পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

শিক্ষাগুরু

হে প্রিয় শিক্ষাগুরু           কি দিয়ে করব শুরু                  শোধিতে তোমার সেই ঋণ! দিয়েছ অমৃত বাণী         গড়েছ জীবন খানি                 মনে পড়ে আজো সেই দিন। পড়ায়েছ সুর করে           লিখায়েছ হাত ধরে                   বুঝায়েছ করিয়া যতন। ভালো মন্দ দিক গুলি       উজাড়িছ প্রাণ খুলি                   দেখায়েছ সুন্দর ভুবন। শাসন পেয়েছি তবু          অবাধ্য হয়েছি কভু                 হয়তো দিয়েছি কত ব্যথা। ভেবে সেই দিনগুলি        ভারাক্রান্ত মনে বলি                     গুরুই যে পরম পিতা। জ্ঞানের প্রদীপ হাতে         আঁধারের মোহনাতে     ...

চন্দ্রযান তিন (পর্ব ২)

আগ্রহ আর অপেক্ষার প্রহর হয়ে গেল শেষ, চন্দ্র পৃষ্ঠে চন্দ্রযান নামলো অবশেষ। চৌদ্দ জুলাই দুই হাজার তেইশ ছুটেছিল চন্দ্রযান, তেইশ আগস্ট ল্যাণ্ড করলো সারা বিশ্ব কম্পমান। উড়লো তেরঙ্গা বিজয় নিশান ইসরো নিল স্বস্তির নিঃশ্বাস, বিশ্ববাসী দেখলো এবার গড়লো ভারত ইতিহাস। চাঁদের মাটিতে স্মুথ ল্যান্ডিং ভালোই আছে চন্দ্রযান। ল্যাণ্ডার বিক্রম ছাড়লো চাঁদে ইসরো'র তৈরি রোভার প্রজ্ঞান। রোভার প্রজ্ঞান ঘুরবে চাঁদে গুটি গুটি পায়ে, খবর দেবে ইসরোকে সে কি আছে তার গায়ে। ধন্য মোরা সাক্ষী হলাম দেখলাম তার অবতরণ, ধন্য মোদের ইসরো বিজ্ঞানী বিশ্ববাসী করবে স্মরণ। সর্বত্রই আজ খুশির জোয়ার চলছে খুশির মহোৎসব,  রোভার প্রজ্ঞান খবর দিলে জানবো মোরা বাকি সব।

দুখু মিয়া

দীনহীন বাবা যার বাড়ি চুরুলিয়া, এক নামে চিনে সবে নাম দুখু মিয়া। ফুটেছিল সেই ফুল জাহেদার কোলে, ছড়ায় সৌরভ তার বিশ্ব ভূমণ্ডলে। জাতপাতের ঊর্ধ্বে ছিল ভাবনাটা তাঁর, লাঞ্ছিত বঞ্চিত জনে ছিল করুণা অপার। দুখু মিয়ার জীবন ছিল শোকে দুখে ভরা, অল্প বয়সে হতে হয় নিজ পায়ে খাড়া। শোকে দুখে পূর্ণ ছিল দুখু মিয়ার জীবন, পড়াশোনা হয়নি তার অভাবের কারণ। কাজে কর্মে দুখু মিয়া বড় হয়ে উঠে, দুঃখের দিন তার কভূও না টুটে। শুরু করে কাব্য চর্চা নিজ প্রতিভায়, অগ্নি স্ফুলিঙ্গ লেখনী যা প্রকাশিত তায়। ভয়ে ভীত বৃটিশ রাজ যার লেখনীতে, কারারুদ্ধ করে তারে নানা অজুহাতে। শাসন শোষণ নীতি পীড়া দিত যারে, এমন বিদ্রোহী জনে কে ভুলিতে পারে। স্বাধীনতা সমতা এই ছিল ধ্যান, উন্মত্ত সঙ্গীত মাঝে পাই তাঁর জ্ঞান। নিপীড়িতের অধিকারে করে আন্দোলন, লেখনীতে ভেসে ওঠে নবজাগরণ। আজিও বিশ্ব বাংলায় অমর যার ছবি, প্রণমি তোমারে আজি হে বিদ্রোহী কবি।

সামাল দেবে কে?

ঈশান কোণে মেঘ জমেছে ঝড় আসছে যে, মাঝিমাল্লা আনমনা সব সামাল দেবে কে? শক্ত হাতে হালটি ধরবে এমন মানুষ কই? সর্বত্রই তাইতো আজি হৈ হৈ রৈ রৈ। উথাল পাতাল নদীর বুক খড়কুটোতে ঘেরা, যাত্রী বোঝাই নৌকা খানি সবাই দিশেহারা। ঝড়ের সাথে জোয়ার ভাটা নৌকা খানি দোলে, এই বিপদে নৌকা খানি কে নিবে ভাই তোলে? বিজলী পড়ে মাঝে মাঝে যাচ্ছে কত প্রাণ, জ্ঞানী যারা ভাবছে বসে ক্যামনে বাঁচাই মান? রচনাকাল ০৪/০৮/২০২৩

অঙ্গীকার

স্বাধীনতা তুমি শহীদ আত্মার স্মৃতির প্রতিদান, লহ অঞ্জলি ঘরে ঘরে আজি  জানাই তোমায় সম্মান। শত শহীদের রক্ত চিহ্ন রয়েছে তোমার বুকে, বিশ্বলোকে উঁচু আজি শির দেখিনি ওদের চোখে। স্বাধীনতা তুমি শহীদ জননীর গগন কাঁপানো চিৎকার, তোমার কারণে বিশ্বকে মোরা করতে পারি তোলপাড়। স্বাধীনতা তুমি স্বৈরাচারের ধ্বংস স্তুপ দিয়েছ সাম্যের বাণী, জাতি ধর্ম বর্ণের ঊর্ধ্বে তুমি তুমি এক সার্থক জননী। স্বার্থের তরে তোমার বুকে আজও রক্ত বহে, মূর্খের দল ভাবে না কখনো ভারত মাতা কেমনে সহে? বৃটিশ রাজ হয়েছে ধ্বংস রেখে গেছে নিজ বিষ, সেই বিষানলে জ্বলিছে আজও অন্তর্দন্দে অহর্নিশ। জাগাও বিবেক খুলে দেখো আঁখি ভারতবাসী ভারত মায়ের সন্তান, কেন ভেদাভেদ হানাহানি কেন এতো শহীদদের অপমান। শহীদদের নামে অঙ্গীকার হোক মুছাবো মায়ের ক্ষত, দ্বন্দ্ব বৈষম্য দূর করি এসো অশুভ শক্তি করি পরাভূত। রচনাকাল -১৫/০৮/২০২৩

জীবনের ঘূর্ণিপাকে পর্ব -০৮

সুবোধ ইতিমধ্যে অনেক গুলো গান লিখেছে এবং রীতিমত গায়ক হয়ে উঠেছে। আশপাশের বিভিন্ন অরকেস্ট্রা পার্টিতে গান গেয়ে অনেক প্রশংসাও অর্জন করেছে ইতিমধ্যে। ### সেদিন মানিক আর রতন এসে সুবোধকে বলল তাদের মালিকের ফ্ল্যাটে একটা অনুষ্ঠান আছে। তাকে ওখানে নিমণ্ত্রণ করা হয়েছে। চৌদ্দ নভেম্বর মালিকের নাতির জন্মদিন। জন্মদিন হলে কি হলো বড়লোক বলে কথা, বিশাল আয়োজন। এক সপ্তাহ আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু। এ অঞ্চলের কাউকে নিমণ্ত্রণ দিতে বাকি রাখবেন না।  সুবোধ শুনেই চমকে উঠল, বলল ' না বাবা আমি যাবো না ' কিন্তু মানিক ও রতনের পীড়াপীড়িতে শেষে রাজী হলো।  চৌদ্দ নভেম্বর বিকেল ছ'টায় অনুষ্ঠান। ###  সেদিন মানিক আর রতন একটু সকাল সকাল প্রস্তুত হয়ে সুবোধকে সাড়ে পাঁচটায় সেখানে পৌঁছার কথা বলে লোকেশনটা একটু ভালো ভাবে বুঝিয়ে দিল। তারা বললো ফ্ল্যাটের পাশে গিয়ে যেন ফোন করে। তারা একজন এসে তাকে নিয়ে যাবে। যথা সময়ে সুবোধ সেখানে পৌঁছে মানিককে ফোন করল। ইতিমধ্যে মহল লোকে লোকারণ্য। মানিক ওদিকে ব্যস্ত থাকায় একটি ছেলেকে পাঠিয়ে সুবোধকে উপরে নিয়ে গেল। উপরে উঠে তো সুবোধের চক্ষু চড়কগাছ। এমন আলোকসজ্জা আর এমন রাজমহল স...

জীবনের ঘূর্ণিপাকে পর্ব ০৭

এদিকে সুবোধ অনিচ্ছা সত্ত্বেও ঐ ছেলে দুটোর সাথে হেঁটে হেঁটে তাদের রুম পর্যন্ত চলে গেল। ছোট একটা রুম। তারা দুজন ভাড়া করে থাকে আর একটা কোম্পানিতে কাজ করে। সকাল আটটায় বেরিয়ে যায় আর রাত্রি আটটায় ফিরে আসে। সেদিন রাতভর সুবোধের সাথে তাদের কথোপকথন চললো । সুবোধ তাদের নাম জিজ্ঞেস করে জানতে পারল, একজনের নাম মানিক আর একজন রতন।  তারা সুবোধের জীবন বৃত্তান্ত জানার আগ্রহ প্রকাশ করলে সে তার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনার কিছুটা খুলে বলল। তাদেরকে হাতের বইটি দেখাল এবং সে সময় পেলে আরও কিছু লিখার ইচ্ছে প্রকাশ করল। সুবোধের মুখে তার করুণ জীবন বৃত্তান্ত শুনে এবং তার ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে তারা বললো, ' দাদা আপনি আমাদের বড় ভাইয়ের মতো। আপনি ক'দিন আমাদের এখানে থেকে যান। আমরা তো সকাল হলেই ডিউটিতে চলে যাব আর রাতে ফিরে আসবো। ততক্ষণে আপনি লেখালেখি করবেন আর যদি ইচ্ছা হয় পাশেই একটা পার্ক আছে আর ওদিকে একটা বাজার আছে। আপনার ইচ্ছা হলে ঘুরে আসতে পারবেন।'  সকাল হলে ওরা খাবার প্রস্তুত করল। তিনজন মিলে খেয়ে সুবোধকে একা ঘরে রেখে তারা ডিউটিতে চলে গেল। সুবোধ সারাদিন একা একা ঘরের মধ্যে কখনো কিছু লিখে আবার কখনো মনের শোকে ...

জীবনের ঘূর্ণিপাকে পর্ব -০৫

ওদিকে সুবোধের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে পাঁচ বছর পর নির্দিষ্ট সময়ের আগেই তাকে জেল থেকে রেহাই দেওয়া হলো। জেল থেকে মুক্তি পেয়েও সে যেতে চাইছিল না। এ অন্ধকার পৃথিবীতে তার যে কেউ নেই। কোথায় যাবে কেমন করে খাবে। অগত্যা হাঁটতে শুরু করল। উদ্দেশ্য হীন ভাবে সে হেঁটে চললো। অনেক দূর এগিয়ে গিয়ে দেখল পাশে একটা রেলস্টেশন। গ্রামীণ স্টেশন, পাশে গাছের নিচে বসার জায়গা। সে একটা জায়গায় গাছের নিচে গিয়ে বসলো। পাশে আরও দুজন এসে বসলো। ওদের কথাবার্তায় বুঝা গেল ওরা রাতের ট্রেনে অনেক দূরে কোথাও যাবে। সুবোধ অনেকক্ষণ ওখানে বসে চিন্তা করল।ভাবলো ওদের পিছু নেবে। কিন্তু কোথাও যেতে হলে টাকার প্রয়োজন। পকেটে হাত দিয়ে দেখলো,জেলে সঙ্গীদের থেকে পাওয়া শো দেড়েক টাকা আর জেইলার বাবুর দেওয়া একটি পাঁচশ টাকার নোট, ব্যাগে একটা ব্ল্যাঙ্কেট আর তার নিজের লেখা একটি বই, যা জেইলার বাবু তার নিজের খরচে ছাপিয়ে ছিলেন। ব্যাগ থেকে বইটি বের করে এক ঝলক পাতা উল্টিয়ে দেখলো। তার চোখে জল এসে গেল। বোধ করি নিজের অতীত জীবনটা তার মনে পড়ে গেল। পাশের ছেলে দুটো লক্ষ্য করল উস্কো খুস্কো চুল, মুখে এক ঝুপা দাড়ি, চোখে মুখে বিষাদের ছাপ। একজন জিজ্ঞেস...

জীবনের ঘূর্ণিপাকে পর্ব ০৬

আবার লিলির অতীত জীবনটা মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল। সেদিন অফিসের টিফিন আওয়ারে লিলি শান্তাকে বলল,' তোর সাথে কিছু জরুরি কথা আছে,চল চা খেতে খেতে একটু আলাপ করবো।' দুজন গিয়ে কেন্টিনের এক পাশে চা- রুটির অর্ডার দিয়ে বসলো। এরপর লিলি শান্তাকে বলল ' তুই আমাকে একটু হেল্প করতে হবে, আগে কথা দে তুই কাউকে কিছু বলবি না।' শান্তাকে শর্তবন্দি করে লিলি ওর হাত ধরে তার অতীত জীবনে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা খুলে বললো। সব শুনার পর শান্তা বলল,'এখন তাহলে কি করবি? যা হবার তা তো হয়ে গেছে। অতীতটাকে তুই এবার ভুলে যা। নতুন করে আবার জীবন শুরু কর।  যে লোকটার পনেরো বছর জেল হয়ে গেছে তার কথাতো আর চিন্তা করে লাভ নেই। ' কথা কটি শেষ হতে না হতেই দেখে লিলির দুচোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে। চোখের জল মুছতে মুছতে সে ব্যাগ থেকে একটা বই বের করে দেখালো। বলল 'এই সেই সুবোধ।' বইটি পড়ে আমি আর স্থির থাকতে পারছি না। সে আমাকে ভুল বুঝেছে। আমি ওর সাথে একবার দেখা করতে চাই। আর এ ব্যাপারে একমাত্র তুইই আমাকে সাহায্য করতে পারিস'। এখান থেকে মাত্র এক রাত্রির জার্নি। আমি কাল ওর সাথে দেখা করতে যাবো আর পরদিন ঘুরে আসবো। এই সময...

চোরের মেলা

বিশ্ব জোড়া চোরের মেলা ক'জন ধরা খায়, আসল চোর ভদ্রবেশী কেউ কি তারে পায়? গরীব যারা চুরি করে সে তো খাবার তরে, পায়না বলে চুরি করে তাদের সবাই ধরে। ভদ্রবেশী চোরের থাকে পুকুর চুরির ফাঁদ, কোটি টাকার মালিক হয়েও থাকে চুরির সাধ। চুরি করাই ধর্ম চোরের সেটাই আসল কথা, নেতারা তাই চালু করেন কমিশনের প্রথা। রাস্তা তৈরি সেতু তৈরি সেখানেও নেই ছাড়, বি পি এল এর ঘর নির্মাণে চলে একই হার। হাসপাতালের ডিউটি ছেড়ে ডাক্তার করে চুরি, অধিক টাকায় রোগী দেখে কামায় ভুরি ভুরি। শিক্ষক করে সময় চুরি শিশুর অধিকারে, উকিল করে কথা চুরি সত্যও যায় হেরে। কাব্য চুরি ভাষণ চুরি, চুরি নেতার কথা, সব কিছুতেই সিদ্ধ হস্ত চোরের এমন মাথা। রাঘব বোয়াল চুরি করে সবাই তাকিয়ে থাকে, চোরে চোরে মাসতুতো ভাই কে ধরবে কাকে? বিপদ হয় ছিচকে চোরের বেদম খায় মার, ভদ্রবেশী চোরের গলায় ফুলমালা হয় উপহার।

গর্জে ওঠো সভ্য সমাজ

কাঁপছে ভয়ে দেশের মানুষ চলছে অরাজকতা, নারীর মান ক্যামনে বাঁচে হায়রে নিষ্ঠুরতা। যেখানে যত সংখ্যালঘু সইছে শুধু নির্যাতন, দুর্বলের উপর সবলের প্রভাব কোথাও বেকার আস্ফালন। জাতি দ্বন্দ্ব ভাষা দ্বন্দ্ব দ্বন্দ্ব ধর্মের নামে, হিংস্র মানব হয়েছে দানব পূণ্য ভারত ধামে। নারী মাতৃ জন্মদাত্রী ভুলেছে হিংস্রের দল, মায়ের সম্মান ভুলুণ্ঠিত করে দেখাচ্ছে বাহুবল। মান সম্ভ্রম রক্ষা করতে ভারতী মায় কাঁদে, গর্জে ওঠো সভ্য সমাজ আজ নারীরা নেই নিরাপদে।

ধ্বংসের মাঝে সৃষ্টি

ঝড় দেখে কেউ করোনা ভয় ভেঙ্গে পড়োনা কভু, আঁধার জীবনে আসলে নেমে ভয় পেয়ো না তবু। ঘাত সংঘাত জীবনের তরে মিছে কেন ভয় তবে, আঁধারের পরে আলোর দেখা এটাই সত্য ভবে। আগুনে ধ্বংস করে বলেই খাবারটা মোরা খাই, কাঠ পুড়ে যদি নাহয় ছাই কয়লা তাহলে কোথায় পাই? ধ্বংসের মাঝে সৃষ্টি লুকানো সাক্ষী ইতিহাস, হেরে যাও যদি আপন কর্মে কভুও ছেড়োনা আশ। জীবনের শেষ সমাধিতে নয় উঁচু রাখো তব শির, বাঁধার পাহাড় পদতলে দলে তবেই তো হবে বীর।

দেখে এলাম ওপার বাংলা (ধারাবাহিক ভ্রমণ কাব্য পর্ব ১০)

পৌঁছলাম সেদিন ঢাকা সেগুনবাগিচা কচিকাঁচার মিলনায়তনে, আমন্ত্রণ ছিল আন্তর্জাতিক কবি সম্মেলনে কবি ও কবিতার ভুবনে। পরিচিত হলাম প্রধান অতিথি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সাথে, বাংলা একাডেমির সুযোগ্য সভাপতি সন্দেহ নেই তাতে। বিশ্ব বাংলার জ্ঞানী গুণীদের সাথে আমি তো ক্ষুদ্র ছার, সবার ভালোবাসায় মঞ্চে পেলাম স্থান বসলাম গিয়ে আনন্দ অপার। প্রাঞ্জল আলোচনা- গুণীজন সংবর্ধনা চললো দিবস জুড়ে, হারিয়ে গেলাম জানা অজানা হাজার কবির ভিড়ে। ছবির আল্পনায় পরিচিত যারা তারা দেখি আজ পাশে, এদের সকাশে দিবস জুড়ে  চললো হর্ষ উল্লাসে। নিজের লেখা দুটি কাব্যগ্রন্থ তুলে দিলাম সাহিত্য প্রেমীদের হাতে, নিয়ে এলাম সবার ভালোবাসা কিছু বই- নানা উপহার সাথে। সবার পরশে সবার সাথে কাটলো দিবস বেশ, স্মৃতি হয়ে থাকবে সংবর্ধনা ও সাহিত্য সম্মেলন সার্থক হল সফর বাংলাদেশ।

দেখে এলাম ওপার বাংলা ( ধারাবাহিক ভ্রমণ কাব্য পর্ব ০৯)

