পোস্টগুলি

এপ্রিল, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

হাতুড়ি নয়, বই দিন

পয়লা মে। টাউন হল ভর্তি লোক। মঞ্চে শীতেন বাবু, শহরের নামকরা সমাজসেবী। গলায় লাল গামছা, হাতে মাইক। “বন্ধুগণ, শ্রমিকের ঘামেই সভ্যতা গড়ে। শিশু শ্রম ঘৃণ্য অপরাধ। আজকের দিনে শপথ নিই—কোনো শিশুকে দিয়ে কাজ করাব না। তাদের হাতে বই দেব, খেলনা দেব। ইনকিলাব জিন্দাবাদ!” হাততালিতে হল ফেটে পড়ে। খবরের কাগজের লোক ছবি তোলে। শীতেন বাবু গর্বে বুক ফোলান। ইমোশনাল হয়ে আরো উচ্চস্বরে বলতে লাগলেন," শ্রমিকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা কাজ করে কিন্তু উপযুক্ত পারিশ্রমিক পায় না। বৃদ্ধ বয়সে ওষুধ পত্তর করা তো দূরের কথা নাখেয়ে মরে। কে দিবে তাদের বৃদ্ধ ভাতা?" বাড়ি ফিরে কলিংবেল বাজাতেই দরজা খোলে রতন। বয়স দশ। শীর্ণ হাত, কোটরে ঢোকা চোখ।  “হারামজাদা, এত দেরি কেন? বাবুরা এসেছিল, চা দিসনি কেন? সারাদিন টিভির সামনে বসে থাকিস?” শীতেন বাবুর হাত উঠে যায়। রতনের গালে পাঁচ আঙুলের দাগ। রতন কাঁদে না। মার খাওয়া তার অভ্যাস। ভোর পাঁচটায় ওঠে। ঘর মোছে, বাসন মাজে, বাজার করে, বাবুর জুতো পালিশ করে। রাতে বাবু পার্টি থেকে ফিরলে পা টিপে দেয়। একদিন কাঁচের গ্লাস ভেঙেছিল বলে সারারাত বারান্দায় দাঁড় করিয়ে রেখেছিল। জ্বর এসেছিল, তবু সকালে কাজে লাগিয়ে...

বুড়ো রিকশাওয়ালা

টেটো-বাইক বের হয়েছে   চলছে পথে রোজ,   বুড়ো হয়েছে রিকশাওয়ালা   কেউ রাখে না খোঁজ। টোটো-বাইকে সবাই ছোটে   কমেছে তার দাম,   প্যাডেল চাপা বুড়ো মানুষ  খুঁজে ফেরে কাম। কাজকর্ম হারিয়ে এবার   ক্যামনে জীবন যায়,   খোঁজ খবর নেয় না কেহ   বড়োই অসহায়। ভাটিয়ালি গানের গলা   শুনি না যে আজ,   কোথায় গেল রিকশাওয়ালা   কে খুলবে তার রাজ? চৌরাস্তার মোড়ে বসে  চেয়ে থাকে পথ, কেউ বলে না ' চাচা চলো' থমকে গেছে রথ। বৃষ্টি এলে ভিজে কম্বল   রোদে পোড়ে চাম,   পেটের ক্ষুধা মেটে না আর   বাড়ে শুধু দাম। পলেস্তারা খসা ঘরে  টিমটিমে এক বাতি, জীবনটা তার রিক্সা হয়েই থেমে গেছে সাথী। কেউ শুনে না কাশির শব্দ  কেউ দেখে না জ্বর, এই শহরে বুড়ো মানুষ  যেন বোঝা পর।

ফাটলের সুতো

রমেন আর শীতেন—নাম দুটো উচ্চারণ করলেই গ্রামের লোক বলত, “ওরা তো দুই দেহ এক প্রাণ।” ছোটবেলার সহপাঠী, যৌবনের ব্যবসার সঙ্গী। হাটে-বাজারে, অফিস আদালতে বা যেকোনো অনুষ্ঠানে একসাথে চলা। একজনকে ছেড়ে অন্যজন ভাবাই যায় না। এই বন্ধুত্বটাই চোখে কাঁটার মতো বিঁধত তৃতীয় সহপাঠী কেশবের। মুখে মিষ্টি, মনে বিষ। রমেন-শীতেনের ছায়া যত লম্বা হত, কেশবের বুকের ভেতর হিংসার আগুন তত দাউদাউ করত। সে ফন্দি আঁটল—এই সুতোয় টান মারতে হবে। প্রথমে রমেনের কানে ফিসফিস করল, “শীতেনটা তোকে ছাড়া লুকিয়ে ডিল করে রে। মানুষটা বড়োই স্বার্থপর।” রমেন হেসে উড়িয়ে দিল, “ধুর, আমি ওসবের ধার ধারিনা।”   কেশব থামল না। দিনের পর দিন, জলের ফোঁটার মতো কুমন্ত্রণা ঢালতে লাগল। “তোর বদনাম করে, তুই নাকি কিছুই জানিস না, ওর পরামর্শেই নাকি তুই আজ এই স্থানে। তোর সরলতার সুযোগ নিচ্ছে রে… সেদিন তোকে ছাড়াই মহাজনের সাথে কথা বলল…” কথায় বলে, কানে দেওয়া বিষ একদিন রক্তে মেশে। রমেনের মনেও সন্দেহের বীজ গজাল। সেই বছর শীতেন শহরের এক বড় কোম্পানির সাথে চালের সাপ্লাইয়ের বিরাট অর্ডার পেল। সইসাবুদ হলেই জীবনের মোড় ঘুরে যাবে। খবরটা শুনে কেশবের রাতের ঘুম উড়ে গেল। সে র...

গুরুর কপালে ভাঁজ

মাস্টার দীনবন্ধু পাল। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই। স্থানীয় হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত অঙ্কের স্যার। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, হাতে পুরনো ছাতা। এই ছাতা আর চশমাই তাঁর কালের সাক্ষী। কপালের ভাঁজগুলো সময়ের দলিল। *১৯৭৫ সাল।*   ক্লাস টেন। দু-তিনজন পড়া শেখেনি। স্যারের বেতের বাড়ি খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি গেল। মা-বাবাকে বলার সাহস হয়নি। যে বলল, সে আরও কিছু উত্তম-মধ্যম খেল। পরদিন সবাই পড়া শিখে হাজির। স্যার চরিত্র আর নীতিশিক্ষায় জোর দিতেন। ক্লাসে বলতেন, “যত বই পড়বি, তত শিখবি। স্কুল লাইব্রেরি আছে, অবসরে রেফারেন্স বই, গল্প-উপন্যাস পড়বি।” ছাত্ররাও তাই করত। ক্লাসের ফার্স্ট বয় নিখিলেশ। অঙ্কে ২ নম্বরের জন্য লেটার মিস। রেজাল্টের দিন হেডস্যারের ঘরে স্যারের পা জড়িয়ে কেঁদেছিল, “স্যার, আপনার মান রাখতে পারিনি।” স্যার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, “মান-অপমান রেজাল্টে না রে, চরিত্রে। যা গেছে ভালোই হয়েছে। এবার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাব, সেটা আরও ভালো হওয়া চাই।” একদিন বাজারের পথে দুই ছাত্র সাইকেল থেকে নেমে স্যারকে প্রণাম করল। কুশল জিজ্ঞেস করে, স্যার চোখের আড়াল হতেই আবার সাইকেলে উঠল। আরেক বিকেলে স্যারের হাতে মাছের ব্যাগ দেখে নিখিলেশ...

সাধু সাধু

বলছে কথা ঘটক এসে  কনের দাদু শুনছে হেঁসে, 'বিয়ে করবে হাদুর ছেলে  এমন বরটি কোথায় মেলে। হাঁড়ি যেমন মুখটি তাহার  হাঁসের মতোই করে আহার, যদিও সে বেকার ছেলে  বাবার বেতন মাসে মেলে। নেশা করে পাগল সাজে  হুঁস থাকে না নিজের কাজে, মাঝেমধ্যে জুয়া খেলে কয়েকবার সে গেছে জেলে। দেখতে যদিও হয় সে কালো  তবুও ছেলে অনেক ভালো, আছে বাবার কোটি টাকা  দানের বেলায় পকেট ফাঁকা।' সবটা শুনে কনের দাদু  বলে উঠেন 'সাধু সাধু, ' যতই যাও গল্প গেয়ে  এমন পাত্রে দেবোনা মেয়ে।  চরিত্র হীন তোমার পাত্র  শুনে আমার জ্বলে গাত্র, যাও ঘটক অন্য বাড়ি  খোঁজো সেথা রাজকুমারী। আমার নাতনি যদিও কালা পাবো যে বর বেজায় ভালা, রাঁধে বাড়ে লক্ষী হয়ে  সংসার রাখে গুছিয়ে লয়ে।'

স্বভাব পাল্টায় না

ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে এক উঁচু টিলার গর্তে বাস করত এক শিয়াল। তার স্বভাব ছিল চুরি করা। হাঁস চুরি, মুরগি চুরি, এমনকি দিনদুপুরে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছাগলকেও ধরে নিতে তার বাধত না।     গ্রামের লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে শিয়াল টিকে ধরার ফন্দি ফিকির করতে লাগল।  একদিন গ্রামের লোকজন শিয়ালকে ধরে ফেলল। সবাই মিলে ঠিক করল, ‘এই চোর শিয়ালকে আজ ভালো করে সাবান দিয়ে স্নান করাব। গা থেকে চুরির গন্ধ দূর হলেই ওর স্বভাব পাল্টে যাবে।’ যেই কথা সেই কাজ। লাইফবয়, লাক্স, ডেটল—তিন পদের সাবান দিয়ে শিয়ালকে এমন ঘষা ঘষলো যে শিয়ালের লালচে লোম ঘষার চোটে সাদা হয়ে গেল। গায়ে আতর মাখিয়ে, নতুন ফতুয়া পরিয়ে তাকে মৌলবির কাছে নিয়ে তওবা পড়ানো হলো।  শিয়াল কেঁদে কেঁদে বলল, “আজ থেকে আমি ভালো হয়ে গেলাম। চুরি ছেড়ে দিলাম। কসম, আর জীবনে চুরি করবো না।' গ্রামবাসী খুশি। শিয়ালকে মসজিদের পাশে একটি কুঁড়ে ঘরে থাকতে দিল, দুবেলা খেতে দিল। তিনদিন সব ঠিকঠাক। চারদিনের দিন রাতে ফজরের আজানের আগে পাশের বাড়ির মুরগি খোয়াড়ে হুলস্থুল। সবাই ছুটে গিয়ে দেখে, শিয়ালের মুখে মুরগি, আর সে দৌড়ে জঙ্গলের দিকে পালাচ্ছে। ধরতে গেলে সে পেছন ফিরে বলে গেল, “ভাইসব...

প্রতিবেদন

মেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল—সরকারি বনাম বেসরকারি স্কুলের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ: সদ্য প্রকাশিত মেট্রিক পরীক্ষার (CBSE এবং SEBA) এর ফলাফলে দেখা গেছে, সার্বিক পাসের হারে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সরকারি স্কুলের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে। পরিসংখ্যানের এই খণ্ডচিত্র দেখে অনেকেই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে বেসরকারি স্কুল মানেই উন্নত শিক্ষা। এদের বদ্ধমূল ধারণা যে সরকারি স্কুলে পড়াশোনা হয় না। কিন্তু ফলাফলের গভীরে গেলে চিত্রটি ভিন্ন কথা বলে। ১. শিক্ষার্থীদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট:- সরকারি স্কুলের মূল শক্তি তার সর্বজনীনতা। এখানে মূলত সমাজের প্রান্তিক অংশের ছেলেমেয়েরা পড়ে—দিনমজুর, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গৃহশ্রমিক পরিবারের সন্তান। এদের বড় অংশকেই গৃহস্থালির কাজ, মাঠের কাজ বা ছোটখাটো রোজগারে পরিবারকে সাহায্য করতে হয়। নিয়মিত ক্লাস করা, পড়াশোনার জন্য যথেষ্ট সময়ের অভাব বা রাত জেগে পড়ার সুযোগ এদের প্রায় নেই। অভিভাবকদের একটা বড় অংশ নিজেরাই স্বাক্ষরজ্ঞানহীন, ফলে পড়াশোনার তদারকি হয় না। এই শ্রেণীর অভিভাবকদের আরও একটা ধারণা থাকে পড়াশোনা করে শিক্ষিত হলেও টাকার অভাবে তাদের চাকরি হবে না। এই ভুল ধারণার কারণে তারা ছে...

স্ক্রিনের এপার ওপার

এক খাট, এক কম্বল, মাঝখানে দুইটা মোবাইল—আলম  আর সুহানার সংসার।   বিয়ের সাত বছর। শুরুতে বালিশে মাথা রাখলেই গল্প হতো। এখন আলম অফিসের মেইল চেক করে, ফেইসবুক চালায়। সুহানা ওদিকে ফিরে স্ক্রিনে আঙুল চালায়। প্রথমে আলম ততটুকু গুরুত্ব দেয়নি। হয়তো সহকর্মীদের সাথে কথা বলছে, না হয় মেয়েদের গ্রুপ, কী আর হবে? তারপর একদিন রাত দুটোয় ঘুম ভেঙে দেখে—সুহানার ঠোঁটে হাসি, চোখ মোবাইলে। টাইপ করছে, ডিলিট করছে, আবার টাইপ করছে।   “কার সাথে কথা?”   “কেউ না। ঘুমাও।”   স্ক্রিন উল্টে বুকের নিচে রাখল সুহানা। সন্দেহটা সেদিনই জন্ম নিল। আলমের ঘুম কমে গেল। রোজ রাতে খাবার পর এরকমই চলে। স্বামী একপাশে স্ত্রী অন্য পাশে। আলম মুখটা ঘোরাতেই সুহানা মোবাইল মুঠোর মধ্যে শক্ত করে ধরে সরিয়ে নেয়।  সুহানা কার সাথে চ্যাটিং করে? ফোনে লক, হোয়াটসঅ্যাপে লক, গ্যালারিতে লক। এক খাটে শুয়েও দুজনের মাঝে পাসওয়ার্ডের দেওয়াল।      এক শুক্রবার রাতে সুহানা বাথরুমে গেলে ফোন টেবিলে পেল—আনলক। নোটিফিকেশন ভাসছে: “তোমার হাসিটা মিস করছি, জান”। নাম সেভ করা ‘তুলি আপু’।   আলম স্ট্যাটাস...

দরজার ওপার

ব্যবসায়ী সালাম সাহেব গ্রামের সবচেয়ে বড় মহাজন। স্বল্প দিনের মধ্যে তিনি টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন, কিন্তু এতোই কৃপণ ছিলেন যে নিজে না খেয়ে না পরে শুধুই রুজি রোজগারে জীবন কাটাচ্ছেন। টাকা ছাড়া মানুষ চিনতেন না।   পাশের বাড়ির তার এক অতি নিকট আত্মীয় রফিকুল একদিন মেয়ের বিয়ের ব্যপারে অসহায় হয়ে কিছু টাকা ধার চাইতে এল। সালাম সাহেব দরজা থেকেই তাড়ালেন, “তোর মতো মানুষের আবার বিয়ে! মেয়ে যার পছন্দ হয় তাকে বল নিয়ে যেতে। টাকার দরকার কি, আমার কাছে টাকা নেই, যতসব!" বলেই ঘরে ঢুকে গেলেন।  তার এহেন ব্যবহারে রফিকুল কেঁদে ফিরে গেল।     দেখতে দেখতে দশ বছর কেটে গেল। সালাম সাহেবের একমাত্র ছেলে বিদেশে অ্যাক্সিডেন্ট করল। চিকিৎসায় সব জমি-বাড়ি বেচতে হলো। শেষে ছেলেটাও বাঁচল না।   নিঃস্ব সালাম সাহেব এখন মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করেন।  এক সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে হঠাৎ তার মনে পড়লো রফিকুলের কথা। চেয়ে দেখেন পাশে ইয়া বড়ো দুতলা বিল্ডিং। এ জায়গাটা যেন চেনাই যায় না। পিপাসায় তখন তার কণ্ঠ শুকিয়ে কাঠ। সাহস করে ঢুকে পড়লেন...

শিশুর জীবন

পিঠের ব্যাগে বইয়ের বোঝা  বয়স যখন তিন, এই শিশুটির বাকি জীবন  ক্যামনে যাবে দিন। হাঁটা শিখতেই কাঁধের ভরে ন্যুব্জ হয়ে পড়ে, হতাশা আর বিষন্নতায়  বই পুস্তকে লড়ে। যে সময়ে মা'র কোলে  আদর সোহাগ পাবে, সে সময়ে এই শিশুটা  পড়ার চাপে কাঁদবে। চলছে সবাই এমনি ধারায়  কুকুর দৌড়ের খেলা, চাপের মাঝেই শিশুর জীবন  করোনা ভাই হেলা। একই কথা সবার মুখে  রেজাল্ট ভালো চাই, স্কুলে ঘরে কোথাও যেন  শিশুর শান্তি নাই। ক্লাসে প্রথম হতে হবে  সবার একই সুর, অভিভাবকের বায়নাতে আজ  শিশুর জীবন চূর।

নববর্ষের প্রাতে

শুকনো বাতাস উড়ায় ধুলো চৈত্র মাসের শেষে,   ঝরা পাতার বিদায় দিয়ে বৈশাখ আসে হেসে। ঝড়ের শঙ্কা বাজায় ডঙ্কা,বৃষ্টি ভেজায় মাটি,   মন খুশিতে কৃষক নাচে ফলবে ফসল খাঁটি। পাতা গজায়, মুকুল ছড়ায়,গাছগাছালি হাসে,   সবুজের এই সমারোহে মন আনন্দে ভাসে। পুরানো ক্ষত নতুন আশা চলছে একই রথে, বছর বছর আসে আর যায় জীবন চলে পথে। নববর্ষের খুশির আবেশে পুরাতনকে কে মনে রাখে? বছর শেষের কথকতা ডায়েরিতে ধুলো মাখে। প্রিয়জনকে হারিয়ে কেউ পেয়েছে নতুন ঠিকানা, কারো স্বপ্ন সফল হয়েছে কারো জুটেছে কান্না! বিগত দিনের হিসেব-নিকেশ খুঁজবে আপন মনে,   ভুল-ত্রুটি সব শুদ্ধ হবে নতুন দিনের সনে। সবার সাথে মিশবো সবাই, চলবো একই সাথে,   সবাইকে জানাই শুভকামনা নববর্ষের প্রাতে।  

অবেলায়

বৈশাখেতে মেঘে ডাকে  গুড়ুম গুড়ুম করে, সানাই বাজে টিনের 'পরে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে। বিজলী চমকায় ঝিলিক-মিলিক  মেঘ-কুমারীর বিয়ে, ফুল-পরিরা আসছে সেথা  হিমের নুপুর নিয়ে। ঝড়ো হাওয়ায় বর আসছে  সাতটা রং মেখে, আড়াল থেকে সূর্য হাসে  বিয়ের আসর দেখে। আলো হাতে চাঁদের বুড়ি  আসছে সবার মাঝে, মেঘ বালিকার মনটা খারাপ  কাঁদছে বসে লাজে। অঝোর ধারায় বৃষ্টি হওয়ায় পশু-পাখি কাঁদে, এই অবেলায় কোন অভাগা  পড়ে বিয়ের ফাঁদে।

জ্ঞানের আলো

জ্ঞানের আলো এই ধরাতে   সবার চেয়ে সেরা,   অজ্ঞানীদের জীবন শুধুই   আঁধারেতে ঘেরা। সৎকর্ম আর সৎ ভাবনায়   এগিয়ে চলো ভাই,   অসৎ কর্মে জীবন নষ্ট—   বাঁচার উপায় নাই। ঝড়-ঝঞ্ঝা আসুক যতই,   সাহস রেখো মনে;   আঁধার সদাই দূর হয়ে যায়   আলো বাড়ার সনে। চিরদিন তো কারও ভবে   থাকে না অমানিশা;   আস্থা রেখো নিজের ’পরে,   পাবে পথের দিশা। হতাশাকে দূরে ঠেলে   এগিয়ে চলো পথে;   ন্যায়ের পথে অটুট যারা,   সফল জীবন-রথে।

স্বপ্ন

মা বাবার এক আদরের মেয়ে  নামটি তাহার বন্যা, হাসিখুশি সদাই থাকে   সে যেন এক রাজকন্যা। মেয়ে হলেও মা বাবা তার  হেলা নাহি করে, সঠিক শিক্ষায় বড় হতে  বই কে আপন করে। মা বাবার সে সেবা করে  পড়ার ফাঁকে ফাঁকে, জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখে  মনে ছবি আঁকে। মনে মনে শপথ করে  হবে একদিন ডাক্তার, পড়াশোনা চালিয়ে যায় স্বপ্ন হয় সাকার।   সমাজটাকে দেখিয়ে দিল থাকে না যেন বৈষম্য, পিতামাতার সুখের তরে  একটা মেয়েই কাম্য।

বিল্লি মাসি

বিল্লি মাসি সাবাড় করে রোজই কত পাখি, লুকিয়ে থেকেও প্রাণ বাঁচে না উজ্জ্বল তার আঁখি। সুযোগ পেলেই দেয় সে থাবা নরম ছানার গায়ে, ভায় দেখিয়ে হাঁটে পাড়ায় গোঁফটা উঁচু বাঁয়ে। মিটিং মিছিল প্রতিবাদে উত্তাল সারা দেশটা, পাখিরা সব জোট বেঁধেছে দেখে নেবে শেষটা। বসল মিটিং গাছের ডালে আসল সকল পাখি, কাক করেছে নিমন্ত্রণ কেউ রইল না বাকি। এল শালিক, ফিঙে, দোয়েল আর ময়না টিয়ে, ঈগল, বক, মাছরাঙা এলো খাবার নিয়ে। ময়ূর এল পেখম তুলে,সারস তার সাথে, রফা-দফা হবে আজ, সন্দেহ নেই তাতে। বাবুই- কোকিল ব্যস্ত সবাই আসছে না এই ক্ষণে,  পেঁচা আর কোন্দা ভয়ে লুকিয়ে রইল বনে। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে আসলে এবার টুনটুনি আর বুলবুলি, আজই তাদের বাচ্চাগুলো সাবাড় করল বিল্লি। মিটিং মিছিল চলল এবার সাহস নিয়ে মনে, কোনো সমঝোতা হবে না আর বিল্লি মাসির সনে। কেউ বলছে ধরবে ঘাড়ে, কেউবা বলছে লেজে, কেউবা আবার চেঁচিয়ে বলছে, মারব বারুদ সেজে। বাজপাখি এসেই বলে ধরবো তাকে ধ্যানে, পাখ-পাখালির কিচিরমিচির গেল মাসির কানে। এগিয়ে এসে গোঁফ উঁচিয়ে যেইনা "ম্যাও" ডাকে, অমনি সবাই প্রাণ বাঁচাতে পালাও পালাও হাঁকে।