ভ্যালেন্টাইন ডে
রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর
তারিখ ১২/০২/২০২২
ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে সুতপা অঞ্জনাকে বলল, ' চল একটু সামনে থেকে ফুল নিয়ে আসি।' অঞ্জনা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ফুল, কেন? সুতপা বললো 'বারে তুই দেখি অবাক হয়ে গেলি,আজ যে ভ্যালেন্টাইন ডে!'
'ও হ্যাঁ।'
সুতপা বলেই চললো,' আজ আমি ফুল নেব, রজতকে দেবো----- ।' কত কথাই বলে চললো অঞ্জনা কিছুই শুনলো না। ওর মনে পড়ে গেল- -, আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এক ভ্যালেন্টাই ডে এর কথা।
ও কল্পনায় বিভোর হয়ে ভাবছিল এমনি এক দিনে বিজয় তাকে একটা ফুল দিয়ে প্রপোজ করেছিল। সেও ফুলটি গ্রহণ করেছিল এবং তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিজয়ের প্রেমে সে এতটাই বিভোর হয়েছিল যে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিল।
একদিন পার্কে বসে বিজয় তাকে বলেছিল, জানো অঞ্জনা, ' তোমাকে মনের মধ্যে নিয়ে আমি কত স্বপ্ন দেখি। তোমাকে মনের মধ্যে নিয়ে আমি ঘর বাঁধছি, কখনো গঙ্গার ধারে কখনও পাহাড়ের উপর।'
অঞ্জনা এতটাই ওর প্রেমে বিভোর হয়েছিল যে ওর পড়াশোনায় ভাঁটা পড়ে। বি,এ, ক্লাসে ফেল করে।আর ওখানেই বিপত্তি। রজত এম,বি,বি,এস এ সুযোগ পেয়ে তাকে ছেড়ে চলে যায়। আর কোন যোগাযোগ হয়নি। পরে সে শুনেছে বিজয় ডাক্তার হয়েছে,অন্য একটা মেয়েকে বিয়েও করেছে। কথাগুলো ভাবতে ভাবতে পথ চলছিল।
ইতিমধ্যে তারা একটি ফুলের দোকানে এসে গেল। অঞ্জনা কোন কথাই বলছে না। নীরবতা ভঙ্গ করে সুতপা বললো,' এই কি হলো?'
চেয়ে দেখে অঞ্জনার চোখে জল। সুতপা ওর প্রেমে বিফল হওয়ার ঘটনাটা জানে । তাই ওর বুঝতে বাকী রইলোনা।
দোকান থেকে সুতপা একটা ফুল নিল, অঞ্জনা নিল দুটো।
সুতপা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,' তুই দেখি আজ বদলে গেলি,দুটি ফুল দিয়ে কি করবি?'
অঞ্জনা বললো, ' কেন,আজ যে ভ্যালেন্টাইন ডে!
সুতপা আরো অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ' তা- তুই ফুল দিয়ে কি করবি?'
একটা দেবো আমার মা কে আর একটা বাবাকে।
সুতপা আর কথা না বাড়িয়ে বলল, ' চল।
অঞ্জনাকে বিদায় দিয়ে সুতপা পথে যেতে যেতে ভাবতে থাকে,ওর কথাগুলো।
অঞ্জনার সে অতীত কাহিনী সুতপা সব জানে।ওর ভেঙ্গে যাওয়া জীবনের কথা গুলো বার বার তার মনে পড়তে লাগলো। তার মনটা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হয়ে গেল। তার জীবনটাই যেন বদলে গেল অঞ্জনার কথায়। সেও স্থির করলো, না সে ফুলটি আর রজতকে দেবে না বরং মাকে'ই দিয়ে দেবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন