পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কিপটে খুড়ো

গাঁয়ের স্কুলে ভিড় করছে ডানপিটে সব ছেলে হেথা হোথা ঘুরে বেড়ায় ক্লাসগুলো সব ফেলে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে আরেক মেয়ে নীতা, লাল টুকটুকে জামা গায়ে মাথায় রঙিন ফিতা।  হাঁদা ভোঁদা  মোড়ল তাদের গাঁয়ের সবাই জানে, কার বাগানে কখন ঢুকে ভয় যে সবার প্রাণে। আম জাম লিচু কুল জলপাই আর তেঁতুল, দেখলেই তা পেড়ে নিতে হয়না তাদের ভুল। নন্দ খুড়ো গায়ের বুড়ো পথের ধারেই বাসা, তার গাছেতে আম ধরেছে দেখতে দারুন খাসা। হাড় কাঁপানো কিপটে বলে সবাই তাকে চিনে, আম খাওয়ার কি সাধ্য আছে উচিত দাম বিনে? হাঁদা ভোঁদা দেখলো সেদিন বাজার যাচ্ছে নন্দ, অমনি তারা পৌঁছল সেথা করে স্কুল বন্ধ। হাঁদা ভোঁদা দেখে গাছে ঝুপা ঝুপা আম, পাড়তে গিয়ে হাঁদা ভোঁদার ছুটলো গায়ের ঘাম। হাঁদা বলে ওরে ভোঁদা ক্যামনে উঠি গাছে, স্কুল পালানো প্রকাশ পাবে পড়ি যদি পাছে! সাহস দিয়ে নীতা বলে উঠরে ভোঁদার পিঠে, কাঁচা আম খাবো আজ টক কিংবা মিঠে। ভোঁদার পিঠে উঠে হাঁদা ধরলো গাছের ডালে, কাঁপছে নীতা ভয়ে এখন কি আছে যে ভালে। পড়তে পড়তে বেঁচে গেল ডানপিটে সব ছেলে, কিপটে খুড়োর সকল আম এমনি পেড়ে নিলে।  বাড়ি ফিরে নন্দ খুড়ো দেখে গাছের ডালে, পাতা ছাড়...

পায়নি সুবিচার

সততার মূল্যে সেবার ব্রত চেয়েছিলে তুমি মৌমিতা, নরপিশাচের দল কেড়ে নিল কেন তোমার সেই স্বাধীনতা? বাঁচতে ওরা দেয়নি তোমায় নিষ্পাপ ছিলে তুমি, আর জি করে নিথর দেহ কাঁদছে ভারত ভুমি। ধর্ষণ করে খুন, খুন করে ধর্ষণ শুনেনি কেউ কভু, স্বাধীন ভারতে এটাও সম্ভব ভাবতে হলো তবু। শত অপরাধী এক ই কাণ্ডে পশুও মানে যে হার, ছিঃ ছিঃ! ধিক! শত ধিক! এত লজ্জা মানব সভ্যতার। বলতে পারো হে ভারত মাতা আমরা কি সত্যিই স্বাধীন? ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছে মাতা সে তো নির্লজ্জতায় পরাধীন। পথ মিছিল উন্মাদনা সুবিচারের দাবির সাথে, ইতিহাসটা ঘেঁটে দেখ বিচার হবে কোন ধারাতে? আবেদন আর নিবেদনে কভুও ভরবে না গো থালা, ধর্ষকরাও এ দেশেতে পায় যে ফুলের মালা। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী দিল্লি থেকে মনিপুর, রাজস্থান থেকে কলকাতায় সেই সে বিষাদ সুর! ভারতী মা সবখানেতেই কাম লালসার শিকার, অভাগী মায়ের কান্না কখনো পায়নি সুবিচার। জাগো নারী জাগো ছিনিয়ে নিতে অধিকার, অস্ত্র হাতে গর্জে ওঠো করবো মোরা অসুর সংহার।

প্রেম মানেনা জাতপাত

বিশ্বম্ভর বাবুর মনটা আজ অত্যন্ত খারাপ। ছেলে নিলয়ের সাথে তার বিয়ের ব্যাপার নিয়ে রুষ্ট আচরণ করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। নিজের এতো আদরের একমাত্র ছেলেকে এভাবে তাড়িয়ে দিয়ে তিনি অত্যন্ত অনুতপ্ত। শুয়ে শুয়ে তার অতীত জীবন স্মৃতিচারণ করে দু'চোখে জ্বালা শুরু হয়ে গেল। তাঁর মনে পড়লো এই ছেলেকে মানুষ করার জন্য তিনি কি না করেছেন।  তখন তিনি সামান্য এক স্কুল শিক্ষক। ছেলে নিলয়ের জন্মের তিন বছর পর স্ত্রী আর বড় দুই মেয়ে রীমা ও ঝুমাকে নিয়ে শহরের ভাড়া ঘরে এসেছিলেন। উদ্দেশ্য একটাই ছিল ছেলেকে পড়িয়ে মানুষ করা। মেয়ে দুটোকে সরকারি স্কুলে পড়ালেও ছেলেকে প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করে তিনজন গৃহ শিক্ষক রেখে পড়িয়েছেন। মাস পুরার আগেই বেতনের যে সামান্য কটা টাকা শেষ হয়ে যেতো। তখন তিনি নিজে খরচ যোগাতে টিউশন আরম্ভ করেন। স্কুলের ডিউটির ফাঁকে সকাল বিকেল টিউশনি করে ছেলের পড়ার খরচ যুগিয়েছেন। তার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে পড়িয়ে ডাক্তার বানানোর। কিন্তু তার সে স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। শেষ পর্যন্ত কলেজে বি এ ক্লাসে ভর্তি করেন।  আজ দু'বছর হলো বি এ পাশ করেও সরকারি চাকরির কোন সুবিধা করতে না পারায় একটা প্রাইভেট ...

অসতর্কতার জন্য

অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে ফোন পেয়ে সেদিন সারারাত জামরুলের ঘুম হয়নি। রাত তখন এগারোটা। ইচ্ছে হয়েছিল এসময়েই ছুটে গিয়ে মেয়েকে ঘরে নিয়ে আসেন। কিন্তু এত রাতে গাড়িই বা কোথায় পাবেন। তাছাড়া গরীবির সাথে লড়াই করা জামরুল খুব ভালোই জানেন এই মুহূর্তে প্রাইভেট গাড়ি করে শহরে এতদূর মেয়েকে আনতে গেলে যা ভাড়া দিতে হবে তা ম্যানেজ করা সম্ভব নয়। তাই স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিলেন রাত্রি প্রভাত হলে ট্রেন ধরে চলে যাবেন। এর মধ্যে দু-তিন বার মেয়েকে ফোন করেছেন কিন্তু মেয়ে ফোন উঠায় নি। একটা অজানা আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা তাকে গ্রাস করে নেয়।  এরই মধ্যে সেই অচেনা নাম্বার থেকে তার মোবাইলে একটা ভিডিও আসে। যা দেখে তার শ্বাস রুদ্ধ হওয়ার উপক্রম। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঐ অজানা নাম্বারে ফোন করেন। ওপাশ থেকে আওয়াজ এলো,' মেয়ে কোথায় আছে, ওকে জিজ্ঞেস করুন।' ইতিমধ্যে তার স্ত্রীও ঘুমিয়ে পড়েছেন। কারো কাছে বলার কিছু নেই। রাগে ক্ষোভে দুঃখে নিজেকে নিজেই শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছা হয় জামরুলের। অনেক ধৈর্য্য ধরে সারারাত এপাশ ওপাশ করে জামরুল আরো এক দুর্ভাবনায় পড়ে গেলেন। মেয়েটা তো ফোন উঠাচ্ছে না, শেষ কালে কি...