সতর্কতাও জরুরি
রচনা: হিফজুর রহমান লস্কর
সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রমের পর সন্ধ্যায় একটু বিশ্রাম নিতে রুমে শুয়েছিল দিব্যেন্দু। হঠাৎ দরজায় খট খট শব্দ। অনিচ্ছা সত্ত্বেও উঠে দরজা খুললো। 'আরে এ যে বিধান।' এই অবেলায় বিধানকে হন্ত দন্ত অবস্থায় এখানে দেখে দিব্যেন্দু তো অবাক। সেই হাইস্কুলে একসঙ্গে পড়া। তার পর প্রায় দশ/বারো বছর। সে এখন বেঙ্গালুরুর একটা নামীদামী কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার। যেমন করেই হোক ওর ঠিকানা কালেকশন করে বিধান এখানে এসেছে সেই ছাত্রজীবনের বন্ধুর খোঁজে। কি করবে ভেবে পায়না দিব্যেন্দু।
বিধানের চোখে মুখে কেমন যেন একটা আতঙ্কের ছাপ। মনে হলো ঠিকই খুব মারাত্মক কোন বিপদে পড়ে এসেছে।
জল পান করে বিধান একটা চেয়ারে বসলো। তখনও সে হাঁফাচ্ছিল। বললো 'আর এক গ্লাস জল দে। '
দিব্যেন্দু জল দিয়ে বলল 'তুই বস আমি চা করছি।'
দু' বন্ধুতে মিলে চা পান করল। অতঃপর রাতের খাবার শেষ করে শুয়ে পড়বে এমন সময় দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ। শব্দটা আঁচ করতে পেরে বিধান পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।
দিব্যেন্দু সদর দরজা খুললো। কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই ছয় /সাত জন পুলিশ ঘরে প্রবেশ করল।
পুলিশ অফিসার জিজ্ঞেস করল ':একটু আগে এখানে কে এসেছিল, এবং এখন সে কোথায়?'
এরপর তল্লাশি। দিব্যেন্দুর বেডের নীচে রাখা বিধানের ব্যাগ থেকে বেরিয়ে আসলো কিছুটা কাগজ পত্র, অনেক গুলো টাকা আর একটা রক্তাক্ত রুমাল।
'ইউ আর আণ্ডার এ্যারেস্ট।'
বিশ্বাস করুন ' এ ব্যাগটা আমার নয়, আমার ছোট বেলার এক বন্ধুর।' কথা ক' টি শেষ করে ফিরে চেয়ে দেখে বিধান চলে গেছে।
দিব্যেন্দু আর কিছু বলার সুযোগই পেলনা।
সে কারণ জানতে চাইলে পুলিশ অফিসার বললেন, 'রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ীতে একটি লাশ পড়ে আছে। আর ঐ গাড়ীতে থাকা সব কাগজপত্র ,আর টাকা গুলো এই ব্যাগে, যা আপনার বেডের নীচে পাওয়া গেছে।'
দিব্যেন্দু বার বার একটি কথাই বলছিল ' বিশ্বাস করুন, আমি কিছু জানিনা, এ ব্যাগটা আমার নয়।'
কিন্তু কে কার কথা শোনে। এদের মধ্যে কয়েকজন দিব্যেন্দুকে চেনে। ওরা জানে দিব্যেন্দু অত্যন্ত সহজ সরল এবং সৎ লোক। তথাপি---।
বন্ধুকে বিশ্বাস করে আশ্রয় দিয়ে সে ফেঁসে গেল। দিব্যেন্দুকে ওরা ধরে নিয়ে গেল।
যাওয়ার সময় একজনকে বলতে শুনা গেল ' শুধু সততাই যথেষ্ট নয়, তার সঙ্গে সতর্কতাও অত্যন্ত জরুরি।'
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন