সুখের সংসার

সুখের সংসার
রচনা- হিফজুর রহমান লস্কর
তারিখ- ১৪/১২/২০২০

শহরের এক পাশে রবি তার স্ত্রীর সাথে
গড়িল সুখের সংসার।
ছোট শিশু বুকে নিয়ে ভবিষ্যত স্বপ্ন আঁকে
ঘুচিবে অভাব আঁধার।
পথে পথে ফেরি করে রোদ বৃষ্টি সমহারে
নেই বিতৃষ্ণার লেশ।
এই আশায় বুক বাঁধে ছেলেটিকে শিক্ষা দিবে
হয়তো ঘুচিবে দৈন্য বেশ।
দিন যায় ক্ষণ যায় ছেলেটিও বড় হয়
পড়াশোনায় মতি তার বেশ।
দুঃখিনী মায়ের মুখ দেখিল আলোর সুখ
ছেলে তার হল ডাক্তার অবশেষ।
স্বামী স্ত্রী দুজনাতে আত্মহারা সুখে এবে
বিধাতার কি অপার মহিমায়।
বয়স হয়েছে এবে বিয়েওতো দিতে হবে
ভেবে স্থির করিল তথায়।
পাড়া গায়ের রজনীর জায়া সুন্দরী যেন মহামায়া
ছেলেরও পছন্দ আছে তাই।
বিয়ে দিয়ে ঘটা করে আনিল বউ'টি ঘরে
মা বাবার সুখের অন্ত নাই।
ধন্য ধন্য করে সবে এমন বউ কে পায় কবে
ছেলে-মেয়ে যেন এক সম।
কিন্তু একি হল হায় কি রচিল বিধাতায়
সুখের আয়ু যে বড় কম।
মায়ের অসুখ হল অবহেলা দেখা দিল
সর্বত্রই অসহ্যের ছাপ।
কোথায় খাবার দেওয়া কোথায় ঔষধ সেবা
উল্টে বকুনি আর অত্যাচারের তাপ।
ছেলেতো কর্তব্যে রত পালিছে সে নিজ ব্রত
স্ত্রীর কাছে মা-বাবার দায়।
বউয়ের এখন অন্য রূপ শাশুড়ীকে ভাবে বোঝ
বৃদ্ধ বয়সে যেন অসহায়।
সাধের ডাক্তার ছেলে একটুও বুঝতে না পেলে
ঝগড়া আর অনাহারে ভুগে মা-বাবায়।
যখন সে বুঝতে পেল সময় অন্তিম হল
বউকে শাসাল তথায়।
যাদের কারণে আজ পেয়েছ বৌরানী সাজ
তাদের করিছ অপমান?
বলে একটু ধৈর্য ধরো মা বাবায় আপন করো
ত্যাগ কর যত স্বাভিমান।
সেই দিন হতে বউ ত্যজিল সকল ভুল
ক্ষমা চেয়ে মা বাবায়।
সংসার সুন্দর হল মা বাবাও মর্যাদা পেল
পুরানো সুখ ফিরিল তথায়। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বন্ধু মানে আলোর দিশা

লুটছে যত রাজভাণ্ডারী

বিদায়