পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সময়ের ক্ষণে

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ০৮/০২/২০২২ তাজা ফুল ডেকে বলে ওহে ঝরা ফুল তোমা কথা ভেবে আমি হইযে আকুল। না জুটিল ভাগ্যে তব মালীদের দেখা না হইলে দেবতার অর্ঘ্য ডালি সখা। ওইতো আসিছে মালী তুলে নিবে মোরে পায়েতে দলিয়ে যাবে তোমা সবাকারে। ঝরা ফুল কেঁদে কহে ওহে জ্ঞাতি ভাই করোনা করোনা কভু রূপের বড়াই। পাশ থেকে খসে পড়ে হয়ে গেলুম পর তাইতো নিন্দিছো মোরে ভুলে সহচর। মৃদু ঝড় শিলা সহ বহে হেনকালে তাজা ফুল লুটাইলো হায় বায়ু বলে। দলবল সহ ফুল পড়ে গেল ঢলে হারাইলো দর্প সহ আয়ু সেই স্থলে। কভুও করোনা গর্ব উন্মত্ত যৌবনে তুমিও অপাঙক্তেয় হবে সময়ের ক্ষণে।

ভালোবাসা দিবস

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১৪/০২/২০২২ ভ্যালেন্টাইন ডে মানে ভালোবাসার দিন। ক্ষণিকের ভালোবাসায় হয়োনা রঙিন। মনের গভীরে সুপ্ত থাকে প্রেম ভালোবাসা লাল গোলাপের নিবেদনে ক্যামনে করো আশা? প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসা এ যেন এক প্রথা সব মানুষকে ভালবাসি সেটাই আসল কথা। মানবতা বোধ জাগ্রত হোক সব মানুষের মনে হৃদয়টাকে তৈরি করি ভালোবাসার সনে। জাতি ধর্ম বিদ্বেষ ভুলে সরল করি মন সব মানুষকে ভালবাসি সবাই আপন জন। ভালবাসা দিবসের শপথ হোক মানুষকে ভালবাসা শান্তির তরে লড়বো সবাই এটাই করি আশা। হৃদয় দিলে হৃদয় মিলে জীবন হয় সরস জানাই সবায় ভালবাসা, আজ যে ভালবাসা দিবস।

ভ্যালেন্টাইন ডে

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ১২/০২/২০২২ ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে সুতপা অঞ্জনাকে বলল, ' চল একটু সামনে থেকে ফুল নিয়ে আসি।' অঞ্জনা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ফুল, কেন? সুতপা বললো 'বারে তুই দেখি অবাক হয়ে গেলি,আজ যে ভ্যালেন্টাইন ডে!' 'ও হ্যাঁ।' সুতপা বলেই চললো,' আজ আমি ফুল নেব, রজতকে দেবো----- ।' কত কথাই বলে চললো অঞ্জনা কিছুই শুনলো না। ওর মনে পড়ে গেল- -, আজ থেকে পাঁচ বছর আগে এক ভ্যালেন্টাই ডে এর কথা। ও কল্পনায় বিভোর হয়ে ভাবছিল এমনি এক দিনে বিজয় তাকে একটা ফুল দিয়ে প্রপোজ করেছিল। সেও ফুলটি গ্রহণ করেছিল এবং তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। বিজয়ের প্রেমে সে এতটাই বিভোর হয়েছিল যে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিল।  একদিন পার্কে বসে বিজয় তাকে বলেছিল, জানো অঞ্জনা, ' তোমাকে মনের মধ্যে নিয়ে আমি কত স্বপ্ন দেখি। তোমাকে মনের মধ্যে নিয়ে আমি ঘর বাঁধছি, কখনো গঙ্গার ধারে কখনও পাহাড়ের উপর।' অঞ্জনা এতটাই ওর প্রেমে বিভোর হয়েছিল যে ওর পড়াশোনায় ভাঁটা পড়ে। বি,এ, ক্লাসে ফেল করে।আর ওখানেই বিপত্তি। রজত এম,বি,বি,এস এ সুযোগ পেয়ে তাকে ছেড়ে চলে যায়। আর কোন যোগাযোগ হয...

ঝরে আঁখি জল

রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১০/০২/২০২২ এসেছিলে আলো করে আমার এ ভুবন বাহুডোরে বেঁধে ছিলে উজাড়িয়া মন। হারানো শক্তি মম এসেছিল ফিরে সমস্ত সত্তাই ছিল তব প্রেম ঘিরে। স্বর্ণালী স্বপ্নে বিভোর তোমারই কারণ দূরে সরে গেল সব যে ছিল আপন। প্রেম দিয়ে তুমি মোর ভরেছিলে হিয়া কেন এবে সরে গেলে কাহার লাগিয়া। কভু তুমি বুঝোনি গো প্রেম গভীরতা তাইতো সর্বত্র আজি দেখি নিরবতা। তুমি যবে পাশে ছিলে, ছিল সব আশা তোমার বিহনে প্রিয় নেই কোন ভাষা। তুমি পাশে ছিলে বলে ছিল মনোবল শয়নে স্বপনে আজি ঝরে আঁখি জল। তোমার বিহনে প্রিয় বাচিব কেমনে শক্তি হীন করে গেলে নবীন জীবনে। যাও ছেড়ে অন্তরে তে রবে চিরদিন ধরে নেব ছিলে তুমি হৃদয় বিহীন। তব ব্যথা বুকে নিয়ে রবো আজীবন এক ফুলে দুই পূজা হয়না কখন।

করোনার ত্রাসে (পর্ব-১০)

থার্ড ওয়েভে করোনা যবে    ভেক্সিনটা নিচ্ছে হবে                     রোগ থেকে মুক্তি যদি পায়। বিশ্ব জুড়ে আহাজারি        এ কেমন মহামারি                     বার বার আসে আর যায়। গলাব্যথা কালাজ্বর       সঙ্গে শ্বাসকষ্টের ভর                       রোগটাযে রূপ বদলায়। নতুন রূপ অমিক্রণ        ভুড়বাট্টায় আছে বারণ                     একা একা থাকো নিরালায়। কোথায় সামাজিকতা       কোথায় বা আত্মীয়তা                    দুটা বৎসর গেল হায় হুতাশে। যদি পায় মরণব্যাধি      বাঁচানোর নেই সাধ্যি                   এখনও মানুষ সেই ত্রাসে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি       কোন কিছুর নেই সঙ্গতি...

করোনার ত্রাসে (পর্ব-৯)

হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-১০/০৩/২০২১ লকডাউনের খাঁচায় বন্দী রইবো কত আর দিনে দিনে বছর গেল ভেবে যাওয়াই সার। রুটিন মাফিক জীবনটা যে হারিয়ে গেল বলে ঘড়ির কাঁটায় সবার জীবন একই তালে চলে। সবাই যখন গুনছে প্রহর মরছে দারুন ত্রাসে কেউবা তখন ডাবল লাভে রসের অঙ্ক কষে। মিটিং মিছিল চলছে সবই চলছে হাট বাজার ছাত্র ছাত্রীর ভবিষ্যতটা শুধুই অন্ধকার। অনলাইনের ক্লাসের নামে চলছে হেরাফেরি বিশ্ব জুড়ে এদের কথা ভাবতে হলো দেরি। শিক্ষা বিভাগ বললো যখন পরীক্ষা আর নয় সবার জন্য অটোপাশের ব্যবস্থাটাই হয়। হতাশা আর উৎকণ্ঠা আরো বেড়ে যায় আসল পাশের মূল্য কি আর অটো পাশে হয়? এরাই দেশের ভবিষ্যৎ ক্যামনে করি হেলা এদের জন্য অটো পাশ শুধুই একটা খেলা। রোগে আর লকডাউনে কতদিন আর যাবে এদের জন্য নতুন কিছু আবার ভাবতে হবে।

হতে হবে সেরা

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-০৬/০২/২০২২ হারজিত শব্দটি থাকে সব কাজে এদুটির মাঝখানে সবাই বিরাজে। একই ফুলে মধু আর কাঁটার সমন্বয় কাঁটা ভুলে ফুল তুলো করোনা কোন ভয়। কাঁটার ভয়েতে যারা হাত গুটে বসে নিয়তি তাদের ছেড়ে যায় অনায়াসে। মেঘের আড়ালে থাকে রোদ্দুরের খেলা মিছে কেন ভয় পাও দুঃখের বেলা। পাতা ঝরা গাছটারও নেই কোন হতাশা অচিরেই কুঁড়ি ফুটে আছে মনে ভরসা। হাল কভু ছেড়ো না হতাশার কিছু নেই চেষ্টাটা করে গেলে ফলটাতো আসবেই। পরাজিত হলে তবু নেই কোন লজ্জা চেষ্টাটা করে যাও খুলে মন দরজা। যেখানেতে থামিয়েছো নিজের প্রচেষ্টা সেখানেই শুরু কর এগোনোর চেষ্টা। পেছনে চেওনা ফিরে আঁধারেতে ঘেরা সামনে এগিয়ে চলো হতে হবে সেরা।

সততা যেখানে

শিরোনামঃ সততা যেখানে রচনা:  হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-০২/০২/২০২২ শুয়ে শুয়ে চিন্তা করছিল সত্যজিত। নিজের কথা, পরিবারের কথা- ছেলে মেয়ে গুলোর কথা। ছোট্ট একটা চাকরি, অফিসের কেরানী। মাসে যা বেতন পায় তা দিয়ে কোন ক্রমে বেঁচে থাকাটাই সমস্যা। তার উপর ছেলে মেয়ের পড়াশুনার বয়স হয়েছে। স্কুলে ভর্তি করেছে। প্রতিযোগিতার যুগ।সবাই প্রাইভেট স্কুলে পড়াচ্ছে। গিন্নীর পিড়াপিড়িতে ওদেরকে বাধ্য হয়ে প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করেছে।মাস শেষে যে ক' টা টাকা পায় তা থেকে স্কুল ফিস্ সময় মতো দিতে পারে না। তার উপর অফিসে কাজের চাপ। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গাধার মত খাটুনি। এসব ভাবতে ভাবতে দু চোখে জ্বালা ধরে গেল। ভাবনা আর ক্লান্তিতে চোখ বুজলো সত্যজিত।          গিন্নীর ঝাঁঝালো আওয়াজ তখনও কানে ভাসছিল। এই যে শুনছো - 'চাল ডাল সব শেষ হয়ে গেছে, এদিকে মিনির স্কুল থেকে নোটিশ দিয়েছে।ওর তিন মাসের বেতন জমে আছে। এগুলো এ মাসে না দিলে ওর নাম কেটে দেবে। ছেলে দুটোরও বেতন দেওয়া হয় নি। ওদিকে মায়ের ঔষধও শেষ।  সত্যজিত কোন কথাই বলছেনা দেখে সর্বানির রাগ হলো। বলে চললো , ' নিজের কাপড়ের কথা নাহয় বা...

ভুতের ভয়ে

গল্প প্রতিযোগিতা পর্ব-৩৭ শিরোনামঃ ভুতের ভয়ে রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ-২৯/০১/২০২২ সেদিন ঘোর অমাবস্যার রাত। শীতের মরসুম। তার মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডা। বীরেন বাবুর ছেলেটার বয়স আনুমানিক ছত্রিশ বছর। করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা গেছে। করোনা রোগী।তাই পাশে যেতে নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মৃতদেহ কিট্স্ দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। ফোন পেয়ে বীরেন বাবু একটি ছোট ট্রাক গাড়ি পাঠিয়ে দিলেন, শবদেহ নিয়ে আসতে। যথারীতি হাসপাতাল থেকে মরদেহ গাড়িতে উঠিয়ে চালক ও তার সহকর্মী রওয়ানা দেয়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি অনেক দূরে।প্রায় দেড়শ কিলোমিটার হবে। রাত তখন এগারোটা। শোন শান ফাঁকা রাস্তা। অনেক দূর এগিয়ে গিয়ে একটা দোকানের আলো দেখতে পেল। দুজন স্থির করলো একটু চা টা খেয়ে যাবে। দোকান থেকে একটু দূরে গিয়ে গাড়ি থামাল। কারণ যদি দোকানী টের পেয়ে যায়, গাড়িতে করোনার মৃতদেহ তাহলে চা পান করা তো দূরের কথা পাশেও যেতে দেবে না। তাই একটু দূরে অন্ধকারে গাড়ি রেখে দুজন দোকানে ঢুকলো। এই ফাঁকে একটি লোক গাড়িতে উঠে বসলো। বসলো তো বসলো গিয়ে একেবারে মরা লাশটার উপর। অন্ধকার কিছুই দেখ...