পোস্টগুলি

2024 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

লুটছে যত রাজভাণ্ডারী

স্বার্থের তরে    মুখোশ পরে কত মানুষ করছে রাজ। চলন ভারি       ভ্রষ্টাচারী নেই যে কোন শরম লাজ। শরীর ঝাড়ে      গরীব মারে ঠকিয়ে খায় বিবেক ঢেকে। পথটি বাঁকা       কামায় টাকা সদাই সুখের স্বপ্ন দেখে।  নেই সততা    করে শঠতা  মুখেতে শুনায় উপদেশ। এমনি ধারা       চালায় তারা অন্তরে থাকে হিংসা দ্বেশ।। নেই যে নীতি     দেখায় প্রীতি শুকনো তার হৃদয় খানি। লুটছে স্থির       ভাবছে বীর শিক্ষা দীক্ষায় মহাজ্ঞানী। বিবেক হারা       পাষাণ তারা দুর্বল 'পরে খবর রাখে। পড়লে ধরা          নয়ন চোরা শাক দিয়ে মাছ সদা ঢাকে। তাইতো বলি        ভিক্ষার থলি লুটছে যত রাজভাণ্ডারী। ধরলে রবে         বুঝবে তবে কেমন তোমার বাহাদুরি।

একতাই শক্তি

একা কর কাজ        খুলে দেখ রাজ                 বিফলতা তাহে ঠাসা। মিছে কেন তবে        একা করে যাবে                কথাগুলো বটে খাসা। আপনার মাঝে         সবাই বিরাজে                 নয় কেহ কভু দূর। মিলেমিশে থাকি        নাহি দেই ফাঁকি               সুখে থাকি ভরপুর। ছোট প্রাণী মাঝে       কত জ্ঞান 'রাজে               ভেবে কি দেখেছ কভু? দিয়ে যায় প্রাণী           একতার বাণী                 বুঝিনা আমরা তবু! পিপীলিকা বুঝে       তাই দল খোঁজে               কভুও থাকেনা একা। সকলের তরে              সকলেই করে           ...

বাবারা যে রকম হয়

লতিফুল ইসলামের মনটা আজ খুব খারাপ। মেয়ে ফোন করেছে ওর শরীরটা ভালো না, ওর জন্যে যেন দোয়া করেন।  তিনি বলেছিলেন দেখতে যাবেন কিন্তু মেয়ে বারন করেছে। এর অনেক কারণও আছে। নিজ চোখে হয়তো মেয়ের কষ্ট দেখলে বাবা মনে আঘাত পাবেন এজন্য মেয়ে চায় না বাবা তার বাড়িতে আসুন। শুয়ে শুয়ে লতিফুলের মনে পড়লো তার একমাত্র মেয়ে, ঘরের প্রদীপ সানিয়ার অতীত সোনালী দিনগুলোর কথা। যাকে নিয়ে তার অনেক স্বপ্ন ছিল। ছোট বেলা থেকেই অনেক আদর যত্ন করে মানুষ করে তুলেছেন। ইসলামী শিক্ষা, সাংসারিক রীতিনীতি, কাজকর্ম আচার ব্যবহার কোন গুণ ছিল না তার। পড়াশোনাতেও অত্যন্ত মেধাবী ছিল। উচ্চ মাধ্যমিকে আশি শতাংশ মার্ক নিয়ে পাশ করার পর মেয়ের ইচ্ছা ছিল ডাক্তারি পড়বে। কিন্তু এই অজপাড়া গাঁয়ে থেকে সে প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব না। কারণ তার জন্য ভালো কোচিং এর প্রয়োজন। আর তা করতে হলে বড়ো শহরে যেতে হবে। তার অভাবের সংসার। তাছাড়া মেয়েকে একা ছাড়া সম্ভব না। আদরের মেয়ে, এক মুহুর্ত ওকে ছাড়া তিনি থাকতে পারবেন না। তাই তাকে নিজের পাশে রেখে জেনারেল পড়াশোনা করিয়েছেন। এক মুহুর্ত চোখের আড়াল হলে মেয়েও সহ্য করতে পারে না। বাবা বাজারে গেলে...

পরের তরে (২)

সাপ্তাহিক কবিতা প্রতিয গাছের ডালে জন্ম নিয়ে গাছের ডালে ভর করে, বেঁচে থাকে পরগাছা গাছকে ভোগ করে। তাহার খাবার কেড়ে নিয়ে বড়ো হয়ে বলে, 'আমার তরে জন্ম তোমার এই না ভুবন তলে।' ঝড়বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গাছটি বাঁচায় যারে, তার দুঃখে আগাছা টার গর্বে হৃদয় ভরে। বলে তারে ব্যঙ্গ করে ,'তোমার জনম বৃথা, কত সুখে আছি আমি তোমার বুকে হেথা। ঝড় বৃষ্টি আসলেই তোমার মাথা নুয়ে পড়ে, বিধাতারে নিন্দ তুমি কেন এমন গড়ে। কত সুখে আছি আমি তোমার শরীর ঘিরে, মাটির মধ্যে জন্ম তোমার আমি তোমা 'পরে।' নিজের খাবার দিয়েও গাছ পরগাছা বাঁচায়, এমন একটা দিন আসে নিজেই ঝরে যায়। ধরা মাঝে এমন আছে কতশত জ্ঞানী, নিজের স্বার্থ বলি দিয়ে অন্যে বাঁচায় জানি। জ্ঞানীর মাঝে বসত করে জ্ঞানের কথা কয়, অজ্ঞানতা ভুলে গিয়ে জ্ঞানের পাঞ্জা লয়। কথায় কথায় তর্ক করে অল্প জ্ঞানী হলে, আসল জ্ঞানী মানুষ যারা অল্প কথাই বলে। বিজ্ঞ জনের জ্ঞানের কথায় অজ্ঞানীরা হাসে, তাদের প্রভাব বেশি বলে জ্ঞানী হাওয়ায় ভাসে।  অল্প জ্ঞানী নিজের তরে শুধুই গর্ব করে, নম্র ভদ্র জ্ঞানী যারা মরে পরের তরে ।

প্রবন্ধ: বরাক উপত্যকা ও বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত

ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে আসাম রাজ্য আয়তন ও জনসংখ্যার দিক দিয়ে অনেক বড় এবং সমৃদ্ধ। আসামের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৩,৬৬,২৫০০০ জন।ভৌগলিক দিক থেকে আসামকে তিনটি উপত্যকায় ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হল যথাক্রমে ব্রম্মপুত্র উপত্যকা, বরাক উপত্যকা ও উত্তর কাছাড় পার্বত্য অঞ্চল।  বরাক উপত্যকা দক্ষিণ আসাম নামেও পরিচিত। বরাক উপত্যকার মোট আয়তন ৬৯২২ বর্গকিলোমিটার। এই উপত্যকার প্রধান শহর হল শিলচর। বরাক নদীর নাম থেকেই এই অঞ্চলের নাম হয়েছে বরাক উপত্যকা। আসামের তিনটি প্রশাসনিক জেলা- কাছাড়, করিমগঞ্জ, এবং হাইলাকান্দি নিয়েই বরাক উপত্যকা গঠিত। এই তিন জেলার মধ্যে ব্রিটিশ ভারতে আসার আগে, কাছাড় ছিল কাছাড়ি রাজ্যের মধ্যে, এবং করিমগঞ্জ ও হাইলাকান্দি আসাম প্রদেশের সিলেট জেলার মধ্যে ছিল। ১৯৪৭ সালের বিতর্কিত গণভোটের পর উভয় অঞ্চলকে সিলেট থেকে আলাদা করা হয়; সিলেটের বাকি অংশ পূর্ব পাকিস্তানের (এখন বাংলাদেশ) এবং ভারতের করিমগঞ্জের মধ্যে ভাগ করা হয়। বরাকের প্রাচীন নাম ছিল ‘বরবক্র'। রূপেশ্বর থেকে দক্ষিণ দিকে বরবক্র নামে খ্যাত সর্বপাপনাশী একটি তীর্থস্থান  আছে, সেই স্থানে পুরাকালে মুনি শ্রে...

সন্দেহ

শীলার সাথে দিব্যেন্দুর বিয়ের প্রায় দশ বছর হয়ে গেছে। যদিও তারা নিজেদের পছন্দেই একে অন্যকে বিয়ে করেছে অর্থাৎ লাভ ম্যারেজ করেছে তবুও তারা সুখী হতে পারেনি। কারণ একটাই, শীলা তাকে সন্দেহ করে। কারণে অকারণে সবসময় কথা কাটাকাটি আর ঝগড়া করে। সন্দেহের বিষে সে যেন তিলে তিলে ধ্বংস হতে লাগলো। অথচ এ সন্দেহের বিশেষ কোন কারণ সে খুঁজে পায় না। একেক সময় ভাবে তার মা-বাবা অন্যত্র মেয়ে পছন্দ করে বিয়ের তারিখ পর্যন্ত নির্দিষ্ট করে ছিলেন কিন্তু সে মুহূর্তে শীলার প্রেমে পড়ে মা-বাবার কথা রাখতে পারেনি। আর এটাই বোধহয় তার জীবনের সবচেয়ে বড় কাল হয়েছে। সে শীলাকে নিয়ে সুখী হতে পারেনি, পরন্ত সবসময় একটা টেনশনে থাকতে হয়। কারণে অকারণে শীলা তাকে সন্দেহ করে আর হুমকি দেয় অন্য কোন মেয়ের সাথে সম্পর্ক হলে সে মরে যাবে।  আসলেই দিব্যেন্দু খুব সাদাসিধে প্রকৃতির লোক। অল্প বেতনেই সে গৌহাটির একটি বেসরকারী ইনসিওরেন্স গ্রোপ অব ইণ্ডাস্ট্রীজে জেনারেল ম্যানেজারের কাজ করে। কোম্পানির কাজে সাধারণত সকল কর্মচারীদের সাথে যে সদ্ভাব নিয়ে কাজ করতে হয়, তার মধ্যে এ গুণ গুলো ছিল খুব ভালো। সে অফিসে ইলা নামের একটা মেয়ে কাজ করে। আ...

মানুষ হও আগে

শ্রেণীকক্ষে ছাত্রদেরে শিক্ষা দিচ্ছেন গুরু, গল্প আর উপদেশ দিয়ে করলেন তিনি শুরু। ছাত্র-ছাত্রী অবাক হয়ে শুনছে তাহা বসে, আদর্শ আর নীতি শিক্ষা বুঝিয়ে দিচ্ছেন রসে। ছাত্র যখন বলল ,'স্যার বইটি পড়ান আগে, পরীক্ষাতে প্রশ্ন আসলে উত্তর দিতে লাগে। নাহলে যে মার্ক্স পাবো না করবো মোরা ফেল, বাড়ির বার করবে বাবা বলবে গোল্লায় গেল।' গুরু তখন বললেন হেসে আনতে তাদের বাগে, 'খাতার নম্বর কমবেশি হোক মানুষ হও আগে। ভালো মার্ক্স আর পরীক্ষা পাশ সেটা বড় নয়, সঠিক জ্ঞানে সঠিক পথে মানুষ হতে হয়। পঠ্যপুথির জ্ঞানেই শুধু হয়না আসল জ্ঞান,  ব্যবহারিক জ্ঞানে তাই রাখতে হবে ধ্যান। মনুষ্যত্ব জ্ঞান না থাকলে শিক্ষার মূল্য নাই, তাইতো বলি পাঠের সাথে নীতি শিক্ষা চাই।'

জানাই সালাম ( ইসলামী গজল)

বিশ্ব নবীর আগমনে খুশির জোয়ার দু জাহানে  হুর পরী আর ফেরেশতারা গায় নবীজীর গান। নবী সাম্যেরই নিশান। তোমায় জানাই সালাম।। নবী সাম্যেরই নিশান , তোমায় জানাই সালাম।।২ তোমার ছোঁয়ায় মরুভূমি সোনার চেয়েও হল দামী  স্মরণ করি তাইতো তোমায় শোভা থেকে শাম ।।  তোমায় জানাই সালাম।। নবী সাম্যেরই নিশান, তোমায় জানাই সালাম।।২ করে তোমার নূরের সৃজন, গড়ল খোদা শ্রেষ্ঠ ভুবন  সেই নূরের আলো পেয়ে মোরা ধন্য যে হলাম।  তোমায় জানাই সালাম।। নবী সাম্যেরই নিশান , তোমায় জানাই সালাম।।২ তোমার বাণীর পরশ পেয়ে সঠিক পথ পেলাম  তোমার উসিলা ছাড়া সবই হবে ম্লান ।। তোমায় জানাই সালাম। নবী সাম্যেরই নিশান, তোমায় জানাই সালাম।। স্বপ্ন রাঙা ওপারেতে দিদার মোদের তোমার হাতে , ক্ষমা কর অধম তোমার পাপী মেহমান।। তোমায় জানাই সালাম।। নবী সাম্যেরই নিশান , তোমায় জানাই সালাম।।

মোহাম্মদ রসুল ( ইসলামী গজল)

৫৭০ খৃষ্টাব্দেতে      হেজাজ প্রদেশেতে, সুবেহ সাদিকেতে ফুটলো যে এক ফুল।।২ মা আমেনার সাহারা   খুশবুতে মন মাতোয়ারা সে ফুল আমার প্রিয় নবী মোহাম্মদ রসুল।।২ ৫৭০ খৃষ্টাব্দেতে----- রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবার, আলো করে আসলেন নবী ঘরে আব্দুল্লার। সেই আলোকে আলোকিত হলো দু'জাহান।। ৫৭০ খৃষ্টাব্দেতে------ আসমান জমিন যার খুশিতে হল মাতোয়ারা, সেই নবীজী জন্মের পূর্বে হলেন পিতৃ হারা। ৫৭০ খৃষ্টাব্দেতে----- এতিম নবী ছয় বছরে হারান মায়ের কোল, হালিমায় যতন করেন যেন গোলাপ ফুল।। ৫৭০ খৃষ্টাব্দেতে---- আবু তালেব নবীর চাচা পালন করেন তাঁরে, বাঁচার লড়াই শিখেন নবী যাহার হাতটি ধরে।। ৫৭০ খৃষ্টাব্দেতে---- চল্লিশ বছর বয়সে নবী হেরা গুহার ধ্যানে, খোদার কালাম কোরান নাজিল জিবরাঈলের সনে।। ৫৭০খৃষ্টাব্দেতে------ আল্লাহ তায়ালার যত নির্দেশ আসে নবীর শানে, হিজরত করতে চলেন নবী মদিনার ই পানে।। ৫৭০খৃষ্টাব্দেতে------- ইসলামের ই শুভ ছায়ায় লক্ষ কোটি প্রাণ, বিশ্ব জুড়ে হাজার ভাষায় গায় তাঁহার ই গান।। ৫৭০ খৃষ্টাব্দেতে -------- ধন্য যারা মুসলমান    গাও নবীজীর গুণগান, শেষ বিচারের দিনে নবী কর...

পুঠি মাছের বিয়ে

বৈশাখেতে মেঘে ডাকে গুড়ুম গুড়ুম বাজে, পুঠি মাছের বিয়ে হবে সাজছে রঙিন সাজে। বৃষ্টির ভাব দেখে তারা করে আয়োজন, ছোট মাছ সব আসলো সেথা পেয়ে আমন্ত্রণ। সানাই বাজে মাদল বাজে  বাজে মোহন বাঁশি, সকল মাছ প্রস্তুত সেথা করতে হাসিখুশি। সাজন ভজন দেখে ব্যাং হাসছে দূরে বসে, পথি মাঝে ধরে খাবে রসের অঙ্ক কষে। যেইনা বৃষ্টি আসলো সেথা বিজলীর চমক নিয়ে, অল্প জলে ভাসে সবাই হামাগুড়ি দিয়ে। দৌড়াদৌড়ি লাফালাফি  বিয়ের লগ্ন জুড়ে, পথি মাঝে বসে ব্যাং খাচ্ছে কুঁড়ে কুঁড়ে।

উত্তরণ

মানুষ যখন অমানুষ হয় আঁধার করে সঙ্গী, দিনের আলোয় নাটক দেখায় করে নানান ভঙ্গি। বিশ্ব জুড়ে আতঙ্ক আজ শান্তির নেই লেশ, খুন খারাবি ধাপ্পাবাজি চলছে অনিমেষ। অপরাধীর হয়না বিচার তাইতো জুলুম বাড়ে, বুক ফুলিয়ে চলে তারা সবার নজর কাড়ে। দুঃশাসনের এই আবেশে জ্বলছে আগুন দেশে, কাটবে আঁধার অমানিশা সবাই সেই সে আশে। দিতে হবে ভরসার প্রত্যয়  ফিরাতে বিশ্বাসী মন, অশান্তির আগুন দূর করে  করতে হবে উত্তরণ। সব মানুষের বিবেক জাগুক আঁধার হোক দূর, জুলুম নাশে মুক্তি আসুক বাজুক সাম্যের সুর।

প্রিয়ার খোঁজে

ত্রি সাপ্তাহিক কবিতার আসর পর্ প্রিয়ার দেখা পাবো বলে খুঁজি হেথা হোথা, যতই খুঁজি হারিয়ে যাই ঠিক থাকে না মাথা। যাত্রা শুরু হলো আমার আঁধার রাতের শেষে, চোখে ভাসে প্রিয়ার বসন সোনালী আভায় মেশে। শুধাই ডেকে পাশে এসো মুখটি ফেরাও দেখি, সূর্যোদয়টা বুঝিয়ে দিল ভাবনাটা তো মেকি। ধীরে ধীরে চললাম এবে অগাধ নদীর ধারে, ছলাৎ ছলাৎ নদীর জল বলছে বারে বারে। আমার কাছে আছে যত দুঃখ কষ্ট জমা, কেমন করে পাবে হেথা তোমার প্রিয়তমা। মন খারাপের ভাবনা নিয়ে ঘুরলাম ঝর্ণা পাহাড়, সবার মুখে একই কথা খোঁজাটাই যে অসার। সাগর পাড়ে চললাম তখন মনে ভাসে স্মৃতি, এমনতর ঠুনকো কেন ভালবাসার প্রীতি। বৌ কথা কও পাখির ডাকে সম্বিত ফিরে পেলাম, ডাকলো পাখি সঙ্গে যেতে তাইতো পিছু নিলাম। আকাশ পানে উড়লো পাখি মোর প্রিয়ার খোঁজে, আধো অন্ধকারে আমার চোখটি এলো বুজে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পৌঁছলাম সেথা শেষে,  দীপ হাতে আসলো প্রিয়া অচিন এক বেশে। মোরে হেরি ধীরে ধীরে ঠোঁট টি কেঁপে উঠে,  অধোবদন দাঁড়িয়ে থাকে কথা নাহি ফোটে ।  নিষ্পলক তাকিয়ে থাকি একে অন্য পানে, কেন অঝোরে ঝরিল অশ্রু কেহ নাহি জানে।

ঠগের জামানা

"শিলিগুড়ি কবিতা উৎসব -২০২৪" ত্রি সাপ্তাহিক কবিতার বিশেষ আসর পর্ব ভিখারির বেশে      দুই ঠগ হেসে              বসিল গাছের নিচে। হাতে নেই কড়ি      বহুদূর বাড়ি              নাখেয়ে মরবে পিছে। সেথা একজন      করছে রন্ধন              বসায়ে উনুনে হাঁড়ি। গরিব বেচারা      নেই কোন তাড়া             রাধছে বসে কিছুড়ি। ভিখারিরা কয়      হইয়া নির্ভয়             মোরাও শরিক হই। চাল ডাল ঢালি গে   আছে এই ব্যাগে            একসাথে খেয়ে যাই। এত বলি ত্বরা        গান ধরে তারা            কত খুশি আহারে! বসে বসে ভাবে      উদর ভরে খাবে          আজি ঠকিয়ে বেচারারে। গান শেষ হলে       হাড়ি মুখ খুলে       ...

কেউ বলেনা মানুষ হও

বাবার ইচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার মায়ের ইচ্ছে ডাক্তার, পড়াশোনায় খুবই ভালো নাম তার আক্তার। সকাল বিকেল টিউশন যায় দু-দুজন মাস্টার, পাড়া পড়শী সবাই বলে হবে একদিন ব্যারিস্টার। দিদার ইচ্ছে উকিল হবে দাদুর ইচ্ছে মিনিস্টার, বন্ধু বান্ধব সবাই বলে হবে একদিন ফিল্মস্টার। ইচ্ছে সবার বিফল গেল বেকার হলো আক্তার, অল্প বয়সে বিয়ে করে করতে হলো সংসার। বোঝা যখন  উঠল কাঁধে চোখে ফোঁটে সর্ষে ফুল , স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে মাথায় ধরে গণ্ডগোল। নেশা করে জ্ঞান হারিয়ে যায় সে যথা তথা , দুর্নীতি আর কুকর্মে লিপ্ত হয়ে হারায় মানবতা। সব মা-বাবার স্বপ্ন বড়ো ক'জন তাতে সফল হয়? অতীত স্মৃতি ঘেঁটে তাহার মনের দুঃখ মনেই রয়। বয়স কালে বুঝলো ছেলে জীবনটা এক ধোঁকা, দুঃখ তাহার কেউ বলেনা মানুষ হও খোকা।

পরের তরে

মুক্ত অঙ্গন ফুলের বাগান মুক্ত তার সুবাস, সুগন্ধ আর রূপ দেখে তার পুরায় মনের আশ। অলি কলি প্রজাপতি কীটপতঙ্গ পাখি, ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায় মিলিয়ে দুটি আঁখি। যেথা ইচ্ছা ফুটুক ফুল সে তো পরের তরে, মন্দির হোক মসজিদ হোক কিংবা গীর্জা ঘরে। কার বাগানের কার চয়নের কেউ কি শুধায় কভু? ভিন্ন নামে ভিন্ন স্থানে পায় সমাদর তবু। মুক্ত আকাশ আলো বাতাস মুক্ত জলের ধারা, প্রকৃতি তা বিলিয়ে দিতে যেন পাগল পারা। চাঁদের আলো বৃষ্টির সুধা ঝরে সবার মাঝে, মিষ্টি সুরে পাখি ডাকে সকাল বিকাল সাঁঝে। সূর্যালোকে বিশ্ব ভাসে কেউ না তারে স্মরে, সবার ঘরে পৌঁছায় সে আগে কিংবা পরে। আলোর কাছে নেই ভেদাভেদ কাটায় আঁধার ঘোর, হোক সে উচ্চ দালান প্রাসাদ নাইবা জীর্ণ কুটির। ইচ্ছে আমার তেমন করে পৌঁছি সবার ঘরে, সবার তরে লড়বো আমি মরবো পরের তরে। পৃথিবীর সব আপন আমার নয়তো কেহ দূর, হৃদয় বীণায় বাজে আমার সবার ব্যথার সুর। সবার সাথে মিলব আমি থাকব সবার সাথে, সবাই যেন ডাকছে আমায় সকাল বিকাল রাতে। ইচ্ছে আমার খাবার যোগাই অনাহারীর মুখে, তাদের সুখে সুখী হবো কাঁদব তাদের দুখে।

প্রাণীহত্যা মহাপাপ

সে অনেক আগের কথা। এক গ্রামে এক সাধু বাস করতেন। তিনি অত্যন্ত সহজ সরল ও ধার্মিক ছিলেন। পাশের মাঠে কৃষি কাজ করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।    একদিন সেই সাধু তার কৃষি মাঠে শস্য বপন করেন এবং ঘুঘু পাখির উপদ্রব থেকে রক্ষা করার জন্য শস্যের উপর জাল ফেলে রেখেছিলেন। পরদিন ঘুঘু পাখির দল সেখানে শস্য খাওয়ার জন্য যায় কিন্তু মাঠে জাল ফেলে রাখায় তারা কতক্ষন হাঁটাহাঁটি করে চলে যাচ্ছিল এমন সময় একটা বাজপাখি তাদের ধরার জন্য ধাওয়া করে এবং জালে এসে ফেঁসে যায়। তার নখ লম্বা এবং ধারালো থাকায় যতই সে ছোটার জন্য ছটফট করে ততই আরো বেশি ফাঁসতে থাকে। এক সময় সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে রইল। সেদিন সন্ধ্যার পর একটি শেয়াল সেদিক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ পাখিটি তার নজরে পড়ে। সে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে খাওয়ার জন্য ধরে কিন্তু বিধি বাম। বাজপাখিটাকে জাল থেকে ছুটাতে গিয়ে শেয়াল নিজে ঐ জালে ফেঁসে যায়। সেদিন রাতে খুব ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় শেয়ালও মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে রয়।   পরদিন সকালে সেই সাধু সেখানে এসে এদেরকে দেখতে পান। সাধুকে দেখে শেয়াল প্রথমে কাকুতি মিনতি করে বলল,' হে মহামান্য, আমি এদিক দিয়ে যাওয়ার সময় ঐ বাজ...

কুমির ও কাঁকড়া ( ছোট গল্প)

সে অনেক আগের কথা। ধলেশ্বরী নদীর ঘাটে এক কুমির বাস করত। সেই নদীতে অনেক বড় বড় মাছ পাওয়া যেত। কুমির মনের আনন্দে মাছগুলো ধরে খেত আর পাশে নদীর ঘাটে গিয়ে বিশ্রাম নিত। সেই ঘাটে সে একা থাকত বলে খাবার কোন অভাব ছিল না। ফলে তার চেহারা ছিল খুব নাদুসনুদুস। প্রতিদিন দুপুর বেলা ক্লান্ত হয়ে সে ঘাটের পাশে যখন বিশ্রাম নিত তখন একটা কাঁকড়া তাকে দেখত এবং কখনো কখনো তার উচ্ছিষ্ট খাবার কাঁকড়াটা খেত। একদিন এভাবে ক্লান্ত হয়ে কুমির যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন কাঁকড়া লক্ষ্য করল দূর থেকে এক শিকারী এদিকে আসছে। দেখামাত্র কাঁকড়া চুপে চুপে গিয়ে কুমিরের কানের পাশে এক চিমটি কাটতেই কুমির জেগে উঠলো এবং কাঁকড়াটাকে মেরে ফেলতে উদ্যত হল। সঙ্গে সঙ্গে কাঁকড়া জোড় হাত করে ক্ষমা চেয়ে বলল,' মহামান্য, আমি অনেক দিন থেকেই আপনার উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে আসছি। এজন্য আমি চির কৃতজ্ঞ। ওই যে দেখুন একজন শিকারী এদিকে আসছে, তাই আপনাকে রক্ষা করতেই আমি আপনাকে জাগানোর জন্য আপনার গায়ে চিমটি কেটেছি।' কুমির সঙ্গে সঙ্গে তাকে ক্ষমা করে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে গেল।  পরদিন যখন কুমির সেখানে আসল তখন কাঁকড়াকে পাশে ডেকে বললো,' যেহেতু সেদিন তুম...

ভুল শুদ্ধে জীবন

করে যাই কাজ   নাই পাই লাজ         সতত চেষ্টা করি। চলি কাজ খুঁজে   ভালো মন্দ বুঝে           সঠিক কাজটা করি। করিনা সে ভয়    লোকে কিবা কয়             কাজের ভুলটা ধরে। যদি হয় ভুল          হইনা ব্যাকুল           ভুল তো মানুষের তরে। ভুল শুদ্ধে জীবন    এমনি এ ভুবন           এইতো জীবন নরে! ঘেঁটে দেখ সারা    ভুলত্রুটি ছাড়া             নেই কেউ অবনী 'পরে। না করিলে ভুল       করিলেও ভুল            এমনও সময় আসে। তথায় দাঁড়ায়ে        চাই ভাবিবারে            কভুও না পড়ে ত্রাসে। ত্রাস রেখে দূরে        পরহিত তরে            রাখিব নিজের জ্ঞান। কর্তব্যটা বুঝে        করে যাব নিজে         ...

বন্ধু মানে আলোর দিশা

বন্ধু মানে চির সাথী অটুট এক বন্ধন, বিশ্বস্ততায় চলার পথে কভু হাসি কভু ক্রন্দন। বন্ধু মানে যখন তখন এক পশলা বৃষ্টি, সুখে দুখে হঠাৎ করে অপূর্ব এক সৃষ্টি। বন্ধু মানে আঁধার পথে হঠাৎ আলোর দিশা, পরশে যার দূর হয়ে যায় হাজার অমানিশা। বন্ধু মানে শূন্য হাতেও অগাধ ভালোবাসা, মরুর বুকে বাদল হয়ে মিটায় সকল তৃষা। বন্ধু মানে হৃদয় ছোঁয়া অভিন্ন দুই প্রাণ, তাইতো সবাই বন্ধু খুঁজে এ যেন এক টান। আসল বন্ধু যে জন পায় জীবন হয় উজালা, নকল বন্ধু হলে আবার জীবনটা হয় কালা। বন্ধু সদাই ত্যাগে সুখী চায়না কিছু মুখে, সে'ই হলো আসল বন্ধু থাকবে সুখে দুখে। ঝড়ঝঞ্ঝায় আধার রাতে বিপদ এলে পাশে , সান্ত্বনা আর সাহস যোগায় শুধুই ভালোবেসে। আজি এই বন্ধু দিবসে এইটুকু মনে আশা, একে অন্যে গড়ে উঠুক নির্লোভ ভালোবাসা। যেখানে যত বন্ধু আছে করছি আজ স্মরণ, দূরে হলেও পাশে আছে থাকবে আজীবন।

রণধীর ডাক্তার

লাউ সম ভুঁড়ি তার রণধীর ডাক্তার, টাক মাথায় চুল নেই চেহারাটা মজাদার। ফাঁকা দাঁতে দেয় হাসি রোগী থাকে মুখ চেয়ে, জর্দাতে পান খায় রস পড়ে গাল বেয়ে। জোড়াতালি দিয়ে পরে ধুতি আর পাঞ্জাবি, সাদা রঙ্গে পিক পড়ে হয়ে যায় খয়েরী। ঠগবাজী বুদ্ধিতে নেই কোন জুড়ি তার, ফার্মেসির পেছনেতে বানিয়েছে চেম্বার। রোগী দেখে হেলেদুলে রোজ দিন সকালে, স্টেথোস্কোপ গলে রেখে হাত দেয় কপালে। চোখ দেখে রোগীদের বলে দেয় পালস রেট, বেশি দামে বেচে সদা সরকারি টেবলেট। সব রোগে দিয়ে যায় এন্টাসিড কুইনাইন, বেশি কথা বললেই রোগীদের করে ফাইন। একদিন বৈকালে ঘটিল এক কাণ্ড, ডায়েরিয়া রোগী এসে করে সব লণ্ডভণ্ড। দেখতে দেখতে রোগী হয়ে গেল কঙ্কাল, হাউমাউ করে রণ ঘটিল কি জঞ্জাল। হেনকালে পুলিশ এসে ধরে নেয় ডাক্তারে, ঠগবাজীর ফলটা সে পেল বুঝি আহারে!

অঙ্গীকার

এসো হে নবীন এসো হে প্রবীণ  শান্তি জাগাই মননে, হাত জোড় করে অঙ্গীকার করি  সারা বিশ্বের কল্যাণে। মানুষ হয়ে মানুষকে ভালোবাসি  রচে যাই মানবতা, হিংসা বিদ্বেষ দূর করি এসো  একতার দেই বারতা। চির সবুজ ধরিত্রীর বুক থেকে  দূর হোক যত জরা। নীল নীলিমায় আকাশে বাতাসে নামুক আলোর ঝর্ণা ধারা। বিশ্ব জুড়ে হিংসার রাজনীতি  গোলাবারুদের গন্ধ, নিরীহ মানুষ অশান্ত আজ  হারিয়ে জীবনের ছন্দ। বিশ্ব শান্তি দিবসের আজি শুভক্ষণে  এসো অঙ্গীকার করি , বৈষম্য নাশিতে বিভেদ ভুলিতে   এসো হাতে হাত ধরি। দিয়ে যাই সবে ভরসার প্রত্যয়  ফিরাতে সেই বিশ্বাসী মন, শান্তির বার্তা রচে যাই সবে  তবেই তো হবে উত্তরণ।

মিতালীর আত্মত্যাগ

শিরোনাম: মিতালীর আত্মত্যাগ রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আজ সমাপ্তির দিন। সপ্তাহ বাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় যারা অংশ গ্রহণ করেছে আজ খোলা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর তাদের হাতে বিজয়ী সনদ পত্র ও ট্রফি তুলে দেওয়া হবে। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রতিযোগীরা অধির আগ্রহে অপেক্ষায়। একটু পরেই প্রধান অতিথির ভাষণ শেষ হলে পুরস্কার গ্রহণ করবে। মিতা অরফে মিতালী একেবারে সামনেই বসেছিল। খেলাধুলা নাচগান কবিতা আবৃত্তি বক্তৃতা সব বিষয়েই সে যে প্রথম পুরস্কার পাবে তা প্রায় সবারই জানা। তার সঙ্গী সাথীরা তার পাশে এসে বসেছে অভ্যর্থনা জানাতে। চীৎকার আর চেঁচামেচিতে কী হুলস্থুল কাণ্ড। অতিথিদের হাত থেকে সনদ আর ট্রফি নিতে নিতে মিতা যেন ক্লান্ত। সবার নজর এখন মিতার উপর। সঙ্গী সাথী সবার হাতেই তার পুরস্কার সামগ্রী।  শেষ পর্যায়ে হঠাৎ ঘোষণা করা হলো স্টুডেন্ট অফ দা ইয়ার। কিন্তু এ ঘোষণা শুনে সবাই অবাক হয়ে গেল। এটাও যে মিতার ঝুলিতে যাবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কারণ সবাই জানতো স্টুডেন্ট অফ দা ইয়ার দীপকই হবে। দীপক বি এ ফিফ্থ সেমিস্টারের ছাত্র...

বন্ধুর নামে শত্রু

শত্রুর কাজ বন্ধু করেছে লজ্জায় পড়েছ তায়, বন্ধুকে তবু শত্রু ভেবো না খুঁজে যাও উপমায়। বন্ধু! সে তো কভুও ছিল না, ভুল করেছ আগে, না চিনে তাহারে করেছ বন্ধুত্ব পড়েছিলে অনুরাগে। খুশির সময় হাত মিলিয়ে খুশিতে সামিল ছিল, দুঃখের সময় দুখ প্রকাশে হাসিটা গোপনে দিল। বন্ধুর নামে এরাই শত্রু জানে কত অভিনয়, সূযোগ বুঝে আড়ালে হাসে আড়ালে খবর লয়। কষ্টে হাসিয়া রাখ তা চাপিয়া কেন কর তুমি ভয়, নীরবতা ও সহ্য ক্ষমতায় করতে পার এ বিশ্ব জয়। থামবে ঝড় টুটবে আঁধার ফুটবে রবির আলো, ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে চলো। তুমি যা করেছ পারেনি সে তা তাইতো পড়েছে পিছে, যেমন ছিল তেমনি সে আছে দোষ কেন দাও মিছে? যার যে কাজ করে যাবে সে ধরতে যেয়ো না ভুল, বন্যার জল নদীও সহে না ভেসে যায় দুই কুল।

কিপটে খুড়ো

গাঁয়ের স্কুলে ভিড় করছে ডানপিটে সব ছেলে হেথা হোথা ঘুরে বেড়ায় ক্লাসগুলো সব ফেলে। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে আরেক মেয়ে নীতা, লাল টুকটুকে জামা গায়ে মাথায় রঙিন ফিতা।  হাঁদা ভোঁদা  মোড়ল তাদের গাঁয়ের সবাই জানে, কার বাগানে কখন ঢুকে ভয় যে সবার প্রাণে। আম জাম লিচু কুল জলপাই আর তেঁতুল, দেখলেই তা পেড়ে নিতে হয়না তাদের ভুল। নন্দ খুড়ো গায়ের বুড়ো পথের ধারেই বাসা, তার গাছেতে আম ধরেছে দেখতে দারুন খাসা। হাড় কাঁপানো কিপটে বলে সবাই তাকে চিনে, আম খাওয়ার কি সাধ্য আছে উচিত দাম বিনে? হাঁদা ভোঁদা দেখলো সেদিন বাজার যাচ্ছে নন্দ, অমনি তারা পৌঁছল সেথা করে স্কুল বন্ধ। হাঁদা ভোঁদা দেখে গাছে ঝুপা ঝুপা আম, পাড়তে গিয়ে হাঁদা ভোঁদার ছুটলো গায়ের ঘাম। হাঁদা বলে ওরে ভোঁদা ক্যামনে উঠি গাছে, স্কুল পালানো প্রকাশ পাবে পড়ি যদি পাছে! সাহস দিয়ে নীতা বলে উঠরে ভোঁদার পিঠে, কাঁচা আম খাবো আজ টক কিংবা মিঠে। ভোঁদার পিঠে উঠে হাঁদা ধরলো গাছের ডালে, কাঁপছে নীতা ভয়ে এখন কি আছে যে ভালে। পড়তে পড়তে বেঁচে গেল ডানপিটে সব ছেলে, কিপটে খুড়োর সকল আম এমনি পেড়ে নিলে।  বাড়ি ফিরে নন্দ খুড়ো দেখে গাছের ডালে, পাতা ছাড়...

পায়নি সুবিচার

সততার মূল্যে সেবার ব্রত চেয়েছিলে তুমি মৌমিতা, নরপিশাচের দল কেড়ে নিল কেন তোমার সেই স্বাধীনতা? বাঁচতে ওরা দেয়নি তোমায় নিষ্পাপ ছিলে তুমি, আর জি করে নিথর দেহ কাঁদছে ভারত ভুমি। ধর্ষণ করে খুন, খুন করে ধর্ষণ শুনেনি কেউ কভু, স্বাধীন ভারতে এটাও সম্ভব ভাবতে হলো তবু। শত অপরাধী এক ই কাণ্ডে পশুও মানে যে হার, ছিঃ ছিঃ! ধিক! শত ধিক! এত লজ্জা মানব সভ্যতার। বলতে পারো হে ভারত মাতা আমরা কি সত্যিই স্বাধীন? ধুঁকে ধুঁকে কাঁদছে মাতা সে তো নির্লজ্জতায় পরাধীন। পথ মিছিল উন্মাদনা সুবিচারের দাবির সাথে, ইতিহাসটা ঘেঁটে দেখ বিচার হবে কোন ধারাতে? আবেদন আর নিবেদনে কভুও ভরবে না গো থালা, ধর্ষকরাও এ দেশেতে পায় যে ফুলের মালা। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী দিল্লি থেকে মনিপুর, রাজস্থান থেকে কলকাতায় সেই সে বিষাদ সুর! ভারতী মা সবখানেতেই কাম লালসার শিকার, অভাগী মায়ের কান্না কখনো পায়নি সুবিচার। জাগো নারী জাগো ছিনিয়ে নিতে অধিকার, অস্ত্র হাতে গর্জে ওঠো করবো মোরা অসুর সংহার।

প্রেম মানেনা জাতপাত

বিশ্বম্ভর বাবুর মনটা আজ অত্যন্ত খারাপ। ছেলে নিলয়ের সাথে তার বিয়ের ব্যাপার নিয়ে রুষ্ট আচরণ করে ঘর থেকে বের করে দিয়েছেন। নিজের এতো আদরের একমাত্র ছেলেকে এভাবে তাড়িয়ে দিয়ে তিনি অত্যন্ত অনুতপ্ত। শুয়ে শুয়ে তার অতীত জীবন স্মৃতিচারণ করে দু'চোখে জ্বালা শুরু হয়ে গেল। তাঁর মনে পড়লো এই ছেলেকে মানুষ করার জন্য তিনি কি না করেছেন।  তখন তিনি সামান্য এক স্কুল শিক্ষক। ছেলে নিলয়ের জন্মের তিন বছর পর স্ত্রী আর বড় দুই মেয়ে রীমা ও ঝুমাকে নিয়ে শহরের ভাড়া ঘরে এসেছিলেন। উদ্দেশ্য একটাই ছিল ছেলেকে পড়িয়ে মানুষ করা। মেয়ে দুটোকে সরকারি স্কুলে পড়ালেও ছেলেকে প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করে তিনজন গৃহ শিক্ষক রেখে পড়িয়েছেন। মাস পুরার আগেই বেতনের যে সামান্য কটা টাকা শেষ হয়ে যেতো। তখন তিনি নিজে খরচ যোগাতে টিউশন আরম্ভ করেন। স্কুলের ডিউটির ফাঁকে সকাল বিকেল টিউশনি করে ছেলের পড়ার খরচ যুগিয়েছেন। তার স্বপ্ন ছিল ছেলেকে পড়িয়ে ডাক্তার বানানোর। কিন্তু তার সে স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। শেষ পর্যন্ত কলেজে বি এ ক্লাসে ভর্তি করেন।  আজ দু'বছর হলো বি এ পাশ করেও সরকারি চাকরির কোন সুবিধা করতে না পারায় একটা প্রাইভেট ...

অসতর্কতার জন্য

অপরিচিত একটা নাম্বার থেকে ফোন পেয়ে সেদিন সারারাত জামরুলের ঘুম হয়নি। রাত তখন এগারোটা। ইচ্ছে হয়েছিল এসময়েই ছুটে গিয়ে মেয়েকে ঘরে নিয়ে আসেন। কিন্তু এত রাতে গাড়িই বা কোথায় পাবেন। তাছাড়া গরীবির সাথে লড়াই করা জামরুল খুব ভালোই জানেন এই মুহূর্তে প্রাইভেট গাড়ি করে শহরে এতদূর মেয়েকে আনতে গেলে যা ভাড়া দিতে হবে তা ম্যানেজ করা সম্ভব নয়। তাই স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিলেন রাত্রি প্রভাত হলে ট্রেন ধরে চলে যাবেন। এর মধ্যে দু-তিন বার মেয়েকে ফোন করেছেন কিন্তু মেয়ে ফোন উঠায় নি। একটা অজানা আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা তাকে গ্রাস করে নেয়।  এরই মধ্যে সেই অচেনা নাম্বার থেকে তার মোবাইলে একটা ভিডিও আসে। যা দেখে তার শ্বাস রুদ্ধ হওয়ার উপক্রম। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঐ অজানা নাম্বারে ফোন করেন। ওপাশ থেকে আওয়াজ এলো,' মেয়ে কোথায় আছে, ওকে জিজ্ঞেস করুন।' ইতিমধ্যে তার স্ত্রীও ঘুমিয়ে পড়েছেন। কারো কাছে বলার কিছু নেই। রাগে ক্ষোভে দুঃখে নিজেকে নিজেই শেষ করে দেওয়ার ইচ্ছা হয় জামরুলের। অনেক ধৈর্য্য ধরে সারারাত এপাশ ওপাশ করে জামরুল আরো এক দুর্ভাবনায় পড়ে গেলেন। মেয়েটা তো ফোন উঠাচ্ছে না, শেষ কালে কি...

পরহিত তরে (ছোট গল্প)

সে অনেক আগের কথা। ঘোর জঙ্গলে এক কুঠিরে অনেক সাঙ্গপাঙ্গ ও শিষ্য সহ এক সাধুর আশ্রম ছিল। অনেক দূর দূরান্ত থেকে রোজই শত শত রোগী সাধুর কাছে আসত এবং সাধুর তন্ত্রমন্ত্র ও কবিরাজি জড়িবুটি ঔষধ নিয়ে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরত। অতি জটিল রোগীও তার সেবায় ভালো হয়ে উঠতো। যারাই আসতো অনেক ভালো ভালো ফলমূল ও উপহার সামগ্রী নিয়ে আসতো। সাধুর কুঠিরে অনেকেই এসে ভালো হয়ে তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করে সেখানে থেকেও যেতেন।  দেখতে দেখতে সেই জঙ্গলে অনেক স্বর্ণ কুঠির গড়ে উঠলো।  অতি অল্প দিনের মধ্যেই এ খবর দেশ দেশান্তরে পৌঁছে গেল এবং মানুষের আনাগোনা দিন দিন বাড়তে লাগলো। এখানে যারাই যা দান করত সাধু তা তার ভক্ত ও গরীব দুঃখীর মধ্যে বিতরণ করে দিতেন। সাধুর ঐশ্বর্য এবং তাঁর পরহিতে তা সমর্পণ করার কথা কারো অজানা রইল না।     শহরের নামকরা দুজন চোর নবকান্ত ও লালুকান্ত এ খবর পেয়ে রোগী সেজে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপস্থিত হল। সাধু দিব্যদর্শনে তাদের মনোভাব বুঝতে পারলেন তবুও তিনি তাদের সমাদর করে আপ্যায়ন করলেন এবং সেখানে আশ্রয় দিলেন। তারাও সাধুর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে সেখানে থাকতে মত প্রকাশ করল।    সেদিন রাতের অনু...

রাজা ও সাধু

একদিন যবে আসিল এক সাধু রাজার দরবারে,  আগ্রহ ভরে কহিলেন রাজা কি সেবা করি তোমারে। হেসে সাধু কয়, হে রাজন! সেবা কিছু নাহি চাই, মনেতে মোর সন্দেহ আজ প্রজা মাঝে সুখ নাই। দেশ জুড়ে আজি একি অরাজকতা প্রজারা দুঃখী কেন, না পার ভার বইতে জনতার ছেড়ে দাও রাজ্যভার হেন। কথা শুনে রাজার জাগিল আগ্রহ বলেন সাধুরে হাসি, নগর পথে চলো ঘুরে আসি দেখিব কেমনে আছে পুরবাসী।  যেমন কথা তেমন কাজ মন্ত্রী সহ ছুটিল রাজার রথ, নিজ চোখে দেখে প্রজার সুখ দুখ পুরাবেন মনোরথ। পথে যেতে যেতে দেখিলেন রাজা দুঃখী শিশুর কান্না, অভাবের কারণ ঘরেতে আজিকে হয়নি কিছুই রান্না। হেনকালে এক বৃদ্ধ দাঁড়ায়ে করজোড়ে রাজারে কয়, ফলানো ফসল বেচিত পারি না, নেতা মন্ত্রীর ভয়। আরো আগে যেয়ে দেখিলেন তারা দুটি দলে মারামারি, কহিলেন সাধু, 'জিজ্ঞেস করো কেন এত হানাহানি?' জানলেন রাজা মরেছে অনেক ধর্মের নামে লড়ে, অগুনিত ঘর সম্পদ সহ ছারখার হয়েছে পুড়ে। সেথা থেমে সাধু কহিল রাজারে,' এই হাল তব দেশে, করতে চাও সেবা কর ক্ষুধার্ত জনতারে ভালোবেসে। খাবার বিলাও হিংসা থামাও তাহাই স্রষ্টার সেবা। দুঃখী জনতা মুখ চেয়ে আছে দেখিবে তাদেরে কেবা?' রাজধর্ম প্রজার ...

দুরন্ত দুর্দিনে

কল্পনার আকাশে ভেসে এসেছিলে কবে মনের গহীনে ধারা বহিছে নিরবে, বুঝলাম শুধু অনুভবে। জানি নাই আজও কেন কর পিছু একা আছি বসে করে মাথা নীচু, তুমি এসেছিলে তবে? আনমনে আছি বুজে দুটি আঁখি মন মন্দিরে ফুল ফুটেছিল নাকি? বৃষ্টি বাদল এই দিনে! ঝর ঝর ঝরে লুটাইয়া পড়ে আকাশে বাতাসে তারই ছায়া উড়ে, আজি এই দুরন্ত দুর্দিনে। কেমনে যে এলে এতো চুপিসারে ছিনু ভাবনায় কোন অভিসারে, এলে এবে খুলে বাহুডোর। নাচে হৃদ আজি উল্লাস ভরি ঝড় ঝাপটায় এবে নাহি ডরি, এসো পাশে করি মন ভরপুর।

রথের মেলা

সাঙ্গ করে সকল খেলা খোকা যাচ্ছে রথের মেলা বৃষ্টি বাদল দিনে। ভুলটা যেন না হয় পাছে কিপটে দাদুর শর্ত আছে মেলা থেকে আনবে বাঁশি কিনে। ছাতা হাতে চলছে দাদু খোকা দেখছে একি জাদু  চৌরাস্তার ওই মোড়ে। পড়লো দাদু পিছল খেয়ে রথের রশি ধরতে যেয়ে হাতের ছাতি দূরে ফেললো ছুড়ে। রথের উপর বাজছে সানাই ছোট বড় নাচছে সবাই ফল ফুল যেন যাচ্ছে শুধু উড়ে। অবাক হয়ে দেখে খোকা চোখটি তাহার খায়নি ধোঁকা পড়লো দাদু মোটা আন্টির ক্রোড়ে। লজ্জায় দাদুর মাথা খাঁড়া ঝড় বৃষ্টি করল তাড়া রথের মেলা সাঙ্গ অবশেষ। কেঁদে খোকা ফেনা ফেনা হলো না তার বাঁশি কেনা দাদু বলে আছি আমি বেশ।

বিদ্যালয় সঙ্গীত

ও--ও----আ----- বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয় আলোর সন্ধানে আমরা সবাই মানুষ হওয়ার স্বপ্ন বোনে যাই। গেয়ে যাই নব-প্রভাতের গান মোরা হবো যে মহান।।২ মোরা গুরুর আদেশে পাই করুণা অপার, এখানেই আছে যত জ্ঞানের আধার।২ জীবন যুদ্ধে মোরা সংগ্রাম করি করি না তো কোন ভয়। এখানে জ্ঞানের আলোতে হয় সূর্যোদয়।। বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয় ---- আলোর সন্ধানে -------------------------------।। আমাদের হতে হবে সত্যবাদী,  হতে হবে আমাদের নির্ভীক সৃষ্টির রহস্য ভেদ করি  করবো আমরা বিশ্ব জয়।। বিদ্যালয় মোদের বিদ্যালয় -- আলোর সন্ধানে--------------------------।।

প্রিয় লালা রুরেল কলেজ

শিরোনাম: প্রিয় লালা রুরেল কলেজ  রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর (প্রাক্তন জেনারেল সেক্রেটারি তথা সহ-সভাপতি, লালা রুরেল কলেজ) গ্রামীণ গরীব ছেলেমেয়েদের উচ্চ শিক্ষার আঁধার, এ যে সেই লালা রুরেল কলেজ, মনে পড়ে বারবার। শিক্ষা লাভের শ্রেষ্ঠ এ ক্যাম্পাস আপন কর্মে মহীয়ান, জন্ম লগ্ন থেকে আজো যার সেই ধারা বিরাজমান। স্মরণ করি তাঁহাদেরে আজি এ ডায়মন্ড জুবিলির দিনে, কলেজটি প্রতিষ্ঠা করলো যারা সেই মহৎ গুণীজনে। ত্রিদিপ ধর হারুছ উদ্দিন ভুপেশ দেব আরো যারা করেছেন সংস্থাপন, মনোরঞ্জন সিনহা জহরলাল সেন, এঁদেরে সবাই করছে স্মরণ। কলেজের প্রতিটি ধূলি কণাই সংস্থাপক শিক্ষকদের প্রাণ, যৎসামান্য প্রাপ্তির ৩৩ শতাংশ করতেন তাঁরা কলেজেই দান। এলাকাবাসীর অকৃপণ দান স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে ইতিহাসে, আজ তারা পুরানো বইয়ের ভাঁজে স্মরণ করি অবকাশে। প্রিয় ক্যাম্পাস, তুমি আমার ভালোবাসা, করেছি যে কত আনাগোনা, তোমার সবুজ মাঠ কাঁচা পাকা ঘরে করেছি কত পড়াশোনা। জেনারেল সেক্রেটারি হয়ে মিলেছি সব স্যারেদের সাথে, আবার সহসভাপতি হয়ে পেয়েছি বন্ধু সুলভ আচরণ তাতে। তোমার বুকে থেকে করেছি লড়াই কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিতে, সে লড়াইয়ের সফল ...

রক্তে রাঙানো একুশে

 বাংলা মায়ের গগন কাঁপানো চিৎকারে জেগে ওঠে বাঙালির দল, মুখের বুলি কেড়ে নেবে ওরা, কারা,  কার আছে হেন বাহুবল? সাজিয়ে প্রহরী বাজিয়ে রণডঙ্কা এগিয়ে চলে বীর সেনানী, রক্ষিতে হবে বাংলা মায়ের গর্বের সে ভাষা খানি । মায়ের আশীষে লড়লো বাঙালি ছিনিয়ে আনতে বাংলার অধিকার , ভিন ভাষীর খঞ্জরে তাই খুন হলো রফিক বরকত সালাম জব্বার। চোখেতে অশ্রু মুখে ফুটে তবু হাঁসি ফিরে পেয়ে নিজ ভাষা, গর্বিত মা গর্বিত বাঙ্গালী ছেলেরা অমর খাসা। বিশ্ব বাঙালি স্মরিছে আজিও তাদের সে বলিদান, রক্তে রাঙানো একুশে তাইতো করজোড়ে করি শহীদের সম্মান।

মাটিই হবে ঠিকানা

 মাটির মানুষ হয়েও মোমিন সেই মাটিরে চিনলা না আজকে মরলে কালকে তোমার মাটিই হবে ঠিকানা রে, মাটিই হবে ঠিকানা।। মাটির মানুষ হয়েও-----------------------------।। সুখের স্বপ্নে আছ বিভোর করছো ঘরবাড়ি, কখন জানি ডাক আসিবে যাইতে হবে সব ছাড়ি।২ মোহ মায়ায় মত্ত রইলা স্রষ্টা কভু চিনলা না, কড়ির খোঁজে জীবন গেল পারের কড়ি কিনলা না। মাটিই হবে ঠিকানা রে মাটিই হবে ঠিকানা। মাটির মানুষ ------------------------------------------।। যাদের নিয়ে করছো বড়াই মরলে তারা চিনবে না চোখের সামনে জ্বলবে তবু কেউ কখনো কাঁদবে না।২ মিছে মায়ায় বন্দী রইলায় খোদার কালাম দেখলায় না সকল পাপের হিসাব নিবেন একদিন দয়াল রাব্বানা। মাটিই হবে ঠিকানা রে মাটিই হবে ঠিকানা।। মাটির মানুষ ---------------------------------------------।। জন্মের পরে আজান শুনলে ঘুরলে সারা দুনিয়ায়, সে আজানের নামাজ হবে তোমার লাশের জানাজায়।।২ ক্ষণিকের এই জীবন তোমার বেঁধে দিল রাব্বানা মাটির দেহ মাটি পাবে মাটিই হবে বিছানা।। মাটিই হবে ঠিকানা রে মাটিই হবে ঠিকানা। মাটির মানুষ --------------------------------------------।।২

প্রেম কি সর্বনাশে?

 অবুঝ মনে প্রেম জাগাতে তুললি প্রেমের ঢেউ, মনটা আমার কেড়ে নিলি দেখলোনা তা কেউ। নিজ প্রেম সব বিলিয়ে দিয়ে শূন্য হৃদয় খাঁচা, এতদিন তো ভাবতাম শুধু তোমার তরে বাঁচা। তুমিই যখন হারিয়ে গেলে চাওয়াটা আর কিসের, ক্ষণে ক্ষণে ভাবছি শুধু হাসিটাই যে বিষের। যতই ভাবি ভাববো না আর পোড়ামুখীর হাসি, ভালোবেসে চলে গেল দুঃখ রাশি রাশি। ঘুমের ঘোরে আঁধার রাতে কেনইবা সে আসে, জেগে ওঠে তাইতো ভাবি প্রেম কি সর্বনাশে?

অটুট বন্ধন

 দুটি প্রাণ এক হয়                বিবাহ বন্ধনে, সুখে দুখে পাশে থেকে         হয় ভালোবাসা, দুয়ে মিলে গড়ে তুলে          কাঁচা ঘর খাসা। অনন্ত অসীম তাহা             জানে সর্বজনে। তেমতি মোদের প্রেম             অসীম অনন্ত, ঘর ভাঙা ঝড় কত               এলো আর গেলো, আজো তবু আছ প্রিয়          দিয়ে মোরে আলো। হৃদয়ে অটুট আজো             সেই সে বসন্ত। বাকিটা জীবন যেন              থাকি পাশাপাশি, দুই দেহ এক হয়ে                  নিয়ে মুখে হাসি। তুমি আছো বলে রাজে          হৃদয়ে বসন্ত, জীবনে সার্থক মোরা              আমার বিশ্বাস, পেয়েছি যে প্রেম তার             নে...

মুক্তির সওগাত

 বিশাল বিত্ত ভাণ্ডার তবু উপবাস থেকো, দীন বেশে চলো বোঝো জীবনের মান , এর ই নাম রমজান। বছর জুড়ে জমকালো ভোজ করছো এখানে সেখানে, কত লোক আছে খাবার জুটে না সে কথা কি আছে জ্ঞানে? বিধির বিধান খুলে দেখ রাজ আমা সবাকার 'পরে, অনাহারী হয়ে থেকে দেখ ভাই কেমন জঠরে ধরে! বোঝাতে সে কথা হুকুম খোদার ফিরে এলো রমজান, আত্মশুদ্ধি কর, সংযমে থেকো ত্যাগ তিতিক্ষাই ইসলামের শান। বৎসর শেষে আসে তাই রোজা নিয়ে মুক্তির সওগাত, সকল বিধান মেনে চল ভাই খুঁজে ফের মাগফিরাত।

আশায় আশায় ( সঙ্গীত)

ফুলের হাসি ভ্রমর বুঝে     তাইতো তারা সে ফুল খোঁজে                 গুনগুনিয়ে ফুলের পানে ধায়। আমায় তুমি বুঝবে কবে     সেই অপেক্ষায় আছি তবে                আশায় আশায় দিন কেটে যায়। সূর্য উঠার রঙিন প্রাতে         বৃষ্টি ছাড়া জোছনা রাতে                 মনটা কেন তোমায় পেতে চায়। মনটা তোমার বড়ই সরস      তাইতো চাই একটু পরশ               সেই আশাতে মনটা থেকে যায়। তোমার ফুলের বাগান মাঝে      কত নাগর ভ্রমর সাজে              পাবো কি আর তোমার বুকে ঠাই। তোমার মুখে হাসির কালে       যেন ফুলের সৌরভ ঢালে            কবে যে পাব তোমায় তাও জানা নাই। রোজ নিশিথে স্বপ্ন মাঝে        তোমায় দেখি রঙিন সাজে            সারা নিশি থাক আমার প...

বন্দী জীবন

খাঁচায় বন্দী বনের পাখি বন্দী তাহার মন, খোলা আকাশ হাতছানি দেয় উড়তে সারাক্ষণ। সবুজ বন আর গাছ গাছালি মুক্ত যেথা প্রাণ, বন্দী জীবন কেড়ে নেয় তার চিত্ত সুখের গান। সোনার বেড়ি লোহার খাঁচায় বন্দী করে খ্যাতি, মিথ্যা প্রীতি ভালোবাসা দেখায় মানব জাতি। প্রাণী মাত্রেই মুক্তি চায় চায় যে স্বাধীনতা, খাঁচায় বন্দী করে কেন বাড়াও ব্যাকুলতা। বনের পাখি বনেই সুন্দর বনেই শোভা পায়, যেমন সুন্দর মানব শিশু মায়ের আঁচল ছায়।

তুচ্ছ যেথায় কর্ম

অলস অবোধ নেই ভাবনা চায়না কোন সৃষ্টি, পরের সম্পদে সদাই থাকে স্বার্থ লোলুপ দৃষ্টি। জন্ম থেকেই কর্ম বিমুখ ফাঁকি দেওয়া যার স্বভাব, যতই পায় আরো বেশি চায় যায়না তাহার অভাব। লোভ লালসা হীনমন্যতা কুরে কুরে তারে খায়, বিবেকের বাণী কেঁদে যায় পথে সমাদর নাহি পায়। ভিক্ষা বৃত্তি সে তো অপরাধ ঘোষিত সকল ধর্মে, সুখটা কোথায় খুঁজে দেখ ভাই শ্রম দিয়ে গড়া কর্মে। তাইতো বলি হও সচেতন পরজীবী থেকো না আর, জাগাও বিবেক বাঁচাও সভ্যতা জয় হোক মানবতার। ভিক্ষা যেথায় সহজ লভ্য তুচ্ছ যেথায় কর্ম, শিক্ষা সেথায় যায় রসাতলে লাঞ্ছিত হয় ধর্ম।

মাতৃ দিবস

বিয়ের পর থেকেই রেহানা ঘর সংসার নিয়ে এতই ব্যস্ত যে কোথাও বেড়াতে যাওয়া তো দূরের কথা বাবার বাড়িতে যাওয়ারও সময় সে পায় না। শ্বশুর বাড়িতে দেবর ননদদের নিয়ে সাত আট জনের পরিবার। এতবড় সংসারে সবার খাবার রান্না করতেই তার দিন শেষ হয়ে যেতো। তার উপর যখন যার যা কিছুর প্রয়োজন রেহানারই ডাক পড়তো। সেও মুখবুজে সব সহ্য করে চালিয়ে যেত। প্রথম প্রথম তার খুব কষ্ট হতো তাই মাকে গিয়ে বলতো, ' মা, আমি আর পারছি না। সারাদিন রান্নাবান্না নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। তিন তিনটা ননদ। কিন্তু কেউ কোন কাজে হাত দেয় না। বরং তাদেরও কাপড় চোপড় আমাকে ধৌত করতে হয়।' সব শুনে মা বলতেন,' নারীর জীবনটাই এরকম। একটু মানিয়ে নিতে হবে।' স্বামী সাজেদুর খুব সহজ সরল। সে জানে এতবড় সংসারের সমস্ত কাজ রেহানাকে একা সামলাতে হয়। তবু কিছু করার নেই। বোন গুলো তাদের নিজেদের পড়া নিয়েই ব্যস্ত থাকে। সে সবসময় রেহানাকে বলতো একটু কষ্ট করে কোন রকম কয়েকটা বছর চালিয়ে যাও। মা-বাবা আর কদিন আছেন। তাঁদের সেবা তো করতেই হবে। বোন তিনটির তো বিয়ে হয়ে যাবে, এরপর তো সংসারের ঝামেলা অনেক কমে যাবে।  দিন গড়িয়ে যায়। সারাদিন রান্নাবান্না ...

তুমিই মহান ( সঙ্গীত)

ও--আ--ও--ও মোর শিক্ষা গুরু, তোমার দ্বারা জীবন শুরু।২ তোমার স্নেহের পরশ পেয়ে ধন্য হলাম।   তোমায় আজি জানাই প্রণাম।।২ এ জগতে তুমিই মহান।। তাইতো তোমায় জানাই প্রণাম। জ্ঞান সাগরের রত্ন তুমি, তাইতো তোমার চরণ চুমি।২, তোমার দেওয়া আশীর্বাদে মানুষ হলাম,  তাইতো তোমায় জানাই প্রণাম। এ জগতে তুমিই মহান।। তাইতো তোমায় জানাই প্রণাম। শিক্ষক মানে জ্ঞানের আলো-- যার পরশে দূর হয় সব মনের কালো।২ শিক্ষা লাভে হয় যে সবার অজ্ঞতার অবসান।। তুমিই মহান,  তাইতো তোমায় জানাই প্রণাম।।২ শিক্ষক কভু নয় বিবাদী, সদাই তারা সাম্যবাদী, নেই ভেদাভেদ নেই যে তফাৎ , তোমার কাছে সবাই সমান  তাইতো এ বিশ্ব মাঝে তুমিই মহান।  তাইতো তোমায় জানাই প্রণাম।।২ তুমি যুগযুগ ধরে মানুষ গড়, জ্ঞান গরিমায় ঋদ্ধ কর সমাজটাকে মসৃণ কর, চাও না প্রতিদান। তুমিই মহান। তাইতো তোমায় জানাই প্রণাম।।২ জানাই প্রণাম।

দূষণ হাওয়ায় ( সঙ্গীত)

ও--ও---প্রকৃতিতে বিষছে বায়ু,     কমছে  সবার আয়ু  দূষণ হাওয়ায়, দূষণ হাওয়ায়।।২ মন তাই উড়ু উড়ু --      বুকটা দুরুদুরু ক্যামনে বেঁচে থাকা যায়।।২    মরছি দূষণ হাওয়ায় মরছি দূষণ হাওয়ায়, মরছি দূষণ হাওয়ায়।। মানুষে গাছ কাটিয়ে,     চলছে ঘর সাজিয়ে ভাবেনা ভবিষ্যত উপায়।।২    মরছি দূষণ হাওয়ায়।। ও--ও--প্রকৃতিতে বিষছে বায়ু      কমছে সবার আয়ু দূষণ হাওয়ায়।। মানুষের এমন কাজে,     ধ্বংসের বাজনা বাজে প্রকৃতি কেঁদে কেঁদে যায়।।২   বিষাক্ত হাওয়ায়।। ও--ও--প্রকৃতিতে বিষছে বায়ু    কমছে সবার আয়ু দূষণ হাওয়ায়।। পলিথিনের রঙের খেলা।২     বিষছে সারা বেলা।।২ প্লাস্টিকের কালো ধোঁয়া২    বিষিয়ে দেয় হাওয়া।২ ব্যথা ভরা প্রকৃতি তা,        পারে না বয়ে নিতে তাইতো ব্যথা সবে পায়।২   দূষণের হাওয়ায়।২ মরে দূষণের হাওয়ায়।২  ও--ও--প্রকৃতিতে বিষছে বায়ু  কমছে সবার আয়ু দূষণ হাওয়ায়।।২

প্রকৃতির তাণ্ডবে

বঙ্গোপসাগরের বুকে উঠে ঘুর্ণিঝড় রেমাল, প্রকৃতির তাণ্ডবে তাই জীব বেসামাল। বছর বছর ভিন্ন নামে আসে এই কাল, স্থলে পর্বতে প্রাণীকুল হয় নাজেহাল। ছোট পাখির বাসা ছিল উঁচু এক ডালে, নিরিবিলে ছিল তারা ঝোপের আড়ালে। ছানা দুটি ছিল তাদের বাসা আলো করে, উড়তে শিখবে তারা আর কদিন পরে। হেনকালে এক রাত্রি সুখ নিদ্রা কালে, লণ্ডভণ্ড করে বাসা রেমাল জঞ্জালে। কত আশা ছিল তাদের বাচ্চা দুটো ঘিরে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল পেলোনা আর ফিরে। একে অন্যে সান্ত্বনা দেয় ধৈর্য ধর এবে, প্রকৃতির সাথে লড়াই করে তবেই বাঁচতে হবে। নীড় হারা পাখি কয় উড়ে গেছে বাসা, করিনা করিনা ভয় নতুন বানাবো করে খাসা।

বিশেষ ভাবে সক্ষম

প্রতিবন্ধী বলে সবাই করছ যারে হেলা, খুঁজে দেখ তারই মাঝে জ্ঞান আছে মেলা। মনটা তাদের থাকে দুর্বল নয় কভু সে অক্ষম, প্রতিবন্ধী না বলে তাই বল তারে সক্ষম। অন্ধ আতুর লোলা ল্যাংড়া নয়তো কোন অভিশাপ, মেধার বিকাশ কর এদের কমবে দেশের চাপ। সুপ্ত জ্ঞান খুঁজতে হবে কোনদিকে তার আছে, একটু আদর করে সবাই ডাক তারে কাছে। ভেবো না কেউ প্রতিবন্ধীরা এই সমাজের বোঝ, সফল এরাও হতে পারে নিয়ে দেখ খোঁজ। কভুও ভাই প্রতিবন্ধীর জীবনটা নয় কালো, হেলেন কেলার অন্ধ হয়েও জীবন করলো আলো। কানে না শুনেও ইভলিন গ্লেনি করেনি তো ভয়, শিক্ষকের উৎসাহে সে নাচেগানে করলো বিশ্বজয়। প্রতিবন্ধী ইরা সিংহল মানেনি কভু হার, ইউ পি এস সি তে তাইতো সে হয়েছিল টপার। তাইতো বলি দূর করি সব প্রতিবন্ধীদের ভ্রম , উৎসাহ দিয়ে বলি এদের  বিশেষ ভাবে সক্ষম।

দুখু মিয়া

বাংলা মায়ের শ্যামলা ছেলে কোঁকড়া মাথার চুল, চোখ দুটি যার বিস্ময় ভরা প্রাণের বুলবুল। ছোট বড় সবার প্রিয় চঞ্চল যার হিয়া, দুঃখের সঙ্গে লড়াই করে নামটি দুখু মিয়া। দীনহীন এক বাবা যার ফকির আহমেদ নাম, পরিচয়ে যার সার্থক হলো চুরুলিয়া গ্রাম। আলো করে জাহেদার কোল ফোটেছিল সে ফুল, সে যে মোদের প্রিয় কবি বিদ্রোহী নজরুল। অল্প বয়সে বাবা হারিয়ে জীবন হয় আঁধার, পড়াশোনা ছাড়তে হলো নিয়ে সংসার ভার। উৎপীড়িতের ক্রন্দন রোল বিদ্রোহী করে যাকে, আজীবন সংগ্রাম করে বাঁচতে হলো তাঁকে। বাঁচার তরে এমনি লড়াই কাব্য সাধনা ফাঁকে, সেনা হয়ে দেশের সেবা কে চিনবে তাঁকে? লেখনীতে ছিল অগ্নি স্ফুলিঙ্গ বিদ্রোহী রণ তান, ছড়ায় ছন্দে গেয়েছিলেন তিনি সাম্যের জয়গান। বিশ্ব বাংলায় তাইতো আজও  পরিচিত এক নাম, হে বিদ্রোহী কবি নজরুল  করজোড়ে জানাই প্রণাম।

শহীদ দিবসে

ঘটা করে পালন করছ শহীদ দিবস আজ, ভাষার তরে তোদের কিন্তু নেই সেই তাজ। এ দিবসটি এলেই সবাই দেখাও খুব ভক্তি, বেদী 'পরে মাল্যদান আর ধূপধূনাতেই ইতি। বছরের পর বছর চলে প্রতারণার খেলা, শহীদ দিবসে দেখাও এসে সম্মাননার মেলা। জাতিধর্ম স্বার্থের লড়াই আরো কত হানাহানি, বুক ভেসে যায় বাংলা মায়ের দেখে এ টানাটানি। হায় বাঙালি! ছুটছো তুমি আধুনিকতার পিছে, যেখানে শুধু ইংরাজি চাই, বাংলাটা বুঝি মিছে। বাঙালির ছেলে বাংলা জানেনা ইংরেজিতেই শান, ইংরেজি মাধ্যমে পড়লেই বুঝি বেড়ে যায় তার মান। প্রথম বুলি আওড়াতে শুনি ইংরাজী রাইম্সের ছড়াছড়ি, মাতৃভাষা নাইবা থাক জানি তো ইংরাজী ভারি! সভা সমিতিতে বাংলা বলতে কেন যে লজ্জা পাই, ভাবনাটা যেন স্ট্যাটাস দেখাতে ইংলিশ খুব চাই। নব প্রজন্ম কেমনে চিনবে টেগোর জীবনানন্দ, মায়ের ভাষায় করে যাও হেলা ইংলিশে কি আনন্দ! ঊনিশ এলেই মোদের বাংলা এ যে প্রাণের ভাষা, বাকিটা বছর বাংলা মিডিয়ামে নেই কোন ভরসা। হে মোর বাঙালি,  ঘুম থেকে ওঠো জাগো, ভিক্ষার ঝুলি ফেলে দিয়ে আস নিজ ভাষাতেই মাগো। স্বীকৃতি চাই মাতৃভাষার সরকারি সব কাজে, ভাষা শহীদরা অমর হোক এই আমাদের মাঝে।