পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২৪ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

প্রাণীহত্যা মহাপাপ

সে অনেক আগের কথা। এক গ্রামে এক সাধু বাস করতেন। তিনি অত্যন্ত সহজ সরল ও ধার্মিক ছিলেন। পাশের মাঠে কৃষি কাজ করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।    একদিন সেই সাধু তার কৃষি মাঠে শস্য বপন করেন এবং ঘুঘু পাখির উপদ্রব থেকে রক্ষা করার জন্য শস্যের উপর জাল ফেলে রেখেছিলেন। পরদিন ঘুঘু পাখির দল সেখানে শস্য খাওয়ার জন্য যায় কিন্তু মাঠে জাল ফেলে রাখায় তারা কতক্ষন হাঁটাহাঁটি করে চলে যাচ্ছিল এমন সময় একটা বাজপাখি তাদের ধরার জন্য ধাওয়া করে এবং জালে এসে ফেঁসে যায়। তার নখ লম্বা এবং ধারালো থাকায় যতই সে ছোটার জন্য ছটফট করে ততই আরো বেশি ফাঁসতে থাকে। এক সময় সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে রইল। সেদিন সন্ধ্যার পর একটি শেয়াল সেদিক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ পাখিটি তার নজরে পড়ে। সে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে খাওয়ার জন্য ধরে কিন্তু বিধি বাম। বাজপাখিটাকে জাল থেকে ছুটাতে গিয়ে শেয়াল নিজে ঐ জালে ফেঁসে যায়। সেদিন রাতে খুব ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় শেয়ালও মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে রয়।   পরদিন সকালে সেই সাধু সেখানে এসে এদেরকে দেখতে পান। সাধুকে দেখে শেয়াল প্রথমে কাকুতি মিনতি করে বলল,' হে মহামান্য, আমি এদিক দিয়ে যাওয়ার সময় ঐ বাজ...

কুমির ও কাঁকড়া ( ছোট গল্প)

সে অনেক আগের কথা। ধলেশ্বরী নদীর ঘাটে এক কুমির বাস করত। সেই নদীতে অনেক বড় বড় মাছ পাওয়া যেত। কুমির মনের আনন্দে মাছগুলো ধরে খেত আর পাশে নদীর ঘাটে গিয়ে বিশ্রাম নিত। সেই ঘাটে সে একা থাকত বলে খাবার কোন অভাব ছিল না। ফলে তার চেহারা ছিল খুব নাদুসনুদুস। প্রতিদিন দুপুর বেলা ক্লান্ত হয়ে সে ঘাটের পাশে যখন বিশ্রাম নিত তখন একটা কাঁকড়া তাকে দেখত এবং কখনো কখনো তার উচ্ছিষ্ট খাবার কাঁকড়াটা খেত। একদিন এভাবে ক্লান্ত হয়ে কুমির যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন কাঁকড়া লক্ষ্য করল দূর থেকে এক শিকারী এদিকে আসছে। দেখামাত্র কাঁকড়া চুপে চুপে গিয়ে কুমিরের কানের পাশে এক চিমটি কাটতেই কুমির জেগে উঠলো এবং কাঁকড়াটাকে মেরে ফেলতে উদ্যত হল। সঙ্গে সঙ্গে কাঁকড়া জোড় হাত করে ক্ষমা চেয়ে বলল,' মহামান্য, আমি অনেক দিন থেকেই আপনার উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে আসছি। এজন্য আমি চির কৃতজ্ঞ। ওই যে দেখুন একজন শিকারী এদিকে আসছে, তাই আপনাকে রক্ষা করতেই আমি আপনাকে জাগানোর জন্য আপনার গায়ে চিমটি কেটেছি।' কুমির সঙ্গে সঙ্গে তাকে ক্ষমা করে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে গেল।  পরদিন যখন কুমির সেখানে আসল তখন কাঁকড়াকে পাশে ডেকে বললো,' যেহেতু সেদিন তুম...

ভুল শুদ্ধে জীবন

করে যাই কাজ   নাই পাই লাজ         সতত চেষ্টা করি। চলি কাজ খুঁজে   ভালো মন্দ বুঝে           সঠিক কাজটা করি। করিনা সে ভয়    লোকে কিবা কয়             কাজের ভুলটা ধরে। যদি হয় ভুল          হইনা ব্যাকুল           ভুল তো মানুষের তরে। ভুল শুদ্ধে জীবন    এমনি এ ভুবন           এইতো জীবন নরে! ঘেঁটে দেখ সারা    ভুলত্রুটি ছাড়া             নেই কেউ অবনী 'পরে। না করিলে ভুল       করিলেও ভুল            এমনও সময় আসে। তথায় দাঁড়ায়ে        চাই ভাবিবারে            কভুও না পড়ে ত্রাসে। ত্রাস রেখে দূরে        পরহিত তরে            রাখিব নিজের জ্ঞান। কর্তব্যটা বুঝে        করে যাব নিজে         ...

বন্ধু মানে আলোর দিশা

বন্ধু মানে চির সাথী অটুট এক বন্ধন, বিশ্বস্ততায় চলার পথে কভু হাসি কভু ক্রন্দন। বন্ধু মানে যখন তখন এক পশলা বৃষ্টি, সুখে দুখে হঠাৎ করে অপূর্ব এক সৃষ্টি। বন্ধু মানে আঁধার পথে হঠাৎ আলোর দিশা, পরশে যার দূর হয়ে যায় হাজার অমানিশা। বন্ধু মানে শূন্য হাতেও অগাধ ভালোবাসা, মরুর বুকে বাদল হয়ে মিটায় সকল তৃষা। বন্ধু মানে হৃদয় ছোঁয়া অভিন্ন দুই প্রাণ, তাইতো সবাই বন্ধু খুঁজে এ যেন এক টান। আসল বন্ধু যে জন পায় জীবন হয় উজালা, নকল বন্ধু হলে আবার জীবনটা হয় কালা। বন্ধু সদাই ত্যাগে সুখী চায়না কিছু মুখে, সে'ই হলো আসল বন্ধু থাকবে সুখে দুখে। ঝড়ঝঞ্ঝায় আধার রাতে বিপদ এলে পাশে , সান্ত্বনা আর সাহস যোগায় শুধুই ভালোবেসে। আজি এই বন্ধু দিবসে এইটুকু মনে আশা, একে অন্যে গড়ে উঠুক নির্লোভ ভালোবাসা। যেখানে যত বন্ধু আছে করছি আজ স্মরণ, দূরে হলেও পাশে আছে থাকবে আজীবন।

রণধীর ডাক্তার

লাউ সম ভুঁড়ি তার রণধীর ডাক্তার, টাক মাথায় চুল নেই চেহারাটা মজাদার। ফাঁকা দাঁতে দেয় হাসি রোগী থাকে মুখ চেয়ে, জর্দাতে পান খায় রস পড়ে গাল বেয়ে। জোড়াতালি দিয়ে পরে ধুতি আর পাঞ্জাবি, সাদা রঙ্গে পিক পড়ে হয়ে যায় খয়েরী। ঠগবাজী বুদ্ধিতে নেই কোন জুড়ি তার, ফার্মেসির পেছনেতে বানিয়েছে চেম্বার। রোগী দেখে হেলেদুলে রোজ দিন সকালে, স্টেথোস্কোপ গলে রেখে হাত দেয় কপালে। চোখ দেখে রোগীদের বলে দেয় পালস রেট, বেশি দামে বেচে সদা সরকারি টেবলেট। সব রোগে দিয়ে যায় এন্টাসিড কুইনাইন, বেশি কথা বললেই রোগীদের করে ফাইন। একদিন বৈকালে ঘটিল এক কাণ্ড, ডায়েরিয়া রোগী এসে করে সব লণ্ডভণ্ড। দেখতে দেখতে রোগী হয়ে গেল কঙ্কাল, হাউমাউ করে রণ ঘটিল কি জঞ্জাল। হেনকালে পুলিশ এসে ধরে নেয় ডাক্তারে, ঠগবাজীর ফলটা সে পেল বুঝি আহারে!

অঙ্গীকার

এসো হে নবীন এসো হে প্রবীণ  শান্তি জাগাই মননে, হাত জোড় করে অঙ্গীকার করি  সারা বিশ্বের কল্যাণে। মানুষ হয়ে মানুষকে ভালোবাসি  রচে যাই মানবতা, হিংসা বিদ্বেষ দূর করি এসো  একতার দেই বারতা। চির সবুজ ধরিত্রীর বুক থেকে  দূর হোক যত জরা। নীল নীলিমায় আকাশে বাতাসে নামুক আলোর ঝর্ণা ধারা। বিশ্ব জুড়ে হিংসার রাজনীতি  গোলাবারুদের গন্ধ, নিরীহ মানুষ অশান্ত আজ  হারিয়ে জীবনের ছন্দ। বিশ্ব শান্তি দিবসের আজি শুভক্ষণে  এসো অঙ্গীকার করি , বৈষম্য নাশিতে বিভেদ ভুলিতে   এসো হাতে হাত ধরি। দিয়ে যাই সবে ভরসার প্রত্যয়  ফিরাতে সেই বিশ্বাসী মন, শান্তির বার্তা রচে যাই সবে  তবেই তো হবে উত্তরণ।

মিতালীর আত্মত্যাগ

শিরোনাম: মিতালীর আত্মত্যাগ রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আজ সমাপ্তির দিন। সপ্তাহ বাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় যারা অংশ গ্রহণ করেছে আজ খোলা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর তাদের হাতে বিজয়ী সনদ পত্র ও ট্রফি তুলে দেওয়া হবে। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রতিযোগীরা অধির আগ্রহে অপেক্ষায়। একটু পরেই প্রধান অতিথির ভাষণ শেষ হলে পুরস্কার গ্রহণ করবে। মিতা অরফে মিতালী একেবারে সামনেই বসেছিল। খেলাধুলা নাচগান কবিতা আবৃত্তি বক্তৃতা সব বিষয়েই সে যে প্রথম পুরস্কার পাবে তা প্রায় সবারই জানা। তার সঙ্গী সাথীরা তার পাশে এসে বসেছে অভ্যর্থনা জানাতে। চীৎকার আর চেঁচামেচিতে কী হুলস্থুল কাণ্ড। অতিথিদের হাত থেকে সনদ আর ট্রফি নিতে নিতে মিতা যেন ক্লান্ত। সবার নজর এখন মিতার উপর। সঙ্গী সাথী সবার হাতেই তার পুরস্কার সামগ্রী।  শেষ পর্যায়ে হঠাৎ ঘোষণা করা হলো স্টুডেন্ট অফ দা ইয়ার। কিন্তু এ ঘোষণা শুনে সবাই অবাক হয়ে গেল। এটাও যে মিতার ঝুলিতে যাবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কারণ সবাই জানতো স্টুডেন্ট অফ দা ইয়ার দীপকই হবে। দীপক বি এ ফিফ্থ সেমিস্টারের ছাত্র...

বন্ধুর নামে শত্রু

শত্রুর কাজ বন্ধু করেছে লজ্জায় পড়েছ তায়, বন্ধুকে তবু শত্রু ভেবো না খুঁজে যাও উপমায়। বন্ধু! সে তো কভুও ছিল না, ভুল করেছ আগে, না চিনে তাহারে করেছ বন্ধুত্ব পড়েছিলে অনুরাগে। খুশির সময় হাত মিলিয়ে খুশিতে সামিল ছিল, দুঃখের সময় দুখ প্রকাশে হাসিটা গোপনে দিল। বন্ধুর নামে এরাই শত্রু জানে কত অভিনয়, সূযোগ বুঝে আড়ালে হাসে আড়ালে খবর লয়। কষ্টে হাসিয়া রাখ তা চাপিয়া কেন কর তুমি ভয়, নীরবতা ও সহ্য ক্ষমতায় করতে পার এ বিশ্ব জয়। থামবে ঝড় টুটবে আঁধার ফুটবে রবির আলো, ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলো। তুমি যা করেছ পারেনি সে তা তাইতো পড়েছে পিছে, যেমন ছিল তেমনি সে আছে দোষ কেন দাও মিছে? যার যে কাজ করে যাবে সে ধরতে যেয়ো না ভুল, বন্যার জল নদীও সহে না ভেসে যায় দুই কুল।