অশ্রু ঝরা কান্না
অশ্রু ঝরা কান্না
হিফজুর রহমান লস্কর
তারিখ-২৪/০৯/২০২১
একটি অনাথ পথ শিশু
ক্ষুধায় কাতর দু চোখে অশ্রু।
দিন শেষে রাত্রির অন্ধকার
আপন মনেই বলছে, মাগো বড়ো বিচিত্র এই দুনিয়া
ওরা আমায় খেতে দেয়না।
বললাম আমি ক্ষুধার্ত তিনদিন হলো
পেট ভরে খেতে পাইনা
কেউ শুনলোই না।
অথচ আমার সামনে কুকুর কে দিয়ে এলো
এক থালি ভাত।
ওরা কুকুরের ক্ষুধা বুঝতে পারে।
অথচ আমার মুখে কী বিষণ্ণতার ছাপ।
ক্ষুধা তৃষ্ণায় প্রাণ ওষ্ঠাগত।
ওরা বিরক্তি বোধ করলো
পাশ কেটে চলে গেল।
দুচোখ বেয়ে অশ্রুধারা গড়িয়ে পড়লো
কেউ তা দেখালো না।
কি বিচিত্র তাইনা?
ওরা সব দেখে। এদের দৃষ্টি শক্তি খুবই প্রখর।
ওরা মানুষের পেটের ভিতরে কি আছে
তা দেখতে পারে, মাটির নিচে কি আছে
তা দেখতে পারে।
গ্রহ নক্ষত্রের ভিতর কি আছে,
তাও খুঁজে বের করতে পারে।
শুধু দেখে না আমরা কি চাই,
দেখে না আমাদের অশ্রু ঝরা কান্না।
ওরা জীবের অনুসন্ধানে গ্রহ গ্রহান্তরে
খুঁজে বেড়াতে পারে।
অথচ আশেপাশে কত অসহায় জীব
না খেয়ে মরছে তা দেখে না।
ওদের কাছে আমরা তো কোন জীবই না।
ওরা মন্দির মসজিদ নিয়ে লড়াই করে
ওখানে কোটি টাকা খরচ করতে পারে।
অথচ আমার মতো হাজার হাজার মানুষ
যাদের ঘর নেই, যদি বা কারো ঘর থাকে তো
ঘরের চাল নেই। বৃষ্টি বাদলে ভিজে
কেউবা ঘরের কোনে,
কেউবা ফুটপাতে বসে রাত কাটায়।
ওরা তা দেখে না।
কি অদ্ভুত তাইনা?
ওরা পশু পক্ষীর কান্না দেখে
এমনকি পাথরের কান্নাও ওরা দেখতে পারে
শুধু দেখে না আমাদের ক্ষুধা,
আমাদের অশ্রু ঝরা কান্না
কি আশ্চর্য তাইনা?
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন