয়েও থাকে জ্ঞানান্বেষণে, শিষ্যের সুচিন্তায় তাঁরা আজীবন খাটে, নিজ কাজে সফল হতে থাকে তাঁরা পাঠে, বিনিময়ে কিবা পায় ভেবে দেখো মনে। মানুষ গড়ার কাজ যার কাঁধে থাকে, বড়ো হয়ে তার কথা কেবা মনে রাখে। শিক্ষকের ভাবনায় সভ্যতার প্রসার, বৈজ্ঞানিক দার্শনিক যত গুণী নেতা, সবারই জীবনে শিক্ষক মলিনতা ত্রাতা, শিক্ষক ভাবনা ছাড়া সকলই অসার। শিক্ষক দিবসে তাই করি এই আশা, গুরু ভক্তি গুরু আজ্ঞা অটুট যেন থাকে, বিধি যেন সব গুরু চিরসুখী রাখে, যে যেথা আছে জানাই শ্রদ্ধা ভালোবাসা।

সর্ব কালের শ্রেষ্ঠ বীর

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -১৫/০৭/২০২২ মানুষের মুখে বাঘের গর্জন শুনেছি শিশুকালে বীর পরিচয় মুজিব তোমায় স্মরিছি অন্তরালে। বীর সৈনিক দাবানল তুমি জ্বলন্ত অগ্নিশিখা বাংলা মায়ের মুক্তির তরে রূপ ধরেছিলে বিভীষিকা। হুঙ্কার দিয়ে বলেছিলে তুমি আত্মশক্তি নিয়ে " এই জাতিকে মুক্ত করবো হলেও রক্ত দিয়ে।" স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে হয় এই ছিল তব দীক্ষা পাক হানাদার হায়েনাদেরে দিয়েছ উচিত শিক্ষা। বুকেতে ছিল অগ্নি স্ফুলিঙ্গ মুখে মানবতার বাণী তোমার নেতৃত্বে মুক্ত হয়েছে সোনার এ দেশ খানি। মুজিব তুমি বাংলার জনক বাঙালির পরিচয় শক্তি বীণায় ছিনিয়ে এনেছো বাংলাদেশের জয়। সদা চঞ্চল স্বপ্ন দুচোখে গড়িতে সোনার বাংলাদেশ তাইতো চির অম্লান তুমি বাঙালির হৃদয়ে অনিমেষ স্বার্থক নেতা সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বীর তোমার কারণে আজিও বিশ্বে উঁচু মোদের শির। বিশ্বজুড়া খ্যাতি তোমার সাম্যবাদী নেতা  শ্রমিক মজদুর মেহনতি মানুষ কেমনে ভুলিবে তা। বঙ্গ জননীর বীর সন্তান তুমি আছো সবার অন্তরে জাতি কখনও ভুলেনি তোমায় স্মরিছে প্রেমের জোরে।

অসমের স্বাভিমান লাচিত

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ: ১১/০৮/২০২২ নদী ঘাটে মাঝি বসে গুনগুন গায় ছোট ছেলে পাশে বসে পড়ে ভাবনায়। এত বড় ব্রম্মপুত্র অসম সীমায় মোঘলেরা কেমন করে প্রবেশিল তায়। দিন যায় মাস যায় বছর ঘুরে আসে ভাবনাও বাড়ে তার কেমনে বিনাশে। স্থির করে সেনা হয়ে মোঘলেরে লড়ে শুরু করে অস্ত্র শিক্ষা ঘোড়া 'পরে চড়ে। নিজেতো বীরের জাতি ভাবনাটা তার তাড়াবে মোঘল সেনা মানিবে না হার। খুশি হয়ে রাজা দেয় স্বর্ণ তলোয়ার ফুকন উপাধি সহ সেনাপতি ভার। নির্ভীক বীর সেনা কঠোর সে কাজে সাজালো অসম সেনা অপরূপ সাজে। মোঘলেরে তাড়া করে নিল সে বিরাম স্বস্থির নিঃশ্বাস পেল স্বাধীন আসাম। কর্তব্যে অনড় বীর সাক্ষী ইতিহাস শরাইঘাটে ফেলেছিল নিজ মামার লাশ। আজি তার জন্মদিন করছি স্মরণ ধন্য অসমের স্বাভিমান লাচিত বড়ফুকন।

এক কাপ চা

রচনা- হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -২২/০৭/২০২২ দিনের শুরুতে রোজ সকালে সবারই চাই এক কাপ চা। বিশ্ব জুড়ে শ্রেষ্ঠ পাণীয়  সকলেই জানি তা। কাজের ফাঁকে একটু রিল্যাক্সে  চাই যে চায়ের ছোঁয়া। দিনটা কাটে মনের আবেশে পেলে সুগন্ধি চায়ের ধোঁয়া। সন্ধ্যার আড্ডায় দোকানে বসে চা' টাই সবার প্রিয়। জ্বর মাথা ব্যাথা যে কোন রোগে গরম চা' টা অতুলনীয়। অতিথি আপ্যায়নে বাঙালি মাত্রেই চাই এক কাপ চা। বিস্কিট চানাচুর সাথে থাকলে আরো ভালোই জমে যে তা। পরখ করো যদি সূযোগ পাও  মন জুড়ানো যা, মিষ্টি আবেশে মনোরম বেশে মাটির কাপের এক কাপ চা।

জ্ঞানের খোঁজে

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -২৬/০৭/২০২২ শিক্ষার ঝড় উঠুক         মানুষের মনে, শিক্ষা ছাড়া নরনারী       পশুতুল্য হয়, অল্প শিক্ষা হীন শিক্ষা     এনে দেয় ভয়, প্রণিধান কর সবে            সময়ের ক্ষণে। সার্থক সমাজ হয়            শিক্ষা জ্ঞান লাভে, পড়ে শিখে জ্ঞানী হও       গুণী সাথে থাকো, পিতৃমাতৃ গুরুজনে          ভাব ভক্তি রাখো, জাতিটা ধ্বংস হয়           শিক্ষার অভাবে। স্বচ্ছ শিক্ষা নীতি জ্ঞান     নেই ভবে যার, ভ্রান্ত পথে চলে তবু          মানে নাতো হার। অজ্ঞ জন অন্ধ ভবে         সেটা বুঝে নাও, জ্ঞানী সদা পূজ্য হয়         শক্ত এই ভবে, খুঁজে ফেরো বিশ্ব জুড়ে     জ্ঞান যেথা পাও, জাতি ধর্ম ভুলে করো        জ্ঞান লাভ সবে।

কর্ম মাঝে মুক্তি

রচনা- হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -২১/০৮/২০২২ নদী ঘাটে মাঝি বসে         গুণ গুণ গায়, ষোলো আনা দাম নিয়ে      পার করে নদী, বিধি কিবা পার করে           ভব নদী যদি, রোজ রোজ কত লোক        পার করে যায়। সাধু এসে বসে পাশে            হতে নদী পার  বলে মাঝি পার করো          কড়ি নেই হাতে, সাধু সন্ত পার করো          মুক্তি পাবে তাতে, ত্বরা করে পার করো       ভেবো নাতো আর। রোজ কত যাত্রী মাঝি         করে দেয় পার, ভব নদী পার করে               হেন সাধ্য কার। মাঝি হাতে কড়ি দাও           নদী পার হতে, ভব নদী ভয় করো               লও বিধি নাম, নিজ কর্মে ধ্যান দাও           থাকো সৎ পথে, কর্ম মাঝে মুক্তি আছে           ...

ইলশেগুঁড়ি

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -৩০/০৮/২০২২ পড়ছে খোকা বইয়ের মাঝে ইলশেগুঁড়ির দিন, ইলিশ নাকি নাচে জলে তা ধিন ধিন ধিন। সকাল থেকে ঝরছে বৃষ্টি গুড়ি গুড়ি ধারা, মাছ ধরতে যাবে খোকা যেন পাগল পারা। ছিপ হাতে চললো খোকা ধরতে ইলিশ মাছ, শরীর খারাপ করবে খোকার মা করেছে আঁচ। তাইতো মা ডেকে বলে, যাসনে নদীর ধার, ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির মাঝে পিছল নদীর পার। মৃদু হেসে বলে খোকা ভেবো নাকো তুমি ছেলে তোমার অনেক বড় চিনে সকল ভুমি। সামলে নিয়ে চলবো মাগো হবে না মোর ভুল, ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টির দিন খাবো ইলিশ ঝোল।

সুপ্রভাত

 হিফজুর রহমান লস্কর সারা রাতের আঁধার শেষে ঊষার আলো হাঁসে সে আলোতে খুশি হয়ে বিশ্ব জগত ভাসে। পশুপাখির কিচিরমিচির মিষ্টি মধুর সুর, নীল আকাশে কাকের ডাক রাত হয়েছে ভোর। পূব গগনে আলোর খেলা সোনালী রূপ ধরে, ভোরের হাওয়া আলতো পড়ে আমা সবাকার 'পরে। ভোরের হাওয়া রোদের ছায়া ফুল ফলাদির ঘ্রাণ , রোজ সকালে পাখির কূজন জুড়ায় মোদের প্রাণ। আঁধার শেষে আলোর উল্লাসে বাড়াই দুটি হাত, মিষ্টি আবেশে মনোরম বেশে জানাই সুপ্রভাত।

পৃথিবী টাকার গোলাম

হিফজুর রহমান লস্কর টাকার পিছে ছুটছে মানুষ ছুটছে জীবন ভর, টাকার লোভে পড়েই মানুষ ভুলে আপন পর। টাকার তরে খুন খারাবি টাকার তরে কর্ম, হাসায় কাঁদায় সবই করে এইতো টাকার ধর্ম। টাকাই সুজন টাকাই বন্ধু টাকাই ভালোবাসা, টাকাই নাকি সুখের চাবি করতে জীবন খাসা। পথশিশু গরীব দুঃখী সবারই চাই টাকা, কোটিপতির পকেট দেখো টাকার তরে ফাঁকা। আরো চাই আরো চাই এ যেন এক নেশা, টাকার ভাণ্ডে শুয়েও দেখো কাটেনা অমানিশা। টাকায় ভালো টাকায় মন্দ টাকায় বিকে আইন, জুলুমবাজ আর অত্যাচারীও টাকায় রাখে ফাইন। উকিল মোক্তার জজ্ ব্যারিস্টার সবারই চাই টাকা, রোগীর কাছে ডাক্তার বাবু টাকার তরে বাঁকা। তাইতো সবার টাকা চাই টাকায় মিলে সেলাম, সত্যি কথা ভেবে দেখো পৃথিবী টাকার গোলাম।

অমৃত মহোৎসব

 হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -১২/০৮/২০২২ ভোরের হাওয়ায় তেরঙ্গা উড়ায়ে শুরু হল কলরব এগারো আগস্ট যাত্রা শুরু অমৃত মহোৎসব। পঁচাত্তর তম স্বাধীনতা দিবস পনেরো আগস্ট ভোর চার দিন আগে শুরু হয়ে গেল পতাকা উত্তোলন সুর। এই দিবসেই হারিয়েছি মোরা বিপ্লবী ক্ষুদিরাম স্বাধীনতা দিবসের পূর্ব লগ্নে স্মরিছি তাহার নাম। ভুলেনি ভারত ভুলিনি আমরা সেই বিপ্লবী সংগ্রাম এগারো আগস্ট ফাঁসীর মঞ্চে উঠেছিল ক্ষুদিরাম। দুরন্ত কিশোর দুরন্ত দাপট জ্বলন্ত অগ্নিশিখা স্বাধীন ভারত খুঁজে ফিরে যারে পরাতে জয়টীকা। ভারত মায়ের মুক্তির তরে আরো যারা দিল প্রাণ তাদের স্মরণে সঙ্কল্প করি রাখিব দেশের মান। আজিকার এ দিনে তাইতো আয়োজন অমৃত মহোৎসব অনেক ত্যাগে স্বাধীনতা এলো সেটা করি অনুভব। ঘরে ঘরে উড়বে জাতীয় পতাকা জাগবে ভারতবাসী ফিরিয়ে আনব হারানো একতা দেশকে ভালবাসি।

আশুরার দিনে

হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -০৯/০৮/২০২২ আশুরার দিন ঘিরে হয় কত খেলা বুঝিনা অবুঝ মোরা বিধাতার লীলা। বিনা দোষে রক্ত ঝরে কারবালার ময়দান হাসান হুসেন কাতিল করে এজিদ শয়তান। বছর ঘুরে আসে ফিরে মহররমের মাস মাতম করে বিশ্ব মুসলিম ফেলে দীর্ঘশ্বাস। এ দিবস নয় শুধু বিষাদের ক্ষণ বিশ্ব জুড়ে আরো আছে বহু আলাপন। আদি পিতা আদমের সৃষ্টি এই দিনে সৃষ্টি জগত পূর্ণ হয় হাওয়ার আগমনে। আদম হাওয়ার বিচ্ছিন্নতা জাগায় শিহরণ এই দিবসেই আবার তাদের আরফাতে মিলন। বিশ্ব যবে ভেসেছিল দারুন প্লাবনে নূহ নবীর তরী তীর আশুরার দিনে। আয়ুব ইউসুফ ইউনুছ সহ আরো যত নবী সবারই জীবনে ভাসে আশুরার ছবি। আশুরার আরো বর্ণন ইতিহাসে রয় ঈসা নবীর আগমন এদিনেই হয়। হজরত মুহাম্মদ বিশ্বনবী অশুভ বিনাশে যত যুদ্ধ জয় করেন মহররম মাসে। সুখে দুঃখে পূর্ণ এদিন জানিও নিশ্চয় এই দিবসে সৃষ্টি ধরা এদিবসেই হবে লয়।

অপমান

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -০১/০৮/২০২২ পায়ের নিচে ব্যাঙ পড়লে স্রষ্টাকে সে ডাকে, প্রাণ বাঁচানোর কৌশল করে চুপচাপ থাকে। ছাড়া পেলে রাগ করে লাথি মারে গায়ে, মানুষ কি লাথি খেয়ে ধরে তার পায়ে? কুকুর যদি ধেয়ে এসে কামড় দিতে চায়, তার দিকে ফিরে যাওয়া মানবে কি শোভা পায়? যার যে যোগ্যতা আছে সেতো তা করবে, তা বলে কি নিজের যোগ্যতা নিজেই ভুলে যাবে? অযোগ্যের জবাব দেওয়া নিজেরই অপমান, এদের থেকে দূরে থেকো বাঁচাতে নিজের মান।

বৌ দিবস

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -০২/০৮/২০২২ হরষে বিষাদ ভাবছে খোকা নির্জন নিরালে বসে বৎসর জুড়ে পালন করি কতনা দিবস হেসে। কী যন্ত্রণা কাঁদায় মোরে একটি দিবস তরে। বৌ দিবসটি আসবে কবে জানার ইচ্ছে করে। ভাবতে ভাবতে তন্ময় খোকা লুটিয়ে পড়ে খাটে দিন শেষে আঁধার নামে সূর্য গেল পাটে। মা এসে বসলো পাশে দেখে খোকার কাণ্ড খাতাপত্র সব এলোমেলো বইগুলো লণ্ডভণ্ড। মোবাইল হাতে ঘুমিয়ে খোকা বকছে অহর্নিশ পেলাম না মা কোথাও খুঁজে বৌ দিবসের হদিস।

বিল্লি মাসি

: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ১৫/০৭/২০২২ বিল্লি মাসি বিল্লি মাসি কোথা তুমি যাও সকাল থেকেই দেখছি বসে করছো ম্যাও ম্যাও। চোখটি তোমার তীক্ষ্ণ অতি মুখটি বাঘের মতো বুদ্ধি তোমার দারুন খাসা খাটাও অবিরত। নাকের উপর সূক্ষ্ম ছাপ কানটি তোমার খাড়া আলট্রাসনিক শব্দ শুনে ইঁদুরকে দাও তাড়া। পায়ের পাতা নরম তোমার নিঃশব্দে তাই চলো এমন ধূর্ত প্রাণী ধরায় আর কে আছে বলো? দেখতে তোমায় লাগে বোকা ঠিক যেন এক সন্যাসী একটু সূযোগ পেলেই তুমি হও যে সর্বনাশী। যতই তোমায় আদর করি স্বার্থে তুমি অন্ধ চুরির সূযোগ পেলেই তোমার ম্যাও ম্যাও হয় বন্ধ। দাঁত দেখিয়ে বিল্লি বলে আদরটা তো করো খাবার সময় ভুলে যাও হাতে লাঠি ধরো। আমার মতো ভিজে বিড়াল তোদের মধ্যেও আছে অন্যের খাবার কেড়ে নিয়ে মেজাজ দেখায় পাছে।

কবিরা কাব্যে বাঁচে

 কবিরা কাব্যে বাঁচে  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ১২/০৭/২০২২ কলমের ঢেউ ওঠে         প্রতি কবি মনে, কবিরা কবিতা লিখে       যুগ যুগ ধরে, সব কথা ফুটে ওঠে        ভাবনার জোরে, যত কথা জমা থাকে      মনের গহীনে। ছন্দ তাল লয় সেতো        বড়ো কথা নয়, মূল কথা তুলে ধরো          ভাব যেন থাকে, পূর্ব থেকে তৈরি করো        মনে ছবি আঁকে, তব কাব্য মাঝে যেন           গূঢ় তত্ব রয়। সত্য যাহা তুলে ধরো           জনহিত তরে, তাহাতে পাঠক মন            মোহিত যে করে। কবিরা তো বেঁচে থাকে      কাব্য কথা মাঝে, সব যদি কবি হয়               পাঠক কে হবে, পাঠ কর যত পার             লাগবে যে কাজে, যত পার লিখে যাও          কবি হও তবে।

ইসলামের তাগিদ

 হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ০৯/০৭/২০২২ সর্বত্রই খুশির জোয়ার বাজছে খুশির বীণ বছর ঘুরে আসছে ফিরে ঈদুল আযহার দিন। নতুন সাজে সাজবে সবাই সাজবে বসুন্ধরা ঈদগাহে তে পড়বে নামাজ এটাই পরম্পরা। মনের পশুর কুরবানী হোক হিংসা বিদ্বেষ ভুলে মানবতাবোধ জাগিয়ে তুলি  মনের দরজা খুলে। অভাবী-প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়াই তাদের ঘরেও ঈদ এদের মুখেও হাসি ফুটাই ইসলামের তাগিদ। গরীব দুঃখী অনাথ আঁতুর মিলবো সবার সাথে খুশি হবেন স্রষ্টা মোদের সন্দেহ নেই তাতে। আত্মশুদ্ধি পরম ভক্তি সর্ব ধর্মে পাই সব মানুষকে আপন করলে খুশি হবেন সাঁই।

কর্ম

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ০৫/০৭/২০২২ ফুল মাঝে কাঁটা দেখে    ভয় কেন পাও, ধরা মাঝে রীতি নীতি      চেয়ে দেখ তায়, দুখ ছাড়া সুখ লাভ         কেবা কোথা পায়, শঙ্কা হীন হয়ে চলো          সুখ যদি চাও। শত বাঁধা থাকে জানি      ভব নদী মাঝে, তবু যারা কর্ম করে          বিনা কল রবে, সিদ্ধি লাভ করে তারা       শক্ত এই ভবে, বেঁচে থাকে তারা শুধু     নিজ শুভ কাজে। চন্দ্র সূর্য আলো দিয়ে      ধরা আলো করে, নিজে গলে মোম বাতি     আলো দেয় নরে। ধরা মাঝে সর্ব সৃষ্টি          পর-হিত তরে, তাই তারা নিজে জ্বলে     অন্যে দেয় আলো, জ্ঞানী গুণী নর তুমি        জীবে প্রেম করে, নর জন্ম সিদ্ধ কর          দূর করে কালো।

ভাবতে হবে

 হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -২৬/০৬/২০২২ জলের মাঝে ডুবছে মানুষ, ডুবছে বসুন্ধরা অথৈ জলে ডুবেও দেখো, বুকে দারুন খরা। বিধির লীলা আজব খেলা, নিজ ঘরে নেই ঠাঁই, প্রাণ বাঁচাতে ঘরটা ছেড়ে,ছুটছে আজ সবাই। সর্বত্রই বানভাসিদের, চলছে আহাজারি জলে ডুবেও তেষ্টার জল,পাওয়া বড় ভারী। উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ চলছে শহর জুড়ে গ্রামবাসীদের দুর্ভোগটা যাচ্ছে হাওয়ায় উড়ে। গভীর জলে সব হারিয়ে ক্যামনে বাঁচায় প্রাণ এদের জন্যেও ভাবতে হবে, পৌঁছে দিতে ত্রাণ।

কাঁদিছে সঙ্গোপনে

  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-২০/০৬/২০২২ ঝর ঝর ধারা ঝরিছে বাদল ঝরিছে অবিশ্রাম জলে থৈ থৈ ভাসিছে শহর ভাসিছে নগর গ্রাম। মাটি চাপা পড়ে মরিছে মানুষ বন্ধ পথঘাট জলের স্রোতে ভাসিছে গৃহ ভাসিছে ফসল মাঠ। দুই বাংলা জুড়ে বন্যার তাণ্ডব স্থল জল একাকার খাদ্যের অভাবে ধুঁকছে মানুষ সর্বত্রই শুধু হাহাকার। দিবা দিনমণি ঢাকাপড়ে হায় নীলাকাশ হল কালো প্রাণীকুল যত অসহায় আজি কে দিবে কাহারে আলো। প্রকৃতিও যেন রুষ্ট হয়েছে ব্যভিচার জনমনে তাইতো সকলে বানভাসি হয়ে কাঁদিছে সঙ্গোপনে। মানুষ হয়ে মানুষের কাছে থাকে যে অনেক আশা এ দুর্যোগের দিনে হাতটা বাড়াই দিয়ে যাই ভালোবাসা।

ন্যায়ের দণ্ড ধরো

কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১৭/০৬/২০২২ স্বার্থের তরে অন্ধ সবাই বন্ধ বিবেক দ্বার অন্যায় আর জুলুম বাজি চলছে সারাসার। চোখের সামনে চলছে যত অন্যায় অবিচার তবুও কেউ মুখ খোলে না কে দিবে ফেরফার। তুমিও তাই পালিয়ে বাঁচো চোখে মুখে দিয়ে তালা বিবেক তোমায় আঘাত হানবে হাতুড়ি শাবল চালা। ধর্ষণ লুটতরাজ খুনখারাবি, চোখ বুজে তুমি রও প্রতিবাদ শুনে সহ্য হয়না কানে তালা তুলে লও! চোখ কান মুখ বন্ধ করে হয়োনা আত্মভোলা বিবেকের ঘরে কে দিবে তালা সেটা যে রয়েছে খোলা। তিলে তিলে তুমি করোনা যেন বিবেকের দংশন খুঁজে ফিরে দেখো ওখানেই আছে দেহবলয়ের জংশন। নিষ্ঠুর হও ন্যায়ের তরে হয়োনা বধির কভু সব বন্ধন ছিন্ন করো বিবেক বাঁচাও তবু। বিবেকের দংশন ধ্বংসিবে তোমায় শান্তি পাবে না ভাই যেখানে যত অন্যায় অবিচার প্রতিবাদ করো তাই। স্রষ্টা তোমায় জ্ঞান দিয়েছে ন্যায়ের দণ্ড ধরো সত্যের পথে এগিয়ে চলো তাঁকে ই স্মরণ করো।

বাঁচার তরে

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-০৫/০৬/২০২২ প্রকৃতি আজ দুষিত হয়েছে  বিষবাষ্পে ভরা, মানব জাতিই করছে ধ্বংস  সোনার এ বসুন্ধরা। বাড়ছে মানুষ বাড়ছে আবাদী  বাড়ছে মানব সংসার, পরিবেশ তাই মাথা নুইয়েছে  বইতে পারে না ভার। প্লাস্টিক আর পলিথিন দিয়ে  বিষিয়ে দিয়েছে ধরা, নিষিদ্ধ এটা কাগজে কলমে  চলছে সেই পরম্পরা। ঘটা করে পরিবেশ দিবস  পালন করছি আজ, বৎসর জুড়ে গাছপালা কেটে  চলে যে লুটতরাজ। বছরে একদিন আওয়াজ তুলি  বৃক্ষ রোপন করি, তারসাথে আছে ফটো তুলাতুলি  তাহাতে স্ট্যাটাস ভরি। ৫ই জুন পরিবেশ দিবস  শুনেছি অনেক ভাষণ, দর্শক শ্রোতার হাততালিতে  ভরে যায় হৃদয়াসন। তারপর সেই আগের মতো  গাছ কেটে করি সাফ, কেমন করে প্রকৃতি রাণী  করবে মোদের মাফ? লোক দেখানো কাজ করে ভাই  কি লাভ আছে বলো? অন্যকে ছেড়ে নিজেকে শুধরাই  গাছটি লাগাই চলো। একটি কাটলে তিনটি লাগাবো  যত্নে রাখবো ধ্যান, কীটপতঙ্গ পাখিকুল যত  গড়বে বাসস্থান। নিজেও বাঁচবো অন্যকে বাঁচাবো,  বাঁচাবো প্রাণীকুল, দুষণ মুক্ত পরিবেশ গড়ে  শুধরাবো নিজের ভুল।

নেশামুক্ত সমাজ গড়ি

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-৩১/০৫/২০২১ মদ গাঁজা সিগারেট তম্বাকু গুটখা শরীরের ক্ষতি করে আরো নেশা যা যা। এসবের সেবনে হয়, ফুসফুস ক্ষয় ধূমপানে আরো থাকে ক্যান্সার ভয়। শ্বাসকষ্টে ভোগে কেউ হয়ে যায় দুখি ধূমপানে আরো বাড়ে হৃদরোগ ঝুঁকি। এমন মরণব্যাধি ধূমপানে রয় অল্পবয়সে ক্ষয় রোগে হয় তার লয়। ধূমপান বিষপান যদি কেউ করে কুফলটা ডেকে বলো বাঁচাও তাহারে। সঙ্গ পেয়ে খেলাচ্ছলে আরম্ভ টা করে শেষটা তে নেশা হয় ছাড়তে না পারে। কভুও ছুঁয়োনা ভাই এই সব নেশা পরখ করোনা কভু হয়ে যাবে পেশা। পাশে বসে যদি কেউ ধূমপান করে দূরে থেকো ভালো থেকো ছুঁয়োনা তাহারে। যদি কেউ দিতে চায় সরে যাও তবু জেনেশুনে বিষপান করোনাতো কভু। ৩১শে মে' তামাক বর্জন দিবসের আজি শুভক্ষণ নেশামুক্ত সমাজ গড়ি এই করি পণ।

এ কেমন ধ্বংসলীলা

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-২৫/০৫/২০২২ বৃষ্টি বৃষ্টি আর বৃষ্টি            মুষলধারে বৃষ্টি                       ডুবছে হাট ঘাট। এক নাগাড়ে বৃষ্টি           বিরূপ যেন সৃষ্টি                     ডুবছে দোকান পাট। অকাল বন্যার ফল         সব গেল রসাতল                 কৃষকের উপায় যে নাই। ফুলিয়া ফাঁপিয়া জল      জনজীবন হয় যে অচল                নেই কোথা দাঁড়াবার ঠাঁই। ভুমি ধ্বস নামলো বলে     রেল লাইন ডুবল অতলে                       শহর ভাসে জলে। দূর দূরান্ত পথযাত্রী       রাস্তায় বসে কাটায় রাত্রি                     হায় বিধি বলে। ছিন্ন সব যাতায়াত      নে...

ফিরবে কি সে

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ১৭/০৫/২০২২ যুদ্ধ আবার থামবে একদিন মিটবে সকল দ্বন্দ্ব বিশ্ব আবার ফিরে পাবে পুরাতন সেই ছন্দ। সকল নেতা মিলবে আবার ঘুচবে সকল রেশ হাতে হাতে হাত মিলাবে কাটবে সময় বেশ। যে শিশুটির যুদ্ধা বাবা লড়তে গেল রণে ফিরবে কি সে যুদ্ধ শেষে ভাবছি মনে মনে। নব বধূর স্বামী গেল বীর বাহাদুর বেশ তার জীবনের অমানিশা কি কাটবে অবশেষ? বৃদ্ধা মাতার যুদ্ধা ছেলে ফিরে আসবে কবে সে অপেক্ষায় পথটি চেয়ে মুখ বুজে সে রবে। যুদ্ধোত্তর সে আনন্দটার নেই কোন মোর খেদ এদের সেই অপেক্ষাটা করে অন্তর ভেদ।

কবিগুরু স্মরণে

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-০৮/০৫/২০২২ ভাবনার আকাশে বাতাসে খুঁজে ফিরি তোমারে  হে বাংলার রবি! তব আলোর ছটায় আলোকিত ভুবন মুগ্ধ সকল কবি। পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী নেতা জানতে পারি তব লেখনীতে দেশ মাতৃকার ডাকে সাড়া দিয়ে তুমি কলম ছেড়ে নেমেছিলে রাজপথে। বৃটিশ বিভাজন ও দমন নীতিতে বুঝতে পেরেছিলে স্বাধীনতা বহুদূর তাইতো তব গান তব সঙ্গীতে সদাই ফুটেছিল একতার সুর। হে মানব দরদী কবি! 'মানব সেবাই ঈশ্বর সেবা' তুমি করেছিলে অনুভব তাইতো ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল লেখনী তব। নাইট উপাধি পরিত্যাগ করে তুমি দেখায়েছ মহানুভবতা। তোমার গরবে গর্বিত মোরা আজও পেয়েছি যে স্বাধীনতা। বাংলার সাহিত্যাকাশে তুমি বিশ্বের বিস্ময় তাইতো তুমি করতে পেরেছ বিশ্ব নন্দিত নোবেল জয়। তোমার স্মরণে প্রদীপ জ্বালিয়ে খুঁজে ফিরি বার বার নিয়ে মনুষ্যত্বের প্রদীপ হাতে ফিরে এসো আরবার। শতবর্ষ পরে তব জন্মদিনে স্মরণ করি বাঙালির গর্ব তুমি তোমার জন্য ধন্য আমরা ধন্য ভারত পুণ্য ভূমি।

সমতার নিশান

 হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-০১/০৫/২০২২ সিয়াম সাধনার মাসের পর উঠবে নতুন চাঁদ রাত পোহালেই ঈদের খুশি মিলবে কাঁধে কাঁধ। ফিতরা জাকাত আদায় করবো যাদের অনেক আছে অনাহারে কেউ রবেনা ডাকবো তাদের কাছে। উঁচু নীচু নেই ভেদাভেদ এইতো মোদের শান ধনী গরীব সবাই সমান ইসলামের বিধান। খোকা খুকি ঘুরতে যাবে নতুন জামা পরে জাকাত ফিতরা আদায় হলে সবার মনটা ভরে। ঈদগাহে তে যাবে সবাই সব ভেদাভেদ ভুলি থাকবেনাকো হিংসা বিদ্বেষ করবে কোলাকুলি। এক জায়গাতে মিলবে সবাই খুশি হবে প্রাণ এক কাতারে নামাজ আদায় সমতার নিশান। নামাজ শেষে বিশ্ব মুসলিম উঠাবে দুই হাত বিশ্ব শান্তির তরে সবাই করবে মোনাজাত।

নবীর আগমনে (গজল)

: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ২৮/০৪/২০২২ মা আমেনার কোলটা জুড়ে  ফুটলো দ্বীনের ফুল সে ফুল আমার প্রিয় নবী  মোহাম্মদ রাসুল।। দয়াল নবীর আগমনে  আলোকিত ত্রিভুবনে ফেরেশতারা গান ধরিলো  আঁধার হলো দূর। মোহাম্মদ রাসুল। মা আমেনার কোলটা জুড়ে ফুটলো দ্বীনের ফুল সে ফুল আমার প্রিয় নবী মোহাম্মদ রাসুল।। মা আমেনার নয়ন মনি,   দুজাহানের বাদশা তুমি তোমার নামে দরুদ পড়ি,  নাই যে তোমার তুল। মোহাম্মদ রাসুল। মা আমেনার কোলটা জুড়ে ফুটলো দ্বীনের ফুল সে ফুল আমার প্রিয় নবী মোহাম্মদ রাসুল।। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু  জপো মুমিন গনে শান্তি ফিরে এলো ধরায়  নবীর আগমনে ফেরেশতারা খুশি হয়ে  গাইলো তোমার গুণ। মোহাম্মদ রাসুল। মা আমেনার কোলটা জুড়ে ফুটলো দ্বীনের ফুল সে ফুল আমার প্রিয় নবী মোহাম্মদ রাসুল।।

মহিমান্বিত রাত

  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-২৪/০৪/২০২২ হুকুম খোদার সৃষ্টিতে তাঁর বিশ্ব নবীর শানে হে রাসূল পড়ুন আপনার স্রষ্টা প্রভুর নামে। ঘোষিত হলো রব যে মহান তিনিই মেহেরবান আপন মহিমায় মহিমান্বিত তিনি সবারে করেন ত্রাণ। পড়িলেন নবী স্রষ্টার নামে হইলেন মহাজ্ঞানী অকৃপণ হাতে দানিলেন খোদা পবিত্র কোরআন খানি। মহিমান্বিত রাতে বাড়ালেন হাত সকল বান্দার তরে ঘোষণা করলেন মুক্তির পথ পবিত্র কোরআন 'পরে। সিয়াম সাধনা করো হে মোমিন খুঁজতে শবে কদর রাত হাজার ফেরেশতা পাঠান প্রভু করতে কবুল পাপ নাজাত দানের ভাণ্ডার খুলে দেন খোদা কোরআন নাযিলের এ রাতে যার যাহা চাই খুঁজে নাও সবে গভীর ধ্যান আর ইবাদতে।

এসো হে বৈশাখ

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ- ১৫/০৪/২০২২ স্মৃতির অতলে মুছে যাক সব দুঃখের দিন নববর্ষের আগমনে সবার জীবনে বাজুক সুখের বীণ। গাছে গাছে ফুটুক আবার নতুন কুঁড়ি ভ্রমর উড়ুক সেথা নব কলতানে পৃথিবী সাজুক আবার নতুন সাজে হে নব বৈশাখ! তব আগমনে। হে রুদ্র বৈশাখ! তব ঝঞ্ঝার বাঁয়ে সব ভেদাভেদ যাক ভেসে তব রুদ্র রূপ মুছে দিক সব মলিনতা এসো হে বৈশাখ! এসো হেসে। নতুন বছরের নতুন আলোকে উদ্ভাসিত হোক সবার জীবন জাগ্রত হোক মানবিক মূল্যবোধ আলোকিত হোক এ ভুবন। পুরাতন মর্মব্যথা ধুয়ে মুছে যাক হে রুদ্র বৈশাখ! তব আগমনে। সব দুঃখ ভুলে গিয়ে নতুন স্বপ্ন আঁকি নববর্ষের এ শুভ ক্ষণে। হে নব বৈশাখ! সব বাঙালির আহ্বান তব অপেক্ষার হোক অবসান নব প্রভাতের রবির কিরণে আলোকিত করে, পুলকিত কর মার্জিত কর সবারে।

