প্রকৃতির রুষ্ট রূপ
পথ পাশে কুঁড়ে ঘর বুক কাঁপে থরথর
আঁধার ঘিরিছে দেখে ওই।
নীলাকাশে কাল মেঘ সাথে তার ঝড়ো বেগ
ধাইছে শিলা সাথে সেই।
দুরুদুরু বুক করে এই বুঝি বাজ পড়ে
রোজ কত প্রাণ যায় চলে।
কেউ থাকে আনমনে কেউ ছুটে ঘর পানে
কেউ কাঁদে হায় বিধি বলে।
শিলাবৃষ্টি একাকার চেয়ে থাকে নির্বিকার
অসহায় মানবের মন।
ফুটো হয় হাট চাল ভেঙ্গে পড়ে গাছ ডাল
ভাবনায় যায় সারাক্ষণ।
নির্বিকার চেয়ে থাকা শাকপাত শিলে ঢাকা
কিবা কোথা আছে দিবে পাতে!
রান্নাঘরে জল পড়ে কেমনে সে চাল গড়ে
কড়িও যে নেই তার হাতে।
কারো চালা উড়ে যায় কারো ঘর পড়ে যায়
কেউ কাঁদে হয়ে নিরূপায়।
সর্বত্র আঁধার নামে বিদ্যুৎও যায় ধামে
ভাবে বসে কি করে উপায়?
কেউ খুঁজে মোমবাতি লণ্ঠনটা ভাল সাথী
আলোটা যদিও থাকে ক্ষীণ।
এগুলো তো নেই ঘরে পাঠিয়েছে স্বর্গ পুরে
কেমনে কাটাবে এ দুর্দিন!
প্রভাতে উঠিয়া কেহ মেরামত করে গেহ
কেহ করে সাহায্যের আশ।
সর্বত্র একই হাল সবারই হাল বেহাল
দেখে সবে ফেলে দীর্ঘ শ্বাস।
এমনি চলিছে ধারা হয়ে সবে দিশেহারা
ঘন ঘন চায় নভো পানে।
প্রকৃতির রুষ্ট রূপ ধায় যেন নিয়ে কোপ
কোন আশা নেই পরিত্রাণে।
ধনির সুখের ধ্বনি নিয়ত নিকটে শুনি
চিত্ত সুখে করিছে বিরাজ।
তাদের তো নেই ভয় যতই হোক না ক্ষয়
গড়ে নিবে সকলই আবার।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন