পোস্টগুলি

2025 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বুঝিনি তা আগে

গয়া কাশী বৃন্দাবনে খুঁজলাম কতো ত্যাগে, জীবের মাঝেই তোমার বাস বুঝিনি তা আগে। অবুঝ মনে বুঝতে পাইনি  তোমার স্বরূপ প্রভু, নিজেকেই যে ফাঁকি দিলাম  ভাবিনি তা কভু। সৎ পথেতে চলে যারা  পায় যে তোমার দেখা, আমি অধম বিপথে ছিলাম  হয়তো ভাগ্য লেখা। স্বার্থের তরে অন্ধ হয়ে  কাটলো জীবন ক্ষণ, নিদান কালে চেয়ে দেখি  কেউ নেই আপন জন। আঁধার যখন ঘনিয়ে এলো  সূর্য যাবে পাটে, ক্ষমা চাই গো দয়াল প্রভু  ঐ সে পারের হাটে।

প্রতি হিংসা

এই সমাজের অনেক মানুষ  চায়না কারো ভালো, মুখে যদিও ভালো দেখায়  অন্তরে সে কালো। মন ভরা তার অহঙ্কারে শুধুই স্বার্থ বুঝে, পরের ক্ষতির ধার ধারে না  নিজের স্বার্থ খোঁজে। হিংসা বৃত্তি পর নিন্দা এইতো তাদের কাজ, আপন ঘরের খোঁজ রাখে না  বাবুয়ানি সাজ। পরের ভালো দেখলে যারা  হিংসার বিষে জ্বলে, দেশ সমাজের শত্রু তারা  সকল ধর্ম বলে।  তাইতো বলি হিংসা ভুলে  চলো সাম্যের পথে, তবেই সবাই মনে রাখবে  সার্থক জীবন রথে।

শুধু খাবার তরে

হিমেল পরশ লাগছে গায়ে  কুয়াশা ভেজা প্রাতে, এই আমেজে লাগে ভালো  রবির আলোর সাথে। মাঠে মাঠে নতুন ফসল  কাটছে কৃষক ভাই, নতুন ধানে নবান্ন হবে  খুশির সীমা নাই। শীতের দিনের খেজুর গুড়ের  সন্দেশ সবার চাই, তাহার সাথে পিঠাপুলি  সবাই খেয়ে যাই। নতুন ধানের চুঙ্গা পিঠা  বানায় আগুন জ্বেলে, ক্ষীর ননী পায়েস দিয়ে  খায় যে কর্ম ফেলে। শীত কালের এই খাবার জুটে   সব বাঙালির ঘরে। ঘন ঘন উৎসব করে  শুধু খাবার তরে।

জীবন গাথা

প্রভাত থেকে মসির খেলা  ভাবতে ভাবতে যায় যে বেলা, অঙ্ক কষা, কলম ঘষা  শব্দ চাষে জীর্ণ দশা। নয়টা হলে স্কুলে চলে  পড়ুয়ারা সব দলে দলে, পিঠের বোঝা বেজায় ভারি  চলতে হবে তাড়াতাড়ি। ইংলিশ বুঝা, বিজ্ঞান বুঝা  কোন কিছুই নয়তো সোজা, কষ্ট করে জীবন গড়ে, ক্ষুধায় কাতর তবু পড়ে। পড়ার চাপে মনটা কালো  ছুটি হলেই লাগে ভালো, বাড়ি ফিরে খেলায় মাতে  আবার পড়ে সন্ধ্যা রাতে। অঙ্ক মাথে কাজের সাথে  কাগজ কলম থাকে হাতে, জীবন গাথা বইয়ের পাতা  গুরুজনরা মাথার ছাতা।

দশে মিলে শোধন করি

হারিয়ে গেছে সমাজটা আজ  কেউ তো কারো নয়, বনের পশু সমাজ গড়ে  মানুষে পায় ভয়। মানব সমাজ রসাতলে  বিচার আচার নাই, ধর্ষণ শোষণ এই সমাজে  সদাই শুনতে পাই। চোখের সামনে খুনখারাবি  করছে মানুষ ভাই, কথা বললেই ফেঁসে যাবে  মুখ খুলে না তাই। মনুষ্যত্ব হীন নরপশুদের  চলছে যেনো রাজ, নারীর সম্ভ্রম ধূলোয় মিশে  বলতে লাগে লাজ। সমাজের এই সঙ্কট কালে  সবার একতা চাই, দশে মিলে শোধন করি  তার উপরে নাই।

ডানে বায়ে দেখো

সমাজটাতে কিযে হলো নেই নিরাপদ স্থান , কখন কোথায় কী যে হবে  কে নিবে কার প্রাণ। শহর বন্দর স্কুল কলেজে  একি কালো ছায়া, ওঁৎ পেতে রয় লোলুপ দৃষ্টির  মানুষ রূপি কায়া। সূযোগ পেলেই লোট ধর্ষণ  প্রাণও নিতে পারে, তথ্য প্রমাণ লোপাট করে  আইনও  শেষে হারে। বন্য জন্তু অনেক ভালো  হিংস্র নয় ওরা, মুখোশধারীর খপ্পর থেকে  বাঁচতে হবে ত্বরা। তাইতো বলি চলার সময়  ডানে বায়ে দেখো, বিশ্বাস কাউকে করা যায় না  সেটা মনে রেখো।

চোখে স্বপ্ন সাজায়

ছোট মেয়ে নামটি রিয়া  বাবা নিখোঁজ কোথায় পায়, কাঁদতে কাঁদতে দিবস যায় কেউ পায়নি খোঁজ নিয়া। দুখী মাতা সংসার চালায়  ইটভাটায় কাজে যায়, দেখে বড়ই কষ্ট লাগে  পড়ার খরচ ক্যামনে যোগায়। পড়শী শিশুর পড়া দেখে  মায়ের চোখে অশ্রু ঝরে, আপন মনে সাহস রেখে  জ্বেদ ধরে সে পড়ার তরে। ভাটার কাজে খাবার যোগায় মেয়েকে সে স্কুলে পাঠায়, সদাই চোখে স্বপ্ন সাজায়, প্রকৃতিও পথটি দেখায়। মেয়ে পড়ায় অতি ভালো  দূরে গেলো সকল ভয়, মায়ের মন করলো আলো, রিয়া শেষে ডাক্তার হয়।

তবুও কি

তোমায় দেখে হারিয়ে গেলাম  ওগো রূপ সাগরের রাণী, এমন রূপটি কোথায় পেলে  কেমন তোমার মুখের বাণী। কোথা থেকে এলে তুমি  কোনবা রূপের সাগর চুমি, এমন রূপটি দেখে আমার  হারিয়ে গেলো পায়ের ভুমি। রাতদুপুরে স্বপ্ন দেখি  আছি দুজন পাশাপাশি, ম্লান হবে না কভু জানি  তোমার ওই মুখের হাসি। যদি বলি ভালোবাসি  সেকথা কি অন্যায় হবে? সাহস করে বলছি তোমায়  আজীবন মোর পাশে রবে। মনে আশা পোষণ করি  তুমি আমার গৃহীনি হবে, তবুও কি এমন করে  আমার থেকে দূরে রবে?

খুলবে কি কেউ রাজ

মুখে সদাই ন্যায়ের বুলি  জপমালা হাতে, দিনের বেলা সমাজ সেবা  ভণ্ড আঁধার রাতে। চতুরতায় সিদ্ধহস্ত  পাতে নানান ফাঁদ, দুর্নীতি আর অপকর্মে মিটায় মনের সাধ। নেতার প্রভাব-গায়ের জোরে গোপন থাকে রাজ, আঁধার ঘরে করে চলে  নানান বেঠিক কাজ। প্রাণের ভয়ে সব হারিয়ে  কেউ করে না গোল, সত্য বললে টাকার জোরে  কেড়ে নেয় শেষ বোল। কোটি টাকার আরামবাগে কাটায় নিশি ঘোর, খুলবে কি কেউ এদের মুখোশ  হবে নতুন ভোর।

মুখোশধারী

সুন্দর এই ধরার বুকে  মানুষ চেনা দায়, অর্থটাকে সবাই খোঁজে  সুখী হতে চায়। মুখোশধারী মানুষ যারা  মনে থাকে ছল, স্বার্থের তরে অন্ধ হয়ে  দেখায় বাহুবল। অন্তরেতে বিষের হাঁড়ি  বাইরে রঙীন সাজ, মুখ ঢাকা মুখোশ পরে  করে খারাপ কাজ। সহজ সরল মানুষ যাদের  সততাই থাকে মূল, মুখোশধারীর ছলে পড়ে  হারায় জীবন কুল। মনুষ্যত্ব গুণ না থাকলে  ক্যামনে মানুষ ভাই, ধন সম্পত্তি থাকার পরও   শান্তি পায় না তাই। হিংসা বৃত্তি লোভ লালসা  যাদের মনে রয়, সৃষ্টির সেরা মানব জাতি  এরা ক্যামনে হয়?

জুবিন দা স্মরণে

লুইত কণ্ঠ স্মরি         অগুনিত প্রেম ভরি            ফিরে এসো হে জুবিন গার্গ। নিঃস্বের সঙ্গী তুমি       সার্থক আসাম ভুমি              তুমি দেখায়েছ সঠিক মার্গ। জাতি ধর্ম নাহি চাই        মানবতা যদি পাই                  নেই যেথা বিভেদের সুর। করনি সুখের আশা    দিয়েছিলে ভালোবাসা                  হৃদয়ে তে আছো ভরপুর।  ভাবনায় অধীর হয়ে      ঘুরে ছিলে লোকালয়ে                  দেখেছিলে প্রকৃতির রূপ। বিষাক্ত বায়ুর ঝড়ে       তোমা কাছে ধরা পড়ে                     মানবের নগ্ন স্বরূপ। জীবনে হৃদয় খুলে          তাই তুমি গেয়েছিলে                      সাম...

কভুও না হারে

জীবনটা এক নদীর স্রোত  উজান ভাটির খেলা, সামনে পিছে ছুটতে ছুটতে  চলে যায় যে বেলা। ভাঙ্গা গড়ায় পূর্ণ জীবন  নয়তো সিধে সাদা, যতই তুমি সহজ করো আসবে শতেক বাধা। সময় এবং স্রোতের সাথে  চলতে পারে যারা, জীবনের সব কঠিন লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে তারা। নিষ্কর্মা আর অলস যারা  ঘুর্ণাবর্তে ঘোরে, সফলতা পায়না তারা  সুখটা থাকে দূরে। ঘুর্ণি পাকের আঁধারেও যে  লড়ে বারে বারে, সফল জীবন পায় সে ভবে  কভুও না হারে।

এসো সবাই চারা লাগাই

হরেক রকম গাছগাছালি  সবুজ ধরার বুকে, সবুজ সতেজ রাখতে পারলে  বাঁচব সবাই সুখে। তাপ চাপ তীব্র খরায়  দূষিত হয় বায়ু, প্রকৃতির এই দূষণ হেতু  কমছে সবার আয়ু। গাছ থেকে প্রাণবায়ু পাই  বেঁচে থাকার তরে, গাছই মোদের খাদ্য যোগায়  সারা জীবন ধরে। ফুল ফলাদি জ্বালানি পাই  পাই যে শীতল ছায়া, এসো সবাই চারা লাগাই  গাছকে করি মায়া। সবুজ শ্যামল গাছগাছালি  বাড়ায় চোখের জ্যোতি, একটা কাটলে তিনটা লাগাই  হবেনা ভাই ক্ষতি।

রসের হাঁড়ি ফোকলা দাদু

রসের হাঁড়ি ফোকলা দাদু  মনে রোমান্স বেশ, ছড়ায় ছন্দে কাব্য লিখেন  পাকা মাথার কেশ। দাদুর লেখা পড়ে সবার  হৃদয় নেচে উঠে, তাইনা দেখে দিদা আমার  মরে মাথা কুটে। একদিন দিদা ফেইসবুকেতে  ফ্রেণ্ড রিকুয়েস্ট দেয়, সুন্দর ছবি দেখে দাদু  একসেপ্ট করে নেয়। শুরু করে প্রেমের চ্যাটিং  শিউলি রূপী দিদা, এমন ফাঁদ পাতলো সে যে  করবে দাদু সিধা। চ্যাটিং শেষে ফোকলা দাদু  দেখা করতে চায়, স্থান কাল লিখে দিদা  ঝাড়ু হাতে যায়।

শান্তির তরে

মানব তোমায় সেরা রূপে  সৃষ্টি করলেন প্রভু, শ্রেষ্ঠ হয়েও সৃষ্টিকর্তা  চিনলে না তো কভু। ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে  নিজের স্বার্থ দেখো, সৃষ্টির সেবাই স্রষ্টার সেবা  সেটা মনে রেখো। জ্ঞান বুদ্ধিতে শ্রেষ্ঠ হয়েও  বিপথে কেন চলো, অজ্ঞ জনে পথটি দেখাও অন্ধজনে আলো। ত্যাগী হয়ে জীবন গড়ো ধর্ম কর্ম মানো, সকল ধর্মের সার এক সত্য পথটি জানো। সৃষ্টিকর্তার বিধান মানো চলো তার ই পথে, দু জাহানে শান্তি পাবে  নিজের জীবন রথে।

স্যারের ভুল

গণিতের স্যার ক্লাসে এসে  নিলেন অঙ্ক পরীক্ষা, যা কিছু পড়ালেন তাহাই প্রশ্ন  দিয়েছেন ভালো শিক্ষা। পল্টু পেয়েছে একশতে দশ ভাবছে অনেক কম, কোনো নম্বর পায়নি বল্টু  পেয়েছে জিরো একদম।   বল্টু স্যারকে প্রশ্ন করে  " উত্তর করেছি ফুল, তবুও কেনো জিরো পেলাম কোথায় হয়েছে ভুল? " স্যার বললেন,' মার্ক্স পাওনি  করেছো তুমি ভুল,  কোথাও না কোথাও সব অঙ্কের  হয়ে আছে গণ্ডগোল।"  "স্যার আমার অঙ্কে ভালো  আমি তারই ছাত্র, খাতায় যা লিখিয়েছেন  তা দেখে লেখেছি মাত্র। " দেখে লিখেছ বলেই তো  অঙ্ক হয়েছে ভুল, কিছুটা আমি সংক্ষেপে লিখেছি  তা করোনি ফুল। বল্টু বলল,' তা বটে তা বটে স্যার  আমি তো ছাত্র গাধা, ফুল না করাতে ভুল তো আপনার  কেন দিলেন না আধা।' পরীক্ষায় তো খাতা দেখে লিখেছি  ছাড়িনি এক চুল, বোঝানোর সময় সংক্ষেপে বোঝালে  সেটা তো স্যারের ভুল।'

দীক্ষা

রাক্ষুসে এক রাজা ছিল নামটি গঙ্গারাম, মুরগী মাটন রোজই খেতো শোভা থেকে শাম। যতই পেতো ততই খেতো অপূর্ব এক ভুঁড়ি, একদিন সে মুরগী খেলো পুরো এক কুড়ি। ওয়েটার এসে বলল হেসে, 'আর কিছু কি চাই?' হেসে হেসে বলল গঙ্গা,' মাটন কি আজ নাই?' অমনি সেথায় এসে গেল আলু মাটন কারি, এতো সব খেয়ে গঙ্গার পেটটা হলো ভারী। ভরা পেটে আরও খেলো ফলফলাদি কেটে, অধিক ভোজন করার ফলে পেটটি গেলো ফেটে। কেউবা হাসছে কেউবা কাঁদছে কেউবা ডাকছে বৈদ্য, আজব কান্ড দেখে আবার কেউবা লিখছে পদ্য। মরে গেলো গঙ্গারাম দিয়ে গেলো শিক্ষা , অধিক ভোজন করোনা কেউ এটাই হলো দীক্ষা।

যমের দুয়ারে কাঁটা

সকাল থেকে চলছে ঘরে  হাসিখুশির গান, বোনের সাথে মিলবে ভাই খুশিতে ভরে প্রাণ। সাজিয়ে থালা ধান দূর্বায়  মিষ্টি আনে কিনে, কথাটা ছিল আসবে দাদা  ভাইফোঁটার দিনে। দেশ রক্ষায় সীমান্তে দাদা  আসবে কিনা পাছে, অপেক্ষাতে প্রহর গুনে সে পথটি চেয়ে আছে। ঠিক তখনই বাজলো ফোন  চেয়ে দেখলো দাদা, বললো,' বোন ক্যামনে আসি  সীমান্তে শত্রু গাদা।' ক্রন্দন রোলে ফোনেই বলে  ' আজ যে ভাইফোঁটা, শত্রুর তরে দিলাম এবে  যমের দুয়ারে কাঁটা।' বোনের বর যায়নি বৃথা  নিধন করে অরি, আসলো ফিরে ভাইটি তার  বোনের কথা স্মরি। ভাইফোঁটার পবিত্র দিন আসুক ঘুরে ফিরে, সব ভাইবোন সুখে থাক ভব নদীর তীরে।

চা দোকানের বুদ্ধিজীবী

চায়ের পেয়ালায় তুফান উঠে  রোজই সন্ধ্যাবেলা, চা দোকানের বুদ্ধিজীবী  বসায় রঙের মেলা। নিজের খেয়ে পরের কেচ্ছা  এইতো তাদের পেশা, সকল লোকের খবর রাখে  এ যেন এক নেশা। অন্যের সুখ সহ্য হয় না  হিংসায় জ্বলে পুড়ে, অকর্মন্য জীবন তাদের  এরা ভীষণ কুঁড়ে। পরচর্চা পর নিন্দায় কাটায় দিবস রাতি, নিজের ঘরটা আঁধার রেখে  জ্বালায় সেথায় বাতি। কথায় কথায় তর্ক করে  হার কভু না মানে, পরের কেচ্ছায় পকেট খালি  চায়ের চুমুক টানে।

আসল গুগল

স্কুল যাচ্ছে নাতি নাতনি কুয়াশা ভেজা প্রাতে, দাদু যাচ্ছে সঙ্গে তাদের লাঠি নিয়ে হাতে। প্রাতঃভ্রমণ করতে করতে গল্প বলেন দাদু ,  চরিত্র আর নীতি শিক্ষার এ যেন এক জাদু। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত দাদু বসেন পথের ধারে, কপালে তাঁর চিন্তার ভাঁজ দোষটা দিবেন কারে? আজকালকার ছেলেমেয়েরা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত, হ্যালো গুগল হাই গুগল এনিয়েই সব সন্ত্রস্ত । পড়ার নামে মোবাইল ঘাঁটা এ যেন এক নেশা, দুর্নীতি তাই বাড়ছে দেশে বাড়ছে বাজে পেশা। আসল শিক্ষা নীতি শিক্ষা মোবাইলে কি পেল? দিবানিশি গুগল ঘেঁটে বলো কি লাভ  হলো? ভাবতে ভাবতে বলেন দাদু গোল্লায় গেল দেশ, নীতি কথা আর গল্প কথায় মানুষ বানায় বেশ। বুঝলে তারা শিখবে অনেক দাদুর সাথে হেঁটে, পাবেনা কেউ এমন শিক্ষা দিনরাত গুগল ঘেঁটে। গল্পের মাঝেই নীতি শিক্ষা গুণীজন যা খুঁজে,  দাদুরাই তো আসল গুগল সেটা ক'জন বুঝে।

একটা অবলা জীবের জন্য

সে অনেক আগের কথা। রণজয় বাবু একবার তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে শহরে মেলা দেখতে গিয়েছিলেন। ছেলেমেয়েদের বায়না পূরন করতে করতে আর এটা সেটা কেনাকাটা করতে করতে রাত অনেক হয়ে গিয়েছিল। মেলা শেষ করে যখন তারা বেরিয়ে আসছিলেন, রাত তখন প্রায় এগারোটা।  কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তার উপর একটা কুকুরের বাচ্চা তারা দেখতে পান। হলুদ- সাদা রঙের ডোরাকাটা,বাচ্চাটি রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে এইমাত্র কোন একটা গাড়ি হয়তো এটাকে পার্শ্ব চাপা দিয়ে চলে গেছে। রণজয় বাবুরা চলে যাচ্ছিলেন কিন্তু হঠাৎ বাচ্চাটা একটু বড়ো করে চিৎকার করায় দিয়ার কেমন যেন দয়া হলো। দিয়া মানে রণজয় বাবুর মেয়ে। বয়স চার কিংবা পাঁচ বছর হবে। সে হঠাৎ সেখানে দাঁড়িয়ে পডলো, বাবাকে বললো,' বাবা, দেখো দেখো, কেমন সুন্দর ডোরাকাটা বাঘের বাচ্চা ঠিক যেন আমার বইয়ের ছবির মতো। কী সুন্দর বাচ্চা, আহারে! বেচারা।' লাইটপোস্টের আলোতে বাচ্চাটিকে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছিল। রণজয় বাবু একটু নাড়াচাড়া করে দেখে বললেন,' মনে হচ্ছে, গাড়ি ধাক্কা মেরে ওর কোমর টা ভেঙ্গে দিয়েছে।' এই বলে তিনি দিয়াকে বললেন,' এটা একটা কুকুরের বাচ্চা, চ...

যাদের ভয়ে

এমন মানুষ এই সমাজে  সদাই বসত করে, একটু সুযোগ পেলেই যারা  পরের কেচ্ছা ধরে। নিজেকে সে জ্ঞানীভাবে  যেন সবই জানে, পরের কাজে নাকটি গলায় থাকে পরের ধ্যানে। পরের সুখ সহ্য হয়না  হিংসার আগুন জ্বলে, বিষিয়ে দেয় অন্যের কান মিথ্যা মন্দ বলে। পরের দোষ খুঁজে বেড়ায় নিজের দোষটা ঢেকে, চায়ের পেয়ালায় তুফান উঠায় নিজের কাজ রেখে। এদের বুকে সদাই থাকে হিংসা নিন্দার ঢেউ , যাদের ভয়ে ভীত মানুষ ভালো নেই কেউ।

মনের মানুষ

আপন করে ভাবছো যারে  সেতো আপন নয়, আপনজনের কাছেই থাকে  যত ক্ষতির ভয়। মনের যত গোপন কথা  আপনজনই জানে, সুযোগ বুঝে তাইতো ওরা  মারতে পারে প্রাণে। ভাবছো যারে মনের মানুষ  থাকবে শোকে দুঃখে, সরলতার সুযোগ নিয়ে  তীর মারবে বুকে। বহিঃ শত্রু সে তো ভালো  সামনে আঘাত করে, বীরের মতো লড়ার সুযোগ  থাকে নিজের 'পরে। আপনজনা স্বার্থের তরে  পেছন থেকে মারে, শক্তি সাহস যতোই থাক তবুও মানুষ হারে।

আমার সোনার গাঁয়

গাঁয়ের হাঁটেতে সবুজ মাঠেতে  নির্মল হাওয়া তায়, রূপে অপরূপ শস্য শ্যামল আমার সোনার গাঁয়। বাঁকা পথ পাশে ছোট নদী বহে  পাশে আছে কত গাছ, শাখায় শাখায় পাখি গেয়ে যায়  কভু বা দেখায় নাচ। দেখবি বন্ধু আঁকাবাঁকা পথে  ফল ফুল সারি সারি, গাঁয়ের বধূরা নদী ঘাটে যায় পরে থাকে ছাপা শাড়ি। যেদিকে তাকাই মাঠ ভরা ধান  ফলে আছে রাশিরাশি, ফলায়ে ফসল কৃষকের দল সদা রাখে মুখে হাসি। শহুরে মানুষ মুঠোফোনে দেখে  অপূর্ব সে দৃশ্য সবি, এসো না বন্ধু আমাদের গাঁয়ে  তুলে নিবে সেই ছবি।

রাখির সোনার দামে

হারিয়ে যাচ্ছে বাংলা ভাষাটা  সকলে বলতে শুনি, শহীদ দিবসে ঘটা করে সবে  কতো না কাব্য বুনি। সারাটা বছর হেলায় খেলায় মিশ্র ভাষাই চলে, বাংলাকে ছেড়ে ইংরাজি খুঁজি  ওজন বাড়াব বলে। ধার করে এনে অপরের ভাষা  নিজেকে জাহির করি, মায়ের ভাষার করি অপমান  সারাটা জীবন ধরি। বাঙালি হয়ে শিশুকে পড়াতে  ইংরাজি ভাষা খুঁজি, মাতৃভাষায় পড়াটা সহজ  সেকথা ক' জনে বুঝি। কেন এ অনিহা বাংলার প্রতি  অন্য ভাষার নামে, এসো সকলে এ ভাষার নাম  রখিব সোনার দামে।

জাদুকরী কণ্ঠের জন্য

চির নিদ্রায় চলে গেলে তুমি  হে সঙ্গীত সম্রাট জুবিন দা, কণ্ঠে তোমার ধ্বনিত মানবতার সুর  মোরা কেমনে ভুলিব তা। বহু ভাষায় সফল সঙ্গীতজ্ঞ  অসমের গৌরব জুবিন দা  একাধারে বাংলা হিন্দি অসমীয়া   মোরা কেমনে ভুলিব তা। আকাশে বাতাসে মর্মর ধ্বনি  কণ্ঠটা কী অপূর্ব, " সুখে থেকো ভালো থেকো  দূর থেকে চাইবো।" সঙ্গীতের জাদুকর জুবিন দা  সত্যিই তুমি অনন্য, ভারতবাসী ভুলবে না কভু  জাদুকরী কণ্ঠের জন্য। হে সঙ্গীত গুরু! অমর তুমি  সার্থক জনম এ ধরায়, ভগ্ন হৃদয়ে লাখো জনতার ভীড়ে  জানাই অন্তিম বিদায়। লাখো ভক্তের ভালোবাসার টানে  আবার ফিরে আসবে, " তোমার জন্য মনের দোয়ার  খোলা যে রইবে।"

বর্ষণ শেষে

বৃষ্টি ভেজা দিনে তুমি অবিহনে  ঘুম ঘুম লাগে চোখে, অনুভবে পাই আঁখি খুলে নাই  বিষাদের ছায়া মুখে। মেঘের আড়ালে সূর্য ঢাকিলে  কাঁদে না কখনো রবি, শয়নে স্বপনে কিবা জাগরণে  দেখি যে তোমার ছবি। বর্ষণ শেষে ক্লান্ত আবেশে  আসিবেই তুমি পাশে , ভাবনায় থাকি কল্পনায় আঁকি  কাহাকে বলিনা ত্রাসে। যত লাজ ভয় করে যাই জয় কভুও করিনা হেলা, আসিবেই তুমি ছিঁড়ে সব ভুমি  আশা আছে শেষ বেলা। ভগ্ন হৃদয়ে বলি বারে বারে  দিয়েছি তোমারে ঠাঁই, বুঝনা তা ভুল নেই কোন তুল অচিরেই যেন পাই।

সুখের পরশ

পূর্বাকাশে রবির আলো  ঝিলমিলিয়ে হাসে, শিশির ছোঁয়ায় দুর্বা ঘাস  রূপ সাগরে ভাসে। ফুল কুড়াতে ছেলে মেয়ে  যায় সারি সারি, হিমেল পরশ পেয়ে তারা  খুশি হয় ভারি। শুভ্র শরৎ শিশির কণা  শিউলি ফুলের গায়ে, বধুরা যায় জল আনতে  রাঙা নূপুর পায়ে। নদীর কূলে কাশের বনে  বাহারি রঙ ফোঁটে, প্রেম পিপাসু মৌমাছিরা দলে দলে ছোটে। ভোরের আলো লাগে ভালো  হাওয়ায় ফুলের ঘ্রাণ, শরতের ওই মৃদু ছোঁয়ায়  ভরে উঠে প্রাণ। মন ভুলানো প্রকৃতির এই  প্রেমের দৃশ্য দেখে, কবির মনে সুখের পরশ  তাইতো কাব্য লিখে।

তবু হাসি মুখে

হারায়ে সজনী     কাটে না রজনী          কার সাথে কথা কই, পূর্ণিমার রাতে     তারাদের সাথে           একাকার হয়ে রই। নিঝুম এ রাতে     চাঁদের আলোতে            বসে ভাবি এই বেলা, হৃদয়ের মাঝে       কত ঢেউ জাগে            দেখে তারাদের খেলা। শূণ্য আজি বুক     কোথায় সে সুখ            কোথায় সে স্বপ্ন আশা, জোনাকিরা উড়ে    আলো ঝরে পড়ে              বলিবারে নেই ভাষা। ফুল তো ফুটিছে         ভ্রমর ছুটিছে               বাতাসে সুবাস আছে, হৃদয়ের মাঝে    আজো বীণা বাজে                বুঝিবারে কেবা আছে! রাতের আকাশে       তারাদের ভীড়ে                  যদিও উঠে না...

শিক্ষক

মানুষ গড়ার কারিগর কে, চেনো কি ভাই তারে? আসল শিক্ষায় শিক্ষিত জন কভু ভুলতে নারে। সহজ সরল জীবন যাহার নেই বাহারি সাজ, এই জীবনে করেন তিনি মানুষ গড়ার কাজ। আপন কাজে ব্যস্ত থাকেন যান না যথা তথা, বলছি আমি করজোড়ে শিক্ষা গুরুর কথা। পুষ্প যেমন পরের তরে ছড়িয়ে দেয় ঘ্রাণ, শিক্ষক তেমনি উজাড় করে জ্ঞান করেন দান। শিক্ষক হলেন পিতৃতুল্য এই পৃথিবীর বুকে, আজীবন সঙ্গী তিনি ছাত্রের সুখে দুখে। সূর্যের আলো যেমন করে আঁধার করে দূর, শিক্ষা গুরু সদাই তেমন ছড়ায় জ্ঞানের নূর। জাতি ধর্মের হিসেব নিকেশ তাহার কাছে নাই, সাম্যবাদ আর সহিষ্ণুতা গুরুর কাছে পাই। গুরুর কাছে ছাত্র ছাত্রী পবিত্র এক ফুল, সত্য ন্যায়ের পথ দেখাতে শুধরিয়ে দেন ভুল। "শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড শিক্ষক জাতির প্রাণ," সফল ছাত্রের মাঝেই তারা বেঁচে থাকতে চান। শিক্ষা গুরুর দানের কথা ভুলা সম্ভব নয়, যাঁদের মন্ত্রে দীক্ষা নিয়ে জীবন সফল হয়।

মুক্তির তরে

দুদিনের এই রং মহলে  করছি কত খেলা, মোহ মায়ায় ব্যস্ত থেকে  চলে যায় যে বেলা। ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে  ভুলে আপন জন, বাড়ি গাড়ি করছি সবাই  করে জীবন পণ। স্বার্থের তরে অন্ধ সবাই  বন্ধ বিবেক দ্বার, আমার আমার করেই চলি বুঝি না তো সার। দুদিনের এই রং মহলে  থাকবে না তো কেহ, আগে পিছে সবাই যাবো পড়ে থাকবে গেহ। প্রতিহিংসা ভুলে এসো  মানবসেবা করি, পরকালের মুক্তির তরে  প্রভুর নামটা স্মরি।

প্রশ্ন

আকাশে বাতাসে হিংসার ঢেউ  কলুষিত সারা বিশ্ব, সততা ও ন্যায় দাবানলে জ্বলে  মানবতা আজ নিঃস্ব। শোষণ তোষণ নিপীড়ন চলে  সততার নেই দাম, জ্ঞানীগুণীর নেই যে কদর  টাকা থাকলেই নাম। কাহার সম্পদ কেড়ে খায় কেবা কাহারে পাঠায় জেল, অর্থের বলে বলীয়ান ভাঙ্গে  গরীবের মাথায় বেল। সভ্য সমাজের ধর্ষিতা নারী সুবিচার পায় কি কভু?  পথে ঘাটে ঘুরে অভুক্ত শিশু  প্রতিকার নেই তবু।  দুর্বল 'পরে সবলের আঘাত  চলছেই বারে বারে, কবে শেষ হবে কে দিবে উত্তর  প্রশ্ন করি কারে? পৃথিবীর বুকে এ আঁধার কালো  ঘুচিবে কি কভু ভাই? উদিবে আবার নতুন সূর্য  প্রশ্নটা রেখে যাই।

ফুটপাত তুমি কার

বাড়ছে মানুষ বাড়ছে আবাদী  জঞ্জালও বাড়ছে সাথে  শহরের বুকে পাকা পথ জুড়ে  যানজট দিনেরাতে। সদাই সংশয় গাড়ি চাপা ভয়  হয় যদি সঙ্ঘাত, পথিক বাঁচাতে যানজট ছাড়াতে  গড়ে উঠে ফুটপাত। দু'পাশে ফুটপাত তাতেও উৎপাত দোকান হকার তাতে, কাপড়-ব্যাগের সাজায় পসরা  আরো কতো কি সাথে। ভিখারির ভীড় টোকাইয়ের নীড়  কারো দিনে কারো রাতে, কে দেখিবে হাল আছে বেহাল  সব কিছু ফুটপাতে। আছে ঠেলাঠেলি আছে ঠুকাঠুকি তোমার বুকের 'পরে, কত অসহায় ফুটপাত তুমি  সারাটি জীবন ধরে। পথিক আহারে হাঁটিতে না পারে  বলে, ' ফুটপাত তুমি কার '? কেমনে সহিবে এ যানজট তুমি  নিয়েছ যে মহাভার। ঘুচে না আকাল পথিক নাকাল  কে করবে প্রতিকার? প্রশাসন নিরোত্তর কে দিবে উত্তর  "ফুটপাত তুমি কার?"

খোকার প্রশ্ন

নিজের ছেলে মাকে শুধায় ডেকে, তুমি আমায় আনলে কোথা থেকে। কোন গাছেতে ছিলাম আমি ঝুলে, কেমন করে নিলে আমায় তুলে। আমায় নিয়ে কত স্বপ্ন মনে, ভালো মন্দ ভাবো ক্ষণে ক্ষণে। কতকিছু খাই যে আমি রোজ, উপোস থেকে করাও আমায় ভোজ। খেলতে গেলে ইচ্ছে করে হারো, জানি আমি তুমি জিততে পারো। বলো না মা কেন এমন করো, নিজে ডুবে আমায় তুলে ধরো। মা হেঁসে কয় বুঝে খোকার মন, তুই যে আমার বুকের মানিক ধন। স্বপ্ন ঘিরে মনের কোণে ছিলে, স্রষ্টা তোকে কোলে পাঠিয়ে দিলে। তোকে পেয়ে খুশি আমার হিয়া, আগলে রাখি তাইতো সকল দিয়া। মায়ের ইচ্ছে পূরণ করবি খোকা, অন্যের মতো দিস না কভু ধোঁকা।

চলে আপন বেগে

মিষ্টি কথা সবাই বলে  সে তো স্বার্থের তরে, শেষ হলে ঐ ফুলের মধু  মাছি কি আর ধরে? এই পৃথিবীর পান্থশালায় আপন চেনা দায়, সময়ে দেখায় বদলে যাওয়া  আপনজনের রায়। এমন অনেক মানুষ আছে  হারাম হালাল খায়, চলতে ফিরতে লোকের কাছে  পরনিন্দা গায়। অন্যের সাফল্য দেখলে আবার  হিংসায় মন ভরে, নিজের জীবন বিফল থাকে  পরের কেচ্ছা ধরে। পরের ঘরে আগুন দিলে   পুড়বে নিজে পাছে, বিজ্ঞান বলে সকল কর্মের  বিপরীত ক্রিয়া আছে। তাইতো বলি পরের তরে  গর্ত খুঁড়োনা কভু, অচিরেই তাতে পড়বে নিজে বদলা নিবেন প্রভু। জলের স্রোত আর ঘড়ির কাঁটা  চলে আপন বেগে, আলোর ধারা হয়না হারা  কভু কালো মেঘে।

বাংলার ছবি

ঊষার আলোয় রজনীর শেষে  নেই কলরব তাতে, স্তব্ধ আকাশ নির্মল বায়ু  এমন নিঝুম প্রাতে। কিরণ ছড়ায়ে পূবাকাশে উঠে  সোনালী আলোর ঢল, নীল নীলিমার রঙিন আভায়  ছোটে চলে পাখি দল। কাক ডাকা ভোরে আলো ফুটে উঠে  দূরে কোথা মাঝি ডাকে, গুণগুণ স্বরে উড়ে যায় অলী ফুল ফোটে জুঁই শাখে। কলসি কাঁখেতে জল ভরে নিতে  যায় সে রূপসী বালা, প্রকৃতির সাজে ধরনীর মাঝে  নয়নেরে দেয় দোলা। পাশে সরোবরে কমলেরা দোলে  পূবাকাশে উঠে রবি, রূপে অপরূপ প্রভাত আলোয়  দেখি বাঙলার ছবি।

মশার কাণ্ড

সন্ধ্যা বেলা বন্ধ ঘরে ফোকলা দাদু ঘুমে, মশা এসে প্যানপ্যানিয়ে দাদুর গালে চুমে। স্বপ্নে বিভোর দাদু তখন শুনছে হিন্দি গান, এই সুযোগে ডেঙ্গু মশা দিচ্ছে রক্তে টান। ইতিমধ্যে শত মশা বসছে দাদুর টাকে, গানের আসর জমছে ভাল প্যানপ্যানানি ডাকে। চারিদিকে ঘুরছে মশা হয়ে তাহার ভক্ত, ঘুমের মধ্যে হাসছে দাদু খাচ্ছে মশা রক্ত। এমন সময় নাতি এসে দেখে মশার কাণ্ড, দাদুর গালে লাঠি মেরে করে লণ্ডভণ্ড। আঘাত পেয়ে উঠলো দাদু তেলেবেগুনে জ্বলে, স্বপ্ন তাহার হারিয়ে গেল ঘুম ভাঙানির ফলে। হুড়মুড়িয়ে উঠে দাদু ঝরছে মাথায় রক্ত, আঘাতটা যে কেমন ছিল বিনি ভাষায় উক্ত। চিৎকার শুনে দিদা এসে ধরলো নাতির কানে,  এই সুযোগে মশা গুলো পালিয়ে বাঁচে প্রাণে।

ভাবনা

সাগরের তীরে   জলরাশি ভিড়ে  বসে আছি একা তায়। কুলু কুলু ধ্বনি   জল মাঝে শুনি  ঢেউ আসে ঢেউ যায়। বসে আনমনে   গোধূলি লগনে  শুনি ঢেউয়ের বাণী। কঠোর এ ভবে   যেতে হবে সবে  বোঝেনা তো পথ খানি। রাখি না তো মনে   জীবনের ক্ষনে কতো ফুল ঝরে যায়। যাঁরা ছিল আগে   নাই পুরোভাগে   কোন স্মৃতি তার হায়! স্বার্থান্বেষী জন   থাকে না কখন  স্মৃতির বাঁধনে বাঁধা। যা আছে সবার    ধন সম্ভার  সব ধূলো আর কাদা। মোহময়ী ধরা অতি মনোহরা  যেতে নাহি চায় কেহ, আয়ু শেষ হলে যেতে হবে চলে  পড়িয়া থাকিবে গেহ। ভেবে আঁখি জল  করে ছল ছল  প্রভুর করুনা চাই। যতদিন আছি   ভালবাসা যাচি জীবে প্রেম করে যাই।

টোকাই

সাত সকালে সদাই যারা  পথে পথে ঘুরে, তাদের কাছে স্বাধীনতা  আজ ও অনেক দূরে। ছেঁড়া গেঞ্জি কাঁধে বস্তা  প্লাস্টিক বোতল হাতে, মন আনন্দে গান গেয়ে যায়  কাক কুকুরের সাথে। টোকাই বলে অবহেলে  কেউ দেয়না ঠাঁই, এই দুনিয়ায় যেন ওদের  আপন কেহ নাই। পেটের দায়ে ডাস্টবিনেতে  হানা দেয় সে রোজ, উচ্ছিষ্ট আর নোংরা খাবার  কুড়িয়ে করে ভোজ। কুড়িয়ে বোতল বিক্রি করে এইতো জীবন বাঁধা, মায়ের তরে খাবার কিনে  সদাই সিধে সাদা। দুঃখ কষ্টের জীবন এদের  লড়াই করে বাঁচে, এমন দিন কি আসবে কভু কেউ ডাকবে কাছে?

কর্মই জীবন

জীবন মানেই যুদ্ধ ক্ষেত্র  লড়ে যেতে হবে ভাই, কখনো হারবো কখনো জিতবো হারজিত কোন ছাই। হেরে যাওয়াতে হয়না কখনো  জীবনের সব শেষ, এগিয়ে চলাই জীবন যুদ্ধ  কিছু থেকে যায় রেষ। হেরে গেলে তবু ভেঙে পড়ি কেন  চেষ্টাটা করি শত, জয় পরাজয় আছে নিশ্চয়  আলো আঁধারের মত। কর্মই জীবন করি সারাক্ষণ  স্থিতিতে মৃত্যু আসে, নদী গতিপথ হারায় যখন  শ্যাওলা তাহাতে ভাসে। নিরাশ আঁধারে চাই বুঝি বারে  টিকবো অবনী 'পরে, ভয়ে ভীত যারা হয়ে দিশেহারা  মরার আগেই মরে। ঝড়ঝঞ্ঝায় লড়ি পাঞ্জায় যাবনা কখনো থেমে, তবেই সেদিন আসিবে সুদিন  সাফল্য আসবে নেমে।

কান নিয়েছে চিলে

কাজ করছে ফোকলা দাদু  বাঁশ বাগানের নিচে, হুঁকো হাতে নাতি এসে  ঘুরছে পিছে পিছে। হঠাৎ দাদু বলে উঠেন  'দা' টা মোর কই?' দা কোথায় দা কোথায়  পড়লো হইচই। কে নিলো কোথায় নিলো  খুঁজছে সবাই মিলে, হাসতে হাসতে দিদা বলে  কান নিয়েছে চিলে। খুঁজছে হেথা খুঁজছে হোথা  খুঁজছে বাড়ি জুড়ে, হাতে দাদু দা'টা রেখে  মরছে জ্বলে পুড়ে। দিদা বলে 'কি যে হলো  মরি আমি লাজে, সদাই তুমি এমন করো  হরেক রকম কাজে।' লজ্জা পেয়ে দাদু বলে  'সব বেটারেই চিনি, হাতে মোর দা'টা আছে  সেতো আমি জানি।'

স্তব্ধ বুলি

আকাশে বাতাসে হিংসার ঢেউ কলুষিত সারা বিশ্ব, সততা ও ন্যায় দাবানলে জ্বলে  মানবতা আজ নিঃস্ব। সুযোগ সন্ধানী অপেক্ষায় থাকে  স্বার্থ সিদ্ধির তরে, লাগায় দ্বন্দ্ব মানুষে মানুষে  নিজে সুখে থাকে ঘরে। বিবেক হারায় ক্ষমতা বাড়ায়  অসহায়ে মারে তীর, দিয়ে নানা টোপ বদলায় রূপ  নিজেকে ভাবে সে বীর। ফুটিতে না ফুল অকালেই ঝরে  বেদনা বিভোর কথা, অসহায় নারী শোষিত পীড়িত  মরে যায় যথা তথা। হায়রে মানুষ বাহিরে মুখোশ  যেন সে ফুলের কলি, প্রতিবাদী হলে অবিচার চলে  তাইতো স্তব্ধ বুলি।

শিশু

সব শিশুই ফুলের মতো  নিষ্পাপ তার প্রাণ, উচিত মতো শিক্ষা পেলে  বাড়বে দেশের মান। সুশিক্ষা আর যত্ন দিয়ে  গড়ো জীবন তার, জীবন যুদ্ধে জয়ী হবে  হবে নাকো হার। শিশুর কাছে নেই ভেদাভেদ  আপন কিংবা পর, বড়ো হয়ে বদলে কেন  এটা কেমন তর। চরিত্র পাঠ আর নীতি শিক্ষা  নেই যে এখন পাঠে, তাইতো শিশু হোঁচট খায়  জীবন গড়ার মাঠে। ওদের মনে চাষ করা চাই  ভালো মন্দ জ্ঞান, বিপথগামী হয় না যেন  রাখতে হবে ধ্যান। মূল্যবোধ আর দেশপ্রেমের  শিক্ষা দেবো বেশ, এই শিশুটি বড়ো হয়ে  শাসন করবে দেশ।

স্মৃতি হয়ে ভাসে

নীল আকাশে আঁধার রাতে  চাঁদের আলো হাসে, মাগো আমার কাজলা দিদি  স্মৃতি হয়ে ভাসে।  কত শোলক বলতো দিদি  মোদের নিয়ে কাছে, হাসি কান্নায় রাত জাগাটা  আজও মনে আছে। সেদিন মোরা ঝগড়া করি  পুতুল বিয়ে নিয়ে, তাই কি দিদি রাগ করেছে  আসছে না যে ফিরে! সকাল বিকাল খেলার ছলে  পাঠ শিখাতো মোরে, দিদি ছাড়া মন বসে না  ক্যামনে থাকি ঘরে। বলোনা মা দিদি কোথায়  খেলবো তাহার সাথে, খেতে বসলে তাহার ছবি  ভাসে আমার পাতে।

অঙ্গীকার

বাড়ছে মানুষ বাড়ছে আবাদী বাড়ছে না তো মাটি, বিশ্বজুড়ে বাঁচার লড়াই  কথাটা ভাই খাঁটি। খাবার চাই বাসস্থান চাই  চাওয়ার নেই অন্ত, অভাব পূরণে ব্যর্থ মানুষ  হচ্ছে দিকভ্রান্ত। বাড়ছে মানুষ বাড়ছে সমস্যা  সমাধান তার কই, প্রকৃতি ভার বইতে পারে না  অবাক হয়ে রই। অজ্ঞতা আর কুসংস্কারে হয়না জন্ম নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্যতায় ধুঁকছে বিশ্ব  সচেতন হই জনগণ। বাড়ছে মানুষ বাড়ছে আবাদী  খাদ্যদ্রব্যের পড়ছে টান, জমির লড়াই করতে গিয়ে  ভাই ভাইয়ের নিচ্ছে প্রাণ। শিক্ষা দীক্ষায় এগিয়ে গেলে  হতে পারে এর প্রতিকার, ছোট পরিবার সুখের আঁধার  এটাই হোক অঙ্গীকার। আকাশের বুকে হাজার তারা  মিটি মিটি আলো দেয়, চন্দ্রের আলোকে ম্লান হয় সব বিশ্ব আলোকময়। দশটির চেয়ে একটি ভালো  মিছে কেন করো ভয়, পৃথিবীর বুকে দাগ রেখে যাবে  যদি সে মানুষ হয়।

প্রায়শ্চিত্ত

বনের রাজা সিংহ মশাই হিংসাই তার মনে, সকল পশুর মাংস খায় তাইতো থাকে বনে। ক্ষুধা লাগলে যখন তখন পশুর পিছে হাঁকে, প্রাণের ভয়ে পশুরা সব মামা বলেই ডাকে। উৎপাতে তার অতিষ্ঠ সব তাইতো যুক্তি করে, সুযোগ পেলেই জব্দ করবে টানবে কেশর ধরে। উপেক্ষা আর উৎপীড়নে দিনের পর দিন যায়, সকল চেষ্টাই ব্যর্থ সবার সুযোগ নাহি পায়। মিটিং মিছিল সবই হলো লাভ হলো না আর, সিংহের গলায় ঘন্টা বাঁধে এমন সাধ্য কার? শেয়াল পণ্ডিত ধূর্ত অতি মানে না তো হার, ' দেখে নেবো সিংহ টাকে' এই প্রতিজ্ঞা তার। একদিন যবে গর্ত মুখে ঘুমিয়ে ছিল মামা, ধূর্ত শেয়াল জ্বালিয়ে দিল আগুনের এক টেমা। হুঙ্কার দিয়ে উঠলো মামা হারালো তার বল, খুশি হয়ে সবাই বলে এতো পাপের ফল। জ্বলেপুড়ে মরলো মামা বাঁচলো সকল প্রাণী, শেয়াল পণ্ডিত সেদিন থেকে হয়ে গেল দামী। মরার আগে সিংহ মশাই বললো এক রাজ, 'কাউকে বেশি হেলা করো না পড়বে মাথায় বাজ।' মানুষ তাকে পণ্ডিত বলে কেউবা বলে ধূর্ত, আসলেই সে চালাক অতি সচরাচর মুর্ত।

এসো সচেতন হই

সমাজের যত নোংরামি কাজ  নেশাই তো তার মূল , নেশার ঘোরেই করে যে ছেলেরা  ভুলের পরেও ভুল। অবশেষে তারা অকালেই ঝরে  পায়না মানব প্রীতি, ঘেন্নাই করে সকল মানুষে বাজে হয় তার স্মৃতি। খোলা বাজারে মাদক দ্রব্য  আজ সমাজের বুকে, তাইতো আজিকে যুবসমাজ  চরম ক্ষতির মুখে। বিক্রেতার যে নেই অপরাধ  সেবনকারীর দোষ, আইন করে তাহা বন্ধ করি  তাহাতে যে নেই হুঁস। তাইতো বলি নিজের দায়িত্ব  নিজেরাই করো স্থির, মাদক দ্রব্যের বিরোধীতা করে  উঁচু করো নিজ শির। মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে  এসো সচেতন হই, নিজেও ছোঁবনা ছোঁতে দেবো না  সুস্থ সবল রই।

অপয়া ( ছোট গল্প)

স্বামী দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর জাহেদা চার বছরের মেয়ে সানিয়াকে নিয়ে একেবারে ভেঙ্গে পড়েছিল। সারা পৃথিবী তার কাছে অন্ধকার মনে হচ্ছিল। স্বামীর বাড়িতে আদৌ সে থাকতে পারবে কিনা তা সে বুঝে উঠতে পারছিল না। কারণ এমনিতেই ননদ ও দুই দেওর কথায় কথায় তার সাথে ঝগড়া করতো। মেয়ের জন্মের পর থেকে শাশুড়িও তাকে সুনজরে দেখতেন না।  স্বামীর ক্রিয়া কর্ম যেদিন শেষ হয় সেদিন রাতে বাবা তার শ্বশুরের সঙ্গে কথা বলতে বলতে একেবারে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তখন শ্বশুর তাকে স্বান্তনা দিয়ে বলেছিলেন,' বেহাই সাব, ধৈর্য ধরুন, কাঁদবেন না। কে ভেবেছিল ছোট্ট একটা দূর্ঘটনায় ছেলে এভাবে অকালে চলে যাবে। আপনি কোন চিন্তা করবেন না। আল্লাহর দেওয়া সব কিছুই আমার আছে। আপনার মেয়ে আর নাতনির কখনো কোন সমস্যা হবে না। এদের দায়িত্ব এখন আমার উপর।  বাবা সাজেদুর প্রথমে চেয়েছিলেন মেয়েকে কয়েকদিনের জন্য বাড়িতে নিয়ে যাবেন কিন্তু বেয়াই সাহেব বললেন আপাতত সে এখানেই থাক, কয়েকদিন পর দেখা যাবে। সাজেদাও সে মুহূর্তে যেতে ঢায়নি।     স্বামী না থাকলে কি হলো বাড়ির শ্বশুর শাশুড়ি, দেবর ননদরা এখন তার প্রতি খুব ভালো ব্যবহার...

যোগব্যায়াম

বিশ্ব জুড়ে যোগের হাওয়া  যোগাসনে রোগ নিরাময়, শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে  নেই যে আর কোন ভয়। সুখের ছায়ায় বসত করে  বিষণ্ণতায় ভরে মন, ভেবে দেখো এই জীবনে  শরীরটাই তো আসল ধন। রোগ নিরাময় রূপ লাবণ্যে সময় মত ব্যায়াম চাই, প্রাতঃভ্রমণ আর প্রাণায়ামে সুস্থ সবল জীবন পাই। ভোরের হাওয়ায় প্রাতঃভ্রমণে  নির্মল বায়ু লাগে গায়, অসুস্থতা আসার আগেই  রক্ষা পাওয়ার স্মার্ট উপায়। ভ্রমণ শেষে যোগ ব্যায়াম  সকল চিন্তা করে দূর, অল্পক্ষণের এই যে কাজে স্মৃতির বিকাশ ভরপুর। দেহের সাথে মনের যোগ  তারই নাম যোগাসন, নিয়মিত যোগ ব্যায়াম  সতেজ রাখে সারাক্ষণ। তাইতো বলি আসুন সবাই  ঔষধ ছেড়ে করি ব্যায়াম, সব রোগেরই মহৌষধ  যোগাসন ও প্রাণায়াম।

এমন বাদল দিনে

আষাঢ়ের নীলাকাশ কালো মেঘে ঢাকা, ঝর ঝর ঝরে জল যেন কালি মাখা। ফোটা ফুল অলি বিনে  ঝরে যাবে বুঝি আজিরে, নিঝুম নিস্তব্ধ দেখো চাহিরে। এমন বাদল দিনে। বাদলের ধারা ভরে নদী নালা  জলে থইথই কাদা মাখা পথশালা। দাঁড়াবার ঠাঁই যেন নাহিরে। বলাকারা নীড়ে যায় ফিরে, ধবলীরা চলে গোহালে, এমন বাদল দিনে। কড়কড় ডাক বিজুলি চমক কানে তালা প্রাণে ভয়, নহে স্প্রীয়মান চাষারা আজিকে। সর্বত্র আঁধার দেখ চাহি রে। আজ কেহ নেই যে ঘরের বাহিরে। এমন বাদল দিনে। ভিজিয়ে গোমড় কৃষকের দল  যোগাবে খাবার ফলাবে ফসল।  চোখ বুজে আছে তারাই কেবল  আর কোথা কেহ নাহি রে। ঘিরিছে আঁধার দেখো চাহি রে। এমন বাদল দিনে।

অতীত

অতীতটা বেশ মজার ব্যাপার থাকে সবার মনে, কভু ফিরে দুঃখ নিয়ে কভু আবার সুখের সনে। সঠিক পথে চলতে কভু ছিল অমানিশা, কখনো বা অতীতে পাই বর্তমানের দিশা। সফল হওয়ার শিক্ষা দেয় বিফলতার জ্ঞান, অতীত তাইতো দেখিয়ে দেয় ভবিষ্যতের ধ্যান। সে সময়টা সামনে এসে ঝরায় চোখের জল, কভু আবার শান্তি সুধায় বক্ষে যোগায় বল। অতীত মানে সোনালী দিন ভেবে আকুল প্রাণ, চোখের সামনে ভেসে ওঠা দুঃখ সুখের গান। অতীত খুঁজে মিলে কভু লজ্জাবতীর ভিড়, কভুও বা অতীত ভেবে উন্নত হয় শির। জীবন মানেই ভাঙ্গা গড়া কভু হার কভু জিত, অতীত মাঝে তাইতো মিলে শুধরে চলার ভিত। অতীত রেখে আঁধার ঘরে সামনে খুঁজি বর্তমান, তার ভাবনায় এগিয়ে চলি ভবিষ্যতের সব সোপান।

মহান শিক্ষা

নতুন সাজে সাজবে মুমিন  ঈদুল আজহার প্রাতে, নবীর নীতি পালন করি  মিলবে সবার সাথে। আমির গরীব নেই ভেদাভেদ  ইসলামেরী শান, একই স্রষ্টার সৃষ্টি সবাই  একই সবার প্রাণ। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দাও  অনাথ আতুর দেখে, মানব সেবাই স্রষ্টার সেবা  সেটা মনে রেখে। কামনা বাসনা ক্রোধ হিংসা  লোভ আর অহংকার, ছয় রিপুতে ধ্বংস মানব  ধ্বংস সারা সার। রিপু ত্যাগের মহান শিক্ষা  ঈদুল আজহার মাঝে, মনের পশু জবাই করি  অন্য পশুর সাজে। অহঙ্কার আর দ্বন্দ্ব হিংসা  বিনাশ করে ভাই, মনের হিংসা বলি দাও তার উপরে নাই।

সময়

সফলতা চাও কাজ করে যাও  সময়ের মূল্য দাও। স্থির করো কাজ পরে নাও সাজ এখনই তা করে যাও। আজ নয় কাল খুঁজে দিন ভাল তারিখটা যারা করে, তারা পড়ে থাকে ব্যর্থতার ফাঁকে  আফসোস করে পরে। অপেক্ষায় ফাঁকি খুলে দেখ আঁখি  বিবর্ণ নিথর সে আশয়, বসে মরীচিকা কভুও পায়না দেখা  সাফল্যের পূণ্য জলাশয়।  সংকল্প দৃঢ় হতে হবে রূঢ় নেই হারাবার ভয়, অপেক্ষার নদী বহে নিরবধি  শেষ কভু নাহি হয়। কেন কর দেরি ছাড়ো ছলচাতুরি  এখনই গুড়িয়ে চলো। ঝেড়ে ফেল ভয় খুঁজে পাবে জয়  আঁধারে জ্বলবে আলো। নিজ অনুরাগে শুরু কর আগে  খুলে যাবে সব দ্বার। সিক্ত করে মন কর এই ক্ষণ কভুও হবে না হার।

সুগার

মরণ ব্যাধি সুগার রোগী  এখন ঘরে ঘরে, করলে আহার একটু বুঝে  মরবে দুদিন পরে। অবসর আর অধিক ভোজন  রোগটা ডেকে আনে, দেহের কোষে চর্বি জমে  লিভারে আঘাত হানে। ইনসুলিনের মাত্রা যখন   অধিক যায় বেড়ে, সর্ব অঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে  জীবনটা নেয় কেড়ে। শরীর ব্যথা পায়ে ব্যথা  হৃদরোগও হতে পারে, রোগী যদি সতর্ক হয়  রোগটা তখন হারে। তাইতো বলি সকাল বিকেল  শ্রম টা একটু কর, কোরমা পোলাও মিষ্টি ছেড়ে  শাক-সবজিতে ধর। হাঁটাহাটি ব্যায়াম চর্চা  সময়মতো চাই, রুটিন মাফিক স্বল্প ভোজন  তাহার উপর নাই।

প্রকৃতি বাঁচাতে

কোথায় হারালো আজি সোনালি সে দিন, মেঠো পথ কাদা জল তবুও রঙিন। সারি সারি গাছপালা সারি সারি ঘর, সবুজ ধানের ক্ষেত ছিল মনোহর। গ্রামে গঞ্জে ছিল যেথা ছাউনির বাসা, একান্নে বসতি ছিল কাঁচা ঘর খাঁসা। পড়াশোনা কম ছিল ছিল সরলতা, জাতিধর্ম নির্বিশেষে ছিল যে একতা। বাড়িছে মানুষ দেশে ক্ষিপ্র তার গতি, শিক্ষা দীক্ষা বিজ্ঞানেতে সমহারে মতি। নিষ্ঠুর মানব দেখ জ্ঞানের বাহার, গাছপালা কেটে সব করিছে উজাড়। বাঁচার নির্মল বায়ু যেথা থেকে পায়, সে সবের গুণাগুণ কেন ভুলে যায়? সবুজ ধরার বুক কালো ধোঁয়া ময়, ইটভাটা কারখানা মাটি কোথা রয়? ডোবা জল খালবিল দেখা নাহি যায়, পাহাড়ের মাটি কেটে বসতি বানায়। সর্বত্র প্রাসাদ গড়ি ভাবে সুখী প্রাণ, ফসলের জমি নেই কোথা হবে ধান। খাবার পাবে না নর আসছে সে দিন, আবাদি বন্ধ করি দেখিতে সুদিন। নিঃশ্বাস কেমনে নেবে বিষাক্ত যে বায়ু, প্রকৃতি দূষণ ফলে কমছে যে আয়ু। প্রকৃতি বাঁচাতে তাই করি সবে পণ, গাছপালা রোপে যাই বাঁচাতে দূষণ।

রবি নজরুল স্মরণে

বাংলা ভাষায় বিশ্ব সাহিত্যে রবি-নজরুল সেরা, তাইতো আজিকে দুই কবিকে স্মরণ করছি মোরা। বিশ্ব বাংলায় অমর যাহারা আপন মহিমা মাঝে, রবি-নজরুল বিরাজে সাহিত্যে অভিনব এক সাজে। গল্প উপন্যাস নাট্য ও কাব্য সঙ্গীত পারাপার, নিজ সত্ত্বায় প্রকাশে কবিরা বাংলার সারা সার। দেশমাতৃকার মুক্তির তরে দুজনই সংগ্রামী বীর, তাদের লেখনীর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বৃটিশেরে মারে তীর। পলাইয়া বাঁচে বৃটিশ শাসক ভারত স্বাধীন দিয়ে, গর্বিত দেশ গর্বিত জাতি রবি -নজরুল নিয়ে। একতার মন্ত্র সাম্যের বাণী লেখনীতে পায় ঠাঁই, পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী নেতা কবিদেরে খুঁজে পাই। দেশ বন্দনা সাম্য রচনা হৃদয় বীণায় বাজে, তাঁদের সে সুর আজো অমর বাঙালির হৃদয়ে রাজে। দুটি দেশের জাতীয় সংগীত দুই কবিকেই সাজে, রবি গুরুদেব বিদ্রোহী নজরুল এই আমাদের মাঝে। আজিকার এ দিনে প্রণতি মোদের দুই কবির নামে, অমর কবিরা বাংলা যতদিন থাকিবে এ ধরা ধামে। রবি-নজরুল স্মরণ মাঝে জানায় প্রণাম সবে, নৃত্য গীতে কাব্য পাঠে মাল্য দানও রবে।

কথা বললেই বেরা

অন্যায় আর অবিচারে সমাজটাই যে ঘেরা                কথা বললেই বেরা। কেউ দেখেনা কেউ শুনে না সবার প্রাণে ভয়               চোখ বুজে তাই রয়। কথা বললেই শত্রু বাড়ে বাড়ে অনেক জ্বালা                  তাইতো সবাই কালা। দুর্নীতি আর দুর্ভাবনা এ যেন এক রাজ                  দেখছি কত সাজ। সত্যি কথা বললেই ওরা তেলেবেগুনে জ্বলে,               কতো কথাই বলে। তাই বলে কি ওদের ভয়ে হয়ে যাবো মূক,                বন্ধ রাখবো চোখ? সত্যি কথা বলেই যাবো বাড়ে বাড়ুক দুখ,                ফুলিয়ে চলবো বুক। নীরব হয়ে আর কত কাল সইবো এদের জ্বালা,                 কানে দিয়ে তালা। অন্যায়টা সহ্য করা সেও তো এক পাপ,                   বাড়বে মনের চাপ। সত্যি কথা ...

মাতৃভাষার জন্য

বর্ষিয়ান সাহিত্যিক রণধীর বাবু তাঁর নাতনিকে নিয়ে যখন তখন যেখানে সেখানে সভা সমিতিতে গিয়ে হাজির হন। বরাক উপত্যকার বাঙালি কোন সভাসমিতি বা সাহিত্য আড্ডায় রণধীর বাবু থাকবেন না এমন কোন কথা হতে পারে না। বয়স ৯৬ এর উপর। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা এখনো তাঁর মনে আছে। বাঙালির ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী রণবীর বাবু। নিজ চোখে অতি পাশে থেকে তিনি ভাষা শহীদদের দেখেছেন যা কখনো ভুলতে পারেন না।     আগামী কাল ঊনিশে মে। ভাষা শহীদদের স্মরণে এক বিরাট সভার আয়োজন করা হয়েছে। রণধীর বাবু প্রধান অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখবেন। রাতে ঘুমানোর আগে তিনি নাতনি তানিয়াকে সকাল সকাল প্রস্তুত থাকতে বললেন। তানিয়াই এই বুড়ো বয়সে তাঁর অন্ধের যষ্ঠি। যেখানেই যান তানিয়াকে সঙ্গে নিয়ে যান। সেও অনেক বড় হয়েছে। এবার পঞ্চম শ্রেণীতে প্রমোশন পেয়েছে। প্রতি বছরই সে দাদুর সাথে ভাষা শহীদদের বেদিতে ফুল চড়াতে ও মোমবাতি জ্বালাতে যায়।    আজ দাদু যখন তাকে প্রস্তুত হতে বললেন তখন হঠাৎ তার মনে একটা ভাবনার উদয় হলো। সে উৎসুক হয়ে দাদুকে জিজ্ঞেস করল ,' দাদু, মাতৃভাষা শহীদ দিবস বছরে ক' বার ...

ভূত ও পেত্নী

টিকি মাথায় ভুতের রাজা নাকি সুরে কাঁদে, পেত্নী নাকি পালিয়ে গেছে পড়ে প্রেমের ফাঁদে। রাতদুপুরে কান্না শুনে মন্ত্রীরা সব আসে, ভুত রাজার কান্না দেখে সবাই মিলে হাসে। হাসি দেখে রাজা মশাই রেগে গিয়ে কয়,  জ্বালিয়ে দেবো সব বেটারে নেই কি তোদের ভয়? ভুতের রাজার হুমকি পেয়ে পালিয়ে সবাই বাঁচে, এক বেচারা এগিয়ে এসে বলল রাজার কাছে। দেখে এলাম পেত্নী রাণী নাচছে শ্যাওড়া তলে, কাতুম কুতুম শিংওয়ালাকে বিয়ে করবে বলে। বিয়ের আসর জমছে সেথায় হাজার ভুতের ভীড়, ভাবছি আমি ভাঙলো কি আজ তোমার সুখের নীড়। কথা শুনে ভুতের রাজা সেই ভুতেরে কয়, পেত্নী আমার কোথায় গেল আমারো সেই ভয়। হেনকালে পেত্নী এসে খিলখিলিয়ে হাসে, শত্রু তোমার নিয়ে এলাম প্রেমের জালে ফাঁসে। চির শত্রু কাতুম কুতুম মানব কুলে ঘোরে, ভণ্ড পীরের ভক্ত হয়ে ভুতের বিচার করে। ধরে তারে বন্দী করে মেটাও মনের সাধ, ভুতেরা সব মুক্তি পাবে খুলবে পীরের বাঁধ । ভুতের রাজা খুব ই খুশি নিজ পেত্নীর কাজে, অসাধ্যকে সাধন করে পেত্নী নানান সাজে।

পোকা ও ধোঁকা

পূব আকাশে ঝড় উঠেছে উড়িয়ে দেবে চাল, হায়হুতাশে প্রাণীরা সব কি যে হবে হাল। পাখির বাসা হাওয়ায় দোলে মরছে দারুন ত্রাসে, পিঁপড়ে ফড়িং সবার বাসা নদীর জলে ভাসে। ঝড়ের সাথে মেঘের খেলা ভয়ে কাহিল প্রাণ, এপার ওপার জলে ডুবা কে করবে ত্রাণ। উইপোকা আর মাকড়সাতে জলে সাঁতার কাটে, নৌকা বানায় ফড়িং বাবু জলে ডুবা মাঠে। গুনগুনিয়ে মশা ডাকে উঠো সবাই নায়ে। মাছি আর আরশোলাতে ছোটে দ্রুত পায়ে। মৌমাছি আর প্রজাতি হাওয়ার উপর ভাসে, শুয়ো পোকা গাছের ডালে মুচকি মুচকি হাসে। নৌকার উপর উঠে সবাই থিপস তুলে পাল, পিঁপড়ে মাঝি বৈঠা টানে ফড়িং ধরে হাল। মশার ডাকে নৌকায় উঠে বাঁচলো হাজার পোকা  জাতির পাতি শুয়ো পোকা খেলো দারুন ধোঁকা।

পশু

ভাবি বসে দিনান্তে        জীবনের শেষ প্রান্তে                কেন বৃথা মানব জীবন। হিংস্র পশু সেও ভালো    অন্তরে যে নেই কালো               আছে তার সুন্দর ভুবন। কাহারো করে না ক্ষতি     নিজ কাজে সদা মতি            জীবনেতে নেই পাপাচার। ধর্ম কর্ম নেই তাই       সহিষ্ণুতা প্রশ্ন নাই             নাই কোন নিন্দা অত্যাচার। পশুরা অনেক শান্ত        ধারণাটা নয় ভ্রান্ত              হিংসা যে নেই কভূ মনে। ইচ্ছা করে চলে যাই       সেথা যদি ঠাঁই পাই               থাকি যেন তাহাদের সনে। জানি তারা ভালো আছে   ভালোবাসা নাহি যাচে               নিজেতে নিজেই তারা সুখী। করে না পরের আশা       চায়না তো ভালোবাসা    ...

খোকার পণ

স্কুলেতে যাচ্ছে খোকা  হয়ে পরিপাটি, পড়াশোনা করবে সে যে  মানুষ হবে খাঁটি। সহজ সরল হাসি খুশি  থাকবে সারাক্ষণ, খেলাধুলা পড়াশোনা  এইতো স্কুল জীবন। চরিত্র পাঠ আর নীতি শিক্ষায় শিক্ষা দিবেন গুরু, আদর্শ আর মানবতায়  হবে জীবন শুরু। মনের কলুষ ঘুচবে সেথা  শিক্ষার আলো পেয়ে, সব ভেদাভেদ ভুলে যাবে  দেশের গান গেয়ে। গুরুজন আর বড়দেরে  শ্রদ্ধা সম্মান দেবে, ছোটদেরে ভালোবেসে  ভালোবাসা নেবে। ফুলের মতো গড়বে জীবন  এই করেছে পণ, নম্র ভদ্র দেখে সবার  জুড়িয়ে যাবে মন।

ফেরিওয়ালা

সাতসকালে প্রাতঃভ্রমন সেরে ফেরার পথে রাস্তার পাশে অনেক লোক জমায়েত দেখে কৌতূহলী হয়ে একটু এগিয়ে গেলাম। পাশে গিয়ে দেখলাম একটা ফেরিওয়ালা কে কয়েকটা ছেলে মারধর করছে আর পাশে ওর জিনিস পত্র তছনছ করে দিয়েছে। ভীড়ের মধ্যে একটু সাহস করে এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, ও নাকি ছেলে ধরা। একটা ছয় সাত বছরের মেয়েকে নাকি একটা পুতুল দিয়ে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে ওরা ধরে ফেলে আর এজন্যই এই জটলা আর মারপিট। ব্যাপারটা বুঝার জন্য আরো একটু জিজ্ঞেস করতেই এক মহিলা এগিয়ে এসে বলল তার মেয়েকে নাকি এই পুতুলটা দিয়ে মন ভুলিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছিল অমনি মহিলা সেখানে উপস্থিত হয়ে চিৎকার করাতে লোকজন উপস্থিত হয়ে মেয়েটাকে রক্ষা করে। মেয়েটি তখনও হাতে পুতুল নিয়ে খুশিতে খেলছিল। ব্যাপারটা আমার কাছে অন্যরকম লাগলো। ওদের একটু শান্ত হওয়ার কথা বলে ফেরিওয়ালাকে জিজ্ঞেস করলাম ওর বাড়ি কোথায় এবং আসল ব্যাপারটা কি। তখন ফেরিওয়ালা ভয়ে কাচুমাচু হয়ে আমাকে তার পরিচয় পত্র দেখাল। দেখলাম লোকটার নাম সরল। ওর বাড়ি কলকাতার বারাসাতে। আমি জিজ্ঞেস করাতে সে বলল,"  দু-তিন জন মেয়েলোক আমাকে থামিয়ে কিছু জিনিস পত্র কিনেছে।...

কয়টি হাঁস বেঁচে আছে

ছয়টি হাঁস সাঁতার কাটে  শ্যাওলার ফাঁকে ফাঁকে, একটি হঠাৎ হারিয়ে গেল  জলাশয়ের বাঁকে। বাকি হাঁস এদিক সেদিক  খাবার খোঁজে ঘুরে,  একটি হঠাৎ হারিয়ে গেল  কুমির নিল ধরে। বাকিরা সব মনের দুঃখে  উঠলো পথের পাশে, শেয়াল পণ্ডিত একটি খেলো ঘুমের অবকাশে। ভয়ে তখন হাঁসগুলো সব ছুটাছুটি করে, সুযোগ বুঝে বাজপাখিটা  নিল একটি ধরে। মনের দুঃখে হাঁস ডাকে  প্যাক প্যাক স্বরে, কয়টি হাঁস বেঁচে আছে  বলো হিসেব করে।

ইসলামী সংগীত (৩)

নীল আকাশে চাঁদ উঠেছে এলো খুশির ঈদ  হাসিখুশিতে মিলবো সবাই ইসলামের তাগিদ।।২ আমির গরীব নেই ভেদাভেদ আলকোরানের বাণী, সবাই মিলে পালন করি সেই সে পথ খানি।। খোদার আদেশ পালন করে করব খুশির ঈদ, হাসিখুশিতে ভরিয়ে দেব ইসলামী তাগিদ।। এলো খুশির ঈদ। হাসি খুশিতে ---------------------------------------।। এলো খুশির ঈদ।। নামাজ রোজা এবাদতে মাস হলো গুজরান, জাকাত ফিতরা আদায় করে হবো পূণ্যবান। গরীব দুঃখী সবার ঘরে জ্বালবো আশার আলো, মন থেকে মোরা মুছে ফেলবো যত আঁধার কালো। সাম্য শান্তি আত্মতুষ্টি ইসলামেরি রীত, একের ডাকে সবাই ছুটি নামাজে মসজিদ।। এলো খুশির ঈদ। হাসি খুশিতে মিলবো -------------------------------।। এলো খুশির ঈদ।। নতুন কাপড় শেরোয়ানি পরে সবাই মিলে, সব ভেদাভেদ ভুলে মোরা মিলবো খোলা দিলে  গরীব দুঃখী দুস্ত দুশমন হাত মিলাই হাতে, ঈদের নামাজ পড়বো সবাই সেই সে ঈদগাতে, গলাগলি কুলা কুলি করি সবারে-----  বিশ্ব শান্তির আরজ করি খোদার দরবারে ।। এলো খুশির ঈদ -- হাসি খুশিতে মিলবো ---------------------।। এলো খুশির ঈদ।।

ইসলামী সংগীত (২)

মোমিন তুমি ক্যামনে ঘুমাও সিয়াম সাধনার রাতে, ফেরেশতারা ঘুরছে দেখো নেকী নিয়ে হাতে।।২ বছর ঘুরে আসলো আবার সিয়ামের এই মাস, হেলা করে ডেকো না ভাই নিজের সর্বনাশ। সময় থাকতে সাবধান হও ভুল করোনা যাতে। নেকী নিয়ে হাতে। মোমিন তুমি ক্যামনে --------------------------------।। পাপে তাপে ভরা তোমার জীবন নদীর খাতা, জিকির করে বদলে দাও ঐ আমল নামার পাতা।  দুহাত তুলে একটু কাঁদো নত করে মাথে, খোদা চাইলে রহম করবেন বখশিশ দিবেন সাথে। নেকী নিয়ে হাতে। মোমিন তুমি -----------------------------------------------।। কোরআন পড় তাহাজ্জুদ পড় শবেকদর খুঁজো, স্বল্প আয়ূ আছে তোমার জীবনটাকে বুঝো।। রহমতের ফেরেশতা ঘোরে দেখতে ইবাদতে, পাপ দরিয়ায় ঢালতে রহম কদরের ঐ রাতে।। নেকী নিয়ে হাতে। মোমিন তুমি ক্যামনে ঘুমাও ------------------------।।

খুশির ঈদ

আর একটা দিন রোজার শেষে  উঠবে খুশির চাঁদ, পরবে সবাই নতুন পোশাক  ভাঙবে খুশির বাঁধ। খোদার আদেশ পালন করে  করব খুশির ঈদ, জাকাত ফিতরা আদায় করবো ইসলামী তাগিদ। গরীব দুঃখী সবার ঘরে   জ্বালবো খুশির আলো, মন থেকে মোরা মুছে ফেলবো  যত আঁধার কালো। সাম্য শান্তি আত্মতুষ্টি  ইসলামেরি শান, সব ভেদাভেদ ভুলে মোরা  গাইব খুশির গান। গরীব দুঃখী দুস্ত দুশমন  হাত মিলাই হাতে, ঈদের নামাজ পড়বো সবাই  সেই সে ঈদগাতে। গলাগলি কুলা কুলি  করবো সবাই মিলে, বিশ্ব শান্তির দোওয়া করবো  থাকবো খোলা দিলে।

কবির কলমে

কাব্যের পাতায় বিদ্রোহী হয়ে  শব্দেরা করে কোলাহল, সকল ভাষায় সকল কবিরা উতলা করে ধরণী তল। হত্যায় খচিত ধরণীর ধূলি  কাঁদে যেথা বারবার, কবির কলমে অসহায় ছবি  ভেসে ওঠে সারা সার। লাঞ্ছিত নারী বঞ্চিত শিশু  ছারখার দাবানলে, কবির লেখনী অশান্ত হয়ে  তাদের কথাই বলে। কবিরা সতত কল্পনার মাঝে  সত্য সুন্দর খুঁজে চলে, ব্যথিতের ব্যথা পারে না সহিতে  লিখে যায় প্রতিপলে। কবির লেখনী সবার হৃদয়ে  ফিসফিস করে ভাসে, তাইতো সকলে ভাবনার মাঝে   বেঁচে থাকে অনায়াসে।  কবি ও কবিতা বেঁচে থাক ভবে এইটুকু মনে আশা, বিশ্ব কবিতা দিবসে সকলে জানাই  বুকভরা ভালোবাসা।

কদরের রাত

জাগো হে মুসলিম জাগো  জাগো এই রাতে, যে রাতে নাজেল হয়  কোরআন এ ধরাতে। মাস জুড়ে রমজানের  কর ইবাদাত, সেই সাথে তালাশ কর কদরের রাত। যে রাতে আলোতে ধরা  ঝিলমিল নাচে। সহস্র ফেরেশতা ঘোরে  আনাচে কানাচে। স্রষ্টার আদেশে তাদের  হয় আগমন, পাপী তাপী উদ্ধারিতে করে পূণ্য দান। খুঁজে ফের সেই রাত ওহে পূণ্যবান, সবার নসিব হোক  কদরের দান।

ইসলামী সংগীত

শূন্য হাতে পূণ্য খুঁজি মৌলা তোমার দরবারে, রহমত দিও দয়াল মৌলা- ঘিরবে যখন আঁধারে।।২ মোহ মায়ায় বন্দী হয়ে তোমার পথে চললাম না, কড়ির পিছে ছুটতে ছুটতে পারের কড়ি কিনলাম না। দিনে দিনে দিন ফুরালো ভুলে রইলাম রাব্বানা।। তোমার পথে চললাম না।। শূন্য হাতে পূণ্য খুঁজি ------------------------------------------ ।। ফজর গেল ঘুমের ঘোরে জোহরেও জাগলাম না, আছর গেল হেলা খেলায় মরণ কথা ভাবলাম না।। মাগরিবের ঐ আজান শুনে মনে পড়লো রাব্বানা। তোমার পথে চললাম না। শূন্য হাতে পূণ্য খুঁজি---------------------------------- ।। সারাজীবন পাপ ই কিনলাম পূণ্য কথা জানলাম না, পরপারে ক্যামনে যাবো, ক্যামনে হবে ঠিকানা। সেই ভাবনায় দুহাত তুলে পূণ্য খুঁজি রাব্বানা।। তোমার পথে চললাম না। শূন্য হাতে পূণ্য খুঁজি ------------------------------------------ ।। না করলাম সৃষ্টির সেবা না মানলাম পরোয়ানা, শাফায়েত ক্যামনে পাবো শূন্য হাতে হই ফানা।  তোমার পথে চললাম না। শূন্য হাতে পূণ্য খুঁজি ----------------------------------------- ।।

হোলি

বসন্তে প্রকৃতি মাঝে        প্রীতির সুগন্ধ রাজে                   পাখি কুল করে আকিঞ্চন। রঙে রঙে রাঙা ফুল      হাওয়া তাতে দেয় দোল                    উতলা হয়েছে প্রাণ মন। আনন্দে নাচিছে কলি      আজ যে প্রাণের হোলি                   রঙ মেখে রাঙা করি প্রাণ। দেখ সবে চোখ খুলে         সাদা জলে রঙ গুলে                     হয়ে যাব চির অম্লান। আয় তোরা সহচরী             ভেদাভেদ দূর করি                     রঙে রঙে হোলি খেলে যাই। আয় করি গলাগলি         ভুলে গিয়ে দলাদলি                    আপনার মনকে সাজাই। আয় রেখা মিনা টিনা       খুলে ফেলে হৃদ ...

নারী

রূপে অপরূপ বহুরূপী নারী  সৃষ্টিতে তুমি অনন্যা, তুমিই মাতৃ তুমিই ভগ্নি  কন্যা রূপে আলোর বন্যা। পত্নী রূপে অর্ধাঙ্গিনী সৃষ্টির মূলে তুমি নারী, তোমার জীবন জটিল এ ভুবনে  সে কি ভুলতে পারি? যুগ যুগান্তর সত্যকথা  নারীই স্বপ্ন বোনে, সমাজ সংস্কারে কভুও নারী  ছিলনা ঘরের কোণে। নারীর আবেশে কম্পিত ধরা  সাক্ষী ইতিহাস, তারই সকাশে সফল পুরুষ  ফেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস। তবুও কোথাও আঁধার ঘনায়  দেখি নারীর চোখে জল, কোথাও পণ কোথাও ধর্ষণ  কোথাও খেলার ছল। জেগে ওঠো ওগো নারী  আঁধার করিতে দূর, সহায় সম্বল শক্তি ও বল  তোমা মাঝে ভরপুর। শাণিত অস্ত্রে অসুর বধে  ছিনিয়ে নাও অধিকার, সম্ভ্রম বাঁচাতে নারী দিবসে এই হোক তব অঙ্গীকার।

অঙ্গীকার

গর্জে ওঠো দামাল ছেলে  আর করনা দেরি, ভাষা শহীদদের স্মরণ করে  করবো প্রভাত ফেরী। বছর ঘুরে আসল আবার  একুশে ফেব্রুয়ারি , সালাম রফিক বরকত জব্বার  ভুলতে কি আর পারি? প্রাণ দিয়েছে বাংলার তরে  তাইতো এরা বীর, এদের কারণে বিশ্ব বাংলায়  উঁচু যে মোদের শির। এসো মোরা শপথ করি  উঠাই সুরের লহরি, মায়ের ভাষার রক্ষার তরে  থাকবো হয়ে প্রহরী। আজিকার দিনে অঙ্গীকার মোদের  ভাষা শহীদদের নামে, রক্তে রাঙানো এ ভাষার মান  রাখিব সোনার দামে।

ফোকলা দাদুর টাকে

নাদুসনুদুস ফোকলা দাদু টাকলা মাথার চুল,  দেখলেই তাকে ছেলেরা সব বাধায় গণ্ডগোল। গোয়াল ঘরের চালের মাঝে ভিমরুলদের বাসা, বাদামি রং ত্রিকোণ জুড়ে দেখতে বড়ই খাসা। একদিন সেথা ফোকলা দাদু তাকিয়ে আছে ঠায়, আড়াল থেকে দুষ্ট ছেলে ঢিল ছুঁড়ল তায়। ফোকলা দাদুর ভাগ্য খারাপ ভিমরুল দেয় হানা, বিনা দোষে জুটলো টাকে হুল যে একটানা। লাফিয়ে উঠে চেঁচিয়ে বলে ব্যথায় কাতর দেহ, আশেপাশে কে আছ ভাই ধরনা আমায় কেহ। কথা শুনে ভিমরুল দল আরো আসল তেড়ে, হুল ফুটিয়ে বলল ওরা ঢিল ছুড়েছে কে রে? ফোকলা দাদুর প্রাণ বুঝি যায় হায়রে ভীষণ জ্বালা, আড়াল থেকে হাসছে নাতি পালা দাদু পালা। দাদু বলল ঠিক বুঝেছি তুই মেরেছিস চাকে, সূযোগ বুঝে ভিমরুল রা হুল ফুটাল টাকে।

মানুষই ভুত

সে অনেক আগের কথা। দুই বন্ধু মিলে শহরে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। দু'জন ই  দুটো সাইকেল নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সিনেমা শেষ হওয়ার পর যখন বাড়িতে ফিরবো তখন সে বন্ধুকে আর খুঁজে পেলাম না। ওকে খুঁজে না পেয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। ছোট বেলা থেকেই আমি একটু সাহসী ছিলাম। যদিও সিনেমার কাহিনীটি ছিল সম্পূর্ণ ভূতের তবুও আমি এসব ভূতটুত বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু সে স্থান থেকে বাড়ি প্রায় দশ বারো কিলোমিটার হবে। তার উপর ঘোর অন্ধকার রাত। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও বন্ধুকে যখন পেলাম না তখন নিরুপায় হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। একা এই অন্ধকার রাতে এতদূর যাবো তার উপর আবার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। ওদিকে আবার বেশি দেরি হলে বাড়িতে গিয়ে মার খেতে হবে। তাই এই অন্ধকার আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাইকেল চালাতে শুরু করলাম। শহরতলী অতিক্রম করে গ্রামীণ মেঠোপথ, তার দুধারে ধানক্ষেত। সময়টা কার্তিক মাসের শেষ দিকে। কোথাও কোন সাড়াশব্দ নেই। আরো কিছুদূর যেতেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি আর বাতাসের ঝাপটায় পুরো নাকাল অবস্থা। এমন সময় সামনে ধানক্ষেতের মধ্য থেকে একটা গুঙ্গানীর শব্দ কানে এলো। তখন মনে একটু ভয় হলো, একটু সময় থাম...

নারীর ভূষণ

বন্যপ্রাণী বনে সুন্দর  স্বাধীন হয়ে ঘুরে, বুলবুলিরা গাছের ডালে  গায় সে আপন সুরে। ফুলের ডালে অলি কলি কতো শোভা তায়, খাঁচার ভিতর বন্দী জীবন  কেউ কভু না চায়। স্বাধীন জীবন কাঁপায় ভুবন  বীণায় ছন্দ বাজে, আপন স্থানে আপন সাজে সুখটা সদাই 'রাজে। জন্ম লাভে হোক সে নারী  চলবে আপন সাজে, ঘরে বাইরে শিষ্টাচারে সফল ভুবন মাঝে। শালীনতা বোধ নারীর ভূষণ  থাকবে নারীর নামে, সফল জীবন তাতেই নারীর  থাকবে সোনার দামে।