মানবতা আজো বেঁচে আছে

 হিফজুর রহমান লস্কর

শহরে মেলা আসছে।প্রতি বছরই ফেব্রুয়ারি মাসে মেলা বসে। আর মাস দেড়েক আগে থেকেই মেলার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়।
বিধু বাবুর আদরের মেয়ে দিয়া। রোজ রাতে খেতে বসে বাবার কাছে বায়না ধরে এবারও মেলা দেখতে যাবে। অফিসে কাজের এত চাপ যে সময় বের করা মুশকিল। অনেক ভেবে চিন্তে বললেন আগামী বুধবার অফিস থেকে এসে তাকে নিয়ে মেলায় যাবেন। কথাটা শুনে দিয়ার আনন্দের শেষ নেই। এখন থেকেই শুধু প্রহর গুনছে আর মেলা থেকে কত কিছু কিনবে তার হিসেব করছে।
দেখতে দেখতে এলো সেই দিন। আনন্দে আত্মহারা দিয়া বাবার সঙ্গে শহরে চললো মেলা দেখতে। 
প্রথমে অটোতে, তারপর ট্রেনে তিন ঘণ্টার রাস্তা উত্তেজনা আর আনন্দে পাড়ি দিয়ে বাবার সঙ্গে সে মেলার মাঠে পৌঁছল।
যা দেখে তা ই যেন কিনতে চায়। কত খেলনা আর কত খাবার। বাবা মাঝে মাঝে রাগ করেন, আবার হাসিমুখে যা চায় তা কিনেও দেন। এবার বেরিয়ে যাবেন। তিনি মেয়েকে আবার জিজ্ঞেস করেন,'আর কি চাই তোমার, কাপড় কিনবে? 
দিয়া আনন্দে অধীর। কাপড়ের নামে ও একটু ব্যতিক্রম। বাবা জানেন কাপড় কিনতে গিয়ে সবসময়ই  একের জায়গায় দুই তিনটা কেনা হয়। বিধু বাবু মেয়ের খুশিতে সবসময় তাই করেন।
আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দূর থেকে কাপড়ের দোকানে টাঙানো একটা লাল সোয়েটারে দিয়ার   চোখ পড়লো। এত সুন্দর সোয়েটার দেখে দিয়ার খুশি তো আর ধরে না। সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের খুশিতে বিধু বাবু বিনা বাক্যব্যয়ে তা কিনে নিলেন। দিয়া সোয়েটারটা গায়ে দিয়ে দ্বিগুণ আনন্দে বাবাকে জড়িয়ে ধরলো।
তারপর আরও কি কি সব খাবার কিনে দিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ালেন। 
দিয়ার আনন্দের যেন শেষ নেই। কাল সকালে ওর সঙ্গী সাথীদের দেখানোর জন্য কতকিছু সে কিনেছে।
শহরের মেন রাস্তা ছেড়ে চৌরঙ্গীর গলির মুখে এসে দিয়া হঠাৎ দাড়িয়ে পড়লো। ' বাবা আমার পা যে আর চলছে না।একটু দাঁড়াও।' দিয়া রাস্তার পাশে আধ বয়সী এক মহিলাকে দেখে এগিয়ে গেল। ও খালি গায়ে শীতে কাতরাচ্ছে। বুঝা গেল সাহায্য চাইছে। ওর অবস্থা দেখে দিয়ার সারা দিনের সারা আনন্দ যেন মাটি হয়ে গেল। 
দিয়া সোয়েটারটা খুলে ঐ মেয়েটিকে দিয়ে দিল। 'চল বাবা,
সে  ভয়ে ভয়ে বাবাকে বললো 'বাবা, এবারতো আর শীত বেশিদিন থাকবে না। তাছাড়া আমরাতো ঘরেই ঘুমাবো'।
দূর থেকে দুএকজন লোক তা লক্ষ্য করলো। একজন অন্য আর একজনকে বলতে শুনা গেল,' মানবতা আজো বেঁচে আছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বন্ধু মানে আলোর দিশা

লুটছে যত রাজভাণ্ডারী

বিদায়