পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বুড়ো বয়সে

বিদ্যার বালিশ বীরেন বাবুর বয়স এখন আশি, অল্প বয়সের মেয়ে দেখলে মারে মুচকি হাসি। চাল চলনে বুঝা যায় রঙ ধরেছে মনে, আবার নাকি বিয়ে করবে বুড়ো বয়সের ক্ষণে! চুল দাড়িতে কলপ দেয় সেলুনেতে গিয়ে, কত লোকের কত কথা বাবুর এসব নিয়ে। স্বামীর এসব কাণ্ড দেখে গিন্নী পায় না দিশা, বুড়ো বয়সে ঘনিয়ে এলো ঘোর অমানিশা। গিন্নী তাইতো ঝগড়া করে মুখ করেছে হাঁড়ি, কথায় কথায় ধমক দেখায় যাবে বাপের বাড়ি। গিন্নীর ভাব বুঝতে পেরে বিরেন হেসে কয়, মন মেজাজটা ভালো রাখতে  এমন করতে হয়।

ডাইনি বুড়ির ভয়ে

সে অনেক আগের কথা। একবার রাতুল পূজার বন্ধে ওর মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে কাশিপুর বেড়াতে যায়। যে কয়দিন সে সেখানে ছিল, সারাদিন মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে গ্রামে ঘুরে বেড়াত আর নতুন জায়গা দেখে তার খুব ভালো লাগত। একদিন এভাবে বেড়াতে বেরিয়ে তারা গ্রামের ওপাশে একটা তেঁতুল গাছের নিচে এসে দাঁড়াল। গাছে ঝোপা ঝোপা পাকা তেঁতুল দেখে রাতুলের জিভে জল এসে গেল। সে মামাতো ভাইকে বলল গাছ থেকে পাকা তেঁতুল পাড়বে। মামাতো ভাই অপু তাকে গাছে উঠতে বারণ করল। কারণ এ গাছটা নাকি খুব দোষী। একদিন তার দাদু গল্পচ্ছলে এই গাছের কাহিনী তাকে বর্ণনা করেছিলেন, এই গাছটির বয়স কত হবে কেউই বলতে পারে না। তিনি ছোট বেলায় এটাকে যেভাবে দেখেছিলেন আজও সেভাবেই আছে। এটার বয়স নাকি কয়েক শো' বছর হবে। এ গাছটিতে নাকি ডাইনি বলে এক বুড়ি থাকে। আর এই কারণে এই গাছটিতে বারো মাস ঝোপা ঝোপা তেঁতুল ধরে। কিন্তু ডাইনি বুড়ির ভয়ে কেউ এ গাছে উঠে না। পাকা তেঁতুল নীচে পড়লে তবেই নাকি মানুষ তা কুড়িয়ে নেয়। দিনের বেলায় এখানে কোন তেঁতুল পাওয়া যায় না কিন্তু সকাল বেলা প্রচুর পরিমাণে তেঁতুল পাওয়া যায়। দাদুর কথা মতে প্রতিদিন রাতে নাকি ডাইনি বুড়ি ও তার না...

তুমিই মহান নেতা

ভারত মাতা খুঁজে ফিরে আজও  নেতাজী তুমি কোথায়, স্মরণীয় তুমি বরণীয় তুমি  লুকিয়ে আছ কোন সীমানায়? আজাদ হিন্দ গড়েছিলে তুমি  তাড়াতে বৃটিশ শয়তান, একতার সুরে বেঁধেছিলে তুমি  হিন্দু মুসলিম খৃষ্টান! শোষক শাসন বিদায় করতে  ফেলেছিলে ওদের মাথায় বাজ, তোমার স্বপ্নের স্বাধীন ভারতে  আজও চলছে লুটতরাজ। হিংসা বিদ্বেষ আর রেষারেষিতে  অতিষ্ঠ ভারত মাতা, ফিরে এসো তুমি মাতৃভূমিতে  তুমিই মহান নেতা। স্বাধীন ভারতের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তোমারই নাম লিখা, তোমার মাঝেই খুঁজে পাই মোরা দেশাত্মবোধক অগ্নিশিখা। সেক্যুলার ভারতের মহান নেতা তোমাকেই মোরা খুঁজে পাই, বছর বছর তেইশ জানুয়ারি তাইতো তোমারে শ্রদ্ধা জানাই।

জীবনটা এক বন্দীশালা

ছোট্ট খুকি পড়তে বসে মনে স্বপ্ন বোনে, জীবনটা এক বন্দীশালা রইলাম ঘরের কোণে। রুটিন মাফিক চলাফেরা পড়াশোনা চাই, সকাল সন্ধ্যা যেমন চলে স্কুলে গেলেও তাই। ' পড়ে চলো জীবন গড়ো' সবার একই কথা, ক্যামনে আমি বুঝাই এদের আমার মনের ব্যথা। মনটা আমার সুদূর পাহাড় ঝর্ণা ধারার কাছে, ঐখানেতে শীতল হাওয়া শান্তি সুধা আছে। সেথায় আমি উড়ে যাবো হবো পরীর সই, ইচ্ছে করে মনের কথা তাহার কাছে কই। ঐ পাহাড়ে জীবন কাটাই মুক্ত পরীর মত, ওরাই আমার খেলার সাথি ফুল পরীরা যত। মুক্ত যেথা শান্ত পাহাড় শীতল ছায়া তলে, আপন মনে এলোকেশে ভাসবো স্রোতের জলে। কেউ পাবে না আমায় যেথা করতে আদেশ জারি, জীবনটা এক বন্দীশালা নয় তো মনিহারি।

কয়টি নাচে?

গাছের ডালে বানর নাচে তা ধিন ধিন ধিন, খুকি বসে গুনছে এদের এক দুই তিন। একে একে ছয়টি বানর লাফায় ডালে ডালে, একটি হঠাৎ পড়ে গেল লাফিয়ে যাওয়ার কালে। টুপি হাতে একটি বানর খুকির পাশে আসে, মাথায় টুপি পরিয়ে দিয়ে বসলো তাহার পাশে। একটি বসে ঢোলক বাজায় একটি বাজায় বীণ, একটি বসে নোলক বাজায় করে ঝিনঝিন। আবার একটি আসল সেথা নাচতে তালে তালে, বলতে পারো কয়টি বানর নাচছে গাছের ডালে?

পেটুক রাজা

 শিরোনাম: পেটুক রাজা রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -০২/১/২০২৪ এক যে ছিল রাজা মশাই  লাউয়ের মত ভুরি, রোজ সকালে নাস্তা করত  পরোটা এক কুড়ি। চায়ের বাটি দেখলে তাহার  মনে হত ড্রাম, খেতে বসলে শরীর বেয়ে  গড়িয়ে পড়ত ঘাম। মধ্যাহ্নেতে ভোজন করত  এক গামলা ভাত, নাতি নাতনি দৌড়ে এসে  দেখত তাহার পাত। তিন কিলো বেগুন ভাজা  এক কিলো ডাল, আধা কিলো কাঁচা লঙ্কায়  মেটে না তার ঝাল। কাঁকড়ার ডিম রোজই খেত  পুরো এক বাটি, ভুরি তাতেই ছোট হবে  কথাটা ভাই খাঁটি। খাবার বেলার সে দৃশ্য  বুঝাই কি দিয়ে রাণী বসে বাতাস করত  কোলা হাতে নিয়ে। খাবার পরে দুই ঘণ্টা  বসে থাকত ঠায় , নিজে থেকে উঠার মতো  সাধ্য তার কোথায়? চাকর বাকর তুলতো তারে  দুই বাজুতে ধরে, ভয়ে কেউ মুখ খুলতো না  রাজা সবার ' পরে। রাতের বেলা খেতে খেতে  হয়ে যেত কাত, নাকের ডাকে মশা ভাগতো  কাটিয়ে দিত রাত।

