জীবনের চরম সত্য

 

মানুষ জন্মায় শূন্য হাতে, আর এ পৃথিবী থেকে বিদায়ও নেয় শূন্য হাতে। মাঝে যে কয়টা দিন বেঁচে থাকে তার কর্মই তাকে পূর্ণ করে তোলে। এই পূর্ণতার জন্য সবচেয়ে বড় পাথেয় হলো—পরিশ্রম। আর সবচেয়ে বড় অন্তরায় হলো আলস্য।


আলসেমি এমন এক মারাত্মক ব্যাধি, যা বাইরে থেকে চোখে পড়ে না, কেউ বুঝতেও পারে না। কিন্তু ভেতরে ভেতরে মানুষকে নিঃশেষ করে দেয়। দিনের পর দিন সময় নষ্ট করে যে মানুষটি শুধু স্বপ্ন দেখে কিন্তু কাজ করে না—তার জীবনে দারিদ্র্য ছাড়া কিছুই আসে না। শুধু অর্থের দারিদ্র্য নয়, চিন্তা, মনন, আত্মবিশ্বাস—সবকিছুতেই একরকম শূন্যতা অনুভব করে। 


একজন অলস মানুষ সহজ কাজকেও কঠিন মনে করে। সে আশায় বসে থাকে, সে স্বপ্ন দেখে। কাজ করবে বলে চিন্তা করে কিন্তু কাজটা আরম্ভ করতে পারে না। আজ করবে কাল করবে বলে সময় নষ্ট করে কিন্তু সাহস করে কাজে হাত দেয় না। ফলে, জীবনের সম্ভাবনাগুলোও তার সামনে আসলেও মুছে যায় ধোঁয়ার মতো। আর তখনই সে অজুহাত খোঁজে। পরিবেশ, সমাজ, ভাগ্য সবকিছুকে দোষ দিয়ে নিজের দায় এড়িয়ে চলে।

   অন্যদিকে, একজন পরিশ্রমী মানুষ সকালে উঠে কাজে লেগে পড়ে—হোক না সেটা মাঠ চাষের কাজ, শ্রমের কাজ, হাট বাজারে দোকানদারি বা ব্যবসা কিংবা শিক্ষার্থীর পড়ালেখা। তার কপালে ঘাম ঝরে ঠিকই, কিন্তু সেই ঘামে লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের সুখ। সে জানে—ঘুম নয়, শ্রমের ঘামই দেয় শান্তি। বসে থাকা নয়, ছোটাছুটিই দেয় জীবনকে অর্থ।


পরিশ্রমী মানুষটি কখনো বড়লোক হোক বা না হোক, সে আত্মতৃপ্তিতে ধনী। তার হাতে কিছু থাকুক বা না থাকুক, তার চোখে স্বপ্ন থাকে বাস্তবায়নের সাহস নিয়ে। সে জানে, সফলতা মানে কোনো ম্যাজিক নয়—এটা ধৈর্য, অধ্যবসায় আর প্রতিদিনের ছোট ছোট চেষ্টার যোগফল।

আজকাল আমরা অনেকেই সারাদিন মোবাইল হাতে ব্যস্ত থাকি। তার মানে আমরা অলসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছি। মাঠে যদি কৃষক আলসেমি করে, তাহলে ফসল ফলবে না। ঘরে যদি গৃহিণী অলস হয়, তাহলে অশান্তি লেগেই থাকবে। ছাত্র যদি আলসেমিতে ভোগে, তাহলে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার ।

জীবনে শান্তির একমাত্র উপায় কাজ, কাজ, আর কাজ।

    আপনি যে পেশাতেই থাকুন, অথবা যেখানেই থাকুন না কেন—আপনার সৎ পরিশ্রমই আপনাকে সম্মান এনে দেবে, জীবনে শান্তি দেবে, এবং আপনাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। সময়কে সঙ্গী করে, দায়িত্বকে হাতে তুলে নিয়ে যে পথচলা শুরু করে—তার জীবনে ‘সুখ’ কোনো কল্পনা নয়, এক বাস্তব প্রাপ্তি।


আলস্য মানুষকে ধীরে ধীরে গহীন দারিদ্র্যে ডুবিয়ে দেয়, আর কর্ম মানুষকে ধীরে ধীরে জীবনের সোনালি প্রান্তে পৌঁছে দেয়।

তাই জীবনে সফল হতে হলে আলসেমিকে বিদায় দিয়ে পরিশ্রমকে আপন করে নিতে হবে। এইটুকুই যথেষ্ট আমাদের জীবনে অর্থপূর্ণ সুখ আনার জন্য।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বন্ধু মানে আলোর দিশা

লুটছে যত রাজভাণ্ডারী

বিদায়