ভুতের ভয়

শিরোনাম: ভুতের ভয় 

সেদিন কালীপুজোর রাত। ঘুটঘুটে অন্ধকার এবং গুঁড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। যাত্রা দেখে বাড়ি ফিরছিলাম। রাত তখন আনুমানিক দুটো। গ্রামের গলি পথে যখন পৌঁছলাম তখন আমি একেবারে একা। 
নির্জন গলিপথে কতদূর যাওয়ার পর হঠাৎ দেখি আগে আগে কে জানি খুব ধীরে ধীরে হেঁটে যাচ্ছে। গায়ে কালো জামা, খুব মোটাসোটা। ফিসফিস করে কি যেন বলছে আর মাথা নাড়ছে। ভয়ে ভয়ে আরও একটু এগিয়ে যাই, দেখি বিড়ি ফুঁকছে। সাহস সঞ্চয় করে জিগ্যেস করলাম,' কে?' কোন কথা না বলে লাফ দিয়ে গাছের ডালে উঠে গেল এবং খুব জোরে ডাল ধরে ঝাঁকুনী দিতে লাগল। চেয়ে দেখি খিলখিল করে দাঁত বের করে হাসছে আর চোখ থেকে যেন আগুন ঝরছে। তার কালো লম্বা চুল মাটি পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছে। ভয়ে ভয়ে পেছন দিকে দু কদম সরতেই শুনি পেছনে খাঁ খাঁ শব্দ। পাশের জঙ্গলে কারা যেন কান্নাকাটি করছে। একসঙ্গে চতুর্দিক থেকে হাসিকান্না আর চিৎকার চেঁচামেচিতে গা ছমছম করে উঠলো। বুঝলাম ভুতের আড্ডায় ফেঁসে গেছি। অমনি সম্বিৎ হারিয়ে ফেলি। গত্যন্তর না পেয়ে চোখ বন্ধ করে খুব জোরে দৌড় দিলাম আর চিৎকার করে বললাম আমি ভয় করি না। মুখে যদিও ভয় করি না বললাম কিন্তু ভয়ে আমার প্রাণ অষ্ঠাগত।
কতদূর গিয়ে একটা তারের খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে সম্বিৎ ফিরে এল। চেয়ে দেখি আমি একা, কেউ নেই। খুঁটিতে ধাক্কা খেয়ে মাথা থেকে রক্ত ঝরতে লাগল। ঘামে সমস্ত শরীর ভিজে গেছে। আজও মনে পড়লে গা শিরশির করে। কিন্তু এটা কি সত্যিই ভুতের তাণ্ডব না আমার মনের ভুল ছিল তা আজও আমার কাছে রহস্য হয়েই রইল।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বন্ধু মানে আলোর দিশা

লুটছে যত রাজভাণ্ডারী

বিদায়