পোস্টগুলি

2026 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আত্মত্যাগের ঈদ

ঈদুল আজহা এলো ফিরে একটি বছর পর, আত্মত্যাগের মহান দীক্ষা, ইসলামের উপর।   ইব্রাহিমের কুরবানি স্মরি, প্রভুর আদেশ জানি,   মনের পশু কোরবানি দাও কিতাব-কোরান মানি।   মনের পশু হিংসা-লোভ, অহংকার আর ক্রোধ,   কুরবানি দাও আগে তারে, তবেই হবে শোধ।   লোক দেখানো জাঁকজমকে নেই যে কোনো দাম,   নিয়ত যদি শুদ্ধ না হয়, বৃথা সকল কাম।   ধনী-গরিব নাই ভেদাভেদ ইসলামেরই ঘরে,   আমির-ফকির এক কাতারে ঈদের নামাজ পড়ে।   কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাই দেখায় সাম্যের জোর, এক আল্লাহর বান্দা মোরা, ইসলামেরি সুর।   বিশ্বশান্তি চেয়ে দু’হাত আকাশ পানে তুলি, যুদ্ধ নয়, হানাহানি নয়,হিংসা বিদ্বেষ ভুলি।  সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দাও প্রতিবেশীর দ্বারে,   অনাহারীর মুখে হাসি ফুটুক ঈদের উপহারে।   ত্যাগের শিক্ষা নিয়ে যেন চলি সারা বছর,   মানুষ হই মানুষের তরে, ভাঙি বাঁধার স্তর।   মনের পশু কুরবানি দিয়ে হই যেন ভাই খাঁটি,  একে অন্যে ভালোবাসি চুমি দেশের মাটি। সবাইকে আজ জানাই আমি ঈদুল আজহার প্রীতি, ...

গফুরের গরুর বিজনেস

গফুর মিয়া ঠিক করলো এবার গরু পালবে। ইউটিউবে দেখেছে, “গরু পালনে লাখপতি”।  বাজার থেকে তিনটা গরু কিনে আনলো। গরু গুলর একে একে নাম দিলো— ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক।  প্রথম দিন ফেসবুক প্রতিবেশীর লাউগাছ সাবাড় করলো। প্রতিবেশী বললো, “তোমার ফেসবুক আমার লাউয়ের কমেন্ট বক্স খালি করে দিয়েছে!” গফুর দৌড়ে গিয়ে বলল," ভাই, নতুন তো, বুঝে না।" দ্বিতীয় দিন ইউটিউব গোয়ালঘরের কাঠ ফুট খুঁটি সব চিবিয়ে খেয়ে ফেললো। গফুরের বউ চেঁচালো, “তোমার ইউটিউবে অ্যাড বেশি, আমার ঘরের সব শেষ।" তৃতীয় দিন টিকটক দড়ি ছিঁড়ে  যেখানে যত কাপড় পেল, খেয়ে ফেললো। এরপর সোজা চেয়ারম্যানের বৈঠকখানায় ঢুকে চেয়ারম্যানের পাঞ্জাবি চিবাতে লাগলো। চেয়ারম্যান লাফ দিয়ে উঠে গফুরকে ডাক দিয়ে বললো, “গফুর, তোর টিকটক ভাইরাল হয়ে গেল রে। এবার আমি তোর উপর মোকদ্দমা করতে বাধ্য হবো।" শেষে গফুর তিনটাকে বাজারে বেচতে গেল। খদ্দের জিজ্ঞেস করলো, “দুধ দেয়?”   গফুর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো, “ভাই, দুধ না দিলেও ফেমাস করে দেয়। একেকটা সেলিব্রিটি। দাম একটু বেশিই লাগবে।” অমনি একদল লোক এসে বললো," গরু তো কেউ কিনবে না। এগুলো মানুষের সব ফসল নষ্ট করে দেয়, রাস্ত...

ফোকলা দাদুর নানা

ফোকলা দাদুর ঘরে আছে   বিড়ালের এক ছানা,   ইঁদুর সদাই পালিয়ে বেড়ায়   কখন যে দেয় হানা। লুকিয়ে লুকিয়ে ইঁদুর বেটা কতো কিছুই খায়,   বিড়াল ছানা ধরবে তাকে   সুযোগ কি আর পায়? অপেক্ষাতেই থাকে বিড়াল   কখন সূযোগ আসে,   ধরবে যে ওই ইঁদুরটাকে   রাখবে দাদুর পাশে। হঠাৎ একদিন নেংটি ইঁদুর   জলের মাঝে পড়ে,   জলে পড়ে হাবুডুবু খায়   তিড়িং বিড়িং করে। তাই না দেখে বিল্লি রাণী   পাড়ে বসে গান গায়,   "আজকে তোরে ধরব রে তুই   পালাবি কোথায় হায়?" " চুরি করে রোজই যে খাস   দোষ পড়ে মোর ঘাড়ে,  আজকে তোকে শিক্ষা দেবো আছি আমি পাড়ে।" ইঁদুর বলে, "কানটা ধরলাম  চুরি আর না করি,   এবার যদি বাঁচাও মোরে   ভালো হবো ভারি।" বিল্লি ভাবে, "ছাড়ি তবে   সুযোগ দিলাম আজ,   চুরি করলে আবার ধরব   মনে রাখিস রাজ।" লেজ বাড়িয়ে টেনে তুলে   বাঁচায় ইঁদুর প্রাণ,   নেংটি বলে, "রাণী তুমি   আমার ভগবান।" সেই থেকে আর চ...

ডিমের বড়া

সাদা রঙ গোল গড়ন রসে টইটম্বুর,   গন্ধে মন মাতাল হয় মনটা ভরপুর।   বারোমাস পাওয়া যায় দেখতে চাঁদের মতো,   কিনে আনি সবে খায় আনন্দ হয় কতো। ত্রিশ টাকায় তিনটি কিনি বাজার গরম ভারি,   খোসা ফেলে রস-কুসুম ভেঙে সারি সারি।   পেঁয়াজ মশলা মিশিয়ে তাতে মাখি যতন করে,   তেলে দিয়ে চড়চড়ে ভাঁজি খিদে দ্বিগুণ বাড়ে। অপরূপ রূপে মন ভোলে দুঃখ যায় সরে,   মুখে দেওয়া দূরে থাক ঘ্রাণে পেটটি ভরে।   গরম গরম তুলে নিয়েই ফুঁ দিয়ে খাই,   টপাটপ খেয়ে ফেলি মজা তাতে পাই। সকাল বেলা নাস্তা হোক বিকেল বেলা চা,   ডিমের বড়া পাশে হলে জমে আড্ডা-তা।   হঠাৎ যদি মেহমান আসে ঘরে নাই কিছু,   ডিমের বড়া ভেজে দিলে লাজ থাকে না পিছু।   গরিব ধনী ভেদ ভুলে সবাই ভালোবাসে,   পেটের ক্ষুধা মনের সুখ একই সাথে আসে।   বৃষ্টি হলে জানালা ধারে বড়া সবাই চায়, ডিমের বড়া না খেলে ভাই জীবন বৃথা যায়।

জানালার ওপারে

হাসপাতালের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের দুটো পাশাপাশি বেড। একটায় শুয়ে অখিলেশ বাবু, অন্যটা তিনদিন ধরে খালি। ডায়াবেটিস তাকে শেষ করে দিচ্ছে। পা ফেটে ইনফেকশন, পচন ধরেছে। ডাক্তার মুখ ফুটে কিছু বলে না, কিন্তু নার্সের চোখ দেখে অখিলেশ বাবু ঠিকই বোঝেন— সময় ফুরিয়ে আসছে। চতুর্থ দিন বিকেলে খালি বেডটায় নতুন রোগী এলো। নাম অপূর্ব সান্যাল। বয়স চল্লিশও পেরোয়নি। কিডনি দুটোই প্রায় অকেজো। চোখের নিচে কালি, মুখে হাসি নেই। দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে রাত। ওষুধ, ইনজেকশন, যন্ত্রণার ফাঁকে ফাঁকে দুজনের আলাপ জমে ওঠে।   "দাদা, আপনার কী হয়েছে?" অপূর্ব জিজ্ঞেস করে।   "সুগার," অখিলেশ বাবু কাঁপা কাঁপা গলায় বলেন, "ধরেছে আর ছাড়ছে না। তোমার?"   অপূর্ব শুকনো হাসে, "আমারও ছাড়ার রোগ না। কিডনি। ডায়ালাইসিস করে করে ক্লান্ত। আর একটুও বাঁচার ইচ্ছে নেই।" "বয়স কত হে তোমার?"   "আটত্রিশ।"   অখিলেশ বাবু দীর্ঘশ্বাস ফেলেন, "আমার সত্তর চলছে। তবু বাঁচতে সাধ হয়। আর তুমি..." দুদিন পর হঠাৎ রাতে অপূর্ব ফুঁপিয়ে ওঠে।   "দাদা, আমি আর পারছি না। রোজ এই মেশিন, এই সূঁচ... আমার বাঁচা...

নাতির অন্নপ্রাশন

রসের হাঁড়ি ফোকলা দাদু   গরীব বেজায় ভারি,   ছেলে করে গার্মেন্টসে কাজ   টাকার ছড়াছড়ি। নাতির হবে অন্নপ্রাশন   জন্মদিনও সাথে,   ধুম পড়েছে বাড়ি জুড়ে   আলোর ঝলক তাতে। ডেকোরেশন, লাইটিং, কেক   ডিজে বাবু নাচে,   মেন্যু দেখে চোখ ছানাবড়া   মাটন বিরিয়ানি আছে! দাওয়াত পেয়ে লোক এসেছে   গাড়ি ভরা ভরা,   সেলফি তুলে ফেসবুকে দেয়   "দাদুর নাতির জোড়া"। ফোকলা দাদু কোণায় বসে   শুকনো হাসি হাসে, ওষুধ পত্তর ক্যামনে কিনে শ্বাস কষ্টে কাশে। ছেলেকে চুপি ডেকে বলে   "বাবা, ওষুধ শেষ,   প্রেশারখানা বাড়ছে বড়   দে না টাকা লেশ।" ছেলে বলে, "আহা বাবা   এখন বড্ড কাজ,   পার্টি মিটুক, হাতে টাকা   একদমই নেই আজ!" দাদু ভাবে ত্রিশ হাজার   উড়ল কেকে জলে,   আমার ওষুধ পাঁচশো টাকা   জুটল না তা বলে? কানাঘুষো করে লোকে "দাদু কী কষ্ট পেলে,   নিজে নাখেয়ে কর্ম করে  মানুষ করল ছেলে!" "কোট-প্যান্ট পরে এখন ...

রসময় দাদু ও বিধু মোড়ল

রসময় দাদু বাজার সেরে   ফিরছিলেন ধীরে,   হঠাৎ দেখেন পথের মাঝে   জটলা ভারি ভিড়ে। কৌতূহলে এগিয়ে গিয়ে   উঁকি মারেন দাদু,   লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে   বখাটে সব যাদু। একটি ছোকরা ধরে দাদু   শুধায়, "কীসের লাইন?   কীসের লাগি সবাই মিলে   করছ এমন ফাইন?" ছেলেটা কয়, "ও দাদু শোনো,   খবর আছে ভারি,   সুন্দরী এক যুবতী নাকি   এসেছে বাড়ি ছাড়ি। "সবাই মিলে দেখতে তারে   দাঁড়িয়ে আছি সুখে,   একটু যদি কথা বলি   টিপ্পনী কাটি মুখে!" দাদুর রাগে গা জ্বলে যায়   চোখ কপালে তুলে,   হঠাৎ দেখেন লাইনের শেষে   মোড়ল বিধু দুলে। গ্রামের মোড়ল, সাদা দাড়ি,   বয়স সত্তর পার,   সেও দাঁড়িয়ে জিভ লকলক   লজ্জা নেই তো আর! দাদু বলেন, "ও বিধু ভাই,   এ তোমার কেমন কাজ?   মাথার চুলে পাক ধরেছে   নেই কি কোন লাজ?" বিধু মোড়ল দাঁত কেলিয়ে   বলেন হেসে হেসে,   "বুড়ো হয়েছি তাতে কী ভাই   ...

মায়ের পাত

ছোটবেলায় মাছের ঝোল হলে মা সবসময় মাছের পেটিটা আমার পাতে তুলে দিতেন।  "নে বাবা, তুই খা। ব্রেন ভালো হবে।"  নিজে নিতেন কাঁটা ভরা লেজের টুকরোটা, নয়তো শুধু ঝোলটুকু দিয়ে দুটো ভাত মেখে নিতেন। কোনোদিন জিজ্ঞেস করলে বলতেন, "আমার আজ মাছ খেতে ইচ্ছে করছে না রে। সবজি দিয়েই পেট ভরে গেছে।"  আমি ভাবতাম, মায়ের বোধহয় সত্যিই মাছ পছন্দ না। পেটি, গাদা — এসব খেতে ভালোবাসেন না। বাবা বাজারে গেলে কতকিছু কিনে খাওয়াতেন, অথচ নিজে খেতেন না। আজ বুঝতে পারছি, প্রত্যেক মাবাবাই বোধহয় এরকম হয়। বাবা চলে গেলেন অনেক আগেই।  মা তখনও একই রকম। মুরগির রানটা, দুধের সরটা, পায়েসের বাটির তলার ঘনটুকু — সব আমার। মা খেতেন পোড়া রুটি, একটু আলুভাজি। বলতেন, "বুড়ো বয়সে অত ভালোমন্দ সয় না।" তারপর একদিন মা-ও চলে গেলেন। ঘরটা ফাঁকা। গতকাল অফিস থেকে ফিরে বউ ইলিশ মাছ রেঁধেছে। পেটির দুটো বড় টুকরো পাতে দিল। আমার ছ বছরের মেয়ে টুম্পা লাফিয়ে উঠল, "বাবা, মাছে কি কাটা আছে?পেটি আমি খেতে পারবো?" "হ্যাঁ অবশ্যই পারবে।"আমি ইলিশ মাছের পেটি টা থেকে একটু কাটা বেছে ওর পাতে দিলাম। ও খেয়ে যতটুকু খুশি হলো...

সৃজনের জলচ্ছবি

 তারিখ- ১৩/১২/২০২৫ ফুল যেমন সুবাস ছড়ায়  মনে জাগায় ছন্দ, বইমেলা আসলেই পাই  নতুন বইয়ের গন্ধ। নতুন কাগজে নতুন রসায়নে  স্বতন্ত্র মিষ্টি ঘ্রাণ, নতুন বইয়ের গন্ধ নিতে  আকুল পাঠক প্রাণ। বিশ্ব জুড়ে নতুন বইয়ের  প্রকাশের নেই শেষ, বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ আজিকে  বাসে ভালো সকল দেশ। পাল্লা দিয়ে প্রকাশের পথে  "সৃজনের জলচ্ছবি", লিখছেন অপূর্ব এ কাব্যগ্রন্থে নামী দামী সব কবি। উত্তম দত্তের পরিচালনায় প্রকাশ পাবে সে বই, চার জানুয়ারি যাবো সেথায়  অপেক্ষাতে চেয়ে রই।

ইসলামের বিধান

 তারিখ ১২/০৩/২০২৬ আসলো ফিরে রমজান আবার  এগারো মাস পরে, সিয়াম সাধনায় মত্ত মোমিন  প্রতি ঘরে ঘরে। এই মাসেতে কোরান নাজিল  শ্রেষ্ঠ খোদার দান, সাম্য শান্তি সম অধিকার  ইসলামের বিধান। রোজার মাঝে লুকিয়ে আছে  সহমর্মিতার শিক্ষা, আর্তজনে খাবার দাও  এটাই হলো দীক্ষা। তাইতো এলো জাকাত ফিতরা  ধনীর ধনের 'পরে , হিসেব মতো আদায় হলে  খুশিতে মন ভরে। তারাবি রোজা সেহরি ইফতার  আত্মশুদ্ধির কাল,  শান্তির তরে ভাঙ্গে ইসলাম  অহঙ্কারের দেয়াল। ত্যাগ তিতিক্ষায় জীবন গড়ি  করি ইবাদাত, জাকাত ফিতরা আদায় করি পাইতে নাজাত। এসো মোমিন রাসুলের পথ  শক্ত করে ধরি, কোরআন বিধি পালন করি  খোদার নামটি স্মরি।

মরি আমি ত্রাসে

 অস্ত যাবে ভবের সূর্য  সাঙ্গ হবে খেলা, পশ্চিমেতে তাকিয়ে দেখি নেই বেশি আর বেলা। ঘোর অন্ধকার কবর দেশে  যেতেই হবে ভাই, শূন্য হাতে ক্যামনে যাবো ভাবছি বসে তাই। আমলনামা শূন্য আমার  নেই যে কিছু জমা, না চিনলাম স্রষ্টা কভু  ক্যামনে পাবো ক্ষমা। আপন যারা বসবে যখন  আমার লাশের পাশে, দোয়া দরুদ পড়বে কি কেউ  মরি আমি ত্রাসে। করলাম না যে সৃষ্টির সেবা  রইলাম স্রষ্টা ভুলে, তাঁহার বাণী শুনাবে কি কেউ  আমার কর্ণ মূলে।

সাফল্য

 জীবন মানেই ভাঙা গড়া  উথাল পাথাল ঢেউ, কখন কোথায় ঠেকবে তরী জানেনা তা কেউ। সাহস নিয়ে এগোয় যারা  কর্ম নিয়ে লড়ে,, লক্ষ্যে শুধু তারাই পৌঁছায়  সুখের জীবন গড়ে। দুঃখের মাঝে সুখের বাসা আঁধার মাঝে আলো, তারই মাঝে সবার চলা  তাতেই মন্দ ভালো। কঠিন লড়াই জীবন মাঝে  কেউ জিতে কেউ হারে, মন মাঝি টা ভেঙে গেলে  দোষটা দিবে কারে? শক্ত হাতে হাল টা ধরো সময় কালে উঠে, সাফল্য টা আসবে তখন  নিজের হাতের মুঠে।

কাতর স্বরে

 চৌদ্দই সাবান এলো ফিরে  পূণ্যময় এক রাত, নামাজ পড় রোজা রাখ খুঁজো মাগফিরাত। স্রষ্টা জানি ভাগ্য লিখেন  পূণ্যময় এ রাতে, পূণ্যের ভাণ্ডার শূন্য আমার  ডাকছি খালি হাতে। যেমন কর্ম তেমন ফল  স্রষ্টার বিধান খাঁটি, পাপ পূণ্যের বিচার করলে  পাবেন পাপের আঁটি।  মোহ মায়ায় মত্ত হয়ে  দিনের পর দিন যায়, তোমার সেবায় আরাধনায়  পাইনি সময় হায়! পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে  করছি শির আজ নত, ক্ষমা করো ওহে দয়াল  দাওগো পূণ্য যত। কাতর স্বরে ডাকি প্রভু  আজিকার এ রাতে, আমার নামটা থাকে যেন  পূণ্যবানের সাথে।

ভালোবেসে যাই

 জীবনের মাঝে      দুরাশার সাজে  সকলেই থাকি যে মগন, নিশার স্বপন মাঝে  কত সুখ মনে রাজে জীবনটাই নিশার স্বপন, মানবের কর্ম ধারা     কভুও হয়না সারা আকাশে বাতাসে সদা বাজে, কেউ আসে কেউ যায় স্মৃতিটুকু রেখে যায়   মনো মন্দিরে তাহা রাজে। এই ধরনীর পরে     কী না করে নরে  আপন স্বার্থের তরে, বুঝে না তো তাপ        করে যায় পাপ   করে অনুতাপ পরে। আগামীর দিনে         পথ চিনে চিনে সকলে এগুতে চাই । নবীনে বরণে           প্রবীণে স্মরণে  যেন হে ভুলে না যাই। ভেদাভেদ ঢেকে      হাতে হাত রেখে  দেশটাকে গড়ি ভাই। সকলে সমান ভাবি  এ যে সময়ের দাবি  মানবেরে ভালবেসে যাই।

স্বার্থ শেষে

 স্রষ্টার সৃষ্টি এই ধরাটা তাঁর ধারাতেই চলে, হেরফের তার হয়না কভু  কারো শক্তির বলে। উঁচুনিচু ধনী গরীব  সে তো তারই দান, একে অন্যে হেলা করলে  কাঁদে তাঁহার প্রাণ। অবুঝ মানুষ বোঝে না তাই  বিভেদ মনে রাখে, গরীব দুঃখী দেখলেই মনে  ঘৃণার ছবি আঁকে। ছলচাতুরি ধাপ্পাবাজি  থাকে এদের মাঝে, নিজের স্বার্থে পাশে আসে আপন কেবল সাজে। স্বার্থ শেষে ধোঁকা দিয়ে  তাড়ায় ঘৃণার সনে, আপন হয়েও চেনেনা তখন  অতি আপন জনে।

স্পর্শ

 ফুল কাননে ঘুরতে গিয়ে  মনটা গেল ভরে, ফুলগুলো সব পাপড়ি মেলে  বললো আদর করে, সুগন্ধ আর রূপ দেখে যাও বন্ধু নয়ন ভরে। মৃদু হেসে বললাম আমি  ঐযে তোদের বুকে, অলি আর প্রজাতি  বসছে উড়ে উড়ে, এদের দেখে মন আনন্দে  দেখলাম ঘুরে ঘুরে। এমন সময় একটা পাখি  উড়ে এসে বসে, মন খুশিতে সেই পাখিটা  ফুলের বাগান চষে, আমায় দেখে ভেঙচি কেটে  রসের অঙ্ক কষে। বললাম আমি স্পর্শ তোদের  শান্তি আনে মনে, তোদের খুশি বুঝলাম এসে  অলির শিহরণে, তাইতো বসে কাব্য লিখি  নিশি জাগরণে।

নির্বাচনী হাওয়া

 তারিখ ২৭/০৩/২০২৬ চতুর্দিকে চলছে এখন  নির্বাচনী হাওয়া, আমজনতার ভোটটা পেতে  করছে নেতা ধাওয়া। বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে তারা  ভোটটা পাওয়ার আশে, আশ্বাস বাণীর ফুলঝুরি দেয়  'আছি সবার পাশে।' নেতার ভাষা জাগায় আশা আমজনতার মনে, কাকে দেবে ভোট এবার  ভাবছে ক্ষণে ক্ষণে। পাড়ায় পাড়ায় হাট বাজারে চৌমাথার ওই ধারে, মিটিং মিছিল নেতা কর্মীর কে জিতে কে হারে। মিষ্টি কথায় ভুলোনা ভাই  যোগ্য নেতা খুঁজো, বিবেক দিয়ে বিচার করো নিজের দামটা বোঝো। ছোট বড় বৃদ্ধ যুবক  করছে কানাকানি, ভুল করলে পাঁচটি বছর  ঝরবে চোখের পানি। তাইতো বলি ক্ষমতা দাও  যোগ্য হাতে তুলে, জনগণই শক্তির উৎস  গণতন্ত্রের মূলে।

প্রতিদান

 তারিখ -০১/০৪/২০২৬ নদী জল টলমল সদা বহে যায়, নোংরা ময়লা মিশে হয় যে মলিন, প্রতিদান আশা কভু করে না তো ক্ষীণ, জীব বাঁচে সেই জলে পিপাসা মিটায়। মধু তুলতে মৌমাছি কত কষ্ট করে, ফুলে ফুলে মধু খোঁজে চঞ্চল হিয়া, জমা করে সেই মধু মৌচাকে নিয়া, তাহার সে জমা মধু নর ভোগ করে। কত কিছু আছে ভবে স্বার্থহীন হায়, বিনিময়ে কভু তারা কিছুই না চায়। মোমবাতি আলো দিয়ে যায় অনুক্ষণ, দারুণ তাপেতে মোম নিজে গলে যায়, সরিয়ে আঁধার রবি আলোতে হাসায়, চাঁদের জ্যোৎস্না করে মোহিত ভুবন।

জ্ঞানী

 জ্ঞান গম্ভীর মানুষ যারা  অল্প কথাই কয়, পরের কথা অতি সত্বর  ওজন করে লয়। সঠিক পথের নির্দেশনা  এদের কাছেই পাই, প্রতিবাদের ভাষায় জানি  এদের জুড়ি নাই । সহজ সরল জীবন এদের  আসলেই ওরা বীর, ঠাণ্ডা মাথায় কথা বলে  নম্র ভদ্র স্থির , বিবেক বোধে অসৎ কাজে  দেয়না কভু সায়, তাইতো তারা বিশ্বজুড়ে  মান সম্মানটা পায়। জ্ঞানীর সাথে চলাফেরায় জীবনটা হয় সাদা, এদের কথা মেনে চললে  সফল জীবন আধা।

ডাস্টবিন

 ছেঁড়া-ময়লা ফেলার জন্য  আছি আমি ভাই, যার যা আছে ফেলতে পারো  আমার বুকে তাই। তোদের জন্যই আমার সৃষ্টি  সদা পাশেই থাকি, কভু আমি রাগ করি না  ময়লা ধরেই রাখি। যতই ফেলো সইব আমি  ডাস্টবিন আমার নাম, যা ফেলবে তা ধরে রাখবো  এইতো আমার কাম। অস্থানে তে ময়লা ফেলে  নিজেই যারা ময়লা, কয়লা কি আর বুঝতে পারে  আসলেই সে কয়লা। চিনে না যে সবাই আমায় উদাস হয়ে রই, পরিবেশটা নষ্ট করছে  দুঃখ কারে কই। করজোড়ে বলছি এবার  সবার ভালোর তরে, কোন্ স্থানে কি ফেলতে হয় দেখো বিচার করে। আমার কদর জানে শুধু  জ্ঞানী গুণী জন, চেনে না তো তারা আমায়   যারা আজো অজ্ঞান।

প্রকৃতির কান্না

 সে অনেক দিন আগের কথা। বসন্ত এসেছে বনে। শিমুল-পলাশের লাল আগুনে প্রকৃতি মাতোয়ারা।জঙ্গলের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে এক বুড়ো বটগাছ। তার ডালে ডালে সংসার পেতেছে শালিক, ময়না, টিয়ে, ঘুঘু, দোয়েল। কেউ ডিমে তা দিচ্ছে, কেউ ঠোঁটে করে খড়কুটো আনছে, কেউ সদ্য ফোটা ছানার মুখে পোকা গুঁজে দিচ্ছে। কিচিরমিচিরে সারা বন মুখরিত। এক দুপুরে হঠাৎ ‘ঠকাস’ শব্দ। বুড়ো বট কেঁপে উঠল। নিচে তাকিয়ে পাখিদের বুক শুকিয়ে গেল। এক কাঠুরে, কাঁধে কুড়াল, গাছের গোড়ায় ঘা মারছে। “ঠকাস! ঠকাস!” প্রতিটি কোপে গাছের ছাল ছিটকে পড়ে, সাথে ছিটকে পড়ে পাখিদের কলিজা। ডিমের ভেতর ছানারা নড়ে ওঠে। মা-পাখিরা ডানা ঝাপটে চিৎকার জুড়ে দেয়—“বাঁচাও, বাঁচাও!” সাহস করে সব পাখি একসাথে নেমে এল কাঠুরের সামনে। শালিকটা ঠোঁট জোড় করে কাঁদল, “হে মানব, ঈশ্বরের দোহাই, এখন গাছটা কেটো না। দেখো আমাদের বাসায় ডিম, ছানা। ওরা উড়তে শেখেনি। গাছ পড়লে ওরা থেঁতলে মরবে।” কাঠুরে হা করে হাসল। “তোদের কথা শুনলে আমার পেট চলবে? এই গাছ বেচলে দু’মাসের চাল আসবে। সর সামনে থেকে।” কুড়াল চলতেই থাকল। বটগাছটাও কুড়ুলের আঘাতে কাঁদতে শুরু করল। এই অবস্থা দেখে তার ছায়ায় বেঁচে থাকা আগাছা ও পার্শ্ববর...

এমন মানুষ কই

 বাড়ি বাড়ি ঘুরছে নেতা  আজ বাদে কাল ভোট, জনাদেশটা পেলেই হবে  সব দুঃখের ছুট। ভোটের মুখে লম্বা ভাষন  প্রতিশ্রুতির ঢেউ, বৈতরণী পার হলে ভাই  পাবে না আর কেউ। স্বার্থের তরে আগের রাতে  করায় ভূরি ভোজ, ভোটের পরে আম জনতার  কেবা রাখে খোঁজ। সমাজ সেবা করবে যে জন এমন মানুষ কই? স্বার্থের তরে নেতা সাজে অবাক হয়ে রই। উন্নয়নের নামে এখন গাইছে প্রেমের গান, ভোট পেরোলে এসি রুমে  হবে তাদের স্থান। প্রতিবাদী যোগ্য নেতা  গণতন্ত্রের মূল, বিবেক দিয়ে খোঁজ এদের  আর করো না ভুল।

খিদে

 অষ্টমীর সন্ধ্যা। ঢাকের তালে মণ্ডপ কাঁপছে। ধূপের গন্ধ, আলোর ঝলক। মণ্ডপের এক কোণে থামের আড়ালে দাঁড়িয়ে পল্টু। বয়স আট-নয়। গায়ে নোংরা, ছেঁড়া গেঞ্জি। পেটে খিদে, চোখে বিস্ময়। পুরুতমশাই আরতি করছেন। ধুনুচি নাচছে, শাঁখ বাজছে। পল্টু একমনে মা প্রতিমার মুখের দিকে তাকিয়ে। পলক পড়ে না। পাশ থেকে কে যেন ফিসফিস করে, “এই ছোঁড়া, ভক্তি দেখাতে আইছস না লুচি-সুজির লোভে?” পল্টু উত্তর দেয় না। ও নিজেও জানে না, সে কেন এসেছে। মা ওকে জন্মের পরেই রেললাইনের ধারে ফেলে গেছে। ‘মা’ কে তো চোখে দেখেনি। মা' ডাকটা ওর কাছে কেবল মণ্ডপের ওই মূর্তিটা। চোখে কাজল, কপালে টিপ, দশ হাতে অস্ত্র। রাগী, আবার মায়াবী। ওর মনে হয়, তার ম' হয়তো এই মায়ের মতো। এই মা ওকে মারবে না। আর প্রসাদ? তিনদিন পেটে ভাত পড়েনি। পুরুতমশাই যখন ‘বলো দুর্গা মাই কি’ বলে লুচি ছোঁড়েন, পল্টুর জিভে জল আসে। আরতি শেষ হলো। সবাই প্রসাদের জন্য হুড়োহুড়ি করছে। পল্টু ভিড় ঠেলে ঢুকতে পারে না, ঢুকার সাহসও করে না। দূর থেকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকে।  হঠাৎ পুরুতমশাই ওকে দেখলেন। কাছে ডাকলেন। সবাই ভাবল বকবেন।   তিনি পল্টুর মাথায় হাত রাখলেন। একটা শালপাতায় চারটা লুচি, স...

চোখের আলো

 দশম শ্রেণির বেঞ্চে বসেই রোহন আর সোনালীর চোখাচোখি হয়েছিল। তারপর বইয়ের ফাঁকে চিরকুট, কোচিং ফেরার পথে আধঘণ্টা বেশি হাঁটা। সাত-আট বছরের অপেক্ষা শেষে দুই পরিবার মেনে নিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে দিল।  রোহন হলো মেডিসিন স্পেশালিস্ট, সাদা অ্যাপ্রন গায়ে শহরের নামকরা ডাক্তার। সোনালী এম.এ পাশ করেও চাকরির পেছনে ছোটেনি। রোহনের সংসার, বই আর গান নিয়েই তার জগৎ। সুখের কোনো কমতি ছিল না। বিপত্তি শুরু হলো এক বর্ষায়। সোনালীর চোখ জ্বালা করে, জল পড়ে। রোহন স্টেথো নামিয়ে চোখের ড্রপ দিল। “আমি আছি তো, ভয় কী?” সোনালী হাসে। স্বামীর হাতের ওষুধে তার অগাধ বিশ্বাস। দিন যায়, মাস যায়। জ্বালা কমে না। আলো ঝাপসা হয়ে আসে। সোনালীর ভাই রজত, পেশায় উকিল, বোনকে দেখতে এসে সব শুনে রেগে আগুন। “একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখা, সোনালী। তোর স্বামী মেডিসিনের ডাক্তার। মেডিসিন আর চোখ এক জিনিস না।”  কথাটা রোহনের কানে যেতেই সে রেগে গেল। হাসতে হাসতে সে তর্ক জুড়ে দেয়। “আচ্ছা রজত ভাই, আপনার স্ত্রী যদি জমির বিবাদ নিয়ে ফাঁসে, আপনি কি নিজে কেস লড়বেন না অন্য উকিল খুঁজবেন? ডাক্তার হয়ে নিজের বউয়ের চিকিৎসা করব না?” সোনালীও ভাইকে থামায়, “দাদা, উনি নি...

নিঃস্বার্থ দান

 দেয় যে জন উজাড় করে কী পায়?   দানের কথা মনে রেখে কে চায়?   পাকা যে ফল মাটির টানে পড়ে,   শাখা কি আর ফিরে তাকে ধরে? নদী ছোটে সাগর পানে বহে, নোংরা ময়লা সবই সে তো সহে। মেঘ ঢালে জল তৃষ্ণা মেটায় চুপে,   শূন্য হয়ে ভেসে বেড়ায় ধূপে। বাতাস দেয় প্রাণের পরশ সবে, হিসেব খাতা শূন্য থাকে ভবে। সূর্য আলো বিলায় খুশি রোজই, কারোর কাছে ধার কি সে আর খুঁজি। ফুল ফোটে তার গন্ধ বিলায় হেসে,   মধু লুটে অলি যায় কি শেষে?   দিয়ে যে জন খুশি থাকে মনে,   দানের মাঝে জিতে সে জন রণে। তুমিও দাও না চেয়ে দান কিছু,   দেখবে তাতে অমর গানই পিছু।   দেওয়ার সুখ বুকের মাঝে রাখো,   সুখের জীবন এমনি করে আঁকো।

দাদুর দুঃখ

রসের হাঁড়ি ফোকলা দাদু  রসময় তার নাম, এক নামেতে সবাই চেনে  কুমার পাড়ায় ধাম। মাটির কলস দৈ'এর হাঁড়ি  বানায় দাদু বেশ, আজকাল আর কেউ কিনে না  কষ্টের নেই শেষ। ফলের বাগান করে তাই  সংসার সুখ খুঁজে, কুমার দাদুর এই কষ্টটা  কেউ কি কভু বুঝে! কষ্ট করে ফলায় ফসল  আম জাম পেঁপে, উচিত দামে বিক্রি করে  দাঁড়ি পাল্লায় মেপে। বিনি পয়সায় কাউকে দেয় না  অতি কৃপণ বটে, কয়ফলের কস্ বল্লেই দাদু   যায় বেজায় চটে। আসতে যেতে উত্যক্ত করে  ডানপিটে সব ছেলে, লাঠি হাতে ঠেঙ্গায় দাদু হাতের কর্ম ফেলে। রসের হাঁড়ি দাদুর দুঃখ  কেউ দেখে না ঘেঁটে, অর্ধাহারে অনাহারে  যাচ্ছে দাদুর কেটে।

পঁচিশে বৈশাখ

পঁচিশে বৈশাখ প্রভাত হতেই আলোর ঝলক লাগল প্রাণে,   বিশ্বকবি এলে ধরায়   ছন্দে সুরে গানের টানে। তোমার কলম সবাই দেখে   পৌঁছল বাংলা বিশ্ব মাঝে, গীতাঞ্জলির অমর বাণী   আজও মোদের হৃদয়ে 'রাজে। ছড়ায় ছন্দে লিখলে কাব্য  অমর তোমার সকল বুলি,   নোবেল আলো আনলে ঘরে   গর্বে বুকটা উঠল দুলি। ‘আমার সোনার বাংলা’ গেয়ে   জাগাও প্রাণে দেশের মায়া,   ‘জনগণমন’ এক সুরে বাঁধে   কোটি হৃদয়, একই ছায়া। হে রবি, তুমি চির নূতন   আজও আছো সবার মাঝে,   তোমার গানে কান্না হাসি   বাজে নীরব সকল কাজে। জন্মদিনে প্রণাম জানাই   লহো মোদের শ্রদ্ধাঞ্জলি, তোমার সৃষ্টি অয়ন পথে   মুছিয়ে দিক সকল ভুলই। শেষ নাহি যে তোমার লেখা   শেষ নাহি যে তোমার গান,   বাঙালির এই হৃদয় জুড়ে   চিরকালই তোমার স্থান।

সত্যের সিংহাসন

ভূতের রাজ্যে তখন ঘোর অমাবস্যা। নিয়ম নেই, নীতি নেই। যে যাকে পারে শোষণ করে। মামদো ভূত শাঁকচুন্নির পুকুর দখল করে, ব্রহ্মদৈত্য পেত্নীর বটগাছ কেটে নেয়। সবলের অত্যাচারে দুর্বলের হাড়গোড় জর্জরিত। কেউ কারও কথা শোনে না। শ্মশানের কোণে, পোড়ো মন্দিরে গোপনে মিটিং-মিছিল চলে। ফিসফাস, ষড়যন্ত্রের গন্ধ। ভূতরাজ কঙ্কালেশ্বরের কানে খবর গেল। সিংহাসনে বসে তাঁর হাড়ের মুকুটটা নড়ে উঠল। “আমার বিপক্ষে চাল চেলেছে নাকি?” তিনি দূত পাঠিয়ে রাজ্যের সব নেতৃস্থানীয় ভূতকে ডেকে পাঠালেন। রাজসভা থমথমে। কঙ্কালেশ্বর গম্ভীর গলায় ঘোষণা করলেন, “আমি স্থির করেছি, তোমাদের মধ্য থেকে একজনকে রাজ্যের ভার দেব। তার আগে একটা ইন্টারভিউ। যে সত্য কথা বলবে, সিংহাসন তার।” একে একে ডাক পড়ল। প্রথমে এল বড় দলের সর্দার মেছোভূত।   ভূতরাজ শুধালেন, “বলো, আমার শাসন কেমন চলছে? প্রজারা কতটুকু সন্তুষ্ট? আমার দোষ-গুণ কী?” মেছোভূত কেঁপে উঠে হাতজোড় করল, “মহারাজ, আপনার শাসনে কোনো কষ্ট নেই। অভাব নেই। প্রজারা যেন স্বর্গরাজ্যে বাস করছে। আপনি দেবতা!” ভূতরাজের চোখ জ্বলে উঠল। “কারাগারে নাও একে। মিথ্যাবাদী।” এরপর এল স্কন্ধকাটা, এল নিশি, এল বেঁটে বামুন ভূত। সবা...

কর্ম

সামান্য একটু লবণ যেমন  নেই তো রঙের বাহার,   সবকিছুতেই মিশে থাকে  সুস্বাদু হয় আহার। কেউ ভাবে না ইহার কথা  কেউ করে না গান,   তরকারিতে মিশে গেলে   বাড়ে তাহার মান। অনুপস্থিতিটা সবাই বুঝে  লবণ কোথায় খুঁজে, হাহাকার করে তার কারণে  তার অভাবটা বুঝে। এমন জীবন গঠন করো নীরব, নত, ধীর,  কাজের মাঝে মিশে থাকো   গন্ধ ছড়াও বীর। নিঃস্বার্থে কাজ করে যাও নাইবা পেলে মালা,   কর্মই তোমার বলবে কথা   সাজবে জীবন ডালা। এমন জীবন গঠন করো তোমার শূন্যতা বুঝে, কাঁদায় সবায়, বোঝায় সবায়   তোমার অভাব খোঁজে। সভায় তুমি না থাকলেও  চেয়ার ফাঁকা লাগে,   তোমার অভাবে সবাই যেন  থাকে অনুরাগে। বন্ধুর আড্ডা জমে না আর   তোমার হাসি ছাড়া,   তোমার পরামর্শ বিনে   পথ হারায় পাড়া। তাইতো বলি কর্ম করো ঠিক লবণের মতো,   উপস্থিতি টের না পাক   অনুপস্থিতিটায় ক্ষত।

হাসি দিবস

রঙিন ডানার প্রজাপতি  মন খুশিতে নাচে, তাইনা দেখে খোকন সোনা  পেতে চায় যে কাছে। ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়  কী সুখ তার মনে, ধরা হতে বিদায় নেবে  চৌদ্দ দিনের ক্ষণে। নেই অভিযোগ নেই হাহাকার  প্রজাপতির মাঝে, আনন্দে তে মাতোয়ারা  সকাল বিকাল সাঁঝে। মানব জীবন বড়ই সুখের  উদাস কেন ভাই, যেমন আছ তেমনি ভালো  তোমার উপর কেউ নাই। কাল কি হবে ভেবোনা আর  হাসিখুশি থেকো, হাসিতে যে আয়ু বাড়ে  সেটা মনে রেখো। প্রজাপতি হও ক্ষণিকের তরে  রঙিন চোখে দেখো, কালকে তুমি বাঁচবে কিনা  সেটা মনে রেখো। নিজে হাস অন্যে হাসাও  দুঃখকে জয় করে, হাসিটুকুই অমর থাকবে  তোমার লয়ের পরে। মুখের হাসি জাগায় আশা  দুঃখী জনের প্রাণে, রোগ ব্যাধি সব দূরে থাকে  এই তো হাসির মানে। ডাক্তার বলে বিজ্ঞান বলে  হাসলে আয়ু বাড়ে, তাইতো বলি আর দেরি নয়  জোরে হাসাও সবারে।  প্রাণ খুলে হাসুক সবাই  এটাই পরম ইচ্ছা, সব বন্ধুদের জানাই এবে হাসি দিবসের শুভেচ্ছা।

মানসম্মানের খাঁচা

কৈলাস শহরের বড় বাবু কালাম সাহেব। অফিসে সবাই জানে—নিষ্ঠাবান, সৎ, মাটির মানুষ। একমাত্র ছেলে শাহেদ। স্কুল মাস্টার। বনেদি ঘর দেখে ধুমধাম করে বিয়ে দিলেন উচ্চশিক্ষিত মেয়ে নায়লার সাথে। ভেবেছিলেন, শিক্ষিত বউ এসে সংসারে আলো জ্বালাবে। বিয়ের ছয় মাস না যেতেই ঘরে অশান্তির আগুন। নায়লা শাশুড়ির রান্নায় নাক সিঁটকায়, শ্বশুরের চা পান খাওয়া নিয়ে খোঁটা দেয়। শাড়ি-সালোয়ার তার ভালো লাগে না। জিন্স-টপ পরে বাজারে ঘোরে। লোকে আড়চোখে তাকায়, কালাম সাহেব মাথা নিচু করেন। “এই ছোট শহরে দম বন্ধ লাগে,” নায়লা রোজ শাহেদের কানে বিষ ঢালে। “চলো শহরে যাই। শ্বশুর শাশুড়ির জ্বালাতন আর ভালো লাগে না। শহরে কুঁড়ে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকলেও শান্তি পাবো।” মান-সম্মানের ভয়ে কালাম সাহেব নিজেই ছেলেকে ডেকে বলেন, “যা বাবা, অশান্তি ভালো না। আলাদা থাক।” মা আঁচলে চোখ মোছেন, “বাবা শাহেদ, নিজের খেয়াল রাখিস।” শহরের ভাড়া ঘর। শাহেদ স্কুলে যায়, ফিরে এসে বাজার করে, রাঁধে। নায়লারও স্কুলে চাকরি হলো। এখন ‘ডিউটি’র নামে সকাল আটটায় বেরোয়, ফেরে সন্ধ্যা ছটায়, কখনো বা রাত নটায়। ফোন ধরলে কেটে দেয়। জিজ্ঞেস করলে বলে, “স্টাফ মিটিং ছিল, কখনো বা বলে বান্ধবীর বাসায় নে...

হাতুড়ি নয়, বই দিন

পয়লা মে। টাউন হল ভর্তি লোক। মঞ্চে শীতেন বাবু, শহরের নামকরা সমাজসেবী। গলায় লাল গামছা, হাতে মাইক। “বন্ধুগণ, শ্রমিকের ঘামেই সভ্যতা গড়ে। শিশু শ্রম ঘৃণ্য অপরাধ। আজকের দিনে শপথ নিই—কোনো শিশুকে দিয়ে কাজ করাব না। তাদের হাতে বই দেব, খেলনা দেব। ইনকিলাব জিন্দাবাদ!” হাততালিতে হল ফেটে পড়ে। খবরের কাগজের লোক ছবি তোলে। শীতেন বাবু গর্বে বুক ফোলান। ইমোশনাল হয়ে আরো উচ্চস্বরে বলতে লাগলেন," শ্রমিকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা কাজ করে কিন্তু উপযুক্ত পারিশ্রমিক পায় না। বৃদ্ধ বয়সে ওষুধ পত্তর করা তো দূরের কথা নাখেয়ে মরে। কে দিবে তাদের বৃদ্ধ ভাতা?" বাড়ি ফিরে কলিংবেল বাজাতেই দরজা খোলে রতন। বয়স দশ। শীর্ণ হাত, কোটরে ঢোকা চোখ।  “হারামজাদা, এত দেরি কেন? বাবুরা এসেছিল, চা দিসনি কেন? সারাদিন টিভির সামনে বসে থাকিস?” শীতেন বাবুর হাত উঠে যায়। রতনের গালে পাঁচ আঙুলের দাগ। রতন কাঁদে না। মার খাওয়া তার অভ্যাস। ভোর পাঁচটায় ওঠে। ঘর মোছে, বাসন মাজে, বাজার করে, বাবুর জুতো পালিশ করে। রাতে বাবু পার্টি থেকে ফিরলে পা টিপে দেয়। একদিন কাঁচের গ্লাস ভেঙেছিল বলে সারারাত বারান্দায় দাঁড় করিয়ে রেখেছিল। জ্বর এসেছিল, তবু সকালে কাজে লাগিয়ে...

বুড়ো রিকশাওয়ালা

টেটো-বাইক বের হয়েছে   চলছে পথে রোজ,   বুড়ো হয়েছে রিকশাওয়ালা   কেউ রাখে না খোঁজ। টোটো-বাইকে সবাই ছোটে   কমেছে তার দাম,   প্যাডেল চাপা বুড়ো মানুষ  খুঁজে ফেরে কাম। কাজকর্ম হারিয়ে এবার   ক্যামনে জীবন যায়,   খোঁজ খবর নেয় না কেহ   বড়োই অসহায়। ভাটিয়ালি গানের গলা   শুনি না যে আজ,   কোথায় গেল রিকশাওয়ালা   কে খুলবে তার রাজ? চৌরাস্তার মোড়ে বসে  চেয়ে থাকে পথ, কেউ বলে না ' চাচা চলো' থমকে গেছে রথ। বৃষ্টি এলে ভিজে কম্বল   রোদে পোড়ে চাম,   পেটের ক্ষুধা মেটে না আর   বাড়ে শুধু দাম। পলেস্তারা খসা ঘরে  টিমটিমে এক বাতি, জীবনটা তার রিক্সা হয়েই থেমে গেছে সাথী। কেউ শুনে না কাশির শব্দ  কেউ দেখে না জ্বর, এই শহরে বুড়ো মানুষ  যেন বোঝা পর।

ফাটলের সুতো

রমেন আর শীতেন—নাম দুটো উচ্চারণ করলেই গ্রামের লোক বলত, “ওরা তো দুই দেহ এক প্রাণ।” ছোটবেলার সহপাঠী, যৌবনের ব্যবসার সঙ্গী। হাটে-বাজারে, অফিস আদালতে বা যেকোনো অনুষ্ঠানে একসাথে চলা। একজনকে ছেড়ে অন্যজন ভাবাই যায় না। এই বন্ধুত্বটাই চোখে কাঁটার মতো বিঁধত তৃতীয় সহপাঠী কেশবের। মুখে মিষ্টি, মনে বিষ। রমেন-শীতেনের ছায়া যত লম্বা হত, কেশবের বুকের ভেতর হিংসার আগুন তত দাউদাউ করত। সে ফন্দি আঁটল—এই সুতোয় টান মারতে হবে। প্রথমে রমেনের কানে ফিসফিস করল, “শীতেনটা তোকে ছাড়া লুকিয়ে ডিল করে রে। মানুষটা বড়োই স্বার্থপর।” রমেন হেসে উড়িয়ে দিল, “ধুর, আমি ওসবের ধার ধারিনা।”   কেশব থামল না। দিনের পর দিন, জলের ফোঁটার মতো কুমন্ত্রণা ঢালতে লাগল। “তোর বদনাম করে, তুই নাকি কিছুই জানিস না, ওর পরামর্শেই নাকি তুই আজ এই স্থানে। তোর সরলতার সুযোগ নিচ্ছে রে… সেদিন তোকে ছাড়াই মহাজনের সাথে কথা বলল…” কথায় বলে, কানে দেওয়া বিষ একদিন রক্তে মেশে। রমেনের মনেও সন্দেহের বীজ গজাল। সেই বছর শীতেন শহরের এক বড় কোম্পানির সাথে চালের সাপ্লাইয়ের বিরাট অর্ডার পেল। সইসাবুদ হলেই জীবনের মোড় ঘুরে যাবে। খবরটা শুনে কেশবের রাতের ঘুম উড়ে গেল। সে র...

গুরুর কপালে ভাঁজ

মাস্টার দীনবন্ধু পাল। বয়স সত্তর ছুঁইছুঁই। স্থানীয় হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত অঙ্কের স্যার। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, হাতে পুরনো ছাতা। এই ছাতা আর চশমাই তাঁর কালের সাক্ষী। কপালের ভাঁজগুলো সময়ের দলিল। *১৯৭৫ সাল।*   ক্লাস টেন। দু-তিনজন পড়া শেখেনি। স্যারের বেতের বাড়ি খেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি গেল। মা-বাবাকে বলার সাহস হয়নি। যে বলল, সে আরও কিছু উত্তম-মধ্যম খেল। পরদিন সবাই পড়া শিখে হাজির। স্যার চরিত্র আর নীতিশিক্ষায় জোর দিতেন। ক্লাসে বলতেন, “যত বই পড়বি, তত শিখবি। স্কুল লাইব্রেরি আছে, অবসরে রেফারেন্স বই, গল্প-উপন্যাস পড়বি।” ছাত্ররাও তাই করত। ক্লাসের ফার্স্ট বয় নিখিলেশ। অঙ্কে ২ নম্বরের জন্য লেটার মিস। রেজাল্টের দিন হেডস্যারের ঘরে স্যারের পা জড়িয়ে কেঁদেছিল, “স্যার, আপনার মান রাখতে পারিনি।” স্যার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছিলেন, “মান-অপমান রেজাল্টে না রে, চরিত্রে। যা গেছে ভালোই হয়েছে। এবার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাব, সেটা আরও ভালো হওয়া চাই।” একদিন বাজারের পথে দুই ছাত্র সাইকেল থেকে নেমে স্যারকে প্রণাম করল। কুশল জিজ্ঞেস করে, স্যার চোখের আড়াল হতেই আবার সাইকেলে উঠল। আরেক বিকেলে স্যারের হাতে মাছের ব্যাগ দেখে নিখিলেশ...

সাধু সাধু

বলছে কথা ঘটক এসে  কনের দাদু শুনছে হেঁসে, 'বিয়ে করবে হাদুর ছেলে  এমন বরটি কোথায় মেলে। হাঁড়ি যেমন মুখটি তাহার  হাঁসের মতোই করে আহার, যদিও সে বেকার ছেলে  বাবার বেতন মাসে মেলে। নেশা করে পাগল সাজে  হুঁস থাকে না নিজের কাজে, মাঝেমধ্যে জুয়া খেলে কয়েকবার সে গেছে জেলে। দেখতে যদিও হয় সে কালো  তবুও ছেলে অনেক ভালো, আছে বাবার কোটি টাকা  দানের বেলায় পকেট ফাঁকা।' সবটা শুনে কনের দাদু  বলে উঠেন 'সাধু সাধু, ' যতই যাও গল্প গেয়ে  এমন পাত্রে দেবোনা মেয়ে।  চরিত্র হীন তোমার পাত্র  শুনে আমার জ্বলে গাত্র, যাও ঘটক অন্য বাড়ি  খোঁজো সেথা রাজকুমারী। আমার নাতনি যদিও কালা পাবো যে বর বেজায় ভালা, রাঁধে বাড়ে লক্ষী হয়ে  সংসার রাখে গুছিয়ে লয়ে।'

স্বভাব পাল্টায় না

ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে এক উঁচু টিলার গর্তে বাস করত এক শিয়াল। তার স্বভাব ছিল চুরি করা। হাঁস চুরি, মুরগি চুরি, এমনকি দিনদুপুরে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছাগলকেও ধরে নিতে তার বাধত না।     গ্রামের লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে শিয়াল টিকে ধরার ফন্দি ফিকির করতে লাগল।  একদিন গ্রামের লোকজন শিয়ালকে ধরে ফেলল। সবাই মিলে ঠিক করল, ‘এই চোর শিয়ালকে আজ ভালো করে সাবান দিয়ে স্নান করাব। গা থেকে চুরির গন্ধ দূর হলেই ওর স্বভাব পাল্টে যাবে।’ যেই কথা সেই কাজ। লাইফবয়, লাক্স, ডেটল—তিন পদের সাবান দিয়ে শিয়ালকে এমন ঘষা ঘষলো যে শিয়ালের লালচে লোম ঘষার চোটে সাদা হয়ে গেল। গায়ে আতর মাখিয়ে, নতুন ফতুয়া পরিয়ে তাকে মৌলবির কাছে নিয়ে তওবা পড়ানো হলো।  শিয়াল কেঁদে কেঁদে বলল, “আজ থেকে আমি ভালো হয়ে গেলাম। চুরি ছেড়ে দিলাম। কসম, আর জীবনে চুরি করবো না।' গ্রামবাসী খুশি। শিয়ালকে মসজিদের পাশে একটি কুঁড়ে ঘরে থাকতে দিল, দুবেলা খেতে দিল। তিনদিন সব ঠিকঠাক। চারদিনের দিন রাতে ফজরের আজানের আগে পাশের বাড়ির মুরগি খোয়াড়ে হুলস্থুল। সবাই ছুটে গিয়ে দেখে, শিয়ালের মুখে মুরগি, আর সে দৌড়ে জঙ্গলের দিকে পালাচ্ছে। ধরতে গেলে সে পেছন ফিরে বলে গেল, “ভাইসব...

প্রতিবেদন

মেট্রিক পরীক্ষার ফলাফল—সরকারি বনাম বেসরকারি স্কুলের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ: সদ্য প্রকাশিত মেট্রিক পরীক্ষার (CBSE এবং SEBA) এর ফলাফলে দেখা গেছে, সার্বিক পাসের হারে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা সরকারি স্কুলের তুলনায় কিছুটা এগিয়ে। পরিসংখ্যানের এই খণ্ডচিত্র দেখে অনেকেই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে বেসরকারি স্কুল মানেই উন্নত শিক্ষা। এদের বদ্ধমূল ধারণা যে সরকারি স্কুলে পড়াশোনা হয় না। কিন্তু ফলাফলের গভীরে গেলে চিত্রটি ভিন্ন কথা বলে। ১. শিক্ষার্থীদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট:- সরকারি স্কুলের মূল শক্তি তার সর্বজনীনতা। এখানে মূলত সমাজের প্রান্তিক অংশের ছেলেমেয়েরা পড়ে—দিনমজুর, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও গৃহশ্রমিক পরিবারের সন্তান। এদের বড় অংশকেই গৃহস্থালির কাজ, মাঠের কাজ বা ছোটখাটো রোজগারে পরিবারকে সাহায্য করতে হয়। নিয়মিত ক্লাস করা, পড়াশোনার জন্য যথেষ্ট সময়ের অভাব বা রাত জেগে পড়ার সুযোগ এদের প্রায় নেই। অভিভাবকদের একটা বড় অংশ নিজেরাই স্বাক্ষরজ্ঞানহীন, ফলে পড়াশোনার তদারকি হয় না। এই শ্রেণীর অভিভাবকদের আরও একটা ধারণা থাকে পড়াশোনা করে শিক্ষিত হলেও টাকার অভাবে তাদের চাকরি হবে না। এই ভুল ধারণার কারণে তারা ছে...

স্ক্রিনের এপার ওপার

এক খাট, এক কম্বল, মাঝখানে দুইটা মোবাইল—আলম  আর সুহানার সংসার।   বিয়ের সাত বছর। শুরুতে বালিশে মাথা রাখলেই গল্প হতো। এখন আলম অফিসের মেইল চেক করে, ফেইসবুক চালায়। সুহানা ওদিকে ফিরে স্ক্রিনে আঙুল চালায়। প্রথমে আলম ততটুকু গুরুত্ব দেয়নি। হয়তো সহকর্মীদের সাথে কথা বলছে, না হয় মেয়েদের গ্রুপ, কী আর হবে? তারপর একদিন রাত দুটোয় ঘুম ভেঙে দেখে—সুহানার ঠোঁটে হাসি, চোখ মোবাইলে। টাইপ করছে, ডিলিট করছে, আবার টাইপ করছে।   “কার সাথে কথা?”   “কেউ না। ঘুমাও।”   স্ক্রিন উল্টে বুকের নিচে রাখল সুহানা। সন্দেহটা সেদিনই জন্ম নিল। আলমের ঘুম কমে গেল। রোজ রাতে খাবার পর এরকমই চলে। স্বামী একপাশে স্ত্রী অন্য পাশে। আলম মুখটা ঘোরাতেই সুহানা মোবাইল মুঠোর মধ্যে শক্ত করে ধরে সরিয়ে নেয়।  সুহানা কার সাথে চ্যাটিং করে? ফোনে লক, হোয়াটসঅ্যাপে লক, গ্যালারিতে লক। এক খাটে শুয়েও দুজনের মাঝে পাসওয়ার্ডের দেওয়াল।      এক শুক্রবার রাতে সুহানা বাথরুমে গেলে ফোন টেবিলে পেল—আনলক। নোটিফিকেশন ভাসছে: “তোমার হাসিটা মিস করছি, জান”। নাম সেভ করা ‘তুলি আপু’।   আলম স্ট্যাটাস...

দরজার ওপার

ব্যবসায়ী সালাম সাহেব গ্রামের সবচেয়ে বড় মহাজন। স্বল্প দিনের মধ্যে তিনি টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছেন, কিন্তু এতোই কৃপণ ছিলেন যে নিজে না খেয়ে না পরে শুধুই রুজি রোজগারে জীবন কাটাচ্ছেন। টাকা ছাড়া মানুষ চিনতেন না।   পাশের বাড়ির তার এক অতি নিকট আত্মীয় রফিকুল একদিন মেয়ের বিয়ের ব্যপারে অসহায় হয়ে কিছু টাকা ধার চাইতে এল। সালাম সাহেব দরজা থেকেই তাড়ালেন, “তোর মতো মানুষের আবার বিয়ে! মেয়ে যার পছন্দ হয় তাকে বল নিয়ে যেতে। টাকার দরকার কি, আমার কাছে টাকা নেই, যতসব!" বলেই ঘরে ঢুকে গেলেন।  তার এহেন ব্যবহারে রফিকুল কেঁদে ফিরে গেল।     দেখতে দেখতে দশ বছর কেটে গেল। সালাম সাহেবের একমাত্র ছেলে বিদেশে অ্যাক্সিডেন্ট করল। চিকিৎসায় সব জমি-বাড়ি বেচতে হলো। শেষে ছেলেটাও বাঁচল না।   নিঃস্ব সালাম সাহেব এখন মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করেন।  এক সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে হঠাৎ তার মনে পড়লো রফিকুলের কথা। চেয়ে দেখেন পাশে ইয়া বড়ো দুতলা বিল্ডিং। এ জায়গাটা যেন চেনাই যায় না। পিপাসায় তখন তার কণ্ঠ শুকিয়ে কাঠ। সাহস করে ঢুকে পড়লেন...

শিশুর জীবন

পিঠের ব্যাগে বইয়ের বোঝা  বয়স যখন তিন, এই শিশুটির বাকি জীবন  ক্যামনে যাবে দিন। হাঁটা শিখতেই কাঁধের ভরে ন্যুব্জ হয়ে পড়ে, হতাশা আর বিষন্নতায়  বই পুস্তকে লড়ে। যে সময়ে মা'র কোলে  আদর সোহাগ পাবে, সে সময়ে এই শিশুটা  পড়ার চাপে কাঁদবে। চলছে সবাই এমনি ধারায়  কুকুর দৌড়ের খেলা, চাপের মাঝেই শিশুর জীবন  করোনা ভাই হেলা। একই কথা সবার মুখে  রেজাল্ট ভালো চাই, স্কুলে ঘরে কোথাও যেন  শিশুর শান্তি নাই। ক্লাসে প্রথম হতে হবে  সবার একই সুর, অভিভাবকের বায়নাতে আজ  শিশুর জীবন চূর।

নববর্ষের প্রাতে

শুকনো বাতাস উড়ায় ধুলো চৈত্র মাসের শেষে,   ঝরা পাতার বিদায় দিয়ে বৈশাখ আসে হেসে। ঝড়ের শঙ্কা বাজায় ডঙ্কা,বৃষ্টি ভেজায় মাটি,   মন খুশিতে কৃষক নাচে ফলবে ফসল খাঁটি। পাতা গজায়, মুকুল ছড়ায়,গাছগাছালি হাসে,   সবুজের এই সমারোহে মন আনন্দে ভাসে। পুরানো ক্ষত নতুন আশা চলছে একই রথে, বছর বছর আসে আর যায় জীবন চলে পথে। নববর্ষের খুশির আবেশে পুরাতনকে কে মনে রাখে? বছর শেষের কথকতা ডায়েরিতে ধুলো মাখে। প্রিয়জনকে হারিয়ে কেউ পেয়েছে নতুন ঠিকানা, কারো স্বপ্ন সফল হয়েছে কারো জুটেছে কান্না! বিগত দিনের হিসেব-নিকেশ খুঁজবে আপন মনে,   ভুল-ত্রুটি সব শুদ্ধ হবে নতুন দিনের সনে। সবার সাথে মিশবো সবাই, চলবো একই সাথে,   সবাইকে জানাই শুভকামনা নববর্ষের প্রাতে।  

অবেলায়

বৈশাখেতে মেঘে ডাকে  গুড়ুম গুড়ুম করে, সানাই বাজে টিনের 'পরে বৃষ্টির ফোঁটা পড়ে। বিজলী চমকায় ঝিলিক-মিলিক  মেঘ-কুমারীর বিয়ে, ফুল-পরিরা আসছে সেথা  হিমের নুপুর নিয়ে। ঝড়ো হাওয়ায় বর আসছে  সাতটা রং মেখে, আড়াল থেকে সূর্য হাসে  বিয়ের আসর দেখে। আলো হাতে চাঁদের বুড়ি  আসছে সবার মাঝে, মেঘ বালিকার মনটা খারাপ  কাঁদছে বসে লাজে। অঝোর ধারায় বৃষ্টি হওয়ায় পশু-পাখি কাঁদে, এই অবেলায় কোন অভাগা  পড়ে বিয়ের ফাঁদে।

জ্ঞানের আলো

জ্ঞানের আলো এই ধরাতে   সবার চেয়ে সেরা,   অজ্ঞানীদের জীবন শুধুই   আঁধারেতে ঘেরা। সৎকর্ম আর সৎ ভাবনায়   এগিয়ে চলো ভাই,   অসৎ কর্মে জীবন নষ্ট—   বাঁচার উপায় নাই। ঝড়-ঝঞ্ঝা আসুক যতই,   সাহস রেখো মনে;   আঁধার সদাই দূর হয়ে যায়   আলো বাড়ার সনে। চিরদিন তো কারও ভবে   থাকে না অমানিশা;   আস্থা রেখো নিজের ’পরে,   পাবে পথের দিশা। হতাশাকে দূরে ঠেলে   এগিয়ে চলো পথে;   ন্যায়ের পথে অটুট যারা,   সফল জীবন-রথে।

স্বপ্ন

মা বাবার এক আদরের মেয়ে  নামটি তাহার বন্যা, হাসিখুশি সদাই থাকে   সে যেন এক রাজকন্যা। মেয়ে হলেও মা বাবা তার  হেলা নাহি করে, সঠিক শিক্ষায় বড় হতে  বই কে আপন করে। মা বাবার সে সেবা করে  পড়ার ফাঁকে ফাঁকে, জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখে  মনে ছবি আঁকে। মনে মনে শপথ করে  হবে একদিন ডাক্তার, পড়াশোনা চালিয়ে যায় স্বপ্ন হয় সাকার।   সমাজটাকে দেখিয়ে দিল থাকে না যেন বৈষম্য, পিতামাতার সুখের তরে  একটা মেয়েই কাম্য।

বিল্লি মাসি

বিল্লি মাসি সাবাড় করে রোজই কত পাখি, লুকিয়ে থেকেও প্রাণ বাঁচে না উজ্জ্বল তার আঁখি। সুযোগ পেলেই দেয় সে থাবা নরম ছানার গায়ে, ভায় দেখিয়ে হাঁটে পাড়ায় গোঁফটা উঁচু বাঁয়ে। মিটিং মিছিল প্রতিবাদে উত্তাল সারা দেশটা, পাখিরা সব জোট বেঁধেছে দেখে নেবে শেষটা। বসল মিটিং গাছের ডালে আসল সকল পাখি, কাক করেছে নিমন্ত্রণ কেউ রইল না বাকি। এল শালিক, ফিঙে, দোয়েল আর ময়না টিয়ে, ঈগল, বক, মাছরাঙা এলো খাবার নিয়ে। ময়ূর এল পেখম তুলে,সারস তার সাথে, রফা-দফা হবে আজ, সন্দেহ নেই তাতে। বাবুই- কোকিল ব্যস্ত সবাই আসছে না এই ক্ষণে,  পেঁচা আর কোন্দা ভয়ে লুকিয়ে রইল বনে। চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে আসলে এবার টুনটুনি আর বুলবুলি, আজই তাদের বাচ্চাগুলো সাবাড় করল বিল্লি। মিটিং মিছিল চলল এবার সাহস নিয়ে মনে, কোনো সমঝোতা হবে না আর বিল্লি মাসির সনে। কেউ বলছে ধরবে ঘাড়ে, কেউবা বলছে লেজে, কেউবা আবার চেঁচিয়ে বলছে, মারব বারুদ সেজে। বাজপাখি এসেই বলে ধরবো তাকে ধ্যানে, পাখ-পাখালির কিচিরমিচির গেল মাসির কানে। এগিয়ে এসে গোঁফ উঁচিয়ে যেইনা "ম্যাও" ডাকে, অমনি সবাই প্রাণ বাঁচাতে পালাও পালাও হাঁকে।

সফল যারা হয়

পারবে কি মন শীত সকালে  বরফ জলে হাঁটতে, ফুটপাতের ওই শিশুর মতো খালি গায়ে থাকতে। পারবে কি তুই মোমের মতো  পরের তরে জ্বলতে, পারবে কি তুই সারা জীবন  সত্য পথে চলতে। পারবে কি তুই পাহাড় সম  মনটা বড়ো করতে, পরের তরে জীবন দিয়ে  পরের তরে লড়তে। এসব কথায় ভয় পেয়ে তুই  পালাস কেন দূরে, হেরে যাওয়ার হতাশা তো  থাকবে হৃদয় জুড়ে। ঝেড়ে ফেল ওই হতাশাটা  ভয় তো সবার থাকে, সফল যারা হয় এ ধরায় জীবন বাজি রাখে।

দাদুর কাণ্ড

রসের হাঁড়ি ফোকলা দাদুর  অভাবের সংসার, তবু থাকে সর্বক্ষণ হাসি মুখটি তার। কষ্টেসৃষ্টে চলে জীবন  চায়না বেশি কিছু, পেশির গরম দেখায়না সে থাকে মাথা নিচু। শোকের মাঝে সুখের হাসি  শিশিরে টলমল, দাদুর গল্পে মিশে থাকে  মিষ্টি রসের ছল। দিবালোকে স্বপ্ন দেখে  পরীর দেশে যায়, মন খুশিতে কাজের ফাঁকে  গুনগুন গান গায়। শীত গ্রীষ্ম সমান চলে  বারান্দাতে বসে, ফাঁকা দাঁতে পান চিবোতে  গাল বেয়ে যায় রসে। হাসতে হাসতে নাতি নাতনি  দেখে দাদুর কাণ্ড, পানের রসে দাদুর ধুতি  হয় যে লণ্ডভণ্ড।

হাঁটতে পথে

খোকন সোনা স্কুল যাবে  রাস্তায় ভিড় ভারি, কখন জানি কি হয়ে যায়  ক্যামনে দেবে পাড়ি। এপাশ থেকে ওপাশ যেতে  গাড়ি চাপার ভয়, নিয়ম কানুন না জানলে  হবে জীবন লয়। তাইতো বলি এসো খোকা  থাম একটুখানি, রাস্তা ঘাটে চলাফেরার  নিয়ম নীতি জানি।  হেডফোনে গান বাজালে  শুনবে না তো হর্ণ, একটু ভুলেই থেমে যাবে  হৃদয়ের স্পন্দন। হাঁটার সময় বাঁয়ে হাঁটো  ফুটপাত টা খুঁজো, নিয়ম মানলে বাঁচবে জীবন  সেই কথাটা বোঝো। ট্রাফিক সিগন্যাল দেখে চলো এদের অর্থ বোঝো, ডানে বাঁয়ে তাকিয়ে দেখো জেব্রা ক্রসিং খুঁজো। লাল বাতিতে থামতে হবে  হলুদে প্রস্তুত হও, সবুজ বাতি জ্বাললে পরে  রাস্তা পার হও।

খুঁজি মাগফিরাত

পাপী উম্মত উদ্ধারিতে কাঁদে নবীর প্রাণ, তাইতো ধরায় নাযিল হয় পবিত্র কোরআন। যাহার মাঝে নিহিত আছে মুক্তি পাওয়ার দিশা, তওবা কর ইবাদত কর দূর কর অমানিশা। ত্যাগ ও সংযমের মাস পবিত্র এ রমজান,  শেষ দশে তার নাযিল হয় পবিত্র কোরআন। নবী বলেন ' খুঁজো সে রাত মুক্তি পাওয়ার তরে, তাইতো মুমিন শুদ্ধ চিত্তে কদর তালাশ করে। হাজার রাতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ কদরের এক রাত, এসো সবে হাত জোড় করে খুঁজি মাগফিরাত। পাপে তাপে ডুবে গেছি ওহে মালেক সাঁই, তোমার করুণা ছাড়া মুক্তি পাবার নাই। রহমতের দরজা খুলে পবিত্র এই রাতে, দোয়া কবুলের রাত এ যে সন্দেহ নেই তাতে। নসিব হোক কদরের রাত দূর হোক যত ভ্রান্তি, নিয়ে আসুক সবার জীবনে শান্তি ও মুক্তি।

কদরের রাত

পাপী উম্মত উদ্ধারিতে কাঁদে নবীর প্রাণ, তাইতো নাজেল হয় পবিত্র কোরআন। যাহাতে নিহিত আছে মুক্তির দিশা, তওবা কর ইবাদত কর কাটাও অমানিশা। ত্যাগ ও সংযমের মাস পবিত্র রমজান, তার শেষ দশে নাজেল পবিত্র কোরআন। হাজার রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কদরের এক রাত, হাত জোড় করে সবে খুঁজি মাগফিরাত। পাপে তাপে ডুবে গেছি ওহে মালেক সাঁই, তোমার করুণা ছাড়া মুক্তি তো নাই। রহমতের দরজা খুলে পবিত্র এ রাতে, দোয়া কবুলের রাত এ যে সন্দেহ নেই তাতে। নসিব হোক কদরের রাত দূর হোক যত ভ্রান্তি, নিয়ে আসুক সবার জীবনে শান্তি ও মুক্তি।

নবীর শানে ( ইসলামী সংগীত)

সারা জীবন গেল আমার দিন দুনিয়ার টানে, কি নিয়ে দাঁড়াব আমি হাশরে মিজানে।।২ মত্ত হইয়া ভবের হাটে, ভুলে রইলাম আখেরাতে, পারের কড়ি কিছুই কিনলাম না । পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে, পার হইব কেমনে। কি নিয়ে দাঁড়াব আমি হাশরে মিজানে। সারা জীবন -------------------------------------।। ধন দৌলত আত্মীয় স্বজন, সঙ্গে কিছুই যাবে না , পাপ পুণ্যের সঙ্গের সঙ্গী, কেউ তো আমার হবে না, এখন ভাবি কেন রইলাম,  মিছে মায়ার বন্ধনে। কি নিয়ে দাঁড়াব আমি হাশরে মিজানে। সারা জীবন ------------------------------------।। শাফায়াতের কাণ্ডারি নবী, দু জাহানের বাদশা যিনি,  দিবেন কাউসারের পানি, তাঁহার নামে দরুদ পড়ি, মাফ চাইলে মাফ করিবেন, বলছেন কোরানে। কি নিয়ে দাঁড়াব আমি হাশরে মিজানে।। সারা জীবন -------------------------------------।।

ক্ষমা করো হযরত

অশান্ত পৃথিবীর শান্তির দূত  হে নবী হযরত! তোমার কারণে সৃষ্টি এ ধরা  খুঁজি তব রহমত, ক্ষমা করো হযরত। সংসার মোহে ডুবেছি আঁধারে  দেখিনি সঠিক পথ, লোভে লোভাতুর বাসনা কামনায়  ভুলে গেছি তব মত, ক্ষমা করো হযরত। মুক্তির বার্তা এনেছিলে তুমি  দীর্ঘ সাধনা করে, স্রষ্টার সে আরাধনা সৃষ্টির সেবা  মম অধরা অবনী পরে। ভাবনাতে মরি কে ধরিবে তরী তুমি বিনে নাহি পথ, ক্ষমা করো হযরত। জীবন সায়াহ্নে কেঁদে মরি হায়  যেতে হবে পরপার, দাঁড়াবো কেমনে প্রভুর সামনে  আমি পাপী গোনাহগার। শেষ বিচারের কাণ্ডারি তুমি  চাই তব রহমত, ক্ষমা করো হযরত।

হোলি

প্রকৃতিতে রং লেগেছে  কী অপরূপ সাজ, চারিদিকে রঙের খেলা  শুভ হোলি আজ। শিমুল পলাশ রঙে রাঙা  রঙিন অলিগলি, ছেলে মেয়ে নারী পুরুষ  খেলছে সবাই হোলি। লাল আবিরে আকাশ বাতাস  মুখরিত পাড়া, উঁচু নিচু ধনী গরিব  পাই যে সবার সাড়া। সব জড়তা কাটবে এবার  রঙের নেশার ঘোরে, একে অন্যে আপন করে  বাঁধবে প্রেমের ডোরে। রঙের উৎসব নয়তো শুধু  আবির নিয়ে খেলা, সম্প্রীতি আর ভালোবাসার এ যেন এক মিলন মেলা। প্রীতি প্রেমের রঙে যদি  সাজাতে পারি মন, সবাই মিলে গড়বো আবার  সুন্দর এ ভুবন।

বাংলার হাটে

বসন্তের আগমনে পাখিকুল গায়, নীলাকাশে সাদা মেঘ ভাসিয়া বেড়ায়। পাতা ঝরা গাছপালা কুঁড়ি নিয়ে জাগে, তাই দেখে কবিগন পড়ে অনুরাগে। মড়মড় ধ্বনি দিয়ে পাতা উড়ে যায়, গাছপালা তরুলতা মেঘের আশায়। ফুল ফোটে শাখে শাখে মন ভরে দেখি, জ্যোৎস্নায় বালুচর করে ঝিকিমিকি। প্রকৃতি সুন্দর রূপ সুশোভিত লাগে, তাইতো সবার মনে প্রেম প্রীতি জাগে। সমীরণে ভেসে থাকে ফুলের সুবাস, তারি ঘ্রাণে দোলা দেয় মনের আবাস। রাখালিয়া আনমনে বাঁশরী বাজায়, রমণীরা নদী ঘাটে জল ছলে যায়। পথ পাশে উড়ে যায় ধূলা রাশি রাশি, ফোটা ফুলে মাছি করে গুঞ্জন হাসি। কোকিলের কুহু রবে মুখরিত পাড়া, কৃষকের কাজ নেই নেই কোন তাড়া। পাঠ শেষে শিশুগণ খেলা করে মাঠে, অপরূপ রূপ দেখি বাংলার হাটে।

বসন্তের ছোঁয়া

শীতের হাওয়া বিদায় নিয়ে  ফাগুন এলো দোরে, সুখ বসন্তের ছোঁয়া পেয়ে  কোকিল ডাকে ভোরে। পাতা ঝরা গাছের ডালে  নতুন কুঁড়ি ভাসে, ফুলে ফুলে মৌমাছিরা  গুনগুনিয়ে হাসে। প্রেমের ছোঁয়ায় মত্ত সবাই  ফাগুনের এই বেলা, শালিক দোয়েল কোকিল ডাকে  বসায় প্রেমের মেলা। নীলাকাশে মেঘের ভেলা  ছুটে হাওয়ায় ভেসে, নদীর ঘাটে রমনীরা  যায় যে এলো কেশে। রাখালিয়া বাজায় বাঁশি  মাঝি ভাসায় তরী, প্রকৃতির এই রূপের জাদু  দেখি নয়ন ভরি।

