স্বভাব পাল্টায় না



ধলেশ্বরী নদীর পাড়ে এক উঁচু টিলার গর্তে বাস করত এক শিয়াল। তার স্বভাব ছিল চুরি করা। হাঁস চুরি, মুরগি চুরি, এমনকি দিনদুপুরে দড়ি দিয়ে বাঁধা ছাগলকেও ধরে নিতে তার বাধত না। 
   গ্রামের লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে শিয়াল টিকে ধরার ফন্দি ফিকির করতে লাগল। 

একদিন গ্রামের লোকজন শিয়ালকে ধরে ফেলল। সবাই মিলে ঠিক করল, ‘এই চোর শিয়ালকে আজ ভালো করে সাবান দিয়ে স্নান করাব। গা থেকে চুরির গন্ধ দূর হলেই ওর স্বভাব পাল্টে যাবে।’

যেই কথা সেই কাজ। লাইফবয়, লাক্স, ডেটল—তিন পদের সাবান দিয়ে শিয়ালকে এমন ঘষা ঘষলো যে শিয়ালের লালচে লোম ঘষার চোটে সাদা হয়ে গেল। গায়ে আতর মাখিয়ে, নতুন ফতুয়া পরিয়ে তাকে মৌলবির কাছে নিয়ে তওবা পড়ানো হলো। 

শিয়াল কেঁদে কেঁদে বলল, “আজ থেকে আমি ভালো হয়ে গেলাম। চুরি ছেড়ে দিলাম। কসম, আর জীবনে চুরি করবো না।'

গ্রামবাসী খুশি। শিয়ালকে মসজিদের পাশে একটি কুঁড়ে ঘরে থাকতে দিল, দুবেলা খেতে দিল। তিনদিন সব ঠিকঠাক। চারদিনের দিন রাতে ফজরের আজানের আগে পাশের বাড়ির মুরগি খোয়াড়ে হুলস্থুল।

সবাই ছুটে গিয়ে দেখে, শিয়ালের মুখে মুরগি, আর সে দৌড়ে জঙ্গলের দিকে পালাচ্ছে। ধরতে গেলে সে পেছন ফিরে বলে গেল, “ভাইসব, গা ধুয়ে জাত পাল্টায় না। আর খাছলত? সেটা তো মরার পরেও পরিবর্তন হবে না। কবরে গিয়ে ইঁদুর চুরি করবে।”

গ্রামের মাতব্বর বিধু মণ্ডল দাড়ি নেড়ে বলল, “ঠিকই কয়। জাত যায়না ধুইলে আর খাছলত যায়না মইলে। সাবানে শরীর সাফ হয়, স্বভাব না।”
কথা ক' টি শেষ করে বিধু মণ্ডল হাসতে হাসতে বললেন আমি আরও একটি কাহিনী বলছি, সবাই মন দিয়ে শুনুন - 
 
' পাঁঠা কে যখন বলী দেওয়া হয় তার আগে পুরুত মশাই উচ্চ স্বরে মন্ত্র পাঠ করেন। কিন্তু যতই মন্ত্র পাঠ করুন না কেন, সেটা তো আর পাঁঠা শোনে না।'

—‘শিয়ালকে তুমি যতই শাসন কর আর পাঞ্জাবি পরাও, সুযোগ পেলে সে মুরগিই খুঁজবে।’
 ঠিক তদ্রুপ মানুষের বাইরের রং বদলানো যায়, কিন্তু ভেতরের রং বদলানো কঠিন। স্বভাব এমন জিনিস, কোনো শিক্ষাই তাকে পাল্টাতে পারে না। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বন্ধু মানে আলোর দিশা

লুটছে যত রাজভাণ্ডারী

বিদায়