পোস্টগুলি

ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

বসন্তের ছোঁয়া

শীতের হাওয়া বিদায় নিয়ে  ফাগুন এলো দোরে, সুখ বসন্তের ছোঁয়া পেয়ে  কোকিল ডাকে ভোরে। পাতা ঝরা গাছের ডালে  নতুন কুঁড়ি ভাসে, ফুলে ফুলে মৌমাছিরা  গুনগুনিয়ে হাসে। প্রেমের ছোঁয়ায় মত্ত সবাই  ফাগুনের এই বেলা, শালিক দোয়েল কোকিল ডাকে  বসায় প্রেমের মেলা। নীলাকাশে মেঘের ভেলা  ছুটে হাওয়ায় ভেসে, নদীর ঘাটে রমনীরা  যায় যে এলো কেশে। রাখালিয়া বাজায় বাঁশি  মাঝি ভাসায় তরী, প্রকৃতির এই রূপের জাদু  দেখি নয়ন ভরি।

বাংলাই মধুর ভাষা

মায়ের ভাষার প্রহরী হয়ে  ভাঙল যারা শিকল বেড়ি,  তাঁদের স্মরণে ফিরে এল আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। রক্তের দামে কিনেছে ওঁরা  বাংলা বর্ণমালা, তাইতো আজ জ্বালিয়ে প্রদীপ  সাজাই ফুলের ডালা। স্মরণ করি তাঁদেরে আজ  প্রতি ঘরে ঘরে, মাতৃভাষা বাংলা মোদের  গর্বে হৃদয় ভরে। রক্তে রাঙানো বর্ণমালা  হাসে যে সকাল সাঁঝে, সালাম বরকত রফিক জব্বার  এই আমাদের মাঝে। বিশ্বের বুকে খুঁজে ফিরে দেখ  বাংলাই মধুর ভাষা, এ ভাষার মান থাকবে অটুট  এইটুকু মনে আশা।

প্রতীক

প্রেমের ভাষা বুঝে না যে মন প্রেমিক হয়ে দেয় সে সাঁড়া, চৌদ্দই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস  থাকে যে সবাই মাতোয়ারা। লাল পাপড়ির মাঝে লুকিয়ে থাকে  অবুঝ মনের ভালোবাসা যে, আজ কেবলই গোলাপের কদর  ভালোবাসার প্রতীক সে যে। গোলাপের মতো রঙিন জীবন  আনমোল প্রতিটি ক্ষণ, প্রেমের জোয়ারে ভেসে যায় তারা  অবুঝ তো বুঝে না দিনক্ষণ। ভালোবাসার মাহাত্ম্য না বুঝে  ঝরে যায় যত কলি, নিজেকে বিলিয়ে অসহায় কত এমন একটা দিনের বলি। কাঁটা ঘেরা গোলাপ শুকিয়ে গেলে  বসে না যে অলি তায়, বুঝে নিতে হবে সে গোলাপ শুধু  ক্ষণিকের তরে শোভা পায়।

টক ঝাল মিষ্টি

ছোট ছেলে মাকে বলে যাবে মামা বাড়ি, 'মাগো তুমি পরে নাও টুকটুকে শাড়ি। মামা বাড়ি কত মজা আছে কত ফল, সেই সব মনে হলে মুখে আসে জল। পড়াশোনা কিছু নেই ঘুরি সারাবেলা, কাঁচা পাকা ফল খেয়ে কেটে যায় বেলা। লাগবে না ভাড়া মাগো পায়ে হেঁটে যাব, ছিপ দিয়ে মাছ ধরে ভাজা করে খাব। মাসি সাথে খাব সেথা টক ঝাল মিষ্টি,  নাইবো দুজনে মিলে, আসে যদি বৃষ্টি। মুড়ি ভাজা লাড্ডু খাবো বিকালের বেলা, কভুও করে না তারা আমাকে যে হেলা। আম জাম পেঁপে মিঠা আছে আনারস, গুঁড়ি দিয়ে পিঠে পুলি খেজুরের রস। নানী এনে মিঠে কলা দেয় দুধভাতে, পাশে শুয়ে রূপকথা শুনবো যে রাতে।' বলতে বলতে তার চোখে আসে জল, জ্বেদ ধরে মাকে বলে 'যাবে কি না বল?' 'পড়াশোনা আছে বাবা পূজো এলে যাবে,  বন্ধে তে মামার বাড়ি সবকিছু পাবে।'  

আমার লেখা গানে

হিফজুর রহমান লস্কর ঘুরলাম কত শহর বন্দর  শূন্য হৃদয় নিয়ে, আসেনি কেউ বেঁধে নিতে  প্রেমের পরশ দিয়ে। তোমার সাথে প্রথম দেখা  গঙ্গা নদীর তীরে, হৃদয় আমার কেড়ে নিয়ে  চলে গেলে ধীরে। ভাগ্যের জোরে দেখা পেলাম  ত্রিশটি বছর পরে, মতির হার শুকিয়ে গেছে  তোমায় স্মরণ করে। কেমন করে ভুলবো আমি  সেই সে মিষ্টি হাসি, তাইতো সদাই সঙ্গী আমার  পোড়া বাঁশের বাঁশি। পাই কিনা পাই তোমায় আমি  বাঁশীর সুরের টানে, হাজার বছর থাকবে তুমি  আমার লেখা গানে।

পূণ্যময় এ রাতে

চৌদ্দই শাবান এলো ফিরে  পূণ্যময় এক রাত, নামাজ পড় রোজা রাখ খুঁজো মাগফিরাত। স্রষ্টা জানি ভাগ্য লিখেন  পূণ্যময় এ রাতে, পূণ্যের ভাণ্ডার শূন্য আমার  ডাকছি খালি হাতে। মোহ মায়ায় মত্ত হয়ে  দিনের পর দিন যায়, তোমার সেবায় আরাধনায়  পাইনি সময় হায়! পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে  করছি শির আজ নত, ক্ষমা করো ওহে দয়াল  দাওগো পূণ্য যত। কাতর স্বরে ডাকি প্রভু  শবেবরাতের এ রাতে, আমার নামটা থাকে যেন  পূণ্যবানের সাথে।