পোস্টগুলি

মে, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

প্রকৃতির তাণ্ডবে

বঙ্গোপসাগরের বুকে উঠে ঘুর্ণিঝড় রেমাল, প্রকৃতির তাণ্ডবে তাই জীব বেসামাল। বছর বছর ভিন্ন নামে আসে এই কাল, স্থলে পর্বতে প্রাণীকুল হয় নাজেহাল। ছোট পাখির বাসা ছিল উঁচু এক ডালে, নিরিবিলে ছিল তারা ঝোপের আড়ালে। ছানা দুটি ছিল তাদের বাসা আলো করে, উড়তে শিখবে তারা আর কদিন পরে। হেনকালে এক রাত্রি সুখ নিদ্রা কালে, লণ্ডভণ্ড করে বাসা রেমাল জঞ্জালে। কত আশা ছিল তাদের বাচ্চা দুটো ঘিরে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল পেলোনা আর ফিরে। একে অন্যে সান্ত্বনা দেয় ধৈর্য ধর এবে, প্রকৃতির সাথে লড়াই করে তবেই বাঁচতে হবে। নীড় হারা পাখি কয় উড়ে গেছে বাসা, করিনা করিনা ভয় নতুন বানাবো করে খাসা।

বিশেষ ভাবে সক্ষম

প্রতিবন্ধী বলে সবাই করছ যারে হেলা, খুঁজে দেখ তারই মাঝে জ্ঞান আছে মেলা। মনটা তাদের থাকে দুর্বল নয় কভু সে অক্ষম, প্রতিবন্ধী না বলে তাই বল তারে সক্ষম। অন্ধ আতুর লোলা ল্যাংড়া নয়তো কোন অভিশাপ, মেধার বিকাশ কর এদের কমবে দেশের চাপ। সুপ্ত জ্ঞান খুঁজতে হবে কোনদিকে তার আছে, একটু আদর করে সবাই ডাক তারে কাছে। ভেবো না কেউ প্রতিবন্ধীরা এই সমাজের বোঝ, সফল এরাও হতে পারে নিয়ে দেখ খোঁজ। কভুও ভাই প্রতিবন্ধীর জীবনটা নয় কালো, হেলেন কেলার অন্ধ হয়েও জীবন করলো আলো। কানে না শুনেও ইভলিন গ্লেনি করেনি তো ভয়, শিক্ষকের উৎসাহে সে নাচেগানে করলো বিশ্বজয়। প্রতিবন্ধী ইরা সিংহল মানেনি কভু হার, ইউ পি এস সি তে তাইতো সে হয়েছিল টপার। তাইতো বলি দূর করি সব প্রতিবন্ধীদের ভ্রম , উৎসাহ দিয়ে বলি এদের  বিশেষ ভাবে সক্ষম।

দুখু মিয়া

বাংলা মায়ের শ্যামলা ছেলে কোঁকড়া মাথার চুল, চোখ দুটি যার বিস্ময় ভরা প্রাণের বুলবুল। ছোট বড় সবার প্রিয় চঞ্চল যার হিয়া, দুঃখের সঙ্গে লড়াই করে নামটি দুখু মিয়া। দীনহীন এক বাবা যার ফকির আহমেদ নাম, পরিচয়ে যার সার্থক হলো চুরুলিয়া গ্রাম। আলো করে জাহেদার কোল ফোটেছিল সে ফুল, সে যে মোদের প্রিয় কবি বিদ্রোহী নজরুল। অল্প বয়সে বাবা হারিয়ে জীবন হয় আঁধার, পড়াশোনা ছাড়তে হলো নিয়ে সংসার ভার। উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল বিদ্রোহী করে যাকে, আজীবন সংগ্রাম করে বাঁচতে হলো তাঁকে। বাঁচার তরে এমনি লড়াই কাব্য সাধনা ফাঁকে, সেনা হয়ে দেশের সেবা কে চিনবে তাঁকে? লেখনীতে ছিল অগ্নি স্ফুলিঙ্গ বিদ্রোহী রণ তান, ছড়ায় ছন্দে গেয়েছিলেন তিনি সাম্যের জয়গান। বিশ্ব বাংলায় তাইতো আজও  পরিচিত এক নাম, হে বিদ্রোহী কবি নজরুল  করজোড়ে জানাই প্রণাম।

শহীদ দিবসে

ঘটা করে পালন করছ শহীদ দিবস আজ, ভাষার তরে তোদের কিন্তু নেই সেই তাজ। এ দিবসটি এলেই সবাই দেখাও খুব ভক্তি, বেদী 'পরে মাল্যদান আর ধূপধূনাতেই ইতি। বছরের পর বছর চলে প্রতারণার খেলা, শহীদ দিবসে দেখাও এসে সম্মাননার মেলা। জাতিধর্ম স্বার্থের লড়াই আরো কত হানাহানি, বুক ভেসে যায় বাংলা মায়ের দেখে এ টানাটানি। হায় বাঙালি! ছুটছো তুমি আধুনিকতার পিছে, যেখানে শুধু ইংরাজি চাই, বাংলাটা বুঝি মিছে। বাঙালির ছেলে বাংলা জানেনা ইংরেজিতেই শান, ইংরেজি মাধ্যমে পড়লেই বুঝি বেড়ে যায় তার মান। প্রথম বুলি আওড়াতে শুনি ইংরাজী রাইম্সের ছড়াছড়ি, মাতৃভাষা নাইবা থাক জানি তো ইংরাজী ভারি! সভা সমিতিতে বাংলা বলতে কেন যে লজ্জা পাই, ভাবনাটা যেন স্ট্যাটাস দেখাতে ইংলিশ খুব চাই। নব প্রজন্ম কেমনে চিনবে টেগোর জীবনানন্দ, মায়ের ভাষায় করে যাও হেলা ইংলিশে কি আনন্দ! ঊনিশ এলেই মোদের বাংলা এ যে প্রাণের ভাষা, বাকিটা বছর বাংলা মিডিয়ামে নেই কোন ভরসা। হে মোর বাঙালি,  ঘুম থেকে ওঠো জাগো, ভিক্ষার ঝুলি ফেলে দিয়ে আস নিজ ভাষাতেই মাগো। স্বীকৃতি চাই মাতৃভাষার সরকারি সব কাজে, ভাষা শহীদরা অমর হোক এই আমাদের মাঝে।

মাতৃ দিবস ( লিমেরিক)

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে জন্মদাত্রী মা, ডেকে বলে,' ওরে বাবা ওষুধ দিয়ে যা।' ছেলের মাথায় মাতৃ দিবস, ভাষণ দিয়ে হবে সরস, তাইতো ছেলে মায়ের সেবার সময় পায় না।

মা দিবসের শপথ

বিশ্ব মাঝে সব ভাষাতেই একটি শব্দ মা, ছোট হলেও সে শব্দটির তঙলনা হয় না। সব ভাষাতেই যাকে নিয়ে রোজই হয় লেখা, লক্ষকোটি কবির লেখায় মা'র ই পাই দেখা। বিশ্বজোড়া সকল মায়ের একটাই তো মন, শোকে দুঃখে সন্তান তরে কাঁদে সারাক্ষণ। নেই কোন ভেদ নেই যে প্রভেদ মা' ই প্রথম গুরু, আদর যত্ন আলতো ছোঁয়া যা দিয়ে হয় জীবন শুরু। মা'ই সবার পরশ পাথর বেঁচে থাকার কাঠি, তাঁর কারণেই হয় যে সবার জীবন পরিপাটি। শত আঘাত মাঝেও থাকে খোলা মায়ের মন, বিশ্বজোড়া ঘুরে দেখি মা'ই আপন জন। সন্তান তরে অধির হয়ে রাতকে করে দিন, কভুও জানি শোধ হবে না মায়ের ভালোবাসার ঋণ। নিজের সুখে সেই মায়েরে রেখো না কেউ দূর, সব মা'রাই সুখে থাকুক আসুক নতুন ভোর। মায়ের সেবায় সব দিবস ই কাটুক অনায়াসে, মা' দিবসের শপথ হোক থাকবো মায়ের পাশে।

প্রকৃতির রুষ্ট রূপ

পথ পাশে কুঁড়ে ঘর           বুক কাঁপে থরথর                  আঁধার ঘিরিছে দেখে ওই। নীলাকাশে কাল মেঘ     সাথে তার ঝড়ো বেগ                  ধাইছে শিলা সাথে সেই। দুরুদুরু বুক করে            এই বুঝি বাজ পড়ে                 রোজ কত প্রাণ যায় চলে। কেউ থাকে আনমনে       কেউ ছুটে ঘর পানে                 কেউ কাঁদে হায় বিধি বলে। শিলাবৃষ্টি একাকার       চেয়ে থাকে নির্বিকার                  অসহায় মানবের মন। ফুটো হয় হাট চাল       ভেঙ্গে পড়ে গাছ ডাল                 ভাবনায় যায় সারাক্ষণ। নির্বিকার চেয়ে থাকা     শাকপাত শিলে ঢাকা                 কিবা কোথা আছে ...

শিবরাত্রির সলতে

আমায় তো ভাই কেউ চিনে না নই তো আমি নেতা, কষ্টে সৃষ্টে জীবন কাটাই আমি তো এক আমজনতা। দিনের বেলা কাজের খোঁজে ঘুরি বাড়ি বাড়ি,  বয়স তো আর কম হলো না পেকে গেছে দাড়ি। না খেয়ে থাকি যখন নেয়না খবর কেউ, ছায়া দেখলে পালিয়ে বেড়ায় অতি আপন সেও। দামটা আমার বাড়ে দেখি পাঁচ বছর অন্তে, নেতার কাছে আমি যেন শিবরাত্রির সলতে। ভোট এলেই আমায় নিয়ে কর টানাটানি, ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই লাগাও কতই হানাহানি। ঘরে এসে বুঝাতে চাও আমিই তোমার আপন, দিনদুপুরে দেখাও কত স্বর্গ সুখের স্বপন। কত প্রেম দেখাও তখন হাতে হাত মেলাও, পাঁচটা বছর কোথায় ছিলে ভুলে গেছি তাও! বছর বছর এমনি চলে প্রতারণার খেলা, বৈতরণী পার হলে ফের কর অবহেলা। নেতা হয়ে শূন্যে উড়ো পায়ে ছোঁয়না মাটি, তোদের কাছে দেখি যে ভাই গণতন্ত্র ই খাঁটি। আমজনতার খাবার কেড়ে খাও শেষমেশ, কোটি মানুষ ফুটপাতেতে আজও ঘুমায় বেশ।

ভুল না শুদ্ধ (ছোট গল্প)

সীমান্তে তখনও খুব উত্তেজনা চলছে। দেশী সেনার সাথে বিদেশি সেনাদের গুলিবর্ষণে উভয় পক্ষের কম করেও দশ জন লোক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অনেক। গুলিবিদ্ধ হয়ে কে কোনদিকে পালিয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই। রাত দশটায় সমস্ত অঞ্চল জুড়ে সান্ধ্য আইন জারি করা হয়েছে।    খুব ভোরে উঠে ডাক্তার সুমন রোজকার মত প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছেন এমন সময় রাস্তার পাশে ঝোপের মধ্যে একটা লোকের কাতরানোর শব্দ শুনে একটু এগিয়ে যেতেই বিদেশি সেনার পোশাকে একটা লোক দেখতে পান। লোকটার কোমর ও পা বেয়ে রক্ত গড়াচ্ছে। দেখে বুঝা যায় গুলি বিদ্ধ। লোকটা হেল্প হেল্প বলে কাতরাচ্ছে। ডাক্তার সুমন প্রথমে দেখেও না দেখার ভান করে চলে যাচ্ছিলেন। কিন্তু লোকটা আবার জল, একটু জল বলে কাতরাচ্ছে শুনে ঘুরে দাঁড়ালেন। প্রথমে একটু ইতস্তত করলেন কিন্তু পরমুহূর্তে মানবিকতার কারণে এগিয়ে গেলেন এবং পাশের নালা থেকে এনে জলপান করালেন। লোকটা সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পায়ে জড়িয়ে ধরে,' বাচান, আমাকে বাঁচান বলে কাতরাতে লাগলো।'  ডাক্তার সুমন এবার উভয়সঙ্কটে পড়ে গেলেন। একদিকে দেশের শত্রু অন্য দিকে একজন মুমুর্ষ রোগী। একদিকে তিনি একজন দেশ ভক্ত নাগরিক আর অন্য ...

শ্রমিক দিবস ( ছোট গল্প)

নিতাই আজ একটু সকাল সকাল কাজে বেরিয়ে পড়ল। তার মালিক বিধু বাবু গতকাল বলে দিয়েছেন একটু তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য। আজ নাকি কিছু অতিথি বাড়িতে আসবেন। অনেক কাজ আছে। তাই সে খুব তাড়াতাড়ি পথ চলছিল। শহরের কাছে যেতেই নিতাই থমকে দাঁড়াল। রাস্তার দুধারে লাইন ধরে মিছিল চলছে। মিছিলের আগে আগে মাইকে স্লোগান চলছে, তাই সে মিছিলের পেছনে পেছনে চলছে আর স্লোগান শুনে যাচ্ছে, ' শ্রমিক দিবস পালন কর, পালন কর, পালন কর।। শ্রমিক মালিক ভাই ভাই, মোদের মাঝে বিভেদ নাই, বিভেদ নাই বিভেদ নাই।। শ্রমিকদের সম্মান দিতে হবে - দিতে হবে দিতে হবে।। শ্রমিক মজদুর ----------।।     এতটুকু শুনেই নিতাই পাশ কেটে চলে যাবে এমন সময় দেখল সামনেই পাশে অনেক বড় করে পোস্টার টাঙানো, পাশে একটা স্টেজে অনেক গুলো চেয়ার রাখা আর সামনে মানুষ গুলো গিয়ে বসছে। নিতাইয়ের পড়াশোনা যদিও কম তবু সে পোস্টার গুলো পড়তে পারে। সে চেয়ে দেখল সেখানে বড় বড় অক্ষরে লেখা," আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস"  সে বুঝতে পারল আজ এখানে একটা অনুষ্ঠান হবে। একবার ভাবলো সেখানে গিয়ে বসবে কিন্তু পরক্ষণেই মনে পড়ে গেল , স্যার বলেছেন আজ একটু তাড়াতাড়ি যেতে হবে। সে...