ছমছম ভয়

  ঘুটঘুটে রাতে        কেউ নেই সাথে              ফিরছি বাজার হতে। চেয়ে দেখি আগে   কে জানি কে ভাগে              নির্জন নিবিড় পথে। মনে লাগে ভয়          ভুত যদি হয়           ধরে যদি মোরে পাছে। ফিসফিস করে       দেখি মাথা নড়ে           ভয়ে ভয়ে যাই কাছে। চেয়ে দেখি তায়     কালো জামা গায়            চোখেতে আগুন ঝরে। যাই আরো কাছে      উঠে যায় গাছে            ঝাঁকি দেয় ডাল ধরে। খিলখিল হাসে          দাঁত দুটি ভাসে           চুল দেখি মাটি ছোঁয়। ভাবলাম শেষে     গেছি আমি ফেঁসে                এল ছমছম ভয়। আঁখি বন্ধ করি        বলি নাহি ডরি            ভুত ...

অভাগীর সংসার

  সুপ্রিয়া দেবী ছেলে দীপায়নকে নিয়ে যেন এক মহা সমুদ্রের মাঝে ভেসে গেছেন। মাত্র ছয় বছরের দীপায়ন। এ সংসারে একমাত্র সে ই রইল মুখাগ্নি দিতে। কিন্তু ওকে নিয়ে কিভাবে কি করবেন ভেবে উঠতে পারছিলেন না। ওকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি এতদিন কাজ করে ওকে পড়িয়ে মানুষ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোন অবস্থাতেই তাকে মাধ্যমিকের গণ্ডি পার করতে পারলেন না। শেষ পর্যন্ত নবম শ্রেণীতে দু দুবার ফেল করে সে আর পড়বে না বলে মাকে জানিয়ে দিল। এদিকে আবার মায়ের এভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজ করা সে সহ্য করতে পারে না। তখন বাধ্য হয়ে মা একটি চায়ের দোকান খোলার চিন্তা করলেন।  দিন গড়িয়ে যায়। কয়েক মাসের মধ্যেই তার দোকানে অনেক উন্নতি হল। চায়ের সঙ্গে রুটি বড়া সিঙ্গাড়া ইত্যাদি বিক্রি করতে শুরু করলেন। এখন আর অভাব বলতে কিছু রইল না। মা-ছেলে মিলে খুব সুখেই দিন কাটাতে লাগলেন। কিন্তু সুখের আয়ূ বড় স্বল্প। টাকা পয়সা একটু বেশি হওয়াতেই সমস্যা। অধিক টাকা পয়সাই মানুষকে বিপথে নিয়ে যায়,এটা আবারো প্রমাণিত হল।  সুপ্রিয়া দেবী লক্ষ্য করলেন রাতে খাওয়া দাওয়ার পর সে দোকানে বসে গ্রামের আরো তিন চারটা ছেলেকে নিয...

নিজ আখেরাত গড়ো

 শিরোনাম: নিজ আখেরাত গড়ো কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -১২/০১/২০২৪ মানুষ যখন হারিয়ে মানবতা ভুলে আদর্শ মত, পাঠালেন খোদা কোরানের বাণী দেখাতে সঠিক পথ। জীবন সুখে মত্ত আছো ভুলে সে পথের দিশা, খোদার কালাম পড়ো না যদি কেমনে কাটাবে অমানিশা? পেট বাঁচাতে ধরার মাঝে ডিগ্রি নিচ্ছ যত, স্রষ্টা যিনি তাঁর কথা মনে রাখছ কত? ক্ষণস্থায়ী জীবনের তরে হানাহানি কর ভবে, প্রভুর কথা মনে কি পড়ে একদিন বিচার হবে। তাইতো বলি সময় থাকতে খোদার কালাম পড়ো, কর সৎ কাজ রাখ সদ্ভাব নিজ আখেরাত গড়ো

নবাগতের প্রতি

 শিরোনাম: নবাগতের প্রতি রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ -১২/০১/২০২৪ সুতীব্র চিৎকারে জঞ্জাল সরায়ে আসছো হে নবাগত! কতই আঁধার করেছো যে পার জানাই তোমায় স্বাগত। আলোকের পানে ধাবিত হয়েছ এসেছ দুচোখ মেলে, হয়ে থেকো শুধু আলোর দিশারী আঁধার পেছনে ফেলে। জন্ম কোথায় ভুলে যাও এবে কি যায় আসে তাতে? মানুষ হয়না কেহ মনে রেখো এই ধর্ম বর্ণ কিংবা জাতে! মানব রূপে জন্ম যেথা হোক মানুষ পরিচয়, মানব সেবাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম নেই কোন সংশয়। লোক দেখানো ধর্ম যেখানে হাজার লোকের মেলা, সদাই চলে ধর্মের নামে মানুষেরে নিয়ে খেলা। ইহাদের ভীড়ে আসছো তুমি বুঝাই কি দিয়ে? মানুষ রূপে বড় হও শুধু থেকো মানুষ পরিচয় নিয়ে। হেথায় চলে ধর্মের রেষারেষি বানিয়ে সকলে বোকা, মানবতার ধর্মই শ্রেষ্ঠ ধর্ম আর বাকি সব ধোঁকা। দুমুঠো খাবার পায়না যারা ভিক্ষা করেই চলে, এদের সেবা করলেই তবে তাহারে ধর্ম বলে। কর্মই খাঁটি আর সব মাটি বুঝে দেখ সারা সার, মানবের সাথে মিলনেই সুখ এরই নাম সংসার। বেঁচে থাকো শুধু আপন কর্মে কর্মই শ্রেষ্ঠ ভবে, থাকবে না তুমি থাকবে কর্ম স্মরণ করিবে সবে।

কালোবাজারি

সে অনেক আগের কথা। হুদিরাম দেশে নানা রকম অরাজকতা ও সমস্যার কথা চিন্তা করে কয়েকজন নতুন মন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করে তার নিজের রাজসভা আবার নতুন করে সাজালেন। নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পরদিনই রাজসভায় কালোবাজারিদের দৌরাত্ম নিয়ে আলোচনা শুরু হল। নেতৃস্থানীয় কয়েকজন উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলতে লাগল কালোবাজারিদের খপ্পরে পড়ে সাধারণ মানুষ আজ নাজেহাল। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে গেছে সুপারির কালোবাজারি। এদের দৌরাত্ম্যে স্থানীয় সুপারি মালিকরা পথে বসে আছে। এ ব্যাপারে তুমুল হৈচৈ শুরু হয়ে গেলে হুদিরাম খুবই গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি বিবেচনা করে নব নিযুক্ত মন্ত্রী বোধিরামকে এর দায়িত্ব দিলেন। তিন দিনের সময় সীমা বেঁধে দিয়ে তিনি কালোবাজারিদের ধরে আনার নির্দেশ দিলেন।  বোধিরাম নতুন মন্ত্রী হয়ে আনন্দে আত্মহারা। বললেন,' এ তো আমার বা হাতের খেল। আজই আমি এর একটা সুরাহা করে ছাড়ব। ' আসলে বোধিরামের পড়াশোনা বেশি নেই। কালোবাজারি কি জিনিস তা সে নিজেও জানে না। তবু সে এত বড় একটা দায়িত্ব পেয়ে ভাবল তার সাকরেদ তোলারাম থাকতে তার কোন ভয় নেই। কারণ তোলারাম চিনে না এরকম কোন স্থান এ রাজ্যে নেই।  বাড়িতে এসে বোধি...

খাই খাই

খাদ্য রসিক বাঙ্গালীদের কত বাহানা, বারো মাসে তেরো পার্বণ খাবার ছলনা। নানা নামে নানা স্বাদে করে আয়োজন, খাবার বানায় তারা মনের মতন। সকল উৎসবে থাকে সাজ সাজ রব, পোশাক ও খাবার নিয়ে করে কলরব। এমনি এক উৎসব আসে পৌষের শেষে, ঘরে ঘরে থালি সাজে নব নব বেশে। ক্ষীর ননী পাটিসাপটা গুড়ের সন্দেশ, নারিকেল নলের গুড় লাড্ডু সবিশেষ। আমিষ ও নিরামিষে হয় পিঠেপুলি, রসনায় তৃপ্ত হয়ে থাকে বাঙ্গালী। বিশ্ব মাঝে খাবার তরে বাঙ্গালীর নাম, খাই খাই করে শুধু সুভা থেকে শাম। শুভ দিনে সবারে আজি করি সম্বোধন, পৌষ পার্বণের শুভেচ্ছা জানাই অনুক্ষণ।

স্বাধীনতার মানে

স্বাধীনতা কাকে বলে জিজ্ঞেস করুন তাকে, যে ছেলেটা সকাল দুপুর খদ্দেরদের হাঁকে। হোটেল কিংবা রেস্তোরাঁতে কর্ম যাহার শুরু, ভুল হলে খায় কিল থাপ্পড় মনিব যে তার গুরু। বাসন মাজা কাপড় কাঁচা নোংরা সাফ করা, দুর্গন্ধ আর অবহেলায় হৃদয়টা তার ভরা। ক্লান্ত শ্বাস বিষিয়ে বাতাস বুক ভিজে তার ঘামে। জীবনটা তার বিকিয়েছে যেন অতি অল্প দামে। খদ্দেরদের খাবার বিলায় সকাল দুপুর সাঁঝে, নিজের ক্ষুধা বন্দী থাকে জিহ্বা রসের মাঝে। যে ছেলেটা দেখে সেথায় চোখে মুখে শুধু ধোঁয়া, সেই ছেলেটা আজও পায়নি স্বাধীনতার ছোঁয়া। অবাক হয়ে দেশমাতা মিটিমিটি করে চায়, সবার অগোচরে জীবনটা ওর কেমন করে চলে যায়! চার দেয়ালের বাইরে কি হয় জানে না তার লেশ, বয়স কালে বেকার হয় সে বোঝা হয় অবশেষ। সেই ছেলেকে প্রশ্ন কর ওকি সত্যি জানে? স্বাধীনতা জিনিসটা কি স্বাধীনতার মানে? স্বাধীনতার মানে বুঝে বনের পশু পাখি, আমরা কি তা দেখব কভু খুলে দুটি আঁখি?

বানরের রাজসভা

বানর রাজের রাজসভাতে অপূর্ব এক আয়োজন, সকল পণ্ডিত আসল সেথা পেয়ে আমন্ত্রণ। বানর রাজের বক্তব্য ছিল অতি স্থির ধীর, ক্যামনে মোরা খেয়ে বাঁচি সেটা কর স্থির। মানব জাতি দানব হয়ে করছে সব আবাদ, এমন কোন বুদ্ধি খোঁজ করব এদের বরবাদ। ফলমূল আর গাছপালা সব নিচ্ছে উজাড় করে, যার অধিকার ছিল মোদের চৌদ্দ পুরুষ ধরে। একতা আর জ্ঞান বুদ্ধি তো মানব জাতির নেই, সদাই তারা ঝগড়া করে যেন আদিম সেই। এই সুযোগে্ আমরা যদি করতে কিছু পারি, যাতে ওদের সুখশান্তিটা পড়ে কিছু ভারী। ভেবে চিন্তে সবাই মিলে কর এটা স্থির, মানব জাতি হারিয়ে এবার আমরা হব বীর। সকল পণ্ডিত বসল এবার চোখে চশমা আঁটি, তন্ন তন্ন করলো সব জ্ঞানের পুঁথি ঘাঁটি। সব পণ্ডিত যুক্তি করে রাজা মশাইরে কয়, যুদ্ধ এবার ঘোষণা কর হবে মোদের জয়। আমরা সব অগ্নি সেনা আছে মোদের খ্যাতি, জ্বালিয়ে দেব ঘরবাড়ি সব দুষ্ট মানব জাতি। শুনে রাজা হেলেদুলে বলে আরো ভাব, অস্ত্র শস্ত্র নেই যে মোদের পাশে ক্যামনে যাব? এতগুলো মূর্খ পণ্ডিত কেন পোষণ করি, দূর থেকে মেরে ফেলবে গোলাবারুদ ডরি। খাঁটো এক বৃদ্ধ বানর ছিল ঝোপের পাশে, বলল,' আমার কথা মান যদি জিতব অনায়াসে। মানব জাতি ছুটছে এখন বনজঙ্গলের দ...