পোস্টগুলি

নভেম্বর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

চোখে স্বপ্ন সাজায়

ছোট মেয়ে নামটি রিয়া  বাবা নিখোঁজ কোথায় পায়, কাঁদতে কাঁদতে দিবস যায় কেউ পায়নি খোঁজ নিয়া। দুখী মাতা সংসার চালায়  ইটভাটায় কাজে যায়, দেখে বড়ই কষ্ট লাগে  পড়ার খরচ ক্যামনে যোগায়। পড়শী শিশুর পড়া দেখে  মায়ের চোখে অশ্রু ঝরে, আপন মনে সাহস রেখে  জ্বেদ ধরে সে পড়ার তরে। ভাটার কাজে খাবার যোগায় মেয়েকে সে স্কুলে পাঠায়, সদাই চোখে স্বপ্ন সাজায়, প্রকৃতিও পথটি দেখায়। মেয়ে পড়ায় অতি ভালো  দূরে গেলো সকল ভয়, মায়ের মন করলো আলো, রিয়া শেষে ডাক্তার হয়।

তবুও কি

তোমায় দেখে হারিয়ে গেলাম  ওগো রূপ সাগরের রাণী, এমন রূপটি কোথায় পেলে  কেমন তোমার মুখের বাণী। কোথা থেকে এলে তুমি  কোনবা রূপের সাগর চুমি, এমন রূপটি দেখে আমার  হারিয়ে গেলো পায়ের ভুমি। রাতদুপুরে স্বপ্ন দেখি  আছি দুজন পাশাপাশি, ম্লান হবে না কভু জানি  তোমার ওই মুখের হাসি। যদি বলি ভালোবাসি  সেকথা কি অন্যায় হবে? সাহস করে বলছি তোমায়  আজীবন মোর পাশে রবে। মনে আশা পোষণ করি  তুমি আমার গৃহীনি হবে, তবুও কি এমন করে  আমার থেকে দূরে রবে?

খুলবে কি কেউ রাজ

মুখে সদাই ন্যায়ের বুলি  জপমালা হাতে, দিনের বেলা সমাজ সেবা  ভণ্ড আঁধার রাতে। চতুরতায় সিদ্ধহস্ত  পাতে নানান ফাঁদ, দুর্নীতি আর অপকর্মে মিটায় মনের সাধ। নেতার প্রভাব-গায়ের জোরে গোপন থাকে রাজ, আঁধার ঘরে করে চলে  নানান বেঠিক কাজ। প্রাণের ভয়ে সব হারিয়ে  কেউ করে না গোল, সত্য বললে টাকার জোরে  কেড়ে নেয় শেষ বোল। কোটি টাকার আরামবাগে কাটায় নিশি ঘোর, খুলবে কি কেউ এদের মুখোশ  হবে নতুন ভোর।

মুখোশধারী

সুন্দর এই ধরার বুকে  মানুষ চেনা দায়, অর্থটাকে সবাই খোঁজে  সুখী হতে চায়। মুখোশধারী মানুষ যারা  মনে থাকে ছল, স্বার্থের তরে অন্ধ হয়ে  দেখায় বাহুবল। অন্তরেতে বিষের হাঁড়ি  বাইরে রঙীন সাজ, মুখ ঢাকা মুখোশ পরে  করে খারাপ কাজ। সহজ সরল মানুষ যাদের  সততাই থাকে মূল, মুখোশধারীর ছলে পড়ে  হারায় জীবন কুল। মনুষ্যত্ব গুণ না থাকলে  ক্যামনে মানুষ ভাই, ধন সম্পত্তি থাকার পরও   শান্তি পায় না তাই। হিংসা বৃত্তি লোভ লালসা  যাদের মনে রয়, সৃষ্টির সেরা মানব জাতি  এরা ক্যামনে হয়?

জুবিন দা স্মরণে

লুইত কণ্ঠ স্মরি         অগুনিত প্রেম ভরি            ফিরে এসো হে জুবিন গার্গ। নিঃস্বের সঙ্গী তুমি       সার্থক আসাম ভুমি              তুমি দেখায়েছ সঠিক মার্গ। জাতি ধর্ম নাহি চাই        মানবতা যদি পাই                  নেই যেথা বিভেদের সুর। করনি সুখের আশা    দিয়েছিলে ভালোবাসা                  হৃদয়ে তে আছো ভরপুর।  ভাবনায় অধীর হয়ে      ঘুরে ছিলে লোকালয়ে                  দেখেছিলে প্রকৃতির রূপ। বিষাক্ত বায়ুর ঝড়ে       তোমা কাছে ধরা পড়ে                     মানবের নগ্ন স্বরূপ। জীবনে হৃদয় খুলে          তাই তুমি গেয়েছিলে                      সাম...

কভুও না হারে

জীবনটা এক নদীর স্রোত  উজান ভাটির খেলা, সামনে পিছে ছুটতে ছুটতে  চলে যায় যে বেলা। ভাঙ্গা গড়ায় পূর্ণ জীবন  নয়তো সিধে সাদা, যতই তুমি সহজ করো আসবে শতেক বাধা। সময় এবং স্রোতের সাথে  চলতে পারে যারা, জীবনের সব কঠিন লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে তারা। নিষ্কর্মা আর অলস যারা  ঘুর্ণাবর্তে ঘোরে, সফলতা পায়না তারা  সুখটা থাকে দূরে। ঘুর্ণি পাকের আঁধারেও যে  লড়ে বারে বারে, সফল জীবন পায় সে ভবে  কভুও না হারে।

এসো সবাই চারা লাগাই

হরেক রকম গাছগাছালি  সবুজ ধরার বুকে, সবুজ সতেজ রাখতে পারলে  বাঁচব সবাই সুখে। তাপ চাপ তীব্র খরায়  দূষিত হয় বায়ু, প্রকৃতির এই দূষণ হেতু  কমছে সবার আয়ু। গাছ থেকে প্রাণবায়ু পাই  বেঁচে থাকার তরে, গাছই মোদের খাদ্য যোগায়  সারা জীবন ধরে। ফুল ফলাদি জ্বালানি পাই  পাই যে শীতল ছায়া, এসো সবাই চারা লাগাই  গাছকে করি মায়া। সবুজ শ্যামল গাছগাছালি  বাড়ায় চোখের জ্যোতি, একটা কাটলে তিনটা লাগাই  হবেনা ভাই ক্ষতি।

রসের হাঁড়ি ফোকলা দাদু

রসের হাঁড়ি ফোকলা দাদু  মনে রোমান্স বেশ, ছড়ায় ছন্দে কাব্য লিখেন  পাকা মাথার কেশ। দাদুর লেখা পড়ে সবার  হৃদয় নেচে উঠে, তাইনা দেখে দিদা আমার  মরে মাথা কুটে। একদিন দিদা ফেইসবুকেতে  ফ্রেণ্ড রিকুয়েস্ট দেয়, সুন্দর ছবি দেখে দাদু  একসেপ্ট করে নেয়। শুরু করে প্রেমের চ্যাটিং  শিউলি রূপী দিদা, এমন ফাঁদ পাতলো সে যে  করবে দাদু সিধা। চ্যাটিং শেষে ফোকলা দাদু  দেখা করতে চায়, স্থান কাল লিখে দিদা  ঝাড়ু হাতে যায়।

শান্তির তরে

মানব তোমায় সেরা রূপে  সৃষ্টি করলেন প্রভু, শ্রেষ্ঠ হয়েও সৃষ্টিকর্তা  চিনলে না তো কভু। ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে  নিজের স্বার্থ দেখো, সৃষ্টির সেবাই স্রষ্টার সেবা  সেটা মনে রেখো। জ্ঞান বুদ্ধিতে শ্রেষ্ঠ হয়েও  বিপথে কেন চলো, অজ্ঞ জনে পথটি দেখাও অন্ধজনে আলো। ত্যাগী হয়ে জীবন গড়ো ধর্ম কর্ম মানো, সকল ধর্মের সার এক সত্য পথটি জানো। সৃষ্টিকর্তার বিধান মানো চলো তার ই পথে, দু জাহানে শান্তি পাবে  নিজের জীবন রথে।

স্যারের ভুল

গণিতের স্যার ক্লাসে এসে  নিলেন অঙ্ক পরীক্ষা, যা কিছু পড়ালেন তাহাই প্রশ্ন  দিয়েছেন ভালো শিক্ষা। পল্টু পেয়েছে একশতে দশ ভাবছে অনেক কম, কোনো নম্বর পায়নি বল্টু  পেয়েছে জিরো একদম।   বল্টু স্যারকে প্রশ্ন করে  " উত্তর করেছি ফুল, তবুও কেনো জিরো পেলাম কোথায় হয়েছে ভুল? " স্যার বললেন,' মার্ক্স পাওনি  করেছো তুমি ভুল,  কোথাও না কোথাও সব অঙ্কের  হয়ে আছে গণ্ডগোল।"  "স্যার আমার অঙ্কে ভালো  আমি তারই ছাত্র, খাতায় যা লিখিয়েছেন  তা দেখে লেখেছি মাত্র। " দেখে লিখেছ বলেই তো  অঙ্ক হয়েছে ভুল, কিছুটা আমি সংক্ষেপে লিখেছি  তা করোনি ফুল। বল্টু বলল,' তা বটে তা বটে স্যার  আমি তো ছাত্র গাধা, ফুল না করাতে ভুল তো আপনার  কেন দিলেন না আধা।' পরীক্ষায় তো খাতা দেখে লিখেছি  ছাড়িনি এক চুল, বোঝানোর সময় সংক্ষেপে বোঝালে  সেটা তো স্যারের ভুল।'

দীক্ষা

রাক্ষুসে এক রাজা ছিল নামটি গঙ্গারাম, মুরগী মাটন রোজই খেতো শোভা থেকে শাম। যতই পেতো ততই খেতো অপূর্ব এক ভুঁড়ি, একদিন সে মুরগী খেলো পুরো এক কুড়ি। ওয়েটার এসে বলল হেসে, 'আর কিছু কি চাই?' হেসে হেসে বলল গঙ্গা,' মাটন কি আজ নাই?' অমনি সেথায় এসে গেল আলু মাটন কারি, এতো সব খেয়ে গঙ্গার পেটটা হলো ভারী। ভরা পেটে আরও খেলো ফলফলাদি কেটে, অধিক ভোজন করার ফলে পেটটি গেলো ফেটে। কেউবা হাসছে কেউবা কাঁদছে কেউবা ডাকছে বৈদ্য, আজব কান্ড দেখে আবার কেউবা লিখছে পদ্য। মরে গেলো গঙ্গারাম দিয়ে গেলো শিক্ষা , অধিক ভোজন করোনা কেউ এটাই হলো দীক্ষা।