বিরল রোগ



বীরেন বাবু গ্রামের মোড়ল। গ্রামে যে কোন সমস্যা বা কোন ঝগড়াঝাঁটি হলে সবাই মোড়লের কাছে বিচার নিয়ে আসে। আর তিনিও নির্ধিধায় তা সমাধান করে দেন। যদিও পড়াশোনা বেশি নেই তবু কথায় কথায় ইংরাজি বলতে শোনা যায়। এর জন্য তার খুব সুনামও আছে। 
যে কোন সমস্যা সমাধানে তিনি দুটি শব্দ খুব বেশি ব্যবহার করেন। যার একটি হলো 'what a fool!' আর আরেকটি হলো 'what a funny!' যে কোন সময় কোন বিচার সভায় দু'পক্ষের মধ্যে এদুটি শব্দ বেশ ভালো কাজ করে। তিনি মনে করেন তার এই fool আর funny শব্দ দুটি প্রকৃত সত্য বের করে নিয়ে আসে। অবশ্য এ শব্দ গুলোর ব্যবহার তিনি যথাযথ ভাবেই করেন।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার কিছু রোগ দেখা দেয়। প্রথমতঃ আজকাল বীরেন বাবু আগের কথাগুলো মনে রাখতে পারেন না। কখন কাকে কি বলেন পর মুহূর্তেই ভুলে যান। দ্বিতীয়তঃ  মানুষের সাথে কোন লেনদেন থাকলে তার একদিক ভুলে যান আর একদিক মনে থাকে। অর্থাৎ কেউ তার কাছে কিছু প্রাপ্য থাকলে তা তার মনে থাকেনা। তখন প্রাপ্যদারকে একটু কড়া সুরেই বলতে শুনা যায় ' what a funny!' আবার তিনি যদি কারো কাছে কিছু প্রাপ্য থাকেন তা তার যথারীতি মনে থাকে। তখন তাকে বলতে শুনা যায় ' what a fool !' দীর্ঘ প্রায় দশ পনেরো বছর থেকে এরকমই চলছে।  সঙ্গে আরও একটা সমস্যা হলো, কোন কিছু কিনতে গেলে 'এটা কিনবো না ওটা কিনবো, এটা ভালো হবে না ওটা ভালো হবে' এই দ্বিধা দ্বন্দ্ব তার লেগেই থাকে। কোন কিছুতেই যেন মনটা স্থির করতে পারেন না। সেখানেও সেই একই চিন্তা 'fool হবো' না funny হবে।' এজন্য তিনি নিজে প্রায়ই বলেন,' আমার মাথাটা ঠিক কাজ করছে না।' 
  দোকান থেকে কখনো কোন কিছু কিনে আনলে পরে তা শোধ করার কথা তার মনে থাকে না। কেউ যদি মনে করিয়ে দেয় তিনি তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেন। বলেন,' আমি কারো ধার ধারিনা।' অনেকের কাছেই তার এ বিরল রোগটা ধরা পড়েছে। কিন্তু গ্রামের মোড়ল বলে কথা! কেউ সাহস করে কিছু বলতে পারে না। তাই তিনি নিজেকে খুব চালাক মনে করেন। আর এজন্যই গ্রামের মানুষ তাকে বিদ্যার বালিশ বলেই ডাকে। তাতে বীরেন বাবু খুব খুশিই হন এবং গর্ব বোধও করেন।
  কেউ যদি তাকে জিজ্ঞেস করে 'কেমন আছেন?'
বীরেন বাবু উত্তর দেন,' আজকাল আর তেমন ভালো নেই, মাথা ব্যথা কোমর ব্যথা আর সর্বোপরি সুগার। শরীরটা ভালো যাচ্ছে না।'। এসব শুনে তার সঙ্গী সাথীরা তাকে শহরে ভালো ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন। সবার পরামর্শ পেয়ে এবার বীরেন বাবু ডাক্তার দেখালেন। পরদিন সবাই তাকে জিজ্ঞেস করল,' ডাক্তার কি বলেছেন?' বীরেন উত্তর দিল,' ডাক্তার বাবু ঔষধ দিয়েছেন এবং রেস্ট নিতে বলেছেন। ডাক্তারের কথা মতো ,'এটা একটা  বিরল রোগ। এটাও নাকি এক ধরণের মানসিক রোগ।' তিনি বলেছেন মনটা সবসময় স্ফুর্তিতে রাখার চেষ্টা করতে হবে। বন্ধুবান্ধবদের সাথে ঘোরাফেরা আমোদ প্রমোদের মধ্যে দিন কাটাতে হবে।' ডাক্তার বাবুর মতে বেশি ভালো হবে বন্ধুবান্ধবদের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেয়ে আনন্দ স্ফুর্তিতে থাকলে। তাতে নাকি খুব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাবো।' কথাগুলো শুনে এক বন্ধু বলে উঠলো,' বটে! ডাক্তার বাবু তাহলে আপনার রোগটা ঠিকই ধরেছেন। এরকম কিছু মানুষ আছে যারা অন্যের কাছ থেকে শুধু পেতেই চায় কিন্তু দিতে চায় না। অন্যের বাড়িতে নিমন্ত্রণ খেতে চায় কিন্তু কোন দিন কাউকে নিমন্ত্রণ করে খাওয়াতে চায় না।' এটা সত্যিই একটা বিরল রোগ।' আর এরকম ডাক্তারও খুবই বিরল। এত কঠিন একটা রোগের উদঘাটন যিনি করতে পারেন, তিনি অবশ্যই একজন সফল ডাক্তার। উনার সাথে একবার দেখা করতে হবে।'

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বন্ধু মানে আলোর দিশা

লুটছে যত রাজভাণ্ডারী

বিদায়