ভুমি হীন
শিরোনাম: ভুমি হীন
কলমে: হিফজুর রহমান লস্কর
তারিখ ১৮/০৭/২০২৫
অচেনা শ্রমিক এক থাকে ভিখারির বেক
নদী চরে বাঁধিয়াছে ঘর।
নাম পরিচয় হীন কোথাকার সেই দীন
হেথা আসিল কেমনতর?
কবে কে দিল তাহারে হেথা ঘর করিবারে
জপতপ করে দিনভর।
রাজার আদেশে শেষে ধরে তারে নিয়ে আসে
সেদিন এক রাজার চর।
বুঝতে পারলো না সে কেনই বা কিবা দোষে
বন্দী করা হলো তারে আজ।
সে যে গরীব বেচারা দেয়না কেউ সাহারা
করেনি খারাপ কোন কাজ।
চর ধরে নিয়ে তারে পৌঁছে দিল দরবারে
সেথা তার হলো কারাবাস।
রাজার সেনারা এসে ঘরদোর দেয় পিষে
দেখে শুধু ফেলে দীর্ঘশ্বাস।
দেখে অভাগা শ্রমিক হয়ে উঠে নির্ভিক
করজোড়ে শুধায় রাজারে।
'আমি অতি দীনহীন তব দয়া চাই ক্ষীণ
কী দোষে দোষিছ আমারে।'
শুনে রাজচর বলে জানিস নাকি তাহলে
' জায়গাটা তো রাজার খাস।
বল তুই এই ক্ষণে রাজ অনুমতি বিনে
কেমনে গড়িলে এ আবাস?'
আঁতকে উঠিল তবে শ্রমিক কহিল এবে
'বহু কষ্টে রচিয়াছি ঘর।
তটিনী বালুর তীরে খালি জাগা পেয়ে ধীরে
বসতি গড়েছি মান্যবর!'
রাজ্য ময় জমি তবে বিরাট ভাণ্ডার ভবে
তবু কি উদর নাহি ভরে?
পথের কাঙাল যারা কেড়ে নাও তার সারা
বাসনাটা তবু যদি পুরে।'
'চুপ রহ্ শয়তান নেই কিরে কাণ্ডজ্ঞান '
রুষ্ট হয়ে কহে রাজ চেলা।
'আছে যত পান্থ শালা যত ভুমি নদী নালা
রাজাই তো মালিক এবেলা।
জানি তুই ভুমি হীনা তবু দিবে জরিমানা
সেইসাথে হবে দেশান্তর।'
হয়ে এবে নিরুপায় স্রষ্টারে ডেকে শুধায়
কাতর করুন কণ্ঠস্বর।
'বলো হে ধরার মালিক বুঝিনা কি যে সঠিক
বলো এ ভুমির মালিক কে?
তুমি যদি স্রষ্টা হও কেন চেয়ে বসে রও
ভুমি নিয়ে দ্বন্দ্ব এতো কিসে?
জানি আমি ভুমি হীন জন্ম থেকে আছি দীন
অভিযোগ কভু নাহি করি।
সৃষ্টি যদি তব হাতে কেন এ বিভেদ তাতে
ভুস্বামীরা চায় ভুরি ভুরি!
তাদের খড়্গ হস্ত সদা থাকে সন্ত্রস্ত
দুর্বলেরে করে অত্যাচার।
নিষ্ঠুর শোষক যারা শোষণে যে দিশেহারা
শোষিতরা পাবে কি বিচার?
শূন্য হাতে আসা ভবে শূন্য হাতে সবি যাবে
থেকে যাবে করে যাওয়া ঋণ।
সৃষ্টির ধারাই এই শূন্য হাতে যাবে সেই
সকলেই হবে ভুমি হীন ।
সাড়েতিন হাত মাটি সে মাটি টা হবে খাঁটি
কথাটা তো সকলেই সহে।
কেন আজি অপমান হৃদ ভেঙে খানখান
এ অপমান তোমারে না দহে?
ভুমিতে থাকিবে ভুমি যেতে হবে তারে চুমি
বসতির শেষ ঠিকানায়।
ডাকিবার নেই ভাষা তবু আছে মনে আশা
ঠাঁই পাবো তব আঙিনায়।'
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন