অভাবের সংসার
অভাবের সংসার
হিফজুর রহমান লস্কর
তারিখ-০৯/০৭/২০২১
বেলা আট বাজে তখনও দিব্যি ঘুমে
কোন চিন্তা ভাবনা নেই।
স্বামীর এ রূপ দেখে গিন্নি
হারিয়ে ফেলে কথার খেই।
বলে, শোন গো মিনির বাপ
তোমায় নিয়ে ভাবি যে দিবারাত্র
কোন কাজ নেই ঘরে বসে আছ
দেখেছো নিজের গাত্র?
নাদুস নুদুস চেহারা হয়েছে
কি আরামে আছ সেই
এমন করে কতদিন চলে
ঘরে যে খাবার নেই?
অভাবের সংসার না খেয়ে থাকি
আমার তো অভ্যেস আছে
দুধের শিশু, কাল থেকে উপুস
একথা বলি কার কাছে?
কথাটা শুনে জ্বলে উঠে স্বামী
যেন তেলে ভাজা কই
মনে ভাবে, লকডাউনে ঘরে আছি বলে
এত কথা কেমনে সই?
হুঙ্কার দিয়ে বলে স্বামী,
যা তোর বাপের বাড়ি
আনগে হাজার দশেক টাকা।
নচেৎ ফিরে আসবিনা আর
আমিও হলেম বাঁকা।
গিন্নির রাগে সপ্তমে চড়ে গলা
বলে চললাম তবে,থাকো মেয়েকে নিয়ে
আসবোনা আর ফিরে,তব জীর্ণ কুটিরে।
যদি পারো করে নাও আবার বিয়ে।
বেচারি চলে যায় কাঁদতে কাঁদতে
কুলের শিশুকে রেখে
পুরোটা রাস্তা হেঁটে চলে সে
স্মৃতির দর্পনে দেখে।
পাঁচটা বছর হয়ে গেল বিয়ের
সুখের মুখ দেখেনি কভু
এমনি করে আরো তিন বার
টাকা এনেছে তবু!
এত নির্যাতন স্বামীর ঘরে
না খেয়ে ও থাকলো কতো
পদে পদে খোঁটা, বৃথা আস্ফালন
নির্যাতন কতশত।
এদিকে স্বামীও থামাতে পারেনা
ক্ষুধায় কাতর মেয়ে।
রাগে আর দুঃখে নিয়ে চলে তারে
কোথাও ফেলে দিবে যেয়ে।
অবুঝ শিশুর কান্না দেখে সবে
রাস্তায় যেতে যেতে।
কেউবা পাশে এগিয়ে আসে
খাবার কিছু দিতে।
এক দম্পতি কথা শুনে তার
মেয়েটারে নিতে চায়
কহিল সে নিয়ে যাও এরে,
পাঁচশত টাকা চাহিল তথায়।
টাকা হাতে নিয়ে পাগলের মত
কিজানি কি ভাবিল সে।
দশটার ট্রেনে চেপে বসে গিয়ে
নিজেই জানে না কোথায় যাবে সে।
ট্রেনের শব্দ কুলির আওয়াজ
কিছুই শুনছে না সে।
স্ত্রীর কথার রেশ, মেয়ের কান্না
দূরথেকে যেন ভেসে আসে।
ওদেরে কি চিরতরে হারাল?
ফেরৎ কি আর পাবে?
একটা স্বান্তনা আছে তার বুকে
মেয়েটাতো সুখে খাবে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন