ভুতের পেচ্ছাপ

রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর

সেদিন অমাবস্যার রাত। ঘোর অন্ধকার। শ্রাবণ মাস প্রায় শেষ। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। বিনোদ বিহারীর ছেলে বিরেন সান্ধ্য আড্ডা শেষ করে বাড়ি পৌঁছতেই বাবা অগ্নিমূর্তি ধরে জিজ্ঞেস করলেন,' এতক্ষণ কোথায় ছিলে?' দুধের গাইটা যে এলোনা। এখুনি যা ওটাকে খুঁজে নিয়ে আয়, নাহলে আজ তোর খাবার বন্ধ।' বাবার ধমক খেয়ে অগত্যা তাকে আবার বেরুতে হল। রাতের অন্ধকারে কোথায় গিয়েই বা খুঁজবে! ভয়ে ভয়ে পাশের বাড়ির মদনকে ডেকে নিয়ে আসলো। মদনই ওর একমাত্র বন্ধু যে তাকে এই বিপদে সাহায্য করতে পারে।
দু' বন্ধুতে মিলে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভিজে রাতের অন্ধকারে এবাড়ি ওবাড়ি এরপর সামনের ডোবা পেরিয়ে মাঠের বড় মন গাছটার নিচে যেতেই দেখে ওখানে কি একটা দাঁড়িয়ে আছে। মনে হলো গরুটাই। কিন্তু একী? এই অসময়ে এখানে আলো দেখা যাচ্ছে। মদন আঁচ করলো একটি মশাল জ্বলছে। দুজন ভয়ে ভয়ে আরো একটু এগোল। আরও একটু ----। তারা যতই এগিয়ে যায় ঐ গাছ এবং মশালটা ততই দূরে সরে যাচ্ছে। এদিকে আবার মশালের আবছা আলোয় গাছের নিচে কি যেন দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে গরুর হাম্বা হাম্বা ডাক ও শুনা গেল।
একদিকে ভয় আর একদিকে নিজের গরু। আরও একটু এগিয়ে যেতেই বিরেন বলে উঠলো ' ঐতো আমার গাভীটিই ডাকছে।
মদন বলে উঠলো ' গাভী না ছাই।' মদনের শরীর ভয়ে ঘামতে শুরু করলো। সে হাত বাড়িয়ে বিরেনকে ধরে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বললো ' এই তুই এটা কি দেখছিস? কথা ক'টি শেষ হতে না হতেই গাছ থেকে জল পড়ে দুজনকে ভিজিয়ে দিল। 
ইস্ সর্বনাশ, ভুত পেচ্ছাপ করেছে বলেই দুজন একসাথে ভু--- ভু--বলে চীৎকার করতে করতে পালাতে শুরু করলো। 
তারা যতই দৌড়ায় মশালটাও তাদের পিছু পিছু দৌড়াতে শুরু করলো।
ডুবা পার হয়ে একসময় অলিগলি হয়ে দুজন গ্রামের একটা দোকানে আশ্রয় নিল। তখনো দুজনের চোখে মুখে ভয় আর বিষণ্ণতার ছাপ পরিলক্ষিত হচ্ছিল। ভু--ভু--বলে তখনও দুজন হাঁফাচ্ছিল। কোন কথাই বলতে পারছিল না।
দোকানী তাদেরকে থামানোর চেষ্টা করল। কিন্তু তারা থামলোই না। ওরা সোজা পালিয়ে গেল। 
           এদিকে মশালটা দৌড়াতে দৌড়াতে এখানে এসে থামলো। দোকানী চেয়ে দেখল বছর দশেকের একটা ছেলে হাতে মশাল নিয়ে দৌড়াচ্ছে। তাকে জিজ্ঞেস করে জানা গেল, সে তার দাদুর বাড়ি নেমন্তন্ন খেতে গিয়েছিল। রাত হয়ে যাওয়ায় সে মশাল হাতে নিয়ে আসছিল। হঠাৎ ঐ দুজন ভুত ভুত বলে চীৎকার করায় সে প্রাণ ভয়ে তাদের পিছু পিছু দৌড়ে আসছিল। 
দোকানীর বুঝতে বাকি রইলো না যে ওরা এই ছেলেটাকে ভুত মনে করে পালাচ্ছিল। আর ছেলেটিও ভুতের ভয়ে তাদের পিছু পিছু দৌড়াচ্ছিল।
পরে দিনের আলোতেও তাদের সেই ভুতের ভয়টা থেকেই গেল। কারণ মশাল হাতে যদি ছেলেটাই ছিল তাহলে তাদের উপর পেচ্ছাপটা কে করলো?
হয়তো গাছের পাতায় জমা হয়ে থাকা জল গড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু ওরা তা মানতে নারাজ।
আজও মনে হতেই গা শির শির করে উঠে। আজও তাদের বদ্ধমূল ধারণা ওটা ভুতের পেচ্ছাপ ছিল।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বন্ধু মানে আলোর দিশা

লুটছে যত রাজভাণ্ডারী

বিদায়