পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মানবতা আজো বেঁচে আছে

 হিফজুর রহমান লস্কর শহরে মেলা আসছে।প্রতি বছরই ফেব্রুয়ারি মাসে মেলা বসে। আর মাস দেড়েক আগে থেকেই মেলার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। বিধু বাবুর আদরের মেয়ে দিয়া। রোজ রাতে খেতে বসে বাবার কাছে বায়না ধরে এবারও মেলা দেখতে যাবে। অফিসে কাজের এত চাপ যে সময় বের করা মুশকিল। অনেক ভেবে চিন্তে বললেন আগামী বুধবার অফিস থেকে এসে তাকে নিয়ে মেলায় যাবেন। কথাটা শুনে দিয়ার আনন্দের শেষ নেই। এখন থেকেই শুধু প্রহর গুনছে আর মেলা থেকে কত কিছু কিনবে তার হিসেব করছে। দেখতে দেখতে এলো সেই দিন। আনন্দে আত্মহারা দিয়া বাবার সঙ্গে শহরে চললো মেলা দেখতে।  প্রথমে অটোতে, তারপর ট্রেনে তিন ঘণ্টার রাস্তা উত্তেজনা আর আনন্দে পাড়ি দিয়ে বাবার সঙ্গে সে মেলার মাঠে পৌঁছল। যা দেখে তা ই যেন কিনতে চায়। কত খেলনা আর কত খাবার। বাবা মাঝে মাঝে রাগ করেন, আবার হাসিমুখে যা চায় তা কিনেও দেন। এবার বেরিয়ে যাবেন। তিনি মেয়েকে আবার জিজ্ঞেস করেন,'আর কি চাই তোমার, কাপড় কিনবে?  দিয়া আনন্দে অধীর। কাপড়ের নামে ও একটু ব্যতিক্রম। বাবা জানেন কাপড় কিনতে গিয়ে সবসময়ই  একের জায়গায় দুই তিনটা কেনা হয়। বিধু বাবু মেয়ের খুশিতে সবসম...

অপেক্ষার সমাপ্তি

 রহমান লস্কর সদ্য কলেজে ভর্তি হয়েছে রীমা। বি ,এ, ফার্স ইয়ারে। মা বাবার আদরের একমাত্র মেয়ে। কোন চাহিদাই কখনো অপূরণ থাকে না। কলেজে নবীনবরণ উৎসবে অংশ গ্রহণ করবে। নতুন একটা শাড়ি পরে বেশ সেজেগুজে সেদিন একটু সকাল সকাল কলেজে উপস্থিত। এমনিতেই রীমা খুব সুন্দর তার উপর লাল পেড়ে সাদা শাড়ি পরে এমন ভাবে সেজেগুজে এসেছে ঠিক যেন এক পরী। অনেক ছেলেই কথা বলতে চায়, একটু ভাব করতে চায়। কিন্তু রীমা যে সে মেয়ে নয়। চালচলন দেখে বুঝা যায় অত্যন্ত রুষ্ট এবং দেমাগী। কেউ এগিয়ে এসেও কথা বলতে সাহস করে না। অনুষ্ঠান আরম্ভ হল। অনুষ্ঠানে রীমা সেদিন যে গানটি গাইল সবাই হতবাক। এ যেন কোন সিদ্ধহস্ত ছায়া ছবির গায়িকা। যেমন কণ্ঠ তেমন গানের ভাব বস্তু। গান শেষে হাত তালি আর চীৎকার থামতেই চায় না। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরবে। ওর সেই ছোট বেলার সাথী শান্তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে চলছিল। হঠাৎ পেছন থেকে একটা শব্দ এল,'এইযে শুনছো। রীমা পেছনে ফিরে তাকাতে ছেলেটি বলল, 'হে রীমা তোমাকেই বলছি আজ যে গানটি তুমি গাইলে দারুন হয়েছে , সবাই মুগ্ধ। আর আমি তো একেবারে কোথাও হারিয়ে গিয়েছিলাম। আচ্ছা তুমি কি গান প্র্যাকটিস কর? হাঁ, তাতে তো...

উত্তরণ

 হিফজুর রহমান লস্কর মরুর বুকে আলোর খুঁজে কাটলো যাহার দিন, তাঁহার কথা স্মরণ করি এসো হে মুমিন। উম্মতি উম্মতি করি কাঁদলো যাহার প্রাণ, তিনি হলেন দয়ার নবী বাদশা দুজাহান। খোদার সেজদা করেন নবী আহার নিদ্রা ভুলে, পাপী উম্মত উদ্ধারিতে কাঁদেন দুই হাত তুলে। খোদার আরশ কেঁপে উঠে কান্দনে তাঁহার, পাহাড় পর্বত পশুপাখি কান্দে জারে জার। পথের দিশা দিলেন খোদা পাইতে উদ্ধার, আল-কোরানের বাণী নবী করিলেন প্রচার। কোরান হাদিস মেনে চল নবীর উম্মত গণ, হাশরে মিজানে তোমার হবে উত্তরণ। নামাজ রোজা কায়েম কর খুলে মনের দ্বার, শান্তির পথে চল মোমিন পাইতে দিদার। দুনিয়াদারি আহাজারি আছ পেরেশান, নবীর দুরুদ পড় মোমিন পাইতে এহসান।

জিব

 হিফজুর রহমান লস্কর হাড় ছাড়া জিব           সতত সজীব            বুঝে দেখো সারাসার। করে যায় কাজ      খুলে দেখো রাজ            নেই কোনো দোষ তার। করিয়া যতন          করিলে কথন             ভগ্ন হৃদয় জুড়ে। না পেলে যতন             ভাঙে তন মন              অনল সমান পুড়ে। টক ঝাল মিঠা        নোনা আর তিতা              দিয়ে যায় যত স্বাদ। হাসায় কাঁদায়               রূপ বদলায়              সহে শত অপবাদ। বন্দুকের গুলি           জিবের যা বুলি              কভুও ফিরে না আহারে! বলি হে মানব গণ         করো নিয়ন্ত্রণ          ...

হয়তো কারণ আছে

হিফজুর রহমান লস্কর কারো কথা শুনে বুঝিবারে চাই কথাটা কেমন খাঁটি। বলবো কথা বুঝে নিয়ে পরে  দেখি না একটু ঘাঁটি। হতেও পারে সত্য সেকথা শুধু সে আমার কাছে, আরো যারা আছে বলেছে মিথ্যা হয়তো কারণ আছে। মাটিকে কঠোর করে যে সূর্য তাহাই বরফ গলায়, বিদ্যুতের ছোঁয়া বরফ বানায় আবার কখনো পুড়ায়। পরিস্থিতি ও অবস্থানটা বুঝে দেখো ভাই আগে, একই কথার ফলটা ভিন্ন ভাবতেও অবাক লাগে। একের জায়গায় সে শুদ্ধ তোমার জায়গায় তুমি, না বুঝে যদি তর্ক করো সেটা তো হবে পাগলামী।