পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

স্তব্ধ বুলি

আকাশে বাতাসে হিংসার ঢেউ কলুষিত সারা বিশ্ব, সততা ও ন্যায় দাবানলে জ্বলে  মানবতা আজ নিঃস্ব। সুযোগ সন্ধানী অপেক্ষায় থাকে  স্বার্থ সিদ্ধির তরে, লাগায় দ্বন্দ্ব মানুষে মানুষে  নিজে সুখে থাকে ঘরে। বিবেক হারায় ক্ষমতা বাড়ায়  অসহায়ে মারে তীর, দিয়ে নানা টোপ বদলায় রূপ  নিজেকে ভাবে সে বীর। ফুটিতে না ফুল অকালেই ঝরে  বেদনা বিভোর কথা, অসহায় নারী শোষিত পীড়িত  মরে যায় যথা তথা। হায়রে মানুষ বাহিরে মুখোশ  যেন সে ফুলের কলি, প্রতিবাদী হলে অবিচার চলে  তাইতো স্তব্ধ বুলি।

শিশু

সব শিশুই ফুলের মতো  নিষ্পাপ তার প্রাণ, উচিত মতো শিক্ষা পেলে  বাড়বে দেশের মান। সুশিক্ষা আর যত্ন দিয়ে  গড়ো জীবন তার, জীবন যুদ্ধে জয়ী হবে  হবে নাকো হার। শিশুর কাছে নেই ভেদাভেদ  আপন কিংবা পর, বড়ো হয়ে বদলে কেন  এটা কেমন তর। চরিত্র পাঠ আর নীতি শিক্ষা  নেই যে এখন পাঠে, তাইতো শিশু হোঁচট খায়  জীবন গড়ার মাঠে। ওদের মনে চাষ করা চাই  ভালো মন্দ জ্ঞান, বিপথগামী হয় না যেন  রাখতে হবে ধ্যান। মূল্যবোধ আর দেশপ্রেমের  শিক্ষা দেবো বেশ, এই শিশুটি বড়ো হয়ে  শাসন করবে দেশ।

স্মৃতি হয়ে ভাসে

নীল আকাশে আঁধার রাতে  চাঁদের আলো হাসে, মাগো আমার কাজলা দিদি  স্মৃতি হয়ে ভাসে।  কত শোলক বলতো দিদি  মোদের নিয়ে কাছে, হাসি কান্নায় রাত জাগাটা  আজও মনে আছে। সেদিন মোরা ঝগড়া করি  পুতুল বিয়ে নিয়ে, তাই কি দিদি রাগ করেছে  আসছে না যে ফিরে! সকাল বিকাল খেলার ছলে  পাঠ শিখাতো মোরে, দিদি ছাড়া মন বসে না  ক্যামনে থাকি ঘরে। বলোনা মা দিদি কোথায়  খেলবো তাহার সাথে, খেতে বসলে তাহার ছবি  ভাসে আমার পাতে।

অঙ্গীকার

বাড়ছে মানুষ বাড়ছে আবাদী বাড়ছে না তো মাটি, বিশ্বজুড়ে বাঁচার লড়াই  কথাটা ভাই খাঁটি। খাবার চাই বাসস্থান চাই  চাওয়ার নেই অন্ত, অভাব পূরণে ব্যর্থ মানুষ  হচ্ছে দিকভ্রান্ত। বাড়ছে মানুষ বাড়ছে সমস্যা  সমাধান তার কই, প্রকৃতি ভার বইতে পারে না  অবাক হয়ে রই। অজ্ঞতা আর কুসংস্কারে হয়না জন্ম নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্যতায় ধুঁকছে বিশ্ব  সচেতন হই জনগণ। বাড়ছে মানুষ বাড়ছে আবাদী  খাদ্যদ্রব্যের পড়ছে টান, জমির লড়াই করতে গিয়ে  ভাই ভাইয়ের নিচ্ছে প্রাণ। শিক্ষা দীক্ষায় এগিয়ে গেলে  হতে পারে এর প্রতিকার, ছোট পরিবার সুখের আঁধার  এটাই হোক অঙ্গীকার। আকাশের বুকে হাজার তারা  মিটি মিটি আলো দেয়, চন্দ্রের আলোকে ম্লান হয় সব বিশ্ব আলোকময়। দশটির চেয়ে একটি ভালো  মিছে কেন করো ভয়, পৃথিবীর বুকে দাগ রেখে যাবে  যদি সে মানুষ হয়।

প্রায়শ্চিত্ত

বনের রাজা সিংহ মশাই হিংসাই তার মনে, সকল পশুর মাংস খায় তাইতো থাকে বনে। ক্ষুধা লাগলে যখন তখন পশুর পিছে হাঁকে, প্রাণের ভয়ে পশুরা সব মামা বলেই ডাকে। উৎপাতে তার অতিষ্ঠ সব তাইতো যুক্তি করে, সুযোগ পেলেই জব্দ করবে টানবে কেশর ধরে। উপেক্ষা আর উৎপীড়নে দিনের পর দিন যায়, সকল চেষ্টাই ব্যর্থ সবার সুযোগ নাহি পায়। মিটিং মিছিল সবই হলো লাভ হলো না আর, সিংহের গলায় ঘন্টা বাঁধে এমন সাধ্য কার? শেয়াল পণ্ডিত ধূর্ত অতি মানে না তো হার, ' দেখে নেবো সিংহ টাকে' এই প্রতিজ্ঞা তার। একদিন যবে গর্ত মুখে ঘুমিয়ে ছিল মামা, ধূর্ত শেয়াল জ্বালিয়ে দিল আগুনের এক টেমা। হুঙ্কার দিয়ে উঠলো মামা হারালো তার বল, খুশি হয়ে সবাই বলে এতো পাপের ফল। জ্বলেপুড়ে মরলো মামা বাঁচলো সকল প্রাণী, শেয়াল পণ্ডিত সেদিন থেকে হয়ে গেল দামী। মরার আগে সিংহ মশাই বললো এক রাজ, 'কাউকে বেশি হেলা করো না পড়বে মাথায় বাজ।' মানুষ তাকে পণ্ডিত বলে কেউবা বলে ধূর্ত, আসলেই সে চালাক অতি সচরাচর মুর্ত।