পোস্টগুলি

আত্মত্যাগের ঈদ

ঈদুল আজহা এলো ফিরে একটি বছর পর, আত্মত্যাগের মহান দীক্ষা, ইসলামের উপর।   ইব্রাহিমের কুরবানি স্মরি, প্রভুর আদেশ জানি,   মনের পশু কোরবানি দাও কিতাব-কোরান মানি।   মনের পশু হিংসা-লোভ, অহংকার আর ক্রোধ,   কুরবানি দাও আগে তারে, তবেই হবে শোধ।   লোক দেখানো জাঁকজমকে নেই যে কোনো দাম,   নিয়ত যদি শুদ্ধ না হয়, বৃথা সকল কাম।   ধনী-গরিব নাই ভেদাভেদ ইসলামেরই ঘরে,   আমির-ফকির এক কাতারে ঈদের নামাজ পড়ে।   কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাই দেখায় সাম্যের জোর, এক আল্লাহর বান্দা মোরা, ইসলামেরি সুর।   বিশ্বশান্তি চেয়ে দু’হাত আকাশ পানে তুলি, যুদ্ধ নয়, হানাহানি নয়,হিংসা বিদ্বেষ ভুলি।  সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দাও প্রতিবেশীর দ্বারে,   অনাহারীর মুখে হাসি ফুটুক ঈদের উপহারে।   ত্যাগের শিক্ষা নিয়ে যেন চলি সারা বছর,   মানুষ হই মানুষের তরে, ভাঙি বাঁধার স্তর।   মনের পশু কুরবানি দিয়ে হই যেন ভাই খাঁটি,  একে অন্যে ভালোবাসি চুমি দেশের মাটি। সবাইকে আজ জানাই আমি ঈদুল আজহার প্রীতি, ...

গফুরের গরুর বিজনেস

গফুর মিয়া ঠিক করলো এবার গরু পালবে। ইউটিউবে দেখেছে, “গরু পালনে লাখপতি”।  বাজার থেকে তিনটা গরু কিনে আনলো। গরু গুলর একে একে নাম দিলো— ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক।  প্রথম দিন ফেসবুক প্রতিবেশীর লাউগাছ সাবাড় করলো। প্রতিবেশী বললো, “তোমার ফেসবুক আমার লাউয়ের কমেন্ট বক্স খালি করে দিয়েছে!” গফুর দৌড়ে গিয়ে বলল," ভাই, নতুন তো, বুঝে না।" দ্বিতীয় দিন ইউটিউব গোয়ালঘরের কাঠ ফুট খুঁটি সব চিবিয়ে খেয়ে ফেললো। গফুরের বউ চেঁচালো, “তোমার ইউটিউবে অ্যাড বেশি, আমার ঘরের সব শেষ।" তৃতীয় দিন টিকটক দড়ি ছিঁড়ে  যেখানে যত কাপড় পেল, খেয়ে ফেললো। এরপর সোজা চেয়ারম্যানের বৈঠকখানায় ঢুকে চেয়ারম্যানের পাঞ্জাবি চিবাতে লাগলো। চেয়ারম্যান লাফ দিয়ে উঠে গফুরকে ডাক দিয়ে বললো, “গফুর, তোর টিকটক ভাইরাল হয়ে গেল রে। এবার আমি তোর উপর মোকদ্দমা করতে বাধ্য হবো।" শেষে গফুর তিনটাকে বাজারে বেচতে গেল। খদ্দের জিজ্ঞেস করলো, “দুধ দেয়?”   গফুর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, “ভাই, দুধ না দিলেও ফেমাস করে দেয়। একেকটা সেলিব্রিটি। দাম একটু বেশিই লাগবে।” অমনি একদল লোক এসে বললো," গরু তো কেউ কিনবে না। এগুলো মানুষের সব ফসল নষ্ট করে দেয়, রাস্ত...

ফোকলা দাদুর নানা

ফোকলা দাদুর ঘরে আছে   বিড়ালের এক ছানা,   ইঁদুর সদাই পালিয়ে বেড়ায়   কখন যে দেয় হানা। লুকিয়ে লুকিয়ে ইঁদুর বেটা কতো কিছুই খায়,   বিড়াল ছানা ধরবে তাকে   সুযোগ কি আর পায়? অপেক্ষাতেই থাকে বিড়াল   কখন সূযোগ আসে,   ধরবে যে ওই ইঁদুরটাকে   রাখবে দাদুর পাশে। হঠাৎ একদিন নেংটি ইঁদুর   জলের মাঝে পড়ে,   জলে পড়ে হাবুডুবু খায়   তিড়িং বিড়িং করে। তাই না দেখে বিল্লি রাণী   পাড়ে বসে গান গায়,   "আজকে তোরে ধরব রে তুই   পালাবি কোথায় হায়?" " চুরি করে রোজই যে খাস   দোষ পড়ে মোর ঘাড়ে,  আজকে তোকে শিক্ষা দেবো আছি আমি পাড়ে।" ইঁদুর বলে, "কানটা ধরলাম  চুরি আর না করি,   এবার যদি বাঁচাও মোরে   ভালো হবো ভারি।" বিল্লি ভাবে, "ছাড়ি তবে   সুযোগ দিলাম আজ,   চুরি করলে আবার ধরব   মনে রাখিস রাজ।" লেজ বাড়িয়ে টেনে তুলে   বাঁচায় ইঁদুর প্রাণ,   নেংটি বলে, "রাণী তুমি   আমার ভগবান।" সেই থেকে আর চ...

ডিমের বড়া

সাদা রঙ গোল গড়ন রসে টইটম্বুর,   গন্ধে মন মাতাল হয় মনটা ভরপুর।   বারোমাস পাওয়া যায় দেখতে চাঁদের মতো,   কিনে আনি সবে খায় আনন্দ হয় কতো। ত্রিশ টাকায় তিনটি কিনি বাজার গরম ভারি,   খোসা ফেলে রস-কুসুম ভেঙে সারি সারি।   পেঁয়াজ মশলা মিশিয়ে তাতে মাখি যতন করে,   তেলে দিয়ে চড়চড়ে ভাঁজি খিদে দ্বিগুণ বাড়ে। অপরূপ রূপে মন ভোলে দুঃখ যায় সরে,   মুখে দেওয়া দূরে থাক ঘ্রাণে পেটটি ভরে।   গরম গরম তুলে নিয়েই ফুঁ দিয়ে খাই,   টপাটপ খেয়ে ফেলি মজা তাতে পাই। সকাল বেলা নাস্তা হোক বিকেল বেলা চা,   ডিমের বড়া পাশে হলে জমে আড্ডা-তা।   হঠাৎ যদি মেহমান আসে ঘরে নাই কিছু,   ডিমের বড়া ভেজে দিলে লাজ থাকে না পিছু।   গরিব ধনী ভেদ ভুলে সবাই ভালোবাসে,   পেটের ক্ষুধা মনের সুখ একই সাথে আসে।   বৃষ্টি হলে জানালা ধারে বড়া সবাই চায়, ডিমের বড়া না খেলে ভাই জীবন বৃথা যায়।

জানালার ওপারে

হাসপাতালের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের দুটো পাশাপাশি বেড। একটায় শুয়ে অখিলেশ বাবু, অন্যটা তিনদিন ধরে খালি। ডায়াবেটিস তাকে শেষ করে দিচ্ছে। পা ফেটে ইনফেকশন, পচন ধরেছে। ডাক্তার মুখ ফুটে কিছু বলে না, কিন্তু নার্সের চোখ দেখে অখিলেশ বাবু ঠিকই বোঝেন— সময় ফুরিয়ে আসছে। চতুর্থ দিন বিকেলে খালি বেডটায় নতুন রোগী এলো। নাম অপূর্ব সান্যাল। বয়স চল্লিশও পেরোয়নি। কিডনি দুটোই প্রায় অকেজো। চোখের নিচে কালি, মুখে হাসি নেই। দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে রাত। ওষুধ, ইনজেকশন, যন্ত্রণার ফাঁকে ফাঁকে দুজনের আলাপ জমে ওঠে।   "দাদা, আপনার কী হয়েছে?" অপূর্ব জিজ্ঞেস করে।   "সুগার," অখিলেশ বাবু কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন, "ধরেছে আর ছাড়ছে না। তোমার?"   অপূর্ব শুকনো হাসে, "আমারও ছাড়ার রোগ না। কিডনি। ডায়ালাইসিস করে করে ক্লান্ত। আর একটুও বাঁচার ইচ্ছে নেই।" "বয়স কত হে তোমার?"   "আটত্রিশ।"   অখিলেশ বাবু দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, "আমার সত্তর চলছে। তবু বাঁচতে সাধ হয়। আর তুমি..." দুদিন পর হঠাৎ রাতে অপূর্ব ফুঁপিয়ে ওঠে।   "দাদা, আমি আর পারছি না। রোজ এই মেশিন, এই সূঁচ... আমার বাঁচা...

নাতির অন্নপ্রাশন

রসের হাঁড়ি ফোকলা দাদু   গরীব বেজায় ভারি,   ছেলে করে গার্মেন্টসে কাজ   টাকার ছড়াছড়ি। নাতির হবে অন্নপ্রাশন   জন্মদিনও সাথে,   ধুম পড়েছে বাড়ি জুড়ে   আলোর ঝলক তাতে। ডেকোরেশন, লাইটিং, কেক   ডিজে বাবু নাচে,   মেন্যু দেখে চোখ ছানাবড়া   মাটন বিরিয়ানি আছে! দাওয়াত পেয়ে লোক এসেছে   গাড়ি ভরা ভরা,   সেলফি তুলে ফেসবুকে দেয়   "দাদুর নাতির জোড়া"। ফোকলা দাদু কোণায় বসে   শুকনো হাসি হাসে, ওষুধ পত্তর ক্যামনে কিনে শ্বাস কষ্টে কাশে। ছেলেকে চুপি ডেকে বলে   "বাবা, ওষুধ শেষ,   প্রেশারখানা বাড়ছে বড়   দে না টাকা লেশ।" ছেলে বলে, "আহা বাবা   এখন বড্ড কাজ,   পার্টি মিটুক, হাতে টাকা   একদমই নেই আজ!" দাদু ভাবে ত্রিশ হাজার   উড়ল কেকে জলে,   আমার ওষুধ পাঁচশো টাকা   জুটল না তা বলে? কানাঘুষো করে লোকে "দাদু কী কষ্ট পেলে,   নিজে নাখেয়ে কর্ম করে  মানুষ করল ছেলে!" "কোট-প্যান্ট পরে এখন ...

রসময় দাদু ও বিধু মোড়ল

রসময় দাদু বাজার সেরে   ফিরছিলেন ধীরে,   হঠাৎ দেখেন পথের মাঝে   জটলা ভারি ভিড়ে। কৌতূহলে এগিয়ে গিয়ে   উঁকি মারেন দাদু,   লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে   বখাটে সব যাদু। একটি ছোকরা ধরে দাদু   শুধায়, "কীসের লাইন?   কীসের লাগি সবাই মিলে   করছ এমন ফাইন?" ছেলেটা কয়, "ও দাদু শোনো,   খবর আছে ভারি,   সুন্দরী এক যুবতী নাকি   এসেছে বাড়ি ছাড়ি। "সবাই মিলে দেখতে তারে   দাঁড়িয়ে আছি সুখে,   একটু যদি কথা বলি   টিপ্পনী কাটি মুখে!" দাদুর রাগে গা জ্বলে যায়   চোখ কপালে তুলে,   হঠাৎ দেখেন লাইনের শেষে   মোড়ল বিধু দুলে। গ্রামের মোড়ল, সাদা দাড়ি,   বয়স সত্তর পার,   সেও দাঁড়িয়ে জিভ লকলক   লজ্জা নেই তো আর! দাদু বলেন, "ও বিধু ভাই,   এ তোমার কেমন কাজ?   মাথার চুলে পাক ধরেছে   নেই কি কোন লাজ?" বিধু মোড়ল দাঁত কেলিয়ে   বলেন হেসে হেসে,   "বুড়ো হয়েছি তাতে কী ভাই   ...