পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দেখে এলাম ওপার বাংলা ধারাবাহিক ভ্রমণ কাব্য পর্ব -০৪)

দেখতে যাব চললাম এবার শাহ পরানের মাজার, যেতে হবে খাদিম নগর আট কিলোমিটার আর। শহর জুড়ে দেখলাম অনেক ঐতিহাসিক স্থান, সিলেটের আনারসে জুড়িয়ে যায় প্রাণ। শহর ঘুরে দেখছি যত ভাবছি আরো বেশ, অতিথি সেবা ও বাঙালিয়ানায় সেরা বাংলাদেশ। প্রবেশ পথে দেখতে পেলাম  ৩৬০ আউলিয়ার নাম, শাহ পরানের রওজা জিয়ারতের পুরলো মনোস্কাম। আরও কিছু মন্দির মসজিদ দর্শন করলাম তায়, ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ  ভুলা নাহি যায়। বৃটিশ বিরোধী জাতীয়তাবাদ আন্দোলন এই মাঠেতেই শুরু, ইতিহাসটা ঘেঁটে দেখ জানতে হলে পুরো। সিলেট শহর এ দুদিন কাটলো সময় বেশ, ঢাকা শহর যাবো এবার চড়লাম লণ্ডন এক্সপ্রেস। সঙ্গীদেরে বিদায় দিয়ে মনটা হলো ভার, সে স্মৃতিটা আজো মনে করে তোলপাড়। (রচনাকাল ০৭/০৬/২০২৩ - ক্রমশ চলবে)

দেখে এলাম ওপার বাংলা (ধারাবাহিক ভ্রমণ কাব্য পর্ব-০৩)

সেদিন সকালে সুরমার তীরে সোনালী সূর্যালোকে, বাংলার রূপ অপরূপ হেরি কথা নাহি ফুটে মুখে। হৃদয় তরঙ্গে বাজে কলধ্বনি নদী তো চলে জীবনবধি, কোথা থেকে এলাম কোথায় বা যাবো খুঁজি সেথা জীবন নদীর গতি। ভাবনাতে ভাটা পড়ে শুনে ওর ডাক, বলে ভাই চল যাই ভাবনাটা রাখ। মনে খুশি দেখবো এবার সাধের বাংলাদেশ, ধন্য যেথা সিলেট ভুমি আউলিয়ার নেই শেষ। ৩৬০ আউলিয়ার শ্রেষ্ঠ যিনি হজরত শাহজালাল, তাঁর অন্যতম সহযোগী হজরত শাহপরাণ। শাহজালালের দরগায় গিয়ে করলাম নামাজ আদায়, সোনালী রূপালী আর গজার মাছ দর্শন করলাম তায়। শুনলাম বসে কত কথা কতো অভিমত, ধন্য হলাম করতে পেরে রওজা জিয়ারত। খেলাম বসে সিলেটী চা রাজশাহী লিচু, আজও সে স্মৃতি গুলো ঘুরে পিছু পিছু।

দেখে এলাম ওপার বাংলা (ধারাবাহিক ভ্রমণ কাব্য পর্ব -০২)

নিয়ে গেল বাপন গোলশান হোটেল সেটাই হলো আস্তানা, কলম সৈনিকদের যোগাযোগ তখনো চলছে একটানা। সবার প্রশ্ন কেমন আছো থাকছো কোথায় রাত, কৃতজ্ঞ চিত্তে বললাম ওদের অনেকেই আছেন সাথ। জনাব নজরুল হাবিবি ও বাণ্টিকে জানাই কৃতজ্ঞতা, তাঁদের লেখনীতে জানলো সবাই আমার আগমন বার্তা। ভোর না হতেই আসলেন সেথা ডাক্তার এনামুল হক ভাই, জড়িয়ে ধরে নিলেন মোদের রেস্টুরেন্ট পাঁচ ভাই। নিজের লেখা "আলোর সন্ধানে" তুলে দিলাম হাতে, খাওয়ার ফাঁকে কত কথা আছে স্মৃতি গেঁথে। স্বল্প সময়ের মিলনে জানি মন ভরে না কভু, কর্তব্য কর্মে যাবেন ভেবে বিদায় নিলেন তবু। স্মৃতি হয়ে রইল শুধু ওদের সে আতিথেয়তা, আর কি কভু দেখা হবে ভাবছি বসে তা! ( ক্রমশ চলবে)

দেখে এলাম ওপার বাংলা (ধারাবাহিক ভ্রমণ কাব্য পর্ব ০১)

দেখে এলাম ওপার বাংলা নিয়ে এলাম হাজারো স্মৃতি, জানা অজানা প্রিয়জন পেয়ে  দেখে এলাম মানব প্রীতি। ভাবি মনে অবাক হয়ে দেখছি না তো স্বপন বাংলার বর্ডারে ফুলতোড়া হাতে দাঁড়িয়ে আছে ফজলুর ও বাপন। উষ্ণ সম্বর্ধণায় গ্রহিল মোদের যেন চির পরিচিত স্বজন, মনে ভাবি শুধু কোথা হতে এল কেমনে জানিল মোদের আগমন? গাড়িতে করে নিয়ে গেল ওরা বাংলার বিয়ানি বাজার, মিষ্টির স্বাদ নিতে হল সেথা সাথে কত কিছু আর। পকেটে নেই বাংলার কড়ি যদিও রয়েছে ডলার, ভাঙানোর কথা বললেই বলে ম্যায় হুঁ না ইয়ার। নিজ নামেতে সিমকার্ড দিয়ে করলো মোবাইল সচল, ফোনে শুরু হলো আমন্ত্রণ কল সত্যিই যা বিরল। নিয়ে গেল মোদের নিজ আলয়ে সেবা করিবার তরে, চর্ব্য চুষ্য লেহ্য পেয় চললো দিবস জুড়ে। আশপাশ ঘুরে দেখালো যত খাওয়ালো দ্বিগুণ তায়, প্রবাসীর ঘর সারি সারি সেথা অপরূপ শোভা পায়। স্মৃতি হয়ে থাকবে জানি ওদের সে আতিথেয়তা, সিলেট পৌঁছাতে গাড়ি নিয়ে এলো মোরা কেমনে ভুলবো তা? ( ক্রমশ চলবে)

অভিলাষ

সৃষ্টির মালিক স্রষ্টা তুমি রয়েছ অন্তরালে, তোমার মহিমা খুঁজে যাই যত ঘিরে ফেলে জঞ্জালে। স্বার্থ মগ্ন হয়ে ভোগ করি শুধু পেতে চাই তব দান, বিনিময়ে মোরা দিয়ে যাই শুধু ব্যথা ভরা অপমান। স্বার্থের তরে অন্ধ হয়েছি লুটছি সকল সুধা, আলো বায়ু জল যত আছে ফল তাহাতে মেটাই ক্ষুধা। বঞ্চিত করে সকল প্রাণীরে ছিনিয়ে নিয়েছি কতো, তোমার দয়া কভুও ভাবিনি ধ্বংস করেছি অবিরত। সংসার সুখে ভুলেছি তোমায় বেঁধেছি সুখের ঘর, অবোধ জীবনে ঘুমের ঘোরে কেটেছে অষ্ট প্রহর। কভুও ভাবিনি তোমার প্রভাব চাইবে হিসেব তুমি, শ্রেষ্ঠ প্রাণীই করছে সদা কলুষিত তব ভুমি। প্রাণী হত্যার বহর দেখে যমদূত পেয়েছে ভয়, কোন মুখে এবে চাইবো যে ক্ষমা ভাবতে লজ্জা হয়। তবু মনে জাগে ক্ষীণ আশা বান্দা তোমারই সৃষ্ট দাস, অনুগত যবে ক্ষমা পাবো তবে এই মম অভিলাষ।

জীবনের ঘূর্ণিপাকে (পর্ব ০৪)

বিচারে সুবোধের পনেরো বছরের জেল হয়ে গেল। শুনামাত্র লিলি হাঁউমাঁউ করে কেঁদে উঠলো। পরদিন মা'কে নিয়ে সে সুবোধের সাথে দেখা করতে গেল। লিলি কোন মতেই নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছে না, তার অন্তরাত্মা বলছে সুবোধ এরকম কাজ করতে পারে না। জেলে দেখা করতে গেলে সুবোধ এগিয়ে এসে তার হাত ধরে বলল " যা হবার তা হয়ে গেছে, আমি খুনের অপরাধী। তোমার দুটি হাত ধরে বলছি, তুমি আর কখনো আমার সাথে দেখা করতে এসো না।"  লিলি কাঁদতে কাঁদতে বলল," তুমি বলো তুমি খুন করনি।, আমি জানি তুমি খুন করতে পারোনা। আমি কথা দিচ্ছি আমি তোমার অপেক্ষায় থাকবো। সুবোধ চট করে জবাব দেয়," না লিলি না। তুমি বিয়ে কর, সংসারী হও, আমার দিব্যি রইল, জীবনটা এমনি এমনি নষ্ট করোনা।"  কথা কটা শেষ হতে না হতেই জেইলার এসে লিলিকে বলল" দেখা করার সময় শেষ" লিলি কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে গেল। ইতিমধ্যে কয়েকদিন সত্যেন লিলির সাথে ফোনে কথা বলতে চেয়েছিল। প্রথম দুই এক দিন একটু আধটু কথা হয়েছিল , তাও লিলি এখন বন্ধ করে দিয়েছে।সত্যেনের সাথে সে কোন সম্পর্ক রাখতে চায়নি। শেষ পর্যন্ত সত্যেন একদিন নিজের মা'কে পাঠিয়ে ছিল লিলিদের বাড়ি, ...

জীবনের ঘূর্ণিপাকে পর্ব -০১

সুবোধ ও সত্যেন একই শ্রেণীতে পড়ে। সুবোধ পড়াশুনায় খুব ভাল। প্রতি বৎসর ক্লাসে প্রথম হয়। আর সত্যেন? মাবাবার একমাত্র আদরের ছেলে। শুধু স্কুলে যাওয়া আসাই সার। যেন স্কুল একটা টাইম পাসের জায়গা। কথায় বলে " সৎ সঙ্গে সর্গবাস আর অসৎ সঙ্গে সর্বনাশ।' কিন্তু এদের বেলায় ঠিক বিপরীত। সত্যেন সুবোধের সাথে বন্ধুত্ব রাখে শুধু পরীক্ষা পাশের জন্য। রোজই সে সুবোধকে কত কিছু কিনে খাওয়ায় তার সাথে বন্ধুত্ব রাখে উদ্দেশ্য পরীক্ষায় পাশে বসে দেখে দেখে লিখে পাশ করবে। কিন্তু এভাবে কতদিনই বা চলে? অষ্টম থেকে দশম, তারপর মাধ্যমিক ফাইন্যাল পরীক্ষা। পরীক্ষায় সুবোধ প্রথম বিভাগে ডিস্টিংশন নিয়ে পাশ করে আর সত্যেন ফেল করে বসে। কারণ এবার আর দুজন একসাথে বসে পরীক্ষা দিতে পারলনা। বাবার আদরের ছেলে সত্যেনের পড়ার এখানেই ইতি টানতে হল। অবশ্য আরও দু তিন বার সে পরীক্ষায় বসেছে কিন্তু পাশ করা আর হয়ে উঠলো না। শুরু হলো ওর  ভবঘুরে জীবন। অন্যদিকে সুবোধ মাধ্যমিক পরে উচ্চ মাধ্যমিক তারপর বি এ পাশ করে এরপর ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়। যদিও দুজন দুই মেরুতে, তাদের সম্পর্কে কোন চিড় ধরেনি। অবসর সময়ে ঠিক আগের মতোই হাসি ঠাট্টা, একসাথে ...

জীবনের ঘুর্ণিপাকে পর্ব ০২

৫ ডিসেম্বর লিলির জন্মদিন। সবাই উপস্থিত। বার্থডে ক্যাণ্ডেল জ্বলবে, কেক কাটা হবে। লিলি বার বার ঘরের মধ্যে পায়চারি করছে আর বাইরের দিকে তাকিয়ে দেখছে। আজ যেন ওর বিশেষ কোনো অতিথি আসছে।  মা তাকে ডেকে বললেন,' কেক্ কাটার সময় হয়েছে,।' সে বলল আসছি মা, আরও দু একজন বাকি আছে।' সবাই অবাক হয়ে অপেক্ষায়, কে সেই বিশেষ অতিথি যার জন্য লিলি অপেক্ষা করছে। সেই মুহূর্তে সুবোধ ও সত্যেন সেখানে এসে উপস্থিত। সত্যেন খুব বড় একটা পুতুল হাতে নিয়ে পাশে এসে দাড়ালো। সে জানতো লিলি পুতুল খুব ভালোবাসে। তারা যখন তাদের পাশের বাড়িতে ছিল, একদিন একটি বিড়ালের ধাক্কায় তার একটা পুতুল ভেঙ্গে গিযেছিল। সে দিন কি কান্না! ওই দিন সে ভাত ই খায়নি। তাই ভাবলো লিলি পুতুলটা পেয়ে খুব খুশি হবে। কিন্তু আজ সুবোধের হাতে একটা ফুলের তোড়া দেখে সে যেন আত্মহারা। ' Waw! কী সুন্দর ফুল!' বলে ওটা হাতে নিয়ে মাকে দেখালো। সে সুবোধ ও সত্যেনকে মা-বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল। বার্থডে ক্যান্ডেল জ্বালানো হল,কেক কাটা হল। সবাই একসাথে উইশ করলো 'হ্যাপি বার্থডে টু লিলি'। রেকর্ডে বার্থডে গান বেজে উঠল। খুব আনন্দ মূখর পরিবেশ। ছো...

জীবনের ঘুর্ণিপাকে ( পর্ব -০৩)

সেদিন সুবোধের পালা। তাই সুবোধকে রোগীর পাহারায় রেখে সত্যেন লিলি ও তার মা এর সঙ্গে বাড়িতে চলে যায়। রাতে শুয়ে শুয়ে সত্যেনের মাথায় নানা চিন্তা এসে ঘোরপাক খেতে লাগল। এপাশ ওপাশ করতে করতে কোন অবস্থাতেই তার ঘুম আসছিল না।  লিলির কথাই ভাবছিল। ওর জন্য সে কীনা করেছে, অথচ সে যেন তাকে পাত্তাই দেয় না। মনে হয় সুবোধ ই তার কাছে বেশি প্রিয়। ভাবতে ভাবতে মনে জ্বালা শুরু হয়ে গেল। ওর মাথায় এক কু বুদ্ধি আসলো। এতদিন থেকে লিলিকে পাওয়ার যে সুযোগ খুঁজছিলো আজ সে সুযোগটা হাতছাড়া করবেনা। ভাবনাটা তাকে অস্থির করে তুলল। সে চলে গেল সেই হাসপাতালে। সেখানে পৌঁছে দেখে সুবোধ ঝিমোচ্ছে। রাত তখন সাড়ে বারোটা। চেয়ে দেখে রোগী ঘুমাচ্ছেন, তখনও অক্সিজেন সিলিন্ডার লাগানো। অনেক্ষণ সত্যেন দরজার পাশে দাঁড়িয়ে অবস্থা নিরীক্ষণ করল। অনুমান করল সুবোধ ঘুমে আচ্ছন্ন। এই সুযোগে সে রোগীর অক্সিজেন সিলিন্ডার ডিসকানেক্ট করল এবং সঙ্গে সঙ্গে বালিশ চাপা দিয়ে বিশ্বম্ভর বাবুকে খুন করে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে গেল। ভোর চারটার সময় সুবোধের ঘুম ভাঙলো। চেয়ে দেখে বিশ্বম্ভর বাবুর বিছানা পত্তর সব ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে আর হাত পা একেবারে সোজা।...

তুমি আসলে বলে (ইসলামী সংগীত)

তুমি আসলে বলে এ ধরণী হল উজালা, তুমি গাইলে বলে সাম্যেরই গান বিশ্ব দিওয়ানা। তুমি কামলিওয়ালা, তুমি নূরে মদিনা।।২ তুমি আসলে --------------------------------।। তুমি আনলে জ্যোতি নূরের বাতি আঁধার হল দূর , তুমি লাত মানাতের বিদায় দিলে বাজলো প্রেমের সুর।। তুমি কামলিওয়ালা, তুমি নূরে মদিনা---------! তুমি আসলে বলে ------------------------------।। তুমি শিক্ষা দিলে মানব জাতি শ্রেষ্ঠ খোদার দান, প্রতিবেশীর তরে সদা কাঁদতো তোমার প্রাণ। তুমি রহমতে আলম, তুমি খোদারই মকবুল। তুমি কামলিওয়ালা, তুমি নূরে মদিনা--------- তুমি আসলে বলে ----------------------------।। তুমি পাপী তাপী উদ্ধারিতে করলে মোনাজাত, খোদার কাছে চাইলে তুমি উম্মতের নাজাত। তাইতো তুমি বিশ্ব নবী উম্মতে রাসুল। তুমি কামলিওয়ালা তুমি নূরে মদিনা--------- তুমি আসলে বলে ---------------------------।। তুমি উম্মতেরে ভালোবেসে করলে প্রেম দান, তুমি শান্তি সুধা নিয়ে এলে পবিত্র কোরআন। তুমি কামলিওয়ালা, তুমি নূরে মদিনা--------- তুমি আসলে বলে ------------------------------।।

শৈল শহর দার্জিলিং

শৈল শহর দেখতে যাওয়া অপূর্ব এক ফিলিং, শান্ত সবুজ পাহাড় ঘেরা শহর দার্জিলিং। সাত হাজার ফুট উঁচু পাহাড় পাশে গভীর খাদ, খুশির সাথে ভয়ও আছে যেন মরণফাঁদ। পাহাড় রাণী কাঞ্চনজঙ্ঘা দাঁড়িয়ে আছে ঠাঁয়, চিরসবুজ বন বনানী দেখে এলাম তায়। আনন্দে মন নেচে উঠে আঁকাবাঁকা পথে, দেখতে হবে টাইগার হিল সূর্যোদয়ের সাথে। টয় ট্রেন আর ঝর্ণাধারা দার্জিলিং এর শান, শীতল হাওয়া ফল ফলাদি জুড়ায় সবার প্রাণ। চাবাগান আর সবুজ বন সারিসারি ঘর, নয়নাভিরাম দৃশ্য বাহার স্মৃতির বালুচর। উঁচুনিচু ঢালু পথ পাশে পাইন ট্রি, একটু ঘুরে দেখে আসেন যদি থাকেন ফ্রী। (রচনাকাল ২১/১০/২০২২)

বর্ষ বরণে

ক্লান্ত রক্তিম সূর্য টা ওই বিলীন পশ্চিমাকাশের কোণে, পুরাতন বর্ষের হিসেব নিকেষ করছে সবাই ক্ষণে ক্ষণে। কত চাওয়া পাওয়া কত হতাশা  বেদনা বিভোর কথা, ঘন আঁধারে ঢাকা পড়ে রবে যুগ যুগান্তর প্রথা। নব বর্ষ আসবে ফিরে নতুন সূর্যোদয়ের সাথে, সব আতংক জরাজীর্ণ দূর হোক নববর্ষের প্রাতে। দূর হোক যত হানাহানি অসহায় ক্রন্দন, নতুন বছরে নতুন করে মোরা  রচিব প্রেমের বন্ধন। নব আনন্দে গাইবে পাখি গাছেতে ফুটবে কুঁড়ি, নতুন স্বপ্নে বিভোর বাঙালি হাতে নিয়ে ফুলঝুড়ি। নৃত্য গানে বরণ করবে নতুন বছর নতুন সাল, নতুনের আগমনে হয়তো ঘুচিবে পুরাতন সব কাল। স্বপ্ন সবার সফল হোক  এইটুকু মনে আশা, বর্ষ বরণে সবারে জানাই বুকভরা ভালোবাসা।

কেউ কি দাঁড়াবে পাশে?

শ্রমিকের কথা ভাবছো বুঝি লিখছো তাদের নিয়ে? কাগজে কলমে লিখাটাই সার  সান্ত্বনা দিবে কি দিয়ে? আজীবন যারা করে যায় কাজ পায়না সঠিক দাম, ১লা মে আসলেই বুঝি ঝরে বাবুদের ঘাম। শ্রমিক দিবস পালন করছো নেই শ্রমিকের ছুটি, সুখের রাজ্যে বসতি তোমার শ্রমিকের প্রাপ্য লুটি। ন্যায্য মূল্য চাইলেই ওঠে মনিবের কপালে চোখ, সকাল সন্ধ্যা খেটে মরে তবু ঘুচেনা তাদের দুখ। ক্ষুধার তাগিদে দেশ বিদেশে চলে যায় ওরা কাজে, ভেবেছো কি কভু শ্রমের ফসল তব ধমনীতে 'রাজে! সরকারি আইন বলেই খালাস শিশু শ্রম অপরাধ, বাবুদের ঘরেই শ্রম-শিশু কাঁদে কে করিবে প্রতিবাদ? আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস প্রতি বছর ঠিক ই আসে, শ্রমিকের সে দুঃখ ঘুচাতে কেউ কি দাঁড়াবে পাশে?

শেষ পরিচয়

জন্ম তোমার ঠাকুর বাড়ি  স্বদেশিয়ানার মূলে, ২৫শে বৈশাখ এসেছিলে তুমি  মা সারদা দেবীর কোলে। ধন্য বাবা দেবেন্দ্র নাথ,  নামটি দিলেন রবি, বিশ্ব বাংলায় ছড়ায়েছ আলো,  হয়েছ বিশ্ব কবি। পরাধীন ভারতের মুক্তিকামী নেতা,  মান নাই পরবশ দিক দিগন্ত কাঁপায়েছ তুমি  বিলিয়ে কাব্য রস। দেশ মাতৃকার মুক্তির তরে  দিয়েছ একের ডাক, তব গান ছোট গল্প কবিতায় ছিল  স্বদেশ মুক্তির হাঁক। হে দেশ ভক্ত মানব প্রেমিক  বিশ্ব নন্দিত কবি, নাইট উপাধি পরিত্যাগ করে  দেখায়েছ তব ছবি। তোমার লেখনীর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ  এনে দিয়েছে স্বাধীনতা, স্বার্থক দেশপ্রেমিক তুমি  মোরা কেমনে ভুলিব তা! বাংলার সাহিত্যাকাশে আজও  তুমি বিশ্বের বিস্ময় বিশ্ব বাংলার গুরুদেব তুমি  এই তব শেষ পরিচয়। ( রচনাকাল ০৮/০৫/২০২৩)

আলোর দিশা

ভালো মন্দ বুঝিবারে     শিক্ষা নাও ধরা 'পরে                      পড় বই করিয়া যতন। জ্ঞান পিপাসুর জ্ঞান         হয়না কভুও ম্লান                       কর তাই জ্ঞান অন্বেষণ। বই দেয় আলোর দিশা     পেতে চাও কর নেশা                       বন্ধুত্ব কর বই'র সাথে। বই হল জ্ঞান সিন্ধু          নিঃস্বার্থ সুজন বন্ধু                      বই যেন থাকে সদা হাতে। জ্ঞান ই নীরব অস্ত্র       খুঁজে দেখ সব শাস্ত্র                    জ্ঞান ই জাগায় মানবতা। বই পুস্তকে বিনোদন       সদাই কাড়ে যে মন                   পাঠ্য জ্ঞান এনেছে সভ্যতা। ডিজিটেল এ্যাপ্স এর ভীড়ে ‌  নব প্রজন্ম...

বিভেদ কেন?

যাদের খাবার নেই      পথে ঘাটে ঘুরে তাই                    তাহাদেরে নেই ভাবনায়। বন্ধুজনে ডেকে মাতি     বসাও আঁচল পাতি                    ভুরিভোজে সম্মাননা তায়। দান তুমি কর তারে      যার সবি আছে ঘরে                    মনেতে যে ব্যবসার ধ্যান। ভাবো পাবে বিনিময়     ভালবাসা সেতো নয়                 সকলে কি রাখিছ সমান? কেন আশা রাখ মনে    আশাই আঘাত হানে                  ওহে জীব ভেবে দেখ মনে। নাথাকা আশার মাঝে  ফল লাভে সুখ রাজে                  বিস্ময়ও থাকে তার সনে। জড়সড় হয়ে আছো  নিজেতে নিজেই বাঁচো                 জীবনের উদ্দেশ্য তা নয়। কভুও চেয়োনা রাজ     সেবা তরে কর কাজ   ...

মুঠো ফোনে

আর পারিনা থাকতে যেন মুঠো ফোন ছাড়া, পৃথিবীটা হাতের মুঠোয় ভুলছে সবাই পাড়া। ঘরে বসে বিশ্বের খবর মুঠো ফোনে পাই, নিজের ঘরের পুরো খবর ক' জন রাখে ভাই। সবাই এখন ব্যস্ত থাকে নিজের মুঠো ফোনে, দাদু দিদার নীতি গল্প কেবা এখন শোনে। মা' ব্যস্ত বাবা ব্যস্ত ব্যস্ত দিদা দাদু, ছোট শিশু সেও ব্যস্ত হায়রে ফোনের জাদু রাক্ষসী এই ফোনটা যেদিন আসলো সবার হাতে, দূর হলো যে সংসার সুখ সন্দেহ নেই তাতে। টিভি সিরিয়াল গল্প কথা শিশু নিয়ে খেলা, মুঠো ফোনে সবই নিল করোনা ভাই হেলা। এমন একটা দিন আসবে কেউ কাউকে চিনবে না, আপন জনের খবর নিতে নেটে খুঁজবে ঠিকানা। (রচনাকাল -০৮/০৭/২০২৩)

চন্দ্রযান তিন

চাঁদের দেশে ছুটছে মানুষ চলছে কত অভিযান, সবার মনে একই আশা হয়তো সেথা আছে প্রাণ। আকাশ বাতাস মুখরিত আজ গাই ভারতের জয়গান, সাফল্যতার উৎক্ষেপণে ছুটে চললো চন্দ্রযান। রাজনীতি আর ধর্মনীতি  সেতো স্বার্থের তরে, জ্ঞান বিজ্ঞানে ভারতবাসী একতার নজির গড়ে। চৌদ্দ জুলাই দুই হাজার তেইশ বিশ্বে সে একদিন, চাঁদের দেশে ছুটে চললো ভারতীয় চন্দ্রযান তিন। বিশ্ববাসী দেখবে এবার ভারতবাসীর আছে জ্ঞান, ধর্মে মহান কর্মে মহান সফল হবে চন্দ্রযান। অজানা সব তথ্য এবার হয়তো হবে উদঘাটন, ইসরোর সব সুসন্তান বিশ্ববাসী করবে স্মরণ। অপেক্ষাতে থাকবো সবাই চলবে কয়দিন কলরব, চন্দ্রযানের অবতরণে জানবো মোরা বাকি সব। (রচনাকাল ১৫/০৭/২০২৩)

জ্যান্ত কবর দাও

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর অন্ধ হয়ে বন্ধ ঘরে থেকো নাকো আর, মা বোনদের সম্ভ্রমটা ভাবো একবার। খোলা রাস্তায় বস্ত্র হরণ বলতে মরি লাজে, আইন শৃঙ্খলা স্বাধীনতা আসলো কোন কাজে। মা ভারতী কাঁদছে আজি করছে হায় হায়, বস্ত্র হরণ করলো সেথা কুলাঙ্গারের ছায়। হায়নার মতো নিচ্ছে টেনে ছোবল দিয়ে গায়, মাতৃভূমির লাজটা ঢাকো রক্ষা করো মায়। পাষণ্ডতা-নারকীয়তার একটু খবর নাও, ধরে এনে অসুরদেরে জ্যান্ত কবর দাও।