ভুতের ভয়ে

গল্প প্রতিযোগিতা পর্ব-৩৭
শিরোনামঃ ভুতের ভয়ে
রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর
তারিখ-২৯/০১/২০২২

সেদিন ঘোর অমাবস্যার রাত। শীতের মরসুম। তার মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। হাঁড় কাঁপানো ঠান্ডা। বীরেন বাবুর ছেলেটার বয়স আনুমানিক ছত্রিশ বছর। করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মারা গেছে। করোনা রোগী।তাই পাশে যেতে নেই। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মৃতদেহ কিট্স্ দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে।
ফোন পেয়ে বীরেন বাবু একটি ছোট ট্রাক গাড়ি পাঠিয়ে দিলেন, শবদেহ নিয়ে আসতে। যথারীতি হাসপাতাল থেকে মরদেহ গাড়িতে উঠিয়ে চালক ও তার সহকর্মী রওয়ানা দেয়।
হাসপাতাল থেকে বাড়ি অনেক দূরে।প্রায় দেড়শ কিলোমিটার হবে। রাত তখন এগারোটা। শোন শান ফাঁকা রাস্তা। অনেক দূর এগিয়ে গিয়ে একটা দোকানের আলো দেখতে পেল। দুজন স্থির করলো একটু চা টা খেয়ে যাবে।
দোকান থেকে একটু দূরে গিয়ে গাড়ি থামাল। কারণ যদি দোকানী টের পেয়ে যায়, গাড়িতে করোনার মৃতদেহ তাহলে চা পান করা তো দূরের কথা পাশেও যেতে দেবে না। তাই একটু দূরে অন্ধকারে গাড়ি রেখে দুজন দোকানে ঢুকলো।
এই ফাঁকে একটি লোক গাড়িতে উঠে বসলো। বসলো তো বসলো গিয়ে একেবারে মরা লাশটার উপর। অন্ধকার কিছুই দেখা যাচ্ছেনা।ভাবলো একটা বস্তায় কি রাখা আছে। একটু কষ্ট করে কোন রকম যদি চলে যেতে পারে। এতো রাতে তো আর গাড়িও পাওয়া যাবে না। সে চুপ চাপ বসে পড়লো।               
                    এদিকে ড্রাইভার ও সহযোগী একটু সময় বসে দুজন চা টা খেলো। আবার দুজন গিয়ে গাড়িতে উঠলো।
গাড়িতে উঠে দুজন যাত্রা শুরু করেছে এমন সময় সামনের গ্লাসে চালকের চোখ পড়তেই তার তো চক্ষু চড়কগাছ। একী! সে ভুল দেখছে না তো? পাশের সহযোগীকে চিমটি কেটে বললো, 'এই কিছু দেখছিস?' কথাটা শেষ হতে না হতেই সঙ্গীটিও ড্রাইভারকে জড়িয়ে ধরলো। ওরা ভাবলো মরা লাশটা উঠে বসে বিড়ি ফুঁকছে। ভয়ে দুজন আড়ষ্ঠ। কোন কথা বলতে পারছেনা। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ড্রাইভার বলল, ' কে রে ওখানে?
কোন উত্তর নেই। লোকটা দিব্যি বিড়ি ফুঁকছে। আরও একটু দূর গিয়ে ভয়ে দুজন চেঁচিয়ে উঠলো, ভু--ভু- -- বলে। 
ভয়ে চীৎকার করতে করতে দুজন গাড়ি থেকে নেমে দৌড়াতে শুরু করলো। তাদের চীৎকার আর দৌড় দেখে পিছনের লোকটি ও তাদের পিছু পিছু দৌড়াতে শুরু করলো। 
ওরা যতই ভু-- ভু--- বলে দৌড়াচ্ছে পেছনের লোকটিও ততই ভয়ে তাদের পিছু পিছু দৌড়াতে শুরু করলো। মূল রাস্তা ছেড়ে একসময় অলি গলি হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়লো। অন্ধকারে দেখা যাচ্ছিল না। দিক ভ্রান্ত হয়ে তিন জনই একটা জলের ডোবায় পড়ে গেল। ড্রাইভার ও সহযোগী কোন ক্রমে উঠে গিয়ে একটা বাড়ির আশ্রয় নিল। চিৎকার চেঁচামেচিতে বাড়িওয়ালা বেরিয়ে আসেন। তাদের এ অবস্থা দেখে একটু দয়া করে আগুন পোহানোর ব্যবস্থা করে দিলেন। ওরা সারারাত আগুনের পাশে বসেই কাটিয়ে দিল।
পরদিন সকালে দুজন আবার গাড়ির পাশে গিয়ে দেখে লাশটা তো গাড়িতেই আছে। দিনের আলোয় সাহস হল। যথারীতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি পৌঁছলো। কিন্তু তাদের মনে একটা ভয়, একটা সন্দেহ থেকেই গেল। ও লোকটা তাহলে কে ছিল? জলের ডোবা থেকে উঠলোই বা কেমন করে? নাকি জলে ডুবে মারা গেল? ওকে তো আর সকালে দেখা গেল না। 
নাকি মরা লাশটা তাদের পিছু নিয়েছিল?
আবার গাড়িতে এসে লাশটাকে তো সেই একই অবস্থায় পাওয়া গেল। একটা ভয় একটা আতঙ্ক তাদের মনে থেকেই গেল।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বন্ধু মানে আলোর দিশা

লুটছে যত রাজভাণ্ডারী

বিদায়