পোস্টগুলি

জুন, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

মানুষের মতো মানুষ

মানুষের মতো মানুষ হলে   মরণেও আসে জয়,   মানবতা নিয়ে বাঁচে যারা   থাকেনা কোনো ভয়।   বুকের গভীরে আলো জ্বেলে   হাঁটে ন্যায়ের পথে,   ইনসাফ তার রক্তে মিশে   লড়ে যায় শত শতে।   নিজের সুখ তুচ্ছ করে   পরের ব্যথায় কাঁদে,   ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন তুলে   নিজে উপোস সাধে।   ধর্ম-বর্ণ-গোত্র ভুলে    দুর্দিনে বাড়ায় হাত, সত্যের পতাকা উঁচু ধরে   দাঁড়ায় ঝড়ের সাথ।  টাকা-পয়সা, মান-সম্মান   কিছুই চায় না সে,   মানুষ হয়ে মানুষের তরে   বিলিয়ে দেয় নিঃশেষে।   ন্যায় নীতি আর ইনসাফ শুধু   যার হৃদয়ে রয়,   পরের তরে কাজ করে যায়   হয়না পরাজয়।   তাইতো মৃত্যু ছুঁতে পারে না   এমন প্রাণের দীপ,   কবরে শুয়েও জেগে থাকে   তার কর্মের প্রদীপ।   এসো বন্ধু, শপথ করি   মানুষ হবো আজ,   মানবতার এই মিছিলে   ধরবো সত্যের সাজ...

মানুষ আগে জাত পরে

জাতের গর্ব করে যারা তারাই আসল ভণ্ড,   জাতটারে তো আমরাই গড়ি করে খণ্ড খণ্ড।   মানব কোলে জন্ম যার সে তো মানব শিশু,   আমরাই দিই জাতের তকমা বানাই যীশু বিশু।   একই স্রষ্টার সৃষ্টি সবাই নিচ্ছে ভিন্ন সাজ,   ধর্মের নামে হানাহানি করছে ঘৃণার কাজ।   স্বার্থের তরে অন্ধ হয়ে করছে মানুষ ভুল,   হাজার ডালে গাছের শোভা রস টানে এক মূল।   রক্ত সবার লাল যে ভাই চোখের জলও নোনা,   তবুও কেন উঁচু-নিচু মিথ্যে বেড়ি বোনা?   মসজিদে ওই আজান শুনি মন্দিরে বাজে শাঁখ,   সুর তো দু’টোর একই বলে মানুষ হওয়াই ডাক।   কালো ধলো বাদামি মুখ একই রোদে পোড়ে,   মায়ের বুকে দুধের স্বাদ ভেদ কি তাতে গড়ে?   ধর্ম বেচে পেট চালায় যারা দাঙ্গাবাজের দল,   ভাইয়ে ভাইয়ে লড়াই বাধায় আগুন ঢালে ছল।   টুপি তিলক মালা জপে ভেতর বিষে ভরা,   ধর্মের নামে ব্যবসা করে মানুষ মারে ওরা।   ভোটের বেলায় ধর্ম তুলে নেতা সাজে সাধু,   রাজনীতিরই ঢাল যে ধর্ম জনগণ খায় ধাঁধু।...

শুকনো পাতা

কলেজের বকুলতলায় প্রথম দেখা।   আরিফের নোটখাতা না হলে রূপার প্র্যাকটিক্যাল জমা পড়ত না। রূপা হাসলে আরিফের দুপুর রোদও শীতল লাগত। ক্যান্টিনের তিন টাকার চা দুজন ভাগ করে খেত। কথা ছিল — তুই ডাক্তার হবি, আমি প্রফেসর। দুজন মিলে একটা লাইব্রেরি দেব, গরিব ছেলেমেয়ে পড়বে। সময় গড়াল। রূপা মেডিকেলের সাদা অ্যাপ্রন গায়ে দিল, আরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ সিঁড়িতে এম.এ. পাশ ঠেকাল। চাকরির বাজারে তার সার্টিফিকেটটা শুকনো পাতার মতোই হালকা। টিউশনি করে মাসে আট হাজার। রূপার বাবা সরকারি সার্জন। একদিন ডেকে বললেন, “বাবা, আবেগ দিয়ে সংসার চলে না। আমার মেয়ের জন্য আমি একজন প্রতিষ্ঠিত পাত্র চাই।” আরিফ রূপার হাত ধরতে চাইল। রূপা চোখ নামিয়ে বলল, “বাবা যা বলে ঠিকই বলে, আরিফ। বাস্তবতা মানতে শেখো। আমার এখন দায়িত্ব অনেক।” সেই রাতে আরিফদের বাড়ির সামনের শিউলি গাছটায় হাওয়া দিল খুব। সকালে উঠে দেখে গাছের নিচে শুকনো পাতার স্তূপ। গাছ নিজেই ঝেড়ে ফেলেছে। মা বলল, “গাছ জানে কোন পাতা আর রস টানবে না, তাকে রাখা মানে বোঝা।” আরিফ হাসল। বুঝে গেল — মানুষের হৃদয়ও গাছের মতো। রস মানে স্বার্থ, রঙ মানে প্রয়োজন। যে পাতা আর আলো দেয় না, জল দেয় না, তা...

রক্ষা কর দোষণটা

পাঁচ জুন আজ শপথ নেবো   বিশ্ব জুড়ে সকল জন,   মা-বসুধা কাঁদছে ভারী   আমরা মারছি প্রতি ক্ষণ।  কল-কারখানার কালো ধোঁয়া   আকাশ ঢাকে মরণ-ছায়,   বিষাক্ত বায়ু শ্বাসে ঢোকে   শিশুরা সব মরছে হায়।   কুড়াল মেরে গাছ কাটছি   করছি নিধন উজাড় বন,   ছায়া হারিয়ে, তাপটা বাড়িয়ে ডেকে আনছি বিষাক্ত ক্ষণ। কলকারখানার শব্দ দূষণ   গাড়ি ঘোড়ার শব্দ তাতে, পাখির বাসা ভাঙছে ধ্বনিতে   মানুষ মরছে যন্ত্রণাতে।   পলিথিনের স্তূপ জমে, নালা-নদীর গলায় ফাঁস,   দূষিত এই নোংরা হাওয়ায়  ক্যামনে পাবো সুখের শ্বাস। আবর্জনার পাহাড় জমে  শহর- নগর নোংরা দেখো, ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া রোগ ছড়ায়   মৃত্যু আসে মনে রেখো।   এই যে দূষণ চারদিকেতে  নিজেই যে তার কারিগর ,   লোভের বশে ধ্বংস করে   পুড়ছি নিজের আপন ঘর।   সময় আছে, এসো রুখি একটি গাছে একটি প্রাণ, গাছ লাগাও, প্রাণ বাঁচাও   সবুজ করো এই উঠান।   পলিথিনকে না বলো আজ   চটে...

বিশ্ব দাবার গুরুজন

বিশ্ব জুড়ে কোন সে শক্তি  সবার সাথে খেলছে খেলা,   যাহার চালে কাঁপছে ভুবন   উত্থান পতন চলছে মেলা।   কালো সাদা ঘরের ছকে   রাজা রানী দাঁড়ায় পাশে,   হাতি ঘোড়া নৌকা সেপাই   মরণ-বাঁচন যুদ্ধে আসে।   গুরু বসে নীরব মুখে   চোখের কোণে বিজলি হাসে,   একটি চালে মাত করে দেয়   সারা দুনিয়া চমকে ভাসে।   কেউ ভাবে সে বন্ধু বটে   কেউ বলে সে শত্রু ভারী,   গুরু শুধু চাল চেলে যায়   নেইকো তাহার বাড়ি-গাড়ি।   মিডিয়া রানী ঘুরে বেড়ায়   সাদাকে কালো করতে পারে,   জনগণ সব বোড়ের দলে   মরে বাঁচে হাজার বারে।   আড়াল থেকে শুধুই হাসে  কেউ দেখে না তাহার ছায়া, যুদ্ধ বাধায় তালি বাজায়   বেচে অস্ত্র, কিনে কায়া। হারলে পরে নতুন গুটি   চাল দিয়ে ফের তুলবে খাড়া,   জিতলে পরে শান্তি বেচে   লাভের গোলা ভরবে পাড়া।   তবুও মানুষ দাবাড়ে বসে   গুরুর চালে নাচতে থাকে,   ভাইয়ের ব...

চাষীর হাসি

রোদে পুড়ে মেঘে ভিজে   আমার দেশের চাষা,   ফলায় ফসল বাঁচায় মোদের   দুখে বাঁধা বাসা।   ভোরের শিশির পায়ে মেখে   মাঠের পথে ছোটে,   লাঙল কাঁধে স্বপ্ন বোনে   সোনার ফসল ফোটে।   সার-বীজ আর ঋণের বোঝা   মাথার পরে রাখে,   রোদ-বৃষ্টি ঝড়ের মাঝে   সবুজ স্বপ্ন আঁকে। হাটের দিনে ধানের বস্তা   নিয়ে যখন যায়,   দালাল এসে দাম কষে দেয়   চাষীর বুক শুকায়।   সিন্ডিকেটের প্যাঁচে পড়ে   দাম পায় না মোটে,   ঘামের দামে জোটে না ভাত   চোখের জলই ফোটে।   যদি পেতো ন্যায্য মূল্য   শ্রমের হিসাব কষে,   দুঃখ-পোড়া দিনগুলো তার   ভরে উঠতো রসে। রাষ্ট্র যদি পাশে দাঁড়ায়   গড়ে দেয় গোলা,   মধ্যস্বত্ব লোপ পেলে তবে   ঘুচবে সকল জ্বালা।   চাষী বাঁচলে দেশ বাঁচবে   পেটটি ভরবে সবার,   ফসলের দাম ন্যায্য হোক   কৃষকেরই অধিকার।