জীবন যুদ্ধ

: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ- ০৬/০৪/২০২২ চৌমাথার ওই পাশেই আছে আক্কেল আলীর ঘর বৃষ্টি বাদল আসলেই তা করে নড়বড়। আক্কেল আলী গরীব অতি দুঃখের নেই শেষ ভাঙ্গা ঠেলা ই সম্বল তার চালায় অনিমেষ। মা হারা এক ছেলে বিনে আর কেউ নেই ঘরে দিবানিশি একই চিন্তা ক্যামনে মানুষ করে। কার কাছে রেখে যাবে কে দেখিবে হায় তাইতো তাকে সদাই সে সঙ্গে নিয়ে যায়। বাবার স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়া  ছেলেটাকে নিয়ে প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করে  অনেক টাকা দিয়ে। শ্রমের মাঝে চিন্তার ভাঁজ  ঝরে মাথার ঘাম বুক বাঁধে এই সান্ত্বনাতে  ছেলে রাখবে নাম। নিজের জীবন এমনি গেল  ঠেলা চালিয়ে ভাই ছেলে একদিন চাকরি পাবে  মনের আশা তাই। আক্কেল আলী ঠেলায় করে  ছেলেকে দেয় স্কুল দিনের শেষে ফেরৎ নিতে  হয়না কভু ভুল। ঠেলায় বসেই ছেলেটি তার  হোম ওয়ার্ক করে ঘরে পৌঁছে বাবার কাজে  হাত বাড়িয়ে ধরে। দিন যায় মাস যায় বছর ঘুরে আসে প্রতিবার ই সোনা ছেলে টপার হয় ক্লাসে। অবশেষে আক্কেল আলীর স্বপ্ন হয় সাকার ঠেলাওয়ালার ছেলে হলো নাম করা এক ডাক্তার। জীবন যুদ্ধে এমনি করে লড়তে পারে যারা তারাই হয় সফল ভবে সার্থক হয় তারা।

মনের মাঝে

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১৯/০৩/২০২২ শিমুল পলাশ রক্তে রাঙা বসন্তের এই ক্ষণে সাত রঙে রাঙা আবির রং ছড়ালো মনে। রঙের পরশ মনের হরষ বাজাই খুশির বীণ আপন পর নেই ভেদাভেদ আজ যে খুশির দিন। আয়গো রীনা আয়গো টীনা আয়রে মানিক তাজ হিংসা দ্বন্দ্ব ভুলে সবাই খেলবো হোলি আজ। দোল পূর্ণিমার ফাগুন দিনে মনে অগাধ ঢেউ পরাণ খুলে খেলবো হোলি বাদ যাবেনা কেউ। আকাশ বাতাস মত্ত প্রেমে কেউই নয় হীন কলুষ মুক্ত দৃষ্টি হোক হৃদয় হোক রঙিন। ভালোবাসার রং মাখিয়ে রিক্ত করি তন মনের মাঝে গড়ে তুলি শ্যামের বৃন্দাবন।

শবে বরাত

 শবে বরাত রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ১৮/০৩/২০২২ শাবান মাসের চৌদ্দ তারিখ এলো শবে বরাত। বার্তা নিয়ে আসলো ফিরে পাইতে নাজাত। সামনে আসছে রমজান মাস সংযমের ই তরে। বিশ্ব মুসলিম তৃপ্ত হবে রোজা আদায় করে। পড়বে নামাজ রাখবে রোজা গাইবে প্রভুর গান। শবে বরাত নিয়ে এলো রোজার ই পয়গাম। সংযমেতে থেকে মুমিন নিলে খোদার নাম। আখেরাতে শান্তি পাবে পুরবে মনস্কাম। আর্তজনের সেবা করো গরীবে দাও দান। সহজ সরল জীবন যাপন ইসলামের বিধান।

ঋতুরাজ বসন্ত

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ- ২৮/০২/২০২২ ফাগুনে আগুন জ্বলে প্রকৃতির বুকে ঋতুরাজ বসন্ত রূপ ধরা পড়ে চোখে। রক্তমাখা ফুল হাসে শিমুলের ডালে কৃষ্ণচূড়া দোল খায় বাতাসের তালে। সুর করে পাখি সব ফুলে ফুলে উড়ে যায় ভ্রমর ও মৌমাছি গুণ গুণ করে তায়। প্রখর রোদের তাপ তীর্যক পড়ে নদীর বালুকা রাশি চিক চিক করে। শিশু গণ খেলা করে নির্মল মাঠে জলাভাবে রমণীরা যায় নদী ঘাটে। নির্মল নীলাকাশ দখিনা বাতাস বয় কপোত-কপোতী বসে ফুল পানে চেয়ে রয়। এলোকেশ চুল দুলে ষোড়শীর মাথে বৌ কথা কও ডাকে পাখি আনন্দের সাথে। বসন্তের সুর ভাসে কোকিলের গানে ভাটিয়ালি গান শুনি বাউলের টানে। প্রকৃতির এ ভালোবাসা সর্বত্র বিরাজে উছলা যৌবন ঢেউ হৃদয়েতে বাজে। প্রাণী মাত্রে বসন্তের সাঁড়া জাগে মনে কবিরা কবিতা লিখে সুন্দর এ ক্ষণে।

সময়ের ক্ষণে

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ০৮/০২/২০২২ তাজা ফুল ডেকে বলে ওহে ঝরা ফুল তোমা কথা ভেবে আমি হইযে আকুল। না জুটিল ভাগ্যে তব মালীদের দেখা না হইলে দেবতার অর্ঘ্য ডালি সখা। ওইতো আসিছে মালী তুলে নিবে মোরে পায়েতে দলিয়ে যাবে তোমা সবাকারে। ঝরা ফুল কেঁদে কহে ওহে জ্ঞাতি ভাই করোনা করোনা কভু রূপের বড়াই। পাশ থেকে খসে পড়ে হয়ে গেলুম পর তাইতো নিন্দিছো মোরে ভুলে সহচর। মৃদু ঝড় শিলা সহ বহে হেনকালে তাজা ফুল লুটাইলো হায় বায়ু বলে। দলবল সহ ফুল পড়ে গেল ঢলে হারাইলো দর্প সহ আয়ু সেই স্থলে। কভুও করোনা গর্ব উন্মত্ত যৌবনে তুমিও অপাঙক্তেয় হবে সময়ের ক্ষণে।

ভালোবাসা দিবস

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১৪/০২/২০২২ ভ্যালেন্টাইন ডে মানে ভালোবাসার দিন। ক্ষণিকের ভালোবাসায় হয়োনা রঙিন। মনের গভীরে সুপ্ত থাকে প্রেম ভালোবাসা লাল গোলাপের নিবেদনে ক্যামনে করো আশা? প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসা এ যেন এক প্রথা সব মানুষকে ভালবাসি সেটাই আসল কথা। মানবতা বোধ জাগ্রত হোক সব মানুষের মনে হৃদয়টাকে তৈরি করি ভালোবাসার সনে। জাতি ধর্ম বিদ্বেষ ভুলে সরল করি মন সব মানুষকে ভালবাসি সবাই আপন জন। ভালবাসা দিবসের শপথ হোক মানুষকে ভালবাসা শান্তির তরে লড়বো সবাই এটাই করি আশা। হৃদয় দিলে হৃদয় মিলে জীবন হয় সরস জানাই সবায় ভালবাসা, আজ যে ভালবাসা দিবস।

ভ্যালেন্টাইন ডে

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ১২/০২/২০২২ ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে সুতপা অঞ্জনাকে বলল, ' চল একটু সামনে থেকে ফুল নিয়ে আসি।' অঞ্জনা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ফুল, কেন? সুতপা বললো 'বারে তুই দেখি অবাক হয়ে গেলি,আজ যে ভ্যালেন্টাইন ডে!' 'ও হ্যাঁ।' সুতপা বলেই চললো,' আজ আমি ফুল নেব, রজতকে দেবো----- ।' কত কথাই বলে চললো অঞ্জনা কিছুই শুনলো না। ওর মনে পড়ে গেল- -, আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এক ভ্যালেন্টাই ডে এর কথা। ও কল্পনায় বিভোর হয়ে ভাবছিল এমনি এক দিনে বিজয় তাকে একটা ফুল দিয়ে প্রপোজ করেছিল। সেও ফুলটি গ্রহণ করেছিল এবং তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিজয়ের প্রেমে সে এতটাই বিভোর হয়েছিল যে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিল।  একদিন পার্কে বসে বিজয় তাকে বলেছিল, জানো অঞ্জনা, ' তোমাকে মনের মধ্যে নিয়ে আমি কত স্বপ্ন দেখি। তোমাকে মনের মধ্যে নিয়ে আমি ঘর বাঁধছি, কখনো গঙ্গার ধারে কখনও পাহাড়ের উপর।' অঞ্জনা এতটাই ওর প্রেমে বিভোর হয়েছিল যে ওর পড়াশোনায় ভাঁটা পড়ে। বি,এ, ক্লাসে ফেল করে।আর ওখানেই বিপত্তি। রজত এম,বি,বি,এস এ সুযোগ পেয়ে তাকে ছেড়ে চলে যায়। আর কোন যোগাযোগ হয...

ঝরে আঁখি জল

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১০/০২/২০২২ এসেছিলে আলো করে আমার এ ভুবন বাহুডোরে বেঁধে ছিলে উজাড়িয়া মন। হারানো শক্তি মম এসেছিল ফিরে সমস্ত সত্তাই ছিল তব প্রেম ঘিরে। স্বর্ণালী স্বপ্নে বিভোর তোমারই কারণ দূরে সরে গেল সব যে ছিল আপন। প্রেম দিয়ে তুমি মোর ভরেছিলে হিয়া কেন এবে সরে গেলে কাহার লাগিয়া। কভু তুমি বুঝোনি গো প্রেম গভীরতা তাইতো সর্বত্র আজি দেখি নিরবতা। তুমি যবে পাশে ছিলে, ছিল সব আশা তোমার বিহনে প্রিয় নেই কোন ভাষা। তুমি পাশে ছিলে বলে ছিল মনোবল শয়নে স্বপনে আজি ঝরে আঁখি জল। তোমার বিহনে প্রিয় বাচিব কেমনে শক্তি হীন করে গেলে নবীন জীবনে। যাও ছেড়ে অন্তরে তে রবে চিরদিন ধরে নেব ছিলে তুমি হৃদয় বিহীন। তব ব্যথা বুকে নিয়ে রবো আজীবন এক ফুলে দুই পূজা হয়না কখন।

করোনার ত্রাসে (পর্ব-১০)

থার্ড ওয়েভে করোনা যবে    ভেক্সিনটা নিচ্ছে হবে                     রোগ থেকে মুক্তি যদি পায়। বিশ্ব জুড়ে আহাজারি        এ কেমন মহামারি                     বার বার আসে আর যায়। গলাব্যথা কালাজ্বর       সঙ্গে শ্বাসকষ্টের ভর                       রোগটাযে রূপ বদলায়। নতুন রূপ অমিক্রণ        ভুড়বাট্টায় আছে বারণ                     একা একা থাকো নিরালায়। কোথায় সামাজিকতা       কোথায় বা আত্মীয়তা                    দুটা বৎসর গেল হায় হুতাশে। যদি পায় মরণব্যাধি      বাঁচানোর নেই সাধ্যি                   এখনও মানুষ সেই ত্রাসে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি       কোন কিছুর নেই সঙ্গতি...

করোনার ত্রাসে (পর্ব-৯)

হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১০/০৩/২০২১ লকডাউনের খাঁচায় বন্দী রইবো কত আর দিনে দিনে বছর গেল ভেবে যাওয়াই সার। রুটিন মাফিক জীবনটা যে হারিয়ে গেল বলে ঘড়ির কাঁটায় সবার জীবন একই তালে চলে। সবাই যখন গুনছে প্রহর মরছে দারুন ত্রাসে কেউবা তখন ডাবল লাভে রসের অঙ্ক কষে। মিটিং মিছিল চলছে সবই চলছে হাট বাজার ছাত্র ছাত্রীর ভবিষ্যতটা শুধুই অন্ধকার। অনলাইনের ক্লাসের নামে চলছে হেরাফেরি বিশ্ব জুড়ে এদের কথা ভাবতে হলো দেরি। শিক্ষা বিভাগ বললো যখন পরীক্ষা আর নয় সবার জন্য অটোপাশের ব্যবস্থাটাই হয়। হতাশা আর উৎকণ্ঠা আরো বেড়ে যায় আসল পাশের মূল্য কি আর অটো পাশে হয়? এরাই দেশের ভবিষ্যৎ ক্যামনে করি হেলা এদের জন্য অটো পাশ শুধুই একটা খেলা। রোগে আর লকডাউনে কতদিন আর যাবে এদের জন্য নতুন কিছু আবার ভাবতে হবে।

হতে হবে সেরা

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-০৬/০২/২০২২ হারজিত শব্দটি থাকে সব কাজে এদুটির মাঝখানে সবাই বিরাজে। একই ফুলে মধু আর কাঁটার সমন্বয় কাঁটা ভুলে ফুল তুলো করোনা কোন ভয়। কাঁটার ভয়েতে যারা হাত গুটে বসে নিয়তি তাদের ছেড়ে যায় অনায়াসে। মেঘের আড়ালে থাকে রোদ্দুরের খেলা মিছে কেন ভয় পাও দুঃখের বেলা। পাতা ঝরা গাছটারও নেই কোন হতাশা অচিরেই কুঁড়ি ফুটে আছে মনে ভরসা। হাল কভু ছেড়ো না হতাশার কিছু নেই চেষ্টাটা করে গেলে ফলটাতো আসবেই। পরাজিত হলে তবু নেই কোন লজ্জা চেষ্টাটা করে যাও খুলে মন দরজা। যেখানেতে থামিয়েছো নিজের প্রচেষ্টা সেখানেই শুরু কর এগোনোর চেষ্টা। পেছনে চেওনা ফিরে আঁধারেতে ঘেরা সামনে এগিয়ে চলো হতে হবে সেরা।

সততা যেখানে

শিরোনামঃ সততা যেখানে রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-০২/০২/২০২২ শুয়ে শুয়ে চিন্তা করছিল সত্যজিত। নিজের কথা, পরিবারের কথা- ছেলে মেয়ে গুলোর কথা। ছোট্ট একটা চাকরি, অফিসের কেরানী। মাসে যা বেতন পায় তা দিয়ে কোন ক্রমে বেঁচে থাকাটাই সমস্যা। তার উপর ছেলে মেয়ের পড়াশুনার বয়স হয়েছে। স্কুলে ভর্তি করেছে। প্রতিযোগিতার যুগ।সবাই প্রাইভেট স্কুলে পড়াচ্ছে। গিন্নীর পিড়াপিড়িতে ওদেরকে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করেছে।মাস শেষে যে ক' টা টাকা পায় তা থেকে স্কুল ফিস্ সময় মতো দিতে পারে না। তার উপর অফিসে কাজের চাপ। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গাধার মত খাটুনি। এসব ভাবতে ভাবতে দু চোখে জ্বালা ধরে গেল। ভাবনা আর ক্লান্তিতে চোখ বুজলো সত্যজিত।          গিন্নীর ঝাঁঝালো আওয়াজ তখনও কানে ভাসছিল। এই যে শুনছো - 'চাল ডাল সব শেষ হয়ে গেছে, এদিকে মিনির স্কুল থেকে নোটিশ দিয়েছে।ওর তিন মাসের বেতন জমে আছে। এগুলো এ মাসে না দিলে ওর নাম কেটে দেবে। ছেলে দুটোরও বেতন দেওয়া হয় নি। ওদিকে মায়ের ঔষধও শেষ।  সত্যজিত কোন কথাই বলছেনা দেখে সর্বানির রাগ হলো। বলে চললো , ' নিজের কাপড়ের কথা নাহয় বা...

ভুতের ভয়ে

গল্প প্রতিযোগিতা পর্ব-৩৭ শিরোনামঃ ভুতের ভয়ে রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-২৯/০১/২০২২ সেদিন ঘোর অমাবস্যার রাত। শীতের মরসুম। তার মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডা। বীরেন বাবুর ছেলেটার বয়স আনুমানিক ছত্রিশ বছর। করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা গেছে। করোনা রোগী।তাই পাশে যেতে নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মৃতদেহ কিট্স্ দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। ফোন পেয়ে বীরেন বাবু একটি ছোট ট্রাক গাড়ি পাঠিয়ে দিলেন, শবদেহ নিয়ে আসতে। যথারীতি হাসপাতাল থেকে মরদেহ গাড়িতে উঠিয়ে চালক ও তার সহকর্মী রওয়ানা দেয়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি অনেক দূরে।প্রায় দেড়শ কিলোমিটার হবে। রাত তখন এগারোটা। শোন শান ফাঁকা রাস্তা। অনেক দূর এগিয়ে গিয়ে একটা দোকানের আলো দেখতে পেল। দুজন স্থির করলো একটু চা টা খেয়ে যাবে। দোকান থেকে একটু দূরে গিয়ে গাড়ি থামাল। কারণ যদি দোকানী টের পেয়ে যায়, গাড়িতে করোনার মৃতদেহ তাহলে চা পান করা তো দূরের কথা পাশেও যেতে দেবে না। তাই একটু দূরে অন্ধকারে গাড়ি রেখে দুজন দোকানে ঢুকলো। এই ফাঁকে একটি লোক গাড়িতে উঠে বসলো। বসলো তো বসলো গিয়ে একেবারে মরা লাশটার উপর। অন্ধকার কিছুই দেখ...

আশা

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-২০/০১/২০২২ চঞ্চল মানব মন            ভয়ে ভীত সারাক্ষণ                কাঁটা হেরি পদে পদে। জরা মৃত্যু সঙ্গী হায়           শুধুই যাতনা ময়                  হায়রে জীবন নদে! যত চায় সুখ               তত পায় দুখ                 নিজ বাসনার তরে। এ কেমন বিধি            রচিছ যে নিয়ম নিধি                 বুঝেনা অবুঝ নরে! রচিছ যে মায়া জাল        চমৎকার ইন্দ্রজাল                  বিস্তারিছ দয়াহীন ভবে। জন্ম থেকে মৃত্যুবধি      খুঁজে থাকে নিরবধি                তব তত্ত্ব কভু কে পায় কবে? সংসারের মোহমায়া        লোভ লালসা নিত্য কায়া  ...

যেদিন আমি হারিয়ে যাব

যেদিন আমি হারিয়ে যাবো হিফজুর রহমান লস্কর ২৮/০১/২০২২ চোয়ান্নটা বসন্ত পেরিয়ে পঞ্চান্নতে পা। সকল বন্ধুর Wish পেয়ে মনে পড়লো তা। ভালোবাসার বন্ধনে আজ বিশ্বের সবাই আপন জন। সবার কাছে তাইতো খুঁজি মানবিক এক বন্ধন। যেদিন আমি হারিয়ে যাবো এই পৃথিবীর বুকে খুঁজবে কি কেউ সেদিন আমায় থাকবে আপন সুখে। যদিও কারো মনে পড়ে ছিলাম মনের কোণে এক নিমিষেই হারিয়ে যাবো নতুন প্রেমের টানে। বন্ধু বান্ধব কবিতা সব এমনি পড়ে রবে। যদিও যেতে চাইনা আমি তবুও যেতেই হবে। শুধু আমায় মনে রেখো জীবন নদীর বাঁকে। অল্পদিনের দেখা যেন অমর হয়ে থাকে।

আশার আলো

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-২৬/০১/২০২২ ২৬ শে জানুয়ারী উনিশশো পঞ্চাশ স্বাধীন ভারতের সে এক দিন জনতাই দেশ নির্মাতা জনতাই মহান ঘোষিত হলো সেই দিন। তিন বৎসরের বিরল প্রচেষ্টায় প্রকাশ পেল সংবিধান মোরা ভারতবাসী তা গ্রহণ করলাম পথ চলার আদর্শ সোপান। আকাশে বাতাসে উড়লো তেরঙ্গা নিয়ে এলো আশার আলো বিভেদ ঘুচিল সমতা আসিল জনগণ সব ক্ষমতা পেলো। শত শহীদের রক্ত বলিদান সার্থক করেছে স্বাধীনতা। তাদের স্মরণে প্রতিজ্ঞা করি হতে দেবোনা আতঙ্কি দাঙ্গা। এ দেশের বুকে বয়ে চলে সদা গঙ্গা যমুনার পবিত্র ধারা। শান্তি সম্প্রীতির অটুট বন্ধন মন্দির মসজিদ গির্জা গুরুদ্বারা। সবারে নিয়ে সবার পরশে রক্ষা করিব দেশের স্বাতন্ত্র। সদা উঁচু থাক মোদের তেরঙ্গা স্বার্থক হোক দেশের গণতন্ত্র।

শিশু দিবস

  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১৪/১১/২০২১ অশান্ত এই পৃথিবীর দুষিত বাতাস শিশুর নিঃশ্বাসকে করছে অবরুদ্ধ। জরাজীর্ণতায় আবদ্ধ শিশু, বিপন্ন ওর জীবন। ওর জন্য চাই একমুঠো নির্মল বায়ু চাই আত্মতৃপ্তিতে একটু নিঃশ্বাস। শিশুর তো কোন জাত নেই, নেই কোন ভেদাভেদ স্বার্থমগ্ন সমাজটা বিষিয়ে দেয় ওর মন। মনুষ্যত্ব হীন মানুষের ভিড়ে দগ্ধ শিশু, অন্ধকারে নিমজ্জিত, ক্ষতবিক্ষত অনাদরে অবহেলায় জর্জরিত। প্রতিটি মানুষের ই তো আছে সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার অধিকার। কেন শিশু বঞ্চিত হবে সে অধিকারে? আমরা কি পারিনা ওর জন্যে  একটু সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে? আমরা কি পারিনা, ওকে তার মতো সহজ সরল নিষ্পাপ বড়ো হতে দিতে? শিশুর নিরাপত্তা তো জাতির কর্তব্য! হায়রে মানবতা!  আজও বন্ধ হয়নি শিশুশ্রম, শিশু নির্যাতন।  আজ ১৪ই নভেম্বর  পালন করছি মোরা ' শিশু দিবস'  বেশ এদের কথা কি একটু ভাববো সবিশেষ? আজকের দিনের অঙ্গীকার হোক তাই সবার হৃদয়ে যেন হয় শিশুদের বেদনার ঠাঁই।

ছলনা

 হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১২/১১/২০২১ ছোট ছেলে মা'কে বলে যাবে নিমন্ত্রণ পাশের বাড়ির উৎসবেতে বিশাল আয়োজন। জিলিপি আর মন্ডা মিঠাই, কার্টুন ভরা সন্দেশ সকাল থেকে আসছে মানুষ, দেখছি আমি বেশ। দেরি হলে পাবো কি আর প্রিয় কোরমা পোলাও চলোনা মা খেয়ে আসি দই মিষ্টি তাও! বড়ো ঘরের আলোক সজ্জা মন মাতানো দৃশ্য মায়ের বুকে আঘাত করে হায়রে অদৃশ্য। গরীব বলে অবহেলা পেলো না নিমন্ত্রণ কেমন করে রাখবে সে যে ছোট্ট শিশুর মন। অশ্রু ভরা নয়ন যুগল আঁচল টেনে ঢেকে বলে মায়ে মনের দুঃখ বুকের মাঝে রেখে। এত বড়ো উৎসব বাবা মোদের জন্য নয় বেশি ভালো খাবার খেয়ে যদি কিছু হয়? মায়ের রূপ দেখে ছেলে সবই বুঝলো এবে বলে আলোর ঝিলমিলিতে চোখের ক্ষতি হবে। মা ও ছেলের এই ছলনা কেউ দেখলো না ভবে অদৃশ্যেতে থেকে সবই দেখলো শুধু রবে।

করো জ্ঞান অন্বেষণ

হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১১/১১/২০২১ জ্ঞান পিপাসুর জ্ঞান                 হয়না কভু ম্লান                       সকল শাস্ত্রে পাই। জ্ঞানীর কলমের কালির মূল্য     শহীদের রক্ত তুল্য                        জ্ঞানের ক্ষয় নাই। ভালো মন্দ বুঝার তরে        শিক্ষা নাও অবনী পরে               ‌‌       শিক্ষা ই দেয় সফলতা। জ্ঞান ই হলো নীরব অস্ত্র     খুঁজে দেখো সকল শাস্ত্র                      জ্ঞান ই জাগায় মানবতা। বই পুস্তকে বিনোদন          সদাই যেন কাড়ে মন                      পড়ো তাই করিয়া যতন। জ্ঞানের কভু হয়না ক্ষয়      জ্ঞান ই চির অক্ষয়             ...

ভাই ফোঁটা

 হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-০৫/১১/২০২১ হাতে নিয়ে পুষ্প সহ ধান দূর্বা তার মাঝে চন্দন ফোঁটা অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় বোন ভাইকে দেবে ফোঁটা আজ যে ভাইফোঁটা। অতন্দ্র প্রহরী সীমান্তে দাদা অনেক সিপাহী সাথে কথা ছিল আসবে সে যে ভাইফোঁটারই প্রাতে। প্রতি বৎসর ভাইফোঁটার দিনে ছুটে আসে ভাই। মন উচাটন পথপানে চায় দেরি করে কেন তাই! হেনকালে তার ফোন বেজে উঠে চেয়ে দেখে, দাদা! বলছে গো বোন আসতে পারিনি সীমান্তে শত্রু গাদা। ক্রন্দন রোলে ফোন মাঝে বলে দিলাম কপালে ফোঁটা শত্রুরে তুমি জয় করে এসো যমের দুয়ারে দিলাম কাঁটা। আজ যে ভাইফোঁটা!

