মিতালীর আত্মত্যাগ
শিরোনাম: মিতালীর আত্মত্যাগ
রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর
কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আজ সমাপ্তির দিন। সপ্তাহ বাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় যারা অংশ গ্রহণ করেছে আজ খোলা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর তাদের হাতে বিজয়ী সনদ পত্র ও ট্রফি তুলে দেওয়া হবে। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রতিযোগীরা অধির আগ্রহে অপেক্ষায়। একটু পরেই প্রধান অতিথির ভাষণ শেষ হলে পুরস্কার গ্রহণ করবে। মিতা অরফে মিতালী একেবারে সামনেই বসেছিল। খেলাধুলা নাচগান কবিতা আবৃত্তি বক্তৃতা সব বিষয়েই সে যে প্রথম পুরস্কার পাবে তা প্রায় সবারই জানা। তার সঙ্গী সাথীরা তার পাশে এসে বসেছে অভ্যর্থনা জানাতে। চীৎকার আর চেঁচামেচিতে কী হুলস্থুল কাণ্ড। অতিথিদের হাত থেকে সনদ আর ট্রফি নিতে নিতে মিতা যেন ক্লান্ত। সবার নজর এখন মিতার উপর। সঙ্গী সাথী সবার হাতেই তার পুরস্কার সামগ্রী। শেষ পর্যায়ে হঠাৎ ঘোষণা করা হলো স্টুডেন্ট অফ দা ইয়ার। কিন্তু এ ঘোষণা শুনে সবাই অবাক হয়ে গেল। এটাও যে মিতার ঝুলিতে যাবে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কারণ সবাই জানতো স্টুডেন্ট অফ দা ইয়ার দীপকই হবে। দীপক বি এ ফিফ্থ সেমিস্টারের ছাত্র এবং পুরো বছর কলেজে তার এক্টিভিটিই লক্ষ্যণীয় ছিল। কলেজের প্রত্যেকটি ব্যাপারে সে ই ছিল সবার নজরে। মিতার নাম ঘোষণা হতেই দীপক দৌড়ে এসে তাকে অভ্যর্থনা জানায় আর তার প্রশংসা পত্র ও ট্রফি গুলো দেখে তার সাথে কথা বলতে শুরু করে। কথা বলতে বলতে দীপক তার নাম ঠিকানা জিজ্ঞেস করে জেনে নেয়।
মিতা কলেজের অদূরে একটি গ্রামে বাস করে। ওর বাবার নাম দুলাল। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে সবার ছোট। গত বছর এইচ এস পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে পাশ করে সে এই কলেজে ভর্তি হয়েছে। কথা বলতে বলতে দীপক মিতাকে তার নাম ঠিকানাও জানাতে ভুলেনি। অনুষ্ঠান শেষে মিতা অন্যান্য সঙ্গীসাথীদের সাথে বাড়ির দিকে পা বাড়ায়। দীপকও কথা বলতে বলতে তাদের সঙ্গে এগিয়ে যায়। কিছুদূর গিয়ে সে মিতাকে বলল,' অনেক দিন থেকেই আমি তোমাকে ফলো করছি। তোমার চালচলন কথাবার্তা আমার খুব ভালো লাগে। অনেক দিন থেকেই তোমার সাথে কথা বলার ইচ্ছে হয় কিন্তু তেমন সুযোগ পাইনা। আজ তোমার সাথে কথা বলতে পেরে খুব ভালো লাগছে। তোমার সেদিনের ডিবেট কম্পিটিশনে আমি মুগ্ধ। Sex education এর সপক্ষে তোমার যুক্তিগুলো অসাধারণ। বিপক্ষ দল সহ উপস্থিত সকলেই তোমার যুক্তি একবাক্যে স্বীকার করে নিয়েছেন। আর আমি তা শুনে যেন কোথাও হারিয়ে গিয়েছিলাম। প্রতিটি কথা আমি জীবনেও ভুলতে পারবো না। সত্যিই আজকাল পড়াশোনা গ্রামেই চলে গেছে। শহরের ছেলেমেয়েদের তুলনায় গ্রামের ছেলেমেয়েদের সুযোগ সুবিধা অনেক কম। তবু তারা পড়াশোনায় অনেক ভালো।' দীপক একনাগাড়ে বলে গেল। দীপক যেন মিতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ইতিমধ্যে তারা স্টেশন পৌঁছে গেলে দীপক তাদের গাড়িতে উঠিয়ে ফিরে যায়।
দীপকের কথাগুলো মিতার কানে বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো। সে ওর ছোট বেলার সঙ্গী শীলাকে দীপক সম্বন্ধে নানা প্রশ্ন করে। শীলা সব কথার উত্তর দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে,' কিরে প্রথম দর্শনেই -----'
' ধ্যাত, কোথায় ও আর কোথায় আমি' -- মিতা ঢোঁক গিললো। মনে মনে ভাবতে লাগল সত্যিই কি ওর প্রতি তার কোন দুর্বলতা --?
####
দিনের পর দিন কলেজে তাদের কথাবার্তা ও মেলামেশা শুরু হয়। প্রথমে বন্ধুত্ব, দেয়া নেয়া। এক সময় দীপক তাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে। মিতা প্রথমে রাজি হচ্ছিল না। সে খুব ভালোই জানে দীপকরা শহরে থাকে, ওরা বড়লোক, ওর বাবা ব্যঙ্ক ম্যানেজার। আর সে গ্রামের সাধারণ একজন কৃষকের মেয়ে এবং নিম্ন বর্ণের। কোন অবস্থাতেই তিনি এ সম্পর্ক মেনে নেবেন না। তখন দীপক জোর করে, বলে,' আমার কাছে মানুষ তো মানুষই। আর ভালোবাসায় কোন জাত বিচার থাকে না। আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি এ পৃথিবীর কোন শক্তিই তোমাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারবে না।' শুরু হয় তাদের প্রেম পর্ব।
সেদিন সরস্বতী পুজো উপলক্ষে কলেজে বিরাট আয়োজন ছিল। পুজো শেষে সন্ধ্যার পর দীপক একান্তে মিলিত হওয়ার জন্য মিতাকে নিয়ে পাশে কোথাও নিয়ে যেতে চায়। মিতা ভয় পেয়ে যেতে না চাইলে দীপক দেবী সরস্বতীকে সাক্ষী রেখে প্রতিজ্ঞা করে মিতাকে সে জীবন সঙ্গী হিসেবে পেতে চায়। মিতা আশ্বস্ত হলে দীপক বলে,' জানো মিতা, আমি অনেক দিন থেকে তোমাকে মনের মধ্যে নিয়ে ঘর বাঁধছি। কখনো গঙ্গার ধারে কখনো পাহাড়ের চূড়ায়। তুমি কখনো আমাকে ভুল বোঝো না।'
দিন গড়িয়ে যায়। দীপক এক সময় বি এ পাশ করে। আরো দু' বছর পর ইন্টারভিউ দিয়ে ব্যাঙ্ক কেশিয়ার হয়ে ত্রিপুরায় চলে যায়। যাওয়ার আগে সে মাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে এবং এও বলে যে সে মিতাকে অবশ্যই জীবন সঙ্গী হিসেবে পেতে চায়। সব শুনে মা যেন আকাশ থেকে পড়লেন। তিনি দীপককে অনেক করে বোঝালেন যে,' ওরা নিচু জাতের, ওর বাবা সামান্য একজন গরীব কৃষক। কোথায় তোমার বাবা আর কোথায় ওরা, আকাশ পাতাল পার্থক্য। তোমার বাবা কোন অবস্থাতেই এ সম্পর্ক মেনে নেবেন না।' দীপক বলল,' মা, উঁচুনিচু জাতি ভেদ ওসব আমি বুঝি না। মানুষ তো মানুষই। আমি সব জেনেই ওকে কথা দিয়েছি, ওকে ছাড়া আমি বাঁচব না মা। চাকরিতে জয়েন করে দুমাস পর আমি আসবো। তুমি বাবাকে বুঝিয়ে সব ব্যবস্থা করে রেখ। আমি এসে ওকে বিয়ে করে সেখানে নিয়ে যাবো।' দীপক কর্মসূত্রে চলে গেল।
####
এদিকে বি এ পাশ করার পর মিতা পড়েছিল এক বিরাট সমস্যায়। বিভিন্ন জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসে। ওর ভয় মা-বাবা কোন দিন কাকে কথা দিয়ে বসেন। এজন্য সে মাকে একদিন ঘিরে ধরলো,' মা, তুমি তো সব জানোই। আমি দীপককে কথা দিয়েছি। মা ওকে ছাড়া আমি থাকতে পারবো না।' মা বললেন এব্যাপারে তিনি তার বাবার সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু বাবা দীপকদের সাথে সম্পর্ক করতে রাজি নন। তিনি মেয়েকে বোঝানোর চেষ্টা করেন,' ওরা বড়লোক, দীপকের বাবা কখনো এ সম্পর্ক মেনে নেবেন না। কাজেই তুই ওকে ভুলে যা।'
এরই মধ্যে একদিন মিতার বাবা এসে তার মাকে বললেন,' মধুপুরের তার পরিচিত এক ব্যক্তি তার নিজের জায়গায় একটি প্রাইভেট স্কুল খুলেছে এবং নিজের ছেলের সঙ্গে মিতার বিয়ে দিয়ে সেখানে স্কুল ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব দিতে চায়।' কথাটা মিতার কানে যেতেই সে দীপককে ফোন করে। ফোন পেয়ে দীপক দ্রুত বাড়িতে চলে আসে এবং মায়ের সঙ্গে কথা বলে। মা তাকে জানালেন যে তিনি তার বাবার সাথে কথা বলেছেন কিন্তু বাবা কোন অবস্থাতেই রাজি হননি। তখন দীপক সরাসরি বাবাকে মিতালীর কথা বলতে বাধ্য হয়। বাবা অগ্নিশর্মা হয়ে তাকে জানিয়ে দিলেন যে তার মানসম্মান বলে কথা। নিজে একটা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর হয়ে নিজের ব্যঙ্ক ম্যানেজার ছেলের সাথে একটা অজপাড়া গাঁয়ের কৃষকের মেয়ে,তাও আবার নীচু জাতির মেয়েকে তিনি জীবিত থাকা অবস্থায় ঘরে তুলতে পারবেন না। দীপক কী করবে ভেবে উঠতে পারল না। এমন সময় মিতালীর ফোন পেয়ে সে দেরি না করে চলে গেল তাদের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে সে জানতে পারল দুদিন পর মধুপুরের সেই রাজেন্দ্র নারায়নের ছেলের সাথে মিতার বিয়ে। দীপক মিতাকে ডেকে নিয়ে দুজন মিতার বাবার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো। মিতার বাবা পরিষ্কার বলে দিলেন,' আমরা ছোটলোক। তোমাদের মত সম্ভ্রান্ত পরিবারের সাথে সম্পর্ক আমাদের মানায় না। তোমার বাবা কখনো এ সম্পর্ক মেনে নেবেন না। মিছে মিছে আমি আমার মেয়ের জীবন নষ্ট করতে চাই না। তাই আমিও ওর বিয়ে ফাইনাল করেছি। কাজেই ভালোয় ভালোয় তুমি এখান থেকে চলে যাও। দীপক মাথা নিচু করে চলে যাচ্ছিল হঠাৎ মিতালী কঠোর হয়ে উঠলো। সে বলল,' বাবা তুমি আশীর্বাদ দাও, আমিও দীপকের সাথে চলে যেতে চাই। আমি বিয়ে করলে তাকেই করব না হলে তাদের বাড়িতে গিয়ে মরতে তো পারবো।' কথা বলতে বলতে সে দীপকের সাথে চলে গেল।
বাবার সাথে ঝগড়া করে এসেছে বলে দীপক বাড়িতে যেতে চায়নি কিন্তু মিতালী একগুঁয়েমি করে দীপককে নিয়ে তাদের বাড়িতে উঠলো। দিনেশবাবু তখন স্ত্রী ও ছোট ছেলের সাথে কথা বলছিলেন। সেই মুহূর্তে দীপকের মিতালীকে নিয়ে উপস্থিতি মারাত্মক রূপ ধারণ করলো, তিনি উঠে দাঁড়ালেন। ওমনি তিনি কোন কিছু বলার আগেই মিতালী তাঁর পা স্পর্শ করতে এগিয়ে গেল। দিনেশবাবু ছি ছি বলে পেছনে সরে গিয়ে দীপকের উদ্দেশ্যে বললেন,' তুই কেমন করে ভাবতে পারলি , এই নিচ ছোট জাতের বাচ্চাকে আমি মেনে নেব।' বাবার কথায় দীপক আত্মবিস্মৃত হল। সে বাবার মুখের উপর বলে উঠলো,' নিচ জাতি বলে কি সে মানুষ নয়? জাতপাত উঁচুনিচু এসব তোমার মতো শিক্ষিত মানুষরাই সৃষ্টি করেছে।' নিজের মুখের উপর ছেলের এতবড় কথা দিনেশবাবুর সহ্য হলো না। ঠাস করে দীপকের গালে এক চড় বসিয়ে দিয়ে বললেন,' দূর হ' বেইমান আমার সামনে থেকে। তোকে পড়িয়ে আমি একটা অমানুষ তৈরি করেছি, আমি তোর মুখ দেখতে চাই না। রাগে দুঃখে দীপকের মুখ লাল হয়ে গেল। সে আবার বলে উঠলো,' হতে পারে মিতা নীচ জাতির, হতে পারে ওর বাবা অশিক্ষিত কৃষক কিন্তু এরাই প্রকৃত মানুষ। এদের মতো মানুষ যারা এরা কোন দিন মানুষে মানুষে বিভেদ রাখে না। এসব একমাত্র তোমার মত শিক্ষিতের মুখেই শোনা যায়।' ছেলের এমন কথায় দিনেশবাবু হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পাশে থাকা কাঠের টুকরো দিয়ে দীপকের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। মা দীপককে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন। ভাগ্যিস আঘাতটা ওর মাথায় লাগেনি। দিনেশবাবু চিৎকার করে বলে উঠলেন,' তুই আর জীবনেও আমার বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবি না, তোকে আমি ত্যাজ্যপুত্র করে দেবো।'
দীপক রাতের অন্ধকারে মিতালীকে নিয়ে রাস্তায় পা বাড়ালো। তারা একটি কালী মন্দিরে গিয়ে মালা বদল করে বিয়ে করল। এসময় দিনেশবাবুর দুজন সহকর্মী ও আরো তিন চারজন লোক উপস্থিত ছিলেন। তারা দীপককে চেনেন। একজন সহকর্মী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলে সে সমস্ত ঘটনা খুলে বললো। সব শুনে তারা একবাক্যে তাকে অভিনন্দন জানালো। এর মধ্যে একজন বলে উঠলো,' তাহলে মানবতার জয় হল। আবারো প্রমাণিত হল প্রেম মানে না কোন জাতপাত।' তাদের আশীর্বাদ নিয়ে দীপক তারা রাতের ট্রেনে কর্মস্থলে পৌঁছালো। সেখানে একটি ভাড়াঘরে তারা বসবাস শুরু করলো। দীর্ঘ দিন তাদের কারো বাড়িতে কারো কোন যোগাযোগ নেই। তারাও উভয়েই ভুলে গেল নিজেদের মা-বাবা ও ভাইবোনদের কথা।
সেখানে তাদের দিন মোটামুটি সুখেই কাটছিল। চার বছর পর দীপকের ট্রান্সফার হলো গৌহাটি মেট্রোতে। ইতিমধ্যে তাদের এক পুত্রসন্তানের জন্ম হয়েছে। গৌহাটি মেট্রোতে জয়েন করে দীপক ছেলেকে একটি প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করে দিল। মিতালী দীপককে অফিস পাঠিয়ে ছেলেকে স্কুলে নিয়ে যায় আর ছুটি হলে বাড়িতে নিয়ে আসে। এটাই হলো এখন মিতালীর দৈনন্দিন রুটিন।
#####
দিন গড়িয়ে যায়। হঠাৎ একদিন দীপকের মামা তাকে ফোন করে জানান যে তার বাবার এক্সিডেন্ট হয়ে গৌহাটি জি,এন আর সি তে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। শুনে দীপকের মনটা অত্যন্ত খারাপ হয়ে গেল। সে অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে এসে বিছানায় শুয়ে শুয়ে চিন্তা করতে লাগলো। সে সেখানে যাবে কিনা তা নিয়ে ভাবতে লাগল। তার মন খারাপ দেখে মিতালী জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে? দীপক ঘটনাটি খুলে বললো। শুনা মাত্রই মিতালী বলল, ' তাড়াতাড়ি গাড়ি ডাকো, আমি ততক্ষণে ছেলেকে নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছি।' দীপক বলল,' কিন্তু ---'
'আর কোন কিন্তু নয়, আমাদের এখনই যেতে হবে। '
দীপক আবার ইতস্তত করে বলল,' যার কারণে ঘরে তোমার ঠাঁই হলোনা, যার কারণে আমি ঘর ছাড়া হলাম। আর সর্বোপরি যিনি মরলেও আমি মুখ দেখাব না বলেছেন।' মিতা মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বলে,' এতো কথার এখন সময় নয়, বাবার এক্সিডেন্ট হয়েছে, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তোমার কি মানবতা বলে কিছু নেই?' অগত্যা বাধ্য হয়ে দীপক গাড়ি ডাকলো। তারা দ্রুত সেখানে গিয়ে পৌঁছল। দীপককে দেখেই তার মা হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন। ছোট ভাই এগিয়ে এসে দীপককে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো। কাঁদতে কাঁদতে বলল,' দাদা, বাবার অপারেশনের জন্য দু লাখ টাকা এখনি জমা করতে হবে। কিন্তু আমার কাছে এতো টাকা নেই।' দীপক বলল,' কেঁদো না, আমি দেখছি।' সে ডাক্তারের সঙ্গে দেখা করে কথা বলল। একটু পরে নার্স বেরিয়ে এসে বলল এখনই দুই ইউনিট O positive blood এর প্রয়োজন। কিন্তু তাদের এখানে এই মুহূর্তে এই গ্রোপের কোনো blood নেই। উপায়ান্তর না পেয়ে তারা নিজেদের blood group test করলো কিন্তু কারো গ্রোপ মিললো না। মিতালী এগিয়ে এসে বলল,' আমার রক্তের গ্রুপ O positive. আমি রক্ত দিচ্ছি। অমনি সে রক্ত দিতে চলে গেল।
একটু পরেই ডাক্তার বেরিয়ে এসে বললেন,' অপারেশন সাকসেসফুল।' সবার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। এদিকে দুর্বল শরীরে এতো রক্ত দেওয়ায় মিতালী তখনও বিছানায় শায়িত।
দিনেশবাবু জ্ঞান ফিরে পেয়ে ডাক্তারকে ধন্যবাদ জানালে ডাক্তারবাবু বললেন,' ধন্যবাদ উনাকে জানান যিনি আপনাকে রক্ত দান করে এখনো বিছানায় কাতরাচ্ছেন। ' দিনেশবাবু এগিয়ে গিয়ে মিতালীকে দেখে তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,' মাগো, তুমি আমার চোখ খুলে দিলে। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।' মিতালী বাবার পা ছুঁয়ে বলল ' একি করছেন বাবা। আমি আমার কর্তব্য করেছি মাত্র।'
দীপককে পাশে ডেকে বাবা বললেন,' আমি তোর কাছে হেরে গেলাম বাবা, তোরা আমার সঙ্গে বাড়িতে চলে। আর যদি পারিস আমাকে ক্ষমা করিস।'
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন