রসময় দাদু ও বিধু মোড়ল



রসময় দাদু বাজার সেরে  
ফিরছিলেন ধীরে,  
হঠাৎ দেখেন পথের মাঝে  
জটলা ভারি ভিড়ে।

কৌতূহলে এগিয়ে গিয়ে  
উঁকি মারেন দাদু,  
লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে  
বখাটে সব যাদু।

একটি ছোকরা ধরে দাদু  
শুধায়, "কীসের লাইন?  
কীসের লাগি সবাই মিলে  
করছ এমন ফাইন?"

ছেলেটা কয়, "ও দাদু শোনো,  
খবর আছে ভারি,  
সুন্দরী এক যুবতী নাকি  
এসেছে বাড়ি ছাড়ি।

"সবাই মিলে দেখতে তারে  
দাঁড়িয়ে আছি সুখে,  
একটু যদি কথা বলি  
টিপ্পনী কাটি মুখে!"

দাদুর রাগে গা জ্বলে যায়  
চোখ কপালে তুলে,  
হঠাৎ দেখেন লাইনের শেষে  
মোড়ল বিধু দুলে।

গ্রামের মোড়ল, সাদা দাড়ি,  
বয়স সত্তর পার,  
সেও দাঁড়িয়ে জিভ লকলক  
লজ্জা নেই তো আর!

দাদু বলেন, "ও বিধু ভাই,  
এ তোমার কেমন কাজ?  
মাথার চুলে পাক ধরেছে  
নেই কি কোন লাজ?"

বিধু মোড়ল দাঁত কেলিয়ে  
বলেন হেসে হেসে,  
"বুড়ো হয়েছি তাতে কী ভাই  
মনটা আছে বেশ এ!"

"শরীর বুড়ো, মন তো কাঁচা  
সাধ তো মরে নাই,  
সুন্দরী দেখলে এখনো যে  
কাছে পেতে চাই।"

রসময় দাদু থ মেরে যান  
বলেন, "ছি ছি ছি,  
মোড়ল হয়ে এই যদি হয়  
গাঁয়ের হবে কী?"

"নারী মায়ের জাতি ভাই রে  
সম্মান দিতে হয়,  
উত্যক্ত করে রাস্তা ঘাটে  
মানুষ কি তা সয়?"

লাঠি উঁচিয়ে দাদু বলেন  
"ভাগো সবাই ঘরে,  
নইলে কপাল ফাটবে আজি  
লাঠির প্রতিটি চরে।"

সম্মান দিলে নারীজাতির 
বাড়বে গাঁয়ের মান,
উদ্ধার করে মেয়েটিকে 
দেখালো তার শান।

বখাটে দল ভয়ে পালায়  
মোড়ল মুখটি কালো,  
রসময় দাদু মেয়েটিকে  
ঘরে পৌঁছে দিলো।

 বয়স হলে চুল পাকে ভাই  
মনটা পাকাও সাথে,  
লোভ লালসা না ছাড়িলে  
মান যাবে তো পথে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বন্ধু মানে আলোর দিশা

লুটছে যত রাজভাণ্ডারী

বিদায়