কারো আতিথেয়তায় দেইনি সাড়া স্বল্প দিনের ভ্রমণ, তার সাথে আছে সময়সূচি সাহিত্য আড্ডা কবি বন্ধুদের আয়োজন। এরই মাঝে জেদ ধরে আছে সৌদি প্রবাসী প্রিয় রায়হান, কথা হয়েছে বললাম যাবো হয়তো প্রেমের টান। সেদিন সকালে ঢাকা থেকে দূরে চললাম মোরা দু'জনায়, যেতে হবে খিলগাঁও বালু নদীর তীর প্রিয় মানুষটির আস্তানায়। বাজারের পর বাজার গলির পর গলি অজানা অচেনা পরিবেশ, দীর্ঘ চড়াই উতরাই পেরিয়ে সেথা পৌঁছলাম অবশেষ। ও তো রৌদ্রে দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতেই ছিল এ যেন চির পরিচিত আপনজন, অপেক্ষার সমাপ্তি হলো পৌঁছলাম সেথা জড়িয়ে ধরে করে আলিঙ্গন। ফে বু' তে পরিচয় বার্তালাপ  হয়তো হয়েছে তিন সাল, মুগ্ধ হলাম ওর আতিথেয়তায় এ যেন এক সোনা ঝরা সকাল। নাস্তা চা পান আরো কত কথা চললো সকাল জুড়ে, এরই মাঝে এলো কামরুল ভাই সময় গড়িয়ে যায় দুপুরে। কবি রায়হানের মায়ের সংস্পর্শে এলাম দেখলাম সেদিন মায়ের মন, সেদিনের সে সোনালী দুপুর স্মৃতি হয়ে থাকবে আজীবন। মনে পড়ে সে দুর্লভ মুহূর্ত মায়ের কথা গুলো ছিল খাসা, এ যেন দীর্ঘ প্রবাসের পর পেলাম মায়ের ভালোবাসা। খাঁটি বাঙালিয়ানার আয়োজনে  প্রস্তুত হলো দুপুরের খাবার, মায়ের হাতে তৈরি...

দেখে এলাম ওপার বাংলা (ধারাবাহিক ভ্রমণ কাব্য পর্ব -০৮)

ঢাকা থেকে যাবো মোরা পদ্মা নদীর পার, গাড়ি করে যেতে হবে তেত্রিশ কি:মি:আর। সাত কি:মি: দীর্ঘ সেতু পদ্মা নদীর 'পর, সন্ধ্যায় নাকি সে দৃশ্য অতি মনোহর। স্থির হলো তাই যাবো মোরা বিকেল পাঁচটায়, কামরুল ভাই ফোন করতেই গাড়ি আসলো তায়। চললাম দেখতে পদ্মা সেতু বাংলাদেশের শান, যে সেতুটি বাড়িয়ে দিল সে দেশেরই মান। সন্ধ্যাকাশে মিষ্টি চাঁদ সাথে তারার খেলা, আঁধার রাতের পদ্মা সেতু আলোতে হয় উজালা। ধীর গতিতে চললো গাড়ি দেখলাম পদ্মার পার, কামরুল ভাইয়ের মোবাইল লাইভে দেখবেন সারাসার। ওপারেতে পৌঁছে সবাই ঘুরে দেখলাম বেশ, ভাঙ্গার পারের রসগোল্লা খেলাম অবশেষ। ফেরার পথে সেতু 'পরে সবার অগোচরে, একটু থেমে ছবি নিলাম স্মৃতি রাখতে ধরে। (রচনাকাল ২৪/০৬/২০২৩: ক্রমশ চলবে)

দেখে এলাম ওপার বাংলা (ধারাবাহিক ভ্রমণ কাব্য পর্ব -০৭)

দেশ বিদেশের কবিদের সাথে দেখলাম ঢাকা শেরেবাংলা নগর, যার এক পঞ্চমাংশ জুড়ে আছে সরকারি ভবন ও খোলা চত্ত্বর। দাঁড়িয়ে আছে মার্কিন স্থপতির অমর কীর্তি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন। অত্যাধুনিক বৃত্তাকারে নির্মিত দৃষ্টি নন্দন স্থাপত্য নকশার অপূর্ব নিদর্শন। নয়ন জুড়ানো কৃত্রিম লেক চারিদিকে ঘেরা তায়, স্বচ্ছ জলাধারে ভাসে প্রতিচ্ছবি অপরূপ শোভা পায়। দক্ষিণাংশে খোলা মাঠ সারি সারি গাছ মনোরম সে বাহার! সকাল সন্ধ্যায় শত মানুষের ভিড় তোলনা যে নাই তার। ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে স্বপ্ন সাজানো চন্দ্রিমা জাতীয় উদ্যান। দেখে এলাম ভ্রমণ পিপাসুদের আকর্ষণীয় সে স্থান। পার হয়ে যেতে হয় ক্রিস্টেন লেক যার উপর দাঁড়িয়ে আছে ঝুলন্ত সেতু, চোখ ধাঁধানো সুন্দর সে দৃশ্য দুধারে কৃত্রিম লেক আর ফোয়ারা হেতু। উদ্যানে প্রবেশ করতেই সামনে এল দেশের এক দৃষ্টি নন্দন স্থাপনা, বৃত্তাকারে নির্মিত জিয়াউর রহমানের সমাধি জানাই তাঁর প্রতি সম্মাননা। দেখলাম ঘুরে এ যেন এক স্বপ্নপুরী যেন এক অন্য জগৎ, স্বল্প সময়ে এ উদ্যান ঘুরে পুরেনা তো  মনোরথ। ভ্রমণ বিশ্রাম খেলাধুলা আমোদ প্রমোদ মুক্ত মঞ্চ আরো কত আছে তায়, মুক্ত বিহঙ্গ কপোত কপোতী  মাঝে মা...

দেখে এলাম ওপার বাংলা (ধারাবাহিক ভ্রমণ কাব্য পর্ব -০৬)

সেদিন সকালে জেগে উঠে বসি ডাক শুনে কানে কানে, আলমগীর ভাই এসেছে চট্টগ্রাম থেকে বুঝিবা প্রেমের টানে। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষ হতে দেখি কামরুল ভাই পাশে খাড়া। প্রস্তুত ওরা যাবো সবে মিলে নজরুল জয়ন্তীর তাড়া। চললাম মোরা নজরুল সমাধিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে, মসজিদ পাশে সমাহিত যিনি জাতীয় কবির সম্মানে। স্মরিয়া যাহারে বিশ্ব বাঙালি বিশ্ব বাংলা উজালা। শ্রদ্ধাভরে প্রণামি তাঁহারে দিলাম পুষ্পমালা। অনুষ্ঠান শেষে কবিদের হাতে তুলে দেই " আলোর সন্ধানে", নিজের লেখা কাব্য গ্রন্থটি ছড়ালাম বাংলাদেশ লণ্ডনে। চললাম এবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ যার পাশে আছে শহীদ মিনার, যে মিনারে আজও স্মৃতি হয়ে আছে বাংলা মায়ের শোক বেদনার। মিনারের পাশে দাঁড়ায়ে দুহাতে প্রণমি শহীদ গাঁথা, শ্রদ্ধাবনত শিরে স্মরণ করি তাঁদের যারা পেয়েছে অক্ষরে অমরতা। ( রচনাকাল ১৫/০৬/২০২৩: ক্রমশ চলবে)

দেখে এলাম ওপার বাংলা (ধারাবাহিক ভ্রমণ কাব্য পর্ব -০৫)

কামরুল, আলমগীর, রায়হান এঁদের জানাই কৃতজ্ঞতা, ঘন ঘন যোগাযোগ আর ফোনালাপে  পেলাম অভিজ্ঞতা। ক্যামনে যাবো কোথায় নামবো কোথায় থাকবো রাত, দূরে থেকেও এঁরা যেন ছিলেন মোদের সাথ বাস সার্ভিস আর যাতায়াত ব্যবস্থায়  ভরে গেল প্রাণ, কথায় কথায় বলেন সবাই আপনি মোদের মেহমান। অর্ধ রাস্তায় যাত্রা বিরতি খেলাম সেথায় চা, স্টেশন গুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ভালো লাগলো তা। সুন্দর দৃশ্য রাস্তাঘাট স্বচ্ছ আঁকাবাঁকা, রাত দশটায় পৌঁছলাম গিয়ে স্বপ্নের শহর ঢাকা। সবার সাথে কথা হলো দেখা হবে কাল, রাত্তিরেতে থাকবো মোরা হোটেল ক্যাপিট্যাল। পরের দিন নজরুল জয়ন্তী মনে ছবি আঁকা, কবির সমাধিতে ফুল চড়িয়ে ঘুরবো শহর ঢাকা। ( রচনাকাল ১০/০৬/২০২৩- ক্রমশ চলবে)