পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

যমের দুয়ারে কাঁটা

সকাল থেকে চলছে ঘরে  হাসিখুশির গান, বোনের সাথে মিলবে ভাই খুশিতে ভরে প্রাণ। সাজিয়ে থালা ধান দূর্বায়  মিষ্টি আনে কিনে, কথাটা ছিল আসবে দাদা  ভাইফোঁটার দিনে। দেশ রক্ষায় সীমান্তে দাদা  আসবে কিনা পাছে, অপেক্ষাতে প্রহর গুনে সে পথটি চেয়ে আছে। ঠিক তখনই বাজলো ফোন  চেয়ে দেখলো দাদা, বললো,' বোন ক্যামনে আসি  সীমান্তে শত্রু গাদা।' ক্রন্দন রোলে ফোনেই বলে  ' আজ যে ভাইফোঁটা, শত্রুর তরে দিলাম এবে  যমের দুয়ারে কাঁটা।' বোনের বর যায়নি বৃথা  নিধন করে অরি, আসলো ফিরে ভাইটি তার  বোনের কথা স্মরি। ভাইফোঁটার পবিত্র দিন আসুক ঘুরে ফিরে, সব ভাইবোন সুখে থাক ভব নদীর তীরে।

চা দোকানের বুদ্ধিজীবী

চায়ের পেয়ালায় তুফান উঠে  রোজই সন্ধ্যাবেলা, চা দোকানের বুদ্ধিজীবী  বসায় রঙের মেলা। নিজের খেয়ে পরের কেচ্ছা  এইতো তাদের পেশা, সকল লোকের খবর রাখে  এ যেন এক নেশা। অন্যের সুখ সহ্য হয় না  হিংসায় জ্বলে পুড়ে, অকর্মন্য জীবন তাদের  এরা ভীষণ কুঁড়ে। পরচর্চা পর নিন্দায় কাটায় দিবস রাতি, নিজের ঘরটা আঁধার রেখে  জ্বালায় সেথায় বাতি। কথায় কথায় তর্ক করে  হার কভু না মানে, পরের কেচ্ছায় পকেট খালি  চায়ের চুমুক টানে।

আসল গুগল

স্কুল যাচ্ছে নাতি নাতনি কুয়াশা ভেজা প্রাতে, দাদু যাচ্ছে সঙ্গে তাদের লাঠি নিয়ে হাতে। প্রাতঃভ্রমণ করতে করতে গল্প বলেন দাদু ,  চরিত্র আর নীতি শিক্ষার এ যেন এক জাদু। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত দাদু বসেন পথের ধারে, কপালে তাঁর চিন্তার ভাঁজ দোষটা দিবেন কারে? আজকালকার ছেলেমেয়েরা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত, হ্যালো গুগল হাই গুগল এনিয়েই সব সন্ত্রস্ত । পড়ার নামে মোবাইল ঘাঁটা এ যেন এক নেশা, দুর্নীতি তাই বাড়ছে দেশে বাড়ছে বাজে পেশা। আসল শিক্ষা নীতি শিক্ষা মোবাইলে কি পেল? দিবানিশি গুগল ঘেঁটে বলো কি লাভ  হলো? ভাবতে ভাবতে বলেন দাদু গোল্লায় গেল দেশ, নীতি কথা আর গল্প কথায় মানুষ বানায় বেশ। বুঝলে তারা শিখবে অনেক দাদুর সাথে হেঁটে, পাবেনা কেউ এমন শিক্ষা দিনরাত গুগল ঘেঁটে। গল্পের মাঝেই নীতি শিক্ষা গুণীজন যা খুঁজে,  দাদুরাই তো আসল গুগল সেটা ক'জন বুঝে।

একটা অবলা জীবের জন্য

সে অনেক আগের কথা। রণজয় বাবু একবার তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে শহরে মেলা দেখতে গিয়েছিলেন। ছেলেমেয়েদের বায়না পূরন করতে করতে আর এটা সেটা কেনাকাটা করতে করতে রাত অনেক হয়ে গিয়েছিল। মেলা শেষ করে যখন তারা বেরিয়ে আসছিলেন, রাত তখন প্রায় এগারোটা।  কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তার উপর একটা কুকুরের বাচ্চা তারা দেখতে পান। হলুদ- সাদা রঙের ডোরাকাটা,বাচ্চাটি রাস্তায় পড়ে কাতরাচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে এইমাত্র কোন একটা গাড়ি হয়তো এটাকে পার্শ্ব চাপা দিয়ে চলে গেছে। রণজয় বাবুরা চলে যাচ্ছিলেন কিন্তু হঠাৎ বাচ্চাটা একটু বড়ো করে চিৎকার করায় দিয়ার কেমন যেন দয়া হলো। দিয়া মানে রণজয় বাবুর মেয়ে। বয়স চার কিংবা পাঁচ বছর হবে। সে হঠাৎ সেখানে দাঁড়িয়ে পডলো, বাবাকে বললো,' বাবা, দেখো দেখো, কেমন সুন্দর ডোরাকাটা বাঘের বাচ্চা ঠিক যেন আমার বইয়ের ছবির মতো। কী সুন্দর বাচ্চা, আহারে! বেচারা।' লাইটপোস্টের আলোতে বাচ্চাটিকে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছিল। রণজয় বাবু একটু নাড়াচাড়া করে দেখে বললেন,' মনে হচ্ছে, গাড়ি ধাক্কা মেরে ওর কোমর টা ভেঙ্গে দিয়েছে।' এই বলে তিনি দিয়াকে বললেন,' এটা একটা কুকুরের বাচ্চা, চ...

যাদের ভয়ে

এমন মানুষ এই সমাজে  সদাই বসত করে, একটু সুযোগ পেলেই যারা  পরের কেচ্ছা ধরে। নিজেকে সে জ্ঞানীভাবে  যেন সবই জানে, পরের কাজে নাকটি গলায় থাকে পরের ধ্যানে। পরের সুখ সহ্য হয়না  হিংসার আগুন জ্বলে, বিষিয়ে দেয় অন্যের কান মিথ্যা মন্দ বলে। পরের দোষ খুঁজে বেড়ায় নিজের দোষটা ঢেকে, চায়ের পেয়ালায় তুফান উঠায় নিজের কাজ রেখে। এদের বুকে সদাই থাকে হিংসা নিন্দার ঢেউ , যাদের ভয়ে ভীত মানুষ ভালো নেই কেউ।

মনের মানুষ

আপন করে ভাবছো যারে  সেতো আপন নয়, আপনজনের কাছেই থাকে  যত ক্ষতির ভয়। মনের যত গোপন কথা  আপনজনই জানে, সুযোগ বুঝে তাইতো ওরা  মারতে পারে প্রাণে। ভাবছো যারে মনের মানুষ  থাকবে শোকে দুঃখে, সরলতার সুযোগ নিয়ে  তীর মারবে বুকে। বহিঃ শত্রু সে তো ভালো  সামনে আঘাত করে, বীরের মতো লড়ার সুযোগ  থাকে নিজের 'পরে। আপনজনা স্বার্থের তরে  পেছন থেকে মারে, শক্তি সাহস যতোই থাক তবুও মানুষ হারে।

আমার সোনার গাঁয়

গাঁয়ের হাঁটেতে সবুজ মাঠেতে  নির্মল হাওয়া তায়, রূপে অপরূপ শস্য শ্যামল আমার সোনার গাঁয়। বাঁকা পথ পাশে ছোট নদী বহে  পাশে আছে কত গাছ, শাখায় শাখায় পাখি গেয়ে যায়  কভু বা দেখায় নাচ। দেখবি বন্ধু আঁকাবাঁকা পথে  ফল ফুল সারি সারি, গাঁয়ের বধূরা নদী ঘাটে যায় পরে থাকে ছাপা শাড়ি। যেদিকে তাকাই মাঠ ভরা ধান  ফলে আছে রাশিরাশি, ফলায়ে ফসল কৃষকের দল সদা রাখে মুখে হাসি। শহুরে মানুষ মুঠোফোনে দেখে  অপূর্ব সে দৃশ্য সবি, এসো না বন্ধু আমাদের গাঁয়ে  তুলে নিবে সেই ছবি।

রাখির সোনার দামে

হারিয়ে যাচ্ছে বাংলা ভাষাটা  সকলে বলতে শুনি, শহীদ দিবসে ঘটা করে সবে  কতো না কাব্য বুনি। সারাটা বছর হেলায় খেলায় মিশ্র ভাষাই চলে, বাংলাকে ছেড়ে ইংরাজি খুঁজি  ওজন বাড়াব বলে। ধার করে এনে অপরের ভাষা  নিজেকে জাহির করি, মায়ের ভাষার করি অপমান  সারাটা জীবন ধরি। বাঙালি হয়ে শিশুকে পড়াতে  ইংরাজি ভাষা খুঁজি, মাতৃভাষায় পড়াটা সহজ  সেকথা ক' জনে বুঝি। কেন এ অনিহা বাংলার প্রতি  অন্য ভাষার নামে, এসো সকলে এ ভাষার নাম  রখিব সোনার দামে।