বাংলাই মধুর ভাষা

মায়ের ভাষার প্রহরী হয়ে  ভাঙল যারা শিকল বেড়ি,  তাঁদের স্মরণে ফিরে এল আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। রক্তের দামে কিনেছে ওঁরা  বাংলা বর্ণমালা, তাইতো আজ জ্বালিয়ে প্রদীপ  সাজাই ফুলের ডালা। স্মরণ করি তাঁদেরে আজ  প্রতি ঘরে ঘরে, মাতৃভাষা বাংলা মোদের  গর্বে হৃদয় ভরে। রক্তে রাঙানো বর্ণমালা  হাসে যে সকাল সাঁঝে, সালাম বরকত রফিক জব্বার  এই আমাদের মাঝে। বিশ্বের বুকে খুঁজে ফিরে দেখ  বাংলাই মধুর ভাষা, এ ভাষার মান থাকবে অটুট  এইটুকু মনে আশা।

প্রতীক

প্রেমের ভাষা বুঝে না যে মন প্রেমিক হয়ে দেয় সে সাঁড়া, চৌদ্দই ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস  থাকে যে সবাই মাতোয়ারা। লাল পাপড়ির মাঝে লুকিয়ে থাকে  অবুঝ মনের ভালোবাসা যে, আজ কেবলই গোলাপের কদর  ভালোবাসার প্রতীক সে যে। গোলাপের মতো রঙিন জীবন  আনমোল প্রতিটি ক্ষণ, প্রেমের জোয়ারে ভেসে যায় তারা  অবুঝ তো বুঝে না দিনক্ষণ। ভালোবাসার মাহাত্ম্য না বুঝে  ঝরে যায় যত কলি, নিজেকে বিলিয়ে অসহায় কত এমন একটা দিনের বলি। কাঁটা ঘেরা গোলাপ শুকিয়ে গেলে  বসে না যে অলি তায়, বুঝে নিতে হবে সে গোলাপ শুধু  ক্ষণিকের তরে শোভা পায়।

টক ঝাল মিষ্টি

ছোট ছেলে মাকে বলে যাবে মামা বাড়ি, 'মাগো তুমি পরে নাও টুকটুকে শাড়ি। মামা বাড়ি কত মজা আছে কত ফল, সেই সব মনে হলে মুখে আসে জল। পড়াশোনা কিছু নেই ঘুরি সারাবেলা, কাঁচা পাকা ফল খেয়ে কেটে যায় বেলা। লাগবে না ভাড়া মাগো পায়ে হেঁটে যাব, ছিপ দিয়ে মাছ ধরে ভাজা করে খাব। মাসি সাথে খাব সেথা টক ঝাল মিষ্টি,  নাইবো দুজনে মিলে, আসে যদি বৃষ্টি। মুড়ি ভাজা লাড্ডু খাবো বিকালের বেলা, কভুও করে না তারা আমাকে যে হেলা। আম জাম পেঁপে মিঠা আছে আনারস, গুঁড়ি দিয়ে পিঠে পুলি খেজুরের রস। নানী এনে মিঠে কলা দেয় দুধভাতে, পাশে শুয়ে রূপকথা শুনবো যে রাতে।' বলতে বলতে তার চোখে আসে জল, জ্বেদ ধরে মাকে বলে 'যাবে কি না বল?' 'পড়াশোনা আছে বাবা পূজো এলে যাবে,  বন্ধে তে মামার বাড়ি সবকিছু পাবে।'  

আমার লেখা গানে

হিফজুর রহমান লস্কর ঘুরলাম কত শহর বন্দর  শূন্য হৃদয় নিয়ে, আসেনি কেউ বেঁধে নিতে  প্রেমের পরশ দিয়ে। তোমার সাথে প্রথম দেখা  গঙ্গা নদীর তীরে, হৃদয় আমার কেড়ে নিয়ে  চলে গেলে ধীরে। ভাগ্যের জোরে দেখা পেলাম  ত্রিশটি বছর পরে, মতির হার শুকিয়ে গেছে  তোমায় স্মরণ করে। কেমন করে ভুলবো আমি  সেই সে মিষ্টি হাসি, তাইতো সদাই সঙ্গী আমার  পোড়া বাঁশের বাঁশি। পাই কিনা পাই তোমায় আমি  বাঁশীর সুরের টানে, হাজার বছর থাকবে তুমি  আমার লেখা গানে।

পূণ্যময় এ রাতে

চৌদ্দই শাবান এলো ফিরে  পূণ্যময় এক রাত, নামাজ পড় রোজা রাখ খুঁজো মাগফিরাত। স্রষ্টা জানি ভাগ্য লিখেন  পূণ্যময় এ রাতে, পূণ্যের ভাণ্ডার শূন্য আমার  ডাকছি খালি হাতে। মোহ মায়ায় মত্ত হয়ে  দিনের পর দিন যায়, তোমার সেবায় আরাধনায়  পাইনি সময় হায়! পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে  করছি শির আজ নত, ক্ষমা করো ওহে দয়াল  দাওগো পূণ্য যত। কাতর স্বরে ডাকি প্রভু  শবেবরাতের এ রাতে, আমার নামটা থাকে যেন  পূণ্যবানের সাথে।

দীর্ঘতম সেতু

শিরোনামঃ মিলন সেতু  রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -২৮/০১/২০২৫ মনেতে মানুষ স্বপ্ন সাজায়  সুখের স্বপ্ন আঁকে, জোড়বে কি কভু ভাঙা হৃদয়  ভাবনার মাঝে থাকে। ঘুচিয়ে আঁধার ফুটবে কি আলো জীবন চলার রথে? হাজার মনের স্বপ্ন আশা  পূরণ হওয়ার পথে।  এপার থেকে ওপার উনিশ কিমি  মাঝেতে নদীর ঢেউ, ধুবড়ি ফুলবাড়ী মিলন সেতু  বিশ্বাস করেনি কেউ! স্বপ্ন হলেও সত্যিই বটে   দেখলাম নিজের চোখে,  চলছে কাজ জোর কদমে  সুখের পরশ মেখে। পনেরো মিনিটে যাবে ছয় ঘণ্টার পথ বাঁচবে সময় বেশ, হচ্ছে ভারতের দীর্ঘতম সেতু  কাটছে দুঃখের রেশ। যোগাযোগ ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বে  বাড়লো দেশের মান, ইতিহাসের পাতায় প্রথম দশে  এশিয়াতে পাবে স্থান। লোহা কংক্রিটের নির্মিত সেতু দাঁড়িয়ে থাকবে ঠায়, লঞ্চ ও নৌকার যাতায়াত দৃশ্য  থাকবে স্মৃতির পাতায়।

দেহের কারিগর

  দেহেরি ভিতর আছে কারিগর  বুঝে নিতে হবে ভাই , মহলের মত নয়টি দরজা  এঁটে দিয়েছেন সাঁই। এদেহ রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরী  পাঁচ জন থাকে কাছে, মোতির মালাটি ছিনে নেয় কেউ  কার সে সাধ্য আছে! ছয় ডাকাতে বুদ্ধি করে সদা  কেমনে ধ্বংসিবে রসে, তাইতো তারা কুমন্ত্রণা দেয়  দিবানিশি পাশে বসে। এদের প্রভাবে প্রভাবিত হলে মানবতা পায় লোপ, সততা হারায়ে কুকর্ম করে  বদলায় তার রূপ। সাধক যারা করে আরাধনা  রাখেন এদেরে বশে, তখনি ডাকাত অশান্ত হয়ে  পালাবার অঙ্ক কষে।

যায়না তো ভুলা

  শিরোনামঃ যায়না তো ভুলা  কলমে হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ ২৯/১১/২০২৫ বসে যবে বাতায়নে         লিখে যাই আনমনে                আঁখি পাতা ভারী হয়ে উঠে। লিখিব যাহার কথা        মনে এলে পাই ব্যথা                 কলমেতে কথা নাহি ফুটে। ছিল সে যে সুনয়না         এক অনন্য ললনা                 ভালোবেসে এসেছিল তায়। নামটা ছিল যে রেখা       নদীতীরে পাই দেখা                    সূর্যাস্তের রঙিন আভায়। বলেছিল পাশে বসি      দিল খোলে ভালোবাসি                      স্বর্ণালী সেই সন্ধ্যায়। কোথা থেকে ঝড় এসে    ছিনিয়ে নিল যে শেষে                      চেয়ে দেখি আমি একা তায়। বহুদিন হয়ে গেছে...

সন্তান

  শিরোনামঃ সন্তান  কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ -১৪/১১/২০২৫ শ্যামলাল ফোকলা দাদুর  কর্মক্ষম ছেলে, নিজ ছেলেকে মানুষ করতে  যায় বাবাকে ফেলে। শহর গিয়ে সফল হলো ছেলে হলো ডাক্তার, পথের কাঙাল ফোকলা দাদু  খবর নেয়নি আর। দিন যায় ক্ষণ যায়  ছেলে সুখী ভবে, ফোকলা দাদু চেয়ে আছে  ছেলে আসবে কবে। শ্যামলালের ডাক্তার ছেলে  প্রেমে মজে তায়, বিয়ে করে বৌকে নিয়ে  মাদ্রাজ চলে যায়। স্বপ্ন শ্যামের সফল হলো  ডাক্তার হলো ছেলে, ঔষধ কেনার পয়সা নেই  ছেলে গেল ফেলে। মা বাবাকে ভুলে সবাই  ছেলের সুখ চায়, নিজেও একদিন বাবা হবে  সেটা ভুলে যায়। সন্তানের সুখ সব বাবাই চায়  এই পৃথিবীর তলে, 'যেমন কর্ম তেমন ফল ' ইতিহাস কথা বলে। ( রচনাকাল -১৪/১১/২০২৫)

জানতেন যদি আগে

  যার কারণে এই পৃথিবী সৃষ্টি করলেন প্রভু, তারাই আবার ধ্বংস করবে  ভাবেননি তো কভু। মারামারি হানাহানি  চলছে বিশ্ব জুড়ে, এসব দেখে সৃষ্টিকর্তা  লজ্জায় মরেন পুড়ে। সবুজ সুন্দর এই পৃথিবী  সুন্দর রাখার তরে, মানুষকেই শ্রেষ্ঠ রূপে  দিলেন ধরার 'পরে। সৃষ্টি করলেন শ্রেষ্ঠ রূপে  হায়রে মানব জাতি, লোভ লালসা হিংসায় কেন  থাকে আঁচল পাতি। শ্রেষ্ঠ মানব দানব হবে  জানতেন যদি আগে, পশুকেই শ্রেষ্ঠ করতেন  সোনার কুসুম বাগে।

মানুষকে বাসো ভালো

  শিরোনামঃ মানুষকে বাসো ভালো  কলমে:হিফজুর রহমান লস্কর  তারিখ: ১৯/১১/২০২৫ জ্ঞান বুদ্ধিতে শ্রেষ্ঠ মানুষ  জ্ঞানের বহর কই? হিংসা বৃত্তি মনে আছে তব ভাবলে অবাক হই! স্বার্থের তরে অন্ধ হয়েই  হানাহানি করে বাঁচ, মানবতাবোধ কোথায় তোমার  নিজেকে নিয়েই নাচ। গরীব দুঃখী অনাথ আতুর  না খেয়েই মরে পথে, এদের কথাটা ভাবনায় নেই  চলছো সোনার রথে। জাতি ধর্মের বিভেদ ঘুচাতে  সকলে সমান দেখো, এক স্রষ্টার সৃষ্টি সকল কথাটা মনে রেখো। হিংসা বৃত্তি ত্যাগ করে তাই মানুষকে বাসো ভালো, জীবের সেবাই স্রষ্টার সেবা  সেবা করে জ্বালো আলো।