পোস্টগুলি

2023 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

নতুন সালের দীক্ষা

জীবন খাতার পুরানো পাতায় জমা হবে দুই হাজার তেইশ সাল ফিরে দেখি তার বিদায় বেলায় করেছে কোথায় কি হাল। যতই খুঁজি ততই দেখি শুধু হাসিকান্নার মেলা মিলে না হিসেব সুখ না দুখের বর্ণিব বিদায় বেলা। প্রকৃতির নিয়মে সকলেই চায় শুধু হাসিখুশি ভালবাসা, নিত্য সঙ্গী দুঃখ ধরাতে কেন করি সে আশা। খুঁজে দেখি ভালো মন্দ পুরাতন ঘেঁটে কি পেলাম তাহাতে শিক্ষা, শুভ দিকগুলো বেছে নেওয়াই হোক নতুন সালের দীক্ষা। পুরাতনে ভুলে যাই সবে নতুনেরে ভালবেসে, মনে আশা জাগে নতুন বছর কাটবে হর্ষ উল্লাসে। হিংসা বিবাদ দূর করি এসো জাগাই নতুন ভাবনা, নতুন দিনে নতুন বছরে সবারে জানাই শুভ কামনা।

সন্তোষ্টিই সার

ঝিল পাশে সাদা বক একপায়ে খাড়া, ধ্যান করে মনে প্রাণে নেই কোন তাড়া। ক্ষুধায় কাতর হয়ে করেছিল আশা, ছোট মাছ পাবে সেথা ভোজ হবে খাসা। মাছগুলো বসেছিল শ্যাওলার তলে, টের পেয়ে করে রব পালা পালা বলে। বকধার্মিক সেজে কেউ আসে যদি পাশে, মতলবটা বুঝে নিও সেই অবকাশে। অমনি পালিয়ে বাঁচে মাছগুলো সারা, খাবার না পেয়ে বক হয় দিশেহারা। ভাবে এবে মাছসব গেল কোথা চলে, বিধাতারে দোষ দেয় কি নিষ্ঠুর বলে! হেনকালে ঝড় এলো শিলাবৃষ্টি সাথে, আঘাতে আঘাতে তার প্রাণ গেল তাতে। পরিণতি দেখে কবি বলে এই সার, সন্তোষ্টি বিধাতা 'পরে রাখিও অপার।

নারীর আসল পরিচয়

লাবন্যেরা চায় বোন। লাবন্য ছাড়া বাকি সবার আগেই বিয়ে হয়ে গেছে এবং ওরা ঘর সংসার নিয়ে প্রতিষ্ঠিত। বাবা মারা যাওয়ায় লাবন্যকে নিয়ে একটু সমস্যা। ছোট দু'ভাই যদিও বর্তমান কিন্তু ওরা কোনো কাজের না। এতদিন বাবা ছিলেন বলে ভবঘুরে জীবন কাটিয়েছে। এখন দায়িত্ব উপরে পড়ায় দুজনের মধ্যে একটু ঠেলাঠেলি। যার ফলে লাবন্যের জীবনে নেমে আসে অমাবস্যা। শেষ পর্যন্ত মা এবং একমাত্র মামার প্রচেষ্টায় কোন রকমে একটা কলেজের কেরানির সাথে বিয়ে ঠিক করেন।  লাবন্য ছোট বেলা থেকেই খুব শৌখিন। যদিও মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম, সবার ছোট হিসাবে একটু বেশি আদর যত্ন পেয়েছে। কিন্তু ততটুকু সে পেয়েছে তাতে সে কোন দিনও সন্তুষ্ট নয়। তার আকাঙ্ক্ষা সবসময় গগনচুম্বী। কলেজে পড়াকালীন সময়েও সবসময় তার আব্দার ছিল বড়। যা পেত তাতে সে কোন দিনও সন্তুষ্ট হতে পারেনি। তাই সবসময় সে মনমরা হয়ে থাকতো। যে কোন বড়লোকের মেয়েরা যেভাবে শৌখিন জীবন যাপন করত তা ই সে অনুসরণ করার চেষ্টা করতো। আর তা করতে পারতো না বলেই সে নিজেকে বড় অসুখী মনে করত। তার মনে সবসময় একটা হায় হুতাস ছিল, কেন সে বড়লোকের ঘরে জন্ম নিল না। কলেজ জীবনে তার সবচেয়ে অন্তরঙ্গ ব...

নিষ্ঠুর নিয়তির পরিহাস

ধলেশ্বরী নদীর তীরে ছোট একটি গ্রাম। নদীর তীরে একেবারে নদীর গা ঘেঁষে ছোট একটি কুঁড়ে ঘর। বর্ষাকালে  নদীর জল প্রায়ই ফুলে ফেঁপে উঠোন বেয়ে জল গড়িয়ে যায়। তিন পুরুষ থেকে সনাতনরা ওখানেই থাকে। বৎসরে এক দুবার বন্যার সময় ঘরে জল ঢুকে যায় তখন ঘর ছেড়ে অদূরে বাঁধের উপর আস্তানা পাততে হয়।  বাবা মারা যাওয়ার পর তিন ভাইয়ের মধ্যে ছোট দু'ভাই কাজের সন্ধানে ভিটেমাটি ছেড়ে বেঙ্গালুরু চলে যায়। বড় ভাই সনাতন দশ বৎসর থেকে একা স্ত্রী মীরাকে নিয়ে এখানেই ঘর সংসার করে আছে। নিঃসন্তান সনাতন দিন মজুরের কাজ করে কোন রকম স্ত্রীকে নিয়ে দিন যাপন করছে।  দশ বৎসরের বিবাহিত জীবনে মীরা নিজেকে সুখী মনে করে। স্বামী দিনমজুরের কাজ করে যা পায় তা দিয়েই দুজনে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন যাপন করে। কখনো কাজ না পেলে না খেয়েও থাকতে হয় তবু মীরা কোন দিন কোন আব্দার করেনি। মাঝে মধ্যে সনাতন দুই টাকা পাঁচ টাকার খুচরো কয়েন মীরাকে দিয়ে বলতো কখনো কোন প্রয়োজনে বা কিছু খাবার ইচ্ছে হলে পাশের দোকান থেকে কিনে আনার জন্য। মীরা সে টাকা খরচ না করে রেখে দিত। প্রতিদিন স্বামী কাজে চলে গেলে সে টাকা গুলো বের করে গুনতো আর খুচরো টাকার ঝনঝন ...

একদিন এক ভিখারি

স্কুল শিক্ষক গৌরেশ বাবু তার ছোট বেলার এক বন্ধুর সাথে চা পান করে দোকান থেকে বেরোতেই দেখেন সামনে ভিড় জমে আছে। একটু এগিয়ে যেতে দেখেন মানুষ যে যার কাজে সরে যাচ্ছে। জানা গেল দুটি ছেলের মধ্যে কিছু টাকার লেনদেন নিয়ে বচসা বেঁধেছিল। গৌরেশ বাবুও ফিরে যাচ্ছিলেন এমন সময় একটা ছেলে তার পথ আগলে বলল,' বাবু আজ তিন দিন থেকে আমি কিছু খাইনি, কিছু টাকা দিন।' ছেলেটাকে দেখতে ভিখারি বলে মনে হল না । বয়স আনুমানিক ত্রিশ পঁয়ত্রিশ বছর হবে। গৌরেশ বাবু জিজ্ঞেস করলেন,' তোমার নাম কি, বাড়ি কোথায়,কি কর?' ছেলেটি বলল আমার নাম লালু, মানে লালুকান্ত। পেশায় আমি একজন শিক্ষক ছিলাম। কিন্তু আমার উপর একটা মিথ্যা ব্লেম তুলে আমাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। চাকরি হারিয়ে এখন পথে পথে ঘুরছি। বাবু, একটু টাকা দেন না, কিছু খাবো।'  গৌরেশ বাবু ওর চেহারা দেখে বুঝলেন ও মিথ্যা কথা বলছে। তবু পকেটে হাত দিয়ে কিছু দিতে যাবেন এমন সময় তার নজর পড়ল লোকটার হাতের লোহার বালার দিকে। অমনি তার নজর পড়ল লালুর পরনের ছেঁড়া লাল শার্টটার উপর। শার্টটি এমন ভাবে ছেঁড়া আর সেলাই করা, দেখতে ঠিক যেন ভারতের মানচিত্র দেখা যায়। তখনই...

অটোওয়ালা (ছোট গল্প)

সাতসকালে মেয়েকে কোচিং সেন্টারে দিয়ে রীতিকা ঘরে ফেরার জন্য রাস্তায় একটা অটো রিকশাতে সিগন্যাল দিল। গাড়িটি তার সামনে এসে থামতেই রীতিকার চক্ষু তো চড়কগাছ! সে ভাবতেও পারেনি হঠাৎ করে এমন একটা অসুবিধার মধ্যে পড়ে যাবে। ড্রাইবার ডাকলো , ' কি হলো, উঠুন ম্যাডাম।' রীতিকা আমতা আমতা করে বলল,' না মানে আমি তো একটু বি,বরুয়া রোডে যাব,তাই ভাবছি -' মুখ থেকে কথা কেড়ে নেয় ড্রাইবার সুমিত। বলে' তাতে কোন সমস্যা নেই, আমি দিয়ে আসবো আপনাকে।' অগত্যা অনিচ্ছা সত্ত্বেও রীতিকা অটোতে উঠে বসলো। সুমিত গাড়ি চালিয়ে দিল। কারো মুখে কোন কথা নেই। রীতিকা সামনের গ্লাসের দিকে ঠায় চেয়ে আছে সুমিতের দিকে। পরনে শার্ট প্যান্ট আর চোখে সানগ্লাস। সেই কলেজ জীবনের সুদর্শন চেহারা যদিও আজ আর নেই তবু সব সময় ফিটফাট চলাফেরার অভ্যাসটা বোধ করি আজও তার মধ্যে বর্তমান।       অটো দ্রুত গতিতে এগিয়ে চললো। তার সাথে এগিয়ে চলছে রীতিকার স্মৃতির দর্পণ।     কলেজের নবীনবরণ উৎসবের দিন তার প্রথম পরিচয় সুমিতের সাথে। পড়াতে যদিও দু ক্লাস জুনিয়র তাদের চলাফেরা কিন্তু একসাথে। প্রথমে বন্ধুত্ব পরে প্রেম। তার মনে পড়ল...

ধান্দা

পুকুর পাড়ে গাছের ডালে  মাছরাঙা বসে, ঝাঁপ দিয়ে ধরবে মাছ  রসের অঙ্ক কষে। বিল্লি মাসি মুচকি হাসি  চুপে চুপে যায়, ধরবে বলে মাছরাঙা  খাপ ধরেছে তায়। উপর থেকে ঈগল পাখি  দেখে বেড়াল ছানা ছোঁ মেরে ধরবে বলে  মেললো দুটি ডানা। পাশে থেকে এক শিকারী  ফেললো সেথা জাল ধরা পড়লো ঈগল পাখি  বাঁচল যে বেড়াল। পালিয়ে বাঁচে মাছরাঙা  বাঁচল সাথে মাছ, পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে খুকি   করলো সেটা আঁচ। অপূর্ব এ সৃষ্টি ধরা  রচিয়াছে রবে কে কাকে ধরে খাবে  এইতো ধান্দা ভবে।

মাটিই হইবে ঠিকানা

মাটির মানুষ হইয়া মোমিন সেই মাটিরে চিনলা না আজকে মরলে কালকে তোমার মাটিই হইবে ঠিকানা রে মাটিই হইবে ঠিকানা।। মাটির মানুষ হইয়া ----------------------------------------।।২ সুখের স্বপ্নে আছ বিভোর করছো ঘরবাড়ি, কখন জানি ডাক আসিবে যাইতে হইবে সব ছাড়ি।২ মোহ মায়ায় মত্ত রইলা স্রষ্টা কভু চিনলা না, কড়ির খোঁজে জীবন গেল পারের কড়ি কিনলা না। মাটিই হইবে ঠিকানা রে মাটিই হইবে ঠিকানা। মাটির মানুষ ------------------------------------------।। যাদের নিয়ে করছো বড়াই মরলে তারা চিনবে না চোখের সামনে জ্বলবে তবু কেউ কখনো কাঁদবে না।২ মিছে মায়ায় বন্দী রইলায় খোদার কালাম দেখলায় না সকল পাপের হিসাব নিবেন একদিন দয়াল রাব্বানা। মাটিই হইবে ঠিকানা রে মাটিই হইবে ঠিকানা।। মাটির মানুষ ---------------------------------------------।। জন্মের পরে আজান শুনলে ঘুরলে সারা দুনিয়ায়, সে আজানের নামাজ হবে তোমার লাশের জানাজায়।।২ ক্ষণিকের এই জীবন তোমার বেঁধে দিল রাব্বানা মাটির দেহ মাটি পাবে মাটিই হইবে বিছানা।। মাটিই হইবে ঠিকানা রে মাটিই হইবে ঠিকানা। মাটির মানুষ --------------------------------------------।।২

দেখাওনা সেই স্থান

দূর দেশেতে জন্ম তোমার মক্কা বালুস্থান, মমতা জাগাইয়া মোরে দেখাওনা সেই স্থান। দূর দেশেতে ------------------------------------------।। বিশ্ব নবী নূরের ছবি, মা আমেনার প্রাণ, মদিনাতে শুইয়া আছেন বাদশা দুজাহান।। মমতা জাগাইয়া ----------------------------------। দূর দেশেতে ---------------------------------------।। উম্মতেরে ভালোবেসে করলে প্রেম দান, কত রক্ত ঝরলো তোমার তায়েফের ময়দান। মমতা জাগাইয়া ------------------------------। দূর দেশেতে ---------------------------------------।। উম্মতের কারণে নবী ছিলেন পেরেশান  যার উছিলায় নাজিল হইল পবিত্র কোরআন।। মমতা জাগাইয়া ----------------------------। দূর দেশেতে ------------------------------------।। না দেখিয়া করছি কত তোমার গুণগান, অধম হয়ে জন্ম নিলাম দেখাওনা সে স্থান।। মমতা জাগাইয়া --------------------------------। দূর দেশেতে --------------------------------------।। পাপী উম্মত কান্দি বসে দূর সে হিন্দুস্তান, লাখো সালাম কেমনে পৌছাই সেই সে গুলস্থান।। মমতা জাগাইয়া---------------------------।। দূর দেশেতে ----------------------------------------।। ম...

রেখা

মনের মাঝে আছো তুমি স্বপ্নে আঁকা ছবি, প্রকাশ করার সাধ্য কোথায় নহি আমি কবি। কল্পনাতে পাইযে তোমার অনুভুতির ছোঁয়া , আদর করে শিকেয় রাখি কোমল হাতের মোয়া। সুখে দুঃখে পাশে আছ দেখি নয়ন ভরে, স্পর্শ নেব সাধ্য কোথায় হাজার মাইল দূরে। ভাবনার মাঝে আনাগোনা হয়নি কভু দেখা, কল্পনাতে ছবি এঁকে নামটি দিলাম রেখা। সুখে দুঃখে একে অন্যে কত কথাই বলি, সত্য ন্যায়ের ঝাণ্ডা হাতে একই পথে চলি। আসে যতই ব্যথা বেদন ভাগ করে নেই দুজনে, দূরে থেকেও পাশেই আছি  আছি নিবিড় বন্ধনে।

ভুতের ভয়

শিরোনাম: ভুতের ভয়  সেদিন কালীপুজোর রাত। ঘুটঘুটে অন্ধকার এবং গুঁড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। যাত্রা দেখে বাড়ি ফিরছিলাম। রাত তখন আনুমানিক দুটো। গ্রামের গলি পথে যখন পৌঁছলাম তখন আমি একেবারে একা।  নির্জন গলিপথে কতদূর যাওয়ার পর হঠাৎ দেখি আগে আগে কে জানি খুব ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে। গায়ে কালো জামা, খুব মোটাসোটা। ফিসফিস করে কি যেন বলছে আর মাথা নাড়ছে। ভয়ে ভয়ে আরও একটু এগিয়ে যাই, দেখি বিড়ি ফুঁকছে। সাহস সঞ্চয় করে জিগ্যেস করলাম,' কে?' কোন কথা না বলে লাফ দিয়ে গাছের ডালে উঠে গেল এবং খুব জোরে ডাল ধরে ঝাঁকুনী দিতে লাগল। চেয়ে দেখি খিলখিল করে দাঁত বের করে হাসছে আর চোখ থেকে যেন আগুন ঝরছে। তার কালো লম্বা চুল মাটি পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছে। ভয়ে ভয়ে পেছন দিকে দু কদম সরতেই শুনি পেছনে খাঁ খাঁ শব্দ। পাশের জঙ্গলে কারা যেন কান্নাকাটি করছে। একসঙ্গে চতুর্দিক থেকে হাসিকান্না আর চিৎকার চেঁচামেচিতে গা ছমছম করে উঠলো। বুঝলাম ভুতের আড্ডায় ফেঁসে গেছি। অমনি সম্বিৎ হারিয়ে ফেলি। গত্যন্তর না পেয়ে চোখ বন্ধ করে খুব জোরে দৌড় দিলাম আর চিৎকার করে বললাম আমি ভয় করি না। মুখে যদিও ভয় করি না বললাম কিন্তু ভয়ে আমার প...

অপেক্ষাতে আজও

ঢেউয়ের পর ঢেউ তুলে সে কলসিতে জল ভরে, রূপ দেখে তার মন ভরে যায় ভুলি কেমন করে? স্বপ্নের মতো দেখে ছিলাম নদীর ঘাটে গিয়ে, আজও তার রূপের জ্যোতি আঁকি স্বপ্ন দিয়ে। কাজল মাখা ডাগর চোখে  আলতা রাঙা পায়, টুকটুকে লাল শাড়ির আঁচল হাওয়াতে উড়ায়। লাজুক লাজুক মিষ্টি মুখে ঠোঁটের কোণে হাঁসি, দীঘল কালো চুলের ঢেউ পরায় গলায় ফাঁসি। সেতো ছিল গাঁয়ের মেয়ে থাকতো সেজে গুজে, তার মত অপ্সরা আর পাইনি কোথাও খুঁজে। কুড়ি বছর পার করেছি তারই পথ চেয়ে, আশা ছিল আসবে সে যে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে। খুঁজলাম কত শহর বন্দর আর সেই বালুচর, তপ্ত হৃদয় হয়নি শীতল তাইতো জীবন ভর। কোথায় গেল সে সুন্দরী  মনটা কেড়ে নিয়ে, অপেক্ষাতে আজও আছি বুঝাই কি দিয়ে।

চ্যাটিং

ফোকলা দাদু ফেইসবুক চালায় মাথায় নেই কেশ, ফ্রেণ্ড লিস্টের সুন্দরীরা মজা করে বেশ। ইচ্ছে মতো চ্যাটিং করে ফোকলা দাদুর সাথে, দাদুর তাই ঘুম আসে না অনেক গভীর রাতে। বুঝতে পেরে নাতি একদিন আইডি একটা খুলে, প্রোফাইলে দেয় মেয়ের ছবি নামটি রিয়া বলে। রিয়ার সাথে দাদু তখন আলাপ জমায় বেশ, মাঝে মাঝে ইমো কলে দেখে রিয়ার কেশ। রিয়ার প্রেমে দাদু এবার হাবুডুবু খায়, নাতি ভাবে এইতো সূযোগ করব টাকা আদায়। ইনবক্সে চ্যাটিং করে কত কি কিছু লেখে, দাদুও তার উত্তর দেয় ভালোবাসা রেখে। অবশেষে হুমকি দেয় রিয়া রূপী নাতি, ভদ্রভাবে আদায় কর পোহাবার আগে রাতি। বিশ হাজার লাগবে আমার বাঁচতে যদি চাও, মানসম্মানের ভয়ে দাদু বলে নাম্বার দাও।

বিরহ জ্বালা

যেদিন থেকে আসলাম প্রিয়  তোমায় রেখে ঘরে, ভাল্লাগেনা কোন কাজে  কেমনে থাকি দূরে। মনে পড়ে তোমার আমার  মিলন বেলার ক্ষণ, দিবানিশি সে ভাবনা  জাগায় শিহরণ। তুমি ছাড়া জীবন আমার  শূন্য বালুচর, স্বপ্ন মাঝে তোমায় নিয়ে  বাঁধছি সুখের ঘর । এসো প্রিয় স্বপ্ন সাজাই  ভাবনায় তপোবন দুজন মিলে গড়ে তুলি  প্রেমের বৃন্দাবন। আর পারিনা সইতে আমি  এ বিরহ জ্বালা, ছোটে আসছি আজই  আমি দিব গলায় মালা। রাতের বেলা সজাগ থেকো  খোলা রেখ দোর, স্বপ্নের মতো আসব আমি  হবার আগে ভোর। ( ৩০/০৯/২০২৩ বেলা ১২টা ট্রেনে বসে লেখা)

টু হবে কে

ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ে খাতার পাতার 'পরে, এমন ছবি আঁকছে খুকি দেখি নয়ন ভরে। আকাশ পাশে রামধনুটাও খুকির হাতের আঁকা , অপূর্ব এ ছবির মাঝে মেঘে সূর্য ঢাকা। হাতের লেখা ছবি আঁকা দেখলে জুড়ায় প্রাণ, তবুও মা বকছে এসব পড়া ফাঁকির ভান। শুনলাম মা ডেকে বলে পড়াতে দাও ধ্যান, এবার তোমায় হতে হবে ক্লাসের মধ্যে ওয়ান। পড়তে বসে খুকির এবার ভাবনাতে মন দোলে, ইনা মিনা টিনার বাবাও ওই কথাটাই বলে। ভাবতে ভাবতে খুকি এবার মা'কে বলে ডেকে, সবাই যদি ওয়ান হয় টু হবে কে? মা-বাবা সব কেন এমন স্বার্থান্বেষী হয়? নিজের শিশু সবাই চায় করুক বিশ্ব জয়। আর পারিনা সইতে মাগো তোদের এমন জ্বালা, পড়তে পড়তে হৃদয়টা মোর হয়ে গেছে কালা। ইংলিশ বাংলা যেমন তেমন অঙ্ক বুঝি না, বিজ্ঞান না পড়লে নাকি ডাক্তার হওয়া যায় না। খোকা খুকির জীবন নয়তো কারো ইচ্ছের গোল যে যার মতো পড়তে দাও করোনা কেউ ভুল।

চাই সকলের সহযোগিতা

কহিল রাজন শোন হে সাজন এ দেশ তোমার আমার, স্বার্থের তরে কেন কর তুমি  মানুষে মানুষে বিভেদ আবার? ধর্মের নামে জাতির নামে করোনা বিভেদ ভাই, মানবতা বোধ জাগ্রত কর তার চেয়ে বড় কিছু নাই। যে মহান কাজে অধিষ্ঠ তুমি  পেয়েছ যে মহাভার, বিভেদ হানিলে যাবে রোষানলে হয়ে যাবে ছারখার। ভবের বাজারে যারাই করেছে এমন জুলুমবাজি, অচিরেই তারা ধ্বংস হয়েছে গিয়েছে সকল ত্যাজি। মানুষে মানুষে হানাহানি নয় গড়িয়া তোল একতা, যে কোন কাজে সফল হতে চাই সকলের সহযোগিতা।

হাঁচির শব্দে

' উটের পায়ের বুটের মাপ নিতে এলো মুচি, তোতলা খুড়োর নাতি এসে হঠাৎ দিল হাঁচি।' হাঁচির শব্দে উট তখনই দিল এক ঝাটা, উড়ে গিয়ে পড়ল মুচি ভেঙ্গে গেল পা'টা। নাতি এবার খুড়োরে কয় ধর মুচির ছায়ে, বুটটা এবার লাগাতে হবে ওই বেটার'ই  পায়ে। কেমন সাহস দেখ বেটার বুট লাগাবে উটে, এমন জব্দ হল এবার কথা নাহি ফুটে। মুচি এবার কঁকিয়ে উঠে বলে বেটা নাতি, একটুর জন্য রক্ষা পেলাম বাঁচলো বুকের ছাতি। তোকে হেথায় আনলো কে রে হারামজাদা পাজি, পা'টা ভেঙ্গে বুঝলাম এবে দাদা- নাতির কারসাজি। ( রচনাকাল ৫/১০/২০২৩)

কঞ্জুস

বিদ্যার বালিশ বিরেন বাবু বিদ্যায় খায় হাবুডুবু বৌ'কে শাসন করে। বাইরে যেতে করে মানা দেখায় যত টালবাহানা বন্দী রাখে ঘরে। বিরেন বাবু বড়ই কঠিন কষ্টে সৃষ্টে কাটায় দিন জানতো সবাই আগে। ছেঁড়া ময়লা পোশাক যত পরে বিরেন সাধ্যমতো  পরতে ভালো লাগে। পুজো এলে বৌটি তাহার কিনতে গেল গয়না বাহার ঘুমে রেখে তারে। ভর দুপুরে বাজার করে কেনাকাটায় ব্যাগটি ভরে এলো সন্ধ্যা পরে। রেগে মেগে বিরেন বাবু চুলে ধরে করেন কাবু আঘাত করেন অতি। কাঁদতে কাঁদতে বৌটি তখন খুলে দেখায় করে যতন পাঞ্জাবি আর ধুতি। আরো দেখায় পোশাক যত ছেলেমেয়ের মনের মত সবাই ভীষণ খুশি। বিরেনের এবার উড়লো হুঁস কারণ সে যে বড়ই কঞ্জুস বলে নওগো তুমি দোষী। ছেড়ে দিয়ে আদর করে পোশাকগুলো খুলে পরে বলে রাণী তুমি বড় গুণী। নাওনি কিছু তোমার তরে করছ সেবা জীবন ভরে তাইতো আমি ঋণী। বৌটি এবার দেখায় তারে বাক্স ভরা মুক্তা হারে হারায়না যার জৌলুস। তাইনা দেখে বিরেন এবার চোখে দেখে ভীষণ আঁধার লুটিয়ে পড়ে হল সে বেহুঁশ।

মনের জোর

তোমার মনের রুদ্ধ দুয়ার আজও বন্ধ জানি, কি দিয়ে তা মারলে তালা কাঁদে পরাণ খানি। খোলার মত পাইনি রতন পাইনি তেমন চাবি, তবু আমি ঘুমের ঘোরে করছি খোলার দাবী। জীবন ভর খোঁজে গেলাম পেলাম না তো দিশা, তুমি ছাড়া বৃথা জীবন কাটবে কি সে অমানিশা? হৃদয় নীড়ে দুঃখের অনল দাউ দাউ করে জ্বলে  আশায় আশায় দিনটা গেল  সন্ধ্যা এল বলে। ভাবনায় আছি অনেক পাশে যাবে না তো চটে, দ্বারটা তোমার খুলবে একদিন যদি ভাগ্যে ঘটে। প্রাণ হীন এক লোহার চাবি খুলতে পারে তালা, মনের জোর দ্বিগুণ আমার ভাঙবো তোমার ডালা। আধেক জীবন কাটলো একা অলীক স্বপ্ন মাঝে, অন্ধ ভাবে খুঁজলাম তোমায় সকাল বিকাল সাঁঝে। বাকি আধেক জীবন করব তোমায় নিয়ে পার, তোমার স্পর্শে দূর হবে সেই কঠিন অন্ধকার।

সুখের আশায়

সিকন্দরের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। খুবই অভাবের সংসার। সামান্য যেটুকু জমি আছে আজকাল আর তাতে ক্ষেত কৃষি হয়না বললেই চলে। কৃষি কাজে যে খরচ হয় ফসল ফলিয়ে তাও পাওয়া যায় না। উপায়ান্তর না পেয়ে তাই সে ঘরে ঘরে দিন মজুরের কাজ করে। পরে গ্রামের এক মহান ব্যক্তির পরামর্শে এবং সহায়তায় কাঠমিস্ত্রির কাজ শুরু করে। অভাবের তাড়নায় বড় ছেলে রমিজ অল্প বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে বাবার কাজে সাহায্যের হাত বাড়ায়। তবুও সংসারের খরচ যোগাতে তাকে হিমশিম খেতে হয়। রমিজের মা রহিমা অসুস্থ আজ প্রায় তিন বছর হলো। কোমরে ব্যথা, বসে নুয়ে কাজ করতে পারেন না। ডাক্তার বেড রেস্ট নিতে বলেছেন। মাসে হাজার দুয়েক টাকার ঔষধ সেবন করতে হয় যা তাদের পক্ষে একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।     একদিকে স্ত্রী অসুস্থ অন্যদিকে মেয়ে দুটি এখনো ছোট, সবেমাত্র ক্লাস এইট নাইনে পড়ছে, তাই গৃহকর্মে সমস্যা দেখা দেয়।  সিকন্দর স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে রমিজকে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। যদিও ছেলের বয়স কম, সবেমাত্র সতেরো আঠারো হবে তবু এ সময়ে ছেলেকে বিয়ে দেওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। রহিমা বেগম স্বামীর সাথে পরামর্শ করলেন নিজের বোনের এ...

প্রায়শ্চিত্ত ( ছোট গল্প)

হিফজুর রহমান লস্কর ডাক্তার রূপ কুমারের আজ যেন আনন্দের সীমা নেই। হুইল চেয়ারে বসে বসে প্রায় শ'দুয়েক গরীব দুঃখী ও অনাথ শিশুর মধ্যাহ্ন ভোজন স্বচক্ষে নিরীক্ষণ করছিলেন। মাসে দুদিন এভাবে খাবার আয়োজন করেন তিনি নিজ খরচায়। এ কাজের জন্য দুজন লোকও নিয়োজিত করেছেন। এদের মাসিক বেতনও তিনি দিয়ে যান। আজ প্রায় তিন বছর হল তিনি এ কার্যসূচী চালিয়ে আসছেন এবং স্থির করেছেন যতদিন তিনি জীবিত থাকবেন এভাবে খাবার দিয়ে যাবেন। উদ্দেশ্য একটাই হয়তো এ কাজের জন্য তিনি মুক্তি পাবেন। আর হয়তো এ কাজের জন্যই ঈশ্বর তাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন  সেদিনের সে দূর্ঘটনাটি মনে পড়লে আজও তিনি শিউরে উঠেন।       আজ থেকে তিন বছর পূর্বে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি একটি নার্সিং হোমে অপারেশনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। ড্রাইভারটা অসুস্থ থাকায় তিনি নিজে কার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ একটা ডাম্পারের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে স্ত্রীকে হারান। নিজে একটি পা হারিয়ে কোন ক্রমে বেঁচে আছেন। কোমরটা এখনও পুরো ঠিক হয়নি। তাই হুইল চেয়ারে বসে বসেই প্রহর গুনছেন।       আজ এ মধ্যাহ্ন ভোজন আসরে একজন লোককে দেখে তার সমস্ত পুরানো ইত...

কেন বোঝনা?

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর ভালোবাসি ভালোবাসি, ভালোবাসি একথাটি বলনাগো আর, আমিও যে ভালোবাসি তোমাকে অপার। প্রভেদটা হলো শুধু দুজনের মাঝে, তুমি তা বলতে পার, আমি মরি লাজে। ভেবে তো অবাক হই তুমি এত বোকা, হৃদয়ের ভাষা টুকু বুঝোনা হে খোকা। সত্যিই অবোধ নাকি কর শুধু ছলনা , চোখেতেও ভাষা ফোটে তা কেন বুঝনা? চাই যে সদাই পেতে এই বুক মাঝে, সমস্ত সত্তায় মোর তব প্রেম 'রাজে। আমি যেথা নীলাকাশ তুমি হও তারা, তারা ছাড়া আকাশটা হয় সর্বহারা। খসে পড়ে তারা যদি নীলাকাশ হতে, আঁধারে ডুবিবে ধরা নীলিমার সাথে। এ জীবনে আছে যত সমস্যার ডালি, তারই মাঝে জানি শুধু তুমি মোর মালি। যতই সুন্দর হোক ফুলের জীবন, মধুকর ছাড়া তার আঁধার ভুবন। হৃদয়ের ভাষা বুঝো আছি অভিলাষে, হতে চাই সর্ব সুখি থেকে তব পাশে।

অবাক হয়ে চেয়ে রই

পূজো দেখতে বেরিয়ে ছিলাম পূজো দেখা হল কই? ছেঁড়া শাড়ির আঁচল ধরে কাঁদছে খুকি চেয়ে রই। কাঁদছে খুকি ক্ষুধায় কাতর প্যাণ্ডেলের ঐ পাশটাতে, সান্ত্বনা দেয় দেখলাম মায়ে ' খাবে হেথায় শেষটাতে।' লক্ষ টাকার প্যাণ্ডেল ঘিরে হাজার লোকের সমাগম, চোখ ধাঁধানো রঙবাহারি আতস বাজির ঝমাঝম। বাহারি পোশাকে নরনারী চলছে মিলন মহোৎসব, উদাস পানে দেখছে মায়ে দেখছে খুকি বাকি সব। রিনা বীনা টিনার জামা ঝিলমিলানো নয়নে, অবাক হয়ে ভাবছে খুকি কী স্বাধ তার চয়নে! ক্ষুধায় কাতর হলেই বা কি শখটা এখন পোশাকে, মায়ের হাতে অল্প দিলাম পুরাতে ওর আশাকে। অল্প সাহায্য হাতে পেয়ে মায়ের চোখে আসে জল, বলে ' বাবু বেঁচে থাকুন পরকালে পাবেন ফল।' খুশি হয়ে শিশুর হাতে দিলাম কিছু খাবার এবে, ধন্য হলাম এই না ভেবে হয়তো একটু পূণ্য হবে। গরিবি হঠাও স্লোগান চলে গরিবিটা হঠলো কই? খুশির দিনে দুঃখীর পানে অবাক হয়ে চেয়ে রই।

প্রতারক( ছোট গল্প)

সবাই জানে হ্যারি একজন সৎ এবং ভালো মানুষ।বয়স তিরিশের পাশাপাশি। এ শহরে তার আসার প্রায় তিন মাস হল। দ্বিতলের একটা রুমে ভাড়া থাকে। দিনের প্রায় অর্ধেক সময় সে বাইরে থাকে। কিন্তু কোথায় যায় কি করে কেউ জানেনা। বিকেল দুই থেকে তিনটার সময় সে রুমে ফিরে আসে। আর বাকি সময় রাত বারোটা পর্যন্ত সে বই পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। দু এক দিন পর পরই দেখা যায় হাতে নতুন বই নিয়ে ঘরে আসছে। সময় কাটানোর জন্য এটাই সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা। এতে দুদিক থেকেই লাভ। একটা হল টাইম পাস আর অন্যটা হল জ্ঞান আহরণ।  সত্যিই লোকটা খুব ভালো এবং সৎ। কিন্তু এত সততার পেছনেও কিছু একটা লুকিয়ে আছে, সেটা হয়তো কেউ জানেনা। কারণ ভালো বই পড়তে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু টাকা আসে কোথা থেকে এটা সে ছাড়া অন্য কেউ জানেনা এবং কেউ জানারও প্রয়োজন মনে করে না। কিন্তু যে লাইব্রেরী থেকে সে বই কিনে আনে সে লাইব্রেরীর মালিক একজন মহিলা। তার নাম এ্যালি। বয়স আনুমানিক আঠাশ বা ত্রিশ বছর হবে। এখানেই এ্যালির সাথে তার পরিচয়। এ্যালি নিজেও একজন লেখিকা। ইতিমধ্যে সে অনেকগুলো বই লিখেছে এবং বাজারে এগুলোর সমাদরও যথেষ্ট। সে কথা প্রসঙ্গে হ্যারির কাছে নিজের ল...

প্রভুভক্তি ( ছোট গল্প)

সেদিন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে মদন পথের ধারে অদ্ভুত আকারের এক কুকুরের বাচ্চা দেখতে পেল। বাচ্চাটির সমস্ত শরীর ভেজা। ঠাণ্ডায় জড়োসড়ো হয়ে আগাছার আড়ালে লুকিয়ে বসে কাঁপছে। একদিকে কার্তিক মাসের শীতের রাত তার উপর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইছিল। বাচ্চাটিকে দেখে মদনের দয়া হল। এত সুন্দর হৃষ্টপুষ্ট এবং লেজটা অনেক বড়। মদন অবাক হয়ে ভাবল এটা হয়তো বিরল কোন প্রজাতির কুকুর। কিন্তু এটা এলই বা কোথা থেকে? ভাবতে ভাবতে সে আদর করে এটাকে তুলে বাসায় নিয়ে গেল। কতক্ষন আগুনের পাশে রেখে এটাকে একটু চাঙ্গা করার চেষ্টা করল। তারপর একটি বাটিতে খাবার এনে দিল। কিন্তু খাওয়া তো দূরের কথা ও পালাবার চেষ্টা করতে লাগল। বারবার এরকম করায় মদন একে নোঙর এনে বেঁধে রাখল।  বাড়িতে তার আগে থেকেই একটা কুকুর ছিল। এটাকে সে মতি বলে ডাকত। মতি ইতিমধ্যেই পাশে এসে ঘেউ ঘেউ করে ডাক শুরু করল এবং এটাকে মারতে উদ্যত হল। মদন তাকে ধমক দিয়ে বলল, ' এই এটা তোর নতুন বন্ধু, এর সঙ্গে খেলা ধুলা করবি,  ভালো ভাবে দেখা শুনা করবি। যদি দুষ্টুমি করে পালিয়ে যেতে চায় ধরে রাখবি। আজ থেকে এর নাম মুক্তা এবং এর দেখভালের দায়িত্ব তোর।' ...

এ্যাপ্স নিয়ে

শিক্ষা সেতুর এ্যাপ্স এসেছে শিক্ষাঙ্গনে ভিড় জমেছে শিক্ষক সব মাঠে। এ্যাপ্স নিয়ে ব্যস্ত সবাই চাকরিটা তো বাঁচাতে চাই পড়াশোনা লাটে। কেউবা উঠে গাছের ডালে কেউবা উঠে ঘরের চালে কেউবা খোঁজে মই। কেউবা হাসে কেউবা কাঁদে কেউবা বলে পড়লাম ফাঁদে নেটওয়ার্কটা কই? এ্যপ্সের মাঝে নিতি নিতি ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি অর্ধ দিবস যায়। আরো কত আছে স্ততি মিড-ডে মিলের প্রস্তুতি পড়াশোনার সময়টা কোথায়? এমনি যদি চলে ধারা শিক্ষক সব দিশেহারা কে নিবে তার দায়। কচিকাঁচা শিশুর তরে আবার তা ভাবতে হবে পাঠদানটা ক্যামনে করা যায়।

পানবু দারা

সবুজ শান্তির পাহাড় যেথা  নেমেছে শীতল ধারা, এমনি এক স্বর্গীয় স্থান  কালিম্পং এর পানবু দারা। নৈসর্গিক দৃশ্য তিস্তা নদীর  তীরে মনোরম হাওয়া, মন খারাপের সময় সেখানে  এ যেন এক পরম পাওয়া। আঁকাবাঁকা গতি তিস্তা নদীর  হাতছানি দিয়ে ডাকে, বিমুগ্ধ নয়নে চেয়ে রই শুধু  দুপাশের ওই পাহাড়টাকে। চার হাজার ফুট উঁচু পাহাড়  পাশে যে গভীর খাদ, ভীষণ ঢালু আঁকাবাঁকা পথ  এ যেন এক মরণ ফাঁদ। পথমাঝে আছে ঝরণাধারা  কুলুকুলু ধ্বনি তায়, দুধারে পাহাড় সবুজ বনানী  কতই না শোভা পায়! সুখের সাথে ভয়ও আছে  পৌঁছাতে পানবু ভিউ পয়েন্ট, সার্থক রূপ প্রকৃতির সেথা  চাইনা কোন মনুমেন্ট। সবুজ যেন চির সবুজ  প্রকৃতি সাজিছে নীলাকাশে, মনে হয় যেন এই বুঝি এলাম  আকাশের ঐ মেঘের পাশে। যেদিকে তাকাই মুগ্ধ নয়নে  অপূর্ব সে শোভা, পাখির কূজন মৌমাছির গুঞ্জন  হয়ে আছে মন লোভা। হিমালয় আর কাঞ্চনজঙ্ঘা  হাতছানি দেয় পাশে, জানা অজানা ফুলের ঘ্রাণ  মিশে আছে আকাশে বাতাসে। কী মায়ায় রচিয়াছে বিধি  যেথা থাকিবারে মন চায়, পানবুতে বসে মনে হয় যেন আমি চিরসবুজের...

ঈদ মোবারক

বছর ঘুরে আসলো ফিরে ঈদের খুশির দিন, এ খুশিটা সবার তরে রবে না কেউ মলিন। গরীব দুঃখী এতিম অনাথ এদের খবর নাও, স্রষ্টার আদেশ সবার মাঝে খুশি বিলিয়ে দাও। স্রষ্টার নামে কোরবানি দাও পূণ্যার্জনের তরে, প্রতিবেশী এতিম গরীব উপোস করে মরে। তাইতো স্রষ্টার হুকুম হলো ত্যাগটা কর খাঁটি, কোরবানি দাও স্ব মহিমায় সে হুকুমটা ঘাঁটি। সবাই যদি খুশি হয় খুশি হবেন রব, ত্যাগের মাঝে শান্তি আছে ত্যাগেই অনুভব। দ্বন্দ্ব বিভেদ ভুলে সবাই হাতে রাখি হাত, বিশ্ব শান্তির তরে মোরা করি মোনাজাত। মনের পশু কোরবানি হোক ঈদের খুশির সনে, হৃদয় থেকে ঈদ মোবারক জানাই সর্বজনে।

বাঁচাই একটি প্রাণ

রক্ত দান জীবন দান সর্বলোকে জানে, রক্ত পেলে মুমুর্ষ রোগী বাঁচতে পারে প্রাণে। একই স্রষ্টার সৃষ্টি মোরা একই রক্তে গড়া, কেউবা কালো কেউবা সাদা সে তো ত্বকে মোড়া। তাপ চাপ অনুভুতি সবার একই সমান, বিভেদ মনে রাখলে হবে স্রষ্টার অপমান। উঁচু নীচু ধনীগরিব সবার রক্ত লাল, জাতিধর্ম ভিন্ন ভাবি সেটাই হলো কাল। মানুষ হয়ে ভাবনা কেন 'মানুষ মানুষের জন্য', সব দানের সেরা দান রক্ত দান অনন্য। রক্ত দানে সুফল আছে কথাটা নয় মেকি  সুস্থ দেহের রক্ত দান কমায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি। রক্ত জমাট শান্তি বিভ্রাট হয় যে কোলেস্টরেল, তাইতো বলি রক্ত দাও গতি থাকবে নরমাল। রক্তদানে নেই যে ক্ষতি নেই তো কোন ভয়, সত্যিকারের রক্তদানে মানবতারই জয়। আসুন সবাই সচেতন হই করি রক্ত দান , ধন্য হই রক্ত দিয়ে বাঁচাই একটি প্রাণ। মহৎ লোকের মহৎ কাজ মহত্ত্বতায় ঘেরা, রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচাই রক্তদানই সেরা। (রচনাকাল ১৩/০৭/২০২৩)

শিহরণ

সুর উঠেছে আগমনীর মুখরিত পাড়া, অপেক্ষাতে আছি প্রিয় পাইনা তোমার সাড়া। বর্ষা গেল শরৎ এলো ভাবছি মনে মনে, কথা ছিল তোমায় নিয়ে যাবো কাশবনে। নীলাকাশে মেঘের ভেলা যেন কাশের ফুল, শূন্য মাঝে উড়ে উড়ে হাওয়ায় খায় দোল। তেমনি মোরা ভাসবো হাওয়ায় ভাবছি ক্ষণে ক্ষণে, নিরিবিলে মিলবো দুজন চলো যাই কাশবনে। ময়ূর পাখির পুচ্ছ জানি কাশফুলের মতন, যার পরশে প্রেমিক মনে জাগায় শিহরণ।

ভাবনার আঁকিবুঁকি

মনে মনে আঁকি ছবি         কভু আমি নহি কবি             তবু ভাবি কিছু লিখে যাই। যেখানেই যাহা দেখি        দেখি আজ সবি মেকি             আসলটা খুঁজে কোথা পাই? সমাজে যাহাই ঘটে           আসে সব দৃশ্য পটে               মুখ বুজে শুধু চেয়ে থাকি। তখনো মনেতে ভাবি          চেপে থাক হৃদে সবি               আবেগটা দূরে সরে রাখি। বিবেকটা ডেকে বলে       সরে যাবে কোন ছলে            এতো নহে মানব জীবন? অন্যায়টা দেখ যবে           প্রতিবাদ কর তবে            কেন তুমি মুদিবে নয়ন? মানুষ হেরেছে আশা         মরে গেছে ভালোবাসা              প্রতিবাদ কোথাও তো নাই। ছড়াতে জ্ঞানের আলো    দূরে নিতে যত কালো   ...

হাঁদা ও চোর

পরীক্ষাটা এগিয়ে আসতেই ঘুরল হাঁদার মাথা, সারা রাত্রি জেগেই পড়ে হাতে নিয়ে খাতা। চোর ঢুকল চুরি করতে বসল খাটের নিচে, মশার কামড় সহ্য হয়না ধরা পড়বে পিছে। ভাবছে বসে হাঁদার পড়া ক্যামনে শেষ করে, মশার মতো চিমটি কাটে হাঁদার পায়ের 'পরে। হাঁদা কিন্তু পড়েই চলছে রাত বারোটার কাছে, চোর বাবাজি পড়ল ফাঁদে কেমন করে বাঁচে। খাটের তলায় লুকিয়ে বসে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, ইচ্ছে করে উঠে গিয়ে ধরবে ওর ঘাড়ে। যেমন ইচ্ছা তেমন কাজ ধরল হাঁদার ঘাড়ে, 'ওরে পাঁজি কেউ কি এমন রাত্রি জেগে পড়ে?' সারা বছর কোথায় ছিলি হারামজাদা পাজি, কত ধানে কত চাল দেখে নেব আজি।' হাঁদা ভাবল বাবা নাকি এল তার ঘরে, বলে 'বাবা ছেড়ে দাও মরে যাব পরে।' ছেড়ে দিয়ে বাঁচল চোর বাঁচলো হাঁদার প্রাণ, পালিয়ে বাঁচে চোর বেচারা দেখাল তার শান।

আত্ম ভাবনা

জীবনে চলার পথে       কত কথা মনোরথে                    কি কিছু পেলাম অবশেষ? কোথা হতে এলাম         কিবা করে গেলাম                    ভাবনার নেই কোন শেষ। সৃষ্টিতে করে আশা     পেয়েছি যে ভালোবাসা                    সকলি তো আপনার তরে। কভুও দেখনি ভেবে       সব ছেড়ে যেতে হবে                   কিবা আছে পরহিত তরে। প্রকৃতি সম্পদ যত          ভোগ করি অবিরত                     মিটায়েছ আপনার তৃষা। যেখানেই যাহা জোটে      খেয়েছ যে লুটেপুটে                    কাটায়েছ যত অমানিশা। সংসার মোহে পড়ে       ন্যায় নীতি দিলে ছুড়ে               ...

মনের খোরাক

বৃষ্টি মুখর দিনে             বসে আছি বাতায়নে               স্মৃতি শুধু করে উঁকিঝুঁকি।  পাশেতে পেলাম খাতা      কলমও আছে হেথা                হাতে নিয়ে শুরু আঁকিবুঁকি। যা খুশি তা লিখে যাই         হলাম না কবি তাই                তবু কভু নহি আমি দুখী। লেখার নেশার টানে           লিখে যাই আনমনে                শুধু ভাবনার আঁকিবুঁকি। পেয়েছি লিখার ঠাঁই          বাধা দিবে কেহ নাই                ছাপানোরও আছে সুবিধা। লিখে যাই পাতা পাতা       গল্প কিবা কাব্য গাঁথা                যদিও না থাকে আগা মাথা। কেহ করে লাইক তাতে         কমেন্ট ও থাকে সাথে             ...

শারদা পর্ব -০২( ছোট গল্প)

শারদা  (ছোট গল্প) পূর্ব প্রকাশিতের পর ইতিমধ্যে নবেন্দু বাবুর তৃতীয় মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। শহরের এক নামিদামি ব্যবসায়ীর ছেলের সাথে। বাড়িতে এখন শুধু শারদা আর তার মা-বাবা।  একদিন সন্ধ্যাবেলা মা লক্ষ্য করলেন ঘরে টিভিতে একটি মেয়ে নৃত্য করছে আর শারদা তা দেখে দেখে নাচার চেষ্টা করছে। তিনি আরো অবাক হয়ে দেখলেন সে হুবহু গানের তালে তালে নেচে যাচ্ছে। কথাটা একদিন প্রসঙ্গ ক্রমে তিনি তার স্কুল শিক্ষক রতনবাবুকে বললেন। রতনবাবু বললেন তিনি ব্যাপারটা দেখবেন। পরে স্কুলে একজন নাচের শিক্ষক এনে ওকে নাচ শিখিয়েছেন এবং স্কুলের কালচারেল প্রোগ্রামে সে চমৎকার নেচেছে এবং পুরস্কারও পেয়েছে। তার নাচ দেখে ঐ ম্যাডাম বলতে বাধ্য হয়েছেন যে,' ঈশ্বর হয়তো তাকে কুৎসিত এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম করে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন কিন্তু তার মধ্যেও অনেক গুণাগুণ দিয়েছেন,যেটা হয়তো অনেক সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষের মধ্যেও নেই।'  শারদা অত্যন্ত খুশি তার এই সফলতায়। শিক্ষক শিক্ষিকাদের প্রতি সে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ। বিশেষ করে রতন স্যারের কথা তার আজীবন মনে থাকবে।  #### দিন গড়িয়ে যায়। ইতিমধ্যে সে কিছুটা হলেও লেখা পড়া শিখেছে। স্কুল ক...

শারদা পর্ব -০১( ধারাবাহিক ছোট গল্প)

নবেন্দু শেখরের চার মেয়ে, সুশীলা, সুলেখা,সরিতা এবং শারদা। শারদা ছাড়া বাকি সব কটি মেয়েই দেখতে খুবই সুন্দর এবং পড়াশোনায়ও ভালো। শারদা ছোট, খুবই সাদাসিধে এবং দেখতেও অসুন্দর। পাঁচ বছর বয়সে ওর মুখে প্রথম কথা ফুটতে শোনা যায় তাও তোতলায়। ওর নাম জিজ্ঞেস করলে অনেক কষ্ট করে বলে সা-সা--সাদা। তাই সবাই ওকে সাদা বলেই ডাকে। সা- সা সাদা বলতে বলতে কেউ কেউ আবার সিধে বলেও ডাকতে শোনা যায়। একটা মধ্যবিত্ত শিক্ষিত পরিবারে জন্ম অথচ ওর ব্রেনটা ডাল এবং এত কুরূপা। মা বাবা অনেক সময় ভাবেন বাকি মেয়েদের তুলনায় কেন সে এরকম হল। কখনো ভাবেন,ওর জন্মের দু মাস আগে ওর মা একবার পুকুর ঘাটে পড়ে গিয়েছিলেন। হয়তো একারণে সে এরকম। আবার কখনো ভাবেন তিন মাস বয়সের কালে একবার সে দোলনা থেকে পড়ে গিয়েছিল এ কারণে। এ নিয়ে অনেক বার তারা ডাক্তার দেখিয়েছেন কিন্তু কোন লাভ হয়নি।    যখনই সে কোন কিছু বলে অন্য ছেলেমেয়েরা তা অনুকরণ করে চিড়ায় । এ জন্য সে বেশি কথাও বলে না।     নবেন্দু বাবু বড় মেয়ে গুলোকে শহরে প্রাইভেট স্কুলে পড়িয়েছেন। দুজন ইতিমধ্যে বি,এ, পাশ করেছে এবং তাদের ভাল জায়গায় বিয়েও দিয়েছেন। ...

সন্তান ( ছোট গল্প)

স্কুল শিক্ষক রথীন বাবু সদ্য চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। ঘরে উপযুক্ত মেয়ে দুটিকে নিয়ে চিন্তিত। বড় মেয়েকে অনেক আগেই পাত্রস্থ করেছেন। ওর ঘর সংসার মুটামুটি ভালোই চলছে। কিন্তু ছোট মেয়ে দুটোর চিন্তায় রাতে ঘুম হয়না। পড়াশোনাতে ভালোই ছিল।দুজনই হাইয়ার সেকেণ্ডারী পাশ। দুজনই বিজ্ঞান শাখায় স্টার মার্কস পেয়েছে কিন্তু ছেলের পড়াশোনার খরচ যোগাতে হিমশিম খেয়ে বাধ্য হয়ে ওদের পড়াশুনায় ইতি টানতে হয়েছে।        ছেলে আজ নামকরা ডাক্তার। অনেক খরচ করে ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে ছেলেকে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে এ্যাডমিশন দিয়েছিলেন। তাঁর স্বপ্ন সফল হয়েছে। ছেলে আজ এম,বি, বি,এস পাশ করে শহরে কর্ম রত। বাবাকে না জানিয়ে নিজ ইচ্ছায় সে বিয়েও করেছে এবং শহরে সেটেল্ড হয়েছে। বাড়ীতে আসার সময় নেই। মাঝে মধ্যে অল্প স্বল্প টাকা পাঠায়, তা দিয়ে সংসার চালানো মুস্কিল। নিজে যেটুকু পেন্সন পান তা তো ওষুধ পত্তর আর লোন পরিশোধেই চলে যায়। এখন মেয়ে দুটো নিয়ে সমস্যা। অনেক ভালো ভালো জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে কিন্তু অভাবের তাড়নায় কিছু করে উঠতে পারছেন না। চিন্তা ভাবনায় দিন দিন তার শরীর ভেঙে পড়ে...

তালের বড়া

পুকুর পারে তালগাছেতে ঝোপা ঝোপা তাল, দাদু নাকি লাগিয়ে ছিল হলো বত্রিশ সাল। শ্রাবণ শেষে ভাদ্র মাসে তালগুলো সব পাকে, পুকুর পারে গেলেই তখন গন্ধ নাকে লাগে। দিদা বলে আনরে জাদু পাকা ক'টি তাল, ভাদ্র মাসে তালের বড়া খেতে বড় ভাল। দিদা আমায় বানিয়ে দিল তালের পুরি পিঠা, সঙ্গে দিল তালের বড়া খেতে বড় মিঠা। খেলাম বসে তৃপ্তি ভরে তালের রসের গুড়, দিদার মনে দাদুর স্মৃতি বাজে করুন সুর।

শিক্ষাগুরু

হে প্রিয় শিক্ষাগুরু           কি দিয়ে করব শুরু                  শোধিতে তোমার সেই ঋণ! দিয়েছ অমৃত বাণী         গড়েছ জীবন খানি                 মনে পড়ে আজো সেই দিন। পড়ায়েছ সুর করে           লিখায়েছ হাত ধরে                   বুঝায়েছ করিয়া যতন। ভালো মন্দ দিক গুলি       উজাড়িছ প্রাণ খুলি                   দেখায়েছ সুন্দর ভুবন। শাসন পেয়েছি তবু          অবাধ্য হয়েছি কভু                 হয়তো দিয়েছি কত ব্যথা। ভেবে সেই দিনগুলি        ভারাক্রান্ত মনে বলি                     গুরুই যে পরম পিতা। জ্ঞানের প্রদীপ হাতে         আঁধারের মোহনাতে     ...