জ্বালাও মনের আলো

 হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-০৪/১১/২০২১ আলোর উৎসব বিশ্বাসের উৎসব আলোকময় দিওয়ালি সাত রঙে রঙিন হোক সবার জীবন খানি। অমানিশার কালো ঘুচাতে এসো দীপ জ্বালি অশুভ শক্তির বিদায় জানাতে সাজাই প্রেমের ডালি। দূর করে যত রাগ অভিমান খুশীর দিওয়ালি মানাই সব নিরাশা দূর করি এসো আশার আলো জ্বালাই। অন্তরের সব ময়লা ধুয়ে সবারে গলে লাগাই অশুভ শক্তি নাশ করি এসো মানবতার গান গাই। নতুন পোশাক মিষ্টি মুখ হোক দিওয়ালির উপহার নতুন সাজে সাজুক এ ধরা হোক সুন্দর সারা সংসার। এসো হে ভক্ত এসো হে পথিক জ্বালাও মনের আলো মনো মন্দির পরিষ্কার করো ঘুচাও মনের কালো। ঝিলমিল রওশনীতে পূর্ণ হয়ে ধরা নাচুক এই বাসনা বিশ্বাসের আলোকে সকলে জানাই দীপাবলির শুভ কামনা।

স্মৃতির অতলে

 হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-২৯/১০/২০২১ শৈশব সোনালী দিন কোথা গেল হায়! কি মজা কি আনন্দ ছিল সে বেলায়। মেঠো পথ হাট ঘাট হাতছানি দেয় সকল শিশুরা মিলে খেলতাম তায়। সারাদিন খেলাধুলা এবাড়ি সেবাড়ি ছিলনা মোদের মাঝে কোন আড়াআড়ি। একসাথে পড়াশুনা চলাফেরা সব মনে পড়ে সেকালের যত কলরব। ফেলে আসা পাঠশালা মনে রেখা টানে দলবেঁধে হেসে খেলে যেতাম সেখানে। বিভেদ ছিল না কোন নিজ পর বলে বড়োদেরে গুরুজন মানিত সকলে। শাসন যতন নিত পুরবাসী গনে কত যে আপন ছিল ভাবি মনে মনে। বিপদে আপদে সব থাকতো যে পাশে সম্প্রীতির নিদর্শন ছিল অনায়াসে। জাত পাত উঁচু নিচু ছিল না সে কালে সোনালী সে দিন গুলো স্মৃতির অতলে।

আনন্দ ভিখারী

 হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-২৩/১০/২০২১ আনন্দটা পাওয়ার তরে চঞ্চল মানবজাতি ধনী গরীব সব মানুষই থাকে আঁচল পাতি। আনন্দ হচ্ছে মনের খোরাক মনটা সতেজ রাখে তাইতো সবাই আনন্দ খুঁজে সকল কষ্টের ফাঁকে। কেউবা খায় কর্ম করে কেউবা লুটেপুটে ভবের মাঝে এসেই সবাই সুখের পিছে ছুটে। যে যা করে সকল কাজই আনন্দের তরে কাজের শেষে ফলটা পেলে আনন্দ ভোগ করে। ধনী যারা ধন ভিখারি আরো পেতে চায় ধনটা একটু বাড়াতে পারলে আনন্দে গান গায়। গরীব যারা খেটে মরে অর্থ পাওয়ার তরে একটু বেশি পেলেই তাদের আনন্দে মন ভরে। ব্যবসাজীবি ব্যবসায় লাভে আনন্দ ভোগ করে সত্য মিথ্যার ধার ধারে না অর্থের পাহাড় গড়ে। চাকরি জীবির মুখে হাসি যখন বেতন বাড়ে পণ্য দ্রব্যের দাম বাড়লে তাদের হাঁসি কাড়ে। নেতা যারা লুটেপুটে আনন্দটা পায় তাদের কাছে ন্যায় নীতি হার যে মানায়। দিন ভিখারী দিবস শেষে আনন্দের গান গায় তাইনা দেখে কিছু মানুষ মনে শান্তি পায়। কেউবা খুশি মিথ্যা প্রচারে সত্য করিয়া নাশ কেউবা আবার আনন্দ পায় দেখে অন্যের সর্বনাশ। মানুষ মাত্রেই দুঃখ কষ্ট লাগে বড়ো ভারী চিরসত্য সব মানুষই আনন্দের ভিখারী

হের ফের

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১৭/১০/২০২১ কাঠফাটা রোদ্দুরে মনে ভয় জাগে এমন হেমন্ত ঋতু দেখিনি তো আগে। ঘর থেকে বেরোনোর উপায় তো নাই মাথার উপরে যেন সবিতার ঠাঁই। যে সময়ে শীতবস্ত্র পরিধান করে সে সময়ে কেন নর গরমেতে মরে। হিমপ্রবাহের স্থলে, এ কেমন তাপ মনে হয় এটা যেন বিধাতার শাপ। হেমন্তে এমন তাপ ইতিহাসে নাই প্রকৃতির হেরফের দেখিতে যে পাই। প্রখর তাপের দাহে জ্বলিছে ফসল কেমনে বাঁচিবে প্রাণী ভাবনা অতল। কেন বিধি ভবে তব এমন ছলনা শীতের ঋতুতে গরম, কেন বলোনা? কেন এ হেরফের খুঁজে দেখি সার মানুষের ভুল তাতে নয় বিধাতার। গাছপালা কেটে মোরা করছি উজাড় তাইতো করেনা বিধি উচিত বিচার।

সঠিক শিক্ষা

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-০৩/১০/২০২১ জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে পড়ুক সব মানুষের মাঝে সবাই মোরা এগিয়ে আসি সকাল বিকাল সাঁঝে। হিংসা বিদ্বেষ দূর করতে জ্ঞানের আলো চাই মনুষ্যত্ব জ্ঞান না থাকলে ভাই শিক্ষার মূল্য নাই। পড়াশুনা করলেই শুধু জ্ঞানী বলো তারে? শাস্ত্র শিক্ষা নীতি শিক্ষা নেই যে একেবারে! পাঠ্য শিক্ষার মধ্যে এখন নীতি শিক্ষা নাই দূর্ণীতি তাই বাড়ছে দেশে সদাই দেখতে পাই। চরিত্র পাঠ আর নীতি শিক্ষা উঠে গেছে লাঠে তাইতো এখন সঠিক শিক্ষা পায়না শিশু পাঠে। আজকের শিশু কালকের সুনাগরিক স্মরণ রেখে তাই জ্ঞানী গুণী এগিয়ে আসুন শিশুর পাঠ্য সাজাই। সঠিক শিক্ষা ও প্রেম ভালোবাসায় হবে অপশক্তির পরাজয় নব প্রেরণায় হবে আবার মানবিকতার জয়।

সুখ

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ১৩/০৯/২০২১ আছে বাড়ি গাড়ি        আছে টাকা কড়ি                    নেই বাসনার শেষ আরো পেতে চায়            রূপ ধরে যায়                যেন কাঙাল অনিমেষ। স্বার্থ মগ্ন জন                ভাবে না কখন                 ন্যায় অন্যায়ের কথা লুটে যায় ধন            শুষে গরীবের তন                  ভাবতেও লাগে ব্যথা। করে লুটোপুটি          গরীবের ধন চাটি                  অশিক্ষার সূযোগ নিয়ে যত বেশি পায়            আরো বেশি চায়                   সুখ যায় ফাঁকি দিয়ে। চিরদিন ভবে                ...

স্বপ্নপুরী আসাম

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ৩১/০৮/২০২১ নীল সবুজের পাহাড় ঘেরা আমার রাজ্যখানি সুজলা সুফলা শস্য ঘেরা দেয় যে হাতছানি। উঁচুনিচু ঢালু পাহাড় এঁকেবেঁকে চলে নয়নাভিরাম দৃশ্য বাহার হৃদয় কথা বলে। সকল ধর্মের সকল জাতির মিলন ভুমি আসাম একই সূত্রে গাঁথা আছে মোদের সবার নাম। উদার পাহাড় ঝর্ণা বুকে শাল সেগুনে ঘেরা ফুল ফলাদি চা পাতাতে বিশ্বের মাঝে সেরা। ব্রহ্মপুত্র বরাক নদী রাজ্যের দুটি প্রাণ। শঙ্কর দেব ও আজান ফকির একতার নিশান। পেখম তুলে ময়ূর নাচে দেখি নয়ন ভরি সব মিলিয়ে আসাম রাজ্য যেন স্বপ্নপুরী।

শ্রমিকের অবদান

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-২৮/০৭/২০২১ সকাল থেকে সন্ধ্যাবধি            খেটে যায় নিরবধি                          দেশের শ্রমিক মজদুর সব। রোদে পুড়ে মেঘে ভিজে      সবার তরে খাটে সে যে                           নেই কোন কলরব। শ্রমজীবী মানুষ গুলো     মেখেই থাকে ময়লা ধূলো                             চলছে জীবন ভর। মাঠের কাজে ঘরের কাজে   স্বতঃস্ফূর্ত বিনা লাজে                             কেউ নয় তাদের পর। সহজ সরল মানুষ এরা     নিজের সুখ চায়না তারা                                এমনি জীবন রচে। অনাহারে যদিও থাকে     অন্যের কিছু নেয়না হাতে ...