পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০২৩ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

অবাক হয়ে চেয়ে রই

পূজো দেখতে বেরিয়ে ছিলাম পূজো দেখা হল কই? ছেঁড়া শাড়ির আঁচল ধরে কাঁদছে খুকি চেয়ে রই। কাঁদছে খুকি ক্ষুধায় কাতর প্যাণ্ডেলের ঐ পাশটাতে, সান্ত্বনা দেয় দেখলাম মায়ে ' খাবে হেথায় শেষটাতে।' লক্ষ টাকার প্যাণ্ডেল ঘিরে হাজার লোকের সমাগম, চোখ ধাঁধানো রঙবাহারি আতস বাজির ঝমাঝম। বাহারি পোশাকে নরনারী চলছে মিলন মহোৎসব, উদাস পানে দেখছে মায়ে দেখছে খুকি বাকি সব। রিনা বীনা টিনার জামা ঝিলমিলানো নয়নে, অবাক হয়ে ভাবছে খুকি কী স্বাধ তার চয়নে! ক্ষুধায় কাতর হলেই বা কি শখটা এখন পোশাকে, মায়ের হাতে অল্প দিলাম পুরাতে ওর আশাকে। অল্প সাহায্য হাতে পেয়ে মায়ের চোখে আসে জল, বলে ' বাবু বেঁচে থাকুন পরকালে পাবেন ফল।' খুশি হয়ে শিশুর হাতে দিলাম কিছু খাবার এবে, ধন্য হলাম এই না ভেবে হয়তো একটু পূণ্য হবে। গরিবি হঠাও স্লোগান চলে গরিবিটা হঠলো কই? খুশির দিনে দুঃখীর পানে অবাক হয়ে চেয়ে রই।

প্রতারক( ছোট গল্প)

সবাই জানে হ্যারি একজন সৎ এবং ভালো মানুষ।বয়স তিরিশের পাশাপাশি। এ শহরে তার আসার প্রায় তিন মাস হল। দ্বিতলের একটা রুমে ভাড়া থাকে। দিনের প্রায় অর্ধেক সময় সে বাইরে থাকে। কিন্তু কোথায় যায় কি করে কেউ জানেনা। বিকেল দুই থেকে তিনটার সময় সে রুমে ফিরে আসে। আর বাকি সময় রাত বারোটা পর্যন্ত সে বই পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে। দু এক দিন পর পরই দেখা যায় হাতে নতুন বই নিয়ে ঘরে আসছে। সময় কাটানোর জন্য এটাই সবচেয়ে ভাল ব্যবস্থা। এতে দুদিক থেকেই লাভ। একটা হল টাইম পাস আর অন্যটা হল জ্ঞান আহরণ।  সত্যিই লোকটা খুব ভালো এবং সৎ। কিন্তু এত সততার পেছনেও কিছু একটা লুকিয়ে আছে, সেটা হয়তো কেউ জানেনা। কারণ ভালো বই পড়তে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু টাকা আসে কোথা থেকে এটা সে ছাড়া অন্য কেউ জানেনা এবং কেউ জানারও প্রয়োজন মনে করে না। কিন্তু যে লাইব্রেরী থেকে সে বই কিনে আনে সে লাইব্রেরীর মালিক একজন মহিলা। তার নাম এ্যালি। বয়স আনুমানিক আঠাশ বা ত্রিশ বছর হবে। এখানেই এ্যালির সাথে তার পরিচয়। এ্যালি নিজেও একজন লেখিকা। ইতিমধ্যে সে অনেকগুলো বই লিখেছে এবং বাজারে এগুলোর সমাদরও যথেষ্ট। সে কথা প্রসঙ্গে হ্যারির কাছে নিজের ল...

প্রভুভক্তি ( ছোট গল্প)

সেদিন প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে মদন পথের ধারে অদ্ভুত আকারের এক কুকুরের বাচ্চা দেখতে পেল। বাচ্চাটির সমস্ত শরীর ভেজা। ঠাণ্ডায় জড়োসড়ো হয়ে আগাছার আড়ালে লুকিয়ে বসে কাঁপছে। একদিকে কার্তিক মাসের শীতের রাত তার উপর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া বইছিল। বাচ্চাটিকে দেখে মদনের দয়া হল। এত সুন্দর হৃষ্টপুষ্ট এবং লেজটা অনেক বড়। মদন অবাক হয়ে ভাবল এটা হয়তো বিরল কোন প্রজাতির কুকুর। কিন্তু এটা এলই বা কোথা থেকে? ভাবতে ভাবতে সে আদর করে এটাকে তুলে বাসায় নিয়ে গেল। কতক্ষন আগুনের পাশে রেখে এটাকে একটু চাঙ্গা করার চেষ্টা করল। তারপর একটি বাটিতে খাবার এনে দিল। কিন্তু খাওয়া তো দূরের কথা ও পালাবার চেষ্টা করতে লাগল। বারবার এরকম করায় মদন একে নোঙর এনে বেঁধে রাখল।  বাড়িতে তার আগে থেকেই একটা কুকুর ছিল। এটাকে সে মতি বলে ডাকত। মতি ইতিমধ্যেই পাশে এসে ঘেউ ঘেউ করে ডাক শুরু করল এবং এটাকে মারতে উদ্যত হল। মদন তাকে ধমক দিয়ে বলল, ' এই এটা তোর নতুন বন্ধু, এর সঙ্গে খেলা ধুলা করবি,  ভালো ভাবে দেখা শুনা করবি। যদি দুষ্টুমি করে পালিয়ে যেতে চায় ধরে রাখবি। আজ থেকে এর নাম মুক্তা এবং এর দেখভালের দায়িত্ব তোর।' ...

এ্যাপ্স নিয়ে

শিক্ষা সেতুর এ্যাপ্স এসেছে শিক্ষাঙ্গনে ভিড় জমেছে শিক্ষক সব মাঠে। এ্যাপ্স নিয়ে ব্যস্ত সবাই চাকরিটা তো বাঁচাতে চাই পড়াশোনা লাটে। কেউবা উঠে গাছের ডালে কেউবা উঠে ঘরের চালে কেউবা খোঁজে মই। কেউবা হাসে কেউবা কাঁদে কেউবা বলে পড়লাম ফাঁদে নেটওয়ার্কটা কই? এ্যপ্সের মাঝে নিতি নিতি ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি অর্ধ দিবস যায়। আরো কত আছে স্ততি মিড-ডে মিলের প্রস্তুতি পড়াশোনার সময়টা কোথায়? এমনি যদি চলে ধারা শিক্ষক সব দিশেহারা কে নিবে তার দায়। কচিকাঁচা শিশুর তরে আবার তা ভাবতে হবে পাঠদানটা ক্যামনে করা যায়।

পানবু দারা

সবুজ শান্তির পাহাড় যেথা  নেমেছে শীতল ধারা, এমনি এক স্বর্গীয় স্থান  কালিম্পং এর পানবু দারা। নৈসর্গিক দৃশ্য তিস্তা নদীর  তীরে মনোরম হাওয়া, মন খারাপের সময় সেখানে  এ যেন এক পরম পাওয়া। আঁকাবাঁকা গতি তিস্তা নদীর  হাতছানি দিয়ে ডাকে, বিমুগ্ধ নয়নে চেয়ে রই শুধু  দুপাশের ওই পাহাড়টাকে। চার হাজার ফুট উঁচু পাহাড়  পাশে যে গভীর খাদ, ভীষণ ঢালু আঁকাবাঁকা পথ  এ যেন এক মরণ ফাঁদ। পথমাঝে আছে ঝরণাধারা  কুলুকুলু ধ্বনি তায়, দুধারে পাহাড় সবুজ বনানী  কতই না শোভা পায়! সুখের সাথে ভয়ও আছে  পৌঁছাতে পানবু ভিউ পয়েন্ট, সার্থক রূপ প্রকৃতির সেথা  চাইনা কোন মনুমেন্ট। সবুজ যেন চির সবুজ  প্রকৃতি সাজিছে নীলাকাশে, মনে হয় যেন এই বুঝি এলাম  আকাশের ঐ মেঘের পাশে। যেদিকে তাকাই মুগ্ধ নয়নে  অপূর্ব সে শোভা, পাখির কূজন মৌমাছির গুঞ্জন  হয়ে আছে মন লোভা। হিমালয় আর কাঞ্চনজঙ্ঘা  হাতছানি দেয় পাশে, জানা অজানা ফুলের ঘ্রাণ  মিশে আছে আকাশে বাতাসে। কী মায়ায় রচিয়াছে বিধি  যেথা থাকিবারে মন চায়, পানবুতে বসে মনে হয় যেন আমি চিরসবুজের...