পোস্টগুলি

ডিসেম্বর, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

নতুন সালের দীক্ষা

জীবন খাতার পুরানো পাতায় জমা হবে দুই হাজার তেইশ সাল ফিরে দেখি তার বিদায় বেলায় করেছে কোথায় কি হাল। যতই খুঁজি ততই দেখি শুধু হাসিকান্নার মেলা মিলে না হিসেব সুখ না দুখের বর্ণিব বিদায় বেলা। প্রকৃতির নিয়মে সকলেই চায় শুধু হাসিখুশি ভালবাসা, নিত্য সঙ্গী দুঃখ ধরাতে কেন করি সে আশা। খুঁজে দেখি ভালো মন্দ পুরাতন ঘেঁটে কি পেলাম তাহাতে শিক্ষা, শুভ দিকগুলো বেছে নেওয়াই হোক নতুন সালের দীক্ষা। পুরাতনে ভুলে যাই সবে নতুনেরে ভালবেসে, মনে আশা জাগে নতুন বছর কাটবে হর্ষ উল্লাসে। হিংসা বিবাদ দূর করি এসো জাগাই নতুন ভাবনা, নতুন দিনে নতুন বছরে সবারে জানাই শুভ কামনা।

সন্তোষ্টিই সার

ঝিল পাশে সাদা বক একপায়ে খাড়া, ধ্যান করে মনে প্রাণে নেই কোন তাড়া। ক্ষুধায় কাতর হয়ে করেছিল আশা, ছোট মাছ পাবে সেথা ভোজ হবে খাসা। মাছগুলো বসেছিল শ্যাওলার তলে, টের পেয়ে করে রব পালা পালা বলে। বকধার্মিক সেজে কেউ আসে যদি পাশে, মতলবটা বুঝে নিও সেই অবকাশে। অমনি পালিয়ে বাঁচে মাছগুলো সারা, খাবার না পেয়ে বক হয় দিশেহারা। ভাবে এবে মাছসব গেল কোথা চলে, বিধাতারে দোষ দেয় কি নিষ্ঠুর বলে! হেনকালে ঝড় এলো শিলাবৃষ্টি সাথে, আঘাতে আঘাতে তার প্রাণ গেল তাতে। পরিণতি দেখে কবি বলে এই সার, সন্তোষ্টি বিধাতা 'পরে রাখিও অপার।

নারীর আসল পরিচয়

লাবন্যেরা চায় বোন। লাবন্য ছাড়া বাকি সবার আগেই বিয়ে হয়ে গেছে এবং ওরা ঘর সংসার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। বাবা মারা যাওয়ায় লাবন্যকে নিয়ে একটু সমস্যা। ছোট দু'ভাই যদিও বর্তমান কিন্তু ওরা কোনো কাজের না। এতদিন বাবা ছিলেন বলে ভবঘুরে জীবন কাটিয়েছে। এখন দায়িত্ব উপরে পড়ায় দুজনের মধ্যে একটু ঠেলাঠেলি। যার ফলে লাবন্যের জীবনে নেমে আসে অমাবস্যা। শেষ পর্যন্ত মা এবং একমাত্র মামার প্রচেষ্টায় কোন রকমে একটা কলেজের কেরানির সাথে বিয়ে ঠিক করেন।  লাবন্য ছোট বেলা থেকেই খুব শৌখিন। যদিও মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম, সবার ছোট হিসাবে একটু বেশি আদর যত্ন পেয়েছে। কিন্তু ততটুকু সে পেয়েছে তাতে সে কোন দিনও সন্তুষ্ট নয়। তার আকাঙ্ক্ষা সবসময় গগনচুম্বী। কলেজে পড়াকালীন সময়েও সবসময় তার আব্দার ছিল বড়। যা পেত তাতে সে কোন দিনও সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তাই সবসময় সে মনমরা হয়ে থাকতো। যে কোন বড়লোকের মেয়েরা যেভাবে শৌখিন জীবন যাপন করত তা ই সে অনুসরণ করার চেষ্টা করতো। আর তা করতে পারতো না বলেই সে নিজেকে বড় অসুখী মনে করত। তার মনে সবসময় একটা হায় হুতাস ছিল, কেন সে বড়লোকের ঘরে জন্ম নিল না। কলেজ জীবনে তার সবচেয়ে অন্তরঙ্গ ব...

নিষ্ঠুর নিয়তির পরিহাস

ধলেশ্বরী নদীর তীরে ছোট একটি গ্রাম। নদীর তীরে একেবারে নদীর গা ঘেঁষে ছোট একটি কুঁড়ে ঘর। বর্ষাকালে  নদীর জল প্রায়ই ফুলে ফেঁপে উঠোন বেয়ে জল গড়িয়ে যায়। তিন পুরুষ থেকে সনাতনরা ওখানেই থাকে। বৎসরে এক দুবার বন্যার সময় ঘরে জল ঢুকে যায় তখন ঘর ছেড়ে অদূরে বাঁধের উপর আস্তানা পাততে হয়।  বাবা মারা যাওয়ার পর তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট দু'ভাই কাজের সন্ধানে ভিটেমাটি ছেড়ে বেঙ্গালুরু চলে যায়। বড় ভাই সনাতন দশ বৎসর থেকে একা স্ত্রী মীরাকে নিয়ে এখানেই ঘর সংসার করে আছে। নিঃসন্তান সনাতন দিন মজুরের কাজ করে কোন রকম স্ত্রীকে নিয়ে দিন যাপন করছে।  দশ বৎসরের বিবাহিত জীবনে মীরা নিজেকে সুখী মনে করে। স্বামী দিনমজুরের কাজ করে যা পায় তা দিয়েই দুজনে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন যাপন করে। কখনো কাজ না পেলে না খেয়েও থাকতে হয় তবু মীরা কোন দিন কোন আব্দার করেনি। মাঝে মধ্যে সনাতন দুই টাকা পাঁচ টাকার খুচরো কয়েন মীরাকে দিয়ে বলতো কখনো কোন প্রয়োজনে বা কিছু খাবার ইচ্ছে হলে পাশের দোকান থেকে কিনে আনার জন্য। মীরা সে টাকা খরচ না করে রেখে দিত। প্রতিদিন স্বামী কাজে চলে গেলে সে টাকা গুলো বের করে গুনতো আর খুচরো টাকার ঝনঝন ...

একদিন এক ভিখারি

স্কুল শিক্ষক গৌরেশ বাবু তার ছোট বেলার এক বন্ধুর সাথে চা পান করে দোকান থেকে বেরোতেই দেখেন সামনে ভিড় জমে আছে। একটু এগিয়ে যেতে দেখেন মানুষ যে যার কাজে সরে যাচ্ছে। জানা গেল দুটি ছেলের মধ্যে কিছু টাকার লেনদেন নিয়ে বচসা বেঁধেছিল। গৌরেশ বাবুও ফিরে যাচ্ছিলেন এমন সময় একটা ছেলে তার পথ আগলে বলল,' বাবু আজ তিন দিন থেকে আমি কিছু খাইনি, কিছু টাকা দিন।' ছেলেটাকে দেখতে ভিখারি বলে মনে হল না । বয়স আনুমানিক ত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছর হবে। গৌরেশ বাবু জিজ্ঞেস করলেন,' তোমার নাম কি, বাড়ি কোথায়,কি কর?' ছেলেটি বলল আমার নাম লালু, মানে লালুকান্ত। পেশায় আমি একজন শিক্ষক ছিলাম। কিন্তু আমার উপর একটা মিথ্যা ব্লেম তুলে আমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চাকরি হারিয়ে এখন পথে পথে ঘুরছি। বাবু, একটু টাকা দেন না, কিছু খাবো।'  গৌরেশ বাবু ওর চেহারা দেখে বুঝলেন ও মিথ্যা কথা বলছে। তবু পকেটে হাত দিয়ে কিছু দিতে যাবেন এমন সময় তার নজর পড়ল লোকটার হাতের লোহার বালার দিকে। অমনি তার নজর পড়ল লালুর পরনের ছেঁড়া লাল শার্টটার উপর। শার্টটি এমন ভাবে ছেঁড়া আর সেলাই করা, দেখতে ঠিক যেন ভারতের মানচিত্র দেখা যায়। তখনই...

অটোওয়ালা (ছোট গল্প)

সাতসকালে মেয়েকে কোচিং সেন্টারে দিয়ে রীতিকা ঘরে ফেরার জন্য রাস্তায় একটা অটো রিকশাতে সিগন্যাল দিল। গাড়িটি তার সামনে এসে থামতেই রীতিকার চক্ষু তো চড়কগাছ! সে ভাবতেও পারেনি হঠাৎ করে এমন একটা অসুবিধার মধ্যে পড়ে যাবে। ড্রাইবার ডাকলো , ' কি হলো, উঠুন ম্যাডাম।' রীতিকা আমতা আমতা করে বলল,' না মানে আমি তো একটু বি,বরুয়া রোডে যাব,তাই ভাবছি -' মুখ থেকে কথা কেড়ে নেয় ড্রাইবার সুমিত। বলে' তাতে কোন সমস্যা নেই, আমি দিয়ে আসবো আপনাকে।' অগত্যা অনিচ্ছা সত্ত্বেও রীতিকা অটোতে উঠে বসলো। সুমিত গাড়ি চালিয়ে দিল। কারো মুখে কোন কথা নেই। রীতিকা সামনের গ্লাসের দিকে ঠায় চেয়ে আছে সুমিতের দিকে। পরনে শার্ট প্যান্ট আর চোখে সানগ্লাস। সেই কলেজ জীবনের সুদর্শন চেহারা যদিও আজ আর নেই তবু সব সময় ফিটফাট চলাফেরার অভ্যাসটা বোধ করি আজও তার মধ্যে বর্তমান।       অটো দ্রুত গতিতে এগিয়ে চললো। তার সাথে এগিয়ে চলছে রীতিকার স্মৃতির দর্পণ।     কলেজের নবীনবরণ উৎসবের দিন তার প্রথম পরিচয় সুমিতের সাথে। পড়াতে যদিও দু ক্লাস জুনিয়র তাদের চলাফেরা কিন্তু একসাথে। প্রথমে বন্ধুত্ব পরে প্রেম। তার মনে পড়ল...

ধান্দা

পুকুর পাড়ে গাছের ডালে  মাছরাঙা বসে, ঝাঁপ দিয়ে ধরবে মাছ  রসের অঙ্ক কষে। বিল্লি মাসি মুচকি হাসি  চুপে চুপে যায়, ধরবে বলে মাছরাঙা  খাপ ধরেছে তায়। উপর থেকে ঈগল পাখি  দেখে বেড়াল ছানা ছোঁ মেরে ধরবে বলে  মেললো দুটি ডানা। পাশে থেকে এক শিকারী  ফেললো সেথা জাল ধরা পড়লো ঈগল পাখি  বাঁচল যে বেড়াল। পালিয়ে বাঁচে মাছরাঙা  বাঁচল সাথে মাছ, পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে খুকি   করলো সেটা আঁচ। অপূর্ব এ সৃষ্টি ধরা  রচিয়াছে রবে কে কাকে ধরে খাবে  এইতো ধান্দা ভবে।

মাটিই হইবে ঠিকানা

মাটির মানুষ হইয়া মোমিন সেই মাটিরে চিনলা না আজকে মরলে কালকে তোমার মাটিই হইবে ঠিকানা রে মাটিই হইবে ঠিকানা।। মাটির মানুষ হইয়া ----------------------------------------।।২ সুখের স্বপ্নে আছ বিভোর করছো ঘরবাড়ি, কখন জানি ডাক আসিবে যাইতে হইবে সব ছাড়ি।২ মোহ মায়ায় মত্ত রইলা স্রষ্টা কভু চিনলা না, কড়ির খোঁজে জীবন গেল পারের কড়ি কিনলা না। মাটিই হইবে ঠিকানা রে মাটিই হইবে ঠিকানা। মাটির মানুষ ------------------------------------------।। যাদের নিয়ে করছো বড়াই মরলে তারা চিনবে না চোখের সামনে জ্বলবে তবু কেউ কখনো কাঁদবে না।২ মিছে মায়ায় বন্দী রইলায় খোদার কালাম দেখলায় না সকল পাপের হিসাব নিবেন একদিন দয়াল রাব্বানা। মাটিই হইবে ঠিকানা রে মাটিই হইবে ঠিকানা।। মাটির মানুষ ---------------------------------------------।। জন্মের পরে আজান শুনলে ঘুরলে সারা দুনিয়ায়, সে আজানের নামাজ হবে তোমার লাশের জানাজায়।।২ ক্ষণিকের এই জীবন তোমার বেঁধে দিল রাব্বানা মাটির দেহ মাটি পাবে মাটিই হইবে বিছানা।। মাটিই হইবে ঠিকানা রে মাটিই হইবে ঠিকানা। মাটির মানুষ --------------------------------------------।।২

দেখাওনা সেই স্থান

দূর দেশেতে জন্ম তোমার মক্কা বালুস্থান, মমতা জাগাইয়া মোরে দেখাওনা সেই স্থান। দূর দেশেতে ------------------------------------------।। বিশ্ব নবী নূরের ছবি, মা আমেনার প্রাণ, মদিনাতে শুইয়া আছেন বাদশা দুজাহান।। মমতা জাগাইয়া ----------------------------------। দূর দেশেতে ---------------------------------------।। উম্মতেরে ভালোবেসে করলে প্রেম দান, কত রক্ত ঝরলো তোমার তায়েফের ময়দান। মমতা জাগাইয়া ------------------------------। দূর দেশেতে ---------------------------------------।। উম্মতের কারণে নবী ছিলেন পেরেশান  যার উছিলায় নাজিল হইল পবিত্র কোরআন।। মমতা জাগাইয়া ----------------------------। দূর দেশেতে ------------------------------------।। না দেখিয়া করছি কত তোমার গুণগান, অধম হয়ে জন্ম নিলাম দেখাওনা সে স্থান।। মমতা জাগাইয়া --------------------------------। দূর দেশেতে --------------------------------------।। পাপী উম্মত কান্দি বসে দূর সে হিন্দুস্তান, লাখো সালাম কেমনে পৌছাই সেই সে গুলস্থান।। মমতা জাগাইয়া---------------------------।। দূর দেশেতে ----------------------------------------।। ম...

রেখা

মনের মাঝে আছো তুমি স্বপ্নে আঁকা ছবি, প্রকাশ করার সাধ্য কোথায় নহি আমি কবি। কল্পনাতে পাইযে তোমার অনুভুতির ছোঁয়া , আদর করে শিকেয় রাখি কোমল হাতের মোয়া। সুখে দুঃখে পাশে আছ দেখি নয়ন ভরে, স্পর্শ নেব সাধ্য কোথায় হাজার মাইল দূরে। ভাবনার মাঝে আনাগোনা হয়নি কভু দেখা, কল্পনাতে ছবি এঁকে নামটি দিলাম রেখা। সুখে দুঃখে একে অন্যে কত কথাই বলি, সত্য ন্যায়ের ঝাণ্ডা হাতে একই পথে চলি। আসে যতই ব্যথা বেদন ভাগ করে নেই দুজনে, দূরে থেকেও পাশেই আছি  আছি নিবিড় বন্ধনে।

ভুতের ভয়

শিরোনাম: ভুতের ভয়  সেদিন কালীপুজোর রাত। ঘুটঘুটে অন্ধকার এবং গুঁড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। যাত্রা দেখে বাড়ি ফিরছিলাম। রাত তখন আনুমানিক দুটো। গ্রামের গলি পথে যখন পৌঁছলাম তখন আমি একেবারে একা।  নির্জন গলিপথে কতদূর যাওয়ার পর হঠাৎ দেখি আগে আগে কে জানি খুব ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে। গায়ে কালো জামা, খুব মোটাসোটা। ফিসফিস করে কি যেন বলছে আর মাথা নাড়ছে। ভয়ে ভয়ে আরও একটু এগিয়ে যাই, দেখি বিড়ি ফুঁকছে। সাহস সঞ্চয় করে জিগ্যেস করলাম,' কে?' কোন কথা না বলে লাফ দিয়ে গাছের ডালে উঠে গেল এবং খুব জোরে ডাল ধরে ঝাঁকুনী দিতে লাগল। চেয়ে দেখি খিলখিল করে দাঁত বের করে হাসছে আর চোখ থেকে যেন আগুন ঝরছে। তার কালো লম্বা চুল মাটি পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছে। ভয়ে ভয়ে পেছন দিকে দু কদম সরতেই শুনি পেছনে খাঁ খাঁ শব্দ। পাশের জঙ্গলে কারা যেন কান্নাকাটি করছে। একসঙ্গে চতুর্দিক থেকে হাসিকান্না আর চিৎকার চেঁচামেচিতে গা ছমছম করে উঠলো। বুঝলাম ভুতের আড্ডায় ফেঁসে গেছি। অমনি সম্বিৎ হারিয়ে ফেলি। গত্যন্তর না পেয়ে চোখ বন্ধ করে খুব জোরে দৌড় দিলাম আর চিৎকার করে বললাম আমি ভয় করি না। মুখে যদিও ভয় করি না বললাম কিন্তু ভয়ে আমার প...