পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ঈদ মোবারক

বছর ঘুরে আসলো ফিরে ঈদের খুশির দিন, এ খুশিটা সবার তরে রবে না কেউ মলিন। গরীব দুঃখী এতিম অনাথ এদের খবর নাও, স্রষ্টার আদেশ সবার মাঝে খুশি বিলিয়ে দাও। স্রষ্টার নামে কোরবানি দাও পূণ্যার্জনের তরে, প্রতিবেশী এতিম গরীব উপোস করে মরে। তাইতো স্রষ্টার হুকুম হলো ত্যাগটা কর খাঁটি, কোরবানি দাও স্ব মহিমায় সে হুকুমটা ঘাঁটি। সবাই যদি খুশি হয় খুশি হবেন রব, ত্যাগের মাঝে শান্তি আছে ত্যাগেই অনুভব। দ্বন্দ্ব বিভেদ ভুলে সবাই হাতে রাখি হাত, বিশ্ব শান্তির তরে মোরা করি মোনাজাত। মনের পশু কোরবানি হোক ঈদের খুশির সনে, হৃদয় থেকে ঈদ মোবারক জানাই সর্বজনে।

বাঁচাই একটি প্রাণ

রক্ত দান জীবন দান সর্বলোকে জানে, রক্ত পেলে মুমুর্ষ রোগী বাঁচতে পারে প্রাণে। একই স্রষ্টার সৃষ্টি মোরা একই রক্তে গড়া, কেউবা কালো কেউবা সাদা সে তো ত্বকে মোড়া। তাপ চাপ অনুভুতি সবার একই সমান, বিভেদ মনে রাখলে হবে স্রষ্টার অপমান। উঁচু নীচু ধনীগরিব সবার রক্ত লাল, জাতিধর্ম ভিন্ন ভাবি সেটাই হলো কাল। মানুষ হয়ে ভাবনা কেন 'মানুষ মানুষের জন্য', সব দানের সেরা দান রক্ত দান অনন্য। রক্ত দানে সুফল আছে কথাটা নয় মেকি  সুস্থ দেহের রক্ত দান কমায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। রক্ত জমাট শান্তি বিভ্রাট হয় যে কোলেস্টরেল, তাইতো বলি রক্ত দাও গতি থাকবে নরমাল। রক্তদানে নেই যে ক্ষতি নেই তো কোন ভয়, সত্যিকারের রক্তদানে মানবতারই জয়। আসুন সবাই সচেতন হই করি রক্ত দান , ধন্য হই রক্ত দিয়ে বাঁচাই একটি প্রাণ। মহৎ লোকের মহৎ কাজ মহত্ত্বতায় ঘেরা, রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাই রক্তদানই সেরা। (রচনাকাল ১৩/০৭/২০২৩)

শিহরণ

সুর উঠেছে আগমনীর মুখরিত পাড়া, অপেক্ষাতে আছি প্রিয় পাইনা তোমার সাড়া। বর্ষা গেল শরৎ এলো ভাবছি মনে মনে, কথা ছিল তোমায় নিয়ে যাবো কাশবনে। নীলাকাশে মেঘের ভেলা যেন কাশের ফুল, শূন্য মাঝে উড়ে উড়ে হাওয়ায় খায় দোল। তেমনি মোরা ভাসবো হাওয়ায় ভাবছি ক্ষণে ক্ষণে, নিরিবিলে মিলবো দুজন চলো যাই কাশবনে। ময়ূর পাখির পুচ্ছ জানি কাশফুলের মতন, যার পরশে প্রেমিক মনে জাগায় শিহরণ।

ভাবনার আঁকিবুঁকি

মনে মনে আঁকি ছবি         কভু আমি নহি কবি             তবু ভাবি কিছু লিখে যাই। যেখানেই যাহা দেখি        দেখি আজ সবি মেকি             আসলটা খুঁজে কোথা পাই? সমাজে যাহাই ঘটে           আসে সব দৃশ্য পটে               মুখ বুজে শুধু চেয়ে থাকি। তখনো মনেতে ভাবি          চেপে থাক হৃদে সবি               আবেগটা দূরে সরে রাখি। বিবেকটা ডেকে বলে       সরে যাবে কোন ছলে            এতো নহে মানব জীবন? অন্যায়টা দেখ যবে           প্রতিবাদ কর তবে            কেন তুমি মুদিবে নয়ন? মানুষ হেরেছে আশা         মরে গেছে ভালোবাসা              প্রতিবাদ কোথাও তো নাই। ছড়াতে জ্ঞানের আলো    দূরে নিতে যত কালো   ...

হাঁদা ও চোর

পরীক্ষাটা এগিয়ে আসতেই ঘুরল হাঁদার মাথা, সারা রাত্রি জেগেই পড়ে হাতে নিয়ে খাতা। চোর ঢুকল চুরি করতে বসল খাটের নিচে, মশার কামড় সহ্য হয়না ধরা পড়বে পিছে। ভাবছে বসে হাঁদার পড়া ক্যামনে শেষ করে, মশার মতো চিমটি কাটে হাঁদার পায়ের 'পরে। হাঁদা কিন্তু পড়েই চলছে রাত বারোটার কাছে, চোর বাবাজি পড়ল ফাঁদে কেমন করে বাঁচে। খাটের তলায় লুকিয়ে বসে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, ইচ্ছে করে উঠে গিয়ে ধরবে ওর ঘাড়ে। যেমন ইচ্ছা তেমন কাজ ধরল হাঁদার ঘাড়ে, 'ওরে পাঁজি কেউ কি এমন রাত্রি জেগে পড়ে?' সারা বছর কোথায় ছিলি হারামজাদা পাজি, কত ধানে কত চাল দেখে নেব আজি।' হাঁদা ভাবল বাবা নাকি এল তার ঘরে, বলে 'বাবা ছেড়ে দাও মরে যাব পরে।' ছেড়ে দিয়ে বাঁচল চোর বাঁচলো হাঁদার প্রাণ, পালিয়ে বাঁচে চোর বেচারা দেখাল তার শান।

আত্ম ভাবনা

জীবনে চলার পথে       কত কথা মনোরথে                    কি কিছু পেলাম অবশেষ? কোথা হতে এলাম         কিবা করে গেলাম                    ভাবনার নেই কোন শেষ। সৃষ্টিতে করে আশা     পেয়েছি যে ভালোবাসা                    সকলি তো আপনার তরে। কভুও দেখনি ভেবে       সব ছেড়ে যেতে হবে                   কিবা আছে পরহিত তরে। প্রকৃতি সম্পদ যত          ভোগ করি অবিরত                     মিটায়েছ আপনার তৃষা। যেখানেই যাহা জোটে      খেয়েছ যে লুটেপুটে                    কাটায়েছ যত অমানিশা। সংসার মোহে পড়ে       ন্যায় নীতি দিলে ছুড়ে               ...

মনের খোরাক

বৃষ্টি মুখর দিনে             বসে আছি বাতায়নে               স্মৃতি শুধু করে উঁকিঝুঁকি।  পাশেতে পেলাম খাতা      কলমও আছে হেথা                হাতে নিয়ে শুরু আঁকিবুঁকি। যা খুশি তা লিখে যাই         হলাম না কবি তাই                তবু কভু নহি আমি দুখী। লেখার নেশার টানে           লিখে যাই আনমনে                শুধু ভাবনার আঁকিবুঁকি। পেয়েছি লিখার ঠাঁই          বাধা দিবে কেহ নাই                ছাপানোরও আছে সুবিধা। লিখে যাই পাতা পাতা       গল্প কিবা কাব্য গাঁথা                যদিও না থাকে আগা মাথা। কেহ করে লাইক তাতে         কমেন্ট ও থাকে সাথে             ...

শারদা পর্ব -০২( ছোট গল্প)

শারদা  (ছোট গল্প) পূর্ব প্রকাশিতের পর ইতিমধ্যে নবেন্দু বাবুর তৃতীয় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। শহরের এক নামিদামি ব্যবসায়ীর ছেলের সাথে। বাড়িতে এখন শুধু শারদা আর তার মা-বাবা।  একদিন সন্ধ্যাবেলা মা লক্ষ্য করলেন ঘরে টিভিতে একটি মেয়ে নৃত্য করছে আর শারদা তা দেখে দেখে নাচার চেষ্টা করছে। তিনি আরো অবাক হয়ে দেখলেন সে হুবহু গানের তালে তালে নেচে যাচ্ছে। কথাটা একদিন প্রসঙ্গ ক্রমে তিনি তার স্কুল শিক্ষক রতনবাবুকে বললেন। রতনবাবু বললেন তিনি ব্যাপারটা দেখবেন। পরে স্কুলে একজন নাচের শিক্ষক এনে ওকে নাচ শিখিয়েছেন এবং স্কুলের কালচারেল প্রোগ্রামে সে চমৎকার নেচেছে এবং পুরস্কারও পেয়েছে। তার নাচ দেখে ঐ ম্যাডাম বলতে বাধ্য হয়েছেন যে,' ঈশ্বর হয়তো তাকে কুৎসিত এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম করে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন কিন্তু তার মধ্যেও অনেক গুণাগুণ দিয়েছেন,যেটা হয়তো অনেক সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষের মধ্যেও নেই।'  শারদা অত্যন্ত খুশি তার এই সফলতায়। শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রতি সে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে রতন স্যারের কথা তার আজীবন মনে থাকবে।  #### দিন গড়িয়ে যায়। ইতিমধ্যে সে কিছুটা হলেও লেখা পড়া শিখেছে। স্কুল ক...

শারদা পর্ব -০১( ধারাবাহিক ছোট গল্প)

নবেন্দু শেখরের চার মেয়ে, সুশীলা, সুলেখা,সরিতা এবং শারদা। শারদা ছাড়া বাকি সব কটি মেয়েই দেখতে খুবই সুন্দর এবং পড়াশোনায়ও ভালো। শারদা ছোট, খুবই সাদাসিধে এবং দেখতেও অসুন্দর। পাঁচ বছর বয়সে ওর মুখে প্রথম কথা ফুটতে শোনা যায় তাও তোতলায়। ওর নাম জিজ্ঞেস করলে অনেক কষ্ট করে বলে সা-সা--সাদা। তাই সবাই ওকে সাদা বলেই ডাকে। সা- সা সাদা বলতে বলতে কেউ কেউ আবার সিধে বলেও ডাকতে শোনা যায়। একটা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত পরিবারে জন্ম অথচ ওর ব্রেনটা ডাল এবং এত কুরূপা। মা বাবা অনেক সময় ভাবেন বাকি মেয়েদের তুলনায় কেন সে এরকম হল। কখনো ভাবেন,ওর জন্মের দু মাস আগে ওর মা একবার পুকুর ঘাটে পড়ে গিয়েছিলেন। হয়তো একারণে সে এরকম। আবার কখনো ভাবেন তিন মাস বয়সের কালে একবার সে দোলনা থেকে পড়ে গিয়েছিল এ কারণে। এ নিয়ে অনেক বার তারা ডাক্তার দেখিয়েছেন কিন্তু কোন লাভ হয়নি।    যখনই সে কোন কিছু বলে অন্য ছেলেমেয়েরা তা অনুকরণ করে চিড়ায় । এ জন্য সে বেশি কথাও বলে না।     নবেন্দু বাবু বড় মেয়ে গুলোকে শহরে প্রাইভেট স্কুলে পড়িয়েছেন। দুজন ইতিমধ্যে বি,এ, পাশ করেছে এবং তাদের ভাল জায়গায় বিয়েও দিয়েছেন। ...

সন্তান ( ছোট গল্প)

স্কুল শিক্ষক রথীন বাবু সদ্য চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। ঘরে উপযুক্ত মেয়ে দুটিকে নিয়ে চিন্তিত। বড় মেয়েকে অনেক আগেই পাত্রস্থ করেছেন। ওর ঘর সংসার মুটামুটি ভালোই চলছে। কিন্তু ছোট মেয়ে দুটোর চিন্তায় রাতে ঘুম হয়না। পড়াশোনাতে ভালোই ছিল।দুজনই হাইয়ার সেকেণ্ডারী পাশ। দুজনই বিজ্ঞান শাখায় স্টার মার্কস পেয়েছে কিন্তু ছেলের পড়াশোনার খরচ যোগাতে হিমশিম খেয়ে বাধ্য হয়ে ওদের পড়াশুনায় ইতি টানতে হয়েছে।        ছেলে আজ নামকরা ডাক্তার। অনেক খরচ করে ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে ছেলেকে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে এ্যাডমিশন দিয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্ন সফল হয়েছে। ছেলে আজ এম,বি, বি,এস পাশ করে শহরে কর্ম রত। বাবাকে না জানিয়ে নিজ ইচ্ছায় সে বিয়েও করেছে এবং শহরে সেটেল্ড হয়েছে। বাড়ীতে আসার সময় নেই। মাঝে মধ্যে অল্প স্বল্প টাকা পাঠায়, তা দিয়ে সংসার চালানো মুস্কিল। নিজে যেটুকু পেন্সন পান তা তো ওষুধ পত্তর আর লোন পরিশোধেই চলে যায়। এখন মেয়ে দুটো নিয়ে সমস্যা। অনেক ভালো ভালো জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে কিন্তু অভাবের তাড়নায় কিছু করে উঠতে পারছেন না। চিন্তা ভাবনায় দিন দিন তার শরীর ভেঙে পড়ে...

তালের বড়া

পুকুর পারে তালগাছেতে ঝোপা ঝোপা তাল, দাদু নাকি লাগিয়ে ছিল হলো বত্রিশ সাল। শ্রাবণ শেষে ভাদ্র মাসে তালগুলো সব পাকে, পুকুর পারে গেলেই তখন গন্ধ নাকে লাগে। দিদা বলে আনরে জাদু পাকা ক'টি তাল, ভাদ্র মাসে তালের বড়া খেতে বড় ভাল। দিদা আমায় বানিয়ে দিল তালের পুরি পিঠা, সঙ্গে দিল তালের বড়া খেতে বড় মিঠা। খেলাম বসে তৃপ্তি ভরে তালের রসের গুড়, দিদার মনে দাদুর স্মৃতি বাজে করুন সুর।