প্রেম ভালোবাসা ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব স্থাপনে এক অনন্য উৎসব " বড়দিন"
প্রবন্ধ: প্রেম ভালোবাসা ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব স্থাপনে এক অনন্য উৎসব " বড়দিন"।
রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর
তারিখ -১৬/১২/২০২৫
২৫শে ডিসেম্বর বিশ্ব জুড়ে যীশু খ্রীষ্টের জন্মদিন অর্থাৎ বড়দিন, ছুটির দিন হিসাবে পালন করা হয়। এটি মূলতঃ খ্রীস্টানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও বর্তমানে সারা বিশ্বে আনন্দ ভালোবাসা, উপহার দেওয়া নেওয়া ও মিলনের মাধ্যমে সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
মর্যাদার দিক দিয়ে এটি একটি বড় দিন কারণ পৃথিবীর বিশাল জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষই খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বী এবং তারা যীশুর দেওয়া ধর্ম ও দর্শনের অনুসারী। এছাড়াও ইংরাজী দিনপঞ্জির হিসাবে ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ থেকে দিন বড় ও রাত ছোট হতে আরম্ভ করে তাই এই দিনটিকে বড়দিন হিসেবে পালন করা হয়।
বড়দিন কেবলই ছুটির দিন নয়। বরং ক্ষমা ভালোবাসা ও বিশ্ব শান্তি তথা বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে সকলের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলার দিন। তাই এই দিনে বিশ্বজুড়ে চার্চ, স্কুল কলেজ, বাজার হাট, খোলা মাঠ সর্বত্রই , আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়। কোন কোন স্থানে এক্সমাস ট্রি (চিরসবুজ গাছ) লাগিয়ে তারকা রাজি জড়িয়ে আলোক সজ্জায় সজ্জিত করে উৎসব মুখর করে তোলা হয়। প্রার্থনা , নাচগানের আয়োজন ও বিভিন্ন ধরনের সুস্বাদু খাবারও বিতরণ করা হয়।
খ্রীস্ট ধর্মের প্রবর্তক যীশু খ্রীষ্টের মতে ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। তিনি একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। তাঁর মতে ঈশ্বররের সৃষ্ট মানুষকে ভালবাসাই ঈশ্বরকে ভালোবাসা। আর এটাই মুক্তির একমাত্র পথ। তিনি বলতেন," কেউ যদি তোমার ডান গালে চড় মারে, তারদিকে বাঁ গাল বাড়িয়ে দিও।"
একমাত্র ক্ষমা, দয়া ও ভালোবাসাই এই পৃথিবীকে একটি স্বর্গরাজ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। তাই তাঁর অনুসারীরা এই দিনে পৃথিবীর সর্বত্র গরীব দুঃস্থদের মধ্যে অর্থ ও বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করে এটা বুঝিয়ে দেয় যে মানুষ মানুষের জন্য। মানব সেবাই স্রষ্টার সেবা। কি আদর্শ বাণী! সত্যিই বিশ্ব শান্তি ও বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব গঠনে বড়দিন এক অনন্য উৎসব।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন