পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

পরহিত তরে (ছোট গল্প)

সে অনেক আগের কথা। ঘোর জঙ্গলে এক কুঠিরে অনেক সাঙ্গপাঙ্গ ও শিষ্য সহ এক সাধুর আশ্রম ছিল। অনেক দূর দূরান্ত থেকে রোজই শত শত রোগী সাধুর কাছে আসত এবং সাধুর তন্ত্রমন্ত্র ও কবিরাজি জড়িবুটি ঔষধ নিয়ে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরত। অতি জটিল রোগীও তার সেবায় ভালো হয়ে উঠতো। যারাই আসতো অনেক ভালো ভালো ফলমূল ও উপহার সামগ্রী নিয়ে আসতো। সাধুর কুঠিরে অনেকেই এসে ভালো হয়ে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করে সেখানে থেকেও যেতেন।  দেখতে দেখতে সেই জঙ্গলে অনেক স্বর্ণ কুঠির গড়ে উঠলো।  অতি অল্প দিনের মধ্যেই এ খবর দেশ দেশান্তরে পৌঁছে গেল এবং মানুষের আনাগোনা দিন দিন বাড়তে লাগলো। এখানে যারাই যা দান করত সাধু তা তার ভক্ত ও গরীব দুঃখীর মধ্যে বিতরণ করে দিতেন। সাধুর ঐশ্বর্য এবং তাঁর পরহিতে তা সমর্পণ করার কথা কারো অজানা রইল না।     শহরের নামকরা দুজন চোর নবকান্ত ও লালুকান্ত এ খবর পেয়ে রোগী সেজে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হল। সাধু দিব্যদর্শনে তাদের মনোভাব বুঝতে পারলেন তবুও তিনি তাদের সমাদর করে আপ্যায়ন করলেন এবং সেখানে আশ্রয় দিলেন। তারাও সাধুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে সেখানে থাকতে মত প্রকাশ করল।    সেদিন রাতের অনু...

রাজা ও সাধু

একদিন যবে আসিল এক সাধু রাজার দরবারে,  আগ্রহ ভরে কহিলেন রাজা কি সেবা করি তোমারে। হেসে সাধু কয়, হে রাজন! সেবা কিছু নাহি চাই, মনেতে মোর সন্দেহ আজ প্রজা মাঝে সুখ নাই। দেশ জুড়ে আজি একি অরাজকতা প্রজারা দুঃখী কেন, না পার ভার বইতে জনতার ছেড়ে দাও রাজ্যভার হেন। কথা শুনে রাজার জাগিল আগ্রহ বলেন সাধুরে হাসি, নগর পথে চলো ঘুরে আসি দেখিব কেমনে আছে পুরবাসী।  যেমন কথা তেমন কাজ মন্ত্রী সহ ছুটিল রাজার রথ, নিজ চোখে দেখে প্রজার সুখ দুখ পুরাবেন মনোরথ। পথে যেতে যেতে দেখিলেন রাজা দুঃখী শিশুর কান্না, অভাবের কারণ ঘরেতে আজিকে হয়নি কিছুই রান্না। হেনকালে এক বৃদ্ধ দাঁড়ায়ে করজোড়ে রাজারে কয়, ফলানো ফসল বেচিত পারি না, নেতা মন্ত্রীর ভয়। আরো আগে যেয়ে দেখিলেন তারা দুটি দলে মারামারি, কহিলেন সাধু, 'জিজ্ঞেস করো কেন এত হানাহানি?' জানলেন রাজা মরেছে অনেক ধর্মের নামে লড়ে, অগুনিত ঘর সম্পদ সহ ছারখার হয়েছে পুড়ে। সেথা থেমে সাধু কহিল রাজারে,' এই হাল তব দেশে, করতে চাও সেবা কর ক্ষুধার্ত জনতারে ভালোবেসে। খাবার বিলাও হিংসা থামাও তাহাই স্রষ্টার সেবা। দুঃখী জনতা মুখ চেয়ে আছে দেখিবে তাদেরে কেবা?' রাজধর্ম প্রজার ...

দুরন্ত দুর্দিনে

কল্পনার আকাশে ভেসে এসেছিলে কবে মনের গহীনে ধারা বহিছে নিরবে, বুঝলাম শুধু অনুভবে। জানি নাই আজও কেন কর পিছু একা আছি বসে করে মাথা নীচু, তুমি এসেছিলে তবে? আনমনে আছি বুজে দুটি আঁখি মন মন্দিরে ফুল ফুটেছিল নাকি? বৃষ্টি বাদল এই দিনে! ঝর ঝর ঝরে লুটাইয়া পড়ে আকাশে বাতাসে তারই ছায়া উড়ে, আজি এই দুরন্ত দুর্দিনে। কেমনে যে এলে এতো চুপিসারে ছিনু ভাবনায় কোন অভিসারে, এলে এবে খুলে বাহুডোর। নাচে হৃদ আজি উল্লাস ভরি ঝড় ঝাপটায় এবে নাহি ডরি, এসো পাশে করি মন ভরপুর।

রথের মেলা

সাঙ্গ করে সকল খেলা খোকা যাচ্ছে রথের মেলা বৃষ্টি বাদল দিনে। ভুলটা যেন না হয় পাছে কিপটে দাদুর শর্ত আছে মেলা থেকে আনবে বাঁশি কিনে। ছাতা হাতে চলছে দাদু খোকা দেখছে একি জাদু  চৌরাস্তার ওই মোড়ে। পড়লো দাদু পিছল খেয়ে রথের রশি ধরতে যেয়ে হাতের ছাতি দূরে ফেললো ছুড়ে। রথের উপর বাজছে সানাই ছোট বড় নাচছে সবাই ফল ফুল যেন যাচ্ছে শুধু উড়ে। অবাক হয়ে দেখে খোকা চোখটি তাহার খায়নি ধোঁকা পড়লো দাদু মোটা আন্টির ক্রোড়ে। লজ্জায় দাদুর মাথা খাঁড়া ঝড় বৃষ্টি করল তাড়া রথের মেলা সাঙ্গ অবশেষ। কেঁদে খোকা ফেনা ফেনা হলো না তার বাঁশি কেনা দাদু বলে আছি আমি বেশ।

বিদ্যালয় সঙ্গীত

ও--ও----আ----- বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয় আলোর সন্ধানে আমরা সবাই মানুষ হওয়ার স্বপ্ন বোনে যাই। গেয়ে যাই নব-প্রভাতের গান মোরা হবো যে মহান।।২ মোরা গুরুর আদেশে পাই করুণা অপার, এখানেই আছে যত জ্ঞানের আধার।২ জীবন যুদ্ধে মোরা সংগ্রাম করি করি না তো কোন ভয়। এখানে জ্ঞানের আলোতে হয় সূর্যোদয়।। বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয় ---- আলোর সন্ধানে -------------------------------।। আমাদের হতে হবে সত্যবাদী,  হতে হবে আমাদের নির্ভীক সৃষ্টির রহস্য ভেদ করি  করবো আমরা বিশ্ব জয়।। বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয় -- আলোর সন্ধানে--------------------------।।