নাতির অন্নপ্রাশন



রসের হাঁড়ি ফোকলা দাদু  
গরীব বেজায় ভারি,  
ছেলে করে গার্মেন্টসে কাজ  
টাকার ছড়াছড়ি।

নাতির হবে অন্নপ্রাশন  
জন্মদিনও সাথে,  
ধুম পড়েছে বাড়ি জুড়ে  
আলোর ঝলক তাতে।

ডেকোরেশন, লাইটিং, কেক  
ডিজে বাবু নাচে,  
মেন্যু দেখে চোখ ছানাবড়া  
মাটন বিরিয়ানি আছে!

দাওয়াত পেয়ে লোক এসেছে  
গাড়ি ভরা ভরা,  
সেলফি তুলে ফেসবুকে দেয়  
"দাদুর নাতির জোড়া"।

ফোকলা দাদু কোণায় বসে  
শুকনো হাসি হাসে,
ওষুধ পত্তর ক্যামনে কিনে
শ্বাস কষ্টে কাশে।

ছেলেকে চুপি ডেকে বলে  
"বাবা, ওষুধ শেষ,  
প্রেশারখানা বাড়ছে বড়  
দে না টাকা লেশ।"

ছেলে বলে, "আহা বাবা  
এখন বড্ড কাজ,  
পার্টি মিটুক, হাতে টাকা  
একদমই নেই আজ!"

দাদু ভাবে ত্রিশ হাজার  
উড়ল কেকে জলে,  
আমার ওষুধ পাঁচশো টাকা  
জুটল না তা বলে?

কানাঘুষো করে লোকে
"দাদু কী কষ্ট পেলে,  
নিজে নাখেয়ে কর্ম করে 
মানুষ করল ছেলে!"

"কোট-প্যান্ট পরে এখন  
বাবু হয়েছে ভারি,  
বাপের জন্য ওষুধ নাই  
আছে ফুর্তি জারি।"

দাদু শুনে দাঁত কেলিয়ে  
বলে, "আরে থামো,  
নাতির মুখে ভাত উঠেছে  
এটাই আমার দাম ও।"

"ওষুধ খেয়ে কী আর হবে  
দিন তো ফুরিয়ে এলো,  
নাতির হাসি দেখেই আমার  
প্রেশার নেমে গেলো!"

সবাই হাসে হো হো করে  
বলে, "দাদু রসের,  
পেটে ক্ষুধা, মুখে হাসি  
আপনিই তো বসের!"

শেষে ছেলের বউ এসে  
কানে কানে বলে,
"ঔষধটা আমি দেবো 
ফুর্তি করো ছলে।"

দাদু বলে, "তাই নাকি মা?  
তবে যে খোকা বলে—"  
বউমা হাসে, "ওটা ওনার  
পার্টির হিসাব তলে।"

ফোকলা দাদু হাসে এবার  
প্রাণ খুলে ভাই শেষে,  
নাতির মুখে পায়েস দিয়ে  
কাঁদে সুখের বেশে।

 লোক দেখানি ফুর্তি করে  
লাভটা কী আর বলো,  
ঘরের বুড়ো বাপ-মা'টারে  
সেবা করে চলো।  

ওষুধ দিয়ে,খাবার দিয়ে  
মনটা রাখো ভালো,  
নইলে নাতির অন্নপ্রাশন  
সবই হবে কালো।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বন্ধু মানে আলোর দিশা

লুটছে যত রাজভাণ্ডারী

বিদায়