সুখের আশায়
সিকন্দরের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। খুবই অভাবের সংসার। সামান্য যেটুকু জমি আছে আজকাল আর তাতে ক্ষেত কৃষি হয়না বললেই চলে। কৃষি কাজে যে খরচ হয় ফসল ফলিয়ে তাও পাওয়া যায় না। উপায়ান্তর না পেয়ে তাই সে ঘরে ঘরে দিন মজুরের কাজ করে। পরে গ্রামের এক মহান ব্যক্তির পরামর্শে এবং সহায়তায় কাঠমিস্ত্রির কাজ শুরু করে। অভাবের তাড়নায় বড় ছেলে রমিজ অল্প বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে বাবার কাজে সাহায্যের হাত বাড়ায়। তবুও সংসারের খরচ যোগাতে তাকে হিমশিম খেতে হয়। রমিজের মা রহিমা অসুস্থ আজ প্রায় তিন বছর হলো। কোমরে ব্যথা, বসে নুয়ে কাজ করতে পারেন না। ডাক্তার বেড রেস্ট নিতে বলেছেন। মাসে হাজার দুয়েক টাকার ঔষধ সেবন করতে হয় যা তাদের পক্ষে একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একদিকে স্ত্রী অসুস্থ অন্যদিকে মেয়ে দুটি এখনো ছোট, সবেমাত্র ক্লাস এইট নাইনে পড়ছে, তাই গৃহকর্মে সমস্যা দেখা দেয়। সিকন্দর স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে রমিজকে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করে। যদিও ছেলের বয়স কম, সবেমাত্র সতেরো আঠারো হবে তবু এ সময়ে ছেলেকে বিয়ে দেওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। রহিমা বেগম স্বামীর সাথে পরামর্শ করলেন নিজের বোনের একমাত্র মেয়ে রুমানা সদ্য মেট্রিক পাশ করেছে। মেয়েটি দেখতে খুবই সুন্দর এবং গৃহকর্মে সুনিপুনা। সর্বোপরি নিজের বোনের মেয়ে তাই একটু ভালো সেবা পাবেন এই সুখের আশায় রহিমা একপ্রকার জোর করেই বোনকে রাজি করে মেয়েকে ছেলের বউ হিসেবে ঘরে আনেন।
ছেলের বউ ঘরে এনে মা-বাবা খুবই খুশি। রুমানাও ঠিক নিজের মা-বাবার মত তাদের সেবাযত্ন করে। ছেলের বউ ঘরে আনার পর রহিমার অসুস্থতাও কমে যায়। কথায কথায় তিনি বলেন,' আমার লক্ষী বউ ঘরে আনার পর থেকে আমার অসুখ বিসুখ দূর হয়ে গেছে। সংসারের অভাবটাও এখন আর তেমন বুঝা যায় না। দেখতে দেখতে বছর ঘুরে আসল।
এরই মধ্যে রমিজের স্ত্রীকে হঠাৎ নার্সিং হোমে ভর্তি করতে হল। দুদিন পর ছেলে মাকে ফোন করে জানালো তার এক নাতনি হয়েছে। খবর পেয়ে সিকন্দর ও রহিমার আনন্দের সীমা নেই। ছেলের ফোন পেয়ে বাবা পাশের বাড়ির নন্দুর কাছ যান। ঘটনা নন্দুকে খুলে বলেন এবং ত্রিশ হাজার টাকা ধার চান। নন্দুর সাথে তার আগেই পরিচয় আছে। আগেও কয়েকবার এরকম টাকা ধার আনেন এবং সময়মতো সুদ সমেত পরিশোধ করেন। কাজেই নন্দু সময় নষ্ট না করেই জিজ্ঞেস করল, 'কত টাকা লাগবে?'
সিকন্দর বলল,' ত্রিশ হাজার টাকা।'
টাকা নিয়েই সিকন্দর দেরি না করে পৌঁছলেন নার্সিং হোম। ঐদিন বিকেলেই ছেলের বউ ও নাতনিকে নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরলেন।
নাতনি পেয়ে সিকন্দর ও রহিমা আনন্দে আত্মহারা। অভাবের মাঝেও ঋণ করে নাতনির আকিকা দিলেন। তাদের অভাবের সংসারে যেন সুখের ছায়া নেমে আসে। কিন্তু সুখের আয়ূ বড় স্বল্প। অল্প দিনের মধ্যেই রহিমার অসুখটা আবার বেড়ে গেল। এদিকে ঋণের বোঝা। মাস শেষে ঋণের টাকার সুদ বেড়েই চলে।
###
স্ত্রী আর ছেলের ভবিষ্যত চিন্তা করে রমিজ প্রথমে স্ত্রীর সাথে পরামর্শ করে, বাবারও বয়স হয়েছে তাছাড়া কাজও আগের মত পাওয়া যায় না , এদিকে ঋণের বোঝা। তাই সে বিদেশ যাবে স্থির করল।
পাঁচ ছয় মাস অতিক্রান্ত হল, ইতিমধ্যে রমিজ পাসপোর্টও ভিসা করে নিয়েছে। একসময় সে স্ত্রী কন্যাকে মা-বাবার কাছে রেখে দুবাই পাড়ি দিল।
তার পরিচিত গ্রামেরই একটি ছেলে ওখানে থাকে। ওর সাথে যোগাযোগ করে সে দুবাই গিয়ে ওর কাছেই উঠল। এরপর ওর সহযোগিতায় একটা কাপড়ের দোকানে সাহায্যকারীর কাজে যোগদান করল। মাসে ভারতীয় টাকায় ত্রিশ হাজার টাকা বেতন , থাকা খাওয়া ফ্রি। রমিজ কাজ পেয়ে খুব খুশি। সে প্রথমেই স্ত্রী ও মা-বাবাকে খুশির খবরটা জানাল। অল্প দিনেই রমিজ সেখানে সেটেল্ড হয়ে গেল। এবার সে মাসে মাসে বাবার কাছে টাকা পাঠাতে লাগলো। বাবা সে টাকা পেয়ে মুটামুটি স্বস্তি পেলেন। তারও শরীর দুর্বল হয়ে গেছে। এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। ছেলের পাঠানো টাকা থেকে মাসে কিছুটা ঋণ পরিশোধ করেন আর বাকি টাকা দিয়ে কোন রকম সংসার চলে।
এভাবে প্রথম দু'বছর খুব ভালোই চলল। এরপর রুমানার মধ্যে একটা পরিবর্তন সবাই লক্ষ্য করল। সে প্রায়ই ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত থাকে। পুরানো ক্লাসমেট ও সহপাঠীদের সাথে ওর যোগাযোগ খুব বেড়ে যায়। যা ওর শাশুড়ি ও ননদরা মেনে নিতে পারছিলেন না। এরই মধ্যে একদিন তার দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে বিবাহ অনুষ্ঠানে যাওয়া নিয়ে রমিজের ছোট ভাই বাবাকে এসে ওর সমন্ধে নালিশ করেছে। এনিয়ে শাশুড়ি ও ননদরা তাকে নানা প্রশ্ন করেন এবং তাকে কেমন যেন সন্দেহ করে বসেন। আর এখানেই অশান্তির সূত্রপাত।
কথাগুলো রমিজের কানে পৌঁছাতে সে এ ব্যাপারে রুমানাকে প্রশ্ন করলে সে উল্টো অভিযোগ করে। বোন দুটি স্কুল থেকে এসে সারাদিন আড্ডা দেয়, সন্ধ্যা হলেই পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকে, কোন কাজে হাত দেয় না। মা'ও কিছু করেন না, মেয়েকে কোলে নিয়ে পরিবারের সমস্ত কাজ তাকে একাই করতে হয়। তাছাড়া সে তো টাকা পাঠায় বাবার নামে সুতরাং সে নিজের জন্য বা বাচ্চার জন্য কোন প্রয়োজনীয় জিনিসও কিনতে পারে না। একথা গুলো সে আগেও রমিজকে বলেছে কিন্তু কোন লাভ হয়নি। তাই সে রাগে আরো ফুঁসতে থাকে।
###
এরই মধ্যে একদিন ঈদের পূর্ব মুহূর্তে রুমানা শাশুড়িকে টাকা দেওয়ার জন্য বলেছিল, নিজের এবং মেয়ের কাপড় কেনার জন্য আর ওখানেই বিপত্তি। মা অগ্নিশর্মা হয়ে বললেন,' কাপড় কেনার জন্য তুমি যাবে কেন, তোমার শশুর এখনো জীবিত আছেন। তিনিই সবার জন্য যা আনতে হয় আনবেন।'
রুমানার এবার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। সে বলেই ফেলল ,' আমার স্বামী প্রবাসে থেকে কষ্ট করে বাড়িতে টাকা পাঠাচ্ছেন, অথচ আমি এক কানাকড়িও পাই না। নিজের কি কোন প্রয়োজন থাকতে পারে না?'
এ নিয়ে ননদ আর দেবরের কত খোঁচা তাকে সহ্য করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত একদিন গালাগালি আর তর্ক বিতর্কে অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েকে কোলে নিয়ে সে বাবার বাড়ি চলে গেল।
সেদিন রাতে ফোনে রমিজের সাথে এ ব্যাপারে তার অনেক কথা হয়েছে। রমিজ তাকে অনেক করে বুঝিয়ে বলেছে,' অভিমান ছাড়ো, মেয়েকে নিয়ে বাড়ি যাও। ওর পড়ার বয়স হয়েছে, ওকে পাশের প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি কর। মা-বাবার বয়স হয়েছে, তাদের দেখভাল কর।' কিন্তু রুমানা সে কথায় কান দেয়নি।
পরদিন রমিজ আবার রুমানাকে ফোন করে বোঝালো, "প্রবাসের জীবন বড়ই কঠিন। মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয় স্বজন এবং সর্বোপরি নিজের স্ত্রী সন্তান রেখে প্রবাসে বড় কষ্টে দিন কাটে। শুধু মাত্র ভবিষ্যৎ সুখের আশায় দিন রাত পরিশ্রম। যারা প্রবাসে থাকে একমাত্র তারাই এর মর্ম বুঝতে পারে। " সব শুনে রুমানা বলল,' ঠিক আছে আমি এখানে থেকে মেয়েকে শহরের প্রাইভেট স্কুলে ভর্তি করে দেব। আমি নিজের নামে একাউন্ট করবো, তুমি মাসে মাসে আমাকে টাকা পাঠাবে।'
এ নিয়ে অনেক কথা কাটাকাটির পর একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে রমিজ অবশেষে তাতে রাজি হল। সিদ্ধান্ত হল এখন থেকে সে রুমানার নামে মাসে দশ হাজার টাকা পাঠাবে।
রুমানা এবার মেয়েকে শহরের নামিদামি প্রাইভেট ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করল। রোজ নিজে মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যায় এবং ছুটি হলে ফেরত নিয়ে আসে। মেয়েকে তো ভালো স্কুলে ভর্তি করল ঠিকই কিন্তু ওর প্রতি কোন যত্ন নিল না। বরং নিজের অবাধ স্বাধীনতাটুকু যেন লাভ করল। মেয়েকে স্কুলে দিয়ে সারাদিন কোথায় যায় কোথায় থাকে কেই বা তার খবর রাখে। সঙ্গী সাথীদের নিয়ে অবাধ চলাফেরা এবং স্বাধীনতা রুমানাকে বিপথে নিয়ে যেতে লাগল।
যাদের সঙ্গে সে মেলামেশা করে তাদের মধ্যে একটা ছেলে যার নাম জাহেদ, রোজই বাইক নিয়ে আসে। কতক্ষন স্কুলের পাশে বসে কথা বলত তারপর তাকে বাইকে করে অন্য কোথাও ঘুরতে চলে যেতো। এভাবে দিনের পর দিন তাদের সম্পর্ক গভীর থেকে গভীরতর হতে লাগলো। এক সময় রুমানা তার সাথে নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখে।রুমানা ভুলে গেল সে বিবাহিতা এবং এক সন্তানের মা।
একদিন জাহেদ রুমানাকে বলল,' আমি খুব সমস্যায় আছি, আর এ সমস্যার সমাধান একমাত্র তুমিই করতে পার। '
রুমানা বলল,' কি এমন সমস্যা?'
জাহেদ বলল,' আমি একটা চাকরির ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম। গতকাল খবর এসেছে, আমি সিলেকশন পেয়েছি। কিন্তু অর্ডার আনতে গেলে টাকার প্রয়োজন। তাও অনেক বড় এমাউণ্ট। এখন কি করি, এমন সুযোগ তো হাতছাড়া করা যায় না।'
রুমানা জিজ্ঞেস করল,' কত টাকার প্রয়োজন?'
জাহেদ,' দেড় লক্ষ, যা আমার পক্ষে অসম্ভব।' জাহেদের হায় হুতাস দেখে রুমানা বলল,'আমি কিছুটা সাহায্য করতে পারি। তোমার কাছে কত আছে?'
জাহেদ বলল,'রাতে বাবাকে বলেছিলাম, তিনি বললেন তার কাছে মাত্র পঞ্চাশ হাজার আছে।'
রুমানা এতই বিভোর হয়েছিল যে আগামাথা কিছু না ভেবেই বলে উঠলো,' ঠিক আছে আমি এক লক্ষ টাকা দিতে পারি, তবে আমার স্বামী বাড়িতে আসার আগেই তা ফেরত দিতে হবে।' জাহেদ খুব খুশি হয়ে বলল,' অবশ্যই দিতে পারব। আগামী মাসে বাবার পাঁচ লক্ষ টাকার এল,আই,সি একটা ম্যাচিওর্ড হবে। সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেব।'
পরদিন রুমানা ব্যাঙ্ক থেকে এক লক্ষ টাকা তুলে এনে দিল। রোজ এভাবে দেখা সাক্ষাৎ, মেলামেশায় রুমানা এতই বিভোর হল যে পরের সপ্তাহে জাহেদ অভিনয় করে চাকুরীর নামে মিথ্যা অজুহাতে আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা তার কাছ থেকে নিয়ে গেল।
###
ইদানিং রমিজ ফোন করে প্রয়ই রুমানাকে ব্যস্ত পায়। কখনো বা ফোন ধরলে বেশীক্ষণ কথা বলতে চায়না। কখনো বা ফোন করে মেয়ের সাথে কথা বলতে চাইলে সে বলে মেয়ে পাশে নেই। এভাবে দিনের পর দিন তাদের যোগাযোগ কম হতে লাগলো। রমিজের ও রুমানার প্রতি সন্দেহ বাড়তে লাগল।
রুমানার এভাবে দৈনন্দিন চলাফেরা শেষ পর্যন্ত রমিজের কানে পৌঁছল। তার বাড়ি থেকে প্রায়ই রুমানা সম্পর্কে বাজে কথা শুনতে হয়। প্রথমে সে বিশ্বাস করেনি। পরে তার বন্ধু মহল থেকেও স্ত্রীর চরিত্র নিয়ে তার কাছে ফোন যেতে লাগল। কথাগুলো জানতে পেরে সে রুমানাকে জিগ্যেস করে কোন সদুত্তর পায়নি। ফলে এক বুক জ্বালা নিয়ে তাকে প্রবাসে থাকতে হল।
এভাবে আরো এক বৎসর অতিক্রান্ত হলে এবার রমিজ বাড়ি আসল। কিন্তু বাড়িতে এসে ভাইবোনদের কাছে রুমানার বৃত্তান্ত শুনে সে পাগলের মত হয়ে স্ত্রী এবং মেয়েকে আনতে শশুর বাড়ি গেল। কিন্তু রুমানা পরিষ্কার জানিয়ে দিল সে এবাড়িতে আর আসবে না। এনিয়ে অনেক তর্ক বিতর্কের পর সে বলল যদি শহরে থাকার ব্যবস্থা করতে পারে, তাহলে তার সঙ্গে আসবে না হলে সে আসবে না। তখন রমিজ ব্যাঙ্কে টাকা কেমন আছে জিগ্যেস করলে সে বলল তার কাছে কোন টাকা নেই। উল্টে তাকে প্রশ্ন করে,' তুমি দীর্ঘ ছয় সাত বছর পর বাড়িতে এসেছ , কত টাকা নিয়ে এসেছ? পারবে কি শহরে একটা ঘরের জায়গা কিনতে? '
রমিজ বলল,' টাকা তো আমি তোমার কাছে পাঠিয়ে দিলাম।' এনিয়ে তাদের মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয় এবং এক সময় রুমানা ডিভোর্স চায়। রমিজ ডিভোর্স দিতে অস্বীকার করে এবং মেয়েকে নিয়ে যেতে চায়। মেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। রমিজ জোর করে মেয়েকে নিয়ে চলে যায়।
###
ঐদিন রাতে রুমানা জাহেদকে ফোন করে ঘটনার বিস্তারিত বলে এবং এখনই সে জাহেদের সঙ্গে চলে যেতে চায় বলে জানাল। জাহেদ অবাক হয়ে বলল,'একী, এসব কী বলছ তুমি?' এসব পাগলামি ছাড়ো। তোমার স্বামী আছে সন্তান আছে। তুমি কিভাবে আবার বিয়ে করার চিন্তা করলে? '
রুমানার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। সে বলল,' এতদিন থেকে তুমি তো তাই বললে,আজ হঠাৎ দেখি তুমি বদলে গেলে! তোমার সাথে ঘর করব বলেই তো একটু সুখের আশায় আমি উনার সাথে ঝগড়া করেছি। আমার এতগুলো টাকা -' মুখ থেকে কথা কেড়ে নেয় জাহেদ। বলে,' কিসের টাকা? সেটা পরে দেখা যাবে। ঘর করবে মানে? তুমি কিভাবে ভাবতে পারলে আমি তোমাকে বিয়ে করব? আমার বাড়িতে কেউ কি তোমাকে মেনে নেবে? বরং তুমি তোমার স্বামীর কাছে ক্ষমা চেয়ে বাড়িতে চলে যাও। আমাকে আর বিরক্ত কর না।' এতটুকু বলেই সে ফোন কেটে দেয়।
একটু পরে রুমানা আবার ফোন করলে সে ঐ একই কথাই বলে। এবার সে একটু রাগ করেই বললো,' তুমি এটা ভাবলে কিভাবে, একটা বিবাহিতা সন্তানের জননী, তোমাকে আমি বিয়ে করবো? তাছাড়া তুমি যখন স্বামী সন্তান ছেড়ে আমাকে চাইছো - কয়েকদিন পর তুমি আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে চাইবে না বলে কি গ্যারান্টি আছে?' এমন দুশ্চরিত্রা মেয়েকে কে বিয়ে করবে? তুমি আর কখনো আমাকে ফোন করে বিরক্ত করো না। আর তুমি এই নাম্বারে ফোন করলেও আমাকে পাবে না।' এতটুকু বলে সে ফোন কেটে দেয়।
রুমানা বার বার ফোন করার চেষ্টা করে কিন্তু সেটা দেখায় আউট অফ নেটওয়ার্ক। রুমানা এবার নিজের ভুল বুঝতে পারল। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। নিজের হাতে সে নিজের মাথায় মারতে লাগলো।
####
এদিকে রমিজের ছোট ভাই জ্বেদ ধরে বসে আছে। দীর্ঘ পাঁচ ছয় বছর রমিজ বাড়িতে কোন টাকা দেয়নি, মাঝে মধ্যে খুব বিপদে মায়ের ওষুধের জন্য যা সামান্য দিয়েছে। অথচ বাড়িতে এসে বলছে তার কাছে কোন টাকা নেই। একথা কেউই বিশ্বাস করতে পারছেন না। তাদের মতে রমিজ মিথ্যা কথা বলছে। এ অবস্থায় তারা রমিজকে বাড়িতে থাকার জায়গাই দিতে চায়নি। এনিয়ে অনেক ঝগড়াঝাঁটিও হয়েছে।
কিন্তু রমিজ যে সুখের আশায় প্রবাসে গিয়েছিল এবং এ দীর্ঘ প্রবাস জীবনের শ্রমের যে যৎ সামান্য উপার্জন কোথায় হারালো তা কাউকে বলতেও পারলনা। পরে অবশ্য কিছু লোকের মধ্যস্থতায় একটি ঘরে থাকার জায়গা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মেয়েকে নিয়ে কিভাবে খাবে আর কিভাবে বাঁচবে এ ভাবনায় রমিজ দুচোখে আঁধার দেখতে লাগলো।
(সমাপ্ত)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন