পোস্টগুলি

মে, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সময়

সফলতা চাও কাজ করে যাও  সময়ের মূল্য দাও। স্থির করো কাজ পরে নাও সাজ এখনই তা করে যাও। আজ নয় কাল খুঁজে দিন ভাল তারিখটা যারা করে, তারা পড়ে থাকে ব্যর্থতার ফাঁকে  আফসোস করে পরে। অপেক্ষায় ফাঁকি খুলে দেখ আঁখি  বিবর্ণ নিথর সে আশয়, বসে মরীচিকা কভুও পায়না দেখা  সাফল্যের পূণ্য জলাশয়।  সংকল্প দৃঢ় হতে হবে রূঢ় নেই হারাবার ভয়, অপেক্ষার নদী বহে নিরবধি  শেষ কভু নাহি হয়। কেন কর দেরি ছাড়ো ছলচাতুরি  এখনই গুড়িয়ে চলো। ঝেড়ে ফেল ভয় খুঁজে পাবে জয়  আঁধারে জ্বলবে আলো। নিজ অনুরাগে শুরু কর আগে  খুলে যাবে সব দ্বার। সিক্ত করে মন কর এই ক্ষণ কভুও হবে না হার।

সুগার

মরণ ব্যাধি সুগার রোগী  এখন ঘরে ঘরে, করলে আহার একটু বুঝে  মরবে দুদিন পরে। অবসর আর অধিক ভোজন  রোগটা ডেকে আনে, দেহের কোষে চর্বি জমে  লিভারে আঘাত হানে। ইনসুলিনের মাত্রা যখন   অধিক যায় বেড়ে, সর্ব অঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে  জীবনটা নেয় কেড়ে। শরীর ব্যথা পায়ে ব্যথা  হৃদরোগও হতে পারে, রোগী যদি সতর্ক হয়  রোগটা তখন হারে। তাইতো বলি সকাল বিকেল  শ্রম টা একটু কর, কোরমা পোলাও মিষ্টি ছেড়ে  শাক-সবজিতে ধর। হাঁটাহাটি ব্যায়াম চর্চা  সময়মতো চাই, রুটিন মাফিক স্বল্প ভোজন  তাহার উপর নাই।

প্রকৃতি বাঁচাতে

কোথায় হারালো আজি সোনালি সে দিন, মেঠো পথ কাদা জল তবুও রঙিন। সারি সারি গাছপালা সারি সারি ঘর, সবুজ ধানের ক্ষেত ছিল মনোহর। গ্রামে গঞ্জে ছিল যেথা ছাউনির বাসা, একান্নে বসতি ছিল কাঁচা ঘর খাঁসা। পড়াশোনা কম ছিল ছিল সরলতা, জাতিধর্ম নির্বিশেষে ছিল যে একতা। বাড়িছে মানুষ দেশে ক্ষিপ্র তার গতি, শিক্ষা দীক্ষা বিজ্ঞানেতে সমহারে মতি। নিষ্ঠুর মানব দেখ জ্ঞানের বাহার, গাছপালা কেটে সব করিছে উজাড়। বাঁচার নির্মল বায়ু যেথা থেকে পায়, সে সবের গুণাগুণ কেন ভুলে যায়? সবুজ ধরার বুক কালো ধোঁয়া ময়, ইটভাটা কারখানা মাটি কোথা রয়? ডোবা জল খালবিল দেখা নাহি যায়, পাহাড়ের মাটি কেটে বসতি বানায়। সর্বত্র প্রাসাদ গড়ি ভাবে সুখী প্রাণ, ফসলের জমি নেই কোথা হবে ধান। খাবার পাবে না নর আসছে সে দিন, আবাদি বন্ধ করি দেখিতে সুদিন। নিঃশ্বাস কেমনে নেবে বিষাক্ত যে বায়ু, প্রকৃতি দূষণ ফলে কমছে যে আয়ু। প্রকৃতি বাঁচাতে তাই করি সবে পণ, গাছপালা রোপে যাই বাঁচাতে দূষণ।

রবি নজরুল স্মরণে

বাংলা ভাষায় বিশ্ব সাহিত্যে রবি-নজরুল সেরা, তাইতো আজিকে দুই কবিকে স্মরণ করছি মোরা। বিশ্ব বাংলায় অমর যাহারা আপন মহিমা মাঝে, রবি-নজরুল বিরাজে সাহিত্যে অভিনব এক সাজে। গল্প উপন্যাস নাট্য ও কাব্য সঙ্গীত পারাপার, নিজ সত্ত্বায় প্রকাশে কবিরা বাংলার সারা সার। দেশমাতৃকার মুক্তির তরে দুজনই সংগ্রামী বীর, তাদের লেখনীর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ বৃটিশেরে মারে তীর। পলাইয়া বাঁচে বৃটিশ শাসক ভারত স্বাধীন দিয়ে, গর্বিত দেশ গর্বিত জাতি রবি -নজরুল নিয়ে। একতার মন্ত্র সাম্যের বাণী লেখনীতে পায় ঠাঁই, পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী নেতা কবিদেরে খুঁজে পাই। দেশ বন্দনা সাম্য রচনা হৃদয় বীণায় বাজে, তাঁদের সে সুর আজো অমর বাঙালির হৃদয়ে রাজে। দুটি দেশের জাতীয় সংগীত দুই কবিকেই সাজে, রবি গুরুদেব বিদ্রোহী নজরুল এই আমাদের মাঝে। আজিকার এ দিনে প্রণতি মোদের দুই কবির নামে, অমর কবিরা বাংলা যতদিন থাকিবে এ ধরা ধামে। রবি-নজরুল স্মরণ মাঝে জানায় প্রণাম সবে, নৃত্য গীতে কাব্য পাঠে মাল্য দানও রবে।

কথা বললেই বেরা

অন্যায় আর অবিচারে সমাজটাই যে ঘেরা                কথা বললেই বেরা। কেউ দেখেনা কেউ শুনে না সবার প্রাণে ভয়               চোখ বুজে তাই রয়। কথা বললেই শত্রু বাড়ে বাড়ে অনেক জ্বালা                  তাইতো সবাই কালা। দুর্নীতি আর দুর্ভাবনা এ যেন এক রাজ                  দেখছি কত সাজ। সত্যি কথা বললেই ওরা তেলেবেগুনে জ্বলে,               কতো কথাই বলে। তাই বলে কি ওদের ভয়ে হয়ে যাবো মূক,                বন্ধ রাখবো চোখ? সত্যি কথা বলেই যাবো বাড়ে বাড়ুক দুখ,                ফুলিয়ে চলবো বুক। নীরব হয়ে আর কত কাল সইবো এদের জ্বালা,                 কানে দিয়ে তালা। অন্যায়টা সহ্য করা সেও তো এক পাপ,                   বাড়বে মনের চাপ। সত্যি কথা ...

মাতৃভাষার জন্য

বর্ষিয়ান সাহিত্যিক রণধীর বাবু তাঁর নাতনিকে নিয়ে যখন তখন যেখানে সেখানে সভা সমিতিতে গিয়ে হাজির হন। বরাক উপত্যকার বাঙালি কোন সভাসমিতি বা সাহিত্য আড্ডায় রণধীর বাবু থাকবেন না এমন কোন কথা হতে পারে না। বয়স ৯৬ এর উপর। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের কথা এখনো তাঁর মনে আছে। বাঙালির ভাষা আন্দোলনের প্রত্যক্ষ সাক্ষী রণবীর বাবু। নিজ চোখে অতি পাশে থেকে তিনি ভাষা শহীদদের দেখেছেন যা কখনো ভুলতে পারেন না।     আগামী কাল ঊনিশে মে। ভাষা শহীদদের স্মরণে এক বিরাট সভার আয়োজন করা হয়েছে। রণধীর বাবু প্রধান অতিথি হিসেবে সেখানে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখবেন। রাতে ঘুমানোর আগে তিনি নাতনি তানিয়াকে সকাল সকাল প্রস্তুত থাকতে বললেন। তানিয়াই এই বুড়ো বয়সে তাঁর অন্ধের যষ্ঠি। যেখানেই যান তানিয়াকে সঙ্গে নিয়ে যান। সেও অনেক বড় হয়েছে। এবার পঞ্চম শ্রেণীতে প্রমোশন পেয়েছে। প্রতি বছরই সে দাদুর সাথে ভাষা শহীদদের বেদিতে ফুল চড়াতে ও মোমবাতি জ্বালাতে যায়।    আজ দাদু যখন তাকে প্রস্তুত হতে বললেন তখন হঠাৎ তার মনে একটা ভাবনার উদয় হলো। সে উৎসুক হয়ে দাদুকে জিজ্ঞেস করল ,' দাদু, মাতৃভাষা শহীদ দিবস বছরে ক' বার ...

ভূত ও পেত্নী

টিকি মাথায় ভুতের রাজা নাকি সুরে কাঁদে, পেত্নী নাকি পালিয়ে গেছে পড়ে প্রেমের ফাঁদে। রাতদুপুরে কান্না শুনে মন্ত্রীরা সব আসে, ভুত রাজার কান্না দেখে সবাই মিলে হাসে। হাসি দেখে রাজা মশাই রেগে গিয়ে কয়,  জ্বালিয়ে দেবো সব বেটারে নেই কি তোদের ভয়? ভুতের রাজার হুমকি পেয়ে পালিয়ে সবাই বাঁচে, এক বেচারা এগিয়ে এসে বলল রাজার কাছে। দেখে এলাম পেত্নী রাণী নাচছে শ্যাওড়া তলে, কাতুম কুতুম শিংওয়ালাকে বিয়ে করবে বলে। বিয়ের আসর জমছে সেথায় হাজার ভুতের ভীড়, ভাবছি আমি ভাঙলো কি আজ তোমার সুখের নীড়। কথা শুনে ভুতের রাজা সেই ভুতেরে কয়, পেত্নী আমার কোথায় গেল আমারো সেই ভয়। হেনকালে পেত্নী এসে খিলখিলিয়ে হাসে, শত্রু তোমার নিয়ে এলাম প্রেমের জালে ফাঁসে। চির শত্রু কাতুম কুতুম মানব কুলে ঘোরে, ভণ্ড পীরের ভক্ত হয়ে ভুতের বিচার করে। ধরে তারে বন্দী করে মেটাও মনের সাধ, ভুতেরা সব মুক্তি পাবে খুলবে পীরের বাঁধ । ভুতের রাজা খুব ই খুশি নিজ পেত্নীর কাজে, অসাধ্যকে সাধন করে পেত্নী নানান সাজে।

পোকা ও ধোঁকা

পূব আকাশে ঝড় উঠেছে উড়িয়ে দেবে চাল, হায়হুতাশে প্রাণীরা সব কি যে হবে হাল। পাখির বাসা হাওয়ায় দোলে মরছে দারুন ত্রাসে, পিঁপড়ে ফড়িং সবার বাসা নদীর জলে ভাসে। ঝড়ের সাথে মেঘের খেলা ভয়ে কাহিল প্রাণ, এপার ওপার জলে ডুবা কে করবে ত্রাণ। উইপোকা আর মাকড়সাতে জলে সাঁতার কাটে, নৌকা বানায় ফড়িং বাবু জলে ডুবা মাঠে। গুনগুনিয়ে মশা ডাকে উঠো সবাই নায়ে। মাছি আর আরশোলাতে ছোটে দ্রুত পায়ে। মৌমাছি আর প্রজাতি হাওয়ার উপর ভাসে, শুয়ো পোকা গাছের ডালে মুচকি মুচকি হাসে। নৌকার উপর উঠে সবাই থিপস তুলে পাল, পিঁপড়ে মাঝি বৈঠা টানে ফড়িং ধরে হাল। মশার ডাকে নৌকায় উঠে বাঁচলো হাজার পোকা  জাতির পাতি শুয়ো পোকা খেলো দারুন ধোঁকা।

পশু

ভাবি বসে দিনান্তে        জীবনের শেষ প্রান্তে                কেন বৃথা মানব জীবন। হিংস্র পশু সেও ভালো    অন্তরে যে নেই কালো               আছে তার সুন্দর ভুবন। কাহারো করে না ক্ষতি     নিজ কাজে সদা মতি            জীবনেতে নেই পাপাচার। ধর্ম কর্ম নেই তাই       সহিষ্ণুতা প্রশ্ন নাই             নাই কোন নিন্দা অত্যাচার। পশুরা অনেক শান্ত        ধারণাটা নয় ভ্রান্ত              হিংসা যে নেই কভূ মনে। ইচ্ছা করে চলে যাই       সেথা যদি ঠাঁই পাই               থাকি যেন তাহাদের সনে। জানি তারা ভালো আছে   ভালোবাসা নাহি যাচে               নিজেতে নিজেই তারা সুখী। করে না পরের আশা       চায়না তো ভালোবাসা    ...

খোকার পণ

স্কুলেতে যাচ্ছে খোকা  হয়ে পরিপাটি, পড়াশোনা করবে সে যে  মানুষ হবে খাঁটি। সহজ সরল হাসি খুশি  থাকবে সারাক্ষণ, খেলাধুলা পড়াশোনা  এইতো স্কুল জীবন। চরিত্র পাঠ আর নীতি শিক্ষায় শিক্ষা দিবেন গুরু, আদর্শ আর মানবতায়  হবে জীবন শুরু। মনের কলুষ ঘুচবে সেথা  শিক্ষার আলো পেয়ে, সব ভেদাভেদ ভুলে যাবে  দেশের গান গেয়ে। গুরুজন আর বড়দেরে  শ্রদ্ধা সম্মান দেবে, ছোটদেরে ভালোবেসে  ভালোবাসা নেবে। ফুলের মতো গড়বে জীবন  এই করেছে পণ, নম্র ভদ্র দেখে সবার  জুড়িয়ে যাবে মন।