পোস্টগুলি

আগস্ট, ২০২৫ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মুক্তির তরে

দুদিনের এই রং মহলে  করছি কত খেলা, মোহ মায়ায় ব্যস্ত থেকে  চলে যায় যে বেলা। ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে  ভুলে আপন জন, বাড়ি গাড়ি করছি সবাই  করে জীবন পণ। স্বার্থের তরে অন্ধ সবাই  বন্ধ বিবেক দ্বার, আমার আমার করেই চলি বুঝি না তো সার। দুদিনের এই রং মহলে  থাকবে না তো কেহ, আগে পিছে সবাই যাবো পড়ে থাকবে গেহ। প্রতিহিংসা ভুলে এসো  মানবসেবা করি, পরকালের মুক্তির তরে  প্রভুর নামটা স্মরি।

প্রশ্ন

আকাশে বাতাসে হিংসার ঢেউ  কলুষিত সারা বিশ্ব, সততা ও ন্যায় দাবানলে জ্বলে  মানবতা আজ নিঃস্ব। শোষণ তোষণ নিপীড়ন চলে  সততার নেই দাম, জ্ঞানীগুণীর নেই যে কদর  টাকা থাকলেই নাম। কাহার সম্পদ কেড়ে খায় কেবা কাহারে পাঠায় জেল, অর্থের বলে বলীয়ান ভাঙ্গে  গরীবের মাথায় বেল। সভ্য সমাজের ধর্ষিতা নারী সুবিচার পায় কি কভু?  পথে ঘাটে ঘুরে অভুক্ত শিশু  প্রতিকার নেই তবু।  দুর্বল 'পরে সবলের আঘাত  চলছেই বারে বারে, কবে শেষ হবে কে দিবে উত্তর  প্রশ্ন করি কারে? পৃথিবীর বুকে এ আঁধার কালো  ঘুচিবে কি কভু ভাই? উদিবে আবার নতুন সূর্য  প্রশ্নটা রেখে যাই।

ফুটপাত তুমি কার

বাড়ছে মানুষ বাড়ছে আবাদী  জঞ্জালও বাড়ছে সাথে  শহরের বুকে পাকা পথ জুড়ে  যানজট দিনেরাতে। সদাই সংশয় গাড়ি চাপা ভয়  হয় যদি সঙ্ঘাত, পথিক বাঁচাতে যানজট ছাড়াতে  গড়ে উঠে ফুটপাত। দু'পাশে ফুটপাত তাতেও উৎপাত দোকান হকার তাতে, কাপড়-ব্যাগের সাজায় পসরা  আরো কতো কি সাথে। ভিখারির ভীড় টোকাইয়ের নীড়  কারো দিনে কারো রাতে, কে দেখিবে হাল আছে বেহাল  সব কিছু ফুটপাতে। আছে ঠেলাঠেলি আছে ঠুকাঠুকি তোমার বুকের 'পরে, কত অসহায় ফুটপাত তুমি  সারাটি জীবন ধরে। পথিক আহারে হাঁটিতে না পারে  বলে, ' ফুটপাত তুমি কার '? কেমনে সহিবে এ যানজট তুমি  নিয়েছ যে মহাভার। ঘুচে না আকাল পথিক নাকাল  কে করবে প্রতিকার? প্রশাসন নিরোত্তর কে দিবে উত্তর  "ফুটপাত তুমি কার?"

খোকার প্রশ্ন

নিজের ছেলে মাকে শুধায় ডেকে, তুমি আমায় আনলে কোথা থেকে। কোন গাছেতে ছিলাম আমি ঝুলে, কেমন করে নিলে আমায় তুলে। আমায় নিয়ে কত স্বপ্ন মনে, ভালো মন্দ ভাবো ক্ষণে ক্ষণে। কতকিছু খাই যে আমি রোজ, উপোস থেকে করাও আমায় ভোজ। খেলতে গেলে ইচ্ছে করে হারো, জানি আমি তুমি জিততে পারো। বলো না মা কেন এমন করো, নিজে ডুবে আমায় তুলে ধরো। মা হেঁসে কয় বুঝে খোকার মন, তুই যে আমার বুকের মানিক ধন। স্বপ্ন ঘিরে মনের কোণে ছিলে, স্রষ্টা তোকে কোলে পাঠিয়ে দিলে। তোকে পেয়ে খুশি আমার হিয়া, আগলে রাখি তাইতো সকল দিয়া। মায়ের ইচ্ছে পূরণ করবি খোকা, অন্যের মতো দিস না কভু ধোঁকা।

চলে আপন বেগে

মিষ্টি কথা সবাই বলে  সে তো স্বার্থের তরে, শেষ হলে ঐ ফুলের মধু  মাছি কি আর ধরে? এই পৃথিবীর পান্থশালায় আপন চেনা দায়, সময়ে দেখায় বদলে যাওয়া  আপনজনের রায়। এমন অনেক মানুষ আছে  হারাম হালাল খায়, চলতে ফিরতে লোকের কাছে  পরনিন্দা গায়। অন্যের সাফল্য দেখলে আবার  হিংসায় মন ভরে, নিজের জীবন বিফল থাকে  পরের কেচ্ছা ধরে। পরের ঘরে আগুন দিলে   পুড়বে নিজে পাছে, বিজ্ঞান বলে সকল কর্মের  বিপরীত ক্রিয়া আছে। তাইতো বলি পরের তরে  গর্ত খুঁড়োনা কভু, অচিরেই তাতে পড়বে নিজে বদলা নিবেন প্রভু। জলের স্রোত আর ঘড়ির কাঁটা  চলে আপন বেগে, আলোর ধারা হয়না হারা  কভু কালো মেঘে।

বাংলার ছবি

ঊষার আলোয় রজনীর শেষে  নেই কলরব তাতে, স্তব্ধ আকাশ নির্মল বায়ু  এমন নিঝুম প্রাতে। কিরণ ছড়ায়ে পূবাকাশে উঠে  সোনালী আলোর ঢল, নীল নীলিমার রঙিন আভায়  ছোটে চলে পাখি দল। কাক ডাকা ভোরে আলো ফুটে উঠে  দূরে কোথা মাঝি ডাকে, গুণগুণ স্বরে উড়ে যায় অলী ফুল ফোটে জুঁই শাখে। কলসি কাঁখেতে জল ভরে নিতে  যায় সে রূপসী বালা, প্রকৃতির সাজে ধরনীর মাঝে  নয়নেরে দেয় দোলা। পাশে সরোবরে কমলেরা দোলে  পূবাকাশে উঠে রবি, রূপে অপরূপ প্রভাত আলোয়  দেখি বাঙলার ছবি।

মশার কাণ্ড

সন্ধ্যা বেলা বন্ধ ঘরে ফোকলা দাদু ঘুমে, মশা এসে প্যানপ্যানিয়ে দাদুর গালে চুমে। স্বপ্নে বিভোর দাদু তখন শুনছে হিন্দি গান, এই সুযোগে ডেঙ্গু মশা দিচ্ছে রক্তে টান। ইতিমধ্যে শত মশা বসছে দাদুর টাকে, গানের আসর জমছে ভাল প্যানপ্যানানি ডাকে। চারিদিকে ঘুরছে মশা হয়ে তাহার ভক্ত, ঘুমের মধ্যে হাসছে দাদু খাচ্ছে মশা রক্ত। এমন সময় নাতি এসে দেখে মশার কাণ্ড, দাদুর গালে লাঠি মেরে করে লণ্ডভণ্ড। আঘাত পেয়ে উঠলো দাদু তেলেবেগুনে জ্বলে, স্বপ্ন তাহার হারিয়ে গেল ঘুম ভাঙানির ফলে। হুড়মুড়িয়ে উঠে দাদু ঝরছে মাথায় রক্ত, আঘাতটা যে কেমন ছিল বিনি ভাষায় উক্ত। চিৎকার শুনে দিদা এসে ধরলো নাতির কানে,  এই সুযোগে মশা গুলো পালিয়ে বাঁচে প্রাণে।

ভাবনা

সাগরের তীরে   জলরাশি ভিড়ে  বসে আছি একা তায়। কুলু কুলু ধ্বনি   জল মাঝে শুনি  ঢেউ আসে ঢেউ যায়। বসে আনমনে   গোধূলি লগনে  শুনি ঢেউয়ের বাণী। কঠোর এ ভবে   যেতে হবে সবে  বোঝেনা তো পথ খানি। রাখি না তো মনে   জীবনের ক্ষনে কতো ফুল ঝরে যায়। যাঁরা ছিল আগে   নাই পুরোভাগে   কোন স্মৃতি তার হায়! স্বার্থান্বেষী জন   থাকে না কখন  স্মৃতির বাঁধনে বাঁধা। যা আছে সবার    ধন সম্ভার  সব ধূলো আর কাদা। মোহময়ী ধরা অতি মনোহরা  যেতে নাহি চায় কেহ, আয়ু শেষ হলে যেতে হবে চলে  পড়িয়া থাকিবে গেহ। ভেবে আঁখি জল  করে ছল ছল  প্রভুর করুনা চাই। যতদিন আছি   ভালবাসা যাচি জীবে প্রেম করে যাই।

টোকাই

সাত সকালে সদাই যারা  পথে পথে ঘুরে, তাদের কাছে স্বাধীনতা  আজ ও অনেক দূরে। ছেঁড়া গেঞ্জি কাঁধে বস্তা  প্লাস্টিক বোতল হাতে, মন আনন্দে গান গেয়ে যায়  কাক কুকুরের সাথে। টোকাই বলে অবহেলে  কেউ দেয়না ঠাঁই, এই দুনিয়ায় যেন ওদের  আপন কেহ নাই। পেটের দায়ে ডাস্টবিনেতে  হানা দেয় সে রোজ, উচ্ছিষ্ট আর নোংরা খাবার  কুড়িয়ে করে ভোজ। কুড়িয়ে বোতল বিক্রি করে এইতো জীবন বাঁধা, মায়ের তরে খাবার কিনে  সদাই সিধে সাদা। দুঃখ কষ্টের জীবন এদের  লড়াই করে বাঁচে, এমন দিন কি আসবে কভু কেউ ডাকবে কাছে?

কর্মই জীবন

জীবন মানেই যুদ্ধ ক্ষেত্র  লড়ে যেতে হবে ভাই, কখনো হারবো কখনো জিতবো হারজিত কোন ছাই। হেরে যাওয়াতে হয়না কখনো  জীবনের সব শেষ, এগিয়ে চলাই জীবন যুদ্ধ  কিছু থেকে যায় রেষ। হেরে গেলে তবু ভেঙে পড়ি কেন  চেষ্টাটা করি শত, জয় পরাজয় আছে নিশ্চয়  আলো আঁধারের মত। কর্মই জীবন করি সারাক্ষণ  স্থিতিতে মৃত্যু আসে, নদী গতিপথ হারায় যখন  শ্যাওলা তাহাতে ভাসে। নিরাশ আঁধারে চাই বুঝি বারে  টিকবো অবনী 'পরে, ভয়ে ভীত যারা হয়ে দিশেহারা  মরার আগেই মরে। ঝড়ঝঞ্ঝায় লড়ি পাঞ্জায় যাবনা কখনো থেমে, তবেই সেদিন আসিবে সুদিন  সাফল্য আসবে নেমে।

কান নিয়েছে চিলে

কাজ করছে ফোকলা দাদু  বাঁশ বাগানের নিচে, হুঁকো হাতে নাতি এসে  ঘুরছে পিছে পিছে। হঠাৎ দাদু বলে উঠেন  'দা' টা মোর কই?' দা কোথায় দা কোথায়  পড়লো হইচই। কে নিলো কোথায় নিলো  খুঁজছে সবাই মিলে, হাসতে হাসতে দিদা বলে  কান নিয়েছে চিলে। খুঁজছে হেথা খুঁজছে হোথা  খুঁজছে বাড়ি জুড়ে, হাতে দাদু দা'টা রেখে  মরছে জ্বলে পুড়ে। দিদা বলে 'কি যে হলো  মরি আমি লাজে, সদাই তুমি এমন করো  হরেক রকম কাজে।' লজ্জা পেয়ে দাদু বলে  'সব বেটারেই চিনি, হাতে মোর দা'টা আছে  সেতো আমি জানি।'