পোস্টগুলি

জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দীর্ঘতম সেতু

শিরোনামঃ মিলন সেতু  রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -২৮/০১/২০২৫ মনেতে মানুষ স্বপ্ন সাজায়  সুখের স্বপ্ন আঁকে, জোড়বে কি কভু ভাঙা হৃদয়  ভাবনার মাঝে থাকে। ঘুচিয়ে আঁধার ফুটবে কি আলো জীবন চলার রথে? হাজার মনের স্বপ্ন আশা  পূরণ হওয়ার পথে।  এপার থেকে ওপার উনিশ কিমি  মাঝেতে নদীর ঢেউ, ধুবড়ি ফুলবাড়ী মিলন সেতু  বিশ্বাস করেনি কেউ! স্বপ্ন হলেও সত্যিই বটে   দেখলাম নিজের চোখে,  চলছে কাজ জোর কদমে  সুখের পরশ মেখে। পনেরো মিনিটে যাবে ছয় ঘণ্টার পথ বাঁচবে সময় বেশ, হচ্ছে ভারতের দীর্ঘতম সেতু  কাটছে দুঃখের রেশ। যোগাযোগ ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে  বাড়লো দেশের মান, ইতিহাসের পাতায় প্রথম দশে  এশিয়াতে পাবে স্থান। লোহা কংক্রিটের নির্মিত সেতু দাঁড়িয়ে থাকবে ঠায়, লঞ্চ ও নৌকার যাতায়াত দৃশ্য  থাকবে স্মৃতির পাতায়।

দেহের কারিগর

  দেহেরি ভিতর আছে কারিগর  বুঝে নিতে হবে ভাই , মহলের মত নয়টি দরজা  এঁটে দিয়েছেন সাঁই। এদেহ রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী  পাঁচ জন থাকে কাছে, মোতির মালাটি ছিনে নেয় কেউ  কার সে সাধ্য আছে! ছয় ডাকাতে বুদ্ধি করে সদা  কেমনে ধ্বংসিবে রসে, তাইতো তারা কুমন্ত্রণা দেয়  দিবানিশি পাশে বসে। এদের প্রভাবে প্রভাবিত হলে মানবতা পায় লোপ, সততা হারায়ে কুকর্ম করে  বদলায় তার রূপ। সাধক যারা করে আরাধনা  রাখেন এদেরে বশে, তখনি ডাকাত অশান্ত হয়ে  পালাবার অঙ্ক কষে।

যায়না তো ভুলা

  শিরোনামঃ যায়না তো ভুলা  কলমে হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ২৯/১১/২০২৫ বসে যবে বাতায়নে         লিখে যাই আনমনে                আঁখি পাতা ভারী হয়ে উঠে। লিখিব যাহার কথা        মনে এলে পাই ব্যথা                 কলমেতে কথা নাহি ফুটে। ছিল সে যে সুনয়না         এক অনন্য ললনা                 ভালোবেসে এসেছিল তায়। নামটা ছিল যে রেখা       নদীতীরে পাই দেখা                    সূর্যাস্তের রঙিন আভায়। বলেছিল পাশে বসি      দিল খোলে ভালোবাসি                      স্বর্ণালী সেই সন্ধ্যায়। কোথা থেকে ঝড় এসে    ছিনিয়ে নিল যে শেষে                      চেয়ে দেখি আমি একা তায়। বহুদিন হয়ে গেছে...

সন্তান

  শিরোনামঃ সন্তান  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -১৪/১১/২০২৫ শ্যামলাল ফোকলা দাদুর  কর্মক্ষম ছেলে, নিজ ছেলেকে মানুষ করতে  যায় বাবাকে ফেলে। শহর গিয়ে সফল হলো ছেলে হলো ডাক্তার, পথের কাঙাল ফোকলা দাদু  খবর নেয়নি আর। দিন যায় ক্ষণ যায়  ছেলে সুখী ভবে, ফোকলা দাদু চেয়ে আছে  ছেলে আসবে কবে। শ্যামলালের ডাক্তার ছেলে  প্রেমে মজে তায়, বিয়ে করে বৌকে নিয়ে  মাদ্রাজ চলে যায়। স্বপ্ন শ্যামের সফল হলো  ডাক্তার হলো ছেলে, ঔষধ কেনার পয়সা নেই  ছেলে গেল ফেলে। মা বাবাকে ভুলে সবাই  ছেলের সুখ চায়, নিজেও একদিন বাবা হবে  সেটা ভুলে যায়। সন্তানের সুখ সব বাবাই চায়  এই পৃথিবীর তলে, 'যেমন কর্ম তেমন ফল ' ইতিহাস কথা বলে। ( রচনাকাল -১৪/১১/২০২৫)

জানতেন যদি আগে

  যার কারণে এই পৃথিবী সৃষ্টি করলেন প্রভু, তারাই আবার ধ্বংস করবে  ভাবেননি তো কভু। মারামারি হানাহানি  চলছে বিশ্ব জুড়ে, এসব দেখে সৃষ্টিকর্তা  লজ্জায় মরেন পুড়ে। সবুজ সুন্দর এই পৃথিবী  সুন্দর রাখার তরে, মানুষকেই শ্রেষ্ঠ রূপে  দিলেন ধরার 'পরে। সৃষ্টি করলেন শ্রেষ্ঠ রূপে  হায়রে মানব জাতি, লোভ লালসা হিংসায় কেন  থাকে আঁচল পাতি। শ্রেষ্ঠ মানব দানব হবে  জানতেন যদি আগে, পশুকেই শ্রেষ্ঠ করতেন  সোনার কুসুম বাগে।

মানুষকে বাসো ভালো

  শিরোনামঃ মানুষকে বাসো ভালো  কলমে:হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ: ১৯/১১/২০২৫ জ্ঞান বুদ্ধিতে শ্রেষ্ঠ মানুষ  জ্ঞানের বহর কই? হিংসা বৃত্তি মনে আছে তব ভাবলে অবাক হই! স্বার্থের তরে অন্ধ হয়েই  হানাহানি করে বাঁচ, মানবতাবোধ কোথায় তোমার  নিজেকে নিয়েই নাচ। গরীব দুঃখী অনাথ আতুর  না খেয়েই মরে পথে, এদের কথাটা ভাবনায় নেই  চলছো সোনার রথে। জাতি ধর্মের বিভেদ ঘুচাতে  সকলে সমান দেখো, এক স্রষ্টার সৃষ্টি সকল কথাটা মনে রেখো। হিংসা বৃত্তি ত্যাগ করে তাই মানুষকে বাসো ভালো, জীবের সেবাই স্রষ্টার সেবা  সেবা করে জ্বালো আলো।

চ্যাটিং

  শিরোনামঃ চ্যাটিং  রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ২০/১১/২০২৫ রসের হাঁড়ি ফোকলা দাদু  মনে রোমান্স বেশ, ছড়ায় ছন্দে কাব্য লিখেন  পাকা মাথার কেশ। দাদুর লেখা পড়ে সবার  হৃদয় নেচে উঠে, তাইনা দেখে দিদা আমার  মরে মাথা কুটে। একদিন দিদা ফেইসবুকেতে  ফ্রেণ্ড রিকুয়েস্ট দেয়, সুন্দর ছবি দেখে দাদু  একসেপ্ট করে নেয়। শুরু করে প্রেমের চ্যাটিং  শিউলি রূপী দিদা, এমন ফাঁদ পাতলো সে যে  করবে দাদু সিধা। চ্যাটিং শেষে ফোকলা দাদু  দেখা করতে চায়, স্থান কাল লিখে দিদা  ঝাড়ু হাতে যায়।

রাখিতে সতেজ প্রাণ

  শহর জুড়ে ছেয়ে আছে  আবর্জনার স্তূপ, দূষিত বায়ু কালো ধোঁয়া  যেন মরণ কূপ। তারই মাঝে কলকারখানা  দূষিত পানীয় জল, পথ পাশে সর্বনাশে ঘৃণণীয় সব মল। শহর জুড়ে শুধুই জানজট ধুসর কালো ছায়া, তাইতো আজি সবাই খোঁজে  সবুজ গাঁয়ের মায়া। যেথায় আছে সবুজ সুন্দর  বন বনানী ঘেরা, স্নিগ্ধ শীতল মুক্ত হাওয়া  বাঁচার তরে সেরা। গাঁয়ের হাটেতে সবুজ মাঠেতে  পাই যে ফুলের ঘ্রাণ , সকলেই খোঁজে শান্তির নীড়  রাখিতে সতেজ প্রাণ।

নেশায় হলো সংসার নষ্ট

  গঙ্গারামের তিনটি ছেলে  যাচ্ছে জীবন হেসে খেলে, ধনসম্পত্তি বেজায় আছে  মদ খেয়ে সে পথে নাচে। বড় ছেলে বিদেশ থাকে  সে ই বাবার খবর রাখে, একটু আধটু নেশা করে  বাবার পথটা সেও ধরে। মেজো ছেলে রিক্সা চালায়  দিবস শেষে বিশ টাকা পায়, প্রেম করেছে করবে বিয়ে  বাবা বলে খাবে কি দিয়ে। কনিষ্ঠটি তবলা বাজায়  যাত্রা দলে পাঁচ টাকা পায়, সুযোগ পেলেই নেশা করে  মাঝে মাঝে পুলিশ ধরে। হারিয়ে টাকা তাকে তাকে  গঙ্গা এবার পড়ল ফাঁকে, রোগে ভুগে পেলো কষ্ট  নেশায় হলো সংসার নষ্ট।

ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া

  শিরোনামঃ ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ২৩/১০/২০২৫ ঘোর আঁধার কাটিয়ে এলো শুক্লা দ্বিতীয়া তিথি, ভাইবোনের প্রীতির বন্ধন  এটাই প্রাচীন রীতি। ধান দুর্বা ধূপ ধুনো  তাহে চন্দন ফোঁটা, সাজায়ে থালা মিষ্টি সহ ফলফলাদির ঘটা। বোনের আকুতি ভাইয়ের তরে  নাথাকে যেন কাঁটা, মঙ্গল কামনায় ভাইয়ের কপালে  দিয়ে থাকে শুভ ফোঁটা। এক ই রক্ত দোহার দেহে  থাকে নাড়ীর টান, ভাইবোনের বিভেদ ঘুচাতে  ভাইফোঁটার অবদান। বোনের সুরক্ষায় অটুট অঙ্গীকার  ভাইই সবার আগে, যমের শমন এলেও ভাই  ফিরিয়ে দেয় ত্যাগে। হিংসা নয় ভ্রাতৃত্ববোধ  জাগুক সবার মনে, সবারে জানাই শুভ ভালোবাসা  ভ্রাতৃ দ্বিতীয়ার ক্ষনে।

আঁধারেতে আলো

  শিরোনামঃ আঁধারেতে আলো  রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ: ২০/১০/২০২৫ আঁধারেতে আলো    লাগে বড় ভালো                সারি সারি জ্বলে বাতি, পথে ঘাটে হাটে        কত বম ফাটে               আলোকিত সারা রাতি। অসুরের দল        করে নানা ছল                মানবতা পায়ে দলে। কালী রূপে দেবী     নাশিতে এ সবি               আসেন ধরণী তলে। তাইতো এ রাতে      মিলে সব সাথে                প্রেমেতে হৃদয় ভরি। সবার সকাশে       অশুভ বিনাশে                   মনটা শুদ্ধ করি। শুভদীপ জ্বালি   প্রেম প্রীতি ঢালি                ঘুচে যাক যত জরা। হিংসা বিদ্বেষ       হয়ে নিঃশেষ    ...

সঠিক কাজে সুখের ধারা

  জীবন রথে চলার পথে  শতেক বাধা আছে, থাকলে ভীতি মনের মাঝে  বিফল হবে পাছে। ভেবেচিন্তে করবে কাজ প্রতি ক্ষণে ক্ষণে, হারতে কভু হয়না যেন  জীবনের এই রণে। ভালো কাজের ফসল ভালো  সর্ব লোকে কয়, জীবন মাঝে আলোর ধারা  হয় যে শান্তিময়। মৌমাছি আর ভ্রমর যদি বসে কাগজ ফুলে, অনাহারী থাকবে তারা  আপনারই ভুলে। জীবন পথে ভুলের ফলে  মাশুল দিতে হয়, সঠিক কাজে জীবন মাঝে  সুখের ধারা বয়।

কে নিবে ভাই তুলে

  শিরোনামঃ কে নিবে ভাই তুলে  কলমে হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -১৮/১০/২০২৫ ধন সম্পদ আর বাহুবল  সেতো বালির বাঁধ, না বুঝে ভাই মর্মকথা  মিটাও মনের সাধ। ভাবছো তুমি সবার সেরা  এই ধরণীর তলে, যা খুশি তা করছো বন্ধু  আপন শক্তি বলে। চলতে চরণ মাটি ছোঁয়না অহঙ্কারী সাজ, বুঝবে ঠেলা যেদিন পড়বে  মাথার উপর বাজ। এই জীবনে দেখলাম কত  শক্তিশালী রাজা, শেষ সময়ে আপন কর্মের  ভুগতে থাকে সাজা। আপনজনকে এড়িয়ে চলো মানবতা ভুলে, পতন যেদিন হবে তোমার  কে নিবে ভাই তুলে।

যাদের ভয়ে

  শিরোনামঃ যাদের ভয়ে  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ১১/১০/২০২৫ এমন মানুষ এই সমাজে  সদাই বসত করে, একটু সুযোগ পেলেই যারা  পরের কেচ্ছা ধরে। নিজেকে সে জ্ঞানীভাবে  যেন সবই জানে, পরের কাজে নাকটি গলায় থাকে পরের ধ্যানে। পরের সুখ সহ্য হয়না  হিংসার আগুন জ্বলে, বিষিয়ে দেয় অন্যের কান মিথ্যা মন্দ বলে। পরের দোষ খুঁজে বেড়ায় নিজের দোষটা ঢেকে, চায়ের পেয়ালায় তুফান উঠায় নিজের কাজ রেখে। এদের বুকে সদাই থাকে হিংসা নিন্দার ঢেউ , যাদের ভয়ে ভীত মানুষ ভালো নেই কেউ।

মানবতার ছোঁয়ায়

  শিরোনাম: মানবতার ছোঁয়ায়  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ২৭/০৯/২০২৫ প্রকৃতিতে রং লেগেছে  সাজছে নতুন সাজে, ঢোলের মাঝে ঢাক পড়েছে  পূজোর বাদ্য বাজে। বছর পরে আসছে ঘুরে  শারদ খুশির দিন, নতুন পোশাক পরবে সবাই  বাজবে খুশির বীণ। আগমনীর বার্তা পেয়ে  খুশির শেষ নাই, মনের আঁধার কাটবে এবার  ভাবছি বসে তাই। অশুভ শক্তির বিনাশ হবে  সবাই সেই আশায়, দীন দুঃখীর মুখে হাসি ফুটবে  মানবতার ছোঁয়ায়।

শোকে কিংবা দুখে

  কথা ছিল তোমার আমার  বাঁধবো দুজন ঘর, শেষে দেখি অল্পদিনেই  হয়ে গেলে পর। স্বপ্ন ছিল মনের মাঝে  থাকবো দুজন সুখে, মনের স্বপ্ন মনেই রইল তীর মারলে বুকে। যতোই তুমি যাওনা সরে  থেকো যতোই দূরে, সারাজীবন থাকবে তুমি  আমার হৃদয় জুড়ে। আমার পুরো জীবনটাই যে  তোমার তরে রাখা, তুমি ছাড়া এই পৃথিবী আমার কাছে ফাঁকা। তবুও তোমায় বলবো প্রিয়  থেকো অনেক সুখে, মনে রেখো শুধু আমায়  শোকে কিংবা দুখে।

মা

  শিরোনাম: মা কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ১৩/০৯/২০২৫ স্বার্থের তরে অন্ধ সবাই  বন্ধ ঘরে রয়, ভালোর ভাগটা সবাই চায়  মন্দ কভু নয়। কেমন যুগ এলো রে ভাই  উল্টা গাড়ি চলে, শিক্ষিতের চেয়ে মূর্খ ভালো  সত্যি কথাই বলে। আপন থেকে পর ভালো  কভু হেলা নাহি করে, হিংসা কভু করে না তারা  ভালো দেখলে পরে। সন্তানের সুখে মা সুখী যদি পাশে থাকে, সকল দুঃখ দূর হয়ে যায়  যখন মা ডাকে। বড়ো হয়ে সেই মায়েরে  আঘাত দেয় যারা, পদে পদে হোঁচট খায়  হয় যে সর্বহারা।

শুভ্র শরৎ

  শিরোনাম: শুভ্র শরৎ  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ - ৩০/০৮/২০২৫ পূর্বাকাশে রবির আলো  ঝিলমিলিয়ে হাসে, শিশির ছোঁয়ায় দুর্বা ঘাস  রূপ সাগরে ভাসে। ফুল কুড়াতে খোকা খুকি  সাজি নিয়ে চলে, গুনগুনিয়ে মৌমাছিরা  ফুলের কোলে দোলে। শুভ্র শরৎ শিশির কণা  শিউলি ফুলের গায়ে, বধুরা যায় জল আনতে  সোনার নূপুর পায়ে।  নীল আকাশে সাদা বক  ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে, শাপলা শালুক ফুলের বাগান  ফুলে ফুলে জোটে। মন ভুলানো প্রকৃতির এই  প্রেমের দৃশ্য দেখে, কবির মনে সুখের পরশ  তাইতো কাব্য লিখে।

অস্থায়ী এই ভুবনে

  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ২৮/০৮/২০২৫ এই ভুবনে আমরা যারা  মানুষ রূপে এসেছি, সুখের পিছে ছুটতে গিয়ে  পাপ দরিয়ায় ভেসেছি। স্বার্থের তরে অন্ধ হয়ে  ভালো মন্দ বুঝিনি, টাকার পাহাড় গড়তে গিয়ে  আপনজনকে খুঁজিনি। একই স্রষ্টার সৃষ্টি সবাই  তবু বিভেদ গড়েছি, ধর্মের নামে জাতির নামে  ভাইয়ে ভাইয়ে লড়েছি। সৃষ্টির সেরা মানুষ হয়ে  সৃষ্টির সেবা ভুলেছি, স্রষ্টা ভুলে তাঁরই সৃষ্টি  ধ্বংস সদাই করেছি। কিসের বড়াই করি মোরা  অস্থায়ী এই ভুবনে, ধন জন বাড়ি গাড়ি  কাজ আসেনা মরণে। হিংসা বিদ্বেষ লোভ লালসা  কেন পুষি জীবনে, মানবতাবোধ জাগিয়ে তুলি  অমর থকবো ভুবনে।

গুগল ঘেঁটে

  শিরোনাম: গুগল ঘেঁটে  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ২৬/০৮/২০২৫ স্কুল যাচ্ছে নাতি নাতনি কুয়াশা ভেজা প্রাতে, দাদু যাচ্ছে সঙ্গে তাদের লাঠি নিয়ে হাতে। প্রাতঃভ্রমণ করতে করতে গল্প বলেন দাদু   চরিত্র আর নীতি শিক্ষার এ যেন এক জাদু। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত দাদু বসেন পথের ধারে, কপালে তাঁর চিন্তার ভাঁজ দোষটা দিবেন কারে? আজকালকার ছেলেমেয়েরা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত, হ্যালো গুগল হাই গুগল এনিয়েই সন্ত্রস্ত । পড়ার নামে মোবাইল ঘাঁটা এ যেন এক নেশা, দুর্নীতি তাই বাড়ছে দেশে করছে বাজে পেশা। আসল শিক্ষা নীতি শিক্ষা মোবাইলে কি পেল? দিবানিশি গুগল ঘেঁটে কি লাভ হবে বলো? ভাবতে ভাবতে বলেন দাদু গোল্লায় গেল দেশ, নীতি কথা গল্প কথা মানুষ বানায় বেশ। বুঝলে তারা শিখবে অনেক দাদুর সাথে হেঁটে, পাবেনা কেউ এমন শিক্ষা দিনরাত গুগল ঘেঁটে।

সবার চাই টাকা

  শিরোনাম: সবার চাই টাকা  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ২৫/০৮/২০২৫ টাকা ছাড়া যায়না বাঁচা  সবার চাই টাকা, টাকার তরে ধনী গরীব  সবার পকেট ফাঁকা। সবাই ছুটে টাকার পিছে  এ যেন এক নেশা, টাকার লোভে কত মানুষ  করে বাজে পেশা। টাকায় যদিও সব কেনা যায়  যায়না বিশ্বাস কেনা, বাকি থাকে প্রেম ভালোবাসা  মনুষ্যত্বের দেনা। টাকার নেশায় ভুলে মানুষ  নিত্য আপনজন, ভাবনাটা হয়না তাহার  আয়ু কতক্ষণ? দিবানিশি কষ্ট করে  টাকার পাহাড় গড়ে, ভুলে যায় সেই টাকাটাই  রইবে ঘরে পড়ে।

নারী নামের কলঙ্ক

  শিরোনাম: নারী নামের কলঙ্ক  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ২৫/০৮/২০২৫  কবির লেখা হাসায় কাঁদায়  যদি লিখতে পারি, ভাঙ্গা গড়া সংসার সুখ   দিতে পারে নারী। নারী জাতি কোমল অতি  যেমন হাড় ছাড়া জিব, ভাঙ্গা হৃদয় জোড়া লাগায়  জিব যদি হয় শিব। কোমল হৃদয় ভাঙতে পারে  সহধর্মিণী নারী, মৃত্যু যেমন দিতে পারে  ইঞ্জিন ফেল গাড়ি। নারীর শক্তি অগ্নি সম  কভু কোমল জল, বাঁচাতে পারে মারতে পারে যদি হয় খল। পর পুরুষে মত্ত নারী  কতো ছল জানে, আদর সোহাগ অভিনয়ে  প্রাণে আঘাত হানে। কাল নাগিনী কালসাপিনী নারীর রূপের নাম, তার কারণে কতো পুরুষ  ছাড়ে সোনার ধাম। রীনার মতো নারী যারা  বিফল স্বপ্ন দেখে, ধ্বংস হলেও নারী নামের   কলঙ্ক যায় রেখে।  ওর মতো বউ কারো জীবনে  আসেনা যেন আর, বিজুর মতো সোনার সংসার  হোকনারে ছারখার।

শরতের ছোঁয়া

  শিরোনাম: শরতের ছোঁয়া  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ২৩/০৮/২০২৫ ভাদ্র মাসে আকাশ জুড়ে  সাদা মেঘের খেলা, কভু বৃষ্টি কভু রৌদ্র  কাটে সারা বেলা। ভোরের আলো লাগে ভালো  হাওয়ায় ফুলের ঘ্রাণ, শরতের ওই মৃদু ছোঁয়ায়  ভরে উঠে প্রাণ। প্রভাত রবির রঙিন ছবি  পূর্বাকাশের কোণে, গান গেয়ে যায় বাউল কবি  একতারারই ধোনে। মেঘ বালিকা নীলাকাশে  উড়ে উড়ে চলে, সবুজ মাঠের দৃশ্য দেখে  হৃদয় কথা বলে। ঘরে ঘরে তালের পিঠা  রসের কথা কয়, ইলশে গুঁড়ি ইলিশ মাছের  ঝুলটা সাথে রয়।

মুক্তির তরে

  শিরোনাম: মুক্তির তরে  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ০৯/০৮/২০২৫ দুদিনের এই রং মহলে  করছি কত খেলা, মোহ মায়ায় ব্যস্ত থেকে  চলে যায় যে বেলা। ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে  ভুলে আপন জন, বাড়ি গাড়ি করছি সবাই  করে জীবন পণ। স্বার্থের তরে অন্ধ সবাই  বন্ধ বিবেক দ্বার, আমার আমার করেই চলি বুঝি না তো সার। দুদিনের এই রং মহলে  থাকবে না তো কেহ, আগে পিছে সবাই যাবো পড়ে থাকবে গেহ। তাইতো বলি এগিয়ে চলি  সেবার ভাবনা নিয়ে , অমর হয়ে থাকবো ধরায়  নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে।

জাগো হে জোয়ান বীর

  শিরোনাম: জাগো হে জোয়ান বীর  রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ১৫/০৮/২০২৫ তেরঙ্গা হাতে হাঁটছে খোকা  গর্বে ভরা বুক, তাইনা দেখে আপ্লুত দাদু  মুছছে দুটি চোখ। শোষণ তোষণ মুক্তি পেতে  কতো রক্ত ঝরে, হিসেব কি তার কেউ রেখেছে  স্বাধীনতার পরে? দেশবরেণ্য নেতারা সব ভাসছে স্মৃতি পটে, তাঁদের নীতি কেমন ছিল  ক্যামনে গেল টুটে। হেথায় চলে শোষণ নিপীড়ন  জাতি বিদ্বেষ গীতি, মানুষে মানুষে হানাহানি করে  হারিয়ে মানব প্রীতি। বৃটিশ রাজ তো শেষ হয়েছে  রয়েছে বিভেদ নীতি। কেন ভুলে যাই ভারতমাতার উদার সে সংস্কৃতি। ভারত মাতার সন্তান যদি  গায় বিভেদের গান, কেমনে সহিবে জন্মদাত্রী  কেমনে বাঁচাবে মান। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী  জাগো হে জোয়ান বীর, উড়াও তেরঙ্গা ঘুচাও বিদ্বেষ  গর্বে উঁচু শির।

প্রেম ভালোবাসা ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব স্থাপনে এক অনন্য উৎসব " বড়দিন"

  প্রবন্ধ: প্রেম ভালোবাসা ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব স্থাপনে এক অনন্য উৎসব " বড়দিন"। রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -১৬/১২/২০২৫ ২৫শে ডিসেম্বর বিশ্ব জুড়ে যীশু খ্রীষ্টের জন্মদিন অর্থাৎ বড়দিন, ছুটির দিন হিসাবে পালন করা হয়। এটি মূলতঃ খ্রীস্টানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও বর্তমানে সারা বিশ্বে আনন্দ ভালোবাসা, উপহার দেওয়া নেওয়া ও মিলনের মাধ্যমে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।  মর্যাদার দিক দিয়ে এটি একটি বড় দিন কারণ পৃথিবীর বিশাল জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষই খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বী এবং তারা যীশুর দেওয়া ধর্ম ও দর্শনের অনুসারী। এছাড়াও ইংরাজী দিনপঞ্জির হিসাবে ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ থেকে দিন বড় ও রাত ছোট হতে আরম্ভ করে তাই এই দিনটিকে বড়দিন হিসেবে পালন করা হয়।  বড়দিন কেবলই ছুটির দিন নয়। বরং ক্ষমা ভালোবাসা ও বিশ্ব শান্তি তথা বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে  সকলের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলার দিন। তাই এই দিনে বিশ্বজুড়ে চার্চ, স্কুল কলেজ, বাজার হাট, খোলা মাঠ সর্বত্রই , আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।  কোন কোন স্থানে এক্সমাস ট্রি (চিরসবুজ গাছ) লাগিয়ে তারকা রাজি জড়িয়ে আলোক সজ্জায় সজ্জিত করে উৎ...

আয়ু যখন শেষ

  হিংসা বৃত্তি লোভ লালসা  সদাই বিপথ টানে, লোভী মানুষ তাইতো ছুটে  ভোগবিলাসের পানে। স্বার্থের তরে অন্ধ হয়ে  টাকার পিছে ছুটে, মানবতা হারিয়ে তখন  খায় সে লুটেপুটে। বাড়ি গাড়ি অধিক ভোজন  সুখের সীমা নাই, অল্পদিনেই নানান রোগে  ঘিরে ফেলে তাই। জুলুম বাজির টাকার পাহাড়  হারায় মনের শান্তি, মৃত্যু মুখে দাঁড়িয়ে তখন  বুঝে মনের ভ্রান্তি। পাপের হিসেব দিতে হবে  বুঝতে পারে বেশ, নিজের ভুলটা বুঝে তখন  আয়ু যখন শেষ। পথে ধন কামিয়ে  বড়াই করে যারা, পরম পিতার রোষে পড়ে  হয় যে সর্বহারা।

ভুমি হীন

  শিরোনাম: ভুমি হীন কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর তারিখ ১৮/০৭/২০২৫ অচেনা শ্রমিক এক       থাকে ভিখারির বেক                   নদী চরে বাঁধিয়াছে ঘর। নাম পরিচয়  হীন           কোথাকার সেই দীন                    হেথা আসিল কেমনতর? কবে কে দিল তাহারে         হেথা ঘর করিবারে                      জপতপ করে দিনভর। রাজার আদেশে শেষে   ধরে তারে নিয়ে আসে                    সেদিন এক রাজার চর। বুঝতে পারলো না সে     কেনই বা  কিবা দোষে                  বন্দী করা হলো তারে আজ। সে যে গরীব বেচারা        দেয়না কেউ সাহারা                      করেনি খারাপ কোন কাজ। চর ধরে নিয়ে তারে  ...

নীতি ও প্রীতি

  শিরোনাম: নীতি ও প্রীতি  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -০৮/০৬/২০২৫ বিরেন বাবুর কপাল খারাপ  রেগে আগুন গিন্নি, হেসে কেন কথা বলে  পাশের বাড়ির তিন্নি। ' পাড়ায় এত লোক থাকতে  তোমায় কেন ডাকে, দাওয়ায় বসে দেখলাম আমি  কিছু দিচ্ছ তাকে।' বিরেন বলে- 'শোন কথা  নইতো আমি মন্দ, মিছিমিছি সদাই তুমি  কর আমায় সন্দ। বয়স হলো বৃদ্ধ হলাম  বিচার আচার করি, আসতে পথে ডাকল আমায়  হাতে পায়ে ধরি। স্বামীর উপর সন্দেহটা  সব নারীরই নীতি, কথায় কাজে শোষণ করে  দেখায় আবার প্রীতি।' আরো রেগে গিন্নি বলে  ছাড়ব না আজ জিন্দা, এই বয়সে লোক সমাজে  ছড়িয়ে দিবি নিন্দা।' পুরুষরা সব ভাবে কেন বিয়ে মানেই বোঝা, সত্যি কথা বলতে গেলে  স্ত্রীরাই রাখে সোজা।

কবির আসল ছবি

  শিরোনাম: কবির আসল ছবি  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -০৮/০৬/২০২৫ কুয়োর ব্যাঙে লাফায় বেশি  ভাবে এইতো ধরা , নিজেই নিজের গর্ব করে  ধরারে ভাবে সরা। ফেইসবুকেতে কাব্য লিখেন  আছেন অনেক কবি, মনে মনে ভাবেন বসে  হয়ে গেছেন রবি। নিজেই নিজের উপাধি দেন  সেজন কেমন কবি, লেখার মাঝে ফুটে উঠে  কবির আসল ছবি। কতো এলেন কতো গেলেন  হিসেব কি কেউ রাখে, নেশা যাদের কাব্য চর্চা  লিখেন কাজের ফাঁকে। আসল যারা কাব্য লিখে তারা থাকে সুপ্ত, সমালোচনার ধার ধারে না  থাকে তারা মুক্ত। আসল কবি লোভী নয়  কবি নামের তরে, সমাজ চিত্র তুলে ধরবে  তাইতো কলম ধরে। সফলতা আসলে কাজে  ভাসবে নিজের ছবি, লেখার মতো লেখা হলে লোকে বলবে কবি।

বরষা

  শিরোনাম: বরষা  কলমে হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ: ০১/০৬/২০২৫ নীলাকাশে কালো মেঘ   ছোটে চলে ঝড়ো বেগ                    আঁধারে যে ঘিরিছে সহসা। ধুলিমাখা ধরা তলে          জলরাশি এলো বলে                     এসেছে সে নবীন বরষা। চাঞ্চল্যে প্রকৃতি নাচে        স্বস্তির নিঃশ্বাসে বাঁচে                      ধুয়েমুছে দেয় পাপাচার। কি হয় কখন পাছে        বুঝার কি সাধ্য আছে                     স্রষ্টার মহিমা সারা সার। বৃষ্টি বৃষ্টি আর বৃষ্টি            মুষলধারে বৃষ্টি                    চারিদিকে শুধুই আঁধার। গগনে গর্জায় বাজ      ধরিত্রীর কালো সাজ               নেই কোথা আলো...

মামার পরিণতি

বনের রাজা সিংহ মশাই হিংসাই তার মনে, সকল পশুর মাংস খায় তাইতো থাকে বনে। ক্ষুধা লাগলে যখন তখন পশুর পিছে হাঁকে, প্রাণের ভয়ে পশুরা সব মামা বলেই ডাকে। উৎপাতে তার অতিষ্ঠ সব তাইতো যুক্তি করে, সুযোগ পেলেই জব্দ করবে টানবে কেশর ধরে। উপেক্ষা আর উৎপীড়নে দিনের পর দিন যায়, সকল চেষ্টাই ব্যর্থ সবার সুযোগ নাহি পায়। মিটিং মিছিল সবই হলো লাভ হলো না আর, সিংহের গলায় ঘন্টা বাঁধে এমন সাধ্য কার? শেয়াল পণ্ডিত ধূর্ত অতি মানে না তো হার, ' দেখে নেবো সিংহ টাকে' এই প্রতিজ্ঞা তার। একদিন যবে গর্ত মুখে ঘুমিয়ে ছিল মামা, ধূর্ত শেয়াল জ্বালিয়ে দিল আগুনের এক টেমা। হুঙ্কার দিয়ে উঠলো মামা হারালো তার বল, খুশি হয়ে সবাই বলে এতো পাপের ফল। জ্বলেপুড়ে মরলো মামা বাঁচলো সকল প্রাণী, শেয়াল পণ্ডিত সেদিন থেকে হয়ে গেল দামী। মরার আগে সিংহ মশাই বললো এক রাজ, 'কাউকে বেশি হেলা করো না পড়বে মাথায় বাজ।' মানুষ তাকে পণ্ডিত বলে কেউবা বলে ধূর্ত, আসলেই সে চালাক অতি সচরাচর মুর্ত।

সেতো আমি জানি

  শিরোনাম: সেতো আমি জানি  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ১০/০৭/২০২৫ কাজ করছে ফোকলা দাদু  লেবু গাছের নিচে, হুঁকো হাতে নাতি এসে  ঘুরছে পিছে পিছে। হঠাৎ দাদু বলে উঠেন  'দা' টা মোর কই?' দা কোথায় দা কোথায়  পড়লো হইচই। কে নিলো কোথায় নিলো  খুঁজছে সবাই মিলে, হাসতে হাসতে দিদা বলে  কান নিয়েছে চিলে। খুঁজছে হেথা খুঁজছে হোথা  খুঁজছে বাড়ি জুড়ে, হাতে দাদু দা'টা রেখে  মরছে জ্বলে পুড়ে। দিদা বলে 'কি যে হলো  মরি আমি লাজে, সদাই তুমি এমন করো  হরেক রকম কাজে।' লজ্জা পেয়ে দাদু বলে  'সব বেটারেই চিনি, হাতে মোর দা'টা আছে  সেতো আমি জানি।'

জীবনের চরম সত্য

  মানুষ জন্মায় শূন্য হাতে, আর এ পৃথিবী থেকে বিদায়ও নেয় শূন্য হাতে। মাঝে যে কয়টা দিন বেঁচে থাকে তার কর্মই তাকে পূর্ণ করে তোলে। এই পূর্ণতার জন্য সবচেয়ে বড় পাথেয় হলো—পরিশ্রম। আর সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো আলস্য। আলসেমি এমন এক মারাত্মক ব্যাধি, যা বাইরে থেকে চোখে পড়ে না, কেউ বুঝতেও পারে না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে মানুষকে নিঃশেষ করে দেয়। দিনের পর দিন সময় নষ্ট করে যে মানুষটি শুধু স্বপ্ন দেখে কিন্তু কাজ করে না—তার জীবনে দারিদ্র্য ছাড়া কিছুই আসে না। শুধু অর্থের দারিদ্র্য নয়, চিন্তা, মনন, আত্মবিশ্বাস—সবকিছুতেই একরকম শূন্যতা অনুভব করে।  একজন অলস মানুষ সহজ কাজকেও কঠিন মনে করে। সে আশায় বসে থাকে, সে স্বপ্ন দেখে। কাজ করবে বলে চিন্তা করে কিন্তু কাজটা আরম্ভ করতে পারে না। আজ করবে কাল করবে বলে সময় নষ্ট করে কিন্তু সাহস করে কাজে হাত দেয় না। ফলে, জীবনের সম্ভাবনাগুলোও তার সামনে আসলেও মুছে যায় ধোঁয়ার মতো। আর তখনই সে অজুহাত খোঁজে। পরিবেশ, সমাজ, ভাগ্য সবকিছুকে দোষ দিয়ে নিজের দায় এড়িয়ে চলে।    অন্যদিকে, একজন পরিশ্রমী মানুষ সকালে উঠে কাজে লেগে পড়ে—হোক না সেটা মাঠ চাষের কাজ, শ্রমের কাজ, হাট বাজারে দ...

বাল্য বিয়ের যন্ত্রণা

  ফোকলা দাদু বিয়ে করবে  চাই ষোড়শী নারী , চুল পেকেছে দাঁত পড়েছে  সাদা হয়েছে দাঁড়ি। এই বয়সে বিয়ে করবে  সবাই আছে ক্ষেপে, নাতি হেঁসে দাদুরে কয়  বিয়ে করো মেপে। বসির মিয়া গরীব অতি  দুঃখের নেই শেষ, ক্যামনে দিবে মেয়ের বিয়ে  ভাবছে অবশেষ। ক্ষমতা আর সম্পদ দেখে  বসির মিয়া রাজি, মেয়ে তাহার ষোল বছর  বললো ডাকো কাজী। সবাই বললো ভেবে দেখো  বরের বয়স আশি, লোভে পড়ে তবু বাবা  মেয়ের দিলেন ফাঁসি। লক্ষ টাকার সম্পদ দিয়ে  কিনলো দাদু বধু, কথায় কথায় ঝগড়া করে  কাজই করায় শুধু। যৌবন শুরুর আগেই মেয়ে  কাঁদে ভেউ ভেউ, কেমন আছে কেন কাঁদছে  জানলো না তা কেউ। বাল্য বিয়ের যন্ত্রণা টা  বুঝে দেখো সবে, এমন বিয়ে না হয় যেন  তাহাই বুঝতে হবে।

ব্যবহার টুকু রবে

  শিরোনাম: ব্যবহার টুকু রবে  কলমে হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ০৩/০৮/২০২৫ পূবে রবি উঠে   পশ্চিমে ঢলে  মাঝেতে আলোর খেলা, জীবন স্রোতে      প্রস্তুত হতে  সাঙ্গ মানব বেলা। কিসের বড়াই করে যে সবাই  স্বল্প জীবন ভবে, প্রতিহিংসা ভুলি ভালবাসা বিলি  ব্যবহার টুকু রবে।

কুঁড়িরা জাগবে

  শিরোনাম: কুঁড়িরা জাগবে  কলমে হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ০২/০৮/২০২৫ প্রভাত কাননে অলি আগমনে  দেখি যে ফুলের ঝুড়ি, কবি লিখে যায় নব আঙিনায়  এসেছে নতুন কুঁড়ি। ফুটেছে উত্তরে কাব্যের তরে  সাহিত্যে নতুন কুঁড়ি, কচিকাঁচার গড়া গদ্যপদ্য ছড়া  ভরবে কাব্যের ঝুড়ি। এসেছে শরৎ হিমের পরৎ লাগে শিশিরের ছোঁয়া, নব ভাবনায় এই আঙিনায়  পাবো নতুনের মোয়া। এসে করি ত্বরা লিখবে শিশুরা নব নব উপমায়, সুযোগ এসেছে সবাই ভিড়েছে  উত্তরের এই আঙিনায়। কুঁড়িরা জাগবে মিলাবে মিলবে  নতুন কুসুম বাগে, আবেগে অসার হৃদয় আমার  তা দেখে পুলক জাগে।

হবে কি

  প্রভাত কাননে  অলি আগমনে  দেখি যে ফুলের শোভা, সাঁঝ সকালে  রাঙা শাড়ি পরে  করেছ যে মন লোভা। চলেছ পথেতে   নুপুর পায়েতে  শিশিরের ছোঁয়া লাগে, আবেগে অসার   হৃদয় আমার  তা দেখে পুলক জাগে। কী যে মণিহার  ঠোঁটের বাহার  লাল গোলাপের হাঁসি, হবে কি আমার  মন বাগিচার মিষ্টি সুরের বাঁশি! ওহে মন হরা এসো করি ত্বরা  মেলাই সুরের তান, সাক্ষী অন্তর্যামী   তুমি আর আমি  এক দেহ দুই প্রাণ। সাজাবো দু'জনে   সোনালী কিরণে  গঙ্গার তীরে ঘর, আদরে সোহাগে   সোনালী সে বাগে  থাকবো জীবন ভর।

আত্ম ভাবনা

  শিরোনাম: আত্ম ভাবনা  রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  সাগরের তীরে   জলরাশি ভিড়ে  বসে আছি একা তায়। কুলু কুলু ধ্বনি   জল মাঝে শুনি  ঢেউ আসে ঢেউ যায়। বসে আনমনে   গোধূলি লগনে  শুনি ঢেউয়ের বাণী। কঠোর এ ভবে   যেতে হবে সবে  বোঝেনা তো পথ খানি। রাখি না তো মনে   জীবনের ক্ষনে কতো ফুল ঝরে যায়। যাঁরা ছিল আগে   নাই পুরোভাগে   কোন স্মৃতি তার হায়! স্বার্থান্বেষী জন   থাকে না কখন  স্মৃতির বাঁধনে বাঁধা। যা আছে সবার    ধন সম্ভার  সব ধূলো আর কাদা। মোহময়ী ধরা অতি মনোহরা  যেতে নাহি চায় কেহ, আয়ু শেষ হলে যেতে হবে চলে  পড়িয়া থাকিবে গেহ। ভেবে আঁখি জল  করে ছল ছল  প্রভুর করুনা চাই। যতদিন আছি   ভালবাসা যাচি জীবে প্রেম করে যাই।

লক্ষ্য

  শিরোনাম: লক্ষ্য কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ২৫/০৭/২০২৫ বন্ধু! সাবধান, উড়াবে যে খই  কথাটা সময়ে বোঝ, আপনার কর্মে ভুল যদি হয়  সমাধান তার খোঁজ। কুয়াশায় ঘেরা ঊষার লগনে  যেখানে আঁধার পথ, আলোর আশায় চলো না সে পথে  পাবে না সুখের রথ। প্রকৃতি সদাই বদলায় রূপ  বিমর্ষ হয়ো না কভু, হারালেও পথ রাখ মনোরথ  ভেঙ্গে পড়ো না তবু। মেঘ ঢাকা রবি আড়ালেই হাসে  ফোটাবে আবার আলো, হয়ো না নিরাশ মনে রাখ আশ  ঘুঁচাবে আঁধার কালো। লক্ষ্য পুরণে যেতে হবে দূরে  অবিচল শুধু থেকো, অসাধ্য সাধন মানুষেই করে  সে কথাটা মনে রেখো।

বর্ষণ শেষে

  শিরোনাম: বর্ষণ শেষে  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ০৯/০৮/২০২৫ বৃষ্টি ভেজা দিনে তুমি অবিহনে  ঘুম ঘুম লাগে চোখে, অনুভবে পাই আঁখি খুলে নাই  বিষাদের ছায়া মুখে। মেঘের আড়ালে সূর্য ঢাকিলে  কাঁদে না কখনো রবি, শয়নে স্বপনে কিবা জাগরণে  দেখি যে তোমার ছবি। বর্ষণ শেষে ক্লান্ত আবেশে  আসিবেই তুমি পাশে , ভাবনায় থাকি কল্পনায় আঁকি  কাহাকে বলিনা ত্রাসে। যত লাজ ভয় করে যাই জয় কভুও করিনা হেলা, আসিবেই তুমি ছিঁড়ে সব ভুমি  আশা আছে শেষ বেলা। ভগ্ন হৃদয়ে বলি বারে বারে  দিয়েছি তোমারে ঠাঁই, বুঝনা তা ভুল নেই কোন তুল অচিরেই যেন পাই।

জ্ঞানী রাই খায় ধোঁকা

  শিরোনাম: জ্ঞানী রাই খায় ধোঁকা  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ৩১/০৮/২০২৫ বোকা যদি বুঝতে পারে  আসলেই সে বোকা, নিজ জ্ঞানের কারণে সে  খায়না কভূ ধোঁকা। প্রতিভাধর জ্ঞানী ভাবে  নয় তো সে বোকা, বেশি জানার কারণেই সে   খায় যে অনেক ধোঁকা।

শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা

  শিরোনাম: শুভ বিজয়ার শুভেচ্ছা  রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ০২/১০/২০২৫ বর্ষ শেষে আসেন উমা  হাজার ভক্তের ভীড়ে, বইয়ে থাকে আনন্দ ধারা  সব মানুষের নীড়ে। আগমনটা সদাই সুখের  বিদায় বিষাদ ভরা, স্বল্প দিনের সাহচর্যে  খুশিতে মন হরা। কৈলাস নিবাসী দশভূজা ধারী যাবেন ফিরে কৈলাসে, ভক্তিভরে স্বামীর সেবায়  থাকবেন স্বামীর পাশে। উড়িয়ে যাবেন বিজয় কেতন  ঝরবে আশীষ ধারা, শুভ বিজয়ার এই শুভদিনে ভক্ত বাঁধন হারা। সকল ভক্তের মাঝে আজি  বাজুক প্রেমের সুর, রেষারেষি হিংসা বিদ্বেষ  চিরতরে হোক দূর। বইতে থাকুক আনন্দ ধারা  এটাই পরম ইচ্ছা, সুদৃঢ় হোক প্রীতির বন্ধন  জানাই সকলে শুভেচ্ছা।

সফল শান্ত

  শিরোনামঃ সফল শান্ত  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -২২/১১/২০২৫ গাঁয়ের মাঝে বুদ্ধিমান, মা হারা এক ছেলে, আদর করে সবাই তাকে ডাকে শান্ত বলে। দেখতে সুন্দর পড়ায় ভালো, বয়স মাত্র আট, বাবার উপর রাগ করে সে ছেড়ে দিল পাঠ। সৎমায়ের অত্যাচারে, ছাড়লো বাড়ি ঘর, কষ্টেসৃষ্টে ভাড়া নিয়ে হলো দেশান্তর। বিদেশ গিয়ে কান্নাকাটি ঘোরাঘুরি করে, ভাগ্যক্রমে একদিন পড়ে, এক বাবুর নজরে। কথা বলে বুঝলেন বাবু ছেলের দম আছে, আদর করে পড়াবেন বলে, নিয়ে গেলেন পাছে। ভর্তি করলেন প্রাইভেট স্কুল মেয়ে যেথা পড়ে, নিজ খরচায় দিলেন তিনি, ছেলের জীবন গড়ে। পড়াশোনায় সফল শান্ত হয়ে গেল ডাক্তার, বাবু পরে মেয়ের সাথে, বিয়ে দিলেন তার। হঠাৎ করে সেই দেশেতে মড়ক দেখা দেয়, মৃত্যুর ভয়ে শান্ত তখন দেশে ফিরতে চায়। কথা শুনে বাবুর এবার মাথায় পড়লো বাজ, মেয়ের উপর নেই অধিকার এটাই বিয়ের রাজ।   বৌকে নিয়ে প্রবাস জীবন ছাড়লো শান্ত শেষে,  আসলো ফিরে নতুন রূপে গ্রামবাসীদের পাশে।

তোষামোদ

  শিরোনামঃ তোষামোদ  রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ১৪/১১/২০২৫ সে অনেক আগের কথা। দুটি দলের মধ্যে ফুটবল খেলা চলছিল। আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিলাম। যে কোন খেলা দেখার সময় দর্শকরা সাধারণত একটা দলকে সমর্থন করে খেলার আনন্দ উপভোগ করে। আমিও সেদিন একটা দলকে মনে মনে সমর্থন করে তন্ময় হয়ে খেলা দেখছিলাম। উভয় দলই ভালো খেলছিল। কে জিতে কে হারে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। দর্শকের চেঁচামেচি আর হাততালিত নিজেও উত্তেজিত, এমন সময় পাশে থেকে একজন লোক বলে উঠলো,' আপনাকেও দেখতে একজন ভালো খেলোয়াড় মনে হচ্ছে। আপনিও নিশ্চয়ই খুব ভালো খেলেন, তাইনা?'  আমি ঢোক গিললাম। আমি কোনদিন ও ফুটবল খেলিনি, যদিও আমি ফুটবল প্রেমী। তাছাড়া সে সময় আমি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে একটু দূর্বল হয়ে গিয়েছিলাম। বুঝতে পারলাম লোকটা আমাকে তোষামোদ করছে। একবার ওর দিকে তাকিয়ে আমি একটু সরে দাঁড়ালাম। সে আবার এগিয়ে এসে বলল,' আমার নাম সমির। আপনাকে খুব চেনা চেনা লাগছে। আপনার শার্ট প্যান্ট ও দারুন ফিটিং, আজ অপূর্ব লাগছে আপনাকে। এর আগে নিশ্চয়ই আপনার সঙ্গে আমার অনেক বার দেখা হয়েছে।'  বুঝলাম লোকটা তোষামোদ করছে। আমি জানতাম ম...

জাগো হে মানব

  শিরোনামঃ জাগো হে মানব  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -৩০/১১/২০২৫ পাপীদের ফাঁদে   মানবতা কাঁদে                হারায়ে ন্যায়ের বাতি। যেদিকে তাকাই   দেখিতে যে পাই                শুধুই আঁধার রাতি। শক্তির বলে    কেড়ে খায় ছলে              গরীবের ধন লুটি। নানা অজুহাতে   লুটে দুই হাতে             সম্পদ কোটি কোটি। বাহিরে সদয়    করে অভিনয়             অন্তরে বিষ ভরা। পরে ভালো সাজ   নেই কোন লাজ            ধরারে ভাবেনা সরা। স্বার্থের তরে   মানবতা হারে            পশুর রূপটা ধরে। পাষাণ হৃদয়   নেই কোন ভয়           দুর্বলে আঘাত করে। জাগো হে মানব    হয়োনা দানব          স্রষ্টাকে স্মরণ কর। ধন মান...

মোর বিশ্বাসী ভৃত্য

  শিরোনামঃ মোর বিশ্বাসী ভৃত্য  রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  (রচনাকাল -১৪/১১/২০২৫) শহরের ভিড়ে ভিখারির বেশে চলছিল খালি পায়ে, অসহায় ভেবে পাশে ডেকে দেখি দুর্গন্ধ সারা গায়ে। উস্কো খুস্কো চেহারা বেটার  মুখ ভরা কালো দাঁড়ি, নামটা কেষ্ট ক্ষুধায় কাতর  নিয়ে আসি তারে বাড়ি। সারাদিন গৃহে কাজ করে যায়  মনে নেই কোন দুখ, মনিবের ঋণ ফিরে দিবে শ্রমে  তাই তার মনে সুখ। বড়ই ভক্ত বড়ই সরল  রুটি খায় দুই বেলা, বাড়ি ভরা লোক সকলেই ডাকে  কোন কাজে নেই হেলা। যতটুকু বলি আরো বেশি করে  সদা হাসি থাকে মুখে , যতই বকুনি নিরবেই সহে  ক্ষোভ নেই তার বুকে। গিন্নি তবুও আড়চোখে চায়  মুখ করে কালো ঘোর, কোন কিছু কভু হেরে গেলে বলে  কেষ্ট বেটাই চোর। এতো সন্দেহ তবু প্রসন্ন  দেখেছি তাহারে নিত্য, গিন্নিরে তাই বুঝায়ে রেখেছি  সে মোর বিশ্বাসী ভৃত্য। বিত্তশালীর শাসন নিত্য  গরীবের তরে ধায়, অসহায় হয়ে অপবাদ সহে  মানবতা লোপ পায়।

ভুলবো কেমনে করে

  তোমায় দেখে হারিয়ে গেলাম  ওগো রূপ সাগরের রাণী, এমন রূপটি কোথায় পেলে  কেমন তোমার মুখের বাণী। কোথা থেকে এলে তুমি  কোনবা রূপের সাগর চুমি, এমন রূপটি দেখে আমার  হারিয়ে গেলো পায়ের ভুমি। রাতদুপুরে স্বপ্ন দেখি  আছি দুজন পাশাপাশি, ম্লান হবে না কভু জানি  তোমার ওই মুখের হাসি। যদি বলি ভালোবাসি  সেকথা কি অন্যায় হবে? সাহস করে বলছি তোমায়  আজীবন মোর পাশে রবে। সত্যি বলছি জীবন যৌবন  সবই নিয়েছো হরে,  এখন বলো তোমায় আমি  'ভুলবো কেমন করে ?'

গোপন রাজ

  এক জঙ্গলে ভেরুণ্ডা নামে এক ধূর্ত শেয়াল বাস করত। একদিন সে একটা ছাগলের বাচ্চা ধরে পাশের একটা গাছের আড়ালে বসে খাচ্ছিল। এমন সময় একটি বাঘ দেখতে পেয়ে তাকে ধরার চেষ্টা করে কিন্তু অনেক দূর পর্যন্ত দৌড়ে গিয়েও ধরতে পারলো না। বাঘ যখন ভেরুণ্ডার পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছিল তখন জঙ্গলের পথে অন্যান্য শিয়ালরা তা দেখতে পায় এবং তারাও ভয়ে পালায়।  অদূরে একটা ঘরের পাশে একজন ধূপা কাপড় ধোয়ার জন্য একটা বালতিতে নীল দিয়ে রেখেছিল। ভেরুণ্ডা মুহূর্তের মধ্যে ঐ বালতিতে ঢুকে পড়ে। সৌভাগ্য ক্রমে বালতিটা উল্টে যায় এবং ভেরুণ্ডা নীচে পড়ে যায়। ফলে বাঘ তাকে ধরতে না পেরে চলে যায়। একটু পরে ধূপা এসে কাপড়ে নীল দেবার জন্য যেই বালতি হাতে নিতে গেল অমনি নীচ থেকে শিয়ালটি বেরিয়ে পড়ে। ধূপা ধপাস করে বালতি দিয়ে তাকে আঘাত করে ফলে তার নাকটা একেবারে চেপ্টা হয়ে যায়। চেয়ে দেখে বালতির নীল রঙ লেগে পুরো শিয়ালটা নীলা রঙের হয়ে গেছে।  এদিকে দিন গড়িয়ে রাত হলো কিন্তু ভেরুণ্ডাটি আর ফিরলো না দেখে বাকি শিয়ালরা মনে করল বাঘ হয়তো তাকে খেয়ে ফেলেছে।  অনেক দিন পর সুস্থ হয়ে যখন ঘরে ফিরলো তখন প্রথমে স্ত্রীও তাকে...

জীবনের সার্থকতা

 শিরোনামঃ জীবনের সার্থকতা  রচনা হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -০৩/১২/২০২৫ রণধীর বাবু দীর্ঘ চল্লিশ বছর শিক্ষকতা করে গতবছর অবসর গ্রহণ করেছেন। অবসর গ্রহণের পর থেকে ধীরে ধীরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আগে থেকেই অল্প অল্প সুগার প্রেসারের সমস্যা ছিল। কিন্তু তা এখন অনেক পরিমাণে বেড়ে গেছে। ইদানিং তিনি চোখে ঝাপসা দেখেন, সবসময় চোখ দিয়ে জল পড়ে। স্থানীয় ভাবে অনেক ডাক্তার দেখিয়েছেন কিন্তু কোন লাভ হয়নি। তাই তিনি চেন্নাই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।  রণধীর বাবু নিজের শিক্ষকতার জীবনে কতশত ছেলেমেয়ে পড়িয়ে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য উঁচু পদে অধিষ্ঠিত করেছেন তার কোন ইয়ত্তা নেই। কিন্তু নিজের দুই ছেলেকে তেমন ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। একজন এল,পি, শিক্ষক আর একজন কোন রকম একটা ব্যবসা নিয়ে জীবন কাটাচ্ছে। এরা নিজেদের সংসার নিয়েই ব্যস্ত। তাই তিনি একপ্রকার নিঃসঙ্গ জীবন যাপন করছেন। শেষ পর্যন্ত কাউকে সঙ্গী করতে না পেরে স্ত্রীকে নিয়েই রওয়ানা দিয়েছেন।  চেন্নাই হাসপাতালে পৌঁছে তিনি সিঁড়ি দিয়ে উঠতে যাবেন এমন সময় হঠাৎ তার সামনে একজন ভদ্র লোক এসে দূর থেকে ' স্যার নমস্কার, আমাকে চ...

খুঁজি উত্তরণের পথ

 শিরোনাম: খুঁজি উত্তরণের পথ  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ২০/১২/২০২৫ বন্ধু, সে তো সবার প্রিয় অগাধ ভালোবাসা, মরুর বুকে বাদল হয়ে মিটায় মনের তৃষা। ঝড় ঝঞ্ঝায় আঁধার রাতে বিপদ এলে পাশে, বন্ধুই তো স্বান্তনা দেয় শুধুই ভালোবেসে। বন্ধু মানে চলার পথে শতেক আলোর দিশা, পরশে যার দূর হয়ে যায় সকল অমানিশা। প্রযুক্তি আর ডিজিটাল প্রসারে বিশ্বটা আজ হাঁসে, অভিন্ন হৃদয় বন্ধুরাও আজ কেউ নেই কারো পাশে। নেট দুনিয়ায় মা-বাবা ব্যস্ত, ব্যস্ত দিদা দাদু, ছোট্ট শিশু সেও ব্যস্ত হায়রে নেটের জাদু। অনলাইনে পরিচয় হয় মেকি বন্ধুর সাথে, আসল বন্ধু সবাই ভুলে সন্দেহ নেই তাতে। ব্যস্ততা আর ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে যায় বহুদূর, বন্ধুর তরে বন্ধু কাঁদেনা বাজেনা প্রেমের সুর। স্বার্থের তরে আসল বন্ধু হয়না কখনো অন্ধ, কর্ম ব্যস্ততায় নিজেকে হারায় যোগাযোগ হয় বন্ধ। তাইতো বলি ভুল বোঝনা হয়োনা কখনো ক্ষুন্ন, নেটের প্রভাবে ব্যস্ততার কারণে বন্ধুত্ব আজ বিপন্ন। আসল বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে খুঁজি উত্তরণের পথ, সময়ের সাথে আপোষ করে বিনিময় করি মত।

ছড়া চাই শিশু নির্ভর

 শিরোনামঃ ছড়া চাই শিশু নির্ভর  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -২৭/১২/২০২৫ ছড়ায় ছন্দে লেখা      শিশু মনে টানে রেখা              সহজেই করে প্রণিধান। সাথে যদি থাকে ছবি      পড়ে যায় নিরবধি               অজান্তেই পায় শিশু জ্ঞান। শব্দ চাষে বলি তাই       তাল লয় ছন্দ চাই                 কাব্য লেখা সেও এক কলা। সহজ সরল ভাষা       পড়ে যায় শিশু খাসা                 চায় কবিতায় কথা বলা।  ছন্দে যবে লিখে কবি     শিশুমন হয় লোভী                কথা বলে কবিতার সুরে। কবিতার ছন্দ রসে         কভু একা ঘরে বসে                আবৃত্তি করে উচ্চস্বরে। শিশু পাঠে বলি তাই      তাল লয় ছন্দ চাই        ...

স্মৃতির ক্যানভাসে

 শিরোনামঃ স্মৃতির ক্যানভাসে  রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ৩১/১২/২০২৫ স্মৃতির ক্যানভাসে জমা হলো দুই হাজার পঁচিশ সাল, ইচ্ছে করে ফিরে দেখি এ সালের কেমন হাল। বছরের শুরুতেই ছিল ধর্মীয় মহাকুম্ভ স্নান, পদপিষ্ট হয়ে মারা যায় কতশত ধর্মপ্রাণ। শোক দুঃখে ভরা ছিল এমন একটা সাল, যে দুঃখ কাটিয়ে উঠতে দেশবাসী নাজেহাল।  স্মৃতিপটে এলে পেহেলগাম, রুদ্ধ হয় শ্বাস, নিদারুণ এ হামলায় হয় নিসংশ প্রাণ নাশ। মনে পড়লে বিমান দুর্ঘটনা উড়ে যায় হুঁস, অতর্কিতে মারা যায় কতশত নির্দোষ। দূর্যোগে মৃত্যু, রেলস্টেশনে মৃত্যু, স্টেডিয়ামেও তাই , যেখানেই ভীড় সেখানেই পদপিষ্ট, মৃত্যুর সীমা নাই। এমন একটা সাল গেল শুধুই আহাজারি, দিল্লির গাড়ি বিস্ফোরণ ভুলতে না পারি। হিংসা বিদ্বেষ জাতি দাঙ্গা ছিল অহর্নিশ, নতুনের আগমনে হোক তা ফিনিশ। পুরাতনে বিসর্জন দিয়ে আসছে নতুন সাল, হয়তো ঘুচাতে পারে পঁচিশের সে আকাল। ছাব্বিশের আগমন হোক শান্তি সুখের সাথে, সবার সমৃদ্ধি কামনা করি  নতুন সালের প্রাতে। শুভ নববর্ষ

আসল ধর্ম

 শিরোনামঃ আসল ধর্ম  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -১২/০১/২০২৬ বহিরঙ্গের চাকচিক্য রূপ  দেখতে বড়ই ভালো, সূর্য যেমন দিবালোকে  বিশ্বকে দেয় আলো। নগ্ন দেহ ঢাকতে পারো  দামী বসন পরে, নগ্ন মনের বিভৎস রূপ  ঢাকবে কেমন করে? সাধু সেজে শোষণ করো  লুটেপুটে খাও, হিসেব একদিন দিতে হবে  সেটা বুঝে নাও। লোক দেখানো জলসা করে  বড়লোকদের ডাকো, কাঁদছে শিশু অনাহারে  তাকে দূরে রাখো। লক্ষ কোটি খরচ কর মন্দির মসজিদ নামে, আসল ধর্ম জীবের সেবা  ঢাকা থাকে খামে।

শান্তির তরে

মানব তোমায় সেরা রূপে  সৃষ্টি করলেন প্রভু, শ্রেষ্ঠ হয়েও সৃষ্টিকর্তা  চিনলে না তো কভু। ভোগবিলাসে মত্ত হয়ে  নিজের স্বার্থ দেখো, সৃষ্টির সেবাই স্রষ্টার সেবা  সেটা মনে রেখো। জ্ঞান বুদ্ধিতে শ্রেষ্ঠ হয়েও  বিপথে কেন চলো, অজ্ঞ জনে পথটি দেখাও অন্ধজনে আলো। ত্যাগী হয়ে জীবন গড়ো ধর্ম কর্ম মানো, সকল ধর্মের সার এক সত্য পথটি জানো। সৃষ্টিকর্তার বিধান মানো চলো তার ই পথে, দু জাহানে শান্তি পাবে  নিজের জীবন রথে।

রূপের জাদু

ভোর হয়েছে ফুল ফুটেছে  ডাকছে পাখি বনে, কানে কানে বলছে কথা  অলি ফুলের সনে। মৌমাছিরা গুনগুনিয়ে  গান ধরেছে তায়, ফুলের মধু কেড়ে নিতে  কে কার আগে যায়। গানের সুরে আকুল হয়ে  প্রজাপতি উড়ে, এমন দৃশ্য কেউ দেখেনা যারা থাকে কুঁড়ে। ভোরের আলো বড়োই ভালো  মাখে সবাই গায়ে,  বক পাখিরা খাবার খোঁজে  কুয়াশা ভেজা পায়ে। ঠাণ্ডা হাওয়ায় হাতছানি দেয়  সবুজ পাতার দ্যুতি, উঠে এসো দেখো আমায়  বাড়াও চোখের জ্যোতি। প্রকৃতির এই রূপের জাদু জুড়ায় সবার আঁখি, এসো সবাই এই ধরাটা  সবুজ সুন্দর